| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রোববার সকাল সাড়ে ১০টা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টার। বসে আছে এক যুবক। হতাশ চেহারা। হাতে হাতকড়া। ‘জাল টাকা প্রস্তুকারী শেখ বাবু’ লেখা কাগজ বুকে টাঙানো। কি ভাবে জালটাকার যন্ত্র পেল- প্রশ্ন ছোড়া হয় তার সামনে। নির্ভয় র্নিগ্নে টাকার যন্ত্র পাওয়ার কথা বলেন বাবু।
বাবুর দেয়া তথ্য অনুসারে, গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট সদরে। বাবা মায়ের সঙ্গে ১০ বছর বয়েষে ঢাকা আসেন বাবু। শুরু হয় নগর জীবন। চার বছর পরে বাবা মারা যান। বন্ধ হয়ে যায় সংসারের আয়ের উৎস্য। হতাশা আর অভাবের সঙ্গে শুরু হয় প্রতিটি দিন। ছোট্ট বলে বাবু কোথাও কাজ পায়নি। জীবন চাকা চালিয়ে রাখতে ঘরের বাইরে আসতে হয় তার মাকে। রাস্তা ও মানুষের বাসায় কাজ করে চালানো হয় সংসার। নিজের সঙ্গে কাজ করতে বাবুকে বিভিন্ন স্থানে যেতে বলতেন তার মা। বাবু যেত না। তার প্রয়োজন অনেক টাকা। কিন্তু কিভাবে। সে পথ খুঁজতে থাকে বাবু। অবশে পথ পান। কোনো বৈদ পথ নয়। জালটাকা তৈরির পথ। বাবু হয়ে যান জালটাকার তৈরির কাররিগর। দিনে তৈরি করত চার লাখ টাকা।
যেভাবে শুরু: তিন বছর আগের এক বিকেলের কথা। বংশাল থানার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলা বাবু। হঠাৎ হই-চই। সেখানে দেখে রক্তা অবস্থায় এক ব্যক্তি পরে আছে। বাজার শেষে জাল টাকা দেয়ার অপরাধে তাকে গণনধালাই দেয়া হয়েছ। রক্তাক্ত ব্যক্তি জালটাকা ব্যবসায়ী। তার কাছে কেই যায়নি। বাবু তাকে নিয়ে হাসপাতালে যান।এতে সন্তষ্ট জালটাকা ব্যবসায়ী শহীদ। বাবুর দিকে বাড়িায় বন্ধুত্বের হাত। শুরু হয় বাবুর নতুন জীবন।
জাল নোটে বেচাকেনা: প্রথম দিনে জালটাকা দিয়ে ছিল এক সিএনজি চালককে। সে দিন বাবু যাত্রাবাড়ি থেকে একটি সিএনজি নিয়ে মতিঝিলে আসেন। চালক মিটার থেকে অতিরিক্ত ২০ টাকা দাবি করছিল। বাবু তাতেই রাজি। মতিঝিল গিয়ে ৫০০ টাকার একটি জাল নোট দেয়া হয়। ভাড়া রেখে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেন সিএনজি চালক। জালটাকার বিনিময়ে বাবু পান আসল টাকা। এভাবে শুরু হয় জালটাকা ভাঙ্গিয়ে আসল টাকা আয়ের অবৈধ ব্যবসা। টানা এক বছর বাবু জাল টাকা বিক্রি করছে। মাঝে মধ্যে বৃদ্ধ দোকানদারে কাছ থেকে সিগারেট কেনা হয়। এছাড়াও সন্ধার পরে কাঁচা বাজারসহ বিভিন্ন দোকানে এসব টাকায় কেনা-কাটা হয়। বৃদ্ধ ও অল্প বয়সের দোকানদারের কাছে বেশি যায়। জালটাকা ভঙাতে গিয়ে বাবুকে একাধিক বার গণ ধোলাই ও অপমান হতে হয়েছে।
বাবু যখন প্রস্তুকারী: এক বছর পর জালটাকা প্রস্তুতকারী শহীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন বাবু। পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় টাকা তৈরির খারকানায়। অবাক হন বাবু। বান্ডিলে বান্ডিলে টাকা। সাজিয়ে রাখা হয়েছে আলমারিতে। সব হাজার, ৫০০ ও ১০০ টাকার নোট। সাধারণ চোখে দেখে কেউ বুঝতে পারবে না টাকাগুলো আসল না নকল। এবার বাবুর ইচ্ছে- নিজেই জাল টাকা তৈরি করবে। শুরু হয় সাধানা ও প্রশিক্ষণ। বংশাল এলাকায় দেয়া হয় কারখানা। পল্টন থেকে নেয়া হয় একটি ল্যাটপ, প্রিন্টার ও কালি। জালটাকা অন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আনা হয় কাগজ ও জলছাপের প্লেট। স্বল্প দিনে জালটাকা তৈরির দক্ষ কারীগর বনে জান বাবু। প্রথম দিকে দিনে তৈরি করত ৫০ হাজার। দিনে দিনে দক্ষতা বাড়ে। বর্সশেষ বাবু দিনে ৪ লাখ টাকা তৈরির করে।
