নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পুষে রাখে যেমন ঝিনুক খোলসের আবরনে মুক্তোর সুখ, তেমনি তোমার নিবিড় ছোঁয়া ভিতরের এই বন্দরে

কথার ফুলঝুরি!

ও আমার চাঁদের আলো, আজ ফাগুনের সন্ধ্যাকালে ধরা দিয়েছ যে আমার পাতায় পাতায় ডালে ডালে॥

কথার ফুলঝুরি! › বিস্তারিত পোস্টঃ

আধুনিকতার জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেওয়া নাকি নিজস্ব স্বকীয়তা কে প্রাধান্য দেওয়া !

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৭



চারিদিকে জোয়ার বয়ে যাচ্ছে, আধুনিকতার জোয়ার। আর সে জোয়ারে আমরা ও গা ভাসাচ্ছি। আর ভাসাবোই বা না কেন? নতুন যে কোন কিছুর প্রতিই আগ্রহ থাকে সবার। অনেক সময় সমাজের অধিকাংশ মানুষ যখন স্রোতের অনুকূলে চলে তখন স্রোতের প্রতিকুলে চলা গুটি কয়েক মানুষও বাধ্য হয় তাদের দেখাদেখি স্রোতের অনুকূলে চলতে। বাধ্য হয় আধুনিকতার জোয়ারে গা ভাসাতে। তা না হলে যে সেই স্রোতের অনুকূলে চলা মানুষগুলো তাদের আনস্মার্ট বলবে ।

আর এমন অবস্থায় আপনিও আপনার আধুনিক পরিচিত জনের কাছে থেকে যেন ক্ষেত, আন স্মার্ট এসব শুনতে না হয় তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও নিজের স্বকীয়তা কে বিসর্জন দিয়ে আধুনিক হতে বাধ্য হন।

হয়ত আধুনিকতার নামে এসব ঢং ফং আপনার কাছে ভালো লাগেনা, আপনার নিজস্ব পছন্দ অপছন্দ সম্পূর্ণই আলাদা তারপরেও আপনি আপনার নিজস্ব স্বকীয়তা কে, ভালো লাগা কে বিসর্জন দেন ভয়ে কিংবা সংকোচে।

**আগে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে কাঁচা ফুলের গহনা দিয়ে বিয়ের কনে কে সাজানো হতো। কিন্তু কয়েক বছর আগে থেকে শুকনো ও কৃত্রিম ফুল, জরি ও পুতি দিয়ে বানানো গহনার প্রচলন শুরু হল। কিন্তু আপনার কাছে এসব গহনার চাইতে কাঁচা ফুলের গহনা ভালো লাগে। নিজের গায়ে হলুদে আপনি আপনার পছন্দের গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুলের গহনা দিয়ে সাজাতে চান নিজেকে। আপনি কি করবেন তখন ? আপনার পছন্দ কে প্রাধান্য দিবেন নাকি আধুনিকতার জোয়ারে গা ভাসিয়ে ওইসব গহনা পরবেন ?

এখানে আরেকটা মজার কথা বলতে ইচ্ছে করছে। হঠাৎ করেই এক দেড় বছর আগে ফেসবুকে কারও গায়ে হলুদের ছবিতে ক্যাপশন দেখি অমুকের "Body Turmeric”=p~ প্রথমে বিষয়টি বুঝতে আমার কিছুটা সময় লেগেছিল। Body কিংবা Turmeric মানে কি তা আমি জানি তবে গায়ে হলুদের মত বিয়ের খুব সুন্দর একটি অনুষ্ঠান টিকে অতিরিক্ত মডার্ন হতে গিয়ে কেউ তাঁকে গায়ে হলুদের জায়গায় ‘Body Turmeric” বানাতে পারে তা আমার কল্পনাতেও ছিলনা । এরপর আরও কিছু গাধা/গাধী কে দেখেছি এই কাজ টি করতে। ভালোই বিনোদন পেয়েছি এতে আমি আর সাথে সাথে চিনে নিয়েছি নিজের পরিচিত মহলের এই সকল গাধা আর গাধী দের :P


** আপনার বাবা মা পরিবার গ্রামে থাকেন। কৃষিকাজ করেন। নিজেদের ক্ষেত খামারে কাজ করেন গ্রামে। আপনি ঢাকায় নামী দামী কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন। আপনি চাইলেই ঢাকার যে কোন একটি বড় কোম্পানি তে চাকরী করতে পারেন । কিন্তু তা না করে আপনি গ্রামে ফিরে গিয়ে বাবা দাদার কৃষিকাজে হাত দিতে চান। শহরের ইট কাঠের বন্দী জীবন আপনার ভালো লাগেনা। আপনার গ্রাম ভালো লাগে। মাটি ভালো লাগে। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করে গ্রামে গিয়ে থাকবেন, কৃষিকাজ করবেন, লোকে কি বলবে এই ভয়ে আপনি নিজের চাওয়া কে বিসর্জন দিবেন ?

** বাবা দিবস, মা দিবস, ভালোবাসা দিবস, এসব দিবসে আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন পোস্ট দেন না। বিশেষ মানুষটি কে নিয়ে বাইরে খেতে যান না। কিন্তু তাই বলে কি আপনি আপনার বাবা, মা কিংবা সেই বিশেষ মানুষ টি কে ভালোবাসেন না ? সবাই যেখানে বাবা দিবসে, মা দিবসে, ভালোবাসা দিবসে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে ফেসবুক ভরে ফেলছে তখন আপনি নিশ্চুপ। আপনি সেখানে ব্যতিক্রম। কিন্তু তাই বলে কি আপনি আধুনিক না ?

