নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জন্মসূত্রে মানব গোত্রভূক্ত; এজন্য প্রতিনিয়ত \'মানুষ\' হওয়ার প্রচেষ্টায় আছি। গল্পের \'বায়স্কোপ\' বইয়ের কারিগর।

কাওসার চৌধুরী

প্রবন্ধ ও ফিচার লেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। পাশাপাশি গল্প, অনুবাদ, কবিতা ও রম্য লেখি। আমি আশাবাদী মানুষ।

কাওসার চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

লাস ভেগাসকে পেছনে ফেলে ঢাকা মহানগরী এখন ক্যাসিনো ক্যাপিট্যাল। চাঁদাবাজি, মাদক আর গডফাদারদের তীর্থভূমি।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:০২


'ক্যাসিনো' এবং 'কুজিন' শব্দ দু'টি নিয়ে অনেকেই দ্বন্ধে পড়েন। কেউ কেউ ক্যাসিনোকে কুজিন ভেবে ভেতরে ঢুঁকে দৌড়ে পালান; আবার কেউ কেউ কুজিনকে ক্যাসিনো ভেবে সমস্যায় পড়েন। এই তো কিছুদিন আগে আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজার দল নিয়ে বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ ট্যুরে গিয়ে ক্যাসিনোকে কুজিন ভেবে ভেতরে প্রবেশ করে খবরের শিরোনাম হলেন। পরে অবশ্য তিনি খেলতে নয়, খেতে গিয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন! যদিও ভিডিও ফুটেজ দেখে তার ডিনার করার কোন দৃশ্য চোখে পড়েনি। তিনি স্ব-জ্ঞানে ক্রেডিট কার্ড ভাঙ্গিয়ে জুয়া খেলছেন এমন দৃশ্যই আমাদের চোখে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসকে ক্যাসিনো ক্যাপিটাল বলা হয়। এছাড়া লন্ডন, বেইজিং, সিঙ্গাপুর, নিউইয়র্ক, হংকং, ম্যানিলা কোথায় নেই ক্যাসিনো? কুজিন হলো রেস্টুরেন্ট এবং ক্যাসিনো হলো ফাইভ স্টার ফেসিলিটির জুয়ার আসর। স্যুটেড-বুটেড পৃথিবীর ধনী আর এডিকটেড জুয়াড়িরা এখানে এসে টাকার খেলায় মত্ত হয়। কেউ হন লাখপতি থেকে মিলিয়নিয়ার, আবার কেউ বিলিয়ন ডলারও লস করেন। প্রতিদিন এই গ্যাম্বলিং ইন্ডাস্ট্রিতে হাজার হাজার কোটি টাকা হাত বদল হয়। ধনী এবং টুরিস্ট বেস্টিত শহরগুলোতে ক্যাসিনো ব্যবসা জমজমাট।

লন্ডনে বড় বড় ক্যাসিনোগুলোর সবচেয়ে বড় গ্যাম্বলারা হলো তেল সমৃদ্ধ আরব দেশগুলোর শেখ পরিবার; তাদের পুরুষ, মহিলা সমান তালে জুয়ার আসরে আসে। এরপর আছে চায়নিজ এবং রাশিয়ানরা। এসব ক্যাসিনো সরকারকে উচ্চহারে ট্যাক্স পরিশোধ করে। দেশগুলো মূলত বিদেশীদের টাকা হাতিয়ে নিতে এসব এক্সপেন্সিভ জাঁকজমকপূর্ণ অসংখ্য জোয়ার আসর বসায়। ক্যাপিটালিজমের এই দুনিয়ায় নীতি-নৈতিকতার চেয়ে ব্যবসার মুনাফাটাই তাদের কাছে আসল।

জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৬০টি ক্যাসিনো আছে খোদ রাজধানী ঢাকায়; যার বেশিরভাগই বিভিন্ন ক্লাব কেন্দ্রিক। শুধু কী তাই? অনুমোদনহীন এসব ক্যাসিনোর খবর নাকি সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা কেউ জানে না! অবশেষে র‌্যাব এর মাজিস্ট্রেট যখন অভিযান পরিচালনা করলেন তখন সবার টনক নড়লো। দায়িত্বশীলদের মুখ থেকে এক্সপ্রেশন বের হলো, 'ওহ! তাই নাকি? কখনো শুনিনি তো'!

