নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্তরালে ...

অনেকের মাঝেও একা থাকা যায়, নি:সঙ্গতায় কারো অনুভব ছুঁয়ে যায় ...

আইরিন সুলতানা

***বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই; রাজাকারদের না বলুন*** ----------------------------- ::: সুস্থ ব্লগিং নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন চাই ::: -----------------------------

আইরিন সুলতানা › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিজয় ওয়াজ ওয়ান অফ দ্য বিগিনার্স এ্যান্ড অভ্র ইজ নট দ্য এন্ড

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:১০

শেষ পর্যন্ত কী-বোর্ড ইস্যুতে কী-বোর্ডে ঝড় তুলে ফেললো সকলে। ঝড়ের সূচনাকারী যুগ যুগ ধরে পরিচিত আইটি-সেলিব্রিটি, বিজয় কী-বোর্ডের জনক মোস্তফা জব্বার। গত ৮ই এপ্রিল জনকণ্ঠে ইনিয়ে বিনিয়ে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনেন। এর মধ্যে ইউএনডিপি, নির্বাচন কমিশন এবং ওমনিক্রনল্যাবের অভ্র কী-বোর্ডও ছিল। মোস্তফা জব্বারকে অনেকেই বিনোদন হিসেবে নেন, ফলে তার কথার ভুল হলে বিপরীতে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হয় বিশাল। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। মোস্তফা জব্বারের অভিযোগ ছিল অভ্র সফটওয়্যার কেন্দ্রীক। তিনি একে পাইরেটেড সফটওয়্যার বলে অভিহিত করেন। অভ্র টিম এর প্রতিবাদ করার আগেই মোস্তফা জব্বার বিমুখ সকলে ঝাঁপিয়ে পড়ল। এখানে প্রতিবাদের ধরণে টেকি-তথ্য উঠে আসার সুযোগ থাকলেও তার বদলে বেশীর ভাগই আবেগে কাতর হয়ে গেল। এবং মোস্তফা জব্বারের ভুলের মাশুল দিতে শূলে চড়ানো হলো বিজয়কে। এবং বিপরীতে অভ্রকে রীতিমত নায়কোচিত আসন দেয়া হলো। ফেসবুকে গুঞ্জন উঠে গেল- অভ্রের পাশে দাঁড়াই। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ব্লগের মূল ব্যানারে জায়গা করে নিল অভ্র। এরপর পাল্টে গেল অনেকের প্রোফাইল পিক একে একে। ব্লগ থেকে শুরু করে ফেসবুকে একই আহ্বান- অভ্রের পাশে দাঁড়াই। অথবা বিজয়কে না বলুন এবং অভ্রকে হ্যাঁ। বুঝে না বুঝে এই হুজুগে সবাই মেতে উঠলাম। ফলে খুবই প্রয়োজনীয় একটি ইস্যু, যা বিস্তারিত তথ্যাকারে উপস্থিত হলে আইটি ইউজার এবং ডেভেলপাররা উপকৃত হয়, নিদারুণভাবে মিস-লিড হলো।



মজার ব্যাপার হলো, অনেকেই এভাবে বলছিলেন, আমরা অভ্র ইউজার, তাই অভ্রের পাশে দাঁড়াবো। প্রথমত, মোস্তফা জব্বারের বক্তব্যের বিরোধীতা করার জন্য অভ্র ইউজার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। দ্বিতীয়ত, মোস্তফা জব্বারের বালখিল্য বক্তব্যের বিপরীতে বিজয় এবং অভ্রকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে একটিকে বিলুপ্ত প্রায় করার এবং অপরটিকে সিংহাসনে বসিয়ে দেয়ার মত আরেকটি উদ্ভট প্রচারণার সূত্রপাত ঘটলো ব্যাপক আকারে। তৃতীয়ত, মোস্তফা জব্বার যে অভিযোগ করেছেন, সেটিকে ভীত্তিহীন বলার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো নিয়ে আলোচনার শূণ্যতা ছিল আমাদের মধ্যে।



জল অনেকটা গড়ানোর পর ওমনিক্রনল্যাবের পক্ষ থেকে মোস্তফা জব্বারের ৮ই এপ্রিলের বক্তব্যের প্রথম প্রতিবাদ পাওয়া যায় ২০শে এপ্রিল। (অবশ্য মাঝের এই বিরতীর একটি ব্যাখ্যা সম্ভবত তাঁরা দিয়েছেন বলে শুনেছি) অভ্রটিমের বক্তব্য প্রকাশিত হয় সচলায়ন ব্লগে। এরপর গ্লোবাল ভয়েসে (অনলাইন) বেশ দীর্ঘ আরেকটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়, যেখানে কিছু ব্লগারদের অভ্রের প্রতি ভালবাসাময় সমর্থনও উল্লেখ ছিল। প্রযুক্তিগত বিষয় হওয়া স্বত্বেও, যতদূর মনে হয় টেকি-ব্লগ বলে পরিচিত টেকটিউনস এবং কম্পিউটার জগত ব্লগে তারা, অভ্র-টিম, কোন প্রতিবাদ-বক্তব্য-পোস্ট প্রদান করেননি। হতে পারে এ দু’টি ব্লগ তুলনামূলকভাবে ততটা সরব নয় বলেই। আবার এই দু’টি ব্লগের কোনটিই তাদের ব্যানারে অভ্রকে ধারণ করেনি। টেকটিউনসব্লগে কিছু আলোচনা দেখা গেলেও কম্পিউটার জগৎ ব্লগে ৮ই এপ্রিল পরবর্তী পোস্টগুলোতে বিজয়-অভ্র পুরোপুরিই অনুপস্থিত ছিল। তারপরও ব্যাপক প্রচারণার কারণে অভ্র-টিম যখন যথেষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে, তখন মোস্তফা জব্বার রীতিমত তোপের মুখে।



২৩শে এপ্রিল প্রথম আলো পত্রিকাতে দু’পক্ষের বক্তব্য পাশাপাশি স্থান পায়। টেকি-জগতে বিচরণের পরও মোস্তফা জব্বার এমন সব অসম্পূর্ণ বক্তব্য রাখেন যা দ্রুতই একরকম টেকি-জোক্সে রুপান্তরিত হয়। অন্যদিকে তার বক্তব্যে তিনি যে হারে আইনি উমুক-তমুক ধারা গড়গড়িয়ে বলে যান তাতে বোঝা যায় তিনি বরং একটু বেশী আইনি-বিশেষজ্ঞ। হবেন নাই বা কেন? বিজয়কে নিয়ে তার রক্ষণশীলতা সন্তানের প্রতি কোন পিতামাতার পজেসিভনেসকেও ছাড়িয়ে যাবে। ২০০৮ সালে এক আইনি লড়াই জিতে গর্বভরে বিজয়কে আগলে রাখার প্রমাণ দেখালেন। এ ছিল তার দু’দশকের পরিশ্রম। বিজয় তার এবং তারই থাকবে, এই বোধ থেকেই বোধহয় তিনি ১৯৮৮ সালে বিজয় পেটেন্ট করিয়ে রাখেন। এবং যেহেতু এটি তার পেটেন্টকৃত সফটওয়্যার ফলে তার পক্ষে পাইরেসিজনিত অভিযোগ তোলা সুবিধাজনক হয়ে ওঠে। তারই ফলাফলস্বরূপ অভ্রকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন। নিজের বক্তব্যকে আরো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি নিজেই পরিস্কার করেন যে, তার আসল খেদ রয়েছে ইউনিজয়ের প্রতি, কারণ তার মতে, ইউনিজয় বিজয়ের নকল এবং অভ্র একে অনুসরণ করে বলেই তিনি অভ্রকে পাইরেটেড বলেছেন। উল্লেখ করে নেয়া দরকার, আমরা যারা দাবি করি মোস্তফা জব্বার মিথ্যাচার করেছেন, তারা কেবল অভ্র-কেন্দ্রীক হৈ-চৈ করছি, ইউনিজয়কে নিয়ে নয়। জনকন্ঠে প্রকাশিত মিথ্যাচারে উনি অভ্র ছাড়াও ইউএনডিপি, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। অবশ্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি তার খেদ ২০০৮ সালেও প্রকাশ করেছিলেন। তখন তার অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশন তাদের ১০ হাজার ল্যাপটপে তার অনুমতি ব্যাতীত বিজয় ব্যবহার করছে। এ প্রসংগে তখন তিনি বলেছিলেন, "I don't seek any royalty from the election commission. I just want to get official acknowledgment from the government" । কিন্তু নির্বাচন কমিশন তাঁর কথা শুনলো না, শুনলো অভ্রের কথা। সে যাই হোক, মিথ্যাচারের প্রতিবাদে অভ্রের পাশে দাঁড়ানোর হিসেব মোতাবেক আমাদের উচিৎ ছিল ইউএনডিপি ও নির্বাচন কমিশনের পাশেও দাঁড়ানো। এমনকি যেহেতু মোস্তফা জব্বার মূলত ইউনিজয়কে নিয়েই তার আপত্তি রাখেন, তাহলে আমাদের উচিৎ ছিল ইউনিজয়ের পাশেই দাঁড়ানো। কিন্তু আমরা যেন গল্পটাকে অভ্রমুখী রাখতেই আগ্রহী বেশী ।



মোস্তফা জব্বারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওমনিক্রনল্যাব অর্থ্যাৎ অভ্র-টিম কী বলছে? একটি ভূমিকা- যেখানে আবেগ ও জনপ্রিয়তার কথা আছে, অনুমতি বিষয়ক মোস্তফা জব্বারের সাথে অতীতে কিছু ব্যক্তিগত আলাপাচারিতার প্রয়োজনীয় বর্ননা, এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য- একটি মাত্র কী -এর পার্থক্যই জন্ম দেয় নতুন একটি কীবোর্ড লে-আউটের। এই অন্তত্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিয়ে খুব বেশী বিস্তারিত না থাকলেও, মূলত এখানেই কিন্তু প্রচুর আলোচনার সুযোগ আছে। এখানেই অভ্র, ইউনিজয়, বিজয়ের পার্থক্য বা সাদৃশ্যের হার নির্ণিত হবে, মোস্তফা জব্বার কতটা ভুলে বাস করেন এবং অভ্র পাইরেটেড নয় বিষয়গুলো দিবালোকের মত পরিস্কার হবে।

ওমনিক্রনল্যাব সাইটে পরিস্কার বলা আছে, ”eyboard layouts those are added with the current release are - UniBjoy (99% match with popular Bijoy keyboard layout)” , তার অর্থ হলো ১% বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওমনিক্রনল্যাব তাদের বক্তব্যে বলছে, ইউনিজয় অন্তত আটটি কী’তে বিজয় থেকে আলাদা। তাহলে ধরে নেই ওই ১% -ই সেই ৮টি কী-স্ট্রোক। এখন যেহেতু ইউনিজয়ের মিল-অমিলের অংক কষা হচ্ছে, তাই এই আলোচনায় ইউনিজয়-টিমের নিজেদের বক্তব্য আসাটাই যুক্তিযুক্ত ছিল। অভ্র-টিম, ইউনিজয়-টিম সহকারেই বক্তব্য দিতে পারতো, কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউনিজয়-টিম অনুপস্থিত। ইউনিজয় তাদের সাইটে অবশ্য একটি ডিসক্লেইমার জাতীয় নোটে বহু আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছে যে, মোস্তাফা জব্বারের এইধরনের প্রোপাইটরশীপ পদক্ষেপে তারা সমর্থন করেনা এবং তারা এও জানিয়েছে, We have no affiliation with Mr. Jabbar or with Ananda Computers।



এদিকে আমরা মঞ্চে এখনো অভ্রকেই দেখছি, আর বিজয়কে ক্রমেই ঝেড়ে ফেলা হচ্ছে। বারবার বিজয় আর অভ্রের তুলনা উঠে আসছে। কোনটা বেশী ব্যবহার-বান্ধব ইত্যাদি ইত্যাদি। কথা হলো, অভ্র যদি আজকে ব্যবহার-বান্ধব না হতো তাহলে কী মোস্তফা জব্বারের এই মিথ্যাচার সঠিক হয়ে যেতো? বলা হচ্ছে যে, এখন কেউ বিজয় দিয়ে লেখেনা। আমরা যারা এই কথা বলছি,সেই আমাদের অধিকাংশই ভার্চুয়াল জগতে বাংলা টাইপ করি। মুদ্রণজগতের পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা নেই। তবে কেউ কেউ যখন বললেন, অভ্র এখনো মুদ্রন মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য নয়, তখন হঠাৎ করেই অভ্রের ডিটিপি বিষয়ক ফিচারগুলোর উপর আলোকপাত করা হলো। আশ্চর্য এই যে, ঠিক এই মূহূর্তেই আমাদের হুশ হলো আমাদের মুদ্রণে জগতে একটু পরিবর্তনের, আধুনিকতার ছোঁয়া লাগানো জরুরী। মানে বিজয়ের নাগপাশ থেকে বেরিয়ে আসা জরুরী। কারণ এখন আমাদের কেবলি অভ্রের পাশে দাঁড়াতে হবে!



অতি আবেগে কেউ কেউ বলছেন, কেবল অভ্রেরই রয়েছে বাংলা ভাষার প্রতি অশেষ-বিশেষ অবদান। এবং বিজয়ের ভয়ের চোটে কেউ টাইপই করতো না। অথচ অভ্র প্রথম কী-বোর্ড নয়। ২০০৩ সালে অভ্র’র আবির্ভাব। ভার্চুয়াল জগতে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পায় মূলত বাংলা ব্লগ এবং এরও পরে আমাদের ফেসবুক নির্ভরশীলতার কারণে। ধরে নেই ২০০৫ এর পরবর্তী আমাদের এই অভ্র-নির্ভনশীলতা। বাংলা ভাষা কি এর আগে বিস্তার লাভ করেনি- মুদ্রণে বা ওয়েবে? ১৯৮৪ থেকে ২০০২ পর্যন্ত প্রায় ২০টির মত বাংলা কী-বোর্ড সফটওয়্যার ছিল। এবং এক্ষেত্রে সমসামায়িক অন্যান্য কী-বোর্ডের চেয়ে বিজয় এগিয়ে ছিল। অবশ্য তাই বলে পুরো অবদান বিজয়ের একার নয়। বিজয়ের আগে-সমসাময়িককালে-পরে আমরা পেয়েছি মুনীর কী-বোর্ড (প্রফেসর মুনীর চৌধুরী একটি আধুনিক বাংলা টাইপ রাইটার ডেভেলপড করেন), রূপালী কী-বোর্ড, প্রভাত কী-বোর্ড, একুশে কী-বোর্ড। একুশে কী-বোর্ড শুরু থেকেই বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয় এবং একে ওপেন সোর্সও রাখা হয়। একুশে কী-বোর্ডের জনক Dr. Robin Upton নিজ উদ্যোগে ইমেইল করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তার বাংলা টাইপ করার এই কী-বোর্ডটি ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেন। একজন ফিরিঙ্গির এই অবদানটাও তো কম ছিল না। প্রতিটি কী-বোর্ড লে-আউট প্রযুক্তির জগতে বাংলাকে ছড়িয়ে দিতে একেকটি ধাপ হিসেবে কাজ করেছে। দুই-তিন ধাপের পর আমরা বিজয় পেয়েছিলাম, তারপর আরো অনেক ধাপ পার হয়ে আমরা অভ্র পেয়েছি। এবং আগামীতেও নতুন কিছু পাবো। ভাষাকে উন্মুক্তকরণে প্রতিটা ধাপ গুরুত্বপূর্ণ। এটা উন্নয়নের ধাপ। তাই অবদান সবার, একার নয় ।



আবারো বিজয়-অভ্রতে কিংবা আসলে বিজয়-ইউনিজয়ে ফিরে আসি। ইউনিজয় বিজয়ের ৯৯% অনুরূপ, ১% ফাড়াক, অর্থ্যাৎ ৮টি কী লে-আউট ভিন্ন। কিছু বৈসাদৃশ্যগুলো দেখা যাক-



১. বাংলা স্বরবর্ণগুলো একটিভেট করতে AltGr (alternate graphic; ইংরেজীছাড়া অন্য ভাষা টাইপ করতে ব্যবহৃত কী-স্ট্রোক। সাধারণত নন-ইউএস মার্কেটে বেশী প্রচলিত। উইনডোজে Ctrl+Alt থেকে একই সুবিধা পাওয়া যায়) চাপতে হবে

২. AltGr ব্যবহার করে "" এবং "।" টাইপ করা যায়

৩. সাধারণ লেআউটে ~ (tilde sign) ও ` (single quotation mark) পাওয়া যায়। AltGr লে-আউটে এগুলো ZWNJ (zero-width non-joiner) ও ZWJ (zero-width joiner) রূপে কাজ করে।

৪. যুগল দাঁড়ি নেই

৫. গতানুগতিক বিজয়ে এরকম ব্যতিক্রমী AltGr পদ্ধতি একেবারেই নেই



মোস্তফা জব্বার আপাতভাবে দুটো কী-বোর্ড লে-আউটের মিল-অমিলের কথা যতই বলুন না কেন। একটু বিশ্লেষণ করলে তার গাত্রদাহের মূল কারণস্বরূপ দেখা যাবে সফটওয়্যারের ফ্রিওয়্যার, ওপেনসোর্স পদ্ধতি। ঠিক এই মূহূর্তে হুজুগে না মেতে আমরা প্রয়োজনীয় কিছু টপিক তুলে এই দ্বন্দের সুরাহা করে আগামীর ডেভেলপারদের উৎসাহিত করতে পারতাম, ফলে আইটি ইউজার হিসেবে লাভবান হতাম আমরাই।



১. একটি কী এর পার্থক্য থেকে একটি নতুন লেআউট

QWERTY এবং QWERTZ এর সামান্য পার্থক্য তাদের নাম থেকেই বোঝা যায়। Dvorak কী-বোর্ড লে-আউটে অবশ্য বিশাল পার্থক্য দেখা যায়। আগেই বলেছি, অভ্র-টিমের প্রদত্ত তত্ত্ব, একটি কী এর পার্থক্য একটি নতুন লে-আউটে জন্ম দেয়, তা কতটা গ্রহণযোগ্য এ ব্যাপারে তাদের আরো বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ নিতে হবে এবং করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের মত সাধারণ ব্যবহারকারীদের চেয়ে বিভিন্ন ডেভেলপারদের মন্তব্য অত্যন্ত জরুরী। এই বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা মূলত কেবল অভ্রকে বৈধতা দেয়ার জন্য নয়। এই মতবাদের উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে নতুন কী-বোর্ড লে-আউট নিয়ে গবেষণারত ডেভেলপারগণ সম্ভাব্য বিতর্ক এড়াতে পারবেন।



২. সফটওয়্যার পেটেন্ট কতটা জরুরী

যেহেতু মোস্তফা জব্বার বিজয়ের পেটেন্ট করিয়েই নিয়েছেন, তাই উনার অনুমতি ব্যতিরেকে কিছু হলেই আইনগতভাবে উনি যখন-তখন হাইকোর্ট দেখানোর অধিকার রাখেন। আমাদের মত দেশে এরকম প্রপাইটরশীপ দেখে আমরা অভ্যস্ত নই বলে আমরা অতি দ্রুতই ক্ষেপে যাই। "I hope that if I can continue my success the example will encourage many local software developers to get patent rights and earn royalty from their products", নিজের পেটেন্ট বিষয়ক পদক্ষেপে এমনই আস্থা প্রকাশ করেন মোস্তফা জব্বার। QWERTY, Dvorak এর মত বিশ্বজনিন ব্যবহৃত কী-বোর্ডের পেটেন্ট জরুরী হতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশে বিশেষত বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট পেটেন্ট করানো কতটা জরুরী? বা কতটা লাভজনক? এতে কী পরবর্তী গবেষণা বাধাগ্রস্থ হয়? আইসিটি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কী ভাবে?



৩. ফ্রি-ওয়্যার যখন লাভজনক এবং ফ্রিওয়্যার যখন অলাভজনক

আইটি-ইউজার হিসেবে আপনি যে ফ্রি -তে যে কোন সফটওয়্যার পেতে আগ্রহী হবেন এতে কোনরকম সন্দেহ নেই। কিন্তু যিনি পরিশ্রম করে কিছু উৎপাদন (আবিস্কার) করছেন, তিনি তার শ্রমের, মেধার মূল্য চাইলে তাকে বেনিয়া বলে আখ্যায়িত করাটা কতটা ন্যায্য? যত যাই বলেন, মূলে কিন্তু অর্থই। আপনার (আইটি ইউজার) গাঁটের পয়সা বাঁচানোর জন্যই আপনি উচ্চবাচ্য করবেন এবং অন্যজনও (আইটি ডেভেলপার/ব্যবসায়ী) গাঁটে পয়সা ভরার জন্যই ব্যতিব্যস্ত থাকবেন। বাংলাভাষার প্রসারে অথবা যে কোন ক্ষেত্রেই একটি ফ্রি-ওয়্যার সফটওয়্যার নিঃসন্দেহে শুভ উদ্যোগ। কিন্তু সব কিছু তো ফ্রি তে দেয়া যায় না। তাহলে কী ধরনের এপ্লিকেশন ফ্রি-তে দেয়া যায়? অথবা কী ধরনের এপ্লিকেশনে কত মূল্য ধার্য হওয়া উচিৎ? অথবা সাধারণত মূল্য ধার্য থাকলেও ব্যবহারের ক্ষেত্র বুঝে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে কেবল ফ্রিতে দেয়া যায় কিনা? যেমন স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি।



৪. ওপেন সোর্স যখন প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা সহায়ক

প্রযুক্তিগত গবেষণাকে এগিয়ে নিতে ওপেন সোর্স কার্যকরী পদক্ষেপ। বিজয় এবং অভ্র দুটোই কিন্তু ক্লোজড-সোর্স। মোস্তফা জব্বার যে বিজয়কে ওপেন সোর্স করবেন না তা নিশ্চিত, তবে হালের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বারবার শোনা যাচ্ছে যে অভ্র শীঘ্রই ওপেন সোর্স হতে যাচ্ছে। এটা ভবিষ্যৎ ডেভেলপারদের জন্য সহায়ক হবে । এবং এতে পরিশেষে আইটি ইউজাররা লাভবান হবে। কিন্তু আমাদের নিজস্ব আবিস্কারগুলোকে ওপেন সোর্স রাখতে আমরা কতটা আগ্রহী ? কোন ধরনের সফটওয়্যারগুলো ওপেন সোর্স হয় ও হওয়া উচিৎ? বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত ওপেন সোর্স সফটওয়্যারগুলোর কত ভাগ জনপ্রিয়, ব্যবহার বান্ধব, মানসম্মত?



৫. কী-বোর্ড লে-আউটের ক্ষেত্রে কী কী মনে রাখা জরুরী

Dvorak কী-বোর্ডের জনক August Dvorak একজন শিক্ষাবিদ ও মনস্তাত্তিক ছিলেন। তিনি QWERTY কী-বোর্ডের বেশ কিছু অসুবিধা নির্ণয় করেন। যেমন- QWERTY কী-বোর্ডে ৩০% লেখা টাইপ করতে হয় নীচের সারিতে, যা অপেক্ষাকৃত কষ্টকর এবং এতে টাইপিং গতি ধীর হয়ে যায়। ৫২% কী-স্ট্রোকগুলো উপরের সারিতে থাকায় আঙ্গুলকে উপরের দিকে চালনা করতে দূরত্ব পার করতে হয়।বেশীর ভাগ টাইপিং বাম হাত নির্ভর, যেখানে অনেকেই খানিকটা দূর্বল হয়ে থাকে। এগুলো লক্ষ্য করে জনাব Dvorak তার কী-বোর্ডের যে লে-আউট করেন তাতে ৭০% কী-স্ট্রোকগুলো হোম-সারিতে রাখেন। এতে সর্বোচ্চ টাইপিং গতি পাওয়া যায়। অপেক্ষাকৃত কম ব্যবহৃত অক্ষরগুলোকে নীচের সারিতে রাখা হয়। ডান হাতকে বেশী গতিশীল রাখা হয়। ইংরেজী বর্ণমালা আমাদের বাংলার চেয়ে সরল। তারপরও যদি ইংরেজী কী-বোর্ড নিয়ে এতো গবেষণা হয়ে থাকে, তো আমাদের স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জণবর্ণ, যুক্তাক্ষর, এবং ’কার’ নিয়ে কী পরিমাণ গবেষণা করা দরকার এবার বুঝুন। এবং এখন পর্যন্ত যতগুলো কী-বোর্ড এসেছে, তা কতটা চাহিদা মোতাবেক তা ভাবুন।



৬. বর্তমানে প্রচলিত কী-বোর্ডগুলোর সুবিধা-অসুবিধা কী কী

অসুবিধা নিয়ে অবগত না হলে পরবর্তী বিকাশ ঘটেনা। তাই এখন পর্যন্ত আবিস্কৃত, প্রচলিত, কম জনপ্রিয় এবং অধিক জনপ্রিয় কী-বোর্ডে যে লে-আউট অনুসরণ করা হয়, এর বাইরে আর কত রকম করে কী-বোর্ডে বাংলা বর্ণমালাকে সাজানো যায় যা বাংলা টাইপিং গতিকে আরো তরান্বিত, আরো সহজায়িত করবে। আব্দুস সাত্তার, মুক্তাদির খান পাঠান, আমীর আলী’র DEVELOPMENT OF AN OPTIMAL BANGLA KEYBOARD LAYOUT BASED ON CHARACTER AND FINGERING FREQUENCY নামক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, আমাদের বাংলা কী-বোর্ডের অনেক লে-আউটই ব্যবহারকারীর টাইপিং গতি এবং একেকটি অক্ষরের ফ্রিকোয়েন্সি বুঝে নকশাকৃত নয়। বেশী ফ্রিকোয়েন্সির ক্যারাক্টারকে কম ফিক্রোয়েন্সির ক্যারেক্টারের জায়গায় বসানো হয়েছে। এতে ইউজাররের টাইপিং গতি ও সাচ্ছন্দ্য যথেষ্টই হ্রাস পায়। তাদের টিমের একটি জরিপে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে জানা যায়- Shift + Char ইউজারকে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ দেয়না টাইপিংয়ে।



৭. ফোনেটিক কী-বোর্ড কতটা গুরুত্বপূর্ণ

"amar" লিখলে যখন ’আমার’ হয়, এর চেয়ে সোজা আর কি হতে পারে বাংলা টাইপিংয়ের বেলায়! ফোনেটিক কী-বোর্ড দিয়ে বাংলা টাইপ করার ভয় কাটিয়ে উঠেছেন অসংখ্য ইউজার। কিন্তু ফোনেটিকে কী আর কোন পরিবর্তন আনা যেতে পারে? ফোনেটিক শিক্ষানবিশ পর্যায়ে স্বাগত হতে পারে কিন্তু পরিণত ক্ষেত্রে একে কি গুরুত্বপূর্ণ বলা যায়? অথবা ফোনেটিক নির্ভরশীলতা কি আমাদের সম্ভাব্য হরেকরকম বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট গবেষণাকে নিরুৎসাহিত করেনা?