** গল্পের বই পড়তে অনেকেই ভালোবাসে । আধুনিক সমাজ এখন আবার গল্পের বই এর পি ডি এফ ভার্শন পড়ে, ল্যাপটপ কিংবা মোবাইল এ। আগে আমরা এর ওর কাছে থেকে গল্পের বই ধার নিতাম আর এখন গান কিংবা সিনেমার মত অনলাইন এ খুজি গল্পের বই এর আধুনিক রূপ।
কিন্তু আপনার গল্পের বই এর ওসব পি ডি এফ ভার্শন পড়তে ভালো লাগেনা। আপনি এখন ও বই এর দোকান থেকে মলাট বাধানো বই কিনেন। এর ওর কাছে থেকে আপনি বই এর পি ডি এফ ভার্শন না খুজে বই ধার নেন কিংবা দোকানে গিয়ে খুজে খুজে নিজের পছন্দের বই টি কিনে আনেন । বই পড়ার মজা তো বই পড়ার মাধ্যমেই, স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ এ পড়ার মাধ্যমে না ।

**আপনি ইংরেজি গান বা সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন না। আপনার কাছে রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, নিজের দেশের বাংলা গান ভালো লাগে। আপনার বন্ধুদের আড্ডায় সবাই যখন নতুন আসা ইংরেজি গান বা সিনেমা নিয়ে আলোচনায় মত্ত আপনি তখন বোকার মত চেয়ে থাকেন। তাই বলে কি আপনি আন স্মার্ট ? এখন আপনি কি আপনার ভালো না লাগা সত্ত্বেও ইংরেজি গান বা সিনেমা দেখা শুরু করবেন বন্ধুদের মাঝে দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ?

** ইদানিং টিন এইজ ছোট বাচ্চা মেয়েগুলো কে দেখি অনেক সুন্দর করে মেকআপ করে। বর্তমান সময়ে ইউটিউব দেখে দেখে ভালোই শেখা যায় মেকআপের বিভিন্ন কৌশল । আধুনিকতার যুগে এসব আটা ময়দা না মাখলে তো আবার সবাই আনস্মার্ট বলবে। কিন্তু আপনার কাছে ওসব আটা ময়দা মাখতে ভালো লাগেনা। সাজ মানে আপনার কাছে চোখে কাজল, ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক। তাই বলে কি আপনি স্মার্ট না? আধুনিক না? আমি তো বলব আপনি সাহসী। আপনি সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত আপনার নিজস্ব রূপ কে নিয়ে ঘুরে বেরান। আটা ময়দা মেখে মেকআপ করে নিজের তিল চেহারা কে তাল করে না :P

বিজ্ঞান, উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিকতা আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। যত দিন যাবে আমরা আরও উন্নত হব, আধুনিক হব। তবে কিছু আধুনিকতা আমাদের সমাজের সবার জন্য একইভাবে গ্রহণযোগ্য হয়না। কিন্তু ব্যক্তি থাকে যাদের পছন্দ, অপছন্দ, ভালো লাগা এসকল আধুনিকতার অনেক উর্ধে ।

আপনি যদি তাদের মধ্যে একজন হয়ে থাকেন তাহলে আমি বলব, লোকে কি বলবে এই ভেবে সংকোচে কিংবা ভয়ে নিজেকে বদলে ফেলে আধুনিকতা কে গ্রহন না করে আপনার নিজস্ব ভালো লাগা, নিজস্ব স্বকীয়তা কে প্রাধান্য দিন। আর আধুনিকতার সেই অংশটুকুই গ্রহন করুন যেটি আপনার ভালো লাগে কিংবা আপনার সাথে মানানসই। সবাই স্রোতের জোয়ারে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে বলে নিজের ভালো না লাগা সত্ত্বেও আপনাকেও তাই করতে হবে এমন কিছু নয়। আপনার নিজস্ব যে বৈশিষ্ট্য, যে স্বকীয়তা আছে সেটিকে ফুটিয়ে তুলুন আগে সুন্দরভাবে, দেখবেন আপনি হয়ে উঠবেন অন্য সবার থেকে অতুলনীয় ও ইউনিক আর অনেকের মধ্যে একজন। সবচেয়ে বড় কথা আপনি সাহসী, আপনি চালেঞ্জিং । সমাজের সবাই যখন আধুনিকতার জোয়ারে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে তখন এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বিপরীতে নিজস্ব ভালো লাগা, নিজস্ব স্বকীয়তা কে ধরে রাখা চালেঞ্জিংই তো বটে !