এই অবৈধ টাকার ভাগ রাজনীতিবিদ, পুলিশ প্রশাসন, দুদক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্তা ব্যক্তিরা পেতো। এদের সরাসরি সাপোর্ট ছাড়া মাদক ব্যবসা, ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কোনটিই সম্ভব নয়। এরা সবাই মাস শেষে যার যার ভাগ বুঝে নিয়ে চুপচাপ থাকতো। দেশের মানুষ গোল্লায় যাক নিজেদের পকেট ভারী করাই এই দায়িত্বশীল ডাকাতদের ঈমানী দায়িত্ব।

ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং, কলাবাগান ক্রিড়াচক্র, ওয়ারী এবং ওয়ান্ডারার্স এগুলো একটা সময় এদেশের ক্রিকেট, ফুটবল ও হকিতে নেতৃস্থানীয় ক্লাব ছিল। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠা মুক্তিযোদ্ধা ক্রিড়াচক্র ক্লাবের কথাই যদি বলি, গত কয়েক বছর আগেও ক্লাবটি দেশের শীর্ষস্থানীয় ফুটবল ক্লাব ছিল। কিন্তু এগুলো এখন সোনালী অতীত। তাদের ক্রিড়া নৈপুণ্য তলানীতে ঠেকলেও খেলাধূলায় এখনো মাঠ মাতাচ্ছে জোর কদমে। সফলতাও আসছে নগদে।

অবাক হলেন?


না, অবাক হওয়ার কিছু নেই। এসব ক্লাব এখন জুয়া/ক্যাসিনো খেলায় ক্রিড়া নৈপুণ্য দেখাতে গিয়ে গতানুগতিক খেলাধূলা থেকে সরে এসেছে। এখন এরা ক্যাসিনো ব্যবসায় একে অন্যকে পেছনে ফেলে কোটি কোটি টাকা কামানোর ধান্দায় দিনকে রাত করছে। আগেও নাকি এসব ক্লাবের আয়ের বড় উৎস ছিল হাউজি বা জুয়ার আসর। আর এখন তো রীতিমত ফাইভ স্টার হোটেল বানিয়ে মদ-জুয়া-বেশ্যাবৃত্তি করাচ্ছে ক্লাবগুলোর কর্তা ব্যক্তিরা। একদম সরকার, প্রশাসন আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় বসে! এসব ক্লাবের নেতৃত্ব এখন কোন ক্রিড়া সংগঠকের হাতে নেই; এগুলো পরিচালনা করছে রাজনৈতিক পরিচয় সর্বস্ব ভয়ঙ্কর গুন্ডা, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ আর গডফাদাররা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কোন ক্যাসিনো ব্যবসা আছে কিনা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে খোদ বোর্ড প্রধান যখন জুয়াড়ি হয়, তার জুয়া খেলার ভিডিও ভাইরাল হয় তখন সন্দেহ কিছুটা হলেও সবার মনে উঁকি দেবে।

একটা সময় ক্লাবগুলো ছিল শুধুই খেলাকেন্দ্রিক। ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং, ওয়ান্ডারার্স, ওয়ারীর মতো দলগুলো ঢাকার মাঠ কাঁপিয়েছে ফুটবল কিংবা হকি দিয়ে। এখন এই ক্লাবগুলোর বড় অংশেরই জুয়ার টাকায় জৌলুশ বেড়েছে, কিন্তু মাঠের খেলায় আর মনোযোগ নেই।

গতকাল রাজধানীর নিকেতন থেকে জুয়া আর চাঁদাবাজির আরেক ভয়ঙ্কর গডফাদার বর্তমান যুবলীগের নেতা (আগে যুবদল ছিল) জি কে শামীম এর অফিসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও প্রায় ২০০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজ পেয়েছে র‌্যাব। সে ঢাকার মতিঝিল, খিলগাঁও এলাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করতো। গণপূর্ত অধিদপ্তরের যাবতীয় ঠিকাদারী তার কনট্রোলে চলতো। যে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করেছে তাদের নির্মাণাধীন বড় কনস্ট্রাকশনের কাজগুলো এখন জি কে শামীমের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান করছে!

ঠিকাদারী মাফিয়া এই শামীম। ভয়ঙ্কর আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত ছয়জন দেহরক্ষী নিয়ে সে চলাফেরা করতো। তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে এসব দেহরক্ষী বাহিনী মানুষকে তুলে এনে গুম করে দেয়! শামীমের আস্তানায় নাকি একটি গোপন টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে!

বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে মাত্রাতিরিক্ত ব্যায়, অপচয় এবং দুর্নীতির ভয়াবহ যে তথ্য আমরা পাই তার পেছেনে এই শামীমদের মতো গডফাদার ঠিকাদারদের হাত থাকে। এরা বিভিন্ন চ্যানেলে টাকা ঢেলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দিয়ে প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ব্যয় দেখিয়ে প্রকল্প অনুমোদন করায়। পরে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হলে হুমকি, ধমকি এবং প্রয়োজনে টর্চার করে বাকিদের শায়েস্তা করে একাই কাজটি বাগিয়ে নেয়। এদের হাত এতো লম্বা যে, কোন এক আলৌকিক শক্তির বলে একটি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের পর্দার দাম ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হয়! এরা তাদের উপরের রাজনৈতিক গুরু আর মাফিয়াদের এই টাকার হিস্যা দিয়ে বিল পাশ করে। এরা দেশের কোটি কোটি মানুষের টেক্সের পয়সায় বডিগার্ড পালে, বিদেশি দামী মদ গিলে, দেশে বিদেশে ক্যাসিনো খেলে/খোলে, টর্চার সেল বানায়, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে।

ছাত্রলীগ-যুবলীগ-সেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি জেলার শীর্ষ নেতাদের তালিকা করলে দেখা যাবে এদের অধিকাংশই চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, দখলদার, মাদক ব্যবসায়ী, খুনি এবং এলাকায় গডফাদার হিসাবে পরিচিত ভয়ঙ্কর গুন্ডা। এদের একাধিক দেহরক্ষী আছে। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবসায়ও এরা জড়িত। এরা কেন্দ্রীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় অফিসের দেয়ালে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টাঙিয়ে এসব অপকর্ম করছে। এরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বুলি আওড়িয়ে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। গ্রুপিং রাজনীতির নামে তৈরী করছে ভয়ঙ্কর গুন্ডা বাহিনী।

গত বুধবার র‍্যাব অভিযান চালিয়ে ফকিরাপুলের ইয়ংমেনস ক্লাব, মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ সিলগালা করে দেয়। তবে বিষয়টি এমন নয় যে ওই দিন কিংবা দিন কয়েক আগে প্রথম ক্যাসিনো চালু হয়েছে মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায়। পাঁচ–ছয় বছর ধরেই এই চারটি ক্লাবসহ মোহামেডান ও ব্রাদার্সে ক্যাসিনো ব্যবসা চলে আসছিল।


আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, খেলাসংশ্লিষ্ট লোকজন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাধিক সূত্র বলেছে, ক্যাসিনোগুলো ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী (সম্রাট), সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া এবং এ কে এম মমিনুল হক (সাঈদ) এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন শীর্ষ নেতা চালাতেন। তাঁরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবেন এবং ক্লাবগুলোর কাজকর্ম নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না—এমনটাই মনে করে আসছিলেন সবাই।

জানা যায়, ক্লাবগুলোতে জুয়াটা রমরমা হয়ে উঠতে শুরু করে নব্বইয়ের দশক থেকে। ক্লাবগুলো তখন মাত্র মতিঝিল এলাকায় এসেছে। খেলাধুলার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনুদানের টাকায় ক্লাবগুলো আর চলতে পারছিল না। তখনই একটি দুষ্ট চক্র ক্লাবে ঢুকে পড়ে। তারা ক্লাবের ঘর ভাড়া নিয়ে ওয়ান–টেন (ছোট তির ছুড়ে মারার খেলা) ও রামি (তাসের খেলা) নামের খেলা চালু করে। প্রতি রাতে ক্লাবগুলোকে এরা ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিত। যারা জুয়ার আসর বসাত, তারা রাজনৈতিক নেতা, মহল্লার মাস্তান ও পুলিশকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিত।

গত কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানায় র‌্যাবের এই মাজিস্ট্রেট অভিযান চালিয়ে কয়েক হাজার লিটার দুধ জব্দ করেন। পরীক্ষা করে দেখা যায় এসব দুধে কোন 'দুধ' এর অস্তিত্ব নেই; সব কেমিক্যাল আর পানি। প্রতিদিন তারা ২০ হাজার লিটার কেমিক্যাল মিশ্রিত বিষ ঢাকাবাসীকে খাওয়াতো! এছাড়া নকল ঔষধ, নকল প্রসাধনী, নকল শিশু খাদ্য তো খুবই কমন বিষয়। এসব কারখানার মালিক ও শ্রমিকরা স্বীকার করেছে থানা পুলিশকে ম্যানেকজ করেই এই ব্যবসা তারা পরিচালনা করে নির্বিঘ্নে। তাহলে ঢাকার এই অবৈধ ক্যাসিনোগুলোর কথা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জানতো না? বিশ্বাস হয়!