মোস্তফা জব্বার যখন মৌচাকে ঢিল মেরেই বসলেন, সে সুযোগে আমরা মধুচাকের গড়ন দেখতে পারতাম, মধুচাক ভেঙ্গে মধু সংগ্রহ কিভাবে হয় তা জানতে পারতাম, মধু চেখেও দেখতে পারতাম। কিন্তু মৌমাছিরা তাকে কামড়ালো কিনা এটা দেখতেই আমরা উৎসুক ছিলাম বেশী। বিজয়কে অচ্ছুৎ করে দিতে আমরা মনপ্রাণ সঁপে একরকম অভ্রের প্রচারণায় নেমে গেলাম। অথচ এ কাজটি আমাদের (আইটি ইউজারদের) নয় একেবারেই। ভোক্তা এভাবে পণ্যের ক্যাম্পেইন করেনা, এ কাজটি শেষ পর্যন্ত পণ্য উৎপাদনকারীরই।



ফলে যে গল্পটা দূর্দান্ত সাই-ফাই হতে পারতো, তা শেষ পর্যন্ত সাধারণ একটা রূপকথা হয়ে গেল...!!!





মন্তব্য ১৪০ টি রেটিং +৩৫/-৯

মন্তব্য (১৪০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:১৭

রিসাত বলেছেন: You can't kill me cause i don't leave i swell... Ovro rocked... Ooo love don't let me go won't take me where the street lights glow... Now my feet won't touch ground...

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৪৭

আইরিন সুলতানা বলেছেন: এটার তরজমা কে করবে এখন !

২| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:১৯

ত্রিভুজ বলেছেন: আপনার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত নই... অভ্রকে আমরা আক্রান্ত হিসেবে দেখছি। মোস্তফা জব্বার সাহেব মিডিয়াতে অভ্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার জবাব হিসেবে ব্লগ মিডিয়াতে অভ্রের ভক্ত হিসেবে আমরা অভ্র ব্যাচ ধারন করতেই পারি... এটাকে পণ্যের ক্যাম্পেইন না ভেবে কৃতজ্ঞতার নিদর্শন ভাবতে পারেন... আফটার অল অভ্র একটা বানিজ্যিক পণ্য নয়...

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৫৪

আইরিন সুলতানা বলেছেন: অভ্র বাজেয়াপ্ত হয়নি , বা অভ্র'র বিরুদ্ধে সমন জারি হয়নি। কৃতজ্ঞতা বোধ সবগুলো কী-বোর্ড লেআউটের প্রতিই থাকার দরকার। অভ্রকে অভ্র পর্যন্ত আসতে পেছনের ধাপগুলো জ্ঞাত-অজ্ঞাত ভূমিকা তো ছিলই।

আবারো বলছি, যে কাহিনীটা কেবল এবং কেবল অভ্র-কেন্দ্রীক করা হয়েছে, এটা মোটামুটিভাবে ইউজারদের অজ্ঞতাকে বোঝায়।

বিজয় বাণিজ্য করছে, অভ্র করছে না, এ ব্যাপারে আরো কী কী প্রসংগ আসা যায় তা আমি পোস্টে আলোচনা করেছি।

আপনি অভ্র'র উপর আক্রমণ দেখছেন, আসলে দেখা উচিৎ এক তত্ত্বের উপর আক্রমণ ...একটি কী-স্ট্রোকের পার্থক্য থেকে একটি নতুন কী-বোর্ড লে-আউটের জন্ম এ ব্যাপারে বিস্তারিত চাই। অথবা ঠিক কত ভাগ অমিল হলে মোস্তফা জব্বার মনে করেন যে একটা কী-বোর্ড তার নকল নয়, এর জবাবগুলো চাওয়া-আসা উচিৎ ছিল ....
ধরে নিন অভ্র কেউ ব্যবহার করেনা, তারমানে তখন আপনি চুপ থাকতেন? ধরে নিন আপনি এখনো বিজয় ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি চুপ থাকতেন?
অথবা আমরা অনলাইন বাংলা লেখকরা যখন অভ্র-অভ্যস্ততার কারণে অভ্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা বোধ করি, তখন মুদ্রণ মাধ্যমের লোকদের কী বিজয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধস্বরূপ বিজয় ব্যাজ ধারণ করা উচিৎ?

তাহলে গল্পটা বিজয় এবং অভ্র কেন্দ্রীকই থাকলো !!!

৩| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:২০

সৈয়দ মোজাদ্দাদ আল হাসানাত বলেছেন: মোস্তফা জব্বার এর কার্যকলাপ ভালো না লাগলেও আমার ইংলিশ কি বোর্ড এ লিখা এটা আমার ভালো লাগছে না । বাংলার জন্য চাই বাংলা কি বোর্ড ।

৪| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:২২

মহাপাগল বলেছেন: আমরা যে হুজুগে বাঙ্গালী আরেকবার প্রমাণ করতে চাই।

৫| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:২২

রাজসোহান বলেছেন: দ্বিমত, জব্বর মিয়া বিজয় দিয়ে ব্যবসা করে, আর অভ্র ব্যবসা করে না, আর তিনি অভ্র কে আক্রমন করেছেন ।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৫৮

আইরিন সুলতানা বলেছেন:
সফটওয়্যার কোম্পানী কোন সফটওয়্যার দিয়ে ব্যবসা করবে, আর কোনটা দিয়ে করবে না, সেটাও আলোচনায় আসতে পারে...পোস্টে এ বিষয়েও স্পষ্ট করে বলা আছে

উনি যখন অযৌক্তিক আক্রমণ করলো, তখন আপনি পয়েন্ট আকারে যুক্তি দিন...এখানে অভ্র ভাল ন বিজয় কী-বোর্ড মন্দ তা তো বিষয় নয়। এখানে একটা কী-বোর্ডের ডিজাইন আরেকটা কী-বোর্ড থেকে কখন আলাদা হতে পারে সেটা প্রশ্নবিদ্ধ...এই প্রশ্নের সুরাহা না হলে আগামীতে প্রযুক্তি উন্মুক্ত হতে বাধাগ্রস্ত হবে।

৬| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:২৩

সাইফুর বলেছেন: আমি ৯৮ থেকেই বিজয় ব্যাবহার করি। বিজয়ের প্রতি ক্ষোভ নাই। রাগ মোস্তফা সাহেবের আচরনে। বিজয়কে না বলুন অভ্রকে হ্যা বলুন এহেন স্লোগানও ভালো লাগেনা।

মাঝখানে কাজের প্রয়োজনে আলপনা নামে একটা বাংলা সফটওয়্যার কিনে ব্যাবহার করতে হয়েছিলো। সেখানেও ইউনিজয়। বিজয়ে টাইপিং পারার জন্যই কিন্তু ইউনিজয় ভালো পারি। কিছু জিনিস ব্যাতিক্রমতো আছেই।

মোস্তফা জব্বারের আচরনকে না বলুন


পোষ্টে এতদিনের পুরাই সামারি করে দিলেন

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৬

আইরিন সুলতানা বলেছেন: কোন সফটওয়্যারের প্রতিই তো ক্ষোভ না রাগ থাকার কোন কারণই নাই। একেক টাইমে একেকটা ইউজ করবো।

এক সময় কেবল সামু একাই ব্লগ ছিল , এখন তো কত কত ব্লগ!

গতকাল বিজয় দিয়ে লিখসি, আজকে অভ্র দিয়ে লিখতেসি, আগামীকাল "সাইফুর" দিয়ে লিখবো। তবে এক লে-আউট থেকে আরেক লে-আউটের পার্থক্য কতটা হওয়া উচিৎ, সেই প্রশ্নটা এখন করবো।

অথবা মোস্তফা জব্বারের কথার জন্য কেবল তাকে নিয়েই মুখ টিপে হাসতে পারি...বাকি হুজুকের আসলে দরকার ছিল না। তবে আলোচনার খুব দরকার ছিল।

৭| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:২৪

সাইফুর বলেছেন: তবে অভ্রকে ভালোবাসি। এখনো লিখছি অভ্রতে।

৮| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:২৬

ত্রিভুজ বলেছেন:

@সৈয়দ মোজাদ্দাদ আল হাসানাত
এই "বাংলা" সাইট খুলতেও আপনাকে ইংরেজীতে এর লিঙ্ক টাইপ করতে হয়েছে। এই যুক্তিতে বাংলা সাইট দেখা বাদ দিতে পারেন.... একজন প্রোগ্রামার যখন সফটওয়্যার কোডিং করে, সেটাও ইংরেজিতেই করতে হয়।

ইংলিশ কীবোর্ড দিয়ে বাংলা লিখলে বাংলা ভাষা অশুচী হয়ে যাবে এই ধারণা বাঙালির ভেতরে কিভাবে ঢুকলো কে জানে...

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৪

আইরিন সুলতানা বলেছেন:
ফোনেটিক দিয়ে বাংলা লেখার পদ্ধতি অবশ্যই অভিনব। কেবল ফোনেটিক দিয়ে লিখতে পারার কারণেই শত শত ব্লগারের জন্ম হয়েছে তাতে সন্দেহে নেই। বাংলাভাষাকে প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করতে যে গবেষণা, তাতে বাংলা বর্ণমালার জন্য নির্দিষ্ট কী-স্ট্রোক অবশ্যই কাংখিত। এখন পর্যন্ত যতটুকু বুঝি ফোনেটিক নির্ভর হলে আর ভিন্ন ভিন্ন লে-আউট নিরুৎসাহিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৯| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:২৬

রাজামশাই বলেছেন: হুমম

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৫

আইরিন সুলতানা বলেছেন: হুমম।

১০| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৩০

রকম্যাড বলেছেন: তো কাহিনী শেষ পর্যন্ত কি দাড়াইল? আপনি কোন পক্ষ? :D এখানে আমি দুইটা কথা যোগ করতে চাই।

- অভ্র টিমের দাবী মত তারা ইউনিজয় অভ্রতে অ্যাড করে ২০০৩ সালে, কিন্তু কাগু পেটেন্ট করেন ২০০৮ সালে। কাগু আবার দাবী করেন তিনি পেটেন্ট করেন ১৯৮৮-৮৯ সালে। ক্যামনে কি? ধরলাম, অভ্রর কথা সত্যি। তাহলে আইন অনুসারে, ২০০৮ সালে পেটেন্ট পাস হওয়ার পরে অভ্রর কি ইউনিজয় বাদ দিতে হবে নাকি আইন ২০০৩ সালে কাহিনী ইগনোর করবে?

- বাঙ্গালি বেসিক্যালি অকৃতজ্ঞ জাতি হিসাবে পরিচিত। শুনতে খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু ফ্যাক্ট। অভ্রর পক্ষে দাঁড়ানোটা বাঙ্গালির একটা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ফল। কাগুর সাথে তো কারো দুশমনি তো নাই আর মেহদী সাহেবের নাম আমার মত বেশিরভাগ লোক এই প্রথম শুনেছে। চোখে দেখা বা ছবিও তেমন কেউ দেখে নাই আগে। আর সব বাদ দিলেও এই একটা কারনে আমি এই আন্দোলনকে পজিটিভ দৃষ্টিতে দেখি।

অভ্র টিম হইল অ্যামেচার আর কাগু প্রফেশনাল। উনি নিশ্চয়ই অলরেডি বড় বড় উকিল-ফুকিলের সাথে কথা বলেই এই স্টেপ নিয়েছেন। অভ্র তো একটা ছোটখাট ল'ইয়ারও ধরতে পারবে কিনা সন্দেহ। কোর্টে অভ্র টিকবে কিনা, আমি সন্দিহান।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২০

আইরিন সুলতানা বলেছেন: আপনি যখন জানতে চান যে, আমি কোন পক্ষ, তখন বিষয়টা আবোর খুবই হাস্যকর হয়ে যায়। তবে আমি অন্তত যে হুজুকটা হলো সেই ধরনের পক্ষ না। বাকি কী হতে পারতো, কী হয়নি তা পোস্টে খুব স্পষ্ট করে বলা আছে।

যে বাঙালিকে আপনি অভ্রের প্রতি কৃতজ্ঞ বলছেন তারা মূলত অনলাইন বাংলা টাইপিং নির্ভর বাঙালি। মুদ্রণ শিল্প তো বিজয়ের কাছে কৃতজ্ঞ, তাহলে কি তারা বিজয়ের ব্যানার ধারণ করে বসে থাকবে?

তাই বাঙালি এখানে কৃতজ্ঞতা না, খানিকটা মজা নিতে আগ্রহী মূলত।

অভ্র টিম উকিল ধরতে পারবে কি পারবেনা, তার আগে দেখতে হবে, অভ্র টিমের তত্ব কতটা কার্যকরী। এটা পরিস্কার হলে ভবিষ্যতে যারা কী-বোর্ড ডেভেলপ করবে তাদের জন্য কিন্তু অনেক বাধা পরিস্কার হয়ে যাবে। অথবা অভ্র-টিমের এই যুক্তির সপক্ষে আমাদের মত নন-টেকিদের ব্যানার-প্রোফাইল পিক পরিবর্তনের হুজুগে না মেতে দেশের প্রযুক্তিবিদদের মতামত সংগ্রহ জরুরী। সেটাই বরং একটা সুন্দর পদ্ধতি।

১১| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৩৬

লেখাজোকা শামীম বলেছেন: আপনার প্রতিটি ব্যাখ্যা আমার ভালো লেগেছে। আসলে আমরা হুজুগে বলে কোন কিছু নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ভাবি না।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২১

আইরিন সুলতানা বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। এ কদিনে আপনার আরো কোন পর্যবেক্ষণ থাকলে তা যোগ করতে পারেন।

১২| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৩৮

সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন:
কয়েকটা দৃষ্টিকোণ একত্রিত করে তথ্য সমৃদ্ধ লেখা। ভাল লাগলো। আমি অবশ্য আপনার মত সিএসই'র ছাত্র নই। ১৯৯০ সনে কম্পিউটারে হাতেখড়ি। বিজয়ে প্রচুর বাগ ছিলো বলে "লেখনী" নামে একটা লে-আউট ব্যবহার করতাম। এখন ইউনিজয়ে লিখি। আমার মনে হয় লোকে মোস্তফা জব্বারের অহংকারী কথাবার্তাতেই ওনাকে অপছন্দ করে। তাই অভ্র-বিজয় ইস্যুতে অনেকটা "অ্যান্টি-মোস্তফা জব্বার" মনোভাবের কারণে সবাই অভ্র ব্যানারে দাড়িয়েছে।

পোস্টে প্লাস।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৩

আইরিন সুলতানা বলেছেন: এটা একটা ভাল পয়েন্ট। মোস্তফা জব্বার বিমুখতাই পুরো হুজুগটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। কিন্তু এতে করে আইটি ইউজাররা কী বোকার কাজ করছে না? যার যার সময়ে, এবং ক্ষেত্রে সে সে সফল ছিল, এটা আমাদের বোঝার কথা। বিজয় এতোদিন ধরে ব্যবহৃত হয় যে, এটা ব্যবহার করার সময় বিজয়ই মনে হয়, মোস্তফা জব্বার মনে হয়না।

আমি মোস্তফা জব্বারের কাছে তার বক্তব্যের ডিটেইলস দাবি করতে পারি, আমি এই প্রেক্ষিতে অভ্র এবং ইউনিজয়ের ডিটেইলস বক্তব্য চাইবো; কিন্তু কেবল বিজয়কে না এবং অভ্রকে হ্যা, এটা এই মুহূর্তে বেশী ছেলেমানুষি হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রবল হৈ-চৈয়ের কারণে মূল ঘটনাটা ধামাচাপা পড়ে যাবে, কিন্তু বিষয়টা পরিস্কার হবে না, সমস্যার প্রকৃত সমাধান হবে না।

১৩| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৩৯

লেখাজোকা শামীম বলেছেন: তবে একটা ব্যাপার আমি বুঝি না, মোস্তফা জব্বার কপি রাইট আইনে মামলা করেন না কেন ?

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৫

আইরিন সুলতানা বলেছেন: এর বিপরীতেও কথা বলা যায়, যেহেতু আমরা বলছি এটি একটি মিথ্যাচার, এবং একটি তত্বও আছে আমাদের কাছে- একটি কী স্ট্রোক থেকে একটি ভিন্ন লে-আউট, তাহলে এর প্রেক্ষিতে মিথ্যাচারের মামলা খোদ অভ্র/ইউনিজয় করছে না কেন?

মোস্তফা জব্বার মামলা করতেই পারেন, তবে এই তত্ত্বটির ব্যাপারে তাঁর এবং অন্যান্য গবেষকদের কী অভিমত?

অথবা কত ভাগ ভিন্ন হলে মোস্তফা জব্বার মনে করেন তার পেটেন্ট ভঙ্গ হয়নি?

১৪| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৪২

পাঠক বলেছেন: মোস্তফা জব্বার এটা ঠিকই বলেছেন যে ইউনিজয় আসলে বিজয় এর কপি, অপ্রিয় হলেও সত্য । ১% আলাদা আসলে যেকোনো ভাবেই মূল থেকে এটিকে আলাদা করার জন্য যথেষ্ঠ নয় ।

১৫| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৫:৫৪

একলব্য১৯৭১ বলেছেন: নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখার প্রচেষ্টার জন্য লেখায় প্লাস।তবে মূল বক্তব্যের সাথে একমত নই।কারণঃ

//ইংলিশ কীবোর্ড দিয়ে বাংলা লিখলে বাংলা ভাষা অশুচী হয়ে যাবে এই ধারণা বাঙালির ভেতরে কিভাবে ঢুকলো কে জানে... //

এই ধারণাটা আমার কাছে সুশীলীয়(আকা হিপোক্রেটিও) বলেই মনে হয়েছে।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০২

আইরিন সুলতানা বলেছেন: ফোনেটিক দিয়ে বাংলা লেখার পদ্ধতি অবশ্যই অভিনব। কেবল ফোনেটিক দিয়ে লিখতে পারার কারণেই শত শত ব্লগারের জন্ম হয়েছে তাতে সন্দেহে নেই। বাংলাভাষাকে প্রযুক্তির সাথে যুক্ত করতে যে গবেষণা, তাতে বাংলা বর্ণমালার জন্য নির্দিষ্ট কী-স্ট্রোক অবশ্যই কাংখিত। এখন পর্যন্ত যতটুকু বুঝি ফোনেটিক নির্ভর হলে আর ভিন্ন ভিন্ন লে-আউট নিরুৎসাহিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এখানে গবেষণার কথা হচ্ছে, প্রযুক্তির উন্নতির কথা হচ্ছে, ওটার অগ্রযাত্রায় নিরুৎসাহিতকরণটাই বরং কিঞ্চিত হিপোক্রেসি।

১৬| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০১

অপলক বলেছেন: আমি আপনার লেখার প্রতিটি শব্দের সাথে ১০০% একমত।

১৭| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৮

ত্রিভুজ বলেছেন: "লেখক বলেছেন: অভ্র বাজেয়াপ্ত হয়নি , বা অভ্র'র বিরুদ্ধে সমন জারি হয়নি।"

বাজেয়াপ্ত হওয়া বা সমন জারি হওয়াটা আইনি ব্যাপার। সেটার জবাব আদালতে আইনের লোক দ্বারা দিতে হবে। মোস্তফা জব্বার আক্রমনটা করেছেন মিডিয়াতে, ইন্টেলেকচ্যুয়ালি। তাই সেটার জবাবও আমরা আমাদের মিডিয়াতেই দিচ্ছি, ইন্টেলেকচ্যুয়ালি।

"লেখক বলেছেন: ....কৃতজ্ঞতা বোধ সবগুলো কী-বোর্ড লেআউটের প্রতিই থাকার দরকার।"

সবগুলো লেআউটের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ নাই কিভাবে বুঝলেন? এখানে যেহেতু আক্রান্ত হয়েছে অভ্র তাই সকল আলোচনা অভ্রকেন্দ্রিক হচ্ছে। এই বিষয়টা আপনি আরেকটু চিন্তা করলেই ঠিক ধরতে পারবেন বলে আশা রাখি।

"লেখক বলেছেন: ....ঠিক কত ভাগ অমিল হলে মোস্তফা জব্বার মনে করেন যে একটা কী-বোর্ড তার নকল নয়..."

প্রথমত, বিজয় লেআউটে J চাপলে 'ক' আসলে অন্য কেউ 'J' চেপে 'ক' লেখার সফটওয়্যার তৈরি করতে পারবে না, এধরনের বিষয়টাই ঠিক না। এই ধরনের পেটেন্ট বাতিল হওয়া উচিত.. অন্তত আমাদের এই বিষয়ে আন্দোলনে যাওয়া উচিত বলে মনে করি... বিশেষ করে আমরা যারা আটি লাইনে কাজ করি।

দ্বিতীয়ত, "পাইরেটেড" শব্দটার অর্থ ব্যপক। মাথামোটা নীতিনির্ধারকরা পাইরেসি কি না জানলেও পাইরেসি করা যে অন্যায় সেটা ঠিকই জানে। সুতরাং অভ্রকে এইভাবে 'পাইরেটেড' সফটওয়্যার বলে আখ্যায়িত করা সম্ভব হলে অভ্রের বিরুদ্ধে সরকারী ব্যবস্থা গ্রহণও অসম্ভব কিছু না। সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ... এটা আপনার জানা আছে আশা করি। সুতরাং, সেরকম কোন কিছু ঘটার আগেই মোস্তফা জব্বারদের বুঝিয়ে দেয়া দরকার যে তারা যা চাচ্ছে তা হবার নয়।

তৃতীয়ত, অভ্রতে বাংলা লেখার কারণে যে একটা সাইট হ্যাক হতে পারে না সেটা আপনি বেশ ভালই জানেন। জানে না আমাদের মাথামোটা নীতিনির্ধারকরা... সুতরাং এধরনের অপপ্রচার দ্বারা লোকজনকে বিভ্রান্ত করে জব্বার সাহেব তার ফায়দা ঠিকই হাসিল করে নিতে পারে.. যা কোন ভাবেই সমর্থন করা যায় না এবং কৃতজ্ঞতাবোধ বলে কোন বস্তুর অস্তিত্ব কারো ভেতরে থাকলে জোর গলায় এটার প্রতিবাদ করা উচিত বলে মনে করি।

জব্বার সাহেবের অবুঝ সমর্থক ও নন-টেকি আঁতেল বুদ্ধিজীবি রা জব্বার সাহেবের এই হীন মানসিকতার পক্ষে ইনিয়েবিনিয়ে কিছু বললে আমার কোন আপত্তি নাই.. কিন্তু আপনি আইটির একজন লোক হয়ে বিষয়টা বুঝতে পারছেন না দেখে দুঃখিত হয়েছি।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৯

আইরিন সুলতানা বলেছেন: সেটার জবাবটা যেরকম তথ্যপূর্ণ হওয়া উচিৎ ছিল আমরা কিন্তু সেরকমটা দেইনি। আমরা যে পদ্ধতিটি নিয়েছি তা হলো, একটি বিশাল হৈ-চৈ করে মোস্তফা জব্বারকে ভড়কে দেয়া। বা আমরা এই মুহূর্তে সূক্ষভাবে বিজয়কে বয়কট করার আহ্বান করছি।
সময়ের সাথে সাথে আগের কী-বোর্ড গুলো যেমন লিজেন্ড হয়েছে, বিজয়ও হবে। এটা না বোঝার মত অজ্ঞ কেউ নই আমরা । ধরুণ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি যদি হতেই হয়, তবে সেখানে কি যুক্তি লাগবে না? নাকি আমাদের প্রোফাইল পিক দেখলেই হয়ে যাবে?

শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, অভ্রের আড়ালে তো ইউনিজয় আক্রান্ত। আমি তো পোস্টেই এই বিষয়ে বলেছি, তাই না?

এমনকি বৃহৎ অর্থ দেখলে এটা অভ্র-কেন্দ্রীকও নয়। আমরাই বলি, মোস্তফা জব্বার ব্যবসা করছেন, তাহলে এটা ব্যবসায়িক দ্বন্দ। তাই না? ফলে এখন কী আলোচনা হতে পারে? পোস্টেই বলা আছে ফ্রিওয়্যার নিয়ে আমাদের কথা বলা জরুরী। আমরা জব্বারকে দুষছি ঠিকই কিন্তু ফ্রিওয়্যার নিয়ে প্রকৃত আলোচনা কই ??

কৃতজ্ঞতা সব লে-আউটের প্রতি আছে জেনে ভাল লাগলো। কিন্তু আমাদের হুজুগ তা বলেনি। আমি বিভিন্ন মন্তব্য এবং ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখেই বলেছি এটা...ঘটনাটা ভিন্নভাবেই প্রবাহিত হলো বলেই তো মিস-লিড বলছি।


প্রথমত, দ্বিতীয়ত, তৃতীয়ত বলে আপনি যে কথাগুলো বলছেন, সেগুলো হলো আলোচনা, এটা মেনে নিতে এবং একে স্বাগত জানাতে আমার কোন সমস্যা নেই। এই আলোচনা পক্ষান্তরে অভ্রের পক্ষেও যাবে। তাতেও কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এই আলোচনায়, ডেভেলপাররা লাভবান হবে। এমনি পরে জব্বার সাহেব অন্য কোন কী-বোর্ডকে অভিযুক্ত করার আগেও একবার ভেবে নেবেন। কারণ তখন তার কথার প্রতিটি জবাব আগেই লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু, পোস্টেই বলেছি, আমাদের আলোচনায় প্রচারণা ছিল, মূল বিষয় নিয়ে আলোচনার শূণ্যতা ছিল।

আমরা প্রযুক্তিবিদরা কেন পেটেন্ট এর প্রয়োজনীয়তা-অপ্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলিনি ? অথবা কেন কী-বোর্ডগুলোর সোর্স ওপেন রাখা নিয়ে কথা ওঠে না? অথবা সরকার কী ভেবে বিজয়কে এতো টা সর্বেসর্বা করে দেয়?

এই আলোচনাগুলো কোথায়?

