নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

জন্মসূত্রে মানব গোত্রভূক্ত; এজন্য প্রতিনিয়ত \'মানুষ\' হওয়ার প্রচেষ্টা। গল্পের \'বায়স্কোপ\', \'পুতুলনাচ\' এবং অনুবাদ গল্পের \'নেকলেস\' বইয়ের কারিগর।

কাওসার চৌধুরী

প্রবন্ধ ও ফিচার লেখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। পাশাপাশি গল্প, অনুবাদ, কবিতা ও রম্য লেখি। আমি আশাবাদী মানুষ।

কাওসার চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

একুশের চল্লিশ (প্রবন্ধ)

০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১১:১১


জীবনের প্রথম আঠারো বছরে একজন মানুষ শিশু-বালক-কিশোর ইত্যাদি ধাপগুলো পেরিয়ে টগবগে যুবক/যুবতী হয়ে উঠে। যৌবনের সাথে মানুষের ভাবনা আর দৃষ্টিভঙ্গিতে একটা মৌলিক পরিবর্তন আসে এই বয়সে। তবে মানসিক পরিপক্বতা না আসলেও তিনি যৌবনপ্রাপ্ত, এতে কারো আপত্তি নেই। একবিংশ শতাব্দীতে আজকের আঠারো, শত বছর আগের চল্লিশের চেয়েও অনেক পরিপক্ব। একটা সময় তো দশ বছর বয়সে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হওয়া খুব কমন ছিল এ বঙ্গে। তখন বাইশে মেট্রিকুলেশন পাশ করলেও কেউ রাও-কাও করতো না। তবে মেয়েদের বিয়ের বয়স হিসাবে বাইশ কিন্তু বড্ড বেশীই ছিল। শ্বাশুড়িদের কাছ বারো যেখানে ছেলের বউয়ের সবচেয়ে উপযুক্ত বয়স সেখানে আরো দশ বছর বাড়তি মানে কুড়িতে বুড়ি হওয়ারও দুই বছর বেশি। কিন্তু তথ্য-প্রযুক্তি, বিশ্বায়ন আর শিক্ষার অগ্রসরতায় কত পাল্টে গেছে আগের ভাবনাগুলো।

এখন বাইশে গ্রেজুয়েট হওয়া খুবই সম্ভব। আমি মাস্টার্স ডিগ্রির খুব একটা ভক্ত নই। যদি গবেষণা কিংবা দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ থাকে তাহলে বাড়তি ডিগ্রি অর্জন অবশ্যই ইতিবচক। শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের বাসনা কিংবা চাকরিতে বাড়তি সুবিধা পাওয়া চিন্তা থাকলে গ্রেজুয়েশন করার পর একাডেমিক শিক্ষা অর্জনে দক্ষতা বাড়ে না, জীবন থেকে কেবল হারিয়ে যায় অতীব গুরুত্বপূর্ণ এক-দুটি বছর। বাইশ বছরের একজন স্কলার ব্যবসা কিংবা চাকিরতে অভিষেক হলে চল্লিশে সে এ বিষয়ে পুরোপুরি দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হওয়ার কথা। বাইশ থেকে চল্লিশ হলো দক্ষতা অর্জনের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই আঠারোটি অগ্রহায়ণ জীবনের প্রথম আঠারো বছর থেকে অনেক পরিপক্ব হয়। নিজের অর্জিত জ্ঞান আর কাজের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে চল্লিশ হয়ে উঠে একটি দেশ, একটি বিশ্বকে উজাড় করে দেওয়ার অবারিত সুযোগ। আজকের চল্লিশ বিংশ শতাব্দীর ষাটের চেয়েও পরিপক্ব।

কিন্তু বিসিএস গাইড মুখস্থ করতে যে জাতির জীবনের ত্রিশটি বসন্ত পার হয়ে যায় তাদের ষাট বছর বয়সেও দক্ষতা অর্জন করে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান টগবগে রেসের ঘোড়া হওয়ার কথা না। চাকরি পাওয়ার শিক্ষা এবং চাকরি দেওয়ার শিক্ষা দু'টি একসাথে অর্জন করা যায় না। একটি রাষ্ট্র তার নাগরিককে সুযোগ করে দিতে হয় বাইশে দক্ষতা অর্জনের। না হলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় সরকার। যে ক্ষতি খালি চোখে দেখা যায় না, তবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখা সম্ভব।

তথ্য-প্রযুক্তিতে সফল উদ্যোক্তা মার্ক জাকারবার্গ কিন্তু বাইশে নয় কুড়িতেই বিশ্বকে চমকে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, অনেক বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সফলতা আসে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ফেইসবুক মাত্র পনেরো বছরে শত বিলিয়নে ডলার মূল্যমানের কোম্পানি। মানুষ মাত্রই স্বপ্নবাজ। তবে তৃতীয় বিশ্বের মানুষজন সম্ভবত সবচেয়ে বেশি কল্পনা বিলাসী হয়। এই স্বপ্নের একটি বড় অংশজুড়ই থাকে বেকারত্ব আর দারিদ্রকে জয় করা। যাদের বেশিরভাগেরই একটি সরকারি চাকরির প্রত্যাশায় কেটে যায় জীবনকে ভিন্নভাবে যাচাই করার সময়টুকু। হ্যা, মানতে হবে উন্নত বিশ্বের তরুণেরা স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে যে সুযোগ-সুবিধা পায় তা তৃতীয় বিশ্বে কল্পনাতীত। একটি ভালো বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর যেখানে নিজের ও পরিবারে দু'বেলা ডালভাতের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না সেখানে উদ্ভাবনী শক্তি অর্জন করা অলীক কল্পনা বটে।

স্কুলে থাকতে আমরা গৎবাঁধা যে 'এইম ইন লাইফ' মুখস্থ করি সেগুলো স্রেফ চাপিয়ে দেওয়া অন্যের বানানো বুলি ছাড়া কিছুই না। এগুলো যিনি মুখস্থ করছেন তার কল্পিত নয় মোটেও। জীবনকে জানার আগে জীবনের উদ্দেশ্য জানতে গেলে তা অজানাই থেকে যাওয়ার শংকাই বেশি। এসব রচনা মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় লেটার মার্ক পাওয়া গেলেও জীবনের খাতায় গোল্লা পাওয়ার আশংকা প্রকট।

সেদিন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে করোনা মহামারির ত্রিশ বিলিয়ন পাউন্ড বেইল আউটের বক্তৃতা শুনছিলাম। যিনি বৃটেনের ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় সময়ে জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে বৃটিশ জনগনের উদ্দেশ্যে বলছিলেন তিনি মাত্র চল্লিশ বছরের একজন অর্থমন্ত্রী। এই বয়সে একজন তরুণ রাজনীতিবিদ কিভাবে এই আত্মবিশ্বাস অর্জন করলেন এবং সুযোগ পেলেন? বলছি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে কিছুদিন আগে নিয়োগ পাওয়া ভারতীয় বংশদ্ভূত অর্থমন্ত্রী (ট্রেজারী সেক্রেটারি) ঋষি সোনাক (Rishi Sunak) এর কথা।

আরেক পাকিস্তানি বংশদ্ভূত সাজিদ জাবেদ অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছেড়ে দিলে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ঋষি সোনাককে এই দায়িত্ব দেন। এর আগে তিনি সাজিদ জাবেদের অধীনে অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রধান সচিব ছিলেন। কল্পনা করা যায়, একজন ভারতীয় একজন পাকিস্তানী বংশদ্ভূতের সাথে মিলে ব্রিটিশ অর্থনীতি চালাচ্ছেন!

ভারত-পাকিস্তান দু'টি দেশ একে অন্যকে এটমিক বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার বাসনা নিয়ে ফন্দী আঁটে প্রতিদিন। যেন অন্যকে উড়িয়ে দিলেই নিজেরা বেঁচে যায়! এই অবিশ্বাস কিংবা আত্মবিশ্বাসকে বলবান করতে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা সামরিক খাতে ব্যয় করে। একদিকে সীমাহীন দারিদ্র্য, অন্যদিকে সামরিক উচ্চবিলাস। মাঝখানে বলি হচ্ছে তাদের কয়েক কোটি অসহায় মানুষ। এসব টাকা দেশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যয় করলে এটমিক বোমা নয়, সুযোগ পাওয়া জনশক্তি তাদের উন্নয়নকে বেগবান করতো। তাদের মেধাবীরা দেশে থাকতো কিংবা প্রবাস থেকে ফিরে আসতো।

শুধু ঋষি সোনাক কেন? প্রধানমন্ত্রীর পর ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের (অর্থ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র) দু'টিতেই ভারতীয় বংশদ্ভূত মিনিস্টার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলও ভারতীয়। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেই ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় আই কর্মকর্তা (এটর্নি জেনারেলে) ভারতীয় বংশদ্ভূত। তিনি সুয়েলা বারবারম্যান (Suella Braverman)। বয়স শুনলে অবাক হবেন- মোটে চল্লিশ! কল্পনা করা যায়?

একটু খেয়াল করলে দেখবেন পার্লামেন্টে এরা গাদাগাদি করে বসেন। প্রধানমন্ত্রী গায়ের সাথে গা ঘেসে বাকি মিনিস্টাররা বসে আছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এইভাবে কখনো বসবেন? আমাদের পার্লামেন্টে চল্লিশ বছর বয়সী একজন অর্থমন্ত্রী কল্পনা করা যায়? আর চল্লিশ বছর বয়সী এটর্নি জেনারেল? যাদের বাপ-মা ইমিগ্রেন্ট ছিলেন। আরেকটি তথ্য দেই; সাজিদ জাবেদের বাবা লন্ডনে বাস ড্রাইভার ছিলেন।

আর আমাদের দেশে সরকারি চাকরি থেকে রিটায়ার্ড করার পর একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আমলা রাজনীতিবিদ হওয়ার দৌড়ে শামিল হন। সারাজীবন সরকারের অধীকে প্রজাতন্ত্রের কর্মী হিসাবে কাজ করেও দেশ সেবার আগ্রহ তাদের রয়ে যায়! অবশ্য আমাদের দেশে সরকারি চাকরিজীবীদের বিষয়ে একটি কৌতুক প্রচলিত আছে; চাকরিতে থাকা অবস্থায় তাদের ক্রিয়েটিভ আইডিয়াগুলো শতভাগ অব্যবহৃত রয়ে যায়, এমনকি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কর্মও নাকি কমে যায়। যখন রিটায়ার্ড করেন তখন পাকা মস্তিষ্ক বিদ্রোহ করে বসে। তাই ক্রিয়েটিভ আইডিয়াকে কাজে লাগাতে অনেকে সংসদে যেতে চান। অবশ্য গ্রামে ফিরে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার হতে আগ্রহী নয় এরা। মানুষ ফিসফিসিয়ে বলে, সারা জীবনের অর্জিত দুই নাম্বারী টাকা দিয়ে পার্লামেন্ট ইলেকশনে নমিনেশন বাগিয়ে নেয় তারা।