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর কয়েক হাজার ধনকুবের তাদের বৈধ-অবৈধ কোটি কোটি টাকা উড়িয়ে দিতে বিদেশের ক্যাসিনোগুলোতে ভীড় করেন। এসব জুয়াড়িদের পছন্দের গন্তব্য সিঙ্গাপুর, ম্যাকাও, হংকং, ম্যানিলা এবং ব্যাংকক। প্রতি বছর ঠিক কত হাজার কোটি টাকা এই সখের নেশায় বাংলাদেশ থেকে হাওয়া হয়ে যায় তার সঠিক হিসাব কারো কাছে নেই।

ঢাকাকে যারা ভবিষ্যৎ নিউইয়র্ক/সিঙ্গাপুর ভাবেন তারা ভবিষ্যৎ ক্যাসিনো সিটি হিসাবে লাসভেগাসও ভাবতে পারেন। কারণ, অনুমোদন ছাড়াই যে শহরে ৬০টি ক্যাসিনো থাকে সেখানে বৈধ অনুমোদন থাকলে ৬০০টি ক্যাসিনো বসবে। এটা হবে বিশ্ব রেকর্ড।

এদেশের লক্ষ লক্ষ হতাশ যুবক ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখে ইয়াবা আর ফেন্সিডিল গিলে জীবনী শক্তি বিনাশ করছে। আর আরেকদল মাফিয়া দেশের সম্পদ লুটে ক্যাসিনো খুলছে; দামী ব্রান্ডের মদ গিলে উদযাপন করছে। অতিরিক্ত টাকা দেশে বিনিয়োগ না করে বিদেশে পাচার করছে। পরিবার-পরিজনকে বিভিন্ন দেশে সেটেলড করে নিশ্চিত নিরাপদ ভবিষ্যৎ ঠিকানার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। একটি সূত্র মতে, গত ১৩ বছরে এসব দুর্নীতিবাজরা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।

যারা বুড়িগঙ্গাকে টেমস রিভার, গুলিস্তানকে লাস ভেগাস, বুটানিক্যাল গার্ডেনকে প্যারিস, মতিঝিলকে ম্যানহাটন, হাতিরঝিলকে সিঙ্গাপুর, ঢাকার বস্তির টং ঘরগুলোকে মালদ্বীপ, ঢাকার ফ্লাইওভারকে টাওয়ার ব্রিজ, সদরঘাটকে হংকং এবং ফার্মগেটকে অলগেট মনে করেন অন্তত তাদের জন্য ঢাকাকে ক্যাসিনো সিটির মর্যাদা দেওয়া হোক। আর ঢাকা সিটিকে অভিজাত শ্রেণীতে তুলতে হলে ক্যাসিনোতে নিয়মিত মদ-জুয়ার আসর বসাতে হবে। না হলে সিঙ্গাপুরের সাথে কম্পিটিশনে পেছনে পড়ে যাবে!


ফটো ক্রেডিট,
গুগল। [প্রয়োজনীয় লিঙ্ক লেখায় সংযুক্ত করা আছে ]

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪২

করুণাধারা বলেছেন: ঢাকাকে যারা ভবিষ্যৎ নিউইয়র্ক/সিঙ্গাপুর ভাবেন তারা ভবিষ্যৎ ক্যাসিনো সিটি হিসাবে লাসভেগাসও ভাবতে পারেন। কারণ, অনুমোদন ছাড়াই যে শহরে ৬০টি ক্যাসিনো থাকে সেখানে বৈধ অনুমোদন থাকলে ৬০০টি ক্যাসিনো বসবে।

আমার ধারণা ষাটটি নয়, ক্যাসিনোর সংখ্যা অনেক বেশি, এখনো সেগুলো অজ্ঞতার অন্ধকারে ঢাকা আছে। অতএব ঢাকাকে লাসভেগাসের উপরে স্থান দেয়াই যেতে পারে!! গর্বিত হব, নাকি দুঃখিত হব বুঝতে পারছিনা!!