১৮| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৫

অক্টোপাস বলেছেন: মোস্তাফা জব্বারের এই আচরণ ১৯৫২ সালের পাকিস্তানীদের মতো.. তাই সাধারণ মানুষরা যা করছে তাতে খারাপ কিছু নেই।

আপনার জেনে রাখা ভালো .... মাথা মোটা জব্বার এক্টা মিথ্যুক! এর ব্যাখা এখন দিতে যাবো না.. জব্বারীয় খেলগুলো দেখলে ইতোমধ্যে বুঝে যাবার কথা .. আর না বুঝলে... ....|-) |-) |-) |-)

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩১

আইরিন সুলতানা বলেছেন: আপনি এখন যা করার চেষ্টা করছেন, তা হলো বাঙালি ইমোশনে ধাক্কা মরে মুখ বন্ধ করে দেয়া। এটি কিন্তু ঠিক নয়।

আমারো মনে হচ্ছে আপনি ঘুমিয়ে আছেন। মোস্তফা জব্বার মিথ্যুক তো আমি তাকে কোন সত্যবাদি বললাম? এখানে যখন দেখলেনই ব্যাপক মতামত দেয়ে হয়েছে, তখন আপনারও উচিৎ ছিল আলোচনার ক্ষেত্র তৈরী করা। মোস্তফা জব্বার মিথ্যে বলেছেন, মিথ্যে বলেছেন, তো এর বিপরীতে যে সত্যটা আছে, সেটাকে তো পুরোপুরি খোলাখুলি বলতে হবে।

তাছাড়া এটা সাহিত্য নিয়ে আলোচনাও ন যে, প্রযুক্তি বিষয়ে সব কিছু ডকুমেন্টেট হওয়া জরুরী। থাকেও। এখানে মিথ্যাচার করে লাভ হয়না। লজিক বসিয়ে দিলেই সিসটেম রান করবে।

এটা বুঝতে শিখুন...

১৯| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৯

গুরুভাই বলেছেন: পোস্টে +

২০| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৯

আসিফ আহমেদ বলেছেন: আপনার লেখাটা পুরোটা পড়লাম।
আপনার হেডিং এ যে দুটো অংশ- বিজয় প্রথমদিককার এবং অভ্র শেষ নয়।

আপনি যদি বেশিরভাগ লেখাগুলো পড়ে থাকেন, এ দু বিষয়ে কারো তেমন দ্বিমত নেই।

বেশিরভাগ পাঠক ই আইন বিশেষজ্ঞ নয়, তাই তারা আবেগ কে প্রাধান্য দেবে এটাই স্বাভাবিক। ৮ টি কি বা ১% পাল্টালেও যদি কপিরাইট আইন লন্ঘন হয়, তবে অভ্র হারবে। তাতে কিন্তু কোন সমস্যা নেই।

জব্বার সাহেব অভ্রকেই বিশেষ করে টার্গেট করেছেন, তাই অভ্র উঠে এসেছে সামনে। উনি কিন্তু পেটেন্টের ব্যাপারে বেশি ডিটেইল কিছু বলছেন না। কারন ওটা আদালতের জন্য তুলে রেখেছেন। ব্লগে উনি দিবেন কেন? হয়তো উনার সৎ সাহস নাই, অথবা এটাই তার কৌশল।

আর জব্বার সাহেব যদি পুরোদস্তুর কম্পু লোক হতেন, তাহলে পেটেন্ট করে তার ব্যবসা অতোটা চোখে বাধতো না, যতোটা এখন বাধছে।

পরিশেষে আমি একমত না যে ব্লগগুলোয় এ নিয়ে অধিক মাতামাতি হয়েছে। বরং অন্যান্য যে কোন ইস্যুর থেকে এ বিষয়ে ব্লগার রা অনেক গঠন মূলক লিখেছেন।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৭

আইরিন সুলতানা বলেছেন:
আপনি প্রথমত মূল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে অভ্রতেই থাকতে পছন্দ করছেন। আমি বোধহয় পোস্টে এতোগুলো পয়েন্ট দিয়েছি, তাতে বোঝা যায়, জব্বার সাহেব কী কী কারণে আসলে এগ্রেসিভ হন।

আমাদের খুব একটা সুবিধা হলো, আমরা যখন ইচ্ছা তখন নিজেদের অবুঝ, সহজ সরল বানিয়ে দিতে পারি। আইটি'র সাথে আমরা এই প্রথম পরিচিত হচ্ছি না। বিষয়টা প্রযুক্তি গবেষণার, অন্তরায়ের, সুবিধা-অসুবিধার....এতে আপনাকে আইনি বিশেষজ্ঞ হওয়ার কোনই প্রয়োজন দেখিনি।

পোস্টে অনেকগুলো বিষয় হাইলাইটেড করা আছে, এগুলো বিষয়ে এমনকি ব্লগাররাও কমবেশী ভালই জানেন। কিন্তু আমরা কেন জানি ওদিকটাতে যেতেই চাইছি না। বরং ব্যাপারটাকে একটা হাসি-ঠাট্টাতেই রাখতে চাইছি।

আপনি যদি একটু কষ্ট করে বিভিন্ন ব্লগের মন্তব্য দেখেন, বা ফেসবুকের স্ট্যাটাসগুলো খেয়াল করতে পারেন, তো সেখানে শুরুতে মোস্তফা জব্বারের প্রতি যে ক্রোধ তার পুরোটাই চাপানো হয়েছে বিজয়ের উপর দিয়ে।

ব্লগের ক্যাচালগুলোকে যেভাবে আমরা ডিল করি, এই ব্যাপারটাকেও ব্লগাররা ওই পর্যায়ে নিয়ে গেছে অনেকটাই।

এখন অনেকে তুলনা করছেন, বিজয়ের ফিচারটা ভালো, অভ্রের ওই ফিচারটা ভালো না। এটার তো দরকার নেই আসলে। ফিচার নিয়ে এখন আসলে বিভেদ নয়। ফিচার কোনটার ভাল, কোনটার ভালো না, সেটা যখন দুটো প্রোডাক্ট প্রচারণার নামবে তখন তারাই বলবে।

প্রথম আলোতে জব্বার সাহেবের বক্তব্য পড়ে দেখবেন। উনি যেহেতু পেটেন্ট নিয়ে আগেও একবার আইনি লড়াই জিটেছিলেন তাই উনার একটু বেশী অহমিকা থাকতে পারে।

হুজুক দিয়ে আপনি মূল সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না, যুক্তি দিয়েই এগুতে হবে। আজকে এই বিষয়টা পরিস্কার না হলে, ধরে নিন জব্বার আমাদের ভয়ে অভ্রকে ছেড়ে দিল, কিন্তু কালকে যদি অন্য একটা কী-বোর্ডে বিরুদ্ধে আক্রমণ করে বসেন। আপনি হয়ত সেই কী-বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞ না, তা আপনার সমর্থন জুটবে না সেই কী-বোর্ডে প্রতি।

তাহলে ঘটনার সমাধান কী মূলত অভ্রকে নিয়ে? নাকি আমার প্রযুক্তি গবেষণার পথে কালকে যাতে কোন অন্তরায় না ঘটে তা নিয়ে?

২১| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩১

আসিফ আহমেদ বলেছেন: ভালো বলেছেন @ ত্রিভুজ

২২| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩২

সবুজ অঙ্গন বলেছেন: বিশ্লেষণ ভালো হয়েছে। হুজুগ আপনাকে আক্রান্ত করে নি, এটা দেখে ভালো লাগছে। ফাল্গুন কি-বোর্ড ইন্টারফেস-এর অবদান সম্পর্কে কিছু জানতে চাইছিলাম:০

২৩| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৬

অক্টোপাস বলেছেন: আপনি কি জানেন এই মোস্তাফা জব্বারের জন্যই এতদিন পর্যন্ত বাংলার কোনো স্ট্যান্ডার্ড কীবোর্ড প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি? এ ব্যাপারে কিছু জানা থাকলে উল্লেখ করুন।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫২

আইরিন সুলতানা বলেছেন: ভাই, আপনি কিন্তু বিষয়টা ঘোলা করার চেষ্টা করতেসেন। ঠিক কিনা বলেন?

আপনি মূল কাহিনীর জবাব না দিয়ে আরেকটা প্রশ্ন করে ফেললেন।

আমাদের একটা জাতীয় কী-বোর্ড লেআউট ছিল, সেটা মনে হয়, বিজয়ের আদলেই।

যা বললেন, সেটা নিয়ে কী তাহলে প্রযুক্তিবিদদের যুথবদ্ধতা দরকার ছিল না?

এই হুশজ্ঞান কোথায় ছিল আমাদের এতোদিন? আমাদের সবগুলো কী-বোর্ড লে-আউটই বা কতটা স্ট্যান্ডার্ট?

আমি তো পোস্টে অনেক প্রশ্ন তুললাম, যেগুলো নিয়ে আলোচনা খুব জরুরী....অথচ আমরা এড়ায় যাচ্ছি ....কেন যাচ্ছি?

২৪| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৫

শরৎ চৌধুরী বলেছেন: প্রথমেই বলে নেয়া দরকার যে এটি একটি সময়োপোযোগী পোষ্ট। আমার কাছে, "আসুন আমরা অভ্রর পাশে দাঁড়াই" এই শ্লোগানকে কেবল হুজুগে মনে হয় না। যদিও এর মধ্যে হুজুগেপনা অনেকটাই আছে। এখনকার যে পক্ষপাতিত্ব সেটা ব্যবহারকারীদের বর্তমান চাহিদা পূরণ ও ইন্টারেনটভিত্তিক ব্যবহারকারীদের ইউনিকোড সুবিধার কারণে অভ্রর দিকে ঝুকেছে বেশি, আমি এমনটাই মনে করি।

এর মধ্য থেকে হুজুগ অংশটি যদি বাদ না দেই তাহলে যে অনুমান করতে পারি, তা হল

অভ্র টিম এই প্রচারকে উপভোগ করছেন এবং এখন পর্যন্ত প্রমাণিতভাবে বানিজ্যিকভাবে ব্যবহার করছেন না। হয়ত অন্য কোন সফটের ক্ষেত্রে করতে পারেন তার গ্রাউন্ড তৈরি করছেন। (অনুমিত)।

যদি হুজুগ অংশটিকে আমরা বাদ দেই তাহলে দেখতে পাই, বাঙলা কম্পিউটিং নিয়ে ওয়েবে চিন্তাভাবনা করেন এবং পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখেন এমন মানুষজন এই বিষয়ে আরো এক্টিভ হচ্ছেন। সেটা সফট তৈরি কারী ও সম্ভাব্য ব্যবহারকারী উভয় পক্ষই।

আপনি ইউনিজয় কেন্দ্রীক যে সত্যতা হাজির করেছেন তা সত্যই, ইউনিজয় অনেকখানি বিজয় লে আউটের অনুরূপ। বিষয়টা হল এমন কোন প্রেক্ষিতে এই অনুরূপতাকে আমরা কিভাবে ডিল করছি। জব্বারের পাইরেসি কেন্দ্রীক বক্তব্যের বিরোধীতা করার জন্য .০০০১% অমিল থাকলে সেটা নিয়েই কথা হোত সেটা অনুমান করি। কিন্তু এই বিরোধীতাকে কি আমরা কেবল হুজুগের নিক্তিতে বিচার করব নাকি ব্যবহারকারীর পয়সা না দেয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করব, নাকি ভাষা স্বাধীনতা হিসেবে বিবেচনা করব?

আমি মনে করি প্রযুক্তির জগতে কোন কিছুই শেষ কথা নয়, সেটা যেমন আপনার শিরোনামেই স্পষ্ট। এখন প্রশ্ন হল ডেভেলপাররা নতুন কিবোর্ড ডিজাইন করবেন কি কেবল দেশপ্রেমের জন্য? অর্থের জন্য নয় কেন? এর একটা সহজ সমাধান হতে পারে এমন যে রাষ্ট্র স্বয়ং উন্নততর সফট নিজে কিনে সবার মাঝে বিলি করবে। এতে ডেভেলপার তার কাজের মূল্য পেলেন আমরাও ব্যবহারকারীরাও উপকৃত হলাম।

অভ্র কোনভাবেই শেষ কথা নয়, শেষ কথা হতেই পারে না। আমি অনুমান করি বাজারে যদি এই সময়ই একইসাথে লেখন ও প্রিন্ট বান্ধব অন্য কোন সফট থাকে তাহলে আমরা সেদিকেই ঝুঁকে যাব।

কিন্তু এসব কিছুর মোদ্দা কথা হল প্রযুক্তির বিকাশ সচল থাকতে হবে, যতবেশি সম্ভব ব্যবহারকারী বান্ধব হতে হবে এবং তারচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রো পিপল হতে হবে। অভ্রকে নিয়ে মাতামাতি আমার মতে সেই প্রোপিপল আচরণের জন্যই, যদি তারা সেটা বন্ধ করে দেন তাহলে সেটা থেকে আমরা দ্রুত বেরিয়ে আসব এবং অভ্র পরিণত হবে ভিলেনে। আর যদি এসবই হয় অভ্র নির্ভরশীলতার জন্য তাহলে এই নির্ভরশীলতা আমাদের ভোগাবে নিশ্চয়ই।

আমার একটা পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্য এই পুরো প্রসঙ্গে , অলাভজনকভাবে (কথিত বা বাস্তবায়িত) এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় আদৌ কতটা দক্ষ ও শক্তিশালী সফট তৈরি ও ব্যবহার সম্ভব???

বাই দ্যা ওয়ে প্রিয় পোষ্টে গেল।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:০৬

আইরিন সুলতানা বলেছেন: অভ্রের পাশে দাঁড়াই এটাকে আমি এখনো হুজুগেই বলতে ইচ্ছুক। কারণ, আমরা মোস্তফা জব্বারকে অপছন্দ করি বলে, তাকে নিয়ে এক্সট্রিম পর্যায়ের ফান করতে পছন্দ করি। উনি মিথ্যাচার করেছেন, মিথ্যাচার করেছেন, কিন্তু এই মিথ্যাগুলোকে পরিস্কার করে ভেঙ্গে-চুরে-গুড়ো-গুড়ো তো করতে হবে। সে জায়গায় আমাদের শূণ্যতা ছিল। আমরা যারা প্রতিবাদে সামিল ছিলাম, তারা সবাই যে নন-টেকি/আম-ইউজার তা কিন্তু না। এখন যারা হাতে পেটেন্ট আছে, সে তো যখন তখন খড়গ নামাবেই। বিপরীতে আমি যুক্তির দিক দিয়ে কতটা নির্ভরযোগ্য অবস্থানে ? নাকি সদলবলে অভ্রের পাশে আছি বলে মোস্তফা জব্বারকে চুপ করিয়ে দিলে সমস্যার নিস্পত্তি হবে? ৮ই এপ্রিলের এক'দুদিন পর থেকেই কিন্তু এটা জানা যায় যে, মোস্তফা জব্বার তার বক্তব্যকে পরিমার্জনা করে বলেছেন, মূলত ইউনিজয়কে নিয়ে তার আপত্তি। এবং অভ্রও এটা বলে যে, ইউনিজয় ৯৯% বিজয়ের অনুরূপ। তাহলে এটা খুব করে স্পষ্ট যে যদি ইউনিজয় ১% অমিল নিয়ে জোর গলায় দাবি করতে পারে যে, তারা পেটেন্ট লংঘন করেনি, তাহলে অভ্রও বেঁচে যায়, তাই না? অভ্র বা ইউনিজয়কে মূলত তারাই বাঁচাবে, আমারা নই। তাদের কাছে ডকুমেন্টস আছে তাদের ডিজাইনের/লে-আউটের/এ্যালগোরিদমের। প্রশ্নের মূল জবাবগুলো তারা দিবে। ১% পার্থক্যে নতুন কী-বোর্ড হয় কী হয়না এটা আমাদের জন্য নতুন ধারনা। কিন্তু এই ধারনাটা প্রতিষ্ঠিত হলে আমাদের লাভ। আগামীতে তাহলে আরো অনেক লে-আউট আবিস্কার হবে। কিন্তু এসব বিষয়ে আমাদের প্রচন্ড অনীহা দেখা গেছে...এজন্যই এটাকে হুজুগ বলাটাই একটু শ্রেয় মনে হয়।

বানিজ্য দু'ভাবেও হয়। একটা অর্থ দিয়ে। একটা নাম কামিয়ে। অর্থের লেনদেন না থাকলে তাকে বেশ নির্মোহ বলা যায় তাতে কোন সন্দেহ নেই। সামহোয়্যার ইন টিম কিন্তু এই ব্লগ থেকে খুব আহামরি কিছু আয় করেনা। শুরুতে তো তাও ছিলনা। কিন্তু এই নাম কি তাদের ব্যবসায় সহায়তা করেনি? তা এমন ফ্রি-সার্ভিস দেয়ার পরও কী সামু আমাদের বিভিন্ন বিরক্তি থেকে মুক্ত? অথবা আমরা কী তাহলে একটি সফটওয়্যার ডেভেলপিং হাউজকে দাতব্য প্রতিষ্ঠাররূপে দেখতে আগ্রহী?
কিংবা ধরে নিন, বিজয় এবং অভ্র দু'টোই টাকা দিয়ে কিনতে হয়, তাহলে কি আমরা অভ্রের পাশে দাঁড়াবো না? তাহলে কী মোস্তফা জব্বারে কথা সত্য হয়ে যাবে? আমরা ইন্টারনেট বিল দিতে পারি, টাকা দিয়ে পছন্দের জিনিস কিনতে পারি, কিছু পয়সা দিয়ে একটা সফটওয়্যার কিনতে আগ্রহী না। এটা কতটা ঠিক এবং কতটা বেঠিক?

ইউনিজয়ের ৯৯% তো অবশ্যই সত্য। কিন্তু তাহলে বিজয়ের পেটেন্টের বিপরীতে কত ভাগ অমিল থাকলে আমরা মোস্তফা জব্বার থেকে ভবিষ্যতে বেঁচে যাবো? এই প্রশ্নটার উত্তর জানা ব্লগে-প্রোফাইলে অভ্রের ছবি লাগানোর চেয়ে অ-নে-ক বেশী জরুরী।

পেটেন্ট অনুমোদন দেয়ার কারণে এখন সরকারই বিজয়কে রক্ষা করতে বাধ্য। তাহলে এক দিকে যখন সরকার বলে প্রযুক্তিকে আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দিবে, তা কি সরকার বিপরীত হয়ে গেল না?

রাষ্ট্র স্বয়ং উন্নততর সফট নিজে কিনে সবার মাঝে বিলি করবে। এতে ডেভেলপার তার কাজের মূল্য পেলেন আমরাও ব্যবহারকারীরাও উপকৃত হলাম। --- অনেক ভূতুর্কী দেয়ার মত এবং এটি একটি চমৎকার প্রস্তাবনা।


দীর্ঘ পোস্টে লম্বা মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৫৯

আইরিন সুলতানা বলেছেন: অলাভজনকভাবে (কথিত বা বাস্তবায়িত) এই পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় আদৌ কতটা দক্ষ ও শক্তিশালী সফট তৈরি ও ব্যবহার সম্ভব???

---------
আপনার এই বক্তব্যটি নিয়ে আরো আলোচনা করা উচিৎ সবার। প্রয়োজনে সরকার এইরকম আলোচনার সুযোগ করে দিতে পারে। এখানে ইউজার, ডেভেলপার, এবং সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আইসিটি মন্ত্রনালয়, বিসিসিও স্পষ্ট বক্তব্য আসার দরকার।

২৫| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৫

বুড়ো বলেছেন: ৯৯ থেকে বিজয় ব্যবহার করি। বিজয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ কিছুটা হলেও আছে। কিন্তু অভ্রু-কে নিয়ে জব্বার সাহেবের আতলামি কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
অভ্রুর ইউনিজয় বিজয় লেআউটের সাথে মিলে যায়... এটা সত্য। কিন্তু বিজয় অভ্যস্থ বাঙালির কাছে ইউনিকোডভিত্তিক ভিত্তিক বাংলা টাইপিং জনপ্রিয় করতে ওমিক্রনল্যাবের আর কিছু করার ছিল বলে মনে হয় না।

যাই হোক, ত্রিভুজের সাথে একমত পোষণ করে বলছি-

বিজয় লেআউটে J চাপলে 'ক' আসলে অন্য কেউ 'J' চেপে 'ক' লেখার সফটওয়্যার তৈরি করতে পারবে না, এধরনের বিষয়টাই ঠিক না। এই ধরনের পেটেন্ট বাতিল হওয়া উচিত.. অন্তত আমাদের এই বিষয়ে আন্দোলনে যাওয়া উচিত বলে মনে করি... বিশেষ করে আমরা যারা আইটি লাইনে কাজ করি।

২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪৫

আইরিন সুলতানা বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ প্রসংগ --- পেটেন্ট

কী-বোর্ডের পেটেন্ট নতুন কিছু নয়। তবে আমরা আমাদের দেশে এরকম কিছুর সাথে পরিচিত নই আরকি। তাহলে বিজয়ের পেটেন্ট বিষয়ে জানতে হবে। সরকার বা মোস্তফা জব্বার দুজনই এখানে শর্তগুলো জানাতে বাধ্য থাকার কথা। নাহলে বিশেষত সরকার যখন বলে, প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দেবে দেশে, সেই সরকারই আবার একটি দ্বন্দের ক্ষেত্র তৈরী করে দিচ্ছে।

আবার পেটেন্ট করানোর পরে কি কোন দেশে ওই জাতীয় প্রডাক্ট আবিস্কার বন্ধ হয়ে যায় বা গেছে? নিশ্চয়ই না ! তাহলে আমাদের এতো সমস্যা হচ্ছে কেন?

প্রযুক্তিবিদরা এতো সমস্যা জিইয়ে না রেখে, আলোচনার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন...পত্রিকার লেখা যায়, ব্লগে লেখা যায়, সেমিনার করা যায়...এভাবে সচেতনতা ছড়াবে, অবস্থানও যুথবদ্ধ হবে।

২৬| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১০

নাজির বলেছেন: + দিয়ে পোষ্ট পর্যবেক্ষনে রাখলাম। দেখি হয়ত অনেক কিছু্ই জানা যাবে এ পোষ্ট থেকে।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:০৮

আইরিন সুলতানা বলেছেন: আপনি কিছু জানলে সেটাই শেয়ার করেন, নাইলে আর আলোচনা কেমনে হলো !

২৭| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২০

'লেনিন' বলেছেন: দুর্দান্ত পোস্ট! অর্ধেকটা পড়েছি এখন ব্রেক নিয়ে বাকিটা পড়ছি। এই পোস্ট এই বিতর্কে আরো আগে আসা উচিত ছিলো। আপনার গবেষণাকে স্যালুট!

২৮| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৬

'লেনিন' বলেছেন: বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত ওপেন সোর্স সফটওয়্যারগুলোর কত ভাগ জনপ্রিয়, ব্যবহার বান্ধব, মানসম্মত?

এধরণের মন্তব্য আপনার থেকে কাম্য নয়। উবুন্তু এবং ম্যাকে অধিকাংশই উন্নতমানের ওপেনসোর্স সফটওয়্যার ব্যবহার করছি আমরা। দুনিয়া কাপিয়ে-দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অ্যাপাচে সার্ভার, পিএইচপি, নেটবিনস এইসব সফটওয়্যার এর প্রতিদ্বন্দ্বী সফটওয়্যারগুলো শ/হাজার ডলারের হলেও কিন্তু এগুলোই সেরা প্রমাণিত হচ্ছে।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪১

আইরিন সুলতানা বলেছেন: :-& :#> :| /:)

টেকি-ভাই, সবরকম করেই তো প্রশ্ন করতে হবে, তাই না ? কারণ আমরা আবার অনেকেই দাবি করি, আমরা প্রযুক্তি জ্ঞান কম রাখি, বা আইনি জ্ঞান কম রাখি। কিন্তু এটাও সত্যি যে, আমাদের কাজের ধারাবাহিকতা, প্রতিবন্ধকতাই নানা রকম প্রশ্নের জন্ম দেয়।

২৯| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৬

মু আ হাকিম নিউটন বলেছেন: ভালো বিশ্লেষন করেছেন। ইননোভেশন দরকার আমাদের কপি করে এদিক সেদিক করা নয়।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৩৩

আইরিন সুলতানা বলেছেন:
আপনার "বিজয়ের বিরুদ্ধে কিন্তু অভ্রেরও বিরুদ্ধে যায় এমন নির্মোহ আলোচনা বর্তমান সময়ে কি সম্ভব?" এই পোস্টটি এবং আলোচনাগুলোও যথেষ্ট সমযোপযোগী ছিল। বলতে পারেন। খুঁতখুঁতিটে শুরু থেকেই ছিল, এরকম আলোচনাগুলোর সাথে যুক্ত হতে চাইলাম পরিশেষে।

ইনোভেশন অবশ্যই প্রয়োজনীয়। নয়তো আর প্রযুক্তির ব্যবহার কেন!

৩০| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৭

'লেনিন' বলেছেন: Click This Link


অভ্র টীমে আমার জানামতে এখনো পর্যন্ত একজনই আছেন সে হলো মেহদী হাসান খান। তবে লিনাক্সে পোর্ট করার জন্য রিফাতুন্নবী কাজ করেছে। লিনাক্সের অভ্র ফোনেটিক এখন জিপিএল লাইসেন্সে সবার জন্য উন্মুক্ত। সুতরাং ফোনেটিকের এলগরিদম যেকেউ দেখে নিতে পারেন এবং উন্নয়ন সাধন করতে পারেন।

২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৪

আইরিন সুলতানা বলেছেন: ফোনেটিক কী-বোর্ডকে আপনি কী ভাবে দেখেন?

এর উন্নয়ন সাধনে কী কী বাকি থাকতে পারে? যুক্তাক্ষর, 'কার' , বাংলাকে ইংরেজী বানানে লিখতে গেলে একই জাতীয় অক্ষর যেমন ঢ়, ড়, র, শ, ষ, স ইত্যাদিগুলোর রি-লেআউট করা?

৩১| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:০৪

শ্রীমান বলেছেন: বিজয় ওয়াজ ওয়ান অফ দ্য বিগিনার্স এন্ড অভ্র ইজ নট দ্য এন্ড--এটা কি বাঙলায় লিখা যেত না?

আপনার কথার সূত্র ধরে বলতে হয়, জব্বার সাহেবের রাগ মূলত: ইউনিয়জয়ের বিরুদ্ধে....তাহলে অভ্র-এর দিকে অঙুলি প্রদর্শন কেন? তাকে নিয়ে কেন মিথ্যাচার? আমরা শুধু 'অভ্র'কে মিথ্যাচরের বাইরে রাখতে বলেছি...নয়কি? জব্বার সাহবেরে অবদানকে কেউকি অস্বীকার করেছে? করেছে ম্যিথাচারের প্রতিবাদ।

বাঙালী হুজুগে বলেই আজো বাংলায় কথা বলতে পারছি আর আমাদের দেশটাও মুক্ত। কিন্তু আমরা মধুচোর নই.... মধুর স্বাদ আমাদের জ্বিহবা পর্যন্ত কখনোই কেউ পৌছাতে দেয়নি।

আপনারা আইটি সেক্টরের বোদ্ধাজন আর আমরা নন প্রফেশনাল ইউজার মাত্র.... আমরা কেন এত সহজে বুঝতে চাইব ম্যিথাচারের ফলাফল। আমরা বলতে চেয়েছি...অভ্রকে পাইরেটেড সফটওয়্যার বলায় অভ্রর হয়তো কিছুই যাবে আসবে না, কিন্তু সাধারণ মানুষ যারা অভ্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল না, তারা একে পাইরেটেডই জানবেন! সরকারও মেনে নেবেন অভ্রকে পাইরেটেড সফটওয়্যার হিসেবে..তাই একটু প্রতিবাদ।

আমি ব্যাক্তিগত ভাবে--কাউকে 'শুলে চড়ানো' কিংবা 'নায়োকোচিত' শব্দ চয়নে বিলাসি হয়ে 'বলির পাঠা' কিংবা 'নায়ক' বানাতে ইচ্ছুক নই। আপনারা আমাদের দিক নির্দেশনার উল্টো পথে চলতে বললে আমরা কোথায় যাই?

