নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জন্মসূত্রে মানব গোত্রভূক্ত; এজন্য প্রতিনিয়ত \'মানুষ\' হওয়ার প্রচেষ্টায় আছি। গল্পের \'বায়স্কোপ\' বইয়ের কারিগর।

কাওসার চৌধুরী

প্রবন্ধ ও ফিচার লেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। পাশাপাশি গল্প, অনুবাদ, কবিতা ও রম্য লেখি। আমি আশাবাদী মানুষ।

কাওসার চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

সুপারবাগ (superbug) এক নীরব ঘাতক ও মহামারী

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৫২


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ (ICU) আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (BSMAU)। এই প্রতিষ্ঠানের আইসিইউতে মারা যাওয়া রোগীদের ৮০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ হলো সুপারবাগ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। বলা হচ্ছে, মাত্রাতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সুপারবাগ হলো অ্যান্টিবায়োটিক সহনশীল ব্যাকটেরিয়া। এসব ব্যাকটেরিয়াকে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দিয়ে ঠেকানো যায় না। বিএসএমএমইউর আইসিইউতে মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে এই সুপারবাগ। ২০১৮ সালে বিএসএমএমইউর আইসিইউতে ভর্তি হওয়া আনুমানিক ৯০০ রোগীর মধ্যে ৪০০ জনই মারা গেছেন। আর এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ হলো অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার।

মানবদেহে উপস্থিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের উদ্দেশ্যে আবিষ্কার করা হয়েছিল অ্যান্টিবায়োটিক। চিকিৎসাশাস্ত্রের ইতিহাসে যুগান্তকারী হিসেবেই ধরা হয়েছিল অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কারকে। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে সেই অ্যান্টিবায়োটিক এখন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে।

অ্যান্টিবায়োটিক-পূর্ব যুগে সংক্রামক ব্যাধি ছিল মারণব্যাধি। ইতিহাসের পাতায় খুঁজলেই পাওয়া যাবে সংক্রামক ব্যাধির মহামারীর গল্প– যা ধ্বংস করেছে একের পর এক শহর, জনপদ আর সভ্যতা। বুবনিক প্লেগ, সিফিলিস, কলেরা, ম্যালেরিয়া আর যক্ষ্মার মতো ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে নিশ্চিহ্ন হয়েছে কোটি মানুষের জীবন; ধস নেমেছে অর্থনীতিতে। স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং আবিষ্কার করেন প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লাখো মানুষের জীবন বাঁচিয়ে দেওয়া এই ওষুধকে ডাকা হত ‘মিরাকাল ড্রাগ’। চিকিৎসাশাস্ত্রে পৃথিবীজুড়ে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে পেনিসিলিন।

ভাবা হত এই অস্ত্র দিয়ে পৃথিবী থেকে সংক্রামক ব্যাধি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, পেনিসিলিন আবিষ্কারের ১০ বছরেরও কম সময়ে, এমনকি স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন আবিষ্কারের জন্য পাওয়া নোবেল পুরস্কার গ্রহণের আগেই এক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া হয়ে ওঠে পেনিসিলিন-প্রতিরোধী। সেই থেকে গত ৭০ বছর ধরে ব্যাকটেরিয়া আর মানুষে চলছে ‘ইঁদুর-বেড়াল খেলা’। আবিষ্কৃত হয়েছে নতুন প্রজন্মের নতুন প্রজাতির অ্যান্টিবায়োটিক। তার সঙ্গে তাল রেখে ব্যাকটেরিয়াও গড়ে তোলে নতুন নতুন প্রতিরোধী ক্ষমতা।

অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকা অথবা প্রতিরোধী ক্ষমতা অর্জন করা ব্যাকটেরিয়ার একটি সহজাত প্রক্রিয়া। এটি মূলত শুরু হয় ব্যাকটেরিয়ার জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে। এটি তখনই ঘটে যখন কোনো এক প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া কোনো এক সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিকের সম্মুখীন হয়। অ্যান্টিবায়োটিক থেকে নিজেদের বাঁচাতে ব্যাকটেরিয়া হয় নিজেদের কোনোভাবে পাল্টে ফেলে, অথবা এমন সব রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যা দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিককে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা যায়।

আবার ব্যাকটেরিয়া তার অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জিনগুলো অন্য প্রজাতির ব্যাকটেরিয়াতে বিস্তারের ক্ষমতা রাখে। এর ফলে যেসব ব্যাকটেরিয়া আগে ক্ষতিকর ছিল না তারা এখন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াতে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। এভাবে বর্তমানে ব্যবহৃত সব প্রজাতির অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধেই কোথাও-না-কোথাও, কোনো-না-কোনো প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধের খবর জানা গেছে। আবার একই প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ক্রমাগত একের পর এক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করার মাধ্যমে পরিণত হচ্ছে বহু অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ভয়ানক সুপারবাগে– যাদের বিরুদ্ধে আমাদের হাতে তেমন কার্যকরী অ্যান্টিবায়োটিক অবশিষ্ট নেই।

উন্নত বিশ্বে সুপারবাগ এখন এক আতঙ্কের নাম। যদিও আমাদের দেশসহ উন্নয়নশীল আরও কিছু দেশ– যেখান থেকে মূলত সুপারবাগের জন্ম– সেখানে এসব নিয়ে আলোচনা বা ভীতি নেই বললেই চলে।


যদিও এটা অবধারিত যে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে এর বিরুদ্ধে একসময় না একসময় প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হবেই। কিন্তু আমাদের অসচেতনতা, স্বভাব এবং অবহেলার কারণে এসব প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার গুণ দ্রুতগতিতে।

আমরা না জেনে, না বুঝে যত্রতত্র অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছি, এমনকি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই। ডাক্তাররাও প্রায়শই যথাযথ ল্যাব টেস্ট না করে অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশনে লিখে দিচ্ছেন অবলীলায়। ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে রোগের প্রকৃত কারণ বের না করে অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশন দিলে তাতে চিকিৎসায় ভুল হওয়ার অনেক বেশি আশঙ্কা থাকে। আর অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স সম্পূর্ণ না করা। গবেষণায় দেখা গেছে, অল্পমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে সহযোগিতা করে এবং পরবর্তীতে বেশি মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলেও তাতে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকতে পারে। কাজেই অ্যান্টিবায়োটিকের সুপারিশকৃত ডোজ সম্পূর্ণ করা উচিত যাতে ব্যাকটেরিয়া সহজে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে না পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার ব্যতীত আরও যেসব দৈনন্দিন চর্চা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তৃতিতে সহায়ক তা হল, ল্যাব টেস্টিং এবং মনিটরিংয়ের অভাব। হাসপাতালে বা নিজের বাড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, রোগ সংক্ৰমণে যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকা, ঘন ঘন হাত না ধোয়ার অভ্যাস, হাত ধুতে সাবানের ব্যবহার না করা, ঠিকভাবে হাত ধুতে না জানা, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ বিষয়ে জনসচেতনতার অভাব ইত্যাদি।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বছরে দুই লক্ষাধিক, যার মধ্যে ২৩ হাজার লোকের মৃত্যু হয়। বিশ্বজুড়ে সাত লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করে একই কারণে।