পোস্টে +++

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, আপা।
ঢাকায় অবৈধ উপায়ে ৬০টির বেশি ক্যাসিনো আছে নিশ্চিত। পাশাপাশি অনলাইন ক্যাসিনো তো আছেই। সে হিসাবে ঢাকাকে লাস ভেগাস বলাই যায়। সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং দুদককে ঘুম পাড়িয়ে এমন ব্যবসার সুযোগ নেই। এরা প্রতিমাসে বড় অংকের সালামি বুঝে নিতো বিধায় এতোদিন চুপচাপ ছিলো। আর এদের মূল গডফাদার হলো দলীয় দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারকেরা।

২| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৫০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় গুরুদেব পোস্টটি ইতিমধ্যে ফেবুতে পড়ে নিয়েছি। তবে ক্যাসিনো নামটির সঙ্গে কেমন যেন একটা মায়া মাখানো হৃদয়ের আত্মিক টান অনুভুত হল। অস্বীকার করব না সেদিন পোস্ট পড়ার আগে নাম শুনেই কেমন যেন একটা আবেশ তৈরি হয়েছিল। ঘটনার বিস্তারিত পরিচয় জেনে ঠিক ততটাই কষ্ট পেলাম।
আধুনিকতার নামে নাগরিক জীবনের এমন অবক্ষয়তা যে কোন সভ্যতাকে পিছনে টানতে বাধ্য।
পোস্টে দুঃখজনক ভাললাগা রেখে গেলাম।
অফুরান শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানবেন।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, প্রিয় গুরুজি।
ফেইসবুকে পোস্টটি পড়ে এখানেও এসে নিজের মতামত জানিয়ে কমেন্ট করেছেন। এজন্য কৃতজ্ঞতা রইলো। ক্যাসিনো নামটি খুব মায়াবি। একটু রহস্য, একটু স্মার্টনেস আছে উচ্চারণে! তবে যারা এই নেশায় একবার মজে গেছে তারা আর ফিরে আসতে পারে না। এই নেশা বিষাক্ত মাদকের চেয়েও বহুগুণে বিপজ্জনক। পৃথিবীর কতশত মমানুষ এই নেশায় পড়ে পরিবার-ভিটেমাটি হারাইছে তার সঠিক হিসাব কেউ জানে না। ক্যাসিনোর নেশায় আসক্তরা ধুঁকেধুঁকে মরে।

৩| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৫৬

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: সুন্দর একটা দেশ। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, সাজ্জাদ ভাই।
আমাদের দেশটি সুন্দর; অধিকাংশ মানুষও ভালো। মাত্র ৫-৭% মাফিয়ার কাছে দেশটি আজ জিম্মি। রাজনৈতিক নেতৃত্ব এসব মাফিয়াদের আশ্রয় দিয়ে ক্ষমতাবান বানাচ্ছে। এখন এদেশের দুর্নীতিবাজ আর মাফিয়ারা রাজনীতির শীর্ষ পদগুলোতে বসে আছে। রাজনীতি থেকে মাফিয়াদের তাড়িয়ে না দিলে এগুলো থেকে মুক্তি মিলবে না।

৪| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৩

রাজীব নুর বলেছেন: বিশ্বের সেরা মাতৃভক্ত ঠিকাদার শামীম।
১৬৫ কোটি টাকা কামিয়ে ১৪০ কোটি মায়ের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করে দিলেন।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



একদম ঠিক বলেছেন রাজীব ভাই। যে ছেলে মায়ের নামে ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর করতে পারে সে তো যেইসেই পোলা না; পোলা তো নয় যেন আগুনেরই একটা গোলা। এমন পোলা পেয়ে মা নিশ্চয় ধন্য। তবে তার বউয়ের নামে হয়তো আরো বহুগুণ বেশি এফডিআর আছে। রক্ষিতা/গার্লফ্রেন্ডদের তালিকা পেলে তাদের নামেও হয়তো বহু ফ্লাট আর এফডিআর পাওয়া যাবে।

৫| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:০৭

ডার্ক ম্যান বলেছেন: এই ক্যাসিনোর প্রধান খদ্দের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণীর সদস্য । সম্ভবত ভাগের গন্ডগোল হওয়ায় এই অভিযান। চট্টগ্রামের এমন একটা ক্যাসিনো আমি চিনি যেখানে থানার ওসি প্রতি রাতে হাজিরা দিতেন। আমার এক বন্ধু ঐ ক্যাসিনোতে খেলে কোটি টাকার সম্পত্তি হারিয়েছিল ।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। এই ক্যাসিনোগুলোর মালিক যেমন অবৈধ টাকার মালিক; কাস্টমারদের অধিকাংশও তাই। প্রশাসন আর পুলিশের অবৈধ উপার্জনকারীদের আড্ডা আর খেলার জায়গা হলো এসব ক্যাসিনো। ভাগের গন্ডগোল হয়তো হতে পারে। তবে আমার মনে হয় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ থাকায় অভিযানগুলো ফলপ্রসূ হয়েছে। আমার এক পরিচিত ডিবির ওসি প্রতিরাতে ক্যাসিনো খেলে; তবে বউকে বলে এতো ডিউটি মুতার টাইম পাই না!!