আমার লিংক একটু সময় করে ঘুরে আসুন....
Click This Link

২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:০৯

আইরিন সুলতানা বলেছেন: ইংরেজী তো নিষিদ্ধ নয় ভাই। কী-বোর্ড শব্দটা কী বাংলা ? টাইটেল কেন বাংলায় হলো না, এরকম ভাবনায় নিজের সময় নষ্ট করবেন না।

দেখুন, যে সাধারণ ইউজার বুঝতে পারেন যে, জব্বার সাহেব মিথ্যা বলছেন, সে সাধারণ ইউজার আরো একটু বেশীও বুঝতে পারবে।

সাধারণ মানুষ একে পাইরেটেড জানলে কী হবে? আপনার ভাবনাটা একটু ট্র্যাক থেকে বাইরে চলে যাচ্ছে আসলে। আমরা কতজন ইউন্ডোজ অরিজিনাল ব্যবহার করি? যে বিজয়ে মোস্তফা জব্বার প্রাইস ট্যাগ বসিয়ে রেখেছেন, যারা বিজয় ইউজার তাদেরই বা কতজন বিজয় কিনে ব্যবহার করে। ফলে, আমরা তো সব সময়ই পাইরেটেড সফটওয়্যারই ব্যবহার করি। তাই অভ্র পাইরেটেড হলে আমাদের তাতে কোন ফাড়াক পড়বে না, যদি না অভ্র হুট করে বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু অভ্র পাইরেটেড হলে অভ্রের জন্য তা অবশ্যই ক্ষতিকারক। যেমনটা বললেন, সরকার ভেবে বসবে, অভ্র পাইরেটেড, তাহলে অভ্রের উপর খড়গ নেমে আসতে পারে। এখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য, ঠাট্টা-মস্করা হুজুগ নয়, একটা কার্যকরী হুজুগ দরকার ছিল। যেখানে প্রযুক্তিগত তথ্য থাকবে, আলোচনা থাকবে।

একটু একটু প্রতিবাদের ধরনে তথ্য অনুপস্থিত ছিল প্রকটভাবে। তথ্য না থাকলে এই হুজুগ থেকে পরে রেফারেন্স হিসেবে কিছু পাওয়া যাবেনা। এখানে জানার অনেক কিছু আছে- পেটেন্ট সম্পর্কে, কী-বোর্ডের মান সম্পর্কে এগুলো থেকে গুটিয়ে গেলে চলবে কেন?

নায়ক এবং ভিলেন বানানোর কাজটি আমরা ইতিমধ্যেই সেরে ফেলেছি।

আমাদের মধ্যকার সবাই খুব নন-টেকি ইউজার নয়। আবার আমাদের বন্ধ-বান্ধব-শিক্ষক আছেন প্রযুক্তিগত জ্ঞান রাখেন। এদের ইউনাইটেড হওয়া জরুরী। গবেষণার জন্য, আলোচনার জন্য।

৩২| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:২১

আকাশ_পাগলা বলেছেন: একমত না।

৩৩| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:২১

আকাশ_পাগলা বলেছেন: মানে, অনেক কিছুর সাথে একমত না।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:২৯

আইরিন সুলতানা বলেছেন: কী কী'র সাথে একমত না? কেন একমত না ? আলোচনাটা তো জরুরী ...

৩৪| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৮:৩৫

মগ্নতা বলেছেন: আচ্ছা।

৩৫| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:০৩

কালীদাস বলেছেন: আমি অভ্রের সাপোর্টার। অভ্র আছে, থাকবে, অভ্রই পারবে আপামর বাংলাভাষীদের মাঝে বাংলায় লেখাকে জনপ্রিয় করতে। তবে বিজয়ের ব্যাপারে আমার নিজস্ব কিছু চিন্তা আছে।

বিজয় প্রথম দিয়েছে আমাদের বাংলায় লেখার সুবিধা, কিন্তু মোজা কি আসলে একা এই ইহজীবনে পারত বিজয় বানাতে? সে কি এর সত্যিকারের স্রষ্টাদের যথার্থ মুল্যায়নটুকু করেছে? প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব সে, প্রভাব খাটিয়ে অনেক কিছুই তো করল, তাই বলে আপামর জনসাধারণ যে জিনিস ব্যবহারে সন্তুষ্ট, সেটাকে পাইরেটেড বলার রাইট তাকে কে দিয়েছে? মেহেদি কে স্যালুট, আমি নিজে মেহেদির জায়গায় হলে মোজার নামে কেস করে দিতাম। টাকা দিয়ে যদি কেউ সফটওয়ার কেনে সেটাকে আমি না করব না, কারণ এটা নাহলে দেশে সফটওয়ার শিল্পের প্রসারটুকু হবে না, কিন্তু মুক্তবাজার বাজার অর্থনীতিতে ভোক্তার সর্বোচ্চ স্বাধীনতা থাকবে পণ্য পছন্দ করার, মোজার কোন অধিকারই নেই মনোপলির সৃষ্টি করার।

সবশেষে, মেহেদি এবং অভ্রটিমের সবার জন্য শুভকামনা রইল। এগিয়ে যাক অভ্র।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৫৩

আইরিন সুলতানা বলেছেন: তাহলে আপনি বলতে চান আগামীতে আর নতুন কোন কী-বোর্ড লে-আউট আসবে না??

কিংবা আপনি বলতে চান এখন পর্যন্ত কী-বোর্ড লে-আউটের যা স্ট্যান্ডার্ড তাই যথেষ্ট? আর কোন পরিবর্তন প্রয়োজন নেই ??

এরকম অসম্পূর্ণ বক্তব্য প্রযুক্তির পথে পুরোপুরি অন্তরায়! দুঃখজনক....দুঃখজনক।

৩৬| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:১০

টেকি মামুন বলেছেন: নিরেপক্ষ থেকে খুব ভালো লেখেছেন ।
কিছু ব্যাপার হাইলাইট করি বিজয়ের প্যাটেন্ট মোস্তফা সাহেব ২০০৮ সালে পেয়েছেন ।জাব্বার সাহেব নিজেই এই তথ্য পেটেন্ট পাবার পর কম্পিউটার জগতে দিয়েছেন।আমি নিজেই এটা পড়েছি কম্পিউটার জগতে।
আর অভ্রর প্রতি সবার মায়া মমতার পিছনে বড় একটা কারন হলো আমরা যারা প্রতিবাদ করেছি তারা প্রায় সবাই অভ্র ব্যবহার করি এবং অভ্রর কারনে এত ভালো বাংলা লিথতে পারতেছি।
আমার আরেকটা প্রশ্ন এর আগে যেসব সফটওয়্যার বের হয়েছিলো তারা কি বিজয়ের লেআ্‌উট ব্যবহার করেছেন??যদি করে থাকেন তাহলে তখন জাব্বার সাহেব কই ছিলেন।
খেয়াল করবেন বিজয়ের প্রতি খুব কম মানুষ ক্ষোভ দেখিয়েছেন অধিকাংশ মানুষই জাব্বর সাহেব কে ছীছীছীছ করেছে কারন লোকটাকে লোভী মনে হয়।
এবং তিনি পাগল হয়ে অভ্র+নির্বাচন কমিশনার ইউএনটিভিকে পাইরেটেড বলেছেন।একারনেই উনাকে এত ছিছি করেছে সবাই।

২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৪১

আইরিন সুলতানা বলেছেন: যদি ২০০৮ এও পেটেন্ট পেয়ে থাকেন, তাতেও আমাদের লাভের অংশ কোথায়? কারণ ২০১০ এ তো উনি পেটেন্টের কারণেই কথা বলছেন।

আমার মনে হয় আপনি যেটা পড়েছেন, সেটা হলো, ২০০৮ সালে উনি একটি মামলা জিতেন, উনার প‌েটেন্ট কারণেই। ওই সময় ফেব্রুয়ারি মাসে ডেইলী স্টার পত্রিকাতে রিপোর্ট আসছিল, তাতে বলা ছিল যে, জব্বার সাহেব ১৯৮৮ সালে পেটেন্ট করিয়েছেন।

মামলার কাহিনী হলো, বিজয় কী-বোর্ড লেআউট ছাপানো বাংলা কী-বোর্ড এবং বিজয়ের পাইরেডেট কপির সিডি চীন থেকে বাংলাদেশে আসছিল তার অনুমতি ব্যতীত। মামলা পরবর্তীতে কাস্টমসকে নোটিশ জারি করে আদেশ দেয়া হয় এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে।

উনি মামলা তো উনার পেটেন্টের কারনেই জিতেছিলেন বলেই মনে হয়। জারিকৃত নোটিশে বলা ছিল -

"following assessment of the application it is found that Ananda Computers owns the patent rights of the Bangla printed keyboard."



১৯৯৮ এর পর একুশে প্রজেক্ট বিভিন্ন লে-আউটের সমন্বয়ে ইনপুট সিসটেম ডেভেলপ করে। ওতে মুনির ইউনিকোড, প্রভাত , রূপালী লেআউট ছিল। প্রভাত লেআউট অবশ্য রূপালী লেআউট প্রভাবিত ছিল। প্রভাত কী-বোর্ডের সাথে বিজয়ের অমিলটা সাধারণ চোখেই ধরা পরে। মুনীর কী-বোর্ড তো অনেক আগের পরিকল্পনা। একুশে-টিম মুনীর এর ইউনিকোড করেছিল। মুনীর কী-বোর্ড -ও বিজয়ের সাথে মিলে না। ফলে জব্বার সাহেবের সুযোগ নাই এখানে।



--বিজয় কী-বোর্ড লে-আউট



---প্রভাত কী-বোর্ড লে-আউট (নরমাল মুড)



---প্রভাত কী-বোর্ড লে-আউট (শিফট মুড)

৩৭| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:১২

টেকি মামুন বলেছেন: আরেকটা কথা মোজো সাহেবকে সবাই ছিছি করেছে আরেকটা কারনে কারন বিজয়ের ডেভেলেপার পাপ্পান ভাই নিজেই বলেছেন আমাকে বিজয়ের পেমেন্ট দেয়া হয়নি মোস্তাফা কাগু লোভি এদেরকে দিয়ে দেশের উন্নতি হবেনা।আসলে কাগুয়ে নিজের পায়েই নিজে কুড়াল মেরেছে।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:০০

আইরিন সুলতানা বলেছেন: পোস্টেই বলেছি, উনি অনেক বেশী পজেসিভ, প্রযুক্তিতে উনার অবদানের যে চাপ, তাতে প্রযুক্তির প্রসারে বিঘ্ন হচ্ছে। ....এবং এটাই হওয়া উচিৎ আলোচনার প্রতিপাদ্য বিষয়।

৩৮| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:২০

নষ্ট ছেলে বলেছেন: অভ্রে ধাক্কায় বিজয় এমনিতেই মিউজিয়ামে যাইত হের উপ্রে কাগু যেমনে আতলামি শুরু করছে এখন মনে হইতাছে বিজয় ডাস্টবিনে যাইব।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:৫৫

আইরিন সুলতানা বলেছেন: আপনি আসলে প্রযুক্তিগত সমস্যা নিয়ে আলোচনায় আসতে আগ্রহী নন। আপনি বিজয়ের কী হলো , অভ্রের কী হলো এটুকুতেই মজা পাচ্ছেন।

৩৯| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ৯:২৫

আতিকুল হক বলেছেন: আবেগী আলোচনাটাকে যৌক্তিক পথে আনার চেষ্টাটুকু ভালো লাগলো। এই বিতর্কে অনেক কিছু বেরিয়ে এসেছে। এখন এটাকে কাজে লাগাতে পারলেই হয়। আমার ভাবনাটুকু বলি।

আমি ফোনেটিকে বাংলা লেখি। আমার খুব একটা বাংলা লেখা দরকার পড়ে না, সেজন্য ফোনেটিক প্রচন্ড উপকারি একটা টুল। আমার মত ইউজারদের সংখ্যাই বেশি, তাই ফোনেটিক বেইজড বাংলা লেখার সফটওয়্যার জনপ্রিয় হবেই। এটা নিয়ে ছুৎমার্গে ভোগার কিছু নেই।

প্রফেশনাল লেখালেখির জন্য ফোনেটিক অবশ্যই খুব কাজের জিনিষ নয়। ফ্রিকোয়েন্সি নির্ভর সায়েন্টিফিক্যালি ডিজাইনড কিবোর্ড দরকার। এখন এই কিবোর্ড ডিজাইনের কাজটা কে করবে? বাংলার চর্চাকে এগিয়ে নিতে হলে এটা করা উচিত বাংলা একাডেমীর। কারন এটা মোটেও টেকি কিছু নয় - বাংলা একাডেমী একটা স্ট্যান্ডার্ড লেআউট করে দিলে এইসব সমস্যা ওঠেই না। এই কাজটা করার পথে মোস্তফা জব্বারের মত লোকেরা একটা বড় বাধা।

মুদ্রন শিল্পে বিজয় এখনো অপ্রতিদ্বন্দী তার কারন অনেকটাই সফটওয়্যারগুলোর ইউনিকোড সাপোর্ট না করা। এখানে আমাদের ডেভেলপারদের অনেক কিছু করার আছে। যে কথাটা উঠেছে অভ্রতে আসকি সাপোর্ট অন্তর্ভূক্ত করার, সেটা এই বিতর্কের একটা পজিটিভ আউটকাম।

অভ্র টিমের আদালতে যাওয়ার কোন কারনই দেখছি না আমি। কারন এখনো অভ্র ইউনিবিজয় ব্যবহার করতে না পারার মত পরিস্হিতি সৃষ্টি হয়নি। মোস্তফা জব্বারের উচু মহলে অনেক যোগাযোগ, তিনি বোর্ডের বই লেখেন, কম্পিউটার সমিতির সভাপতি হন, বিটিভিতে অনুষ্ঠান করেন, পত্রিকাগুলো আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে তার লেখা ছাপায়, বিজয় বাজারে অনেক বছর ধরে আছে, টাকাও কম আয় করেননি জীবনে। অভ্র বা মেহেদী সেই তুলনায় শিশু, মোস্তফা জব্বারের প্রলাপে যদি কিছু প্রচার হয় ক্ষতি কী। তবে মোস্তফা জব্বার যদি কোর্টে যান, তখন তার প্যাটেন্টের ভ্যালিডিটিই ইস্যু হিসেবে আসা উচিত। আমি আইনজ্ঞ নই, তবে কমনসেন্স বলে মোস্তফা জব্বারের দাবী টেকা উচিত নয়। তবে বাংলাদেশের কোর্ট বলে কথা!

৪০| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:১৬

পারভেজ রবিন বলেছেন: কিন্তু একটা স্ট্যাবল এন্ড জরুরী। আজ কলিমদ্দি দফাদার কাল রহিমুদ্দি চাকলাদার একটার পর একটা ঘরোয়া কীবোর্ড তৈরী করতেই থাকবে, আমাদের বাঙলাচর্চার ভবিষ্যত হতে থাকবে ধুশর। আমাদের দরকার একটি বিজ্ঞানসম্মত সার্বজনীন কীবোর্ড।

২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৪৩

আইরিন সুলতানা বলেছেন: স্ট্যাবিলিটির সময় তখনই নির্ধারিত হবে, যখন এটা পরীক্ষিতরূপে বোঝা যাবে যে, আমাদের এখন যা আছে তা সবচেয়ে বেশী efficient, দ্রুতগতি সম্পন্ন, আরামদায়ক ইত্যাদি ইত্যাদি।

একটি কী-স্ট্রোকের পার্থক্য যদি একটি ভিন্ন লে-আউটতৈরী করে, তবে তাতে উমুক-তুমুক নামে অহরহই কী-বোর্ড লেআউট আসবে। আবার জব্বার সাহেবের পেটেন্ট থেকে গা বাঁচানোর জন্য মনে হয় ১০০ ভাগ ভিন্নতাই লাগবে।

এই দ্বন্দগুলোর সুরাহা হওয়া দরকার। এভাবে হৈচৈ না করে, আইসিটি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমী এসব ক্ষেত্রগুলোতে আলোচনার দাবি তোলা জরুরী। দরকার হলে আগের সব লেআউট থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত সব লে-আউট নিয়ে পুংখানুপুংখানু গবেষণা, জরিপ করা দরকার। সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাজে লাগিয়ে।

৪১| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:২৮

কালীদাস বলেছেন:
টাকা দিয়ে যদি কেউ সফটওয়ার কেনে সেটাকে আমি না করব না, কারণ এটা নাহলে দেশে সফটওয়ার শিল্পের প্রসারটুকু হবে না, কিন্তু মুক্তবাজার বাজার অর্থনীতিতে ভোক্তার সর্বোচ্চ স্বাধীনতা থাকবে পণ্য পছন্দ করার, মোজার কোন অধিকারই নেই মনোপলির সৃষ্টি করার।

এই অংশটুকু সম্ভবত আপনি খেয়াল করেননি, করলে আমার কমেন্টকে আর যাই হোক দুঃখজনক বলতেন না। সফটওয়ার শিল্পই শুধু না, যে কোন শিল্পের প্রসার ঘটে তখনই যখন একাধিক বিকল্প থাকে এবং একটা সুস্হ কম্পিটিশন থাকে পণ্যগুলোর মাঝে, কম দামে ভাল জিনিস দেয়া আরকি। সফটওয়ারের ক্ষেত্রেও একই কথা, কম দামে অথবা ফ্রি যদি কেউ ভাল কিবোর্ডের লেআউট দেয় সেটা অবশ্যই বর্তমান সেরাটিকে রিপ্লেস করবে।এজায়গাটাতেই জব্বারের কৌশটুকু ভাল লাগল না, নিজেরটাকে শ্রেষ্ঠ দেখানর জন্য অন্যের জিনিসকে পাইরেটেড, হ্যাকিং-এর মাধ্যম বলে দাবি করে বসল। আমার বক্তব্যের কোন জায়গাতেই আমি বর্তমান লেআউটকে স্ট্যান্ডার্ড বলিনি, আর নতুন লেআউট আর আসবেনা এরকম দাবি করা চরম অবান্তর ছাড়া কিছুনা, জানিনা কেন আপনার এমন মনে হল।

অভ্র পছন্দ করার অন্যতম কারণ ছিল এর সহজ ব্যবহারবিধি, যেটা বিজয়ে ছিল না (আমার চোখে)। এখন অন্য কেউ যদি এর চেয়ে ভাল নিয়ে আসে, মানুষ কেন সুইচ করবে না বেটারটাতে?

আশা করি এখন আমার বক্তব্য ধরতে পেরেছেন। পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

৪২| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:২৮

স্পেলবাইন্ডার বলেছেন: আপনার লেখার সাথে একমত।
আমিও আমার শেষ পোস্টে এই কথাটিই ছোট্ট করে বলার চেষ্টা করেছি।
আমরা যারা অনেক আগে থেকে বিজয় সফটওয়্যার ব্যবহার করি আমাদের সেটার প্রতি খানিকটা মমত্ব থাকতেই পারে। এর স্বত্তাধিকারী মো.জাব্বার কি বললেন না বললেন তাতে বিজয় এর ভূমিকা কি ম্লান হতে পারে? কিন্তু ব্লগে এবং অন্যান্য ফোরামে যেভাবে অভ্র অভ্র বলে চিৎকার করা হচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে মো. জাব্বার ও বিজয় উভয়ই অভ্রের প্রতিদ্বন্দ্বী। বিজয় অভ্রের প্রতিদ্বন্দ্বী নয় বরং কম্পিউটারে বাংলা লেখার পথিকৃৎ। আমরা বিজয় পেয়েছি বলেই আজ অভ্র নিয়ে গর্ব করতে পারি। ভবিষ্যতে হয়ত আরও উন্নত বাংলা লেখার সফটওয়্যার আসবে। তখন সেটা নিয়ে গর্ব করব।
মাইক্রোসফট, গ্রামীণফোন, প্রথম আলো ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন কিছু বললেই আমজনতা সেটা লুফে নেয়- মনে হয় এইসব ব্যবসাসফল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কথা বলাটা বীরত্বের প্রতীক। বাংলা সিনেমা হিরো যেভাবে বস্তিবাসীর পক্ষে বড়লোকের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বীরত্ব জাহির করে..... :)

আমি নিশ্চিত মো. জাব্বার কখনই কোন আইনি লড়াইয়ে যাবে না। তাহলে শরীরে আর এক টুকরো কাপড়ও অবশিষ্ট থাকবে না....:)

৪৩| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৪৬

মুনতাসির বিল্লাহ মুন্না বলেছেন: @স্পেলবাইন্ডার: হে হে হে! 'এক টুকরো কাপড়ও অবশিষ্ট থাকবে না' জটিলস কইসেনস......

৪৪| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১১:৪৭

পারভেজ রবিন বলেছেন: আমি কখনো মনে করি না বিজয় বা ইউনিজয় বাঙলাভাষার জন্য সেরা লেআউট। আমাদের বাধা হল আমরা এটা শিখে ফেলেছি। আমাদের এখন প্রয়োজন প্রযুক্তিবিদ ও ব্যাকরণবিদদের নিয়ে একটি কমিটি করে দ্বায়িত্ব দিয়ে আদর্শ কীবোর্ড লেআউট তৈরী করা। দ্বন্দ্ব আর বিতর্কে আমরা দিন দিন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।

আমার মনের কথা এগুলো-
"এই দ্বন্দগুলোর সুরাহা হওয়া দরকার। এভাবে হৈচৈ না করে, আইসিটি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমী এসব ক্ষেত্রগুলোতে আলোচনার দাবি তোলা জরুরী। দরকার হলে আগের সব লেআউট থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত সব লে-আউট নিয়ে পুংখানুপুংখানু গবেষণা, জরিপ করা দরকার। সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাজে লাগিয়ে।"

৪৫| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:১৮

মারূফ মনিরুজ্জামান বলেছেন: আমরা কয়েকজন মিলে কিবোর্ড এর টেকনোলজিটা একেবারে ডালভাত (শুধু টেকনিক্যাল পার্ট) বানানোর চেষ্টা করছি- ২ দিন কাজ করে এখন ইউনিকোড এ লেখা যায় এরকম একটা সফটওয়ার বানানো হয়েছে-

এখন জিনিসটাকে সহজ করার কাজ করে যাচ্ছি- এমন পর্যায়ে যেন নন-টেকি মানুষ ডিজাইন করতে পারে- (যদিও এই বিষয়ে কিছু কাজ অভ্র / বিজয় দুইটাতেই আছে- কিন্তু এটাকে আমরা আরেকটু এগিয়ে নিতে চাই।

আসুন নিজে নিজে বাংলা কিবোর্ড বানাই

সাথে আরও কিছু ফিচার যেমন স্পেল চেকার বানানোর ইচ্ছা আছে-

৪৬| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:৫৫

রিসাত বলেছেন: Don't analyse don't analyse don't go that way... For we're up in my eyes... Funny part is that i love bangla... And ovro has been a remark for the me... Some people thinks they are always right... But people can clearly see they're left hands helping the right one... For my case its together... So the frogs must learn to jump carefully...

৪৭| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১:১০

'লেনিন' বলেছেন: ৩১নং কমেন্টে মাহমুদ হোসেন সাহেব খুব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলেছেন।

কাগু যদিও স্বীকার করে নিয়েছেন যে বিজয়(পুরাতন টাইপিং) এবং ইউনিজয় তুলে নিলেই অভ্র নামক সফটওয়্যারটি পাইরেসীমুক্ত। এমনকি হ্যাকিংয়ের অভিযোগও সাফ কবলা খালাস।

কিন্তু কেনো তিনি অভ্র এবং ওপেন সোর্সের গায়ে দাগ লাগাতে চাইছেন। কেনো তিনি নির্বাচন কমিশন, ইউএনডিপি'র গায়ে দাগ লাগাতে চাইছেন Click This Link
কেনো অন্যান্য সফটওয়্যারে স্পষ্ট বিজয় কীবোর্ড থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোনোদিন মামলা-হামলা উচ্চবাচ্য করেননি তা এখন একটা শিশুবালকও বোঝে। সেটি এই ৫কোটি টাকা হাতছাড়া হওয়া।

আমাদের এখন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে ইউনিজয় কীবোর্ড বা বিজয় কীবোর্ড আসলেই ততোটা প্রয়োজনীয় কিনা। বাংলাদেশের বিছিছি(বাংলাদেশ ছিম্পিউটার ছিউন্সিল) ম্যালা গবেষণা করে বিজয়ের সাথে মাত্র তিনটি কী'এ পার্থক্য উপহার দিয়েছে। ইউনিজয় টীম গবেষণা করেও প্রমাণ করে দিয়েছে জব্বার কাগুর আসলেই কাজের কাজী। তার বিজয়ের আর কোনো অন্যথা হয়না, সুতরাং ঐটারেই কপি মারো!

কী ভুল বললাম?

