| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিখ্যাত লেখক লর্ড বাইরন (Lord Byron) কে আমার খুব ভালো লাগে। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন কেনো এতো ভালো লাগে? উনি কি খুব ভালো লিখতেন? আমার উত্তর, না! তাহলে কেনো এতো ভালোলাগা? আমি বলবো উনার মতাদর্শের জন্য।
লর্ড বাইরন একটি চমৎকার আইডিয়া দিয়েছেন। যেখানে নিজেকে হিরো হিসেবে তুলে ধরেছেন। যে ধারণা কে আমরা বাইরনিক হিরো (Byronic Hero) হিসেবে জানি। বাইরন একজন চমৎকার রোমান্টিক মানুষ ছিলেন। কথিত আছে উনার দুইশতাধিক প্রেমিকা ছিলো। তাহলে সহজেই অনুমান করা যায় উনি কোন লেভেলের প্রেমিক ছিলেন।
আমাদের সমাজে উনাকে হয়তো চরিত্রহীন অথবা বিকৃত চরিত্রের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করবো। কিন্তু উনি আমাদের বর্তমান সমাজ এবং তখনকার সমাজের মতো হিপোক্রিট ছিলেন না। উনার এই জিনিসটাই আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। আপনি এখন আমাকে বলতে পারেন, তোমারও কি দুই শতাধিক প্রেমিকা আছে কিংবা তুমি দুইশতাধিক প্রেম একসাথে করতে চাও? যদি এই প্রশ্ন করেন তবে আমি বলবো আপনি বিকৃতভাবে নিয়েছেন।
উনার ট্রান্সপারেন্ট থাকার প্রবৃত্তি আমাকে খুবই উৎসাহ দেয়। কারণ উনি এতো এতো প্রেম করেছেন কেউ কখনো প্রশ্ন করলে অস্বীকার করেন নি, বরং বীরদর্পে বলেছেন। আমাদের বর্তমান সমাজের মতো তখনও চমৎকার হিপোক্রিসি বিদ্যমান ছিলো। লর্ড বাইরনের এমন প্রেম কেউ মেনে নিতে পারতো না। অনেকেই হিংসে এবং সমালোচনা করতো। এসব শুনে লর্ড বাইরন খুব কষ্ট পেতেন।
একসময় দেখলেন যে, যারা এমন সমালোচনা করছে তারাই গোপনে অনেক প্রেম করে বেড়াচ্ছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে তাদের প্রেম এবং নষ্টামির ব্যাপারে কেউ জানে না এবং নিজেরাও কখনো স্বীকার করে না। তারা সমাজে শুশীল সেজে বসে আছে এবং অন্যের সমালোচনা করছে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য। দিন যাওয়ার সাথে সাথে বাইরন এমন সব শুশীলদের যন্ত্রণায় অতিষ্ট হয়ে উঠছিলেন, যদিও তার প্রেমিকাদের পক্ষ থেকে কোনও অভিযোগ ছিলো না। বাইরন কারো সাথে প্রতারণা করেন নি। কিন্তু সমালোচক শুশীলরা বাইরনের পিছনে উঠেপরে লেগেছিলো।
এবার আসি বর্তমান বাংলাদেশের একটি প্রসংগে।
মিঃ সালমান মোহাম্মদ মোক্তাদির, একজন সেলিব্রেটি, যিনি সম্প্রতি একটি পোষ্ট দিয়েছেন। পোষ্টের ছবিগুলোতে উনাকে এবং একজন মেয়েকে দেখা যায় বেশ ঘনিষ্ঠভাবে। পোষ্টের সাথে উনি একটা প্যারাগ্রাফ লিখেছেন যার শিরোনাম হচ্ছে "জাস্ট ফ্রেন্ড"(শিরোনাম টা আমার দেয়া)। উনি ইংরেজিতে প্যারাগ্রাফ বেশ ভালো লিখতে পারেন সেটার প্রমান আবারও দিলেন, স্কুল লাইফে কি করেছেন আমার জানা নাই।
এই পোষ্টের কমেন্টগুলো দেখলে এবং বিভিন্ন ব্লগ খেয়াল করলে বর্তমান বাংলাদেশের হিপোক্রিসি র ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যায়। পোষ্টে লোকজন অবাদে গালি দিয়েছেন। মেয়েরা নাকি ভদ্র, তাদের ভদ্রতার প্রকাশ ঐখানে গেলেই পাওয়া যায়। হতে পারে ছেলে/মেয়েরা সবাই জীলাস ফিল করে এমনটা করছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। তবে যারা এমন উদ্যত মন্তব্য করে নিজের পরিচয় দিচ্ছেন তারা কতোটুকু সভ্য?