৬| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৫

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: দেরিতে হলেও ধরপাকড় শুরু হল। দেখি লজ্জা, শরম কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়। নাকি, কিছুদিন পরই অন্য ভাবে আবার শুরু হয়ে যাবে...

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া এদেশে এখন কোন কাজ হয় না; কারণ, রাজনীতি এখন মাফিয়াদের নিয়ন্ত্রণে। এদেশের যত অবৈধ ব্যবসা তার সাথে মিনিস্টার, এমপি এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা জড়িত। এজন্য অপরাধীরা এখন চেতনার সবক দেয়; মাথার উপর বঙ্গবন্ধুর ছবি ঝুলিয়ে গডফাদার হয়।

৭| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:১১

চাঁদগাজী বলেছেন:



এই ধরণের ক্যাসিনো ডাকাতেরা করেছে, ডাকাতেরা খেলতো; এগুলোতে সাধারণ নাগরিকের প্রবেশ ছিলো না। জানার দরকার, এতদিন শেখ হাসিনা কেন এ্যাকশন নেননি।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। অল্পকথায় চমৎকার বলেছেন। এদেশের বড় বড় দুর্নীতিবাজ আর ডাকাতরা এখন রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রক। এই ক্যাসিনোর সাথে রাজনীতিবিদ, প্রশাসন, পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সবাই জড়িত। যারা ডাকাতদের শাস্তির আওতায় এনে দেশকে ডাকাত মুক্ত করবে তারা বড় ডাকাত হয়ে বসে আছে। তবে গত ১১ বছরে শেখ হাসিনা কি করেছেন এদের নিয়ন্ত্রণ করতে? তার বিশাল সুযোগ ছিলো এদের পিটিয়ে তক্তা বানানোর। কিন্তু তিনি তা করেন নি।

৮| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৬

বলেছেন: বদলে যাওয়ার প্রতিযোগিতা!!!

দেখা যাক আমরা পারমিশন পাই কিনা?? হা হা।।।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



কবি, দারুন বলেছেন।
দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা এখন ক্যাসিনো ক্যাপিটাল হচ্ছে। ভবিষ্যৎ ষ্ট্রীপ ক্লাব/ল্যাপ ডান্সিং ক্লাব হবে। পিপ শো দেখবে এদেশের শতশত তরুণ। বিদেশী আইটেম আমদানী হবে। আমেরিকান, চায়নিজ আর রাশিয়ানরা জুয়া খেলতে ঢাকায় আসবে। থাই ম্যাসেজ গার্লরা দল বেঁধে সর্ট পোষাক পরে সারা দেশে ম্যাসেজ পার্লার খোলবে; দেশী/বিদেশী কাস্টমারে দেশ সয়লাভ হবে। বাংলাদেশ আমেরিকা/কানাডা/সিঙ্গাপুর হবে।

আমরাও একখান ক্যাসিনো, ডজনখানেক ম্যাসেজ পার্লার এবং অনলাইনে ভালোবাসা কেনা বেচার ওয়েব সাইট খুলবো। আপনি লন্ডন থেকে কাস্টমার পাঠাবেন আর আমরা এখানে এদের সাইজ করবো!!

৯| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৫

আরোগ্য বলেছেন: কওমি জননী বলিবেন দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে ইহাই তার প্রমান। বেশি কথা নাহি বলি।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৪৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



আপনি কিযে বলেন? দেশে এখন একক মালিকানায় মনোপলি চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি আর জুয়াবাজি চলছে। কাউকে ভাগ দিতে হয় না বলে এরা নিজেদের মধ্যে মিলমিশ করে চলছে। যার যার ন্যায্য হিস্যা দিয়ে ব্যবসা করছে। জননীর কি করার আছে বলুন। এরা দুষ্ট বালক।

১০| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:১০

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: দুর্নিতি আর অপশাসনের দেশে সবাই লুটপাটে ব্যাস্ত।
ভাগে অমিল হলেই এক চোর আরেক চোরের ঘাড় মটকাচ্ছে।
নীতি আর সুশাসন থাকলে এদেশ আসলেই সোনার বাংলা হয়ে উঠতো ।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৫০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ।
আপনি ঠিকই বলেছেন। ভাগে গড়মিল হলেই কামড়াকামড়ি শুরু হয়। গতকাল ২০০ কোটি টাকার এফডিআর সহ ধৃত শামীম র্যাবের একটি বহুতল ভবনের ঠিকাদারি করছে এখন। কাজটি পাওয়ার সময় কি এরা জানতো না কে এই শামীম? হয়তো পারসেন্টিজ নিয়ে ঝামেলা করায় আম ছালা দু'টি হারাতে হলো।

১১| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২৫

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ধর্মের কল বাতাসে নড়ে!