রাজনৈতিক দলগুলো এদের জামাই আদর করে। এর অন্যতম কারণ হলো দলগুলোর রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা। তরুণ নেতৃত্ব রাজনৈতিক দলগুলো কখনো তৈরী করে না। যারা দলগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা হন তাদের বেশিরভাগই শুধু গলাবাজি, দলবাজি, ইতরামি আর চাঁদাবাজিতে হাত পাকাতে ব্যস্ত থাকেন। আর যাই হোক এদের দিয়ে তো সরকার চলে না। তাই অঢেল টাকাওয়ালা ব্যবসায়ী, রিটায়ার্ড আমলা আর বস্তাপঁচা রাজনৈতিক নেতাদের আমরা সংসদে দেখি।

আমাদের দেশে যেসব তরুণ সত্যিকারে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন এদের বেশিরভাগই চল্লিশ বছর বয়সে এসেও বেকার। কেউ কেউ টাকার অভাবে সোনার হরিণ কিনতে পারেনি, কেউবা অফিস পলিটিক্সের শিকার হয়ে চাকরিহীন, আবার কেউ কেউ মামলা-হামলার শিকার হয়ে দেশছাড়া। এরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে অপদার্থ।

তরুণ বয়সের অনেকে উদ্যোক্তা হিসাবে ভালো করলেও বেশিরভাগ সম্ভাবনাময় তরুণ ঝরে পড়ছে। এদের একটি বড় অংশ রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার দরকার ছিলো। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো হয় সংসদে। সেখানে তরুণদের অংশগ্রহণ না থাকলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশংকা থাকে। দেশ পরিচালনার সিদ্ধান্ত রাজনীতিবিদরা নেন। গোড়ায় গলদ থাকলে মেধাবীরা কাজ করার সুযোগ পাবে না। রাজনীতি থেকে নেতা তোষণ, চাটুকারিতা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং টাকার খেলা বন্ধ না হলে তরুণদের সুযোগ কখনো সৃষ্টি হবে না।

যারা বিদেশে গিয়ে সুযোগ পেয়েছেন নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করার তারা ভূলেও এদেশে আসার কথা চিন্তা করে না। অনেক মেধাবী বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরে সরকারি চাকরিতে যোগদান করতে আগ্রহী হলেও সরকারি চাকরির বয়সসীমা পার হয়ে যাওয়ায় আর সরকারি চাকুরে হওয়ার সুযোগ হয় না। জ্ঞান অর্জনের যেহেতু কোন বয়সসীমা নেই সেহেতু অর্জিত জ্ঞান আর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর বয়সসীমা থাকবে কেন? এদেশের চল্লিশের বিদেশ ফেরৎ মেধাবীরা সরকারের খাতায় অতীব বয়স্ক নাগরিক হলেও সত্তর বছরের রিটায়ার্ড আমলা টগবগে তরুণ। ফলাফলস্বরূপ বছরে কত হাজার মেধা পাচার হয় আমরা খবর রাখি না। অথচ দেশে সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে, অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকলে এদের বেশিরভাগই ফিরে আসতো। এতে দেশটা সমৃদ্ধ হতো। ব্রিটিশ-আমেরিকানরা আমাদের রিজেক্ট করা মাথাগুলোকে ঘষেমেজে জামাই আদর করে কাজে লাগায়। তারা জানে চাটুকারি আর মাননীয় বলে মুখে ফেনা তুলে, পার্লামেন্টে গান গেয়ে, বিরোধী দলকে দেশছাড়া করে, ইলেকশনের নামে প্রহসন করে আর যাই হোক দেশের উন্নতি হয় না।

এদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো কথায় কথায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টারী গণতন্ত্রের বুলি আওড়ায় অথচ তাদের দলীয় প্রধানরা একেকজন ডিক্টেটর হয়ে জনগণের মাথায় বসে আছেন। তাদের চোখে যারা 'জি-হুজুর জাহাপনা' তারাই তার আশপাশে বৃত্ত বানিয়ে রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার 'কিম জং উন' নিশ্চয় এর চেয়ে বেশি তৈলপ্রিয় নয়।

থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের দরবার হলে প্রতি বছর যখন গুরুত্বপূর্ণ সভা বসে তখন অতিথি হিসাবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, সামরিক উচ্চপদস্থ অফিসার এবং দেশের সম্মানিত মেহমানগণ উপস্থিত থাকেন। আর 'রাজ্যাভিষেক' হলে ঘরে-বাইরে কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। এসব দিনগুলোতে রাজা-রানীর পাশাপাশি রাজপরিবারের সদস্যদের বাধ্যতামূলক উপস্থিত থাকতে হয়। হলভর্তি অতিথিদের সামনে রাজ পরিবারের সবাই এমনকি রাজার ভাই-বোন-সন্তান-রানীসহ রাজাকে কুর্নিশ করতে হয়। এটাই নিয়ম। যুগ যুগ ধরে বংশপরম্পরায় এমনটি চলে আসছে। রাজার আসনের অনেক দূর থেকে মসৃণ কার্পেটের উপর হাঁটু গেড়ে কনুইয়ের উপর ভর করে সবাই রাজার পায়ের কাছে এসে মাথানত করেন। এসময় রাজ পরিবারের কর্মীরাও এভাবে যার যার অবস্থানে হাঁটু গেড়ে আধশোয়া হয়ে রাজাকে সম্মান প্রদর্শন করেন। আর দেশের গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা তখন মাথা হেঁট করে করজোড়ে রাজার সামনে দাঁড়িয়ে প্রচলিত রেওয়াজটির সাক্ষী হন। রাজা সবাইকে বুঝাতে সক্ষম হন তিনি মহা পরাক্রমশালী। রাজপরিবারের সবাই যেখানে তার পায়ে মাথা রেখে আশীর্বাদ নিচ্ছেন সেখানে বাকিরা তো অতি নগন্যই।

চিরায়ত এই প্রথা ঝিকে মেরে বৌকে শেখানো নয়, ইহা বৌকে মেরে শ্বাশুড়িকে শাসানো।

গণতন্ত্রে এভাবে বৌ-শ্বাশুড়ি খেলার কোন সুযোগ নেই। এতে হাজার হাজার মেরুদণ্ডহীন জোক পয়দা হয়। যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই জীবনের তিন-চতুর্থাংশ সময় পেরিয়ে এসে সারাজীবনে অর্জিত চাটুকারী বিদ্যায় বলিয়ান হয়ে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বকে ভুল পথে পরিচালিত করেন। এরা তরুণ নেতৃত্বকে খুব ভয় পায়, তাই প্রয়োজনে ইয়াবাখোর হয়ে স্যুট-টাইয়ে আশি বছরেও চল্লিশের চেয়ে চনমনে ভাব আনতে সচেষ্ট হয়। এদের ধাপটে চল্লিশের চল্লিশা হয়, দেশের বারোটা বাজে ভোরের সূর্য উদিত হওয়ার আগেই।

চল্লিশে চুলে পাক ধরা মানে বুদ্ধিটা পরিপক্ব হওয়া; আর চল্লিশে টাক পড়া মানে অতীব জ্ঞানী হওয়া। এটা আমাদের প্রচলিত ধারণা। কারো কারো মতে, পাকা চুলের চেয়ে টাক মাথার পুরুষেরা নাকি বেশি জ্ঞানী হয়। তবে চল্লিশের নারীদের কিন্তু মাথায় টাক নেই!


ছবি- ঋষি সোনাক পার্লামেন্টে করোনা ভাইরাসের অর্থনৈতিক বেইলআউট বক্তৃতা দিচ্ছেন।

ফটো ক্রেডিট,
গুগল।

মন্তব্য ৭০ টি রেটিং +১৫/-০

মন্তব্য (৭০) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১১:১৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


শেষ লাইন:

কিম জং উন উত্তর কোরিয়ায়

০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১১:২৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



কৃতজ্ঞতা। টাইপোটা ঠিক করেছি। প্রথম মন্তব্যে আপনাকে পেয়ে ভালো লাগলো। আশা করি, সুস্থ আছেন। আপনার পোস্টগুলো নিয়মিত পড়া হয়। সতর্ক থাকবেন। পরিবারের সবাই নিরাপদে থাকুন।

২| ০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১১:২৮

অনল চৌধুরী বলেছেন: ৪০ বছর অনেক।
ক্যাষ্ট্রো মাত্র ৩৩ বছর বয়সে সন্ত্রাসী এ্যামেরিকার নাকের উপর কিউবায় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বাংলাদেশের ১১ টা সেক্টরে যুদ্ধ পরিচালনা করা সব সেক্টর কমান্ডারদের বয়স ছিলো ৩৩- ৩৫ এর মধ্যে।
আমার লেখা প্রথম গবেষণামূলক বই বের হয় ১৯৯৯ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে।

০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৫০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। ক্যাষ্ট্রো সমাজতন্ত্রী বিপ্লবী নেতা ছিলেন। উনার বিষয়টি ভিন্ন। এটা গণতান্ত্রিক কোন প্রক্রিয়া ছিল না। তিনি চে গভারার থেকে উদ্ভুদ্ধ হয়ে সমাজতান্ত্রিক কিউবার গোড়াপত্তন করেন। এটা নিখাদ ডিক্টেটরশীপ। সাদ্দাম হোসেন, গাদদাফি, লেলিন আর ক্যাষ্ট্রো একই গোত্রীয়। তিনি কিউবার জন্য ভালো কিছু করতে পারেননি।

ঐতিহাসি এবং সম্ভাবনাময় একটি জাতির অপমৃত্যু হয়েছে তার হাতে। তিনি সারাজীবন শুধু আমেরিকাকে সুড়সুড়ি দিয়ে লাইমলাইটে থাকার চেষ্টা করেছেন। একজন অপদার্থ নেতা ছিলেন। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কোন চেষ্টাই ছিল না তার।

বাংলাদেশে ১১টা সেক্টরে অল্পবয়সে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা জাতির শ্রেষ্ট সন্তান। কিন্তু স্বাধীনতার পরে উনাদের অনেককে অপমানিত হতে হয়েছে রাষ্ট্র ক্ষমতার শীর্ষে বসাদের দ্বারা। দেশ গঠনে উনাদের সুযোগ দেওয়া হয়নি। আর, মাত্র ২৪ বছর বয়সে গবেষণার মতো কঠিন কাজ আপনি করেছেন জেনে ভালো লাগলো। এদেশের সংসদে আপনার মতো মেধাবীদের দরকার।

ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

৩| ০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৪৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


ধন্যবাদ। আপনিও ভালো থাকুন।

০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৫৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:
ধন্যবাদ।

৪| ০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১১:৫০

চাঙ্কু বলেছেন: ৪০ বছর বয়সী প্রচুর মেধাবী বাংলাদেশী আছে কিন্তু তাদেরকে রাজনীতিতে আগ্রহী করার সংস্কৃতি আমরা সৃষ্টি করতে পারি নাই।

০৮ ই মে, ২০২০ রাত ১২:১০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। চল্লিশ গুরুত্বপূর্ণ একটা সংখ্যা। ত্রিশ থেকে চল্লিশ পর্যন্ত মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি সবচেয়ে বেশি থাকে। চল্লিশে মেধাবীরা সুযোগ পেলে নিজের কল্পনার উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগায়। নিজের মধ্যে উদ্যম না থাকলে জাতির জন্য ভালো চিন্তা করার সুযোগ নেই। এই বয়সটা তারুণ্য আর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর সিঁড়ি।