মন্তব্য ৩০ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (৩০) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩২

রাকু হাসান বলেছেন: ভাল পোস্ট

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: লেখা পড়া ও মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ, রাকু হাসান ভাইয়া।

২| ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনি গায়ে হলুদ মলুদ ইত্যাদিকে "আধুনিকতা" মাঝে এনেছেন; আসলে, এগুলো মানুষ ও সমাজের বিবর্তনের অংশ, মানুষ বদলাচ্ছে।

আধুনিকতা হলো পুরাতন পদ্ধতিকে অনুসরণ না করে, নতুন উদ্ভাবিত জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ।

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫৮

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: "আপনি গায়ে হলুদ মলুদ ইত্যাদিকে "আধুনিকতা" মাঝে এনেছেন; আসলে, এগুলো মানুষ ও সমাজের বিবর্তনের অংশ, মানুষ বদলাচ্ছে" হা , আমরা বদলাচ্ছি এবং যত দিন যাবে আরও বদলাবো, আর এটাই তো আধুনিকতা। তবে আমি গায়ে হলুদ না শুধুমাত্র গায়ে হলুদের কনের সাজের আধুনিকতা কে এনেছি । আর সবকিছুই তো আমাদের সমাজের অংশ ।

"আধুনিকতা হলো পুরাতন পদ্ধতিকে অনুসরণ না করে, নতুন উদ্ভাবিত জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ" আধুনিকতার চমৎকার একটি সংজ্ঞা দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় চাঁদগাজী সাহেব।

তবে আমি মনে করি আধুনিকতার সাথে ঠিক পদ্ধতি শব্দ টি যায়না। পুরাতন পদ্ধতি অনুসরন না করে যদি আমরা নতুন পদ্ধতি অনুসরন করি তাকে আমরা উন্নত বলতে পারি। যেমন আগে গরু দিয়ে মাঠে হালচাষ করা হতো আর এখন ট্রাক্টর এর সাথে আরও অনেক কিছু চলে এসেছে। উন্নত হয়েছে ফসল ফলানোর পদ্ধতি। কিন্তু মানুষের মন মানসিকতাও তো পরিবর্তন হতে পারে, আধুনিক হতে পারে কিন্তু সেখানে তো পদ্ধতির কোন ব্যাপার নেই।

৩| ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০৮

সিগন্যাস বলেছেন: প্রিয় ফুলঝুরি,
আমি মনে করি পিডিএফ পড়াতে ক্ষতির কিছু নেই।বরং ক্ষেত্রবিশেষে এটা বেশ উপকারী।দীর্ঘক্ষণ জ্যামে বসে আগে মশা মারতাম।এখন পিডিএফ পড়ি।সময় খুব ভালোভাবে কেটে যায়

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৪৮

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: হা ভাইয়া, ক্ষতি নেই বরং বই এর পি ডি এফ ভার্শন ছেলেদের জন্য উপকারী কারন মেয়েরা ব্যাগ ক্যারি করে বিধায় একটা বই ভেতরে রাখতে পারে কিন্তু ছেলেরা তা পারেনা :P কিন্তু মোবাইল এ যেখানে সেখানে মন চাইলে বই পড়তে পারে ।

তবে আমি বলেছি ভালো লাগা না লাগার কথা যেমন আমার কিন্তু এখন ও সেই মলাট বাধানো বই পড়তে ভালো লাগে । আহারে বিকেল বেলা তে বারান্দায় বসে বই পড়তে পড়তে হারিয়ে যাওয়ার দিনগুলো :(

৪| ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:০৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আপু / বোন,

ভালো পোষ্ট। সহমত।

শুভ কামনা রইল।

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৫০

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: আমার লেখা পড়া ও মন্তব্য করে আপনার মূল্যবান মতামত জানানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ পদাতিক চৌধুরি ভাইয়া।

আপনি ও আমার সাথে সহমত জেনে ভালো লাগলো ।

৫| ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৫৯

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: স্বকীয়তাকে প্রাধ্যান্য দেয়ার সংষ্কৃতি ডেভেলপ করতে হবে।

হুজুগে মিডিয়ার দোষে খানিকটা খানিকটা সোশাল মিডিয়ার স্রোতে বেশীরভাগই বদলাতে গিয়ে
ময়ূর না হয়ে কাকতাড়ুয়া হয়ে আছে না বুঝেই!

জাতিগত ব্রান্ডিং অন্ত:মূখি- বহি:মূখি দুটোতেই আমরা বহু পিছিয়ে!

এভাবে ভাবনার সিড়ি বেয়ে পড়ে উঠুক- আত্ম পরিচয়ে শ্লাঘা বোধের চর্চায় আত্মমর্যাদার মজবুত ভিত্তি ।

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৫৫

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: "স্বকীয়তাকে প্রাধ্যান্য দেয়ার সংষ্কৃতি ডেভেলপ করতে হবে" হা ভাইয়া, আমরা ডে বাই ডে আমাদের সংস্কৃতি ভুলতে বসেছি। তা না হলে ভাবেন, গায়ে হলুদ কে কি না বলে বডি টারমারিক B:-)

"হুজুগে মিডিয়ার দোষে খানিকটা খানিকটা সোশাল মিডিয়ার স্রোতে বেশীরভাগই বদলাতে গিয়ে
ময়ূর না হয়ে কাকতাড়ুয়া হয়ে আছে না বুঝেই" কথা সত্যি । ইদানিং এসব সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে যে কোন কিছু ছড়িয়ে যেতে একটু ও সময় লাগেনা আর আমরা ও অনেকে না বুঝেই সেগুলো গ্রহন করি আর হয়ে যাই কাকতাড়ুয়া ।

৬| ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৫৯

শামচুল হক বলেছেন: সহমত

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৫৭

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: আপনিও আমার সাথে সহমত জেনে ভালো লাগলো শামচুল হক ভাইয়া।