বিএনপির মতো অথর্ব অপদার্থ দল কিছূ করতে পারেনি বলে অন্যায়তো আর চাপা থাকবে না!
তাদের পাপের ঘড়া পূর্ন হয়েছে- !
স্বৈরাচারিতার অপরাধ কি আর এসবে ঢাকবে? ঢাকবে না।
দেশৈ গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকলে, মানুষ প্রশ্ন করতে পারতো। জানতে পারতো! আইনের ভয় থাকতো!
এখনতো সবই এক! তাই যে যেভাবে পারছে লুটেপুটে খাচ্ছে!

অন্ধকারের সমাপনি আসুক। মানুষ মুক্তি পাক ।
আলোকিত ভোর আবার নতুন করে সাজাক জাতিস্বত্তাকে

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৫৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, গুরু।
বিএনপির আমলে এই শামীম মীর্জা আব্বাসের ডান হাত ছিল। তখন মীর্জা আব্বাস গণপূর্তমন্ত্রী ছিল। শামীমের টেন্ডারবাজির হাতে খড়ি তখন থেকে। রাজনীতির পালা বদলে সে খোলস পাল্টিয়ে এখন যুবলীগের নেতা। প্রভাবশালী গডফাদার। দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে এগুলো নিয়ে প্রতিবাদ উঠতো, পার্লামেন্ট উত্তপ্ত হতো। সরকারকেও জবাবদিহির আওতায় আনা যেত। এখন বিরোধী দল বলে কিছু নেই। সবাই গৃহপালিত সার্কাসের গাঁধা।

১২| ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৪৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: কাওসার চৌধুরী,




অনুমোদনহীন এসব ক্যাসিনোর খবর নাকি সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা কেউ জানে না! অবশেষে র‌্যাব এর মাজিস্ট্রেট যখন অভিযান পরিচালনা করলেন তখন সবার টনক নড়লো। দায়িত্বশীলদের মুখ থেকে এক্সপ্রেশন বের হলো, 'ওহ! তাই নাকি? কখনো শুনিনি তো'!
না জানারই কথা। গত চল্লিশ বছর ধরে দেশে কোনও নীতিনির্ধারণী মহল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ইত্যাদি কিছুই ছিলোনা। সম্প্রতি ঐ সব বাহিনী ও সংস্থা কেবল খোলা হয়েছে মাত্র। আর সবাই ক'দিন হলো কাজে নতুন যোগদান করেছেন! সুতরাং না জানারই কথা !!!!!!!!!!!!!!! :(


এই অবৈধ টাকার ভাগ রাজনীতিবিদ, পুলিশ প্রশাসন, দুদক এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্তা ব্যক্তিরা পেতো। এদের সরাসরি সাপোর্ট ছাড়া মাদক ব্যবসা, ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কোনটিই সম্ভব নয়। এরা সবাই মাস শেষে যার যার ভাগ বুঝে নিয়ে চুপচাপ থাকতো। দেশের মানুষ গোল্লায় যাক নিজেদের পকেট ভারী করাই এই দায়িত্বশীল ডাকাতদের ঈমানী দায়িত্ব।
এটাই তো ঠিক। ঈমান আছে বলেই তো তার কেউ "বেঈমান" নয়। সাচ্চা ঈমানদার। :|| :P

জ্বলন্ত প্রশ্ন একটাই - এ্যাদ্দিন এই ঈমানদারেরা কোথায় ছিলেন ?

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১:০৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, শ্রদ্ধেয়।
আপনি মনযোগ দিয়ে পোস্ট পড়েছেন বলেই লেখার চৌম্বক অংশ দুটি হাই লাইট করেছেন। এতোদিন সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা কোথায় ছিলো?? সরকার কোথায় ছিল? রাজনৈতিক নেতৃত্ব কোথায় ছিল? জনগনের করের টাকায় পাজারু দৌড়ায় কোন নৈতিক বলে?