বিশেষজ্ঞদের হিসাবে এখনই সাবধান না হলে ২০৫০ সালের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার কারণে প্রতি বছর এক কোটির বেশি লোক মারা যাবে এবং ১০০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আর্থিক ক্ষতি হবে।

বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধ বিষয়ক সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। সীমিত গবেষণাপত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে যার মধ্যে বহু অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সুপারবাগ রয়েছে। শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটির আইসিইউতেই শতকরা ২৫ ভাগ ব্যাকটেরিয়া হল সুপারবাগ, যা কিনা সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী। এসব তথ্য নিঃসন্দেহে প্রকৃত চিত্রের খুব সামান্য প্রকাশ, কিন্তু আতংকিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

অ্যান্টিবায়োটিকবিহীন জীবন কেমন হতে পারে একটু ভেবে দেখুন তো? অ্যান্টিবায়োটিকের অভাবে সামান্য কাটাছেঁড়া থেকে জন্ম নিতে পারে জীবননাশী ইনফেকশন। সন্তান প্রসবের সময় মা ও নবজাতক দুজনেরই ইনফেকশনের আশঙ্কা থাকে খুব বেশি, যা হতে পারে নবজাতকের মৃত্যু অথবা চিরস্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার কারণ। আর সার্জারির কী হবে? সার্জারির জন্য অ্যান্টিবায়োটিক অপরিহার্য। কেননা কাটাছেঁড়া আর ক্ষতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে অনেক বেশি, যা কিনা রক্তে ছড়িয়ে রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিকের অভাবে শুধুই সংক্রামক রোগ নয়, অন্যান্য অনেক রোগ যেমন ক্যানসার, আর্থ্রাইটিস এবং কিডনি রোগের চিকিৎসাও সম্ভব নয়। কেননা এসব ক্ষেত্রে রোগীকে এমন সব ওষুধ দিতে হয় যা আমাদের শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে ফেলে, যাতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। মোদ্দা কথা, ব্যাকটেরিয়াঘটিত সংক্রমণ থেকে মৃত্যুঝুঁকির আতংক হবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী।


সুপারবাগের হুমকিতে আমাদের অর্থনৈতিক জীবনও নিরাপদ নয়। সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াকে এখনই না থামানো গেলে বিশ্ব এক চরম অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ধাবিত হবে যা ইতিহাসের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক মন্দাও ছাপিয়ে যাবে, প্রায় তিন কোটি মানুষকে ঠেলে দিবে চরম দারিদ্র্যে।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই এর সমাধানও হতে হবে বৈশ্বিকভাবে। সত্যি বলতে কী, কোনো এক দেশ এককভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। কেননা উন্নত যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সারা বিশ্বের মানুষ এখন একই সূত্রে বাঁধা। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যতই নিশ্ছিদ্র হোক না কেন, সাদা চোখে অদৃশ্য, এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সুপারবাগের প্রবেশ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। এর প্রমাণ হল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে পৃথিবীর খুব কম দেশই আছে যেখান থেকে কোনো না কোনো অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সুপারবাগের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। সুপারবাগ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের বিরুদ্ধে এখনই তাই যুদ্ধ ঘোষণার সর্বশেষ সময়।

এ যুদ্ধ কোনো সুনির্দিষ্ট পেশাজীবীদের নয়। এ যুদ্ধে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ, গণমাধ্যম, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী, বিজ্ঞানী এবং ডায়াগনস্টিক ল্যাবসহ সবারই কিছু না কিছু করার আছে। আশার কথা হল, সম্প্রতি জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশ অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে লড়তে একমত হয়েছে এবং একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর সাফল্যের মুখ দেখতে জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োজন এর যথাযথ প্রয়োগের।

সুপারবাগ বনাম মানুষ– এ লড়াইয়ে মানুষ জিততে পারবে কি?

২০১৫ সালে ইউরোপিয়ান জার্নাল অব সায়েন্টিফিক রিসার্চের এক গবেষণার বরাত দিয়ে তাতে বলা হয়েছে, ওই জরিপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি রোগীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেছেন।

বিএসএমএমইউর মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের প্রধান আহমেদ আবু সালেহ বলছেন, বাংলাদেশের সব আইসিইউতে মারা যাওয়া মোট রোগীর ৭০ শতাংশের মৃত্যুর পেছনে সুপারবাগের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। অথচ ১০ বছর আগেও পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ ছিল না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ব্যবহার করার মতো কার্যকর কোনো অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের হাতে নেই। বর্তমানে যেসব অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এ কারণে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। যেখানে সেখানে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে। কেবল নিবন্ধিত হাসপাতালগুলো থেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ীই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।

২০১৬ সালে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সুপারবাগ দিন দিন এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠছে, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতিবছর ১ কোটি মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে এটি! গত বছর ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও ডায়রিয়ায় মারা যাওয়া রোগীর সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি এই সংখ্যা!

অন্যদিকে মানুষের রোগ নিরাময়ের জন্য যে অ্যান্টিবায়োটিক বানানো হয়েছিল, অতিরিক্ত লাভের আশায় সেগুলো এখন পশুপাখিদের দ্রুত বর্ধনশীল করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এক গবেষণায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের অর্ধেকেরও বেশি পোলট্রি মুরগির শরীরে এসব অ্যান্টিবায়োটিক ঢোকানো হচ্ছে। এই পোলট্রি মুরগি খেয়ে ঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষও।

শুধু বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, এই ভয়াবহতা থেকে মুক্ত নয় বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও। ২০১৭ সালের এক গবেষণা জানাচ্ছে, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ আরও অনেক দেশ সুপারবাগের ঝুঁকিতে রয়েছে।


তথ্যসূত্র-
The Telegraph (UK)
bdnews24.com (Rubayet Hasan)
প্রথম আলো।

মন্তব্য ৬০ টি রেটিং +২২/-০

মন্তব্য (৬০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:১৭

মুক্তা নীল বলেছেন: কাওসার ভাই ,
শুভ অপরাহ্ন। পোস্ট দেখে উপস্থিত দিয়ে গেলাম পরে আসবো মন্তব্য সহকারে ,,,,,,,