মন্তব্য করে আপনার মতামত জানানোর জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় ভাইয়া।

৭| ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:০৭

ঢাবিয়ান বলেছেন: বুঝতে পারলাম আপনি আমাদের জমানার মানুষ।

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:০২

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: "বুঝতে পারলাম আপনি আমাদের জমানার মানুষ" হাহা! :P হা ভাইয়া, কথা ৯০% সত্যি । আমি ২০১৮ তে বসবাস করে ও অনেক পুরনো জমানার মানুষ :P তবে পুরোপুরি না, কিছু ক্ষেত্রে আবার আমি পুরো উল্টো :P আমার মলাট বাধা গল্পের বই ভালো লাগে, ফুলের গহনা ভালো লাগে, আর আমার কাছে সাঁজ মানে চোখে কাজল আর হালকা লিপস্টিক :P গ্রাম ভালো লাগে কিন্তু বসবাসের জন্য শহর পছন্দ, বাংলা গান, পুরনো গান ভালো লাগে আবার ইংলিশ গান ও খারাপ লাগেনা । :P

৮| ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:০৭

অচেনা হৃদি বলেছেন: আপু, আসলে আধুনিকতা ব্যপারটি আপেক্ষিক । অনেকে আধুনিকতার ফলে জন্ম নেয়া নেতিবাচক দিকগুলোকে হাইলাইট করে আধুনিকতাকে অস্বীকার করতে চান । কিন্তু আজকের এই যুগে আমি আপনি কেউই আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে দূরে থাকতে পারিনি । জানেন ? মাত্র কিছুদিন আগেও সবাই ব্লগার মানেই অসভ্য মনে করত । কিন্তু বাস্তবতা দেখুন । আমি আপনি আমরা ব্লগার, আমরা কি অসভ্য হয়ে গেছি ? মোটেই নয়, কিছু কিছু ব্লগার প্রথম দিকে ব্লগকে নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করার ফলে ব্লগারদের প্রতি এবং আধুনিক ব্লগিং এর প্রতি সবাই নেতিবাচক চোখে দেখত ।
সাজগোজের ব্যপারেও সেইম কথা । একটু মেক আপ যদি কাউকে বেশি ফুটিয়ে তোলে তবে তার দেখাদেখি সবাই মেক আপের কাছে ঝুকবেই । তবে যারা তাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে চায় তাঁরা আনস্মার্ট- এই মত যারা পোষণ করে তারা তো আসলে আধুনিক নয়, তারা বিকৃত ।

০৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:০৩

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: "আপু, আসলে আধুনিকতা ব্যপারটি আপেক্ষিক । অনেকে আধুনিকতার ফলে জন্ম নেয়া নেতিবাচক দিকগুলোকে হাইলাইট করে আধুনিকতাকে অস্বীকার করতে চান । কিন্তু আজকের এই যুগে আমি আপনি কেউই আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে দূরে থাকতে পারিনি"

হৃদি আপু, আপনি যৌক্তিক কথা বলেছেন। তবে, আমি কিন্তু আমার লেখায় এটা মিন করিনি । আমরা অবশ্যই আধুনিকতা কে গ্রহন করবো তবে আমাদের ভালো না লাগলেও যেন শুধুমাত্র লোকে কি বলবে এই ভেবে কোন কিছু গ্রহন না করি । যেটা আমাদের বা আমার সাথে মানানসই কিংবা আমার কাছে ভালো লাগে শুধুমাত্র যেন সেটিকেই গ্রহন করি আদাড়ওয়াইজ নট।


"জানেন ? মাত্র কিছুদিন আগেও সবাই ব্লগার মানেই অসভ্য মনে করত । কিন্তু বাস্তবতা দেখুন । আমি আপনি আমরা ব্লগার, আমরা কি অসভ্য হয়ে গেছি ? মোটেই নয়, কিছু কিছু ব্লগার প্রথম দিকে ব্লগকে নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করার ফলে ব্লগারদের প্রতি এবং আধুনিক ব্লগিং এর প্রতি সবাই নেতিবাচক চোখে দেখত" শুধুমাত্র ব্লগ না, সবকিছুর ই ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুটি দিক থাকে। নির্ভর করে আমি বা আপনি সেটি কে কিভাবে ব্যাবহার করছি। অনেকের কাছে ফেসবুক অনেক ইম্পরট্যান্ট কারন তাদের সেখানে অনেকের সাথে যোগাযোগ এ থাকতে হয় তারা সেটিকে ভালোভাবে ব্যাবহার করছে বলে সেটি ভালো আবার অনেকে ফেসবুক এর মাধ্যমে অনেক ধরনের খারাপ কাজকর্ম, কিংবা অযথা সময় নষ্ট করছে বিধায় তাদের কারনে ফেসবুক কে সবাই খারাপ বলে। ব্লগ ও সেম। ব্লগ আমার ভালো লাগে তাই আমি ব্লগিং করি, আমার ভালো লাগে বিধায় আমি ব্লগ কে গ্রহন করেছি কিন্তু এমন না যে নিজেকে স্মার্ট দেখানো কিংবা মানুষ কি বলবে এই ভেবে শো অফ করার জন্য এসেছি। এরকম যে কোন কিছুই ভালো লাগলেই শুধুমাত্র গ্রহন করা উচিত।