আমাদের দেশে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতিতে অভিষেক হয়। এটা একটি জাতির এগিয়ে যেতে সবচেয়ে বড় বাধা। এর অন্যতম কারণ, এদেশে যারা ক্ষমতার কলা খাওয়ার সুযোগ পায় তারা কখনো পদ ছাড়ে না। এজন্য এরা তরণ সম্ভাবনাময় নেতাদের সুকৌশলে রাজনীতি থেকে ঝেটিয়ে বিদায় করে। পরে তিনি মারা যাওয়ার আগে নিজের অপদার্থ সন্তানকে রাজনৈতিক গুরু বানিয়ে রেখে যান। এই অপদার্থ সন্তানরা পরবর্তীতে সংসদে যায়, মনের সুখে তৈল মর্দন করে, গান গায় আর মাননীয় মাননীয় বলে মুখে ফেনা তুলে।

যাদের যা হওয়ার কথা না, এদেশে তারাই তা হচ্ছে। আর যাদের সুযোগ পাওয়ার কথা তারা ফুটবলের মতো লাথি খাচ্ছে। এদেশের সংসদ হলো বয়স্ক টাকাওয়ালা রিটায়ার্ড আমলা, পেটমোটা ব্যবসায়ী আর বস্তাপঁচা রাজনৈতিক নেতাদের অবকাশ যাপনের জায়গা। এখানে শুধু ইয়েস স্যার, মাননীয় অমুক আর তৈলের ডিব্বার সঠিক ব্যবহার জানলেই বিরাট নেতা। রিডিং পড়তে না পারলেও সমস্যা নেই।

৫| ০৮ ই মে, ২০২০ রাত ১:২০

রাজীব নুর বলেছেন: ভাইজান আগে বলেন আজকাল আপনাকে ব্লগে দেখি না কেন?? মিস ইউ ভাই।

০৮ ই মে, ২০২০ রাত ২:১৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



রাজীব ভাই, ভালো আছেন নিশ্চয়। আমি ব্লগে কম পোস্ট লিখলেও আপনাদের চমৎকার লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ি। আপনি সামু ব্লগের অন্যতম একটিভ এবং সিনিয়র ব্লগার। এত বছর থেকে সমান আগ্রহ নিয়ে ব্লগিং করছেন দেখে ভালো লাগে। আশা করবো, ব্লগে এভাবে নিয়মিত লিখবেন।

বইমেলা, ব্লগ'ডে সবখানেই আপনাকে পাবো বলে আশা করি কিন্তু সাক্ষাৎ আর হয় না। আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে দেখা হবে। ভাবী এবং পরীর জন্য শুভ কামনা রইল। নিরাপদে থাকুন। অনেক অনেক ভালো থাকবেন।

৬| ০৮ ই মে, ২০২০ রাত ২:৫২

অনল চৌধুরী বলেছেন: সাদ্দাম হোসেন, গাদদাফি, লেলিন আর ক্যাষ্ট্রো একই গোত্রীয়। তিনি কিউবার জন্য ভালো কিছু করতে পারেননি।

ঐতিহাসি এবং সম্ভাবনাময় একটি জাতির অপমৃত্যু হয়েছে তার হাতে। তিনি সারাজীবন শুধু আমেরিকাকে সুড়সুড়ি দিয়ে লাইমলাইটে থাকার চেষ্টা করেছেন। একজন অপদার্থ নেতা ছিলেন। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কোন চেষ্টাই ছিল না তার-
এধরণের যুক্তিহীন কথার পর আর তর্ক চলেনা।
স্বাস্হ্য শিক্ষা,সামাজিক নিরাপত্তা-সবদিক দিয়ে কিউবা সন্ত্রাসী এ্যামেরিকার চেয়ে হাজার বছর এগিয়ে আছে।আরো সামনে যেতো যদি এই সন্ত্রাসীদের অবরোধ না থাকতো।এজন্যই এ্যামেরিকায় করোনায় মশার মতো মানুষ মরে আর ভিয়েতনাম-কিউবায় মৃত্যুর হার থাকে শূণ্য বা সর্বনীম্ন পর্যায়ে।
সাদ্দাম হোসেন, গাদদাফি, লেলিন আর ক্যাষ্ট্রো -পএত্যকে নিজেরে দেশকে উন্নত এবং দারিদ্রমুক্ত করেছিলেন,যা এ্যামেরিকা কোনোদিনও পারেনি আর পারবেও না। তাদের দেশে কোট কোটি মানুষ গৃহহীন।
এরা যদি অপদার্থ হন,তাহলে কি পদার্থ এ্যামেরিকার সন্ত্রাসী রাষ্ট্রপতিরা, যারা দেশে দেশে সামরিক অভুত্থান ঘটিয়েছে? অন্য দেশের নেতাদের গুপ্তহত্যা করেছে?
দেশে দেশে লুটপাট-গণহত্যা চালিয়ছে?
জাতিসংঘের অনুমতি ছাড়াই ইরাক,লিবিয়া,সিরিয়া আক্রমণ করে ধ্বংস করেছে?

০৮ ই মে, ২০২০ রাত ৩:৩৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



দেখুন, যুক্তির বিষয়টি দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে। আপনি যে দৃষ্টিতে পৃথিবীকে দেখেন সবাই কিন্তু আপনার মতো হবে এমনটা ভাবনা বোকামি। পৃথিবীর অনেকের কাছে এসব ডিক্টেটর হলো হিরো; যেমনটি ওসামা বিন লাদেন লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে হিরো। আপনি যদি আমেরিকাকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্র কিংবা কিউবার চেয়ে পশ্চাদপদ রাষ্ট্র মনে করেন এবং ফিদেল ক্যাষ্ট্রোকে আধুনিক পৃথিবীর সেরা রাষ্ট্র নায়ক মনে করেন তাতে আমার কিছুই বলার নেই।

আমি দেখবো আপনার ভাবনাটা কতটুকু যৌক্তিক এবং বাস্তববাদী।

সাদ্দাম হোসেন এবং গাদদাফি রাষ্ট্র ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে কত মায়ের বুক খালি করেছেন, কত হাজার মানুষকে দেশছাড়া করেছেন, কত লক্ষ মানুষকে রিমান্ডে নিয়ে পিটিয়েছেন সেই তথ্যগুলো আপনার ঘেটে দেখা দরকার। আপনি কিম জং উনের শাসননামল দেখুন। সেখানে গেলে পাবলিক বলবে সব কিছু ফকফকা। পৃথিবীর সেরা রাষ্ট্রনায়ক হলেন কিম। কিন্তু বাস্তবতা মোটেও সেটা নয়, যা আপনিও জানেন।

আমেরিকা জাতিসংঘের অনুমতি ছাড়াই ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া আক্রমণ করে ধ্বংস করেছে এটার বৈধতা আমি তো দেইনি। এটা চরম অন্যায় ছিল। তাই বলে আমেরিকার সবকিছু জঘন্য এটা বলা মানে একচোখা নীতি অবলম্বন করা। পৃথিবীর বাকি সব মানুষকে আপনি যুক্তি দিয়ে বুঝাতে পারলেও একচোখা মানুষকে পারবেন না। কারণ, এরা সিদ্ধান্তটা আগেই নিয়ে রাখে।

ভালো থাকুন।

৭| ০৮ ই মে, ২০২০ রাত ৩:৩০

নেওয়াজ আলি বলেছেন: সবই বললেন আপনি । আমরা রাতের ভোটে এমপি হয়ে তেল মারি । বুকটা পাট্টা যায় - মমতাজ বেগম।

০৮ ই মে, ২০২০ রাত ৩:৫০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, ভাই। এদেশের জনগন খুব দুর্ভাগা। এজন্য গণতন্ত্রের মূলা ঝুলিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের প্রতিনিয়ত বাঁশ দিচ্ছে। রাতের আন্ধারে ভোটের বিষয়টি আমি অন্যভাবে দেখি। যদি ২০০৭ সালের পর পালের হাওয়া অন্যদিকে উড়তো এবং সবকিছু নিজের করে নেওয়ার সুযোগ হতো তাহলে কি রাতের ভোট বন্ধ হতো?

মোটেও না। বরং বেশিই হতো বলে আমি মনে করি।

আমাদের কথা ভেবে এদেশে কেউ রাজনৈতিক দল চালায় না, এমপি-মিনিস্টার হয় না। এজন্য কোন দল ক্ষমতায় আসলো, কে রাতে ভোট দিল, কে কত টার্ম ক্ষমতায় থাকলো এগুলো তাদের লাভ-ক্ষতির বিষয়। আমাদের যেই লাউ হেই কদু। এদেশে গণতন্ত্র কখনো ছিলো না। যা ছিল তা হচ্ছে ভোটের মাধ্য কিছু চোরকে পুনর্বাস করা। এখন অবশ্য কষ্ট করে ভোট দিতে হয় না, এটা এক হিসাবে ভালোই হলো।

ভালো থাকুন।

৮| ০৮ ই মে, ২০২০ ভোর ৪:২২

কাছের-মানুষ বলেছেন: তারা মানুষকে মূল্যায়ন করতে জানে। আমাদের দেশের সরকারি চাকরিজীবি, সচিবরা অনেক সময় দেখা যায় শেষ বয়সে রিটায়ার্ড করে রাজনিতিতে নামেন তাদের কাছ থেকে কি আশা করা যায়! আমাদের পার্লামেন্টে বেশির ভাগই ব্যাবসায়ী, ব্যবসায়ীরে সবসময় নিজেদের সুবিদা দেখবে এটাই হয়ে আসছে অথচ তাদের হাতে দেশ!!

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট যতদুর জানি বেশ কয়েকজন বাঙ্গালীও আছে!!