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



প্রথম কমেন্টে আপনাকে পেয়ে ভাল লাগলো। শুভ অপরাহ্ন। সুপারবাগের বিষয়টি আমাদের কাছে খুব পরিচিত নয়। এজন্য অনেকেই প্রতিনিয়ত মাত্রাতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করছেন। ডাক্তাররা সবকিছু জেনেই রোগীর পকেট কাটছেন, তাদেরকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এখানে ইথিক্স অর্থহীন; কমিশন ব্যবসাই মূল।

২| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:২৭

পবিত্র হোসাইন বলেছেন: সুপারবাগ হচ্ছে এমন এক ব্যাক্টেরিয়া যার বিরুদ্ধে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই কাজ করে না৷ ই–কোলি ব্যাক্টেরিয়ার সাথে যুক্ত এই সুপারবাগ প্রাথমিক অবস্থায় প্রস্রাবের রাস্তা অথবা শ্বাসনালীতে ক্ষত সৃষ্টি করে৷ বিজ্ঞানীদের ধারণা, সুপারবাগ অন্যান্য গুরুতর ব্যাধির জীবাণুর সাথে যুক্ত হলে ওই রোগগুলোতে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না৷ উন্নত বিশ্বে সুপারবাগ এখন এক আতঙ্কের নাম। আমাদের অসচেতনতা, স্বভাব এবং অবহেলার কারণে এসব প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার গুণ দ্রুতগতিতে। যদিও এটা অবধারিত যে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে এর বিরুদ্ধে একসময় না একসময় প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হবেই।
-প্রিয় কাওসার ভাই, চমৎকার একটা বিষয় নিয়ে লিখেছেন। একটা নিয়ে আরো লিখতে পারেন, মানুষকে সচেতন করতে হবে।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৪৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, প্রিয় ভাই চমৎকার একটি মন্তব্যের জন্য। "সুপারবাগ" হলো সেই সমস্ত ব্যাকটেরিয়া যেগুলো আজকের দুনিয়ায় সাধারণভাবে ব্যবহৃত এন্টিবায়োটিকগুলির প্রতিরোধী। এটা একটা ভয়াবহ বিপদের কারন যখন প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াগুলি নিউমোনিয়া, মূত্রনালীর সংক্রমণ এবং ত্বকের সংক্রমণ ঘটায়।

এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধ স্বাভাবিকভাবেই ঘটছে, হতে পারে এটি ধীর গতিতে , কিন্তু থামানো যাচ্ছে না। যে ঔষধগুলি তাদের মেরে ফেলতো সময়ের সাথে সাথে জীবাণুরা সেই ওষুধের সাথে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে । ফলে এই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের জন্য পূর্বে যে ঔষুধ কার্যকর ছিল সেই ঔষুধ এখন কম কার্যকর, এবং কিছু ক্ষেত্রে, অকার্যকর।

আমরা চাই জনসচেতনতা বাড়ুক, ডাক্তাররা রোগীদের বিষয়ে আরো যত্নবান হোন।

৩| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৪৯

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: তথ্যবহুল পোস্ট। শংকার কথা তবে উন্নত বিশ্বের চিন্তাগোচর যখন হয়েছে হয়তো উপায় বের করে নিবে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৫৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ সুজন ভাই। তবে উন্নত দেশগুলোতে আমাদের মতো দেদারছে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয় না। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোন এন্টিবায়োটিক বিক্রি করা নিষিদ্ধ। ডাক্তাররাও অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক দিলে দন্ডিত হতে হয়। আমাদের দেশে তো এগুলো কেউ মনিটরিং করে না। কমিশনের নেশায় ডাক্তাররা রোগীদের এন্টিবায়োটিকের বাজার খোলে দেন।

৪| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ২:১২

চাঁদগাজী বলেছেন:


আমাদের প্রশ্নফাঁস জেনারেশনের মেডিক্যাল ছাত্ররা মেডিসিন থেকে তাস খেলায় বেশী পোক্ত

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ২:৩০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, আপনাকে। আশা করি, সুস্থ আছেন। আসলে আমাদের মেডিকেল কলেজগুলোতে ইথিক্স আর দায়িত্বশীলতার শিক্ষা কখনো দেওয়া হয় না। গার্ডিয়ানরা তাদের সন্তানদের ডাক্তারী পড়ান বেশি বেশি অর্থ উপার্জনের নেশায়। এখানে নীতি নৈতিকতার কোন প্রবেশাধীকার নেই। যার ফলশ্রুতিতে আমরা ডাক্তারের পরিবর্তে কসাই পাই।

প্রতি বছর এদেশের প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ চিকিৎসা ব্যায় মেটাতে নিঃস্ব হচ্ছে। ডাক্তাররা কমিশনের নেশায় লাগামহীনভাবে প্রেসক্রিপশনে এন্টিবায়োটিকের কবিতা লিখছেন। সাধারণ পাবলিকের মুক্তি নেই; একমাত্র মৃত্যুই মুক্তির পথ।

৫| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ২:৩৩

নতুন নকিব বলেছেন:



খুবই সুন্দর সচেতনতামূলক পোস্ট। আপনার প্রতিটি লেখাই তথ্যবহুল, জ্ঞানগর্ভ। আপনি কেমন আছেন?

সালামসহ শুভকামনা।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, প্রিয় নকিব ভাই। সুপারবাগ নিয়ে আমাদের মাঝে সচেতনতা নেই বললেই চলে। সরকার, ডাক্তার সবাই উদাসীন। আর ঔষধ কোম্পানীগুলো পারলে এন্টিবায়োটিক ভাতের বদলা খাওয়াতে চায়!! দুঃখজনক।

৬| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:১৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় গুরুদেব,

সুপারবাগ এর খুঁটিনাটি জেনে সমৃদ্ধ হলাম । যথেষ্ট পরিশ্রমী পোস্ট, যার অত্যন্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আপনি তুলে ধরেছেন। আলটিমেটলি মানুষ ভারসেস সুপারবাগের লড়াইতে কে জিতবে। সভ্যতা তাহলে ভয়ঙ্কর সংকটের দিকে এগিয়ে চলেছে।

অফ টপিক -গুরুদেবের হঠাৎ করে এ বিষয়ে পড়াশোনার হেতুটি জানতে ইচ্ছে করছে। সবকিছু যেন ঠিকঠাক থাকে এই কামনাই করি।

অনিঃশেষ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানবেন।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