৪৮| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:৫৩

দ্বিতীয়নাম বলেছেন: উইন্ডোজ প্লাটফরমে চলবে এমন কোন এপ্লিকেশন বানাইতে হইলে কি বিলগেটস বা মাইক্রোসফটের পারমিশন লাগে :-P

৪৯| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৮:৫২

সুচিন্তিত মতবাদ বলেছেন: অভ্রকে ভালোবাসি, লিখছি অভ্রতে।

৫০| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৯:৪৬

ক্যামেরাম্যান বলেছেন: এই সমস্যা আসলে বিজয় আর অভ্র / ইউনিজয় লেআউট নিয়ে না। আমার মতে সমস্যা মোস্তফা জব্বারের আগ্রাসী মনোভাব।
-------------------------------------------------------------------------------
আইরিন, ৪০ নং কমেন্টে আপনার উত্তরের প্রসঙ্গে বলি, বাংলায় একটা প্রমিত কিবোর্ড লেআউটের জন্য একটা কমিটি আছে অনেক আগে থেকেই। তারা একটা জাতীয় কিবোর্ডও উপহার দিয়েছে। তবে এটার বহুল প্রচার এবং প্রচার নেই। বলা চলে এই জাতীয় কিবোর্ড আদতে কেউ ব্যবহার করে কিনা সেটা নিয়েই সন্দেহ আছে।

একটা সর্বজনগ্রাহ্য জাতীয় কিবোর্ডের পক্ষে প্রধান বাধঅ দু'জন। একজন ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী আরেকজন মোস্তফা জব্বার। ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী ক্যানন দেশবাংলা টাইপরাইটারের পরিবেশক ছিলেন। বাংলা টাইপরাইটারের চল উঠে যাওয়ার পর ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী অনেকটাই নিস্ক্রিয়। মাঠে আছেন মোস্তফা জব্বার। এদের দুইজনের পলিটিক্যাল কানেকশন এতো ব্যাপক যে একটি জাতীয় কিবোর্ডের পক্ষে সর্বজনগ্রাহ্য সিদ্ধান্ত নেয়া যায় নাই।

এই দ্বন্দের আপাত সমাধান হতে পারে জাতীয় কিবোর্ডের ব্যাপক প্রচার আর প্রসার। প্রয়োজন বোধে আইন করে এই জাতীয় কিবোর্ড লেআউট সহ প্রতিটি কিবোর্ড আমদানীর ব্যবস্থা করা। তখন দেখি মোস্তফা জব্বার কোথায় যায়।

০৩ রা মে, ২০১০ রাত ১১:৫৮

আইরিন সুলতানা বলেছেন: গুরুত্বপূর্ন প্রসংগ- জাতীয় কী-বোর্ড ।

তবে আমার মনে হয়, আমরা ব্যবহার বহুল বা অতি পরিচিত কী-বোর্ড লে-আউটগুলোকে নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরিক্ষা করে দেখতে পারি, কোনটি আসলেই বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহার বান্ধব হওয়া উচিৎ, আসলেই মান সম্মত।

জাতীয় কী-বোর্ড এর নামকরণের ধরনের জন্যই যেন কেবল গুরুত্বপূর্ণ না হয়।

আরো যেটা যোগ করা যায়, অভ্র মূলত একটি ইন্টারফেস। এখানে বেশ কয়েকটি লে-আউট আছে। ফোনেটিক, ইউনিজয়, অভ্র ইজি, বর্ণনা এবং জাতীয় কী-বোর্ড।

অভ্রর মত জনপ্রিয়তার দাবিদার একটি টুলসের সাথে থাকার পরও তাহলে আমরা জাতীয় কী-বোর্ডের ব্যবহার বাড়াতে পারলাম না কেন?

অভ্রের যে নিজস্ব লে-আউট, সেটা হলো অভ্র ইজি।

মোস্তফা জব্বার অভ্র ইজি কী-বোর্ড লে-আউটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। তিনি অভ্রতে যুক্ত ইউনিজয় নিয়ে কথা বলছেন।

অভ্র ইজি কী-বোর্ড লে-আউটে কতজন টাইপ করে?
ধরে নেয়া যায়, ফোনেটিক এবং ইউনিজয়ই সহজ পছন্দ সবার জন্য।

একটা ফাইনাল গবেষণার খুবই প্রয়োজন এই সময়।

৫১| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:০৬

এস.কে.ফয়সাল আলম বলেছেন: আপনার অনেক কথার সাথেই সহমত।
যদিও আমার পিসিতে বিজয় এবং অভ্র দুটোই ইনিষ্টল করা আছে। নেটে লেখার জন্য অভ্র আর ওয়ার্ডে লেখালেখির জন্য বিজয়.... এটাই ধ্রুবসত্য।

**কিন্তু মো জো এর আচরণের কারণে উনার উপর সবাই বিরক্ত.. তাই বিজয় নিয়ে এত সমালোচনা।

++

৫২| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:১৭

পথেরপথিক বলেছেন: যাঁরা বাংলা কিবোর্ড ব্যবহার করে টাইপিং করেন তাঁরা বিজয় ব্যবহার করেন কারণ এটা মুখস্থ আছে, অন্য কিবোর্ড মুখস্থ করা কি সম্ভব বা চাপিয়ে দেওয়া উচিত। ইউনিজয় বিজয় কিবোর্ড এর আপডেট ভার্সন হ্ওয়া উচিৎ যেমন লিভার থেকে ইউনিলিভার এসেছে। ইউনিজয় যদি আলাদা প্রতিপক্ষ হয় তবে বুঝতে হবে খারাপ মতলব আছে।

ক,খ, ...মূল অক্ষর মুখস্থ করা তো আসল ব্যাপার তাইনা, শুধু :,ঁ ,ৎ এগুলো পরিবর্ত্তন করে আলাদা কিবোর্ডের মালিক হতে চাওয়াটা অন্যায় বরং বিজয় কিবোর্ড কে ইউনিকোডের সাথে উৎসর্গ করার স্বার্থে ইউনিজয়কে মেনে নেওয়াটা সহজ, তবে অন্য কোন স্বার্থে নয়।

মাইক্রোসফ্ট উইন্ডোজ যেমন কেউ পয়সা দিয়ে কেনেনা তেমনি বিজয়ের জন্য পয়সা লাগেনা এর কোড ১১১১১১১১১১১১১১১১১১১.... সবাই জানে (পুরাতন ভার্সন)। বিজয় ব্যবহার কারী অনেক, এদের কাছে অভ্র সফটওয়ার রিপ্লেস করার প্রক্রিয়াটাই চলছে, ইউনিজয় কিবোর্ডের নামে। আজ যদি বিজয় সফটওয়ার না থাকত তবে অভ্রকি বানিজ্য করত না । আসলে মোস্তফা জব্বারের নাম ভাঙ্গিয়ে যারা এতদিন বানিজ্য করেছে মূলত তারাই তাঁর পিছনে লেগেছে ।

৫৩| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ১১:৩৮

পথেরপথিক বলেছেন: মাইক্রোসফ্ট উইন্ডোজ যেমন কেউ পয়সা দিয়ে কেনেনা তেমনি বিজয়ের জন্য পয়সা লাগেনা এর কোড ১১১১১১১১১১১.... সবাই জানে (পুরাতন ভার্সন)।
সংযোজন: মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এর সিডির দাম ২৫ টাকা তেমনি বিজয় সহ অন্যান্য সফটওয়ারের দাম ২৫ টাকা মাত্র।

৫৪| ২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:১০

ফারনার বলেছেন: এরকম একটি পোষ্ট খুব দরকার ছিল - ধন্যবাদ

বিজয় তার অবস্থানে এখনো সেরা বা অপরিহার্য - আমরা যারা প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য কাজ করি তারা এটা বেশ ভালই উপলব্ধি করি - অভ্র বা অন্যান্যরা এখানে একেবারেই অনুপস্থিত।

আর দন্দ্বটা মূলত সফটওয়্যার না - শুধুমাত্র কী-বোর্ড লেআউট নিয়ে হবার কথা ছিল - আর সেক্ষেত্রে ৯৯% নকল কে আমি অন্তত নকলই বলব।

তবে মোস্তফা জব্বার সাহেব এর কর্মকান্ড, বক্তব্যকেও সমর্থন করা যায় না।

একজন সাধারণ ইউজার হিসেবে এতটুকু বুঝি এখনো অনেক কাজ বাকী - আর একটি পূর্ণাঙ্গ বাংলা সফটওয়্যার এখনো অনুপস্থিত, তাই আমিও আপনার মত কারো পাশে দাঁড়াবার হুজুগে নাই।

২৫ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৮

আইরিন সুলতানা বলেছেন:
মোস্তফা জব্বারের অহমিকা নিয়ে কারো কোনই দ্বিমত নেই। এখানটায় আমরা সকলেই একমত। কিন্তু মোস্তফা জব্বারকে যে প্রয়োজনীয় যৌক্তিক জবাবগুলো আমরা ঠিক যেভাবে দিতে পারতাম তা হলো না। কোন ঘটনাকে টেনেটুনে বড় করাও আমাদের স্বভাব, এই ঘটনাকেও আমরা টেনেছি, তবে তা একেবারেই উল্টো রথে..প্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভাবে.এখানে প্রযুক্তিবিদরা এসে কী-বোর্ড সংক্রান্ত তথ্য-লজিক দিতে পারতেন। কিন্তু আমাদের কারো আগ্রহই সেদিকে নেই ! প্রযুক্তিগত একটা প্রয়োজনীয় ইস্যুকে গুবলেট করে ব্লগের ক্যাচাল বানিয়ে দিচ্ছি আমরা! আমি চেষ্টা করলাম ভুল-শুদ্ধ মিলিয়ে কিছু সম্ভাব্য, প্রয়োজনীয় টপিক তুলে ধরার, যারা প্রফেশনাল, তারা এটা নিয়ে কথা বললে, ভুল-শুদ্ধ মিলিয়ে একটা পরিণতি তো পাওয়া যাবে। শেষ পর্যন্ত আমরা প্রযুক্তিপ্রেমী আসলে...নির্দিষ্টকো সফটওয়্যারপ্রেমী না।

আর একটি পূর্ণাঙ্গ বাংলা সফটওয়্যার এখনো অনুপস্থিত ---- তাহলে তো আমাদের গবেষণায় ঘাটতি আছে, তারমানে আমাদের সেই ঘাটতিটা পূরণ করা দরকার। সফটওয়্যারের মান যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এক্ষেত্রে।

আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ রাসেল ভাই।

৫৫| ২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৩১

কাব্য বলেছেন: "বিজয় ওয়াজ ওয়ান অফ দ্য বিগিনার্স এ্যান্ড অভ্র ইজ নট দ্য এন্ড"- কথাটির সাথে পূর্ণ সহমত পোষণ করলাম।

এখানে দুটি কথা খুব জোরেসোরে বলা হয়েছে-
-- নকল লে-আউট।
-- পাইরেটেড।

১.স্কুল কলেজে নকল বলতে বুঝতাম বই-খাতা থেকে তুলে আনা লেখা হুবহু পরীক্ষার খাতায় তুলে দেওয়া আর প্রোগ্রামিং জগতে এসে নকল না বলে সেটাকে কোনো কোডের কপি-পেষ্ট বলা হয়।
স্বভাবতঃই অভ্র বলতে পারে তারা অন্য কোনো কি-বোর্ডের সোর্স কোড কপি-পেষ্ট করে নাই।তার মানে তাদের লে-আউট অথবা কোড নকল নয়।তাহলে কি হইলো !! মোস্তফা জব্বার সাহেবের কথা কি পুরোটাই ভুল ?! আমার মনে হয় এখানে কেউই ভুল না, ভুল হলো আমাদের বলার ধরনের।
টেকনোলজির যে কোনো ক্ষেত্রে দুই ধরনের পরিবর্তন হয় একটি হলো evolution আর একটি হলো revolution। evolution হলো পূর্বের কোনো জিনিসের উপর ভিত্তি করে নতুন কোনো কিছু বানানো বা ভার্সোনাইজেশন আর revolution হলো একেবারে নতুন কিছু সৃষ্টি করা।আমার মনে হয়, একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউই revolution এর ব্যাপারটার দাবী করতে পারে নাহ। তার মানে আমাদের টেকনোলজী হইলো পুরোটাই evolution।সুতরাং কেউ কোন কিছু বানাইলো এর মানে সে পূর্বের কিছুর উপর ভিত্তি করে জিনিসটা দ্বার করাইছে,মানে evolution হইছে। আর প্রতিটা evolution এর বদৌলতে যেকোনো টেকনোলজী আরো enriched,efficient এবং user friendly।
বিজয়ের লে-আউট কিন্তু নিজের কোনো লে-আউট নয়।এটা QWERTY এর লে-আউট।সুতরাং মোস্তফা জব্বার সাহেব ও তার টিম এই লে-আউটের বিজয় লে-আউটের মাধ্যমে কম্পিউটারে বাংলা লেখার জন্য evolution এর কাজ করেছে এবং এটা হলো ওয়ান অফ দ্যা বিগিনার্স। আর অভ্র টিম থেকে বলা হয়েছে "একটি মাত্র কী -এর পার্থক্যই জন্ম দেয় নতুন একটি কীবোর্ড লে-আউটের।" আর তাদের লে-আউটের কোনো কি-ই যে বিজয়ের লে আউটের সাথে মিল নাই তা কিন্তু বলছেনা।তাহলে এখানেও আমরা evolution এর চিহ্নই দেখতে পাই। আর সেজন্যই বাংলা টাইপিংয়ের ক্ষেত্রে অভ্র বিজয়ের চেয়ে বেশী enriched,efficient এবং user friendly।ভবিষেৎ আরো কিছু পাবো বলে আশা করছি।

২.পাইরেটেড ব্যাপারটার মানে বলতে আমি যা বুঝি তা হলো বেআইনীভাবে অন্যের জিনিস প্রকাশনা।ইউনিজয় ব্যবহার করেছে বিজয়ের কিছু লে-আউট আর অভ্র ব্যবহার করেছে ইউনিজয়ের কিছু লে-আউট।তাই জব্বার সাহেব বলতেছেন অভ্র হইলো পাইরেটেড।আমি এইটা বুঝতে পারতেছিনা যে, জব্বার সাহেব কেনো অভ্রের সোর্স কোড দেখতে চাচ্ছেন নাহ। তাহলেতো ঐ কোডের ভেতর বিভিন্ন লুপ,ডাটা-স্ট্রাকচার, এলগরিদম,কি-স্ট্রোক হ্যান্ডলিং আছিলো সেইগুলারেও পাইরেটেড কইতে পারতো :|| যা কিনা পাপ্পানা ভাই বিজয়ের সোর্স কোডে করে গেছেন।বলদাগুলান এইটা কেনো বোঝেনা যে একটা নতুন এলগরিদম হলো আগের এলগরিদম গুলা নিয়া গবেষনার ফল।অখন নতুন এলগরিদমেতো পুরানটার কিছুনা কিছুতো থাকবোই।তাই বইল্ল্যা তুমি বিজয় বানাইয়া রাখছো দেইখ্যা, অন্য কেউ efficient কিছু বানাইতে পারবোনা কেমতে কি :-* !! তার মানে 8086x এর প্রসেসর আমরা অখনো ব্যবহার করমু extended core বাহির করা যাইবো না !! আজকের extended core গুলাতো সেই মান্ধাতা আমলের ২টা-৪টা ইন্সট্রাকশন ফেস করার প্রসেসর গুলার ফসল ,তাই না?

আমাগো দেশটারে যারা লিড দিতাছে তার মধ্যে বেশীরভাগই মাথামোটা পাবলিক। এইসব মাথামোটা পাবলিকের সাথে টেকিলিডাররা যোগ না দিলে তারা ভালো কভারেজ পায়না। আর তাগো লগে তাল মিলাইতে গিয়া তাগো মাথাও যায় মোটা হইয়া। আর এইসব মাথামোটা লুকজনের মধ্যে গ্রুপিং শুরু হয়। কেউ আবেগে বশবর্তী হয় "বিজয় বাংলা টাইপিংয়ে প্রথম আলো দেখাইছে" কেউ আবেগে বশবর্তী হয় "ভাষা হোক উন্মুক্ত" আর আমরা ম্যাঙ্গো পাবলিক বইসা বইসা মজা দেখি।কামের কাম কিছুই হয়না শুধু সময় নষ্ট হয় !! আমরা বাঙালী মাওলানা ভাষানী, হোসেন সোহরাওয়ার্দী এনাদের কথা ভুলে যাই, মারামারি করি শেখ মুজিবর রহমান , জিয়াউর রহমানকে নিয়া। কিন্তু আবেগী বাঙ্গালী বোঝেনা ভবিষৎতে আমদের সামনে জয়, তারেক রহমান ওয়েট করতেছে। ভুইল্ল্যা গেলে হবেনা- "Time is an old gypsy man" আইজকা অভ্রের জন্য জীবন দিয়ে দিতেছি, কাইল্কা এইটারে উষ্ঠা দিতে কার্পণ্য করবোনা।


এখানে মোস্তফা জব্বার সাহেবের যেমন আচরণগত(বালখিল্য) সমস্যা দেখা গেছে তেমনি অভ্র-টিমের মাঝে দেখা গেছে অনুজের প্রতি কৃতজ্ঞতার অভাব। আর আমরা হুজুগে নাচা আবেগী বাঙ্গালীর আবেগ উপচাইয়া সুনামী বইয়ে দিয়েছি।

আমরা এখনো বাংলা টাইপিংয়ে জন্য পূর্ণাঙ্গ সফটওয়্যার পাইনি,আশা করছি, ভবিষৎতে আরো ভালো কিছু পাবো।সোওওওও .......

"বিজয় ওয়াজ ওয়ান অফ দ্য বিগিনার্স এ্যান্ড অভ্র ইজ নট দ্য এন্ড"

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:৫০

আইরিন সুলতানা বলেছেন: ...বিজয়ের লে-আউট কিন্তু নিজের কোনো লে-আউট নয়।এটা QWERTY এর লে-আউট।

--- খুবই ভালো একটা পয়েন্ট।

তবে ইংরেজী কী-বোর্ড লে-আউটের ক্ষেত্রে মূলত পুরো কী-বোর্ডজুড়ে কী-স্ট্রোকগুলোর পজিশন কী রকম হবে অর্থ্যাৎ কী-বোর্ডে কী-স্ট্রোকগুলোর ফিজিক্যাল লে-আউট পরিকল্পনা নিয়েই গবেষণা হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে QWERTZ, QWERTY, Dvorak কী-বোর্ড লে-আউটগুলোর আবির্ভাব। QWERTY'র ব্যবহার সার্বজনীন হলেও সম্ভবত ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে QWERTZ 'র প্রচলন দেখা যায় অনেকটা।

আমাদের দেশে বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট করার সময় খুব সম্ভবত আমাদের গবেষকরা সার্বজনীন কী-বোর্ডে কী-স্ট্রোকগুলোর পজিশন নিয়ে কোন নড়চড় করতে চাননি। বরং ইংরেজী বর্ণমালা দিয়ে যে ফিজিক্যাল লে-আউট বিদ্যমান সেই এরিয়ার মধ্যে থেকেই বাংলা বর্ণমালাগুলোকে বসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। না হলে হয়ত আমাদের বাংলা আর ইংরেজীর জন্য আলাদা করে কী-বোর্ড হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা লাগতো। অথবা বাংলা লে-আউট করার পর, তাতে ইংরেজী'র জন্য একটা ভিন্ন লে-আউট করতে হতো। তাতে কিন্তু ইংরেজী টাইপিংয়ের স্টান্ডার্ড থেকে আমরা ভিন্ন হয়ে যেতাম।

কেবল বিজয় নয়, সেই মুনীর লে-আউট, একুশের স্বাধীনতা ইউনিকোড লে-আউট, প্রভাত লে-আউট অথবা অভ্র ইজি লে-আউট , সবাই QWERTZ -র উপরই কাজ করছে।

...আর তাদের লে-আউটের কোনো কি-ই যে বিজয়ের লে আউটের সাথে মিল নাই তা কিন্তু বলছেনা।

--- অভ্র টিম এখনকার বক্তব্যে বলছে যে ইউনিজয় লে-আউট তাদের টুলসের সাথে আছে তাতে ৮টি কী-স্ট্রোকের পার্থক্য আছে। অভ্র টুলস নিয়ে ওয়েবে বলা আছে, এতে ইউনিজয় যুক্ত রয়েছে, যার ৯৯% মিল রয়েছে বিজয়ের সাথে। পার্থক্য তো অবশ্যই রয়েছে। ইউনিজয় হলো ইউনিকোড ভিত্তিক। এখন একজন পেটেন্টধারী কেবল ডিজাইনের ৯৯% মিলের জন্য অভিযোগ তুলতেই পারে কিন্তু। বিজয়ের পেটেন্টের বিস্তারিত নিয়ে এই মুহূর্তে খুব বেশী কিছু না জানলেও, ধরে নেয়া যায়, পেটেন্ট লংঘনের জন্য কেবল ডিজাইন মিলে যাওয়াও একটা ইস্যু হতে পারে, সেক্ষেত্রে তো এলগোরিদম না মিললেও সমস্যা নেই। মিলে গেলে সেটা পেটেন্ট লংঘনের আরেক ইস্যু হতে পারে।

এটা তো সত্য যে বিজয় জানে, তার ইউনিজয়ে টাইপ করতে সমস্যা হয়না। এবং এটা ভাইস ভার্সা।

...আমরা এখনো বাংলা টাইপিংয়ে জন্য পূর্ণাঙ্গ সফটওয়্যার পাইনি

---- বাংলা টাইপিং টুলস অনেকগুলাই পাইসি আমরা এখন পর্যন্ত। নানা রকমের কী-বোর্ড লে-আউট। কিন্তু এগুলোর নিজস্ব বিশেষত্ব তো আছেই। কিন্তু এই লে-আউটগুলো নিয়ে কাজ করার সময় এনালিস্টরা কী কী দিক ভেবে দেখেন? বা আমরা যখন বলি, এই কী-বোর্ড ভালো, ওইটা ভালো না তখন কিসের ভিত্তিতে বলি- আমাদের অভ্যস্ততা নাকি রীতিমত বৈজ্ঞানিক তুলনার ভিত্তিতে?

কেউ কেউ বলেন, জাতীয় কী-বোর্ড প্রচারনার অভাবে বাজার পেলোনা। কিন্তু মোটামুটি সবকটি সফটওয়্যারের (একুশে, অভ্র) সাথে জাতীয় কী-বোর্ড লে-আউট যুক্ত ছিল। তবে ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণের অভাব ছিল হয়তবা।

ঠিক ফিচার দিয়েই কেবল স্ট্যান্ডার্ড যাচাই করা যায় না। Dvorak কী-বোর্ড QWERTY থেকে কেন ভালো এটার জন্য Dvorak টিম থেকে রীতিমত বিভিন্ন প্রকার টেস্ট করা হয়েছে। অনেক কমন শব্দ নিয়ে প্রতিটি শব্দের টাইপিং স্পিডের তুলনা চার্ট আকারে প্রকাশ করা হয়েছিল। এছাড়া Dvorak কী-বোর্ড লে-আউট শুরুতেই গবেষণা করে দেখিয়েছিল QWERTY কী-বোর্ড কোথায় কোথায় ইউজারকে ক্লান্ত করে দেয়। তারমানে কোডিং/এ্যালগোরিদমের আগেই কেবল কী-স্ট্রোকের পজিশন ডিজাইনিং, মানে লে-আউট কিন্তু একটি বিশাল গবেষণা। এই প্রেক্ষিতে আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত যতগুলো বাংলা কী-বোর্ড লে-আউট রয়েছে তাদের মধ্যে কোনটি বৈজ্ঞানিকভাবে মানসম্মত তার কি কোন পরীক্ষা-নিরিক্ষা করা হয়েছে? বা আমরা কী-বোর্ডের মান যাচাই নিয়ে ভাবছি কি? একটি মাত্র কী-স্ট্রোকের পার্থক্য অবশ্যই একটি নতুন লে-আউট জন্ম দিতে পারে, কিন্তু তাহলে তো একটার পর একটা লে-আউটের জন্ম হবে এবং সেটা কি খুব ভালো কিছু হবে !

২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:২৯

আইরিন সুলতানা বলেছেন: সবাই QWERTZ -র উপরই কাজ করছে।
-----

*** QWERTY

৫৬| ২৬ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ২:৫৩

ইউনুস খান বলেছেন: পোস্টে +

৫৭| ২৭ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:০০

তীব্র রঙিন বলেছেন: এই লেখাটা পড়েন নি?

কিংবা এটা?

আপনার অনেক প্রশ্নের বোধহয় জবাব পাবেন।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ দুপুর ১:০০

আইরিন সুলতানা বলেছেন: আপনি কি এই পোস্টটি পড়েছেন? তাহলে বুঝতেন যে, আমি সচলায়তনের এই লিংকটি পড়েই আমার বক্তব্য দিচ্ছি।

ধন্যবাদ আপনাকে।

৫৮| ২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৯

'লেনিন' বলেছেন: জ্বীনেরবাদশার পোস্টে একটি মন্তব্য দিলাম অনেকের কাজে আসতে পারে।

আরো একটি তথ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার তথা হোয়াইট হাউজের ওয়েব ডেভেলপার টীম তাদের রদবদলকৃত কিছু অপটিমাইজেশন এবং ইনোভেশন জনপ্রিয় সিএমএস দ্রুপালের জন্য কন্ট্রিবিউট করে। উল্লেখ্য দ্রুপাল বেশ উন্নতমানের একটি সিএমএস সচলায়তন ব্লগটিও দ্রুপালে করা। http://www.drupal.org

২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:২৭

আইরিন সুলতানা বলেছেন: ওখানে জোরেসোরে একটা আলোচনা চলছে দেখা যাচ্ছে ।

আপনার মন্তব্যের কিছু পাঞ্চিং অংশ তুলে দিলাম এখানে, "অনুমতি" পাবার অপেক্ষা না করে :)

***

...গত বিশ বছরে বেশ ক'বার কিন্তু ফ্রিকোয়েন্সী নিয়ে গবেষণা হয়েছে। সার্বজনীন প্রমিত একটি কীবোর্ডের চেষ্টা বেশ ক'বারই হয়েছে। কিন্তু জাতীয়, ইউনিজয়, ইউনিবিজয় ছাড়াও অন্যান্য গবেষিত লেআউটগুলো সবই শেষ পর্যন্ত বিজয়ের কাছাকাছি হয়ে গেছে। হয় তারা গবেষণা না করেই জব্বার সাহেবের লে-আউট স্তুতিতে মজে ছিলেন। এবং এসাইনমেন্ট জমা দেবার শেষ মুহূর্তে কপি-পেস্ট দিয়ে খানিকটা রদবদল করেছেন।...

...আবার এই সঙ্গে আমার একটি আশঙ্কা হলো কোয়ার্টি(QWERTY) লেআউট যেমন ডিভোরাক(Dvorak) বা অন্য কোনো কীবোর্ড লেআউটকে বাজারে আসতেই দেয়নি বা জনপ্রিয় হতে বাধা দিয়েছে। সেই একই কারণে বিজয় কীবোর্ডও ভবিষ্যতে এখনো অনাবিষ্কৃত মোস্ট অপটিমাইজড ফ্রিকোয়েন্সি নির্ভর দ্রুততম টাইপিং সহায়ক লেআউটকে প্রচার বা প্রসারে বাধা দেবে। ফলত তা আর প্রচলিত হবেই না। বরং কাগুর এই কীবোর্ডই চলবে।...

...সিউল রায়হানের প্রসেডিরাল পদ্ধতিও মিলে যায় বিজয়ের সাথে। সুতরাং দেখেও না দেখা তো উচিৎ নয়। আমাও ঔৎসুক্য আছে জানার বিজয়ের চেয়েও দ্রুততম এবং আরো অপটিমাইজড লেআউট সম্ভব কিনা। কিন্তু আমাদের অতীত গবেষকগণ বিনামূল্যের যে ন্যাশনাল উপহার দিয়েছেন তাও বিজয়ের সাথে নাকি মাত্র তিনটি কী এর তফাৎ। কাগুরও সেগুলো নিয়ে কোনোই মাথাব্যথা নেই। শাইলকের মতো চাই one pound of flesh অর্থাৎ
অভ্রকে পাইরেটেড,
ওপেন সোর্সকে পাইরেসীর ইন্ধনকারী,
নির্বাচন কমিশন ও ইউএনডিপিকে পাইরেসীর পৃষ্ঠপোষক,
অভ্র টীমকে হ্যাকার,
ইউনিবিজয় বিজয়ের প্যাটেন্ট, ট্রেডমার্ক, কপিরাইট লঙ্ঘন
ইত্যাদি অভিযোগে অভিযুক্ত করছেন।...