০৮ ই মে, ২০২০ ভোর ৫:২৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। তারা জানে কাকে মূল্যায়ন করা দরকার কিংবা কাকে কোন দায়িত্ব দিলে দেশের জন্য মঙ্গল হবে। আমাদের দেশে হলো ঠিক উল্টো। এখানে তেল আর টাকার জোর যার বেশি সে ততো মূল্যায়ন পায় দলীয় প্রধানের কাছে। এদেশের সরকারি চাকরিজীবী এবং বড় ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক দলগুলোকে টাকা দিয়ে কিনে নেয়। ফলে অবসরকালীন বয়সে হয় ক্ষমতালিপ্সু আর দুর্নীতির মহানায়ক। রাজনৈতিক দলগুলোর দেউলিয়াপনার সুযোগ নেয় এরা।

বৃটিশ পার্লামেন্টে অন্তত দু'জন বাঙালি আছেন, লেবার পার্টি ক্ষমতায় গেলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাবেন। তাদের একজন রূপা হক, অপরজন রুশানারা আলী। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টিতে বাঙালি সাপোর্টার কম, এজন্য এমপিও কম।

ভালো থাকুন।

৯| ০৮ ই মে, ২০২০ ভোর ৫:৪৯

রাফা বলেছেন: ওরা যে সিস্টেম ডেভলপ করেছে তা ভাঙ্গতে রাজি নয়। তাই যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে যে কেউ সুযোগ পায়।আমাদের স্টুডেন্ট পলিটিক্স এতটাই করাপ্টেড যে ঐ চেইনে কোন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসেনা।কারন যোগ্যতাই নেই।সন্ত্রসী ,গুন্ডা,পান্ডারাই সুযোগ পায় পলিটিক্স করার।
যে বয়সে দেশকে দেওয়ার মত কিছুই থাকেনা সেই অকাল কুষ্মান্ডদের নিয়ে গঠিত হয় আমাদের মন্ত্রীপরিষদ।অথচ যুবকরাই দিতে পারে নতুন কিছু।সরকারের যে কোন সিদ্ধান্ত আসে একজনের কাছ থেকে।এমনকি মন্ত্ড়ীদের চাকর,বাকরের বিষয়েও সিদ্ধান্ত দিতে কেন্দ্র থেকে।আমাদেরটা হলো সব অথর্বদের কেবিনেট।সারা জিবন সরকারেরটা চেটে পুটে খেয়ে আসে আবার সেই সককার পরিচালনা কার্যে ।
ধন্যবাদ,কা.চৌধুরী।

০৮ ই মে, ২০২০ দুপুর ১:৫৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। এই তো কিছুদিন আগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের ক্ষুরধার বক্তৃতা বৃটিশ পার্লামেন্টে মাতিয়ে রাখতো। তারপর আসলেন তেরেসা মে। এখন দু'জনই বাদ। সংসদেও নেই তারা। আমাদের দেশে হলে হৈহৈ রব উঠতো। এতো অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান সংসদে না থাকলে সংসসদে কি হবে! দেশ কিভাবে চলবে! ইত্যাদি ইত্যাদি।

এরা যতদিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ঠিক ততদিন এটাকে একটা চাকরি হিসাবে দেখেছেন। যেদিন সংসদ থেকে ইস্তফা দেন সেদিন থেকেই তিনি সাধারন জনগন। তার কোন চাটুকার, দফাদার, জমাদার, গুন্ডা, পান্ডা নেই। নতুন প্রধানমন্ত্রী নিজের মতো করে দেশ পরিচালনা করেন। তাদের কাছে ব্যক্তি নয়, সবার আগে দেশ এবং দায়িত্বশীলতা।

তাদের কোন স্টুডেন্ট পলিটিক্স নেই। তারা জানে স্টুডেন্টদের একমাত্র কাজ জ্ঞান অর্জন করা। যারা ভবিষ্যতে রাজনীতি করতে চান তারা ইউনিভার্সিটিতে পলিটিক্যাল সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করেন। এতে রাষ্ট্রের প্রতি তার দায়িত্বের বিষয়টি জানা হয়। আর গবেষণার মাধ্যমে নতুন কিছু বের করার চেষ্টা চলে অবিরাম। আর আমাদের এখানে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে বখাটে হওয়ার তালিম দেওয়া হয়। এই বয়সে ছাত্র নেতারা কোটি কোটি টাকা কামায় অবৈধ উপায়ে। এখন তো ড্রাগ ডিলিংয়ের একটা বড় গ্যাং হলো স্টুডেন্ট পলিটিক্সের সাথে সম্পৃক্তরা।

এদেশে সংসদে নমিনেশন পেতে থাকতে হয় কোটি কোটি টাকা, ইলেকশন করতে থাকতে হয় কোটি কোটি টাকা। এজন্য ধনী ব্যবসায়ী, চুরি করে কোটি কোটি টাকা উপার্জনকারী রিটায়ার্ড আমলা এবং বস্তাপচা ড্রাগডিলার রাজনৈতিক গুন্ডারা সংসদে যায়। এরা সংসদে গিয়ে আরো মহাসমারোহে টাকার ব্যাংক বানায়।

ভালো থাকুন।

১০| ০৮ ই মে, ২০২০ ভোর ৬:৩০

স্বামী বিশুদ্ধানন্দ বলেছেন: রাফা বলেছেন: ওরা যে সিস্টেম ডেভলপ করেছে তা ভাঙ্গতে রাজি নয়। তাই যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারলে যে কেউ সুযোগ পায়।আমাদের স্টুডেন্ট পলিটিক্স এতটাই করাপ্টেড যে ঐ চেইনে কোন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসেনা।কারন যোগ্যতাই নেই।সন্ত্রসী ,গুন্ডা,পান্ডারাই সুযোগ পায় পলিটিক্স করার।
যে বয়সে দেশকে দেওয়ার মত কিছুই থাকেনা সেই অকাল কুষ্মান্ডদের নিয়ে গঠিত হয় আমাদের মন্ত্রীপরিষদ।


সহমত

০৮ ই মে, ২০২০ দুপুর ১:৫৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। @ রাফা যথার্থই বলেছেন, 'যে বয়সে দেশকে দেওয়ার মত কিছুই থাকে না সেই অকাল কুষ্মান্ডদের নিয়ে গঠিত হয় আমাদের মন্ত্রীপরিষদ।' আমার দৃষ্টিতে আমাদের সংসদ বয়স্ক ধনীদের অবকাশযাপনে ক্লাব।

১১| ০৮ ই মে, ২০২০ ভোর ৬:৫৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: সকালবেলা প্রিয় গুরুদেবের পোস্ট থেকে লগইন করলাম। কিন্তু ঢুকেই যে নিরাশ হলাম;সব গুরুগম্ভীর কথাবার্তা। তবে আমি আপনার দেখানো পথে হাটবোনা। বরং উপমহাদেশের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সঙ্গত দেব। আমাদের দেশগুলো প্রচুর ভালো ছেলেমেয়ের জন্ম দেয় ঠিকই। কিন্তু সব মেধার তো এখানে প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ গুণীর কদর যদিও ষোলআনাই আছে।
তবে একটা কথা শুধু আপনাকে বলি,আমাদের দেশের মেধার তো একটা সিলিং আছে।কেউ যদি তার বাইরে যায় তাহলে তার দায় দেশ নেবে নেবে কেন? সবকিছু তো একটা সীমা আছে। আপনিই বলুন কোন কিছুই বেশি ভালো কি ভালো? কথায় বলে না বেশি ভালো ভালো নয়। কাজেই এই উপচে পড়া মেধা আমাদের এখানে একপ্রকার বাতিল বৈকি। আর তাকে যদি ইউরোপ-আমেরিকা কাজে লাগায় তাহলে ক্ষতি কোথায়? হেহেহে..

ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময়।

০৮ ই মে, ২০২০ দুপুর ২:০৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, গুরুজি। আপনাকে নিরাশ করার জন্য দুঃখিত! আপনি তো চমৎকার দর্শনের কথা বলেছেন। আমি তো এভাবে ভাবিনি বিষয়টি!! আমাদের উপমহাদেশে সব মেধার প্রয়োজন নেই। চমৎকার বলেছেন, "আমাদের দেশের মেধার তো একটা সিলিং আছে।কেউ যদি তার বাইরে যায় তাহলে তার দায় দেশ নেবে নেবে কেন? সবকিছু তো একটা সীমা আছে।" চমৎকার বলেছেন গুরু। এটাই আসল কথা। যিনি দলের মাথায় বসে আছেন তার দরকার তারচেয়ে কাঁচা মাথা! বেশি পাকা হলে ভয় আছে! গত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের যে চিত্র দেখেছি তাতে আপনার অবজারভেশন শতভাগ ঠিক।

ভালো থাকুন।

১২| ০৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৭:০৫

সুপারডুপার বলেছেন:



যোগ্যদের জন্য বাংলাদেশে রাজনীতি মানেই ভয়। যদি ক্ষমতাশীল দলে না থাকতে পারে তাহলেই মামলা মারপিট জেল গুম গায়েব এসব চলে। দেশেতো মারপিট কেমন চালাতে পারে সেই অনুসারেই তার রাজনীতির যোগ্যতা প্রমান করতে হয়। আর ক্ষমতাশীল অথবা বিরোধী যেকোন দলে থাকলেও আপনি যা বললেন চাটুকারী, গলাবাজি, দলবাজি, ইতরামি আর চাঁদাবাজি ইত্যাদিতো আছেই। যেখানে নিয়োগ পেতে হলে পায়ে পরে কদমবুচি করতে হয়, সেখানে প্রধানমন্ত্রী অথবা নেতার গায়ের সাথে গা ঘেসে বসা কল্পনারও বাহিরে। দেশের রাজনীতি গোড়া থেকেই দুর্নীতিতে আক্রান্ত। টাকা থাকলে ও চ্যানেল ভালো থাকলে গরু গাধা যেকেউই নমিনেশন নিয়ে ভোটে /বিনা ভোটে জিতে এমপি মন্ত্রী হয়ে যেতে পারে। কীভাবেইবা সৎ যোগ্যরা দেশে রাজনীতিতে আসবে !

বাংলাদেশের সাথে ইংল্যান্ডের তুলনা করা যায় না। কারণ এক জায়গায় ক্যাকটাসরা বেঁচে থাকে, ফুল কলিতেই ঝরে পরে; কিন্তু অন্য জায়গায় কলিকে বিকশিত করে ফুল সৃষ্টি করা হয়।

এইসব নানান সমস্যা ও প্রতিকূলতার মাঝে কিভাবে সৎ যোগ্যরা বাংলাদেশে মন্ত্রী হতে পারে? আপনি কি মনে করেন? অথবা আশা করি এই বিষয়ে সামনে পোষ্ট লিখবেন।

আপনার পোস্ট পেয়ে ভালো লাগলো। অনেক শুভকামনা।

০৮ ই মে, ২০২০ বিকাল ৩:৫৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। আসলে যোগ্যদের জন্য অনেক ভয় এদেশে। প্রথম ভয়টা হলো আত্মমর্যাদাবোধ বিসর্জন দেওয়ার। এদেশে নেতার অধীনে নেতা হতে হলে মেরুদণ্ডহীন হতে হয়। পা ধরে বসে থাকতে হয়, তার ফুটফরমাশ শুনতে হয়। আর সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এগুলো করতে গিয়ে নিজের প্রকৃত যোগ্যতাকে গলাটিপে হত্যা করতে হয়। ইয়েস ম্যাম, মহামান্য ইত্যাদি চব্বিশঘণ্টা জপতে না পারলে নেতা হওয়ার সুযোগ নেই।

আপনি যথার্থই বলেছেন, "টাকা থাকলে ও চ্যানেল ভালো থাকলে গরু গাধা যেকেউই নমিনেশন নিয়ে ভোটে /বিনা ভোটে জিতে এমপি মন্ত্রী হয়ে যেতে পারে। কীভাবেই বা সৎ এবং যোগ্যরা দেশে রাজনীতিতে আসবে?"