গুরুজি,
জানি আপনি ইলেকশন নিয়ে খুব ভিজি। তারপরও সময় করে চমৎকার একটি কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ। আগামী দিনগুলোতে সুপারবাগের সাথে লড়াই করে ঠিকে থাকতে যে শক্তির প্রয়োজন তা এন্টিবায়োটিক দিতে পারবে বলে মনে হয় না। এজন্য এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার সীমিত করার কোন বিকল্প নেই। অথচ, আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে মানুষ এন্টিবায়োটিক গিলতেছে ভাতের বিকল্প হিসাবে। ডাক্তাররা কবিতার ছন্দে প্রেসক্রিপশন ভরাট করছে। ঔষধ কোম্পানীগুলো ফুলেফেঁপে উঠছে।

গুরুজি, হঠাৎ করে এ বিষয়টি লিখলেও এন্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত সেবনের উপকারীতা নিয়ে আমি অনেক দিন থেকে আতঙ্কিত। এজন্য পারতপক্ষে আমি ডাক্তারের ছায়া মাড়ি না। ঔষধ খাই না। এমনকি আমি কোন এন্টিবায়োটিক ঔষধের নামও জানি না।

ভাল থাকুন, প্রিয় গুরুজি, প্রিয় ভাই।

৭| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:২৫

আমি মুক্তা বলেছেন: জানলাম, বিষয়টি আজকেই প্রথম নিউজ এর মাধ্যমে। তবে এর আগে কিছুটা আলোচনা অনেকস্থানে শুনেছি। কিন্তু এতটা বিস্তারিত নয়। এমনিতে জানতাম হেন-তেন কারণে এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করলে তা একসময় শরীরে রেজিস্টেন্স তৈরি করে। কিন্তু তা যে এতটা মারাত্মক হতে পারে তা ভাবতেও পারি নি।

ধন্যবাদ সুন্দরভাবে জটিল বিষয়টি আমাদের সামনে উপস্থাপনের জন্য।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:০০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। এ বিষয়ে সারা পৃথিবীর লোকজন অনেকটা সচেতন হলেও আমাদের দেশের মানুষের সচেতনতায় অনেক ঘাটতি আছে। এজন্য সচেতনতার পাশাপাশি শিক্ষার একটি গুরুত্ব রয়েছে। অশিক্ষিত কিংবা অল্প শিক্ষিত লোকজন এ বিষয়ে কোন ধারণাই রাখেন না। এজন্য সুপারবাগের থাবায় এরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হোন। এজন্য ডাক্তারদেরকে আরো সচেতন হতে হবে। সরকারীবাবে কঠোর আইন করতে হবে।

৮| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৯

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: সচেতনতামূলক যুগোপযোগী পোস্ট :)
জল অনেক দূর গড়িয়েছে.......

চমৎকার একটা পোস্টের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ :)

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:০২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, ভাই। আসলে আমরা যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হলে সমসয়াগুলো সহজে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ বিষয়ে লেখালেখি কম হয় বলে মানুষের জানার ঘাটতি আছে।

৯| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:০২

বলেছেন: গল্প কবিতা বাদ দিয়ে হঠাৎ মেডিকেল রিসার্চ কেনো কাওসার চৌধুরী ভাই!!

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:০৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



হুম! ইদানিং এমবিবিএস (মা বাবার বেকার সন্তান) কোর্সে ভর্তি হয়েছি!! তাই এ বিষয়টি ব্লগের সবাইকে জানাতে এ পোস্ট লিখতে উদ্যোগী হলাম। মেডিক্যাল রিসার্চের তো কোন বয়স নেই!!

১০| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:১৪

রাজীব নুর বলেছেন: আপনাকে আজকাল ব্লগে পাই না কেন?
যাই হোক বহুদিন পর আপনাকে ব্লগে দেখে ভালো লাগছে।

সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন সুপারবাগ। আমার বিশ্বাস করতে ভালো লাগে মানুষই জিতবে।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:২২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, প্রিয় রাজীব ভাই।
আমি এখনো স্বাভাবিক নিয়মে ব্লগে ঢুঁকতে পারছি না। তবে সময় সুযোগে ব্লগে বিচরণ করি। আপনার লেখাগুলো নিয়মিত পড়া হয়। চমৎকার লিখেন আপনি। সুপারবাগ নিয়ে সচেতনতা জরুরী। না হলে এর পরিণাম ভয়াবহ হবে আগামী প্রজন্মের জন্য।

১১| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৪

বলেছেন: বাংলাদেশে ডাক্তারদের তো এন্টিবায়োটিক লিখতে কোন বাছবিচার করতে হয় না। লিখে দিলেই হলো।

ভুল ঔষধ ও ভুল প্রেসক্রিপশনের জন্য আজ পযর্ন্ত কোন ডাক্তারের নিবন্ধন বাতিল কিংবা জেল জরিমান হয়েছি বা এগুলোর কোন পরোয়া কেউ করে???

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:২৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



আবারো কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ প্রিয় ভাই। আমাদের দেশের ডাক্তারদের কাছে টাকাটাই মূল বিষয়। এজন্য প্রতিনিয়ত কমিশনের নেশায় বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর এন্টিবায়োটিক লিখে প্রেসক্রিপশন ভরে দেন। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায় আর সুপারবাগ সুপার পাওয়ার নিয়ে শরীরে বাসা বাঁধে।

আর সরকার এ বিষয়ে উদাসীন হওয়ায় ভুল ঔষধ আর ভুল চিকিৎসার জেল জরিমানা তেমন একটা হতে দেখা যায় না। ডাক্তারদের লাইসেন্স বাতিল সহ শাস্তির বিধান রাখতে হবে।

১২| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:৫১

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: ভালো একটি লেখা পড়লাম।
এ জন্যই ওবায়দুল কাদের সাহেবকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসা করানোটা হয়েছে সবচেয়ে উত্তম কাজ।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:২৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, ভাই। এ বিষয়ে সচেতনতা জরুরী। ওবায়দুল কাদের সাহেব তো সরকারী খরছে সিঙ্গাপুর গেলেন। আমাদের তো সে সামর্থ্য নেই। সবার জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

১৩| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫

সালাহ উদ্দিন শুভ বলেছেন: ব্যাপারটা সম্পর্কে কোন ধারনা ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দেয়ার জন্যে ধন্যবাদ।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:৪৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, সালা উদ্দিন শুভ ভাই। এ বিষয়ে আমিও খুব বেশি জানতাম না। আমাদের সমাজে সুপারবাগ নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হয় না। সরকার, ডাক্তার সবাই নীরব। ব্লগে, ফেইসবুকে, সংবাদপত্রে এ বিষয়ে বেশি বেশি লিখতে হবে। এতে সাধারন মানুষের দৃষ্টিগোচর হবে।

১৪| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:৪৪

রাজীব নুর বলেছেন: নিত্য নতুন রোগ বের হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এমনিতেই আমাদের সমস্যার শেষ নেই।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:৪৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