...প্রতিদিন একটা করে নতুন নতুন কীলেআউট করে কী লাভ হবে? অনলাইনের ব্লগাররা এবং নতুন প্রজন্ম যারা মূলত বাংলা শিখতে চায়না তারা তো ফোনেটিকেই থাকবে। ফিক্সড শিখবে না। আর প্রফেশনালরা? কেউ বিশ বছর বা তারো বেশি সময় ধরে- মুনীর, বিজয় ইত্যাদিতে অভ্যস্ত আছেন। তাদেরকে আপনি অভ্যাস বদলাতে বললে কিন্তু তাদের পেটে লাথি মারার সামিল হবে। কারণ তাদের অভ্যাস একদিনে গড়ে উঠেনি।...

... বাঙালি হিসেবে আমি বাংলার জন্য প্রতিটি স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জন, কার ইত্যাদির জন্য আলাদা স্থানীয় কী বিশিষ্ট লেআউট চাইবো যেমন- ইউনিজয়। বাংলাই যদি লিখবো কেনো ইংরেজিতে বানান করে?...

***

৫৯| ২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:১৭

ফিউশন ফাইভ বলেছেন: মু আ হাকিম নিউটনের লেখাটার পর আপনার এই লেখাটা বিজয়-অভ্র ইস্যুতে সবচেয়ে নির্মোহ ও গুরুত্বপূর্ণ লেখা। দুর্দান্ত লিখেছেন। এই লেখা পড়ার পর ব্লগের অভ্র-হুজুগকে রীতিমতো অশ্লীল মনে হচ্ছে।

২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১০:৫৪

আইরিন সুলতানা বলেছেন: আমি অবশ্য সরাসরি অশ্লীল বা ফ্যাসিস্ট শব্দটা ব্যবহার করতে চাইছিনা। এতে হুজুগটাতে ভিন্ন ক্রোধ জাগার সম্ভাবনা থাকে।

আজকে ফেসবুকে ব্লগার জায়েদুল আলমের লিংক পোস্ট থেকে জাকারিয়া স্বপনের একটি ফেসবুক নোট পড়লাম। তিনি টেকি অংশটা নিয়ে ছোট্ট করে বললেও এটার ফয়সালা আইনি লড়াইয়েই হোক প্রয়োজনে এদিকটাতে জোর দিয়েছেন। বাকি অংশ আমাদের সাইবার যোদ্ধাদের জন্য কিছু বক্তব্য ছিল তার।

এই লেখাটির পর পক্ষে-বিপক্ষে অনেকেরই আরো কিছু যোগ করার সুযোগ রয়েছে হয়তবা।...আপাতত লেখাটি এখানে রেফারেন্স হিসেবে কপি-পেস্ট করছি ...

***
Zakaria Swapan: অভ্র, বিজয় এবং একজন রিক্সাচালকের হাত

Today at 6:49am
মূল বিষয়টিতে যাওয়ার আগে,আমার জীবনের একটি ঘটনা বলি।
আমি যখন বুয়েটে পড়ি, তখন আমার বন্ধুদের বিশাল একটা দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তো। এবং সৌভাগ্য বশত ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদলের পুরো নেতৃস্থানীয় লোকজনগুলোই ছিল আমার ক্লাস মেট, নয়তো ঢাকা কলেজের হোষ্টেল মেট। তাদের কারো কারো নাম লিখলে, অনেকেই অবাক হবেন জানি, কারন তাদের অনেকেরই নাম দেয়ালে দেয়ালে শোভা পেত। তাই কারো নাম না উল্লেখ করেই বাকি গল্পটা বলি।

এরশাদ সরকারের সেই সময়ের ক্যাম্পাসের কথা যদি কারো মনে থাকে, তাহলে তারা নিশ্চই জানেন, কতটা উত্তাল ছিল সেই ক্যাম্পাস। সেই ঢেউ এসে মাঝে মাঝে লাগতো আমাদের গায়েও, যারা সরাসরি কোন রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম না।

কোন রকম আভাস ছাড়াই মাঝে মাঝেই গুলাগুলী শুরু হয়ে যেতো। বন্দুক যুদ্ধে পড়েছি অনেক বার। একবার এমন যুদ্ধের মাঝে পড়ে গেলাম। ভিসির বাড়ির সামনে যে মাঠটা, সেই মাঠের সামনে থেকে অপরাজেয় বাংলা পর্যন্ত যুদ্ধ চলছে। আমরা কয়েক বন্ধু মাটিতে শুয়ে পড়লাম। গাছের পেছনে লুকালাম। তারপর স্ক্রল করতে করতে যখন রাস্তায় উঠে এলাম, তখন দেখি সেখানে কাটা রাইফেল নিয়ে আরেক দল দাড়িয়ে আছে। সেই ভীড় থেকে দুজন পিস্তল হাতে আমাদের দিকে এগিয়ে এলো। হাতের জামা গুটাতে গুটাতে আমাদের সামনে এসে গালি দিয়ে বললো, "তোরা এখানে কী করিস, যা ভাগ।"

আমরা ভাগলাম না। রাস্তায় একটু দূরেই দাড়িয়ে থাকলাম। কারন মুখগুলো আমাদের চেনা। বুকের ভেতর টিপটিপ করছে।

দূর্ঘটনাটা একটু পরেই ঘটলো। গুলি লেগে একজন মাঠের উপর পড়ে গেলো। তাকে বাচানোর জন্য আরো দুজন ঝাপ দিল। একজন চেচিয়ে বলেলো, "তুই আমাকে কাউন্টার দে, আমি ওকে নিয়ে আসি। "

একজন অনবরত গুলী ছুড়ছে, কাউন্টার দিচ্ছে। আরেক জন্ তার আহত বন্ধুকে আনতে স্ক্রল করে এগিয়ে যাচ্ছে। বিপরীত দিক থেকেও তখন গুলী হচ্ছে। একজন বন্ধুকে বাচানোর জন্য আরেকজন বন্ধুর এমন জীবন বাজি আমি নিজের চোখে আগে কখনো দেখিনি। বন্ধুত্বের চরম পরীক্ষা দিতে নেমে গেছে রণক্ষেত্রে। গুলাগুলী আরো ছড়িয়ে গেলে আমরা টিএসসির কাছে চলে আসি। কিন্তু একটু পরেই শুনতে পাই, আহত বন্ধুকে আনতে গিয়ে সে নিজেই মারা গেছে।


গল্পটি বললাম এটা বুঝানোর জন্য যে, তরুনদের ক্ষমতা কত অসীম হতে পারে, এবং তাদের বিশ্বাস কত দৃঢ় হতে পারে। সেই বিশ্বাসে কেউ আঘাত করলে, জীবন দিতেও তারা সামান্য চিন্তা করে না। আমি ভাষা আন্দোলন দেখিনি, উনসত্তর দেখিনি, মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। কিন্তু ক্যাম্পাসে রক্ত গঙ্গা বইতে দেখেছি। একবার নয়, বহুবার। এবং আমি অনুমান করতে পারি, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ কত সহজ ছিল, মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে ঝাপিয়ে পড়ে জীবন দেয়া কতটা স্বাভাবিক ছিল। এটা পুরোটাই সম্ভব হয়েছে, বয়সের কারনে। ওই বয়সটাই এমন। সব কিছু সোজাভাবে দেখতে ইচ্ছে করে, আকা-বাকা পথ ভালো লাগে না, সামান্য কথাতেই আত্মসন্মানে লাগে, পরীক্ষার হলে কার পাশে কে বসবে সেটাও একটা বিশাল বড় ইস্যু হয়ে দাড়ায় - এই সবি হয় বয়সের জন্য, তারুণ্যের জন্য। রক্ত আর পানির ভেতর কোনো পার্থক্য বুঝে না সেই বয়স। জীবন যেন সিগারেটের ধুয়ার মতোই উবে যাওয়ার বস্তু। কিংবা টিএসসির দেয়ালে বসে চা খেতে খেতে খেতে রাজা উজির মারাই হলো জীবন। আবেগ আমাদেরকে ঘীরে রাখে বলেই, ওই সময়টাই যেকোন মানুষের জীবেন সবচে ভালো সময়। আমি আজো সেই জীবনটা ফিরে পেতে চাই।

আজকে যারা অভ্র নিয়ে যুদ্ধ করছে, তাদের বয়স অনেকটা তার কাছাকাছি। তাই তাদের প্রকাশটাও অনেক সোজা-সাপ্টা, সংকোচহীন, সাহসী এবং আবেগ ভেজা। মোস্তফা জব্বার ভাই তাদেরকে "পাইরেট" বলেছে, আর অমনি তারা ভিমরুলের মতো ঝাপ দিয়ে পড়েছে। এবং অবস্থা এখন এমন জায়গায় গিয়ে দাড়িয়েছে যা আমার দেখা সবচে নোংরা সাইবার যুদ্ধ। হাজার হাজার ছেলেমেয়ে এটাতে জড়িয়ে গিয়েছে। অনেকটা যেন, নিজের ভাষাকে বাঁচানোর জন্য আরেকটা বায়ান্নো।

কোন সফটওয়্যারটি ভালো আর কোনটি খারাপ, কে কী দোষ করেছে ইত্যাদি বিষয়ে লেখা আমার উদ্দেশ্য নয়। যদি অভ্র সত্যি সত্যি বিজয় কীবোর্ড লেআউট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করে থাকে, তাহলে সেটার ফয়সালা কোর্টে হোক, এই সাইবার স্পেসে নয়। দেশে আইন আছে, সেই আইন অনুযায়ী ঠিক-বেঠিক নির্ধারিত হোক। সেই জন্যই দেশে এখন কপিরাইট আইন রয়েছে। অভ্র সেই আইন ভঙ্গ করেছে কি না, সেটা ওখানেই বিবেচিত হোক। তার আগেই অভ্রকে দোষী করা ঠিক হবে না।

আবার একই ভাবে ব্যক্তি মোস্তফা জব্বারকে যেভাবে আক্রমন করা হচ্ছে, সেটাও গ্রহনযোগ্য নয়। একটি বিষয় আমরা ভুলে গেছি। বিতর্কের বিষয় হওয়া উচিৎ "আনন্দ কমপিউটার" বা "বিজয়" বনাম "অভ্র"। এখানে ব্যক্তি মোস্তফা জব্বার বা ব্যক্তি মেহেদি হাসান খানকে সরাসরি আক্রমন করা ঠিক নয়। যেমন মাইক্রোসফট মানেই কিন্তু বিল গেটস নয়; বা ল্যারী পেজ মানেই গুগল নয়। মাইক্রোসফট আর গুগল তো সারাক্ষণ টানাটানির ভেতরই রয়েছে। তাই বলে কি বিল গেটস আর ল্যারী পেজ ব্যক্তগতভাবে শত্রু? মোটেই নয়।

আমি এই ফেসবুকেই অনেক লিংক দেখেছি, যেগুলোর শীরনাম দেখেই আমার আর পড়তে রুচি হয়নি। আমি বুঝতে পারছি, যৌবনের প্রতিক্রিয়া এমনি হয়। কিন্তু তারপরেও একটি বিয়ষ কি আমরা ভাবতে পারিনা - এই মানুষটি আমাদেরই মাটির মানুষ! আমারি বড় ভাই, আমারি পিত্যৃ তুল্য। এই বাংলাদেশের জন্য, এই ভাষার জন্য, এই মানুষের জন্য তার কি কোনো অবদান নেই? আমি ব্যক্তি মোস্তফা জব্বারকে চিনি, তার সাথে কাজ করেছি - সেই বুয়েট জীবনের প্রথম বর্ষ থেকে, যখন আমরা আইবিএম এক্সটি মেশিন ব্যবহার করতাম। আমি তার কাজের বিবরণ এখানে লিখে তাকে খাটো করতে চাই না।

একটি বিষয় আমরা হয়তো ভুলে যাচ্ছি। আজকে বিজয় না থাকলে বাংলা ভাষা যেমন পঙ্গু হয়ে যাবে না, তেমনি কাল অভ্র যদি তার সফটওয়্যারের পলিসি পরিবর্তন করে একটি ফি বসিয়ে দেয়, তখনো আমাদের কিছু বলার থাকবে না। কিন্তু একজন ব্যক্তি মোস্তফা জব্বারকে যেভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, সেটা অনেক বেশি বাড়াবাড়ি। অনেক বড় একটি অন্যায়। আমরা কেউ ফেরেস্তা নই। আমরা কেউ ব্যক্তগত দোষ-ক্রুটির উর্ধ্বে নই। কিন্তু তাই বলে আমরা একজন সিনিয়র মানুষকে এভাবে লজ্জায় ফেলতে পারি না।

আর যারা এই কাজটি করছে, আমি নিশ্চিত, তারাও যেন ভবিষ্যতে একই রকম আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকে। আজ থেকে দশ বছর পর, পরের জেনারেশন তাদেরকেও একই রকম ব্যবহারটাই করবে। কারণ আমরাই তাদেরকে সেই পথটা দেখিয়ে দিচ্ছি। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা প্রতিবাদ করবো না। আমরা প্রতিবাদ করবো, কিন্তু কাউকে ব্যক্তগতভাবে ছোট করবো না। বর্তমান সময়ে, কলমের ক্ষমতা কামানের গোলার থেকেও শক্তশালী হয়ে দাড়িয়েছে। তাই তার সাথে দায়িত্ববোধটুকু কাধে নিতে হবে।

সবার প্রতি আমার জোর-হাত অনুরোধ, তোমরা দয়া করে গালিগালাজ বন্ধ করো। প্লিজ। যারা বিভিন্ন ব্লগে খারাপ ভাষায় লেখালেখি করেছো, সেগুলো এডিট করো। হাজার হাজার মানুষ সেগুলো পড়ছে। লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে। এক জেনারেশন থেকে পরের জেনারেশনে এই দূরত্ব টুকু তোমরা তৈরী করো না। আমরা তোমাদের নিয়ে গর্ব করতে চাই। এবং আমরা তোমাদের দিকেই তাকিয়ে আছি। আমরা আশায় বুক বেধে আছি, কবে আমাদের একটি ছেলে মাইক্রোসফট কিংবা গুগলের মতো কম্পানীর প্রতিষ্ঠাতা হবে। কবে আমাদের একটি মেয়ে ই-বে কিংবা এইচ.পি-র মতো কম্পানীর সিইও হবে। আমার বিশ্বাস, সেটা আর খুব বেশি দূরে নয়। একজন বাংলাদেশীর ছেলে তো ইউ-টিউবের কো-ফাউন্ডার, তাই না?

শেষ করি আরেকটি গল্প দিয়ে।
গল্পটা আমাকে বলেছিলেন অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদি। তিনি একবার গাড়িতে করে মতিঝিল যাচ্ছেন। ইত্তেফাকের মোড়ে তার গাড়ির সামনে একটি রিক্সা। রিক্সাওয়ালা কোনরকম সিগনাল না দিয়েই রিক্সা ঘুড়িয়ে দিয়েছে। আর ফরিদি ভাইয়ের গাড়ি গিয়ে ধাক্কা দিয়েছে হঠাৎ থেমে যাওয়া রিক্সাটিকে। তিনি বিরক্ত হয়ে গাড়ি থেকে নেমে রিক্সাওয়ালাকে বললেন, "এই যে ভাই, রিক্সাটা ঘুরানোর আগে একটা সিগনাল দিবেন না?"
রিক্সাওয়ালা রেগেমেগে ফরিদি ভাইকে বললেন, "পুরা রিক্সাটাই ঘুরাইয়া দিলাম দেখলেন না, আর সামান্য হাত বাড়াইলে বুঝি দেখতে পাইতেন?"

ওই সামান্য রিক্সাওয়ালার মতো আমি তোমাদের দিকে দুই-হাত বাড়িয়ে দিলাম। তোমরা কি এই হাতদুটো দেখে, একটু আস্তে চালাতে পারো? আমরা যাই প্রকাশ করি, সেটা কি সন্মানসহ প্রকাশ করতে পারি? আমরা কি একজন সিনিয়র মানুষের প্রতি সেই সন্মানটুকু দেখাতে পারি? যেদিন তোমরা আরো বড় হবে, সেদিন তখনকার তরুনরাও তোমাদেরকে একই সন্মান দেখাবে, দেখো।

***

৬০| ০১ লা মে, ২০১০ রাত ১২:৫৬

মুভি পাগল বলেছেন: বিজয় ব্যবহার করে মঞ্চায়

৬১| ০১ লা মে, ২০১০ রাত ২:১৮

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: আইরিন, শেষ কমেন্টে এসে আপনার সত্যিকারের মনোভাবটা স্পষ্ট হল। পোষ্ট পড়ার পরে সেটা স্পষ্ট হয় নি।

মোস্তফা জব্বারের প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমনে আপনি ব্যথিত হয়েছেন বোঝাই যাচ্ছে।
....................................
কয়েকটা পয়েন্ট একটু তুলে ধরি দেখেন মেলে কিনা?

আক্রমনগুলো করেছেন তরুণরা যারা বিজয়কে চেনে না। তারা অভ্র ব্যবহার করে এবং বিনামূল্যে ব্যবহার করে। বিজয়ের প্রতি তাদের কোন আবেগ নাই। অভ্রের প্রতি আছে পূর্ণ মাত্রায়। তারা এটা করেছে আবেগের বশে। এদেশে আবেগের বশে অতীতেও অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটেছে। ৫২ র ভাষা আনেআদলন এ আবেগের ফসল। ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান আবেগের ফসল। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ্ও আবেগের ফসল।
......................................

কিন্তু কেন এই আঘাত? কেন সেটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে গেল? এর কারণ যদি বিশ্লেষণ করেন তাহলে দেখবেন কি কি কারণ আসে-

১. মোস্তফা জব্বারের মিথ্যাচার। মানুষকে ভুল বুঝিয়ে অভ্রকে পাইরেটেড সফটওয়্যার দাবী করা। সুকৌশলে অভ্র টিমের প্রতি হ্যাকিং এর অভিযোগ আনা।

২. কী বোর্ড লেআউট নিয়ে তার অনড় অবস্থান যাতে আমরা বাঙালীরা অভ্যস্ত নই।

৩. তিনি না বুঝে একটা তরুণ প্রজন্মের সামনে বুক পেতে দিয়েছেন। তাদের আক্রমণের টার্গেট হয়েছেন। কিন্তু তার কারণ কি ছিল?

ক. ইউএনডিপির পাচ কোটি টাকার টেন্ডার হাতছাড়া হয়ে যাওয়া।
খ. সেটা করতে গিয়ে একটা বিনামূল্যের কার্যকর সফটওয়্যারকে টার্গেট বানানো।

এবং এটা তিনি তার ক্ষমতা জাহির করতে করেছেন। তার আছে ব্যাপক টাকা আর প্রভাব। সেই প্রভাবটা তিনি অভ্র টিমের প্রতি আঙুল উচু করতে ব্যবহার করেছেন।


মাইক্রোসফট মানেই কিন্তু বিল গেটস নয়; বা ল্যারী পেজ মানেই গুগল নয়। মাইক্রোসফট আর গুগল তো সারাক্ষণ টানাটানির ভেতরই রয়েছে। তাই বলে কি বিল গেটস আর ল্যারী পেজ ব্যক্তগতভাবে শত্রু?

এখানে ছোট্ট একটা ব্যাপার আপনার চোখ এড়িয়ে গেছে। মাইক্রোসফট তাদের সব সফটওয়্যারের ডেভলপারের নাম জানায়। মোস্তফা জব্বার তা করেন নি। বরং সুকৌশলে তার নিজের ছবি দিয়েছেন বিজয় সফটওয়্যারের সাথে। যাতে আমরা অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে তাকে একজন বিশেষজ্ঞ ভেবেছি। আমাদের সে ধারণায় জল দিতে তিনি কম্পিউটার বিষয়ক কিছু বই লিখেছেন। এমনকি তিনি একবার বলেছিলেন বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্সের ৭০ ভাগ সিলেবাস ফেলে দিতে হবে। তখন জাকারিয়া স্বপন ভাই সেটার প্রতিবাদ করে বলেছিলেন উনি যদি পারেন তাহলে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেখান। স্বপন ভাইকে আমি খুবই পছন্দ করি। তারপরও তার বক্তব্যটা মানতে কষ্ট হয়েছে। মানসিক সাপোর্ট ছিল মোস্তফা জব্বারের প্রতি। কারণ কি, তিনি সফলভাবে আমার মনে এ ধারণার সঞ্চার করতে পেরেছেন যে তিনি বিজয়ের ডেভলপার।

সত্য জানার পর তাকে আমার নিকৃষ্ট মানের একজন প্রতারক মনে হয়েছে। আরো খারাপ লেগেছে যখন জেনেছি তিনি পাপ্পানার পুরো পাওনা পরিশোধ করেন নি।

মাইক্রোসফট তার সমস্ত ডেভলপার এবং স্টাফ নিয়ে একটা কোম্পানী। বিল গেটস শুরুতে একজন প্রোগ্রামার ছিলেন। কিন্তু তিনি তার স্টাফদের বেতন দিতে প্রতারণা করেন না। তিনি তাদের ক্রেডিট রুকোন না।

মোস্তফা জব্বার কখনো তা ছিলেন না। কিন্তু তিনি তার ডেভলপারদের সাথে টাকা নিয়ে প্রতারণা করেন। তিনি তাদের ক্রেডিট হাইজ্যাক করেন। কাজেই তিনি নিজেই ব্যাক্তিগতভাবে টার্গেট হয়েছেন। আনন্দ কম্পিউটারস নয়।

তার বিরুদ্ধে এখন গবেষণা হচ্ছে, আরো হবে। আরো অনেক চটকদার তথ্য বেরিয়ে আসবে। এটা নিয়ে তিনি যত সামনে বাড়বেন এই প্রজন্মের তরুণরা তার পোষাক ততই উন্মোচন করতে থাকবে। কারণ তিনি তার কৃতকর্মের খেসারত দিচ্ছেন। এজন্য দয়া করে নিজের ঘুম হারাম করবেন না।

প্রকৃতি সবার পাওনা কড়ায় গন্ডায় মিটিয়ে দেয়। বিজয় তৈরী করে তিনি ব্যাপক ব্যবসা করেছেন। প্রকৃতি তার পাওনা মিটিয়েছে। তিনি ব্যাপক প্রতারণা করেছেন মানুষের সাথে। প্রকৃতি তার পাওনা মেটাচ্ছে।

হয়ত আপনার এ আকুতি হৃদয়ের গহীন থেকে উচ্চারিত। কিন্তু ভুল মানুষের জন্য আইরিন। প্রকৃতি তার চরম স্বেচ্ছাচারীতার জবাব দিচ্ছে। একজন অলরেডি বলেছেন, আদালতে গেলে কাপড় অবশিষ্টটুকুও থাকবে না। তার শুধু মুখেই বলেনি, তারা সেটা করে দেখাবে। ইতিপূর্বেও তারা করে দেখিয়েছে। অনেক অজানা তথ্য সামনে নিয়ে এসেছে। আপনি অনেক আবেগপ্রবণ বক্তব্য রেখেছেন। আবেগটি সামলান। ভুল মানুষের জন্য আবেগ কাজ করে না।
............................
আপনার টেকনিকাল প্রশ্নগুলো ঠিক আছে আমিও সে ব্যাপারে একমত। কিন্তু একঝাক স্বার্থচিন্তাহীন তরুণদের বিরুদ্ধে আপাদমস্তক স্বার্থবাদী একজন মানুষ কোর্টে গিয়ে তাদের ঝামেলায় ফেলবে। এটা চোখ চেয়ে মেনে নিতে পারি না। আমরা এই তরুণদের পাশে আছি। আমরা সর্বাত্মক যুদ্ধে নামব।

০৩ রা মে, ২০১০ রাত ১১:৪৩

আইরিন সুলতানা বলেছেন: আপনি খানিকটা আবেগে হয়ত খেয়াল করেননি যে, যেই মন্তব্য দেখে আপনি বিষদ বিশ্লেষণ দিলেন, সেই মন্তব্যের প্রথমেই আমি উল্লেখ করেছি যে এটা জাকারিয়া স্বপনের ফেসবুক নোট।

তারপরও দুটো কথা বলা দরকার বলে বোধ করছি। তাহলে একটি টেকি-অভিযোগের প্রেক্ষিতে যে ডিফেন্স আসছে, সেখানে টেকি তথ্য থাকছে না, থাকছে কাপড় খুলে নেয়ার কথা!

এক সাথে থাকা না থাকাটা বড় কথা নয়, কথা হচ্ছে, তথ্য বিশ্লেষণ নিয়ে সামনে দাঁড়ানো। ওটা থাকলে মূলত আর কিছু লাগবেনা।

যদি আদালতে মোস্তফা জব্বার যান, অলরেডি দরবার করেছেন বলেই তো জানলাম, তাহলে আপনার পাইরেসি বিষয়ক ইস্যুতেই যাবেন বা গেছেন। সেখানে আসলে উনার অন্য মন্দ আচরণ বা অন্যান্য উদাহরণ ধোপে টিকবেনা বা মূল প্রসংগে আসবেনা। যৌক্তিকভাবে তুলনা আসবে বা আসা উচিৎ, অভ্রতে যে ইউনিজয় লে-আউট আছে, সেটা বিজয়ের কপি কি না। সিদ্ধান্ত এই আলোচনা থেকেই নেয়া হবে।

ফলে যারা অভ্রের পাশে আছেন বলছেন, তারা বরং অভ্রর ইউনিজয় কেন্দ্রিক বিষয়ে মনোযোগ দিন, অন্য ইস্যুগুলোর চেয়ে।

নয়তো ভিন্ন ভিন্ন কথামালা বিষয়টাকে পুরোই মিসলিড করেই যাবে।

৬২| ০৪ ঠা মে, ২০১০ রাত ১২:০৪

মেঘ বলেছেন: দোস্ত লিখাটা খুবই ভালো লাগলো। যদিও টেকনিক্যাল অনেককিছু বুঝি না। ৯৭-৯৮ সাল থেকে সম্ভবত বিজয় দিয়া লিখতাছি, এখনো লিখি, কোন প্রব্লেম ফেইস করি না। অভ্র যদি ইউজার ফ্রেন্ডলি হয় ভালো। থাকুক অভ্র অভ্রের জায়গায়। এখানে দলাদলির কি আছে??জব্বার ভাই বয়স্ক মানুষ, তারে গিয়ে অভ্র টিম-ইউনিজয় টিম বুঝাইলেই পারে! খেল খতম। আচ্ছা লাবণী, আমার সেই প্রথম থেকে একটা সন্দেহ "বিজয় কি আদেত জব্বার এর করা?" জাস্ট কৌতূহল, মাইন্ড কইরো না কইলাম। আমি কিন্তু চোখ খউিলা, পইড়া দ্যান প্লাস দিছি।

০৪ ঠা মে, ২০১০ রাত ১২:২০

আইরিন সুলতানা বলেছেন: হাহাহা, আমার মাইন্ড করার তো কিছু নাই। পাপ্পনা বলে একজন যুক্ত ছিল এই ডেভেলপিংয়ে। বিজয় মোস্তফা জব্বারের বলতে আমি মূলত এটা তাঁরই কোডিং এইরকম কিছু প্রতিষ্ঠা করতে চাইনাই। তবে বিজয় নিয়ে কথা বলতে গেলে, আনন্দ কমপিউটার্স তথা মোস্তফা জব্বারই আসবেন, ফলে বিজয় এই অর্থে, মানে কর্তৃপক্ষীয় দৃষ্টিকোন থেকে তাঁর।


তোমার কবিতার নিশ্চয়ই একটা প‌্যাটার্ন আছে, কেউ তোমার কবিতার বিশেষ শব্দ কিংবা বিশেষ লাইন ব্যবহার করলে, নিশ্চয়ই তুমি বুঝবা এবং বলতে চাইবা এইটা কপি করা হচ্ছে।

অভ্র টিম কিন্তু তাদের ওয়েব সাইটে লিখে রাখসে, ইউনিজয় হলো বিজয়ের ৯৯% সিমিলার। ওইদিক থেকে ধরলে তো মোস্তফা জব্বার ঠিকই বলেন। তার উপর উনার আবার পেটেন্ট করা আছে।

কিছু পার্থক্য থাকলেও (১% বা ৮টি কী-স্ট্রোক) যে বিজয় জানে যে খুব সহজেই ইউনিজয়ে টাইপ করতে পারে।

অভ্র একটা ইন্টারফেস। যেখানে কয়েকটা কী-বোর্ড লে-আউট আছে - ফোনেটিক, ইউনিজয়, জাতীয় কী-বোর্ড, বর্ণনা এবং অভ্র ইজি।

প্রশ্ন আসে, যারা অভ্র ইউজার তারা কোন কী-বোর্ড লে-আউট ব্যবহার করি???