আমরা কথায় কথায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের বুলি আওড়াই। অথচ, ব্রিটিশরা ইমিগ্রেন্টদের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিচ্ছে। তাদের যোগ্যতার কদর করছে। আমাদের এখানে নেত্রীর অমুকের ঘরের তমুকের মেয়ের জামাইর শ্বশুরের শালার শালী হলেও পরিচয় দেওয়া হয় আমি প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের লোক! দেশটা আমাগো বাপ-দাদার জমিদারি।

ভবিষ্যতে যোগ্য তরুণরা এদেশের রাজনীতিতে আসবে এই বিশ্বাস রাখলেও আপাতত সে লক্ষণ দেখছি না। দলগুলোর চূড়ায় বসা মাথামোটা তৈলপ্রিয়রা বিদায় না হলে পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। প্রথমত ছাত্র রাজনীতির আগাছা উপড়ে ফেলতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলো নমিনেশন দেওয়ার সময় প্রার্থীর একাডেমিক অর্জন, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সততা এবং দেশকে নিয়ে তার পরিকল্পনা ইত্যাদি বিষয়গুলো জানা জরুরী। নেতার প্রতি আনুগত্য, নেতা বন্ধনা বন্ধ করতে হবে।

এসব বিষয় নিয়ে আগামীতে ডিটেলে লিখতে চেষ্টা করবো। ভালো থাকুন।

১৩| ০৮ ই মে, ২০২০ সকাল ৯:১১

আহমেদ জী এস বলেছেন: কাওসার চৌধুরী,




সাতসকালে এমন একটি পোস্টে দেখে ঢুকলুম।
খুব চমৎকার ভাবে আমাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা তুলে ধরেছেন। দেউলিয়া শুধু রাজনীনিতেই নয়, সবখানে-সর্বস্তরে।

খুব সত্যি কথাটিই বলেছেন যে, সারাজীবনে মানুষ ঠেঙিয়ে, মানুষের মাথায় কাঠাল ভেঙে অর্জিত দুই নম্বরী- তিন নম্বরী টাকা দিয়ে পার্টি নমিনেশান কিনে এরা সবাই আরো আরো টাকা উৎপাদনের মেশিনটি ক্রয় করেন। রাষ্ট্র এদেরকে জামাই আদর করে।
এদের না আছে যোগ্যতা , না আছে নেতৃত্বের গুন, না আছে জ্ঞান , না প্রজ্ঞা। চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর তো তারা কাটিয়েছেন টাকা কামানোর ধান্দায়, একই গোয়ালের গরু-ছাগল ছাড়া ঘেসেতে দেন নি কাউকেই ধারে কাছে। তাদের মগজের সব বিদ্যাই তো খরচ হয়ে গেছে সেখানে! তারা কি করে নতুন কিছু দেবেন মানুষকে, সমাজকে, রাজনীতিকে, রাষ্ট্রকে ? আগামী একশো বিশ বছরেও এদের দিয়ে কিছু হবেনা।
নিজেদের বলয় নিরাপদে রাখতে এই বেনিয়া সম্প্রদায় নিয়ে গড়ে ওঠা তথাকথিত গণতান্ত্রিক সভ্যতার ধ্বজাধারীরা রাষ্ট্রের সর্বস্তরে যে মেকী মানসিকতা তৈরী করে দিয়েছে জ্ঞানচক্ষু উন্মীলনের মূহুর্তে তা থেকে আমাদের মুক্তি নেই মৃত্যু পর্যন্ত । ব্যতিক্রম যারা হতে চায়, যারা মানুষের সঠিক জায়গার খোঁজ দিতে বদ্ধপরিকর তাদেরকে হয় পাগল নয় রাজনৈতিক মতলববাজ বলে চিহ্নিত করে দেয় পেশাধারী রাজনৈতিক দলগুলো।

এটাই বাস্তব। করোনার মতোই অদৃশ্যে থেকে সমাজ-রাষ্ট্রকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে এরাই। এখানে নোংরা পানিতে শেওলা ধরা স্রোতে সব পুরোনো ধাঁচের বৈঠা বাওয়া নড়বড়ে নৌকাই চলে, নতুক কোনও যান্ত্রিক জলযানের জন্যে এই পানি আর স্রোত অগম্য।

তাই তরুনরা বিমুখ হয়ে আছেন সবকিছু থেকে। এটাও দিবা লোকের মতোই সত্য।

সহ ব্লগার গিয়াস উদ্দিন লিটন বিদেশে বাংলাদেশী নক্ষত্রদের নিয়ে পোস্ট দিতেন প্রায়ই।
সেখান থেকে বোঝা যায় এ দেশটি যদি একটু যত্ন, একটু বাহবা, কাজ করার জন্যে একটু সুস্থ্য পরিবেশ, বেঁচে থাকার জন্যে একটু সম্মানজনক অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা দিতে পারতো তবে সেসব নক্ষত্র আরো উজ্জ্বল করে দিতে পারতেন আমাদের অন্ধকার আকাশটাকে ...............

০৮ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:১২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, শ্রদ্ধেয়।
সাত সকালে আমার পোস্ট পড়ে ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। যোগ্যদের যখন কৌশলে সব সেক্টর থেকে বিতাড়িত করা হয় তখন মেধার দেউলিয়াত্বের জন্ম হয়। এটাই ঘটছে এদেশের সব সেক্টরে। এদেশের যোগ্যতার মাপকাঠি হলো তৈল, শুভদৃষ্টি এবং টাকা-পেশির জোর। যাদের এগুলো নেই তারা বাতিল।

চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজনীতি করবে কেন? এর পেছনে কাজ করে ক্ষমতা আর অর্থলিপ্সা আর রাজনৈতিক দলগুলোর দেউলিয়াপনা। আমার এক চাচা পাঁচ বছর আগে লন্ডনে ডাক্তারী পেশা থেকে অবসরে যান। তিনি ছিলেন নামকরা চক্ষু বিশেষজ্ঞ, শুধু ব্রিটেন নয় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন সার্জন। তার অবসরকালীন সময়ে অনেক বিষয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। তিনি অবসরে গেলেও দেখতে মনে হয় বয়স পঞ্চাশ পার হয়নি। তো একদিন বললাম, আপনি তো চাইলে প্রাইভেট প্রেকটিস করতে পারতেন। জবাবে আমাকে জানালেন, ব্রিটেনে ডাক্তারদের অবসর নেওয়ার পর আর প্রেকটিস করার সুযোগ নেই। অন্য যেকোন জব করা যাবে কিন্তু ডাক্তারী নয়। সত্যি, শুনে থো হয়ে গিয়েছিলাম।

এখন উনার সময় কাটে ওয়েটারী করে। উনার একটি রেস্টুরেন্টে আছে, উইকএন্ডে তিনি এখানে কাস্টমারদের খাবার পরিবেশন করেন। এতে তার সম্মান নষ্ট হবে, কিংবা কেউ দেখলে জীবনের সব অর্জন চুলোয় যাবে এমনটি কখনো মনে হয় না তার।

১৪| ০৮ ই মে, ২০২০ দুপুর ১২:৪৪

রাজীব নুর বলেছেন: ভাইজান আমার মন্তব্যের সুন্দর উত্তর দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

০৮ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:১৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:
ধন্যবাদ, রাজীব ভাই।

১৫| ০৮ ই মে, ২০২০ দুপুর ২:২৮

পদ্ম পুকুর বলেছেন: বিভিন্ন প্রজাতির লকডাউন, শাটডাউন, জরুরী অবস্থা, হল ভ্যাকেন্ট, পরিক্ষা পেছানো ইত্যাদি পেরিয়ে মাস্টার্স শেষ করে যখন প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন বয়স অফিশিয়ালি ২৭ পার হয়ে গেছে আর আনঅফিশিয়ালি ৩০ পার। এরপর চাকুরিতে ঢুকতে ঢুকতে আরো বছর দেড়েক শেষ.... এ রকম একদিন আমার এক ফ্রেন্ড, যে ৩০তম বিসিএস এর মাধ্যমে জবে ঢুকিছিলো, সে হতাশ গলায় বললো- জাতীয় পর্যায়ে যোগ্যতা প্রমাণ করতেই যদি ৩০/৩২ বছর পার হয়ে যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমরা কমপিট করবো কবে?

খুব সাধারণ কথা হলেও এটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সামাজিক-শিক্ষাজীবন এমনই এক গতবাঁধা নিয়মে চলে যে নিজেকে যোগ্য করতেই ৪০ পার হয়ে যায়। অগত্যা মন্ত্রী পরিষদে আসে চামড়া ঝুলে যাওয়া, মাথার ঘিলু অকেজো হয়ে যাওয়ারাই। পরিতাপের বিষয় এই যে, নগণ্য পরিমাণ তরুণ কেবিনেটে আসলেও এই অথর্বদের চক্করে পড়ে অথবা নিজেদের লোভের কাছে বলী হয়ে যায় তাদের সম্ভাবনা।

হয়তো কোনো একদিন এই চক্র শেষ হবে। তদ্দিনে আপনার নাতি নাতনী গল্প করবে যে আমার দাদু এই বিষয়ে বলেছিলেন ২০২০ সালে!!! :D

অনেকদিন পর দেখলাম, আশা করি ভালো আছেন।

০৮ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:২৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। আশা করি, ভালো আছেন।
অফিসিয়ালি, আন অফিসিয়ালি বয়স বাড়ার বহুত কারণ আছে। একাডেমিক সেশনজট এখন কমলেও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করতে হবে এমন ভাবনাও কম দায়ী নয়। ছাত্রদের কিই বা করার আছে। চাকরীদাতা সরকার-বেসরকার সবারই মাস্টার্স ডিগ্রিধারী লাগবেই। উন্নত দেশে লেখাপড়ার সর্বোচ্চ ধাপ ধরা হয় গ্রেজুয়েশনকে। মাস্টার্স ডিগ্রিধারী তারাই হয় যারা গবেষণা কিংবা পিএইচডি করতে চায়।

এজন্য তারা ২২ বছরের মধ্যেই চাকরিতে জয়েন করে, ৩০ হলেই এই সেক্টরে অভিজ্ঞ হয়ে উঠে এবং চল্লিশের আশেপাশে গেল অভিজ্ঞতার ষোলকলা অর্জিত হয়। তখন যেকোন দায়িত্ব তার দ্বারা সুন্দরভাবে পালন করা সম্ভব। বিসিএস গাইড বছরের পর বছর মুখস্থ করে সোনার হরিণ জুটলেও এটা কেবল একটা চাকরি মাত্র। এতে মেধার বিকাশ কিংবা ভালো অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ নেই।

আপনার বন্ধু যথার্থই বলেছেন কথাটি।

আপনি ঠিকই বলেছেন, "মন্ত্রী পরিষদে আসে চামড়া ঝুলে যাওয়া, মাথার ঘিলু অকেজো হয়ে যাওয়ারাই। পরিতাপের বিষয় এই যে, নগণ্য পরিমাণ তরুণ কেবিনেটে আসলেও এই অথর্বদের চক্করে পড়ে অথবা নিজেদের লোভের কাছে বলী হয়ে যায় তাদের সম্ভাবনা।"

ভালো থাকুন।

১৬| ০৮ ই মে, ২০২০ দুপুর ২:৩৫

ঢাবিয়ান বলেছেন: আমাদের চাটুকারী, গলাবাজি সর্বস্ব সংসদীয় গণতন্ত্রের বাস্তবতা বাক্যটায় সংসদীয় গণতন্ত্রের শব্দটায় আপত্তি আছে। কারন এই শব্দটার অস্তিত্ব আমাদের দেশে আর নাই।

০৮ ই মে, ২০২০ বিকাল ৪:৩১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, ভাই। ভালো আছেন নিশ্চয়ই। আসলে দেশটা স্বাধীন হওয়ার পর কখনো সংসদীয় গণতন্ত্র ছিলো না। শুধু রাজনৈতিক দস্যুতার অদল-বদল হয়েছে মাত্র। আমরা ভোটকে গণতন্ত্রের মূল সূত্র ভাবলেও বাস্তবতা ভিন্ন। আপনাকে যখন তিনজন ডাকাত থেকে ভালো ডাকাত খোঁজার জন্য ভোটে দিতে হয় তখন যেই লাউ হেই কদু হয়। এখন অবশ্য কষ্ট করে ভোটের দিন লাইনে দাঁড়াতে হয় না। এটা বরং ভালোই হলো।

ভালো থাকুন।

১৭| ০৮ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫০

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আমাদের আছে ঐতিহ্যবাহী পরিবারতন্ত্র! আর কি চাই!