মানুষের খাদ্যাভ্যাসের সাথে রুচি ও রোগের হেরফের হয়। তবে এন্টিবায়োটিক আবিষ্কারের পর অনেক মহামারি কমে গেছে এটা সত্য। কিন্তু মাত্রাতিরিক্তভাবে এন্টিবায়োটিক গ্রহণ করার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে সুপারবাগ সুপার গতিতে আমাদের শরীরকে গিলে খাচ্ছে। এজন্য এখনই সচেতন হতে হবে।

১৫| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:০৪

নীল আকাশ বলেছেন: শুভ সকাল প্রিয় ভাই,
চমৎকার এবং দুর্দান্ত একটা বিষয় তুলে এনেছেন এখানে। মাত্র সেইদিনই পড়লাম এটা।

একমাত্র জন সচেতনতা ছাড়া এটা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব না।

বাংলাদেশে ডাক্তারদের তো এন্টিবায়োটিক লিখতে কোন বাছবিচার করতে হয় না। ছোটখাট কারনেও হুট করেই এই গুলি দিয়ে দেয়। উপরে আপনি ঠিকই বলেছেন, আমাদের দেশের ডাক্তারদের কাছে টাকাটাই মূল বিষয়। এজন্য প্রতিনিয়ত কমিশনের নেশায় বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর এন্টিবায়োটিক লিখে প্রেসক্রিপশন ভরে দেন।বাংলাদেশে এই সব ডাক্তার বিচার করফার জন্য নতুন করে হলেও আইন করা উচিৎ।

আজকেই এই বিষয় আপডেট এসেছে। সবার পড়ার জন্যই তুলে দিলাম।

প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে রিট
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন গতকাল এ রিট আবেদন করেন। রিটে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জনপ্রশাসন সচিব ও দেশের সকল জেলা প্রশাসকদের বিবাদী করা হয়েছে।

বুধবার বৃটিশ দৈনিক ‘দ্য টেলিগ্রাফ’সহ দেশের কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় এ-সংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এ রিটের শুনানি হতে পারে। গত ২২শে এপ্রিল দ্য টেলিগ্রাফে ‘সুপারবাগস লিঙ্কড টু এইট আউট অব টেন ডেথস ইন বাংলাদেশ আইসিইউ’স’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ৮০ শতাংশ মৃত্যুর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সুপারবাগ দায়ী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসক সায়েদুর রহমানকে উদ্বৃত করে টেলিগ্রাফের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হয়েছিলেন ৯০০ রোগী। তাদের মধ্যে ৪০০ জনই মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে ৮০ শতাংশের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত ইনফেকশনকে দায়ী করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে এই অবস্থা বেশি দেখা যায়।
http://www.mzamin.com/article.php?mzamin=169612

ধন্যবাদ এবং অনন্তর শুভ কামনা রইল।

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:২৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



সময় করে গুরুত্বপূর্ণ এ মন্তব্যটি করার জন্য ধন্যবাদ প্রিয় গল্পকারকে। এদেশের ডাক্তাররা এ বিষয়টি জেনেও লোভের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। যার ফলে সামান্য জ্বর, সর্দি, কাশি হলেও এন্টিবায়োটিক দিতে পিছপা হোন না। রোগীরাও নিজে থেকে এন্টিবায়োটিক দেদারছে কিনছে! ফার্মেসিগুলোর উচিৎ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোন অবস্থাতেই এন্টিবায়োটিক বিক্রি না করা।

হাইকোর্টে এ বিষয়ে রিটের আবেদনটি দেখেছি। এখন দেখা যাক আদালত এ বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত দেয়। তবে ডাক্তার, পাবলিক ও সরকার সচেতন না হলে এ বিষয়ে সুফল আসবে না।

একটি কথা স্বীকার করতে হবে, বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ। বলা বাহুল্য, জাতীয় পর্যায়ে এর কোনো সঠিক তথ্য নেই, গবেষণাপত্রও খুবই সীমিত। কিন্তু অজ্ঞতার আড়ালে যে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা অনুমান করা কঠিন নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের রিপোর্টে প্রকাশিত, সীমিত তথ্য অনুযায়ী, এন্টারোব্যাক্টেরি ও সি গ্রুপের ‘ইকোলাই’ ও ‘ক্লেবসিয়েলা’ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার শতকরা ৬০-১০০ ভাগই তৃতীয়-প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন ও ফ্লোরোকুইনোন-প্রতিরোধী।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী নিউমোনিয়া বা ত্বক ও রক্তে সংক্রমণ ঘটানো ‘স্ট্যাফাইলোকক্কি’ বা টাইফয়েডের জীবাণু ‘স্যালমনেলা’র ক্ষেত্রেও এর চিত্র অনেকটা একই। আরো আশঙ্কাজনক ব্যাপার হলো, শতকরা ২৩ ভাগ ‘ক্লেবসিয়েলা’ জীবাণু, যাহা মারাত্মক সব সংক্রমণের জন্য দায়ী, ইমিপেনেম-প্রতিরোধী হয়ে গেছে। অথচ ইমিপেনেম হলো বর্তমানে ব্যবহূত সর্বাধুনিক এবং শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর একটি। একই হাসপাতালের আইসিইউতে পাওয়া শতকরা ২৫ ভাগ ব্যাকটেরিয়াই হলো সুপারবাগ, যা কিনা সহজলভ্য সবধরনের এন্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী।

বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সুপারবাগের দ্রুত উত্থানের পিছনে মূল কারণ হলো যত্রতত্র প্রেসক্রিপশনবিহীন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন, ভুল অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স সম্পূর্ণ না করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী এই সব সুপারবাগ ব্যাকটেরিয়া রোধে জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজন নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের উদ্ভাবন এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা। কিন্তু বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায়, এর আগে প্রয়োজন প্রেসক্রিপশনবিহীন অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ। প্রয়োজন অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নির্ধারণে ল্যাবটেস্টিং এর ব্যবস্থা করা ও ল্যাবরিপোর্টের ভিত্তিতে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশন দিতে চিকিত্সকদের উত্সাহিত করা। প্রয়োজন টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণ, হাসপাতালে সংক্রমণ-নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চর্চা। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করে তুলতে চাই রেডিও, টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকায় ব্যাপক প্রচারণা।

বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং ওরস্যালাইন ব্যবহারের মাধ্যমে ডায়রিয়া রোগে মৃত্যুর হার কমাতে অভূতপূর্ব সাফল্যের নজির রেখেছে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারেও ঠিক এমন পরিকল্পনা প্রয়োজন, সময় থাকতেই তা না হলে নিয়ন্ত্রণহীন এক নীরব হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাবে এইসব ঘাতক, সুপারবাগ ব্যাকটেরিয়া।