আমরা কী "অভ্র ইজি" দিয়ে টাইপ করি???

যারা অভ্র ব্যবহার করে, খুব সহজেই ধরে নেয়া যায় এখানে "ফোনেটিক" এবং "ইউনিজয়" -ই ব্যবহার করে আমাদের বেশীর ভাগ।

"অভ্র ইজি" কী-বোর্ড নিয়ে কিন্তু মোস্তফা জব্বার কোন অভিযোগ তুলেন নাই। অভিযোগ মূলত ইউনিজয় কেন্দ্রিক। কিন্তু আমরা এখানে অভ্র অভ্র করে কাহিনী কই থেকে কই নিয়ে যাচ্ছি।

৬৩| ০৪ ঠা মে, ২০১০ রাত ১২:৩৩

মেঘ বলেছেন: আমার একটাই প্রশ্ন একানে দলাদলির কি আছে? আলোচনা সাপেক্ষে কি এ সমস্যার সমাধান করা যায় না?? মেহেদী সাহেবরা নতুন প্রজন্ম, তাদের অবদান তো কেউ অস্বীকার করছে না। জব্বার সাহেব থাকুকু না তার নিজের দুনিয়ায়, বাংলাদেশে আমরা কেউ নিজ কাজানুযায়ি প্রাপ্য‌ মূল্যায়ন পাই না, সেজন্যই জব্বার সাহেব এত খেপছে।
বিজয়ের প‌্যাটর্ন ইউজ করছে স্বীকারো করছে অভ্র টিম, ইউনিজয় টিম, তাহলে বাকীটা স্বীকার করে মিটমাট কের ফেলতে সমস্যা কি? না কি অতি উতসাহী ব্লগাররা বাতাস দিচ্ছে আসলে??

০৪ ঠা মে, ২০১০ রাত ১:০৪

আইরিন সুলতানা বলেছেন: না কি অতি উতসাহী ব্লগাররা বাতাস দিচ্ছে আসলে??
-----------------------
:) ;)

পোস্টে এবং মন্তব্যে উল্লেখিত হুজুগ কেন্দ্রিক কথার প্রেক্ষিতে উপরে ব্লগার অন্যমনস্ক শরৎ এর একটা বক্তব্য ছিল, "...অভ্র টিম এই প্রচারকে উপভোগ করছেন..."

এটার সাথে যোগ করা যায়, হয়ত আমরা ব্লগাররা অভ্রকে আমাদের করে আন্তর্জালে শুধুই একটা ক্যাওয়াস করে ফেললাম। ব্লগে আমরা ক্যাচাল যেভাবে ডিল করি, এই ব্যাপারটাকেও আমরা আন্তর্জালের বাসিন্দারা একই ধারায় ফেলতে চাচ্ছিলাম। আসলে ফেলে দিয়েছি মূলত। মজার ব্যাপার ছিল, গ্লোবাল ভয়েস এ অভ্র টিমের বিবৃতির ২-৩ জন পরিচিত ব্লগারদের বক্তব্য যুক্ত করা হলো। এর চেয়ে একটি কমপিউটার সায়েন্স পড়ুয়া অপরিচিত ছাত্রের কিছু সম্ভ্যাব্য লজিকাল ব্যাখ্যা দিলে বিষয়টির প্রবাহ, গ্রহণযোগ্যতা ঠিক থাকতো।

মোস্তফা জব্বার সম্ভবত আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন এই বিষয়ে, এখন কিন্তু হিসেবে দুটো কী-বোর্ডের চুলচেরা তুলনা আসবে আদালতে। যদি, পর্যাপ্ত টেকি-ডিফেন্স আগেই তেমন করে হতো তাহলে মনে হয় না জব্বার সাহেব কাহিনী আদালত পর্যন্ত আনতে পারতেন । বা বরং অভ্র টিমই পাল্টা মানহানির মামলা করতে পারতো। আমাদের বাড়তি উত্তেজনা সমস্যাটাকে সমাধানের দিকে যেতে দেয়নি। বলা যায়, আমাদের সমর্থনগত স্রোত কাহিনীকে বেশ ম্যানিপুলেট করেছে। তা তে হয়ত অভ্রের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।

৬৪| ০৪ ঠা মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৮

বাংলার শয়তান বলেছেন: আপনার সাথে একমত

৬৫| ০৫ ই মে, ২০১০ সকাল ১১:০৯

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: কী বোর্ড লে আউট নিয়ে আমরা ঠিক চিন্তিত না আইরিন আপু (নাকি লাবনী আপু)।

ইতিমধ্যেই জব্বার সাহেব তার কার্যক্রম শুরু করেছেন। ঘটনা হচ্ছে অভ্র ইউনিবিজয় ব্যবহার করেছে ২০০৩ সালে। বিজয় পেটেন্ট পেয়েছে ২০০৮ এ। ধরে নিচ্ছি ৯৯% নয় ওটা বিজয়ের ১০০% কপি।

তাহলেও পেটেন্ট পাওয়ার আগের কোন ঘটনার জন্য আইন খড়গহস্ত হতে পারে না। বড়জোড় নাম পরিবর্তন করা লাগতে পারে বা কী বোর্ড লে আউট বাদ দেয়া লাগতে পারে।

আর যেহেতু কী বোর্ডের পেটেন্ট লে আউটের কত পার্সেন্ট মিলে গেলে সেটাকে কপি বলা যাবে এরকম কোন বিষয় আইনে অন্তর্ভুক্ত নেই কাজেই আইন অনুযায়ী ১০০% না মিললে সেটাকে জব্বার সাহেব তার পেটেন্টএর নকল বলতে পারেন না। সেক্ষেত্রে অভ্রকে শুধু নাম বদলালেই চলবে। (বদলালই বা ;) )

তবে বাংলাদেশ বলে কথা। টাকা আর প্রভাব বিস্তার করে এখানে কত কিছুই না করা যায়। সেই বেআইনী কার্যক্রমে আপনাদের মত মানুষরা যখন বাতাস দেন তখন সত্যিই দুঃখ লাগে।

তবে আমরা ছাড়ব না। আমরা এ বিচারের রিপোর্ট চাইব প্রতি মুহূর্তে। প্রয়োজনে টাকার জোগান দেব।

এখন কিন্তু হিসেবে দুটো কী-বোর্ডের চুলচেরা তুলনা আসবে আদালতে।

আপনার এই বক্তব্য প্রসংগে বলি প্যাটেন্ট বিষয়ক আইনে কি বলা আছে দুটো কী বোর্ড এত পার্সেন্টও মিলতে পারবে না।

যদি না থাকে তাহলে একটি কী-র পার্থক্যই সমস্ত দ্বন্দ্ব নিরসনে যথেষ্ট। সেখানে অন্য কোন যুক্তি তর্কের অপেক্ষাই রাখে না।

আপনার বক্তব্যে জাকারিয়া স্বপন ভাইয়ের উল্লেখ দেখেই আমি বহুদন আগে করা তার মন্তব্যটা কোট করেছি। জাকারিয়া স্বপন ভাই জানতেন মোস্তফা জব্বার কোন টেকনিকাল ব্রেন নন। অথচ তিনি সেরকম ভাব নিয়ে কথা বলতেন বলে বিভিন্ন সময়ে স্বপন ভাইকে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে শুনেছি। যাক সে অনেক আগের কথা। অত্যন্ত দেশপ্রেমিক এই মানুষটি এখন মাইক্রোসফটের সম্পত্তি। তিনি কথা দিয়েছিলেন আবার ফিরে আসবেন। হুমায়ুন আহমেদ ফিরে এসেছেন, জাফর ইকবাল ফিরে এসেছেন, তিনিও আসবেন বলে আমরা আশা করছি।

বলা যায়, আমাদের সমর্থনগত স্রোত কাহিনীকে বেশ ম্যানিপুলেট করেছে। তা তে হয়ত অভ্রের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।

এই স্রোতটা অভ্রের জন্য হীতে বিপরীত হবে বলে আপনার মন্তব্যের সংগে আমি মোটেই একমত নই আইরিন। ভাবুন তো মোস্তফা জব্বার জনকন্ঠে অভ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন ওটা একটা পাইরেটেড সফটওয়্যার। তিনি সেখানে কী বোর্ডের কথা বলেননি। শুধু এই পয়েন্টেই মোস্তফা জব্বারের বিরুদ্ধে মানহানী মামলা দায়ের করা যায়। (কারণ কী বোর্ড লে আউট [লে আউটের কোডিং নয়] কোন সফটওয়্যার নয়।) মোস্তফা জব্বার লে আউটের উদগাতা। কোডিং যে কেউ করতে পারে। সেটা মিলে যেতেও বাধ্য।

যাই হোক সেটা নিয়ে কথা বলছি না। বলছি জব্বার সাহেব সে ব্যাপারে আটঘাট বেধেই নেমেছিলেন। জনকন্ঠে প্রতিবাদ পাঠালে জনকন্ঠ সেটা ছাপায় নি। তার অর্থ প্রচারযুদ্ধের মাধ্যমে তিনি একটা মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। তার সাজানো বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছে ব্লগাররা। ব্লগারদের জন্যই প্রচারযুদ্ধের ফ্রন্টে তাকে চরম পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে। এটা তার পক্ষে হজম করা কঠিন হয়ে গিয়েছে। অভ্র টিমের মত একটা সেবামুখী সফটওয়্যারকে যখন কোন ১০০ ভাগ ব্যবসায়ী আদালত পর্যন্ত টেনে আনেন তখন সেটা সবার গায়ে লাগে। আগেই বলেছি তাতে কতদূর হতে পারে।

কিন্তু অভ্র টিম যদি এরপর জব্বার সাহেবের জনকন্ঠে করা সেই ঢালাও অভিযোগের প্রতিবাদে মানহানী মামলা করে- সেখানে জব্বার সাহেব কী বোর্ড লেআউটের কথা বলে পার পাবেন না। কারণ কী বোর্ড লে আউট সফটওয়্যার নয়। আর জনকন্ঠের সেই রিপোর্টটাকেও আর বদলানো সম্ভব নয়।

সবশেষে একটা কথা বলি ব্লগের প্রচারযুদ্ধ সব পক্ষকেই সতর্ক করে দিচ্ছে আমরা সজাগ সচেতন। এবং মোস্তফা জব্বারের মিথ্যা প্রচারণার জবাব দিতে সদা প্রস্তুত। আর তিনি তো ব্লগারদের বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগও করেছেন। চাইকি একটা গণ মানহানী মামলা ও করে দিতে পারেন- ষোলকলা পূর্ণ হয়ে যাক। :)

০৮ ই মে, ২০১০ রাত ১১:১১

আইরিন সুলতানা বলেছেন: লুতফুল, আপনি যে অবস্থানে আছেন, এভাবে যদি সবাই ভাবে, (আসলে এভাবেই ভাবছে বা ভাবানো হচ্ছে) তাহলে এটা প্রযুক্তি উদ্ভাবনকে বিনষ্ট করবে নিশ্চিতভাবেই। খুবই চিন্তাজনক আপনার এই প্রকারের চিন্তাধারা।

আপনি বা যারা এই ধারায় চিন্তা করেন, তারা কী-বোর্ড লে-আউটের গবেষণার গুরুত্ব বা তাৎপর্যকে উপেক্ষা করতে চান। ফলে এই ঘটনায় আইনের কোন ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে আসা যায় সেই কোনাটুকু খুঁজে বের করতে ইচ্ছুক।

অভ্র একটি সফটওয়্যার। একটি ইন্টারফেস। যেখানে ইউনিজয় ছাড়াও রয়েছে অভ্র ইজি, বর্ণনা, জাতীয় কী-বোর্ড, ফোনেটিক। অভ্র সফটওয়্যারে অভ্র ইজি'তে কতজন অভ্যস্ত? ইউনিকোডের সাথে পরিচিত করাতে গিয়ে অতিপরিচিত বিজয় লে-আউটকেই নেয়া হয়। সামান্য পরিবর্তন সাপেক্ষে। তার মানে কিন্তু এখন পর্যন্ত ইউনিজয় ইউজাররা আসলে বিজয় লে-আউটেই অভ্যস্ত। কিন্তু এই বিষয়টি তারা বুঝতে ব্যর্থ ।

ইউনিকোড কে প্রচলিত করানোর জন্য গবেষণা করে একটি নতুন মাত্রার কী-বোর্ড লে-আউট বানানো হলে অসুবিধা কোথায় ছিল? তাহলে কি বিজয় লে-আউটই সেরা ? তাহলে বিজয়ের অভস্ত্যতাকে ব্যবহার করেই জনপ্রিয় হওয়া?

২০০৮ সালে উনি একটি মোস্তফা জব্বার একটি মামলা জিতেন, উনার প‌েটেন্ট কারণেই। ওই সময় ফেব্রুয়ারি মাসে ডেইলী স্টার পত্রিকাতে রিপোর্ট আসছিল, তাতে বলা ছিল যে, জব্বার সাহেব ১৯৮৮ সালে পেটেন্ট করিয়েছেন।

মামলার কাহিনী হলো, বিজয় কী-বোর্ড লেআউট ছাপানো বাংলা কী-বোর্ড এবং বিজয়ের পাইরেডেট কপির সিডি চীন থেকে বাংলাদেশে আসছিল তার অনুমতি ব্যতীত। মামলা পরবর্তীতে কাস্টমসকে নোটিশ জারি করে আদেশ দেয়া হয় এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে।

উনি মামলা তো উনার পেটেন্টের কারনেই জিতেছিলেন বলেই মনে হয়। জারিকৃত নোটিশে বলা ছিল -

"following assessment of the application it is found that Ananda Computers owns the patent rights of the Bangla printed keyboard."

আইন তো বুঝি না আপনার মত, তবে আমার মনে হয়, পেটেন্ট না থাকলেও কারো উদ্ভাবন এভাবে অন্য কেউ যদি ব্যবহার করে নিজের ভিন্ন কোন উদ্ভাবনের সাথে, তবে প্রথম ব্যক্তি অবশ্যই তা নিয়ে আপত্তি তোলার অধিকার রাখেন।

একটা গানের টিউনের একটা অংশ যদি অন্য কোন গানে থাকে তাহলেও তো আমরা বলি উঠি, এটাতো ওইটা থেকে নকল করে নিসে!

প্রাথমিক পর্যায়ে জনকন্ঠে মোস্তফা জব্বারের বাড়তি কিছু মন্তব্যের জন্য অভ্র বা শুভাকাক্ষীরা মানহানির মামলা দিতেই পারতো। হৈ চৈ তো কিছু কম হয়নি, তারপরও কেউ মামলা দেয়নি কেন সেটা অবাক হওয়ার বিষয় নয় কি?

শেষ পর্যন্ত যখন আইনি পদ্ধতিতে আগানো হলো আনন্দ কমপিউটার্স থেকে, তখন কিন্তু কপিরাইট দপ্তর থেকে দু'টো কী-বোর্ডের তুলনা নিয়েই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

এখনও মূলত আমি খুব বেশী আশংকার কিছু দেখিনি। অভ্র সমর্থকরা এমনভাবে বলতে চাইছেন যে, এখানে যদি হেরে যাওয়া হয়, তাহলে অভ্র বুঝি শেষ! ঘটনাতো ইউনিজয় নিয়ে, সেটা কপিরাইট দপ্তরের পাঠানো নোটিশ থেকেও পরিস্কার। তাই অভ্র থেকে ইউনিজয় আলাদা হয়ে গেছে অভ্র'র কিছু হয় না। আর নতুন কোন লে-আউটে ইউনিকোড হলে, ইউনিজয়ের থাকা না থাকায় তো কিছু আসে যায় না। কারণ ইউনিকোড তো আর হুমকির মুখে নয়।

৯৯-১০০% নকল নিয়ে যে তরুণ প্রজন্ম টিকে থাকার জন্য হুজুগে মেতে ওঠে, সেই তরুণ প্রজন্ম নিঃসন্দেহে তাদের নিজেদের মেধার অবমূল্যায়ন করে পুরোপুরি।

ব্লগে প্রচারগুলো আসলে প্রচার করেছে আমরা টেকি অনভিজ্ঞ। যা খুবই দুঃখজনক।

৬৬| ০৮ ই মে, ২০১০ রাত ১০:৫৫

চাচামিঞা বলেছেন: এই লিখাটা একসময় ঠিসিস পেপার হিসাবে কাজে লাগবে....সিওর।

০৮ ই মে, ২০১০ রাত ১১:৫৫

আইরিন সুলতানা বলেছেন: ঠিসিস ??

৬৭| ০৮ ই মে, ২০১০ রাত ১১:৪৪

পেঙ্গুইন বলেছেন: দুটি কী-বোর্ডের লে-আউট এর মধ্যে অন্তত যদি একটি কী এর পার্থক্য থাকে তাহলে লে-আউট দুটিকে আলাদা বলা যাবে -- তার পরেও তিনি বলছেন ইউনিজয় আর বিজয় একই জিনিস।

বিজয় ইউনিকোড সাপোর্ট করে না, অভ্র যদি বিজয়ের প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে তাহলে তারও ইউনিকোড সাপোর্ট করার কথা ছিল না এবং এ যুক্তিতে অভ্র পাইরেটেড নয়।

এটা ঠিক অভ্রই শেষ কথা নয়, কিন্তু অভ্র এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার কেন?

তার কথায় মনে হয় বাংলা ভাষা তার নিজের সম্পত্তি। তার অনুমতি ছাড়া কেউ বাংলা ব্যবহার করতে পারবেনা।

বিজয় সফটওয়্যার এর ডেভোলপের যে তিনি নন তাও সবার জানা।

তিনি প্রায় জোর করে সবাইকে বিজয় ব্যবহার করাতে চান।

তার কথায় মনে হয় তিনি বাংলাদেশের আইটির একমাত্র হর্তাকর্তা, কিন্তু তার আইটি জ্ঞানের কোন পরিচয় পাইনি।

০৯ ই মে, ২০১০ রাত ১২:০০

আইরিন সুলতানা বলেছেন: দুটি কী-বোর্ডের লে-আউট এর মধ্যে অন্তত যদি একটি কী এর পার্থক্য থাকে তাহলে লে-আউট দুটিকে আলাদা বলা যাবে -- তার পরেও তিনি বলছেন ইউনিজয় আর বিজয় একই জিনিস।

----

এই তত্বটি কোথায় বলা আছে তা কি লিংক, পূর্ববর্তী কোন উদাহরণ থেকে বিশ্লেষণ করা যাবে? এই তত্বটি কতটা বৈজ্ঞানিক এটা জানা কিন্তু জরুরী। কারণ ধরেন কী-বোর্ড যদি ১০টা কী-স্ট্রোক থাকে তো একটি কী-স্ট্রোকের পার্থক্য মোতাবেক মনে হয় ১০০টা কী-বোর্ড লে-আউট উদ্ভাবিত হবে। সেটা কি আসলে কোন উদ্ভাবন হলো ????

আর অভ্র কিংবা অন্য যে কোন সফটওয়্যার/ইন্টারফেস ইউনিজয়কে যুক্ত করেছে, তারাই তো এটা প্রচার করে এসেছে, ইউনিজয় হলো বিজয়ের অনুরূপ। ওমনিক্রনল্যাবের ওয়েবে সেটা আরো পরিস্কার করে বলা আছে যে ৯৯%। ৯৯% কিন্তু ১০০ভাগের খুব কাছেই। ফলে বিজয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে মোস্তফা জব্বার এই দাবি কিন্তু যৌক্তিকভাবেই তুলতে পারেন।

০৯ ই মে, ২০১০ রাত ১২:১৯

আইরিন সুলতানা বলেছেন: মজার বিষয় হলো কিছু ভুল শব্দের ব্যবহার অথবা শব্দের অপব্যবহার থেকে মোস্তফা জব্বার বেরিয়ে আসলেও, আমরা ওখানটাতেই আটকে আছি! আশ্চর্যজনক।

এখন যে আইনি ধারায় অভিযোগ করেছেন মোস্তফা জব্বার তাতে জনকন্ঠতে বলা সেই ভুল শব্দগুলো আর নেই। এখন একদম যাকে বলে টু দি পয়েন্টে অবস্থান। বিজয় এবং ইউনিজয় কী-বোর্ড লে-আউটের মিল-অমিল।

অভ্রের এখানে আসলে ভূমিকা এতটুকুই যে অভ্র সফটওয়্যারে ইউনিজয় সংযুক্ত আছে। যদি ইউনিজয় বাদ দিয়ে দেয়া হয়, তাহলে তো অভ্র সফটওয়্যারটি অকোজে হয়ে যায় না। ওতে অভ্র ইজি আছে। অভ্র ইজি নিয়ে তো কোন সমস্যা নেই। এছাড়াও এতে ফোনেটিক আছে। এমনকি জাতীয় কী-বোর্ড লে-আউটও আছে।

এখন যদি আবার জিগেষ করে যে, তাহলে কি ইউনিকোড বাতিল হয়ে গেল? তা কেন হবে!!! ইউনিকোড তো অন্য কোন লে-আউটের উপরও করা যেতে পারে। তাই না ??

৬৮| ০৮ ই মে, ২০১০ রাত ১১:৫৮

তারার হাসি বলেছেন:
একটু দেরীতে চোখে পড়লেও বেশ ক'বার এসে পড়ে গিয়েছি। কিছু আমার বোধগম্য হয়েছে, কিছু নয়। বুঝতে পারছিনা মূল সমস্যা কোথায়... বুঝতে যখন পারছি না তখন কিছু না বলাই ভাল তবে মনে একটা ছোট্ট প্রশ্ন.... আমরা মূল বক্তব্য থেকে দূরে সরে গিয়ে কেন তর্কে জড়িয়ে পড়ি?

কাল বিজয়, আজ অভ্র, আগামীতে অন্য কাউকে নিয়ে তর্ক যুদ্ধে নামা যাবে।

"বিজয় ওয়াজ ওয়ান অফ দ্য বিগিনার্স এ্যান্ড অভ্র ইজ নট দ্য এন্ড"

Well done Ireene !!

১৪ ই মে, ২০১০ বিকাল ৩:৪৬

আইরিন সুলতানা বলেছেন: আমি শুরুর দিকের পরিস্থিতি নিয়ে হতাশ হয়েই মূলত পোস্টটা লিখেছিলাম, আমার পর্যবেক্ষণ থেকে। আলোচনাটা কেমন হতে পারতো তার কিছু কী-পয়েন্ট তুলো ধরার চেষ্টা করেছি এই পোস্টে। বিষদে যে যার এক্সপাটিস লেভেল থেকে যোগ করবে, এগিয়ে নিয়ে যাবে আলোচনা এটাই ছিল কাম্য।

ভাল লাগলো যে, তুমি বিষয়টা কিছুটা হলেও মনে হয় ধরতে পারছো। আরো বেশী ভাল লাগলো, তুমিও একরকম মূল পয়েন্টে আঘাত করেছো তোমার অনুসন্ধিৎসু প্রশ্নে।

থ্যাংকসস সিস্।

৬৯| ০৯ ই মে, ২০১০ রাত ১২:৪৩

আলী প্রাণ বলেছেন:

মেহেদির অভ্র বনাম মোস্তফার বিজয় (কপি পোষ্ট)

৭০| ০৯ ই মে, ২০১০ রাত ১২:৫২

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: আইরিন আপনার সুচিন্তিত কথাগুলো ভাল লাগল। তবু কিছু কথা বলি- যদি মন দিয়া শোনেন।

বাংলা ভাষায় কী বোর্ডের সংখ্যা বড় বেশী হয়ে গেছে। আমাদের একটা কী বোর্ড লে আউট থাকা উচিত ছিল।

এখন আপনাদের মত লোকজন যদি বলেন যে এই যূগে কী বোর্ড লে আউট তৈরী করা একটা বিশাল মেধার কাজ তাহলে আর বলার কিছু নাই। তবে মোস্তফা জব্বার সাহেব টেকনিকাল লাইনে যেরকম দিগগজ তাতে কী বোর্ড লে আউট প্যাটেন্ট করানো ছাড়া আর উপায়ই বা কি ওনার?

আপনি এত ভাল ভাল কথা বোঝেন, এই দেশে প্রতিনিয়ত শুধু কী বোর্ড লে আউট তেরী হতে থাকবে আর মানুষ নতুন নতুন কী বোর্ডে কাজ প্রাকটিস করতে থাকবে- এমন হলে তো আর এক্সপার্ট আশা করা যায় না। আমি নিজে একসময় মুনীর লে আউটে কাজ করতাম। এবং যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দে কাজ করতাম। কিন্তু মোস্তফা জব্বার সাহেবের চতুর ব্যবসায়ী বুদ্ধির কাছে হার মেনে বাধ্য হয়ে বিজয় শিখতে হয়। কারণ সে সময় প্রচলিত কমন কী বোর্ড ছিল বিজয়। বারবার যদি আমাকে একজন ব্যবসায়ীর মর্জিমাফিক নতুন নতুন কী বোর্ডে এক্সপার্টাইজ করতে হয় তাহলে তো মুশকিল। আপনার কাছে কি মনে হয় না এত কী বোর্ড লে আউট তৈরী না হয়ে একটা কী বোর্ড লে আউট থাকা উচিত?

