| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কবি কাজী
জন্ম হতে এখনো আমি অতৃপ্ত, কবে আমি তৃপ্ত হব- সন্দিহান আজও। তবে আশা ছাড়িনি। পড়ালেখা করছি, চালিয়ে যেতে চাই ভালোমতোই। আল্লাহর উপর সম্পূর্ণরূপে আস্থাশীল। গিটার বাজাতে ভালোবাসি। Still finding satisfaction. When I"ll get it, I don't know. But, I don't loose hope. Besides, I wanna do study well. Hope Allah will help me.
আনাফ সাহেবকে খুবই চিন্তিত দেখাচ্ছে।সারা রাত জেগে থাকার ফলস্বরূপ চোখগুলো মাদকসাক্তদের মত রক্তবর্ন হয়ে আছে। আনাফ সাহেবের স্ত্রী রুবা গত কয়েক মাস যাবত অসুস্থ।এই যান্ত্রিক ঢাকা শহরে আনাফ সাহেবের কোন আত্নীয় স্বজন নেই।উনার বাবা মা সবাই গ্রামের বাড়িতে থাকেন। আনাফ সাহেব একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরী করতেন।রুবা অসুস্হ হওয়ার দু মাস পর তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন আর চাকরী করবেন না। রুবার সাথে আনাফ সাহেবের বিয়ে হল সাড়ে তিন বছর। রুবা হল আনাফ সাহেবের বস এর মেয়ে। অত্যন্ত বিনয়ি,ভদ্র,সত্ একজন লোক আনাফ সাহেব তাকে তার বস খুব পছন্দ করতেন। তাই বস তার পছন্দের পাত্রের হাতে তাঁর কাননের একমাত্র ফুল রুবাকে তুলে দিয়েছে।আনাফ সাহেব খুব ক্লান্ত তিনি গোসল করে এসে বারান্দায় বসে আছেন।তাদের আগের দিনগুলো অনেক সুখের ছিল।রুবা তাকে মাঝে মাঝে উদ্ভট কিছু করে ভড়কে দিত।রুবা প্রায়ই বৃষ্টির সময় কদম ফুল খোপায় দিয়ে বসে থাকত তার ভালবাসার মানুষটির জন্য। রুবার ক্যান্সার ধরা পড়েছে এটা রুবাকে জানানো হয়নি।জীবন অনেক নিষ্ঠুর প্রকৃতির তাই রুবার মত নিষ্পাপ ফুলকে বেছে নিয়েছে। আনাফ সাহেব রুবার কথা ভাবছেন বসে বসে। হঠাত্ রুবা পেছন থেকে এসে আনাফ সাহেবকে স্পর্শ করল। এই স্পর্শের সাথে তিনি খুব গভীরভাবে পরিচিত।
-তুমি এখানে বসে কি ভাবছ? রাঁতে একটুও ঘুমাওনি চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। কটা সিগারেট খেয়েছ বল তো। তুমি কথার উত্তর দিচ্ছ না কেন?
আনাফ সাহেব এক দৃষ্টিতে রুবার দিকে তাকিয়ে আছেন। রুবা চলে গেলে এই সহজ সরল ভালবাসা তাকে সারাটা জীবন কাঁদাবে।
আনাফ সাহেব রুবাকে বললেন - তুমি আমার পাশে একটু বস। আমি তোমার কোলে একটু মাথাটা রাখি আর তুমি আমার চুলে বিলি কেটে দাও।
রুবার স্পর্শে আনাফ সাহেব এক অদ্ভূত শুদ্ধতা খুঁজে পায়।রুবার একটা দুটো চুল ঝরে আনাফ সাহেবের মুখে এসে পড়ল। রুবার একটা দুটো চুল এভাবে ঝরতে ঝরতে এক সময় রুবার খোপায় আর কখনও কদম ফুল শোভা পাবে না।
©somewhere in net ltd.