আপনি বলতে পারেন, তবে কি আপনি বাংলাদেশে এগুলো সাপোর্ট করেন? আমার উত্তর হচ্ছে, অবশ্যই না। এবার আমার প্রশ্ন হচ্ছে যারা এমনভাবে গালাগালি এবং সমালোচনা করছেন তারা ব্যাক্তিগত জীবনে কি করছেন?
যদি সালমানের বয়সটা মানদন্ড ধরা হয় তবে ঐ বয়স পর্যন্ত আপনার কয়টা প্রেম/মাখামাখি/রুমডেট/পিউলির ব্যবহার/এবরশন ছিলো/আছে?
পারলে এগুলো প্রকাশ করেন আগে। মানুষকে দেখানোর মতো সৎসাহস নিয়ে এগিয়ে আসেন, তারপর সমালোচনা করেন।
বাংলা ভাষায় একটা কথা আছে,
"তলে তলে টেম্পু চালাও, আমরা চালালেই হরতাল!"
আপনার সাহস নাই প্রকাশ করার, আপনি লোকমুখের কথায় ভীত। আপনি নিজেকে ভদ্র/শুশীল হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করেছেন/করছেন। মনে রাখুন, আপনার মুখোশের আড়ালে কি আছে সেটা আপনি প্রকাশ করতে না চাইলেও যে কোনও সময়ে সামনে চলে আসতে পারে। তাই বলি কি, অন্যের সমালোচনা করার আগে নিজেকে নিয়ে ভাবুন। তারপর অন্যকে নিয়ে বলুন।
প্রথমে বলেছি, লর্ড বাইরনের কথা তারপর সালমান আল মুক্তাদির। এই দুজনের মাঝে আমি মিল খুজে পাই। বাইরন যেমন অনেক প্রেম নিয়ে মজে থাকতো সালমানও এমন হতে পারে। আবার বাইরন সবার সামনে প্রকাশ করে আনন্দ পেতো, সালমানও এসব প্রকাশ করে গর্ববোধ করে ভিন্ন ভাবে শুধু বন্ধু হিসেবে তুলে ধরে। এই একটা কথা বোঝাতে একটা প্যারাগ্রাফ সেই লিখতে পারে। শুধু সইতে পারছে না সমাজের হিপোক্রিট মানুষগুলো।
আরও একটি ব্যাপার তুলে ধরতে চাই, গতকাল তাসকিন বাবা হয়েছেন। তার বাবা হওয়ার খবর সহাস্যে ফেসবুকে ছবিসহ প্রকাশ করে জানিয়েছেন। আমার মাথায় কাজ করছে না যে, এতে তথাকথিত ভদ্র/শুশীলদের সমস্যা কোথায়। তাসকিন কোন অপরাধ টা করেছে এটাই আমি বোঝতে পারছি না। অধিকাংশ মানুষ অশ্লীল মন্তব্য করছে যে, তার বউ এর বেবি হয়েছে মাত্র ৬ মাসে।
যদি তারিখসহ দেখা হয় তাসকিনের বিয়ের বয়স ১১ মাসের অধিক। তথাকথিত শুশীলদের কাছে প্রশ্ন একজন বাচ্চা পৃথিবীতে আসতে কতো দিন লাগে? তাসকিন বিয়ে করে সংসার করছে এক বছর হতে চলেছে, এখন তার বউ বাচ্চা প্রসব করলে তাদের এতো জ্বলে কেনো? সে পাপকাজ কি করলো?
আপনারা বড়জোর প্রশ্ন রাখতে পারেন, মাঠের এবং মাঠের বাহিরের পারফরমেন্স এর মাঝে এতো ফারাক কেনো? মাঠে কি আমরা এমন পারফরমেন্স আশা করতে পারি না?
এই হিপোক্রিট সমাজকে আমরা চাইলেই বদলে ফেলতে পারি না। কিন্তু এই হিপোক্রিসির শেষ কোথায়?
©somewhere in net ltd.