উত্তরাধিকার হলেই হলো, যোগ্যতার কি প্রয়োজন?
আর গণতন্ত্রের বিকাশের যে নূন্যতম প্রাকটিস তাই নাই কোন দলে! নেতৃত্ব বিকাশ হবে কি করে?
যখন নিশ্চিত জানে তৈলবাজিতে পদ নিশ্চিত। যোগ্য ছেলেটি যোগ্যতার দৌড়ে যখন গলদঘর্ম,
অযোগ্যরা তখন নিত্য তেলমর্দনে নিশ্চিত বিজয়ের হাসি হাসে!

কেঁচে গন্ডুষ করতে হবে ভায়া।
আর তার জন্য চাই একটা পূর্ণ বিপ্লব।
তা চেতনার যেমন তেমনি সিস্টেমেরও বটে।

শুভারম্ভটা করবে কে?

০৮ ই মে, ২০২০ রাত ১০:০২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



গুরু, মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা।
"পরিবারতন্ত্র" হলো একনায়কতন্ত্রের আরেক নাম। কিন্তু আমাদের দেশে খুব সুন্দর করে এটাকে গণতন্ত্রের ট্যাগ লাগানো হয়েছে। এখন এই পরিবারতন্ত্র সর্বকালের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে একটি আতঙ্কের নাম হয়েছে। কেউ যদি বলে, আমি অমুক নেত্রীর তমুক ভাইয়ের বউয়ের খালাম্মার চাচাতো ননদের হাজবেন্ড এর ছোট শ্যালক হলেও তিনি বিশেষ একটি পরিবারের সদস্য পরিচয় দেন। এতে আমরা আতঙ্কিত হই, দেশটা কোন বিশেষ পরিবারের কাছে আজ জিম্মি হলো কিনা সেটা ভেবে নির্বাক হই।

নাইন-ইলেভেনের পট পরিবর্তনে পালের হাওয়া অন্যদিকে বইলেও একই দশা হতো।

একটি দলের নেতৃত্ব বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো প্রধান নেতার আসন। তিনি যদি আজীবন পদ আকড়ে ধরে থাকেন তাহলে নেতৃত্বের পরিবর্তন হবে কেমনে? গণতান্ত্রিক পথে যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসতে এটা সবচেয়ে বড় অন্তরায়। এতে দলের চেইন অফ কমান্ড ধ্বংস হয়ে যায়। আর ছাত্র রাজনীতির নামে গুন্ডানীতি এদেশে তরুণ নেতৃত্ব উঠে আসার পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

হ্যা, কেঁচো গন্ডুষ-ই করতে হবে।

১৮| ১০ ই মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৫

সোহানী বলেছেন: জ্বী বুড্ডাদের ধাক্কায় এ দেশের মেধাবীরা কিছুই করতে পারে না। আর করবেই বা কি করে, যে হেনস্থা তাদেরকে সহ্য করতে হয় জীবনভর। সোহেল তাজের কথা প্রায় মনে পড়ে। এক তাজ পারেনি যার পিছনে বাবার মতো বড় মানুষের ছায়া ছিল।

তাই আমরা হলাম মেধা তৈরী করার মাঠ। যার ফসল ঘরে তুলবে ব্রিটিশ আমেরিকা সহ উন্নত দেশ। আপনি দেখুন, আমরা কি কোনভাবেই এ মেধাকে ঘরে রাখতে চাই বা চেস্টা করি?? কখনোই না। এরকম মেধাবীরা থাকলেতো ওরা নিজেরা দেউলিয়া হয়ে যাবে। আসলে ওরা ভয় পায় ইয়ং মেধাবীদের। তাই তাড়াতাড়ি তাড়ানোর ব্যবস্থা করে।

অনেকদিন পর চমৎকার একটি লিখা নিয়ে আসলেন।

১১ ই মে, ২০২০ দুপুর ২:২০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, আপু।
এদেশে যারা ক্ষমতা পায় কিংবা ক্ষমতায় যায় এরা আমৃত্যু তা আকড়ে ধরার চেষ্টা করে। যারা বড় ব্যবসায়ী তারাও চায় সরকার হতে, এমপি/মিনিস্টার হতে। এতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার সীমাহীন সুযোগ থাকে। যারা আমলা/সামরিক অফিসার হিসাবে আয়েশী জীবন পার করে রিটায়ার্ড করে তারা হঠাৎ ক্ষমতা হারিয়ে নির্বাক হয়ে যায়। জীবেনের শেষ দিন পর্যন্ত ক্ষমতা লাগবে তাদের, সাথে অর্থ-বিত্ত তো আছেই। আর রাজনৈতিক দলগুলো হলো মূর্খ আর চাটুকার সর্বস্ব।

গ্রামের অশিক্ষিত মোড়লরা কখনো চায় না শিক্ষিত কেউ গ্রামে তাদের উপর খবরদারী করুক। এজন্য এরা যাতে গ্রামের উন্নয়নে কোন ভূমিকা না রাখে, মানুষের সমর্থন না পায় তার চেষ্টা করে। এসব মোড়লরা জানে শিক্ষিত মানুষ গ্রামে নিজের ভালো অবস্থান তৈরী করলে তাদের মোড়লীপনা চলবে না।

দেশের রাজনীতিও চলছে একই পথে। ক্ষমতার শীর্ষে বসে থাকা চরম হিংসুকরা তাদের চেয়ে যারা যোগ্য তাদের কোন সুযোগ করে দেয় না, প্রয়োজনে মামলা হামলা করে বিদেশে বিতাড়িত করে। এতে এরা হাফ ছেড়ে বাঁচে। দেশটা হয়ে উঠে মূর্খদের আখের গোছানোর তীর্থ। এরা মেধাবীদের ভীষণ ভয় পায়। বিদেশে এরা সফল হলেও তাদের কিছুই আসে যায় না। দেশে আবুলের সংখ্যা যত বাড়ে ক্ষমতার স্টিমার ততো আরামে চালানো যায়।

ভালো থাকুন, আপু।

১৯| ১৩ ই মে, ২০২০ ভোর ৫:১৩

ব্লগার_প্রান্ত বলেছেন: আস সালামুআলাইকুম ভাইয়া।
আশা করি ভালো আছেন। আপনার লেখাটি নানা ঝামেলায় পড়া হয়নি। আজ পড়লাম।
পশ্চিমের তথ্য প্রযুক্তি খাতে ভারতীয়দের অবদান দিন দিন বাড়ছে। তবে বিলেতে ভারতীয়দের দাপটে একটু ঈর্ষা বোধ করলাম। ভারতীয়রা দিনদিন দক্ষ হয়ে উঠছে।
যদিও, আমাদের দেশের তরুণদের সচেতনাও বাড়ছে।
চল্লিশ বছর বয়সী একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে তরুণ বলায় আশাবাদী হলাম, হয়তো আমিও উপযুক্ত বয়সে রাজনীতি করতে পারি, দেশ এবং সমাজের কল্যাণে। তবে অবশ্যই প্রথমে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটেছে কিনা, তা বিবেচনায় রাখবো।

আমি কাল দুপুরে ফেসবুক আইডি খুলবো। আমি কি আপনাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে পারি?
সুস্থ থাকুন ভাইয়া। শুভকামনা।

১৩ ই মে, ২০২০ দুপুর ১:৫৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, প্রিয় প্রান্ত।
অনেকদিন পর তোমার কমেন্ট পেলাম। হোম কোয়ারেন্টাইনে ভালো আছো নিশ্চয়ই। পড়াশোনাও চলছে। ব্লগে এখন কম আসা হয় একজন্য অনেক পোস্ট বাদ পড়ে যায়। এবার পোস্টের প্রসঙ্গে আসি। ভারতীয়রা শুধু বৃটেনে নয় কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রেও সমান তালে এগিয়ে গেছেন। শুধু তথ্য প্রযুক্তি কেন? চিকিৎসা, রাজনীতি এবং ব্যবসায়েও পশ্চিমাদের টেক্কা দিচ্ছেন এখন।

এটা নিঃসন্দেহে খুব ইতিবাচক দিক। পাশাপাশি, বাংলাদেশিরাও ভালো করছেন। বৃটেনর লেবার পার্টিতে অন্তত তিনজন গুরুত্বপূর্ণ এমপি আছেন যারা দল ক্ষমতায় গেলে মিনিস্টার হবেন। বৃটেন, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র মেধাবীদের সুযোগ করে দেয়। সে ইমিগ্রেন্ট কিনা, তার গায়ের রঙ কালো না সবুজ সেটা কখনো বিবেচনায় আসে না।

রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদে চল্লিশ বছরে কেউ পদায়িত হলে তিনি অবশ্যই তরুণ। চল্লিশের লেখকদেরও তরুণ বলা হয়। উপযুক্ত বয়সে তুমি রাজনীতি করতে চাও শুনে ভালো লাগলো। মেধাবী তরুণরা এখন রাজনীতি থেকে বিতাড়িত। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ তরুণদের আশাবাদী হতে দেয় না। এটার পরিবর্তন দরকার।

ফেইসবুকে আমি একই নামে আছি। রিকুয়েষ্ট পাঠালে ইনবক্সে একটা টেক্সট দিয়ে রাখিও।

২০| ২৩ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:০৬

রাকু হাসান বলেছেন:


মার্স্টাস ড্রিগ্রি আমারও পছন্দ না ,হ্যাঁ কারও যদি একান্তই প্রয়োজন তাহলে অবশ্যই করবে । আর করেই কি করবে ? দেখুন স্নাতকধারীদের জবগুলোতে অধিকাংশই মার্স্টাস চায়। একটা কথা বলি ,আপনার লেখা আমার কাছে আগের চেয়ে সাবলীল লাগছে। উপস্থাপনাটা আর কি । ক্ষুদে পাঠকের মতামত রেখে গেলাম। আচ্ছা আছেন কেমন ? :)

২৩ শে মে, ২০২০ রাত ১১:১৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



অনেকদিন পর প্রিয় ভাইটাকে পেলাম। কেমন আছেন? জানি, এই দুর্যোগে ভালো নেই। তবুও ভালো থাকা চাই। বইমেলায় ভাবছিলাম দেখা হবে কিন্তু হয়নি। হয়তো আগামীতে কোন একদিন দেখা হবে। এবার লেখা প্রসঙ্গে আসি, একাডেমিক পড়াশোনার সর্বোচ্চ ধাপ হলো গ্রেজুয়েশন। শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য এর বেশি পড়াশোনার দরকার নেই। একমাত্র দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ থাকলে পড়াশোনা এগুলে আপত্তি নেই। এটা আমার মতামত।

আপনি ক্ষুদে পাঠক! মোটেও না, আমার কাছে খুবই বিচক্ষণ আর মেধাবী একজন মানুষ।

২১| ২৪ শে মে, ২০২০ রাত ১১:১৭

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া মন্ডল দেখছি আমার পি পি ই পরে আসছে!!!!!!!!!!! :-<

২৫ শে মে, ২০২০ রাত ৩:৩৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



মন্ডল ইজ ব্যাক! গুড নিউজ। তো, হেতে আপনার পিপিই পাইলো কই! নিশ্চয় হেতের লগে ব্লগের বাইরেও জানাশোনা আছে! পোলাটা খুব দুষ্ট; তয় মনটা খুব বালা। একটু চোখে চোখে রাখতে হবে এই আরকি!!