"সাজগোজের ব্যপারেও সেইম কথা । একটু মেক আপ যদি কাউকে বেশি ফুটিয়ে তোলে তবে তার দেখাদেখি সবাই মেক আপের কাছে ঝুকবেই । তবে যারা তাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে চায় তাঁরা আনস্মার্ট- এই মত যারা পোষণ করে তারা তো আসলে আধুনিক নয়, তারা বিকৃত" মেকআপ এর অবশ্যই প্রয়োজন আছে তবে মাত্রাতিরিক্ত নয়। প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব কিছু সৌন্দর্য থাকে, কাউকে মেকআপ করলে অনেক ভালো লাগে আবার কাউকে লাগেনা, যাকে যেমন মানায় তার সেরকম ই সাঁজা উচিত, অন্যকে দেখে নয়। কারও যদি সিম্পল থাকতে ভালো লাগে তার অবশ্যই উচিত না অন্যকে খুব গরজিয়াস দেখে সেটি অনুসরন করা।

৯| ০৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১:৪২

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: প্রিয় আপু,


সংস্কৃতি বা কালচার হলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের মধ্যে দীর্ঘ দিন থেকে গড়ে উঠা এক প্রকার অভ্যাস; যা মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক বিচরণের ক্ষেত্রে বেশ প্রভাব বিস্তার করে। বিশদ অর্থে সংস্কৃতি হলো মানুষের আচার-আচরণ, রীতিনীতি, বিশ্বাস, নীতিবোধ, চিরায়ত প্রথা, সমষ্টিগত প্রভাব ও সামাজিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি। মানুষের ব্যক্তি জীবনে সংস্কৃতির প্রভাব অপরিসীম। অন্যভাবে বলতে গেলে মানুষ তার অভ্যাস বা কালচার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত হয় প্রতিনিয়ত। একটা সময় ছিল যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা আজকের মতো এত সহজ ছিল না, ইন্টারনেট ছিল না। তখন দূরের সংস্কৃতি বা বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রভাব আমাদের সমাজে কম ছিল।

এই ভারত উপমহাদেশেও দূরত্বের কারণে দক্ষিণ ভারতের চেন্নাই, ব্যাঙ্গেলোর, কেরালা ও হায়দ্রাবাদের সাথে বাঙালি সংস্কৃতির অনেক অমিল ছিল। এছাড়া পশ্চিম ভারতের মুম্বাই ও গুজরাট; উত্তর ভারতের দিল্লি, হারিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, উত্তর খন্ড, রাজস্থান এবং পাঞ্জাবের সাথেও বাঙালি সংস্কৃতির অনেক পার্থক্য ছিল। ভারতের ঊড়িষ্যা, ঝাড়খন্ড, ছত্রিশগড়, বিহার, মেঘালয়, মিজোরাম ও মনিপুর আমাদের প্রতিবেশী হওয়ায় এসব এলাকায় বাঙালি সংস্কৃতির প্রভাব আজও স্পষ্ট। গৌড়, রাঢ়, সমতট, বরেন্দ্রী, হরিকেল, বঙ্গ ইত্যাদি রাজ্য নিয়ে বাঙলা গঠিত হয়েছিল।

বিশ্বায়নের এ যুগে আইন করে বা বাধ্য করে কাউকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এজন্য ইদানিং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি আমাদের সমাজকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য কিছু ভাল কালচারের সাথে বেশ কিছু অপসংস্কৃতিও আমাদের সমাজটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের সমাজে এমন কিছু কৃষ্টি-কালচার যুক্ত হয়েছে যা আমাদের সংস্কৃতির সাথে মানানসই নয়। বিশেষ করে তরুণ ও যুব সমাজ এর ক্ষতিকারক বিষক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তবে বিজাতীয়/বিদেশি যে সংস্কৃতি আমাদের সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা অবশ্যই গ্রহণ করা যায়। আর যা আমাদের সমাজটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে তা পরিত্যাগ করতে হবে। এগুলো অপসংস্কৃতি।

সুস্থ ধারার যে কোন সাংস্কৃতিক চর্চাকে আমাদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। এটি বিদেশি বা স্বদেশী যাই হোক না কেন। আমরা যে নীতি ও আদর্শ বিশ্বাস করি তা আমাদের নিজস্ব ব্যাপার, এতে সমাজের কিছু যায় আসে না। সমস্যা দেখা দেয় তখনই যখন আমরা নিজের ইচ্ছাকে জোর করে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করি। এটা অন্যায়। এতে সমাজে বিভাজন দেখা দেয়। হিংসা-বিদ্বেষ বেড়ে যায় ফলে সমাজে শান্তি বিনষ্ট হয়। একুশ শতকের বিশ্বায়নের এ যুগে জোর করে নিজের পছন্দ-অপছন্দ অন্যের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। মানুষ তা শুনতে বাধ্য নয়।।

আপনার আজকের পোস্টের কমেন্টটি একটি ঘুরিয়ে দিলাম। আপনি যে বিষয়গুলো এখানে নিয়ে এসেছেন এ বিষয়গুলো আমাকেও ভাবায়। বিশ্বায়নের নামে আমরা যা করছি; ঠিক তো। :( :( !!! আপনার সবগুলো পয়েন্টের সাথে আমি একমত। তবে Body Turmaric যিনি আবিষ্কার করেছেন এই মহান গবেষকের জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়ার দাবি করছি। X( X(