গতকাল সদ্য সাবেক পুলিশের আইজি টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, পুলিশের আইজি এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এদের কিছুই করতে পারবে না। এদের হাত অনেক লম্বা। এখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিলো বলেই এই ধরাপাকড়। এখন বুঝুন পুলিশের আইজি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদের কিছুই করতে পারে না।

কোন দেশে বাস করছি আমরা? এদেশের জনগন মাফিয়া আর গডফাদারদের কাছে জিম্মি। রাজনীতির নিয়ন্ত্রকও এসব গডফাদাররা। এদেশে আইন, আদালত, সরকার বলে কিছু নেই। আছে এই নামধারী কিছু ডাকাত।

১৩| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:৩১

স্বামী বিশুদ্ধানন্দ বলেছেন: সমস্যাতো ক্যাসিনো নয় সমস্যা হচ্ছে টপ টু বটম লেভেলে সীমাহীন দুর্নীতি | আমরা জাতি হিসেবে আসলেই চরম হিপোক্রেট | বাংলাদেশে কেউ জনগণের পয়সা লুট করলে, দুর্নীতি করে সীমাহীন অর্থ উপার্জন করলে তার স্ত্রীরাও তাকে ভগবানের চোখে দেখে | দেশের অধিকাংশ জনগণেরই কোনো প্রকৃত নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধই নেই |

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। দেরীতে প্রতি উত্তর করার জন্য দুঃখিত। এদেশের এমন একটা সেক্টর নেই যেখানে দুর্নীতির মাত্রা কম। যে যেভাবে পারছে নিজের আখর গুছিয়ে নিচ্ছে। এদেশে পরিবারগুলো বাচ্ছাদের টাকার মেশিন হওয়ার শিক্ষা দেয়; মানুষ হতে তাগিদ দেয় না। আর মানুষ না হলে তার মানবিক মূল্যবোধ আর বিবেক শানিত হয় না। দুর্নীতিবাজদের বউয়েরা চাইলে তাদের পতি দেবতার দুই নাম্বারী বন্ধ করতে পারতো। কিন্তু তারা উৎসাহ দিয়ে সহযোগী হয়।

১৪| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ২:৩২

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: সংবাদ মাধ্যমগুলোতে দুর্নীতি, অনিয়ম ছাড়া ভালো কোনো নিউজ চোখে পড়ে না।
প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে না বললে ব্যবস্থা নেওয়া হয়না।
এদেশের আইনকানুনের লোকদের কাজ কি?!

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:০৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, জুনাইদ ভাই।
দেরীতে প্রতি উত্তর করার জন্য দুঃখিত। সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ভালো কোন নিউজ তেমন একটা আসে না; কারণ সীমাহীন অনিয়মের আড়ালে ভালো কাজগুলো আড়াল হয়ে যায়। এদেশে আইন-প্রশাসন বলতে কিছু নেই। সব কাজ যদি প্রধানমন্ত্রীকে করে দিতে হয় তাহলে এতো টাকা খরছ করে বাকিদের লালন পালন করার দরকার কী?

১৫| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ভোর ৫:০৭

হাফিজ বিন শামসী বলেছেন: ক্যাসিনো দেশ থেকে তাড়াতে হলে লুটপাটের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। আমাদের দেশে কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসীন হওয়ার অর্থ আলাদিনের চেরাগটা ক্ষমতাসীনদের হাতে যাওয়া। ক্যাসিনো চলে সব অবৈধ উপার্জনের পয়সা দিয়ে।

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১২:১১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, হাফিজ ভাই।
এই লুটপাট কেমনে থামাবেন? এর সাথে সরকার, রাজনীতিবিদ, প্রশাসন সবাই জড়িত। এরা মাস শেষে যার যার ভাগ বুঝে পেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতার ছোঁয়া পেতে চায়। এই ছোয়ায় আলাদীনের চেরাগ মিলে।

১৬| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১:৩৯

সুমন কর বলেছেন: কেমন আছেন? অনেক দিন ধরে ব্লগে আসা হয় না !! ভিপিএন এবং ব্লগার'দের উপস্থিতি কমে যাওয়াটাও প্রভাব ফেলছে।

পোস্ট পড়িনি, শুধু চোখ বুলিয়ে ভালো লাগা রেখে গেলাম।

০১ লা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:৫১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, সুমন ভাই;
ব্লগে আপনাকে না পেয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। অবশেষে ব্লগে পেলাম। আমি এখনো স্বাভাবিক নিয়মে ব্লগে ঢুঁকতে পারছি না। ভিপিএন ভরসা। ব্লগাররা কমিবেশি ব্লগে আসলেও ভিজিটর কমে গেছেন। এতে ব্লগাররাও হতাশায় ভূগছেন। এবার আশা করি নিয়মিত কবিতা পাবো। আর বইমেলায় একটি বই আসবে আশা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.