২২| ২৫ শে মে, ২০২০ ভোর ৫:৪৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সঠিক মূল্যায়ন করেছেন ।
যৌবন যার (কর্ম )যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার ।
তাই যৌবনে দাও রাজটিকা । তার মানে ২০/২২ বছরের
যুবক যুবতীদেরকে উপযুক্ত মানের শিক্ষায় প্রকৃত শিক্ষিত
করে দক্ষ কর্মীর হাতে পরিনত করে কর্মযুদ্ধে নিয়োগের
উপযুক্ত সময় । পরে প্রয়োজন হলে তারা মেরিট অনুযায়ী
তাদের জন্অয ন দি জব প্রশিক্ষন/উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা
যেতে পারে।তাতে করে দেশের কর্মক্ষম যুবক যুবতীদের
জীবন হতে মুল্যবান কর্ম বর্ষ হারিয়ে যাবেনা। দেশ ও জাতি
হবে উপকৃত ।

সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের উঠতি বয়সের
নব প্রজন্ম অত্যন্ত টেলেন্ট । তার প্রমান তারা তাদের কর্মে
ও শিক্ষায় দেখাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে এই টেলেন্ট নব
প্রজন্ম অনেকেই সরকারী ক্যাডার জবের পিছনে না
ঘুরে সেল্ফ এমপ্লয়মেন্ট কিংবা বেসরকারী খাতে
নিয়োগে বেশী আগ্রহী । এ নব প্রজন্মের
টেলেন্টদেরকে যথাযথভাবে পৃষ্ঠপোষকতা
দিলে তারা জাতির জন্য অতি মুল্যবান
সম্পদে পরিনত হবে বলে মনে করি।

ঈদ শুভেচ্ছা রইল ।

২৫ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



পোস্টে আপনার মূল্যবান কমেন্ট পেয়ে খুব ভালো লাগলো। আশা করি, পরিবারের সবাই এখন ভালো আছেন। আমার ছোট্ট জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই এ বিষয়ে লিখতে আগ্রহী হয়েছি। আমাদের এলাকায় গত তিনবার থেকে যিনি এমপি হচ্ছেন তার বয়স এখন পঁচাশি বছর। গত পনেরো বছরে অনেক সময় পেয়েও এলাকায় কিছুই করেননি। এলকার কোন বিষয়ে কখনো ভাবেনি। অথচ কোন এক জাদুর ছোঁয়ায় তিনি নিয়মিত এমপি হচ্ছেন। চা বাগান, গার্মেন্টস, ব্যাংক এবং শিক্ষা ব্যবসায়ী তিনি। হাজারো কোটি টাকার মালিক তিনি। এই বয়সে এসেও তার নিজের সব ব্যবসা দেখাশুনা করতে হয়। একমাত্র ছেলে মানসিক বিকারগ্রস্ত। তিনি পুবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন দীর্ঘদিন। এখন রেডক্রিসেন্ট এর চেয়ারম্যান!

এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ এই বয়সে কিভাবে তাঁর দ্বারা সামাল দেওয়া সম্ভব? রাজনৈতিক দলগুলোর সীমাহীন নৈরাজ্য আর দেউলিয়াপনা দেখে খুব কষ্ট হয়। জীবনে খুব ইচ্ছে ছিলো দেশের জন্য কাজ করবো। লন্ডনের সুন্দর জীবন ফেলে অনেক আশা নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম। কিন্তু এদেশে এমপি হওয়া দূরে থাক পাড়ার মেম্বার হওয়ার সুযোগও আমাদের নেই। চারদিক এক অদৃশ্য চক্র আমাদের গলাটিপে হত্যা করতে সদা তৎপর।

উঠতি বয়সের অনেকে ভালো করলেও বেশিরভাগ সম্ভাবনাময় তরুণ ঝরে পড়ছে। এদের একটি বড় অংশ রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার দরকার ছিলো। কারণ দেশ পরিচালনার সিদ্ধান্ত রাজনীতিবিদরা নেন। গোড়ায় গলদ থাকলে মেধাবীরা কাজ করার সুযোগ পাবে না। রাজনীতি থেকে নেতা তোষণ, চাটুকারিতা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং টাকার খেলা বন্ধ না হলে তরুণদের সুযোগ কখনো সৃষ্টি হবে না।

ঈদ মোবারক। ভালো থাকুন।

২৩| ২৬ শে মে, ২০২০ বিকাল ৪:০৯

শায়মা বলেছেন: ২৫ শে মে, ২০২০ রাত ৩:৩৮০

লেখক বলেছেন:



মন্ডল ইজ ব্যাক! গুড নিউজ। তো, হেতে আপনার পিপিই পাইলো কই! নিশ্চয় হেতের লগে ব্লগের বাইরেও জানাশোনা আছে! পোলাটা খুব দুষ্ট; তয় মনটা খুব বালা। একটু চোখে চোখে রাখতে হবে এই আরকি!!


পিপিই তে আগুন লাগিয়ে দিলেই আসল মন্ডলামী বের হয়ে আসবে.... :)

তারপর কাঁঠাল পাতা, আম পাতা, জাম পাতা সব ..... :P

২৬ শে মে, ২০২০ বিকাল ৫:৫৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:





হ্যা, ঠিকই বলেছেন আপু। পিপিই-তে আগুন লাগিয়ে দিলে ঠিকই বেরিয়ে আসবে আসল মন্ডল। আম পাতা, বাঁশ পাতা, কাঁটাল পাতা, তেঁতুল পাতা দিয়ে ইহাকে আপ্যায়ন করালে এর ল্যাদানী বাড়বে। বরং এরে হোম কোয়ারেন্টাইনে খাবার না দিয়ে বন্ধী করে রাখলে ভালো হবে।

২৪| ২৬ শে মে, ২০২০ বিকাল ৪:১২

শায়মা বলেছেন:
ভাইয়া ২৪ নং অশালীন কমেন্টের জন্য রিপোর্ট করো। এইভাবে অভব্যতা এবং অন্যের বেশ পরে ছাগলামী করার রাইট নাই তার।

২৬ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:
প্রথমে ভেবেছিলাম অনেকদিন পর ফিরে একটু ফান করছে। পরে তো দেখি বিরাট অসভ্যতা শুরু করলো। আমার সম্বন্ধে সে তো কিছুই জানে না। এগুলো পাইলো কই? একটি সিরিয়াস পোস্টে এমন অসভ্যতা মোটেও প্রত্যাশিত নয়। ল্যাদাইতে আসবে তো নিজের বাপের দেওয়া নাম, পরিচয়ে ল্যাদা। চোরের মত ফালতু নিকে ল্যাদাইতে আসে কেন!

২৫| ২৬ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১০

ডার্ক ম্যান বলেছেন: আমদের মূল সমস্যা আমরা সব নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাই ।

২৭ শে মে, ২০২০ রাত ১২:১৮

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ আপনাকে।
আমাদের দেশে গণতন্ত্রীক সৈরাচারী শাসন চলছে। সব ডিসিশন একজনই দিচ্ছেন। নিজের পদ মৃত্যু পর্যন্ত ধরে রাখছেন। দলের বাকী সবাই যখন দেখে একজনই দল, রাষ্ট্র ক্ষমতার সর্বেসর্বা তখন তৈল মর্দনে নিজেকে সপে দেয়। সব সময় তার মন জুগিয়ে চলে। তার প্রতিটি কথায় ইয়েস স্যার, ইয়েস ম্যাডাম বলে। এগুলো।থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে তরুণ যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসবে না।

২৬| ২৬ শে মে, ২০২০ রাত ৯:২১

শায়মা বলেছেন: নাম পরিচয়হীনদের এমনই হয় ভাইয়া! তারা ময়ূরপুচ্ছ কুড়াই নিয়ে পরে গাধার মত নাচে.....:)

২৭ শে মে, ২০২০ রাত ১২:১১

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, আপু। ইদানিং ব্লগে খুব কম লিখি। মাসে গড়ে একটা হবে। প্রতিদিন চাইলে লিখতে পারি। কিন্তু শুধু শুধু লিখে সময় নষ্ট করার মত সময় নেই। যখন লিখি অনেক ভেবে, অনেক তথ্যান্ধান করে যুক্তি দিয়ে লিখি। কারো পোস্ট পড়ে ভালো লাগলে নিজের অনুভূতি জানাই। কাউকে আক্রমণ করে, অসম্মান করে কখনো নিজেকে সম্মানিত করা যায় না। দেখবেন ব্যক্তি জীবনে খুব হতাশ, বেকার, ল্যুজার এবং পরশ্রীকাতরা সব সময় যে মানুষটা তার চেয়ে সফল তার পেছনে অযথাই লাগে। অপেক্ষাকৃত সফল মানুষদের অসম্মান করে নিজের ব্যর্থতাকে একটু ঢেকে রাখে। এতে এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ পায়।

ব্লগে মাল্টি নিকে যারা এসব ইতরামি করে এদের খোঁজ নিলে দেখবেন "বিরাট ল্যুজার।"

২৭| ৩০ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৬

মীর আবুল আল হাসিব বলেছেন:

আপনি তরুনদের নিয়ে আরও বেশি বেশি লিখুন। প্লিজ প্লিজ প্লিজ .....
লেখা পড়ে কি লেসন পেলাম তা আমি নিজেও জানিনা। তবে অনেক অনেক অনুপ্রেরনা পেলাম...