শুভ রাত্রি ।

০৬ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:২৭

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: খুব সুন্দর মন্তব্য এর জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় কাওসার চৌধুরী ভাই, ওরফে চৌধুরী সাহেব। :P

"আপনি যে বিষয়গুলো এখানে নিয়ে এসেছেন এ বিষয়গুলো আমাকেও ভাবায়। বিশ্বায়নের নামে আমরা যা করছি; ঠিক তো" অনেক সময় কিছু বিষয় ঠিক থাকেনা তবে আমি বলব যা একজন মানুষের কাছে ভালো লাগবে, তার সাথে যে বিষয়টি মানানসই হবে শুধুমাত্র সেটিকেই যেন গ্রহন করা হয়।

"আপনার সবগুলো পয়েন্টের সাথে আমি একমত" আমার প্রিয় ভাইয়া ও আমার সাথে সহমত জেনে খুশী হলাম ।

"তবে Body Turmeric যিনি আবিষ্কার করেছেন এই মহান গবেষকের জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়ার দাবি করছি" হাহা! একদম ঠিক বলেছেন ভাইয়া :P আমার উচিত ছিল সেইসব মহান গবেষকদের পিক নিয়ে রাখা তাহলে নোবেল দেওয়ার জন্য খুজে পেতে সহজ হত =p~ কি অদ্ভুত, গায়ে হলুদ কে বলে Body Turmeric |-)

১০| ০৬ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: জব্বর পোষ্ট।
অনেক গুলো বিষয় তুলে ধরেছেন।
হয়তো এ বিষয় গুলো আপনার ভালো লাগে না। কিন্তু অনেকের ভালো লাগে। আধুনিক হতে হলে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। তা না হলে পিছিয়ে পড়ার ভয় থাকে।

তবে আমি আপনার সাথে পুরোপুরি একমত।

০৬ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:৪২

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: পোস্ট ভালো লেগেছে জেনে খুশী হলাম প্রিয় রাজীব নুর ভাইয়া :D


"হয়তো এ বিষয় গুলো আপনার ভালো লাগে না" হা কথা অনেকটা সত্যি । তবে পুরোপুরি না, যেমন, আমার মলাট বাধা গল্পের বই ভালো লাগে, ফুলের গহনা ভালো লাগে, আর আমার কাছে সাঁজ মানে চোখে কাজল আর হালকা লিপস্টিক :P গ্রাম ভালো লাগে কিন্তু বসবাসের জন্য শহর পছন্দ, বাংলা গান, পুরনো গান ভালো লাগে আবার ইংলিশ গান ও খারাপ লাগেনা । :P

"আধুনিক হতে হলে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। তা না হলে পিছিয়ে পড়ার ভয় থাকে" হা ভাইয়া, পিছিয়ে পরার ভয় তো আছেই। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আধুনিক হতেই হবে । তারপরেও কিছু বিষয় যদি নিতান্তই আমার ভালো না লাগে তাহলে শুধুমাত্র পিছিয়ে পরার ভয়ে সেটি কে গ্রহন না করাই ভালো, কারন এমন করলে অনেক সময় মানুষের কাছে হাসির পাত্র/ পাত্রী হওয়ার ভয় থাকে।

"তবে আমি আপনার সাথে পুরোপুরি একমত" ভাইয়া আমার সাথে সহমত জেনে ভালো লাগলো।

১১| ০৬ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:৩৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:


"আমি বলব যা একজন মানুষের কাছে ভালো লাগবে, তার সাথে যে বিষয়টি মানানসই হবে শুধুমাত্র সেটিকেই যেন গ্রহন করা হয়।"

আপু, যথার্থই বলেছেন। আপনার লেখায় "বেবি শাওয়ার" প্রসঙ্গটি যুক্ত করলে ভাল হতো। পাশাপাশি বাংলিশ উচ্চারণ।

০৭ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:৪১

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: 'আপনার লেখায় "বেবি শাওয়ার" প্রসঙ্গটি যুক্ত করলে ভাল হতো। পাশাপাশি বাংলিশ উচ্চারণ" হাহাহা =p~ হুম ভাইয়া, এই দুটোও ইন্টারেস্টিং, তবে বেবি শাওয়ার বিষয় টা আগে থেকেই আমাদের সমাজে আছে, "শাতোশা" নামে, শুধু অতটা ঘটা করে কিছু করা হতোনা আগে এখন বেবি শাওয়ার এর নামে যেমন করে করা হয় । আর বাংলিশ উচ্চারণ এর কথা আর না হয় না ই বললাম :P এই বিষয়ে কিছু মানুষের ঢং দেখলে মাথা ধরে যায় B:-/

১২| ০৭ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:২৮

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন: ভালো পোষ্ট । ;)

০৭ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:৫৯

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: 'ভালো পোষ্ট" ভালো লাগলো জেনে :-B

ধন্যবাদ শাহরিয়ার কবীর ভাই ।

১৩| ০৮ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৪৭

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: এক্কেরে মনের কতা কয়েচেন বোইন! হাহা। কথা আপু, পোস্টটি পড়ে আসলেই ভালো লাগল। সবই মনের কথা। পোস্টে লাইক!