বিক্রয় প্রতিনিধি ও সিন্ডিকেট: জালটাকার কারিগর হিসেবে ব্যবসায়ীদের কাছে বাবু গ্রহণ যোগ্যতা বেড়ে যায়। বাড়তে থাকে ক্রেতার সংখ্যা। এক পর্যায়ে বাবুকে বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে হয়। প্রথমে দুজন ২জন প্রতিনিধি দিয়ে এ ব্যবসা চালনো হয়। সর্বশেষ শুধুরাজধানীর জন্য বাবু ২৫ জন বিক্রিয় প্রতিনিধি নিয়োগ দেন। এর মধ্যে দুজন নারী সদস্যও ছিল। এছাড়াও চট্্রগ্রাম, খুলনা, ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের এলাকার জালটাকা ব্যবসায়ীরা পাইকারী ব্যবসা করতো বাবু। এক লাখ টাকা তৈরিতে বাবুর খরছ হত ২ হাজার টাকা। এক লাখ টাকার জালনোট বিক্রি করা হত ২০ হাজার টাকায়।
ক্রেতা যখন ডিবি পুলিশ: লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। এ উক্তিটি শোনালেন জালটাকা ব্যবসায়ী বাবু। তিনি জানান, দেড় বছর বেশ ভালোভাবেই চলছিল। ঈদের সামনে জালটাকার চাহিদা বেড়ে যায়। নানা রকম ক্রেতা আসতে শুরু করে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের এক ব্যক্তি ৫০ লাক টাকার ওর্ডার দেয়। কিছু টাকা অগ্রিম পরিশোদ করে। ঢাকার ক্রেতাদের সংখ্যা বেড়ে যায়। যাচাই-বাছাই ছাড়াই সবার কাছে টাকা দেয়া হয়। এ সুযোগে ডিবি পুলিশের এক ব্যক্তি জাল টাকা প্রস্তুতের কারখানার সন্ধান পেয়ে যায়। শনিবার বিকোলে গিয়ে তার কারখানায় রেট দেয়া হয়। আটক করা হয় তাকেসহ ৭ সদস্যকে। বাইরে আছে আরো ১৮ জন।
২|
১০ ই আগস্ট, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৭
মিজভী বাপ্পা বলেছেন:
৩|
১০ ই আগস্ট, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১৯
তানিয়া হাসান খান বলেছেন: কত মারুষের কপাল পুড়াইছে কে জানে?
৪|
১০ ই আগস্ট, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২১
রফিক মাহমুদ বলেছেন:
আমি কয়েকটা বড় দোকান থেকেই জাল টাকা পেয়েছি বিভিন্ন সময়ে। জলছাপ সাধারনত ভালো বা পূর্ণ হয় না, এবং ভেতরের সূতোটাও ডিফেক্টিভ হয়।
অল্প আলোর স্থানে বেশী দামী নোট সহজে নেবেন না। অনেক নোট একসাথে পেলে সবগুলোই আলোতে উঠিয়ে চেক করে নেবেন। সময় লাগলেও অধৈর্্য হবেন না।
৫|
১০ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ৮:২৪
ডিগবাজি বলেছেন: জিবনে একবার ই ধরা খেয়েছি এক লুঙ্গি বিক্রেতাকে সাহায্য করতে গিয়ে। গত ঈদের আগে ১০০০ টাকা ভাঙ্গিয়ে দিয়েছিলাম সন্ধ্যা বেলায়। তাতেই ধরা।/
৬|
১০ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ৮:২৭
ৈসকত ইসলাম বলেছেন: বাবুর আজ এই পরিনতির জন্য দায়ি আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ,,,, রাষ্ট্র যখন নাগরিকের মৌলিক অধিকার গুলো পুরনে ব্যার্থ হয় তখনই অপরাধ সংগঠিত হয় ,,,,
৭|
১০ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ৮:৫০
এম আবু জাফর বলেছেন: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দাশগুপ্ত অসীম কুমার বলেন, “জাল নোট নিয়ে যে ধরনের প্রচারণা হচ্ছে এবং যে ধরনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অর্থনীতিতে জাল নোটের পরিমাণ এতটা আশঙ্কা করার মতো নয়।”
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রতি জাল নোটের পরিমাণ ৮৪ সেন্ট, ইউরোপে ৮ সেন্ট এবং যুক্তরাজ্যে ১৪ সেন্ট বলে তিনি জানান।বাংলাদেশে জনপ্রতি জাল টাকার পরিমাণ ১০-১৫ পয়সা,
আমরা আর কোথায় ভরসা করব
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই আগস্ট, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৩
ইভা লুসি সেন বলেছেন:
পুরা সিনামার কাহিনী