০২ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৩:৫২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



কৃতজ্ঞতা রইলো, হাসিব ভাই,
একটি দেশ, একটি পরিবার, একটি পৃথিবীর জন্য কর্মক্ষম, সুস্থ এবং শিক্ষিত তরুণ সমাজের বিকল্প নেই। পৃথিবীতে যেসব দেশ তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে পেরেছে তারা আজ সফল। চীনের অর্থনৈতিক উত্থাাানের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে তাদের কয়েককোটি দক্ষ তরুণ। ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের সমৃদ্ধি আনতে লেগেছিল ১২০ বছর। চীনের লেগেছে মাত্র ৩০ বছর। ব্লগে তরুণদের নিয়ে আমার অনেক লেখা আছে চাইলে পড়তে পারেন। সামনের দিনগুলোতে আরো লিখবো এসব নিয়। সময় থাকলে এই লেখাটি পড়তে পারেন।

২৮| ০২ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৩:৫৭

মীর আবুল আল হাসিব বলেছেন: পড়ছি......... আপনার আর চাঁদগাজী সাহেবের সব লেখা পড়বো.. এই মিশনে নেমেছি।

০২ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৪:০৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



কৃতজ্ঞতা। ব্লগে একটু কম থাকা হয়। চেষ্টা করি, লেখাগুলো যাতে মানসম্মত হয়, একটু ভিন্নধর্মী হয়। নিজের ভাবনাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের মত করে লিখি। আপনার ব্লগেও সময় করে যাব। মনযোগ দিয়ে লেখাগুলো পড়বো। চাঁদগাজীর লেখাগুলো আমার খুব ভালো লাগে। অল্প কথায় চমৎকার সব বিষয় নিয়ে লিখেন।

ভালো থাকুন।

২৯| ০৮ ই জুন, ২০২০ দুপুর ১২:১৪

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: সুন্দর তথ্য বহুল পোস্ট। চল্লিশ বয়স গুরু দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত বয়স। এ সমযে মানুষের গায়ে থাকে উদ্যম আবার মাথাটাও পরিণত । বেশি বয়সে চলচ্শক্তিহীন দেহ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। দেশের উন্নয়নের জন্য এ চল্লিশের যথাযথ প্রয়োগ আবশ্যক।

০৮ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:৩২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



কৃতজ্ঞতা রইলো, প্রিয় কবি।
একবিংশ শতাব্দীতে তারুণ্যের শক্তিকে যেসব দেশ গুরুত্ব দিয়ে মানব সম্পদে পরিণত করেছে সেসব দেশ আজ বিশ্বের বুকে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে। গত ৩০ বছরে কমিউনিস্ট চীন শিল্প-বাণিজ্য, তথ্য-প্রযুক্তি আর শিক্ষা-গবেষণায় যে অগ্রগতি দেখিয়েছে তা বিষ্ময়কর। ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের সময়ে তাদের লেগেছিল ১২০ বছর! আমাদের অপ্রয়োজনীয় উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণাহীন পিএইচডি অর্জন করতে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু পার হয়ে যায়। বিসিএস গাইড এখন অনার্স প্রথম বর্ষ থেকে মুখস্থ করা শুরু হয়। কেউ কেউ তো গ্রেজুয়েট হওয়ার দুই-চার বছর আগে থেকেই বিসিএস সহ চাকরির কোচিংয়ে ক্লাস করেন! এদেশের তরুণ এবং যুবকরা দিশাহীন, নেই কোন সঠিক নির্দেশনা। আর সম্ভাবনাময়দের জন্য সুযোগ করে দেওয়ার কোন তাড়া নেই সরকারের। সব জায়গায় সিন্ডিকেট।

ভালো থাকুন। পরিবারের সবাই নিরাপদে থাকুন।

৩০| ১২ ই জুন, ২০২০ দুপুর ২:১৭

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: চমৎকার লেখা।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারুণ্যের অভাব আছে। তবে তরুণরা সচেতন হচ্ছে। এটা একটা ভালো দিক।

১২ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৩:৩৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। আশা করছি, ভালো আছেন। যাদের যা হওয়ার কথা না, এদেশে তারাই তা হচ্ছে। আর যাদের সুযোগ পাওয়ার কথা তারা ফুটবলের মতো লাথি খাচ্ছে। এদেশের সংসদ হলো বয়স্ক টাকাওয়ালা রিটায়ার্ড আমলা, পেটমোটা ব্যবসায়ী আর বস্তাপঁচা রাজনৈতিক নেতাদের অবকাশ যাপনের জায়গা। এখানে শুধু ইয়েস স্যার, মাননীয় অমুক আর তৈলের ডিব্বার সঠিক ব্যবহার জানলেই বিরাট নেতা। রিডিং পড়তে না পারলেও সমস্যা নেই। যোগ্য তরুণরা সুযোগ পাচ্ছে না। যারা সুযোগ পাচ্ছে তারা তারুণ্যের জন্য রোল মডেল হতে পারছে না। কেউ কেউ চেষ্টা করলেও হাজারো গডফাদার আর সিন্ডিকেট ভেঙ্গে প্রকৃত সেবক হওয়া কঠিন। তরুণরা সুযোগ পেলে দেশের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গিতে আমুল পরিবর্তন আসবে।

ভালো থাকুন।

৩১| ১৬ ই জুন, ২০২০ রাত ১২:৪৭

মাহমুদ০০৭ বলেছেন: ধারালো লেখা।আপনার লেখনী দারুণ আকৃষ্ট করল।ফলে আপনার আরো লেখা পড়া হবে।
যা বলেছেন সবই সত্যি।
এদেশের জাতীয় জীবনে আঠার ও চল্লিশ নেমে আসুক।

১৬ ই জুন, ২০২০ রাত ১২:৫৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ, মাহমুদ ভাই।
গত ক'দিনে ব্লগে আপনার দুর্দান্ত উপস্থিতি ব্লগটাকে প্রাণবন্ত করেছে। ব্লগের সংস্কার নিয়ে আপনার প্রতিটি মন্তব্য একাধিকবার পড়েছি। ইতিবাচক এসব ভাবনা সামুর জন্য খুবই উপযোগী। ব্লগে দুই বছর হলো আছি। এজন্য সিনিয়রদের মতামতগুলো পড়েছি, বুঝার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ইচ্ছে করেই নিজের কোন মতামত দেইনি। আমার মনে হয়েছে এসব বিষয়ে অভিজ্ঞদের মতামত জানাটাই আসল। আপনার আজকের পোস্টের মন্তব্যগুলো এখন পড়ছিলাম। নোটিফিকেশন পেয়ে এসে আপনার সুন্দর মন্তব্য পেলাম। কৃতজ্ঞতা রইলো।

আপনি চমৎকার লিখেন। গত তিন-চারদিনে কিছু লেখা পড়েছি। আপনি ব্লগে থাকুন। নিয়মিত লিখুন। এতে ব্লগ উপকৃত হবে। আমরাও ভালো মানের লেখা পড়ার সুযোগ পাবো। সময়ের অভাবে ইদানিং ব্লগে কম লিখছি। এই লেখাটি ভালো লেগেছে জেনে অনুপ্রেরণা পেলাম। ভালো থাকুন।

৩২| ২৬ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৮

মাআইপা বলেছেন: বরাবরের মত বাস্তব গবেষণামূলক একটি সুন্দর লেখা। আলদা করে বলার কিছু নেই তবে বলতে হলে আপনার ভাষাতেই ভাল শোনাবে-
“তরুণ বয়সের অনেকে উদ্যোক্তা হিসাবে ভালো করলেও বেশিরভাগ সম্ভাবনাময় তরুণ ঝরে পড়ছে। এদের একটি বড় অংশ রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার দরকার ছিলো।”
আমাদের কোন এক প্রজন্ম হয়তো এগিয়ে আসবে, যেটা আমরা দেখে যেতে পারবো না।

দাওয়াত রইল।

ধন্যবাদ।

২৭ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৭

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



অনেকদিন পর আপনাকে পেলাম। আশা করি, ভালো আছেন। আমি যখন লিখি তখন চেষ্টা করি বিষয়ের গভীরে যেতে। এতে নিজের ভাবনা আর বিশ্বাসের জায়গাটি পোক্ত হয়। আমি, আপনি উভয়ই তরুণ সমাজের অংশ। এদেশে তরুণরা সুযোগ পাচ্ছে না নিজের প্রতিভার বিকাশের। বড়রা মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত ক্ষমতা আকড়ে আছে। এছাড়া স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি আর পোষ্যনীতির গ্যাড়াকলে পড়ে মেধাবী তরুণরা সুবিধাবঞ্চিত। এর পরিবর্তন দরকার; না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হতাশ হবে। ফলস্বরূপ দেশ হবে মেধাশুন্য।

আপনার পোস্টে যাব, অবশ্যই। ভালো থাকুন।

৩৩| ২৭ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৬

ঢুকিচেপা বলেছেন: কাওসার ভাই দাওয়াত দেয়া আইডিতে আপনার মন্তব্য দেখলাম যা বরাবরের মত অনুপ্রেরণামূলক। আমার আসল আইডি ফিরে পেয়েছি এবং বৈশাখে রেশমী গল্প লেখাটা ঐ আইডি থেকেই পোস্ট দিয়েছি। এখন নিয়মিত যোগাযোগ হবে। ভাল থাকবেন।

২৭ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৬

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



ধন্যবাদ। আমি প্রথম পাতায় এই আইডি থেকে একই লেখা পোস্ট দেখে অবাক হই! পরে বিষয়টি বুঝতে পারি। যাক, আইডি ফিরে পেয়েছেন জেনে খুব ভালো লাগলো। এবার নিয়মিত লিখুন।

৩৪| ৩১ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৯:২৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন, এ নিয়ে অনেক কিছু ভাববার আছে।

আমার মতে, এখন সবচেয়ে করুণ অবস্থায় আছে দেশের সাধারণ গণমানুষ। আর এদের সবচেয়ে হতাশার বিষয় হচ্ছে বিচারহীনতা, বিচার ব্যবস্থার উপর আস্থাহীনতা। বিচার আজ গণমানুষের কাছে সহজলভ্য নয়। তারা সহজে কোথাও বিচার পায় না। আগে যেমন মানুষ বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হতো এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ মনে করতো তারা ন্যায়বিচার পেয়েছে, বিশেষ করে উচ্চ আদালতে, এখন সে অবস্থা মনে হয় নেই।

বুড়ো হলেও মানুষ ৭০ বছর পর্যন্ত মোটামুটি কর্মক্ষম থাকে, সবাই শারীরিকভাবে না হলেও অন্ততঃ ইন্টেলেকচুয়ালী তো বটেই। তবে অবশ্যই, ৮৫ পর্যন্ত নয়, যেমনটি আপনি একটি উদাহরণে বলেছেন। ৮০ এর পর থেকেই অনেকের মধ্যে 'রাবিশ' রোগ দেখা দেয়, যদিও আপনার উদাহরণের মানুষটি 'রাবিশ' নয়। তিনি অন্য আরেকজন।

তরুণ-প্রৌঢ়-আধাবুড়ো (৬০-৭০), এদের সমন্বিত মেধা এবং অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তবে তার আগে ঠিক করতে হবে কিছু মৌলিক নীতিমালা, যদ্বারা মাস্তানি এবং গ্যাংস্টারিজম এর মূলোৎপাটন করতে হবে।

৩৫| ১১ ই আগস্ট, ২০২০ দুপুর ১:০৬

দয়িতা সরকার বলেছেন: বিভিন্ন বয়সের ব্রেনের কারসাজি। ইন্ডিয়া সিনেমা বানাইল সুপার থারটি। যদিও সিনেমাটা দেখা হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.