বডি টার্মারিকের ছবিটি আমিও দেখেছিলাম, এক বন্ধু শেয়ার করেছিল। হাসতে হাসতে শেষ হয়ে গিয়েছিলাম। আসলেই মানুষজন আধুনিকতার এমন নেশায় পড়েছে! নিজের মন যা চায় তা নয়, অন্যরা কি করলে মান দেবে সেটার দিকে ঝুঁকছে। সুখী কেউই হচ্ছেনা, কিন্তু সুখের অভিনয় করে অন্যের চোখ ঈর্ষা দেখে শান্তি অনুভব করছে। যুগের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে নিজের জীবন, আদর্শের তাল হারিয়ে ফেলছে।

আমি ফেসবুক ব্যবহার করিনা, বাংলা গান এবং অনুষ্ঠানই বেশি দেখি (যদিও কিছু কিছু ইংরেজী গান ও প্রোগ্রামও প্রিয়), আমার কাছে সাজ মানে চোখে কাজল, কপালে টিপ, সালোয়ার কামিজ পরি, কোনদিন কোন দিবস মনে থাকে না কিন্তু প্রায়ই মা বাবাকে লাভ ইউ বলি। সবমিলে অনাধুনিক, ক্ষ্যাত হবার সব কোয়ালিটি আমার মধ্যে বিদ্যমান।

কিন্তু কখনো কেউ আমাকে বলেনি সেটা। হয়ত আমি বিদেশে থাকি বলে। এখানে মানুষজন মুগ্ধ হয়ে যায় আমার সাজ পোশাক, আচার আচরণে। একজন ব্ল্যাক বন্ধু একবার প্রশংসা করে বলেছিল, "তুমি ভীষন কনফিডেন্ট, সিকিউরড! তুমি নিজেকে বিশ্বাস করো বলে কেউ তোমাকে কিছু বলতে সাহস পায়না। যাদের মন দূর্বল তারাই বুলিড হয়!"
তার কথাটি আমার খুব মনে ধরেছিল। আমি কথাটিকে এখানে টেনে আনলাম এটা বোঝানোর জন্যে যে, আপনি যেমনই হোন, যদি আপনি নিজেকে ও নিজ আদর্শকে ভালোবাসেন তবে কেউ আপনাকে ছোট করতে পারেনা। উল্টো সম্মান করবে। কে কখন আপনার রুচি পছন্দ, চাল চলন নিয়ে প্রশ্ন করে ফেলল সেটা নিয়ে টেনশনে থাকবেন না। বি দ্যা ইউ, হুম ইউ ক্যান এডমাইয়ার!

০৮ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:৫২

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: "এক্কেরে মনের কতা কয়েচেন বোইন" হাহা ! হো বইন, বইন তাই বইনের মনের কতা কইসি :D

"বডি টার্মারিকের ছবিটি আমিও দেখেছিলাম, এক বন্ধু শেয়ার করেছিল। হাসতে হাসতে শেষ হয়ে গিয়েছিলাম" হাহাহা ! ভালো লাগলো আমার একজন সঙ্গী পেয়ে যিনি কিনা সাক্ষী । আমি ভুলে গিয়েছিলাম স্ক্রিনশট নিয়ে রাখতে :P আমিও হাসতে হাসতে শেষ হয়েছিলাম =p~

"আমি ফেসবুক ব্যবহার করিনা, বাংলা গান এবং অনুষ্ঠানই বেশি দেখি (যদিও কিছু কিছু ইংরেজী গান ও প্রোগ্রামও প্রিয়), আমার কাছে সাজ মানে চোখে কাজল, কপালে টিপ, সালোয়ার কামিজ পরি, কোনদিন কোন দিবস মনে থাকে না কিন্তু প্রায়ই মা বাবাকে লাভ ইউ বলি" প্রিয় আপুর, কথাগুলো জেনে ভালো লাগলো, বিশেষ করে সাজের বিষয়টা। আমিও অনেকটা এমন , অনেকটা মিক্সড :P
একটা কথা জানতে ইচ্ছে করলো আপু, আপনার প্রিয় অলংকার কোনটি ? মানে, কানের দুল, গলার হার, হাতের চুরি এমন তো কতকিছু আছে কিন্তু আপনার কোনটি প্রিয় ?
আমার সবচেয়ে প্রিয় নাকফুল । জাস্ট লাভ ইট !:#P আমার একটা নাকফুল ই সব আর কোন কিছু দরকার নেই :D

"সবমিলে অনাধুনিক, ক্ষ্যাত হবার সব কোয়ালিটি আমার মধ্যে বিদ্যমান" হাহাহা! তাহলেতো আমার মাঝেও বিদ্যমান :P

"কিন্তু কখনো কেউ আমাকে বলেনি সেটা। হয়ত আমি বিদেশে থাকি বলে। এখানে মানুষজন মুগ্ধ হয়ে যায় আমার সাজ পোশাক, আচার আচরণে" হা আপু, আমিও তাই মনে করি। বিদেশে আছেন বলে আমাদের সাধারন বাঙ্গালী সাজ পোশাক ওখানে সবার নজর কাড়ে আর দেশের মানুষ বিদেশী সংস্কৃতির পোশাক পরাকেই স্মার্টনেস মনে করে। তবে একজন বাঙ্গালী মেয়েকে বাঙ্গালী পোশাকে যতখানি না সুন্দর লাগে তা অন্য কোন পোশাকে লাগেনা।
একটা বিষয় নিয়ে আমি ভাবি আপু, ঢাকায় অনেক বিদেশী মানুষকে আমি দেখি আমাদের দেশের পোশাক পরে ঘুরতে আর আমরা নিজেরাই সেটি করলে ভাবি মানুষজন আনস্মার্ট বলবে। আসলে সবকিছুর উপস্থাপনা হচ্ছে আসল । আর আপনার বন্ধুর মত বলব ইয়েস, কনফিডেন্স ই সবকিছু