ভাল থাকুন, প্রিয় ভাই। আগামী বইমেলায় গল্পের বই চা-ই-ই।

১৬| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:০৮

রাজীব নুর বলেছেন: রোগ মুক্ত একটা পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি।

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৩১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে, কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের এমনভাবে পাল্টে ফেলে যে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতিতেই তারা নিজেদের বংশবিস্তার করতে সক্ষম হয়। এসব ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন হয়ে যায়, কাজেই রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি থাকে অনেক বেশি। অপ্রতিরোধ্য এসব ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো অস্ত্র এমনকি পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রেরও নেই। এইতো ক’মাস আগেই, যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা রাজ্যে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে কার্বাপেনেম-প্রতিরোধী এন্টারোব্যাক্টেরি ও সি গ্রুপের এক সুপারবাগ, যা কিনা যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া যায় এমন সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী। যদিও এমন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার খবর পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে আগেও জানা গেছে, এসব ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র হয়ে যাবার ঘটনা এটাই প্রথম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা মানবজাতির জন্য অনিশ্চিত ও ভয়াবহ এক পরিণতির অশনিসংকেত বিশেষ। বর্তমানে, অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সুপারবাগের কারণে পৃথিবী জুড়ে প্রায় ৭ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে প্রতি বছর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই রোধ করা না গেলে এই মৃত্যুর হার বেড়ে এক কোটিতে উন্নীত হতে পারে আর অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ছাড়িয়ে যেতে পারে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি।

১৭| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১১:০৮

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: আমাদের দেশে কিছু হলেই বড়া নেই কড়া নেই সবাইকে এন্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয়।

ফলাফল এক সময় ঔষধে আর কাজ করেনা।
+++++++++++++++++++

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৩০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, প্রিয় মাইদুল ভাই। সংক্রামক ব্যাধি দমনে অ্যান্টিবায়োটিকের অবিশ্বাস্য সাফল্যে এক সময় বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন যে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে পৃথিবী থেকে জীবাণুঘটিত রোগ একেবারেই নিশ্চিহ্ন করে ফেলা সম্ভব হবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে জন্ম নিয়েছে জীবাণুদের অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে উঠার ক্ষমতাও। ফলে এন্টিবায়োটিক ক্রমেই জীবাণু দমনে তার কার্যকারিতা হারাচ্ছে। সচরাচর যেসব অ্যান্টিবায়োটিক আমরা দেখি বা ব্যবহার করি তা মূলত ব্যাকটেরিয়া নামক অণুজীবের বিরুদ্ধেই কাজ করে।

গত কয়েক দশক ধরে, বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত, অপ্রয়োজনীয় ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহারের পরিণতি হিসেবে উদ্ভূত হয়েছে ভয়ানক সব অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, যাদের বিরুদ্ধে আমাদের হাতে তেমন কোনো কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক আর অবশিষ্ট নেই। বহু অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী এসব ব্যাকটেরিয়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুপারবাগ’। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানব স্বাস্থ্যের ওপর ঝুঁকি বিবেচনা করে এমন ১২টি প্রজাতির সুপারবাগ ব্যাকটেরিয়ার তালিকা প্রকাশ করেছে এবং এই সব প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার দিকে বিশেষ নজর দেবার জন্য আহ্বান জানিয়েছে সংস্থার সদস্য দেশগুলোকে।

১৮| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৪৫

করুণাধারা বলেছেন: অনেকদিন পর আপনার এমন একটা পোস্ট পেলাম, যেটা দেখেই লেখককে চেনা যায়।

খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে লিখেছেন, আমাদের দেশে সর্দি কাশি হলেও অ্যান্টিবায়োটিক খেতে দেয়া হয়। অনেকের মধ্যে এমন প্রবণতা আছে যে, ১৪ টার জায়গায় ৪/৫ টা খেয়ে তারা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বাদ দেয়; এর ফলাফল কি ভয়াবহ তা তারা বুঝতে পারে না!

আপনার এই পোস্ট আমাদের সকলের সচেতনতা বাড়িয়ে দিক, কামনা করি।


২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, আপা। আমি গত দুই মাস থেকে একটু অনিয়মিত হলেও আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ পোস্টগুলো পড়ার চেষ্টা করি। বেশিরভাগ সময় ব্লগেই ঢুঁকতে পারিনি। যাক, আশা করছি ব্লগের উপর থেকে শকুনের দৃষ্টি সরে যাবে। আমরাও সহজে প্রিয় এই সামুতে অনায়াসে আসতে পারবো।

আসলে স্বাস্থ্য সচেতনতা বলুন আর খাদ্য সচেতনতা বলুন তার কোনটিই আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে নেই। অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষও এ বিষয়ে সচেতন নয়। আমি এমনও মানুষ দেখেছি যিনি ৪০০ টাকায় ডাক্তার দেখিয়েছিলেন; কিন্তু ডাক্তার সাহেব মাত্র একটি এন্টিবায়োটিক ঔষধ লিখে দেওয়ায় ডাক্তারকে গালি দিয়েছেন!! উনার যুক্তি কিন্তু একদম ফেলনা নয়!!

"চারশো টাকা বিজিট দিলাম, অথচ ঔষধ দিল মাত্র একটি"!!

এই সুযোগটি ডাক্তার মহোদয়রা কড়ায় গন্ডায় আদায় করেন। প্রেসক্রিপশনের পদ্য লিখেন মনের মতো। মনোভাব এমন, "মরলে মরুক! তাতে আমার কী? মোর পকেট তো ভরছে। এছাড়া সরকার বাহাদুরেরও এ বিষয়ে কোন টেনশন আছে বলে মনে হয় না। উনারা তো এদেশে চিকিৎসা করেন না। সর্দি জ্বর হলেও পাবলিকের টাকায় এয়ার এম্বুলেন্স রিজার্ভ করে সপরিবার সিংগাপুর যেতে পারেন।

এ বিষয়ে যত বেশি লেখালেখি হবে, মানুষ ততো সচেতন হবে।

১৯| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৭

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফল এখনই ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে যা সামাল দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের নেই।

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৪২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, দেশপ্রেমিক বাঙালি ভাই। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত, অপ্রয়োজনীয় ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহারের পরিণতি হিসেবে উদ্ভূত হয়েছে ভয়ানক সব অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, যাদের বিরুদ্ধে আমাদের হাতে তেমন কোনো কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক আর অবশিষ্ট নেই। বহু অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী এসব ব্যাকটেরিয়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুপারবাগ’। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানব স্বাস্থ্যের ওপর ঝুঁকি বিবেচনা করে এমন ১২টি প্রজাতির সুপারবাগ ব্যাকটেরিয়ার তালিকা প্রকাশ করেছে।

২০| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:০৩

ব্লগার_প্রান্ত বলেছেন: আরেহ বাহ! সুন্দর পোষ্ট!

