নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বিতৃষ্ণা

এ বিতৃষ্ণাময় জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।

বিতৃষ্ণা › বিস্তারিত পোস্টঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত দুইমাসে ১১জন রাজনৈতিক বলির শিকার

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৩১

আজ দেশের বর্তমান অবস্থা খুবই শোচনীয়। সর্বত্রই রাজনীতির কালোথাবা বিস্তার লাভ করে আছে। দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করছে। ডাকছে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও হরতাল। সেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষজনকে। যার ফলে দেশে শুরু হচ্ছে সংঘর্ষ, মারামারি, খুন, রাহাজানি, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ। সংঘর্ষ বাধছে পুলিশের সঙ্গে। যেখানে গুলিতে মারা যাচ্ছে জনগণ। এখানে দল দুইটা। একদল ফায়দা লুটছে আরেকদল মানুষের অনূভুতিকে পূঁজি করে বিবেক বিসর্জন দিচ্ছে!

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর থেকে সারাদেশে শুরু হয় সংঘর্ষ। সারাদেশে শুরু হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় এর প্রতিক্রিয়াটা বেশি দেখা যায়। কেননা এখানে প্রতিনিয়তই লেগে থাকছে সংঘর্ষ। যার ফলে জীবন দিতে হচ্ছে অনেককেই।



গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পিটিআই সড়কে পুলিশ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে শিবিরকর্মীদের সংঘর্ষে নাসির আহমেদ নামে এক শিবিরকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়াও সেইদিন শিবগঞ্জের সোনামসজিদ এলাকায় নির্মাণাধীন পর্যটন মোটেলে আগুন দেয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এসময় তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে তৌহিদুল ইসলাম নামে এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে নিচে ফেলে হত্যা করা হয়।



এছাড়া গত ০১ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুরে আওয়ামীলীগ ও জামায়াতের সংঘর্ষে আব্দুর রহিম নামে এক জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও শহরের পিটিআই সড়কে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা নির্বিচারে যানবাহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। এসময় পুলিশ বাধা দিতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে একজন নিহত ও আরো দুইজন গুরুতর আহত হন।



আবার দেখা যায় গত ০৭ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার পোল্লাডাঙ্গা বাজারে জামায়াত-বিএনপি ও আওয়ামীলীগের মধ্যে সংঘর্ষে আব্দুর রহমান নামে এক যুবলীগকর্মী নিহত হয়েছেন।



গত ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরে জামায়াত-শিবির কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও কমপে ৩৫ জন আহত হয়েছে। নহতরা হচ্ছেন শ্যামপুর-ওমরপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ওয়ালিউল্লাহ (১৬), বাবুপুর গ্রামের মোহাম্মদ বদুর ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫) ও গোপালনগর গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে মতিউর রহমান (৪৫)।



গত ২৪ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উপরাজারামপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিতে আসগর আলী (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র পিকেটিং করার সময় নিহত হয়েছে।



গত ২৮ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামে রোববার দুপুরে আওয়ামীলীগ কর্মীদের সাথে জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষে দুই আওয়ামীলীগ কর্মী ও এক জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত দুই আওয়ামী লীগ কর্মী হচ্ছেন শিবগঞ্জের শরৎনগর গ্রামের নাসির উদ্দীন (৩০) ও উমরপর গ্রামের নুরশেদ আলী (৫৫) এবং নিহত জামায়াত কর্মী হচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার লেবুডাঙ্গা গ্রামের বশির উদ্দীন (৩০)।



এছাড়াও গত এই দুইমাসে সংঘর্ষে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন আরো অনেকেই। বাড়ি পুড়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক পরিবার। বিপরীত পরে ভয়ে গ্রামছাড়া হয়েছেন আরো অনেকেই। এসব থেকে রেহাই পাইনি শিশু কিশোররাও।





আলী উজ্জামান নূর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

৩০-০৪-২০১৩

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.