১৪| ০৮ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:০৩

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: কথা আপু! আমরা আসলেই বইন! কোন এক মেলায় হারিয়ে যাওয়া বইন! কেননা আমারো প্রিয় অলংকার নাকফুল! আমি সবসময় নাকফুল পড়ে থাকি। এই ছোট্ট একটা জিনিস চেহারায় অন্যরকম মায়া, কোমলতা যোগ করে দেয়। বাইরে গেলে কানে দুল পরি, তবে খুব একটা প্রিয় না। আপন মনে হয়না অন্য কোন অলংকারকে। নাকফুলকে নাকের একটা অংশই মনে হয়! :)

জ্বি একদম ঠিক বলেছেন, বিদেশ বলেই হয়ত আমি বাংলাদেশী হবার স্বাধীনতাটা পেয়েছি! দেশে থাকলে নানা রকম কথা শোনাত সমবয়সী আধুনিক বন্ধুরা। তবে তখনো আমি আমিই থাকতাম। কনফিডেন্সই সব, দু একবার বলে থেমে যেতে হতো তাদেরকেও।

ভীষন সুন্দর ও আন্তরিক একটি প্রতিমন্তব্য করার জন্যে আপনাকে থ্যাংকস এ লট।

০৮ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:০০

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: "কথা আপু! আমরা আসলেই বইন! কোন এক মেলায় হারিয়ে যাওয়া বইন" হাহাহা! হুম আপু , আমার বোনের সংখ্যা একজন বাড়ল !:#P

"আমারো প্রিয় অলংকার নাকফুল" অনেক ভালো লাগলো জেনে আপু । সাথে চিমটি :P আপু তো দেখি বিদেশে থেকেও মনে প্রানে, পোশাক আশাক আর অলংকারে পুরোই বাঙ্গালী :D আপনাকে দেখে শেখা উচিত সবার ।

১৫| ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:৪১

আখেনাটেন বলেছেন: নিজের একটি অাইডেন্টিটি তৈরির জন্য যে মেধা ও পরিশ্রমের দরকার তা আমাদের দেশের কালচারে বলেন আর শিক্ষা-দীক্ষাতেই বলেন নেই বললেই চলে। ফলে এখানে আমরা সবাই অনুকরণ প্রিয়। অনুকরণ কিংবা অনুসরণেই আমাদের পাথেয়।

মৌলিক কিছু করে নিজেকে অালাদাভাবে চেনানোর জন্য যে ধরণে ইক্যুইপমেন্টের দরকার। যে পরিমাণ টেনাসিটি দরকার আমরা তা অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ নই। ফলে এ দেশে নিজেকে অালাদাভাবে চেনানো অতটা সহজ না যতটা সহজ উন্নত বিশ্বে।

এখানে মানুষ এখন 'পাছে লোকে কিছু বলে' ধারণার গণ্ডিতে বন্দি। উন্নত গবেষণা নেই; শিক্ষার বেহাল অবস্থা আমাদের স্বকীয়তা অর্জনের পথে প্রধান অন্তরায়। তাই মানবিক এই উন্নয়ন এখানে প্রশ্নসাপেক্ষ।

শিক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে আমার কিছু লেখা ছিল দেখতে পারেন। অামরা অাইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগা জাতি।

আপনার চিন্তাগুলোর লেখ্যরূপ ভালো লাগল ব্লগার ফুলঝুরি।

১৮ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৯

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: @নিজের একটি অাইডেন্টিটি তৈরির জন্য যে মেধা ও পরিশ্রমের দরকার তা আমাদের দেশের কালচারে বলেন আর শিক্ষা-দীক্ষাতেই বলেন নেই বললেই চলে। ফলে এখানে আমরা সবাই অনুকরণ প্রিয়। অনুকরণ কিংবা অনুসরণেই আমাদের পাথেয়---

কথাটা তো ঠিকই বলেছেন ভাইয়া, আমরা তো নিজের অাইডেন্টিটি তৈরির চাইতে অন্যকে অনুকরন করা বেশী পছন্দ করি। কিন্তু নিজেকে কিভাবে একটু ডিফারেন্ট ভাবে উপস্থাপন করলে মনে রাখার মত কেউ হব তা ভেবে দেখিনা কখনো ।

@এখানে মানুষ এখন 'পাছে লোকে কিছু বলে' ধারণার গণ্ডিতে বন্দি--- এটাই তো আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা ও বাধা নতুন কিছু করার ক্ষেত্রে। এই ভাবনা টা না থাকলে আমরা অনেকেই অনেক বেশী এগিয়ে যেতাম।

@আপনার চিন্তাগুলোর লেখ্যরূপ ভালো লাগল ব্লগার ফুলঝুরি--- লেখাং ভালং লেগেছেং জেনেং ভালং লাগ্ললং আখেনাটেনং ভাইয়াং :-B

আর অবশ্যই অবশ্যই পড়বো আপনার লেখা। :D

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.