গ্যাস্ট্রিকের বড়ি ছাড়া, অন্য কোন বড়ি জাতীয় ঔষধ আমি সহজে খাই না।

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, প্রিয় ভাই। কেমন আছো তুমি? আশা করি, পড়াশোনা ঠিকঠাক হচ্ছে। আমি নিজেও কোন এন্টিবায়োটিকের নাম জানি না। আমি ডাক্তার, টেস্ট, ঔষধ আর প্রেসক্রিপশন বীষণ ভয় পাই।

২১| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৪

ব্লগার_প্রান্ত বলেছেন: ভালো আছি ভাইয়া, আজকে ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলো :)

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১২:০৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



তোমার ভাল থাকা, ভালভাবে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া আমার জন্য সবচেয়ে খুশির সংবাদ। তোমার পরীক্ষা খুব ভাল হবে এটা জানি। আশা করি আগামী বছরের ইন্টার ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি ভাল হবে।

শুভ কামনা রইলো।

২২| ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৪২

সুমন কর বলেছেন: চমৎকার তথ্যবহুল পোস্ট। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। কেউ শুধুশুধু অপেক্ষা না করেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করে। আবার কেউ কেউ পুরো কোর্স না করেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করে দেয়। দু'টোই খারাপ।

সময়োপযোগী সচেতনামূলক পোস্টে ভালো লাগা রইলো।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১২:০৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, প্রিয় কবি। এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। সুপারবাগ নিয়ে আমরা তেমন একটা জানি না। এজন্য এ বিষয়ে লেখালেখি করতে হবে। এন্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কত ভয়াবহ হতে পারে তা জানতে হবে।

২৩| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ২:১৫

আরোগ্য বলেছেন: ইদানিং ব্লগে বেশি সময় দিতে পারি না। তাই কাওসার ভাইয়ের পোস্টে আসতে দেরি হয়ে গেল। যেহেতু আপনার লেখা একটু দীর্ঘ হয় তাই সময় নিয়ে পড়তে এলাম। মন্তব্যগুলোও পড়লাম এবং সর্বোপরি অনেক কিছু জানতে পারলাম। এরকম পরিশ্রমিি ও সচেতনতামুলক পোস্টের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

আশা করি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। ঢাকাতে প্রচণ্ড গরম।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৩১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



কেমন আছেন, প্রিয় ভাই আমার। ব্লগে আমিও ইদানিং অনিয়মিত। তবুও সময় সুযোগে ব্লগে আসি, প্রিয় সহ ব্লগারদের লেখাগুলো পড়ি। আমি একটু ডিটেলে লিখি বলে একটু লম্বা হয়ে যায়। কারণ, কোন একটি বিষয়ে পরিপূর্ণ ব্যাখা না দিলে লেখাটি মানসম্মত হয় না। এতে পাঠকরা বিষয়টির গভীরতা বুঝতে অসুবিধায় পড়েন। আসলে সুপারবাগ নিয়ে আমাদের এখনই সচেতন হওয়া জরুরী। এজন্য ডাক্তারদেরকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে বিধিমালা তৈরী করতে পারে।

আপনার জন্য অনেক শুভ কামনা রইলো।

২৪| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:০৯

শামছুল ইসলাম বলেছেন: কাওসার ভাই, খুব ভালো পোস্ট।

অনেক কিছু জানা হলো আপনার লেখা পড়ে।

বিশ্বজুড়ে সুপারবাগের ভয়াবহতা ঠেকাতে প্রতিটা দেশকে, বিশেষ করে বাংলাদেশকে আরো সচেতন হতে হবে।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, শামছুল ভাই। আশা করি, ভাল আছেন। সুপারবাগের পরিণাম নিয়ে আমাদের তেমন সচেতনতা নেই। ডাক্তাররা রোগীদের সচেতন না করে এন্টিবায়োটিক ভাতের পরিবর্তে খাওয়াচ্ছে!! এ থেকে সহসা মুক্তির উপওায় নেই।

২৫| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:৩৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: কাওসার চৌধুরী,




দারুন তথ্য সমৃদ্ধ একটি লেখা। সুপারবাগ নিয়ে লিখেছেন এবং এর পরিনাম সম্পর্কেও বলেছেন। বলেছেন কি করে এরা সুপারবাগ হয়ে ওঠে।
আমিও গতকাল এ সম্পর্কিত একটি লেখা পোস্ট করেছি যা চলবে ধারাবাহিক ভাবে। আপনার এ লেখাটি আমাকে সাহায্য করবে নিঃসন্দেহে।

শুভেচ্ছান্তে।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৪২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা রইলো আপনার চমৎকার কমেন্ট পড়ে। এ বিষয়ে ডাক্তাররা লিখলে মানুষ আরো সচেতন হবে। কিন্তু উনারা এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। রোগীদের বাছবিচার না করে কমিশনের আশা প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে এন্টিবায়োটিকের পদ্য লিখেন!! এটা দুঃজনক। এখন ডাক্তাররাই রোগীদের জীবনীশক্তি নিঃশেষ করে দিচ্ছেন এন্টিবায়োটিক দিয়ে। সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর হতে হবে। সাধারন মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে।

আপনার এ বিষয়ে পোস্টট পড়েছি। যথেষ্ট তথ্য সমৃদ্ধ সচেতনতামূলক লেখা। বইমেলায় আপনার সাথে দেখা হওয়াটা ছিল আমার খুব আনন্দের স্মৃতি। আশা করি, আবারো দেখা হবে।

২৬| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আরোগ্য বলেছেন: কেমন আছেন, প্রিয় ভাই আমার। ব্লগে আমিও ইদানিং অনিয়মিত। তবুও সময় সুযোগে ব্লগে আসি, প্রিয় সহ ব্লগারদের লেখাগুলো পড়ি।

আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি। প্রিয় কাওসার ভাই আমিও যদি আপনার প্রিয় সহব্লগারদের একজন হতাম তাহলে আমার লেখা ছোট গল্পটিতে আপনার মূল্যবান একখান মন্তব্য পেতাম। :(

বায়স্কোপ এর দুটি গল্প পড়েছি, লাভ জিহাদ ও সেকেলে। বলার অপেক্ষা রাখে না আমাদের সামু পরিবারের সদস্য একদিন সাহিত্যাঙ্গনে তারকার মত জ্বলে উঠবে। তখন কিন্তু ভুলেে গেলে হরতাল করবো। :P রমজানে ব্লগ থেকে ছুটি নিয়ে বইটি শেষ করবো ইনশাআল্লাহ।

লাভ জিহাদ আমার বোনও পড়েছে। এক কথায় বলেছে অসাধারণ।

কাওসার ভাই সময় করে আমার গল্পটি পড়ে দিক নির্দেশনা দিবেন। আপনার মন্তব্য একান্ত কাম্য।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১:০১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"প্রিয় কাওসার ভাই আমিও যদি আপনার প্রিয় সহব্লগারদের একজন হতাম তাহলে আমার লেখা ছোট গল্পটিতে আপনার মূল্যবান একখান মন্তব্য পেতাম।"........ আপনি তো আমার খুবই প্রিয় একজন ভাই/সহ ব্লগার। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন আমি গত দুই মাসে তেমন কমেন্ট করিনি। তবুও আপনার পোস্টে মন্তব্য করিনি শুনে লজ্জা পাচ্ছি। সত্যি, দুঃখিত। আমি অবশ্যই আপনার গল্পটি পড়ে একটি চমৎকার মন্তব্য করবো।

আপনি বায়স্কোপের দু'টি গল্প মনোযোগ দিয়েছেন শুনে খুব ভাল লাগলো। আর লাভ জিহাদ পড়ে ভাল লেগেছে শুনে বোনটার জন্য আশীর্বাদ রইলো। আমার শুভেচ্ছাটা তাকে দেবেন। আমি মনের আনন্দে লিখি। লিখতে ভাল লাগে তাই। সুন্দর আগামীর জন্য দোয়া করবেন।

স্যরি, ভাই আমার। গল্পটি পড়বো।

২৭| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৩:০৩

অর্পিতা মন্ডল বলেছেন: সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন। চমৎকার লাগলো।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৪৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। সামুতে পথচলা সার্থক হোক। আপনার চমৎকার লেখাগুলো আমাদের ভাবনার দোয়ার খোলে দেবে। আমাদের জানার পরিধি বাড়িয়ে দেবে এই প্রত্যাশা রইলো। আপনি নিয়মিত ব্লগে আসবেন, আশা করছি।

ধন্যবাদ।

২৮| ০৪ ঠা মে, ২০১৯ রাত ১২:০১

রাকু হাসান বলেছেন:


সাম্প্রতিক সময়ে জনসচেতনতামূলক দুটি পোস্ট আমার খুব ভালো লেগেছে এক আহমেদ জী এস স্যারের পোস্টটা এবং আপনারটা । এ রকম তথ্যসমৃদ্ধ মূল্যবান পোস্টই আশা করছিলাম সহব্লগারদের কাছ থেকে । মনে মনে ভেবেছিলাম আপনাদের মতো প্রতিভাবান ব্লগাররা লিখুক এ নিয়ে । লিখলেনও । অনেক ধন্যবাদ সুন্দর পোস্ট উপহার দেওয়ার জন্য । সুপারবাগ মহামরি আকার ধারণও করতে পারে । সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই । ইঁদুর -বিড়াল খেলায় মানুষই জয় লাভ করুক সেই কামনা করছি ্। কত সব সমস্যা আমাদের । জলবায়ু,রোগিঙ্গা,সুপারবাগ কত সব । সব কিছু পদানত করে এগিয়ে যাব বাংলাদেশ ।।

০৪ ঠা মে, ২০১৯ রাত ১২:৫৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, প্রিয় রাকু হাসান ভাই;
আসলে জনসচেতনতামূলক পোস্ট বেশি বেশি লেখলে সাধারন মানুষের নজরে আসে। এসে মানুষ সচেতন হয়। আমি জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি মূলত এজন্য তুলে ধরেছি। ব্যাকটেরিয়ার সুপারবাগ হয়ে গর্জন করা মোটেও ভাল লক্ষণ নয়। এজন্য এন্টিবায়োটিক গ্রহণে এখন থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরী। না হলে একটা সময় মানবজাতিই হয়তো নিশ্চিন্ন হয়ে যাবে। এ বিষয়টি নিয়ে আরো লেখা দরকার। আশা করি, আপনার মতো গুণী ব্লগারও লিখবেন। পত্রিকায়ও এ বিষয়ে অনেক লিখতে হবে। ডাক্তার ও সরকারকে আরো সচেতন হওয়া বাঞ্ছনীয়।

ভাল থাকুন, প্রিয় ভাই আমার।

২৯| ০৪ ঠা মে, ২০১৯ রাত ৩:৩০

সোহানী বলেছেন: আর সে কারনেই পশ্চিমা বিশ্বে কোনভাবেই এ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয় না। আসলে আমাদের কোন উপায় নেই ডাক্তারদের। অনেকটা বাধ্য হয়েই করে। সে গল্প আরেকদিন।

শুধু ছোট্ট মন্তব্য করলাম কারন খুব ঝামেলার মধ্যে আছি।

০৪ ঠা মে, ২০১৯ সকাল ১১:২৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আপু। আপনার একটি মন্তব্য পাওয়া আমার জন্য অনেক সম্মানের। এই মন্তব্য ছোট কিংবা বড় হোক তাতে সমস্যা নেই। পশ্চিমা দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া এন্টিবায়োটিক বিক্রি নিষিদ্ধ। ডাক্তাররা একান্ত প্রয়োজন না হলে এন্টিবায়োটিক দেন না। এসব দেশে ঔষধ কোম্পানীগুলোর মাস্তানি/বাটপারী/রিপ্রেজেন্টেটিভ নেই। টাকা খেয়ে প্রেসক্রিপশনে অযথা এন্টিবায়োটিক দেওয়ার কোন সুযোগও ডাক্তারদের নেই।

আমি জানি আপনি খুব ব্যস্থ ইদানিং। শুধু ভাল থাকবেন এই কামনা করছি।

৩০| ২৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১০:৫২

খায়রুল আহসান বলেছেন: জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পোস্ট। অনেক ধন্যবাদ, বিষয়টির উপর আলোকপাত করার জন্য।
ডাক্তাররা কবিতার ছন্দে প্রেসক্রিপশন ভরাট করছে - বাহ, চমৎকারভাবে বলেছেন কথাটা (৬ নং প্রতিমন্তব্য)!

২৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:০৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা রইলো, স্যার। এ বিষয়টি নিয়ে আরো বেশি লেখা উচিৎ। এতে জনসচেতনতা বাড়বে। ডাক্তাররা কমিশনের বিনিময়ে এন্টিবায়োটিক দেওয়া কমাবে, সরকারও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হবে। মানুষের মৌলিক এই অধিকারটি নিশ্চিত করবে। আর ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনে এতো এতো এন্টিবায়োটিক লেখা হয় যে, দেখতে কবিতার ছন্দ মনে হয়। এযুগের অনেক আধুনিক কবিতা কঠিন শব্দ আর ভাবের আগামাথা যেমন বুঝি না ঠিক তেমনি এই প্রেসক্রিপশনও বুঝি না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.