আইন কি বলে সেটা আইনে দেখা যাবে, কিন্তু কী বোর্ড লে আউটে মানুষকে অভ্যস্ত হতে বাধ্য করে এমন ব্যবসা করার চিন্তাকে নৈতিকভাবে এক ধরনের নিকৃষ্ট চিন্তা বলে মনে হচ্ছে। আপনার কাছে কেন মনে হচ্ছে না, বা আপনি ওনার প্রতি এত সহানুভূতিশীল কেন সেটা তো একটা রহস্য বটেই।

ওনার উচিত ছিল অভ্রের চেয়ে শক্তিশালী কোন বিজয় প্রোগ্রাম তৈরী করে ব্যবসা করা। বিজয় ৫২ দিয়ে ভিস্তায় ফটোশপ জাতীয় প্রোগ্রামে কাজ করা যায় না। এমন সমস্যায় আরো একবার পড়ে আমাদের অফিসে বিজয় বদলে প্রশিকাশব্দ কিনতে হয়েছে।

যাই হোক আমার সাধারণ বুদ্ধি বলে মোস্তফা জব্বারের আগের কেস আর এটার মধ্যে আকাশপাতাল তফাত্। এবার উনি পারতেন যদি অভ্রকে পাইরেটেড প্রমাণ করতে পারতেন। কারণ ১৯৮৮ সালে বোধ হয় বিজয় সফটওয়্যারটি লাইসেন্স করা হয়, কপি রাইটে অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল উনি যদি প্রমাণ করে ফেলেন যে বিজয় কী বোর্ড ১৯৮৮ তে পেটেন্ট করা তাহলে তো পুরাই ধরা। ২০ বছর পার হয়ে গেলে কোন কী বোর্ড লে আউট প্যাটেন্ট থাকেনা। ডেট ওভার হয়ে যায়, আর প্যাটেন্ট করানোও যায় না।

যাই হোক আমার দৃষ্টিতে আমি কোন হুমকিই দেখছি না। না আইনগত না নৈতিক কোনভাবেই অভ্রর পাশে থাকতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। সবচাইতে বড় কথা মান্ধাতা আমলের একটা প্রোগ্রাম ভাঙিয়ে ব্যবসা তো উনি কম করেন নি। এবার একটু খান্ত হওয়া উচিত। একজন ব্যবসায়ী যখন একজন নিঃসার্থ সেবককে আক্রমণ করে তখন আমি বিবেকের তাড়ায় যেখানে থাকার কথা সেখানেই থাকি। আপনি আপনার জায়গা বেছে নেন, আপত্তি নেই।

আর কেস অভ্র টিম করেনি কারণ অভ্র টিম ঝামেলা পছন্দ করে নি। অভ্র বানিয়ে তো কোটি কোটি টাকা আয় হয়নি যে কেস মামলার পেছনে খরচ করবে। তবে আক্রান্ত হলে অন্য কথা। কেস করার সময় পার হয়ে যায় নি। এ কেস মোস্তফা জব্বার কতটুকু জিতবে জানি। কিন্তু পরবর্তী কেস তার পক্ষে সামলানো কতটুকু সম্ভব হবে সেটা সত্যি ভাবনার বিষয়। সেজন্যে তাকে এখনি মনে মনে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা উচিৎ।

১৪ ই মে, ২০১০ বিকাল ৪:০৭

আইরিন সুলতানা বলেছেন: কী-বোর্ড লে-আউট যে পেটেন্ট করানো যায়, এটা কি আপনি প্রথম জানলেন মোস্তফা জব্বারের কল্যাণে !!!! আমাদের দেশে আসলে আমরা সবকিছুতেই ইনফরমাল থাকি তো, তাই সিসটেমেটিক বিষয়গুলো কেবল বিদেশেই হয় বলে ভাবি, এবং বিশ্বাস করি, ওগুলো আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। লুতফুল, গুগলে একটু সার্চ করলে আপনি চাইকি ডিভোরাক কী-বোর্ডের পেটেন্ট রিপোর্টটি পেয়ে যেতে পারেন।

আপনি কি একটু রেগে আছেন নাকি ? নয়তো খেয়াল করতেন যে, আমি মন্তব্যে এমনকি মূল পোস্টেও একটা বিষয় বলার চেষ্টা করেছি যে, একটার পর একটা কী-বোর্ড লে-আউট উদ্বাবন এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু। কিন্তু একটি কী-স্ট্রোকের পার্থক্যে যদি একটি নতুন লে-আউট হয়, এবং আপনি যেহেতু এই পক্ষ সমর্থন করেন, সেক্ষেত্রে আমি চিন্তিত হই এই ভেবে যে, ধরেন কী-বোর্ড যদি ১০টা কী-স্ট্রোক থাকে তো একটি কী-স্ট্রোকের পার্থক্য মোতাবেক মনে হয় ১০০টা কী-বোর্ড লে-আউট উদ্ভাবিত হবে। সেটা কি আসলে কোন উদ্ভাবন হলো ????

অথবা আমাদের মেনে নিতে হবে যে, এখন পর্যন্ত যা আছে, তাই ঢের বেশী। নতুন কোন লে-আউটের দরকার নেই। সেক্ষেত্রেও একটা ব্যাপার জানা দরকার, যতগুলো লে-আউট আছে তার মধ্যে বৈজ্ঞানিকভাবে মানসম্মত কোনটা?

এই যুগ আর ওই যুগ নিয়ে তো কোন কথা না । কী-বোর্ড লে-আউট তৈরী করা কোন ব্যাপার না, তাহলে বিজয় লে-আউটকে ধরেই কেন ইউনিজয় এলো ? একটা নতুন লে-আউট বানিয়ে নিলেই হতো, তাই না ?

এবং আপনি যখন বোঝাতে চান যে, কী-বোর্ড লে-আউট বানানো বিশাল কোন কাজ না, তখন জিগেষ করতে হয়, তাহলে বাংলা কী-বোর্ড সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে কোনটি কাজটি বিশাল আপনার দৃষ্টিতে ? যাই হোক, আপনার কথাগুলো নিতান্তই শিশুতোষ হয়ে গেছিল আসলে।

ও হ্যা, বিজয় ১৯৮৯ সালে কপিরাইট করানো হয়েছিল এবং ২০০৪ সালে পেটেন্টকৃত । কিন্তু বিষয় সেটা নয়, আপনি ২০ বছরে পেটেন্ট অকার্যকর হয়ে যাওয়ার কথায় বেশ মজা পেলাম। এর অর্থ দাঁড়ায় যে, আপনি কোন মতে আইনের ফোকড় গলে বেরিয়ে আসতেই ইচ্ছুক আসলে। আপনার কথাতেই মনে মনে ভাবলাম, বিজয়ের পেটেন্ট-কপিরাইট না থাকলে যে কি হতো ! আগেই একটা উদাহরণ দিয়েছি, কারো গানের টিউনের এক কণা নিলেও তা শোনার পর ঠিকই বলা হয়, এটা ওটার নকল।

৭১| ০৯ ই মে, ২০১০ রাত ১:০৭

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: জনকণ্ঠের লেখা নিয়ে উনি যে বক্তব্যই পরবর্তীকালে দেন না কেন- সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ পরবর্তী বক্তব্যগুলো উনি দিয়েছেন চাপের মুখে বাধ্য হয়ে।

ওনার উদ্দেশ্য ছিল অভ্রকে প্রচারের মাধ্যমে বিজয়ের পাইরেটেড সফটওয়্যার প্রমাণ করা- এবং হ্যাকিং এর সাথে অভ্র টিমকে জড়ানো। যে চেষ্টা উনি এখনো করে যাচ্ছেন। জানি নিজের পিঠ বাচাতেই করছেন।

কারণ উনি জানেন না পারলে ওনার পরিণতি কি হবে। কিন্তু উনি সেটা পারবেন না।

৭২| ১৫ ই মে, ২০১০ বিকাল ৫:৩০

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: অনেক কিছুই মানুষ প্রথম জানতে পারে। ধরুন কাল যদি কেউ এসে বলে আপনি যে নিয়মে ভাত রান্না করেছেন সেটা অমুক কোম্পানী প্যাটেন্ট করে ফেলেছে। এখন আপনাকে ভাত রান্না করার স্টাইল বদলাতে হবে। আর যদি পুরোনো নিয়মে ভাত রান্না করতে চান তাহলে ঐ কোম্পানীকে টাকা দিতে হবে। যা হোক এটা কোন স্যাটায়ার না, উদাহরণ মাত্র।

তার আগে আপনার দেয়া তথ্যের সাথে মোস্তফা জব্বারের দেয়া তথ্য একটু মিলিয়ে দেখতে পারি।

বাংলাদেশের প্রথম সফটওয়্যার প্যাটেন্ট -
সুদীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর সংগ্রামের পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে ‘বাংলা স্ক্রিপ্ট ইন্টারফেস সিস্টেম’ নামক একটি প্যাটেন্টের প্রত্যয়ণপত্রে স্বাক্ষর করেছেন প্যাটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস-এর নিবন্ধক জনাব মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। ২০০৪ সালের ২৯ জুলাই এই ব্যতিক্রমী প্যাটেন্টটির অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, ১৯৯২ সালে প্রথম এই প্যাটেন্টটির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে প্যাটেন্ট অধিদপ্তর এই আবেদনটি গ্রহণ করেনি। এর অন্যতম কারণ ছিল, এটি সফটওয়্যার হিসেবে কিভাবে প্যাটেন্ট অনুমোদন পাবে সেটি তখন নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এমনকি এই প্যাটেন্টটি পরীক্ষা করার মতো জ্ঞানী কোন কর্মকর্তাও তখন ছিল না।
কিন্তু ২০০৪ সালের আবেদনটি বিবেচনা করা হয়। সুদীর্ঘ সময় পরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১০ মে ২০০৭ তারিখে এই প্যাটেন্টটির গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ১২০ দিনের মধ্যে এর ব্যাপারে কোন আপত্তি না ওঠায় এর প্রত্যয়ণপত্র প্রদান করা হয়। আপাতদৃষ্টে এটি একটি সাধারণ ও নিয়মিত ঘটনা মনে হলেও বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য এটি একটি গুরুত্ব্বপূর্ণ ঘটনা।
বাংলাদেশে সফটওয়্যারের প্যাটেন্ট -
বাংলাদেশের প্যাটেন্ট আইনটি পুরানো বলে এই আইনের আওতায় সফটওয়্যার হিসেবে প্যাটেন্ট গ্রহণ করার কোন বিধান নেই। যেহেতু এখানে কোন কোড জমা দিতে হয়না বা এর সাথে ম্যানুয়েলও দিতে হয়না সেহেতু যে কেউ প্যাটেন্টের বিবরণ যথারীতি লিপিবদ্ধ করে প্যাটেন্টের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই স্পেসিফিকেশনটি রচনা করাই সম্ভবত একটু কঠিন কাজ।
বাংলা স্ক্রিপ্ট ইন্টারফেস সিস্টেম -
1. A new Keyboard layout to write Bongolipi characters with a QWERTY based Keyboard in a computer or any other microprocessor based device has been invented and 55 Bangla characters are placed in a unique way so that all Bangla characters (Bongolipi) can be written without any hardware modification and to make it effective pairs of Bangla charactaers e.g অ+া (f), ি+ ী (d) , ু + ূ (s), ৃ +র্ (a), +ে ৈ(c), ও + ৗ (x), ক+খ (j), গ+ঘ (o), ং + ঙ (q), চ + ছ , জ + ঝ (u), ঞ + হ(i), ট + ঠ (t), ড + ঢ (e) , ন + ণ (b), ত+থ (k), দ + ধ (l), প+ফ (r), ব + ভ (h), ম + শ (m), য + য় (w), র + ল (v), স + ষ , ্র+্য(z), ৎ + ঃ (),৭+ ঁ (7), ্‌্‌ + । (g),
has been created whereas Roman character (g) or Bangla character && (hasanta) has been defined as the link key to create vowels except A & I and almost all conjuncts.
2. A few special encoding has been done to implement the claim described in Clai
m 1.



আমার জানামতে কবে আপনি আবেদন করেছেন সেটা আপনার প্যাটেন্ট আইন কার্যকর করতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে না, কবে থেকে সেটা অনুমোদন পেয়েছে সেদিন থেকে প্যাটেন্টশিপের সময় শুরু হবে। আমি কি ভুল জানি?

এখন বলেন ২০০৩ এর ইউনিবিজয় লে আউট ২০০৭ বিজয় লে আউটের এর প্যাটেন্ট ভংগ করে কিভাবে? প্যাটেন্ট বিষয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা দেখুন এখানে.....
Click This Link

আর একটা কথা বলেন তো "কী বোর্ড লে আউট" কি কোন সফটওয়্যার? তাহলে বিজয় ২০০৩ এর সংগে যে মুনীরসহ অন্যান্য কী বোর্ড লে আউট দেয়া হয়েছে সেগুলোও কি সফটওয়্যার?

(ভাল কথা যে সব কী বোর্ড বিজয় ২০০৩ এর সংগে যুক্ত আছে সে জন্য সে লে আউটের উদগাতা কোম্পানীকে বিজয় বা আনন্দ কম্পিউটার্স নিশ্চয়ই পে করেছে? আপনি কি বলেন? করেছে তো? অনুমতি ও নিশ্চয়ই নিয়েছে তাই না? নিয়েছে তো? এমন লে আউট সমৃদ্ধ বিজয় ২০০৩ এর কয়েকটা কপি আমার কাছাকাছি কয়েকজনের কাছে আছে, একবারে অরিজিন্যাল লাইসেন্স সিডিসহ। প্রমাণ হিসেবে সেগুলো যথেষ্ট।)


এটা বললাম সফটওয়্যার ও কী বোর্ড লে আউট নিয়ে মোস্তফা জব্বার সাহেব যেভাবে তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন সে জন্য।

তাহলে এটার সমাধান হয়ে যাক আগে- কী বোর্ড লে আউট একটা সফটওয়্যার?

২১ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৪

আইরিন সুলতানা বলেছেন: একে বলে সারা বছর রামায়ণ পড়ে সীতা কার বাপ! হাহাহা

কী-বোর্ড লে-আউট একটি সফটওয়্যার এরকম কিছু কেউ বলেছে বলে মনে হয়না। এবং এখন শেষ পর্যন্ত মোস্তফা জব্বার কপিরাইট দপ্তরের মাধ্যমে যে নোটিশ পাঠিয়েছিলেন, সেটা লে-আউট নিয়েই ছিল।

খামোখা নিজেই এতো কিছু বলে তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন নিজের কথাকে।

আর বাকি যে তথ্য দিলেন, আবেদন, সময় এই আইনি হিসেবের ভ্যালিডিটি শেষ পর্যন্ত আইনই দেবে, আপনি-আমি না।

আপনি বারবার মূল প্রসংগ এড়িয়ে যাচ্ছেন।

অথবা এরমানে, আমাদের যদি এখন সর্বজন স্বীকৃত লে-আউটের প্রয়োজন হয় তবে সেটা বিজয়ই এটা মেনে নিচ্ছি আমরা।

বিজয়ে অভ্যস্ত হই আর যাই হই, অভ্র সফটওয়্যারে অভ্র ইজি ছিল। বিজয় লে-আউটটে অন্য কেউ ইউনিকোডে রূপান্তর না করে, ভিন্ন লে-আউটকে ইউনিকোডে রূপান্তর করলে, আন্তর্জাল প্রেমীরা অবশ্যই তা আত্মস্থ করতো আন্তর্জালের প্রেমেই এতে কোনরূপই সন্দেহ নেই। তাই মোস্তফা জব্বার আমাদের বিজয়ে অভ্যস্ত করিয়ে দিয়েছেন বলে আমরা নিরূপায় হয়ে গেছি এই ধোঁয়াটা খুব বেশী জোরালো নয় কোনমতেই।


৭৩| ১৫ ই মে, ২০১০ বিকাল ৫:৪২

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: পেটেন্ট অকার্যকর হয়ে যাওয়ার বিষয়টা আপনি জানতেন না, তাতে আমিও মজা পেলাম। সেটা না হলে যে ইংরেজী কী বোর্ডটা আপনি ব্যবহার করছেন সেজন্য শোলজ এর ভূত কবর থেকে উঠে এসে আপনার কাছে টাকা দাবী করত।

২১ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৯

আইরিন সুলতানা বলেছেন: আপনি নিজে নিজে খানিকটা মিসগাইডেড হয়ে গেছেন আসলে।

"কিন্তু বিষয় সেটা নয়, আপনি ২০ বছরে পেটেন্ট অকার্যকর হয়ে যাওয়ার কথায় বেশ মজা পেলাম। এর অর্থ দাঁড়ায় যে, আপনি কোন মতে আইনের ফোকড় গলে বেরিয়ে আসতেই ইচ্ছুক আসলে। আপনার কথাতেই মনে মনে ভাবলাম, বিজয়ের পেটেন্ট-কপিরাইট না থাকলে যে কি হতো ! আগেই একটা উদাহরণ দিয়েছি, কারো গানের টিউনের এক কণা নিলেও তা শোনার পর ঠিকই বলা হয়, এটা ওটার নকল। " ....উপরের এক মন্তব্যে আপনাকে বলা এই কথাগুলিতে পেটেন্ট অকার্যকর হয়ে যাওয়ার বিষয়টা জানি কি না জানি সেটা বিষয় ছিলনা। বিষয় ছিল, বর্তমানের মূল তর্কে জিতে যাওয়ার চেষ্টা বা হেরে যাওয়ার আশংকা নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনার ভুল ধারাকে তুলে ধরা।

বিজয় আইনত হেরে গেলেও "৯৯%" জয় কিন্তু প্রকৃত অর্থে বিজয়েরই হচ্ছে। জয়ের অংশটুকু ১%।

৭৪| ১৯ শে মে, ২০১০ রাত ১:১০

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: এই যুগ আর ওই যুগ নিয়ে তো কোন কথা না । কী-বোর্ড লে-আউট তৈরী করা কোন ব্যাপার না, তাহলে বিজয় লে-আউটকে ধরেই কেন ইউনিজয় এলো ? একটা নতুন লে-আউট বানিয়ে নিলেই হতো, তাই না ?

কারণ মানুষ ঐ কী বোর্ডে অভ্যস্ত হয়ে গেছে আর জব্বার সাহেব সেটাকে ব্লাকমেল করার কাজে ব্যবহার করছেন... ব্লাকমেল...

২১ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৩

আইরিন সুলতানা বলেছেন: ওভাবে ভাবলে অভ্র সফটওয়্যারটিও আমাদেরকে তাদের ইন্টারফেসের সাথে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করছে, এবং ওভাবে ভাবলে আমাদের এই অভ্যস্ততায় আমরাও অভ্র কর্তৃক ব্ল্যাকমেইড।

কিন্তু আসলে কথা হলো পন্য উৎপাদনকারী তার পন্যের প্রচার করবেন, এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাক এটাই তো চাইবেন। এখানে এমন বাড়তি কথাগুলি অর্থহীনই।

বিজয়ে অভ্যস্ত হই আর যাই হই, অভ্র সফটওয়্যারে অভ্র ইজি ছিল। বিজয় লে-আউটটে অন্য কেউ ইউনিকোডে রূপান্তর না করে, ভিন্ন লে-আউটকে ইউনিকোডে রূপান্তর করলে, আন্তর্জাল প্রেমীরা অবশ্যই তা আত্মস্থ করতো আন্তর্জালের প্রেমেই এতে কোনরূপই সন্দেহ নেই। তাই মোস্তফা জব্বার আমাদের বিজয়ে অভ্যস্ত করিয়ে দিয়েছেন বলে আমরা নিরূপায় হয়ে গেছি এই ধোঁয়াটা খুব বেশী জোরালো নয় কোনমতেই।

৭৫| ২২ শে মে, ২০১০ রাত ১০:১০

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: আইন প্রসঙ্গে এক কথায় উত্তর দিচ্ছি....

জব্বার সাহেব যে আইনটির আশ্রয় নিচ্ছেন, যেভাবে তিনি এ প্যাটেন্টটি এত বছর পর পাশ করিয়েছেন সেটাকেই তো আমাদের কাছে অনৈতিক মনে হচ্ছে...

সে আইন নিয়ে আর আমরা কথা না বলি...

৭৬| ২২ শে মে, ২০১০ রাত ১১:৩৬

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: তাই মোস্তফা জব্বার আমাদের বিজয়ে অভ্যস্ত করিয়ে দিয়েছেন বলে আমরা নিরূপায় হয়ে গেছি এই ধোঁয়াটা খুব বেশী জোরালো নয় কোনমতেই।

আপনার কথাই আপনাকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে ম্যাডাম...


সারা বছর রামায়ণ পড়ে সীতা কার বাপ!

শুনুন ম্যাডাম মেহদির কথাটা আবার একটু স্মরণ করছি...
“If freedom is outlawed, only outlaws will have freedom”

এদেশের অধিকাংশ মানুষ বিজয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এটা করানোর জন্য মোস্তফা জব্বার সাহেবের কূটকৌশল কাজ করেছে। এখন সেটাকে ব্যবহার করে তিনি পাবলিককে ব্লাকমেইল করছেন। এই বিষয়টা যদি আপনার কাছে কোন অনৈতিক বিষয় মনে না হয়, তবে আমার বলার কিছু নেই। তবে কেন দেশের অধিকাংশ মানুষ আজ অভ্রের পক্ষে এটা বোঝার একটু চেষ্টা করবেন আশা করি। বারবার আপনাকে রামায়ন মুখস্ত করানোর পরও যদি বলতে থাকেন সীতা কার বাপ খালু চাচা। সেক্ষেত্রে আর বলার কিছু থাকে না।

তাহলে একটা কথাই বলতে পারি। ইউনিবিজয় আর বিজয় এক কী বোর্ড লে আউট নয়। পারলে আপনারা আইনের লড়াই জিতে আসেন। আপনি একটা কী বোর্ড লে আউট বানানোর পরে যদি সেটার প্রতিটা কী এর উপরে আপনার বাপ দাদার তালুক প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেন, সেক্ষেত্রে শুধু বলব। বাংলা ভাষা মোস্তফা জব্বারের কথায় চলে না। কী বোর্ড লেআউটও কারো বাপ দাদার তালুক হতে পারে না।

আরে ওনার সামনে তো সুযোগ ছিল, সারা জীবন মানুষের কাছে একটা কী বোর্ড লে আউট ডিজাইনের সম্মান বয়ে বেড়ানোর। উনি আবার সম্মান বিক্রি করে টাকাই বেশী প্রিফার করেন।

সম্মান বেচে টাকা কারা কারা আয় করে জানেন তো?

যাক সে যার যা অভিরুচী। তবে এটাকে আর নৈতিকতার মুখোশ পড়িয়ে মানুষের কাছে হাস্যাস্পদ হওয়ার চেষ্টা করবেন না এটাই দাবী। যিনি কথায় কথায় মানুষকে র‌্যাব দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখান, মনে তো হচ্ছে এ দেশের র‌্যাব তার কথায় ওঠে আর বসে।

এত ক্ষমতাবান মানুষের আর চিন্তা কি? তিনি তো দিনকে রাত করার ক্ষমতা রাখেন।

শুধু একটা কথা জেনে রাখবেন আমরা সবাই সজাগ আর প্রস্তুত আছি। আর একটা প্রশ্নের জবাব কিন্তু দেননি আপনি।

তার বিজয় ২০০৩ এ যেসব কী বোর্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তার জন্য তিনি তাদের অনুমতি নিয়েছেন তো? টাকাও দিয়েছেন নিশ্চয়ই?

এদেশে তার জন্য এক আইন আর অন্যদের জন্য ভিন্ন আইন এমন হবার কথা নয় নিশ্চয়ই?

অবশ্য যদি আইন তার চাকর হয়ে থাকে তবে আলাদা কথা।

২৩ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:৩২

আইরিন সুলতানা বলেছেন: আপনি যে এতো সব কথা কষ্ট করে বলছেন, তাতে আপনার নিজেরই সময় নষ্ট হচ্ছে। কারণ এগুলো অন্তসারশূণ্য কথাবার্তা। এখান থেকে জ্ঞানগর্ভ কিছু বেরিয়ে আসছে না। কেবল কোনমতে পিঠ বাঁচানোর প্রচেষ্টা।

ইউনিবিজয় আর বিজয় এক কী বোর্ড লে আউট নয়। -- হাহাহা...খোদ ওমিক্রনল্যাব, এমনকি একুশে.অর্গও দাবি করে এসেছে ইউনিজয় হলো বিজয়ের ৯৯% অনুরূপ। যারা ব্লগে আইটি লাইনে কাজ করছেন, তারাও কেউ এমন কিছু দাবি করেননি। আপনি যে বলছেন, সবাই বিজয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছে, এবং আপনারই কথা ইউনিজয় আর বিজয় এক নয়, তাহলে এই দুটো কথা পরস্পর বিরোধী হয়ে যায় কিন্তু। কারণ, ইউনিজয় আলাদা লে-আউট হলেতো আমরা এখন ইউনিজয়ে অভ্যস্ত !বিজয়ে কোথায় অভ্যস্ত হলাম !

খালি চোখে তাকালে এক আনাড়িও বলে দেবে, বিজয় আর ইউনিজয় একই। এরপর হয়ত বিশেষজ্ঞ চোখ ৮টি কী এর পার্থ্যক্য ধরতে পারবে।

আইন সবার জন্য অবশ্যই এক হওয়া উচিৎ। এবং সেখানে কোনরকম প্রভাব বিস্তার ছাড়াও এটা বুঝতে পারার কথা দুটো কী-বোর্ড অমিলের চেয়ে মিলই বেশী। প‌্যাটেন্ট-কপিরাইট থাকায় হয়তো বিজয় বাড়তি সুবিধা পাবে, এইটুকুই।

বিজয়ের উন্নত করণ যদি আনন্দ কম্পিউটার্স নিজেই করে, তাহলে আপনার-আমার অনুমতি নিতে হবে কেন! এমন অযৌক্তিক কথা বলে নিজের জ্ঞান-বুদ্ধিকে হাঁটুতে নামিয়ে আনছেন কেবল।

আপনার কথাবার্তা বেশ লাগামছাড়া এবং অর্থহীন। এরকম কথায় আমি আগ্রহী না। সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং দুঃখজনক হলো আপনি এখনও আইনের গলি দিয়ে বার হওয়ার পথ খুঁজছেন!

৭৭| ২২ শে মে, ২০১০ রাত ১১:৪২

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: গানের সুর তো সাতটি সুরের সরগমে বাধা। অনেক গানেই সুরের অংশবিশেষ চলে আসে, আসাটাই স্বাভাবিক। সেজন্য কেউ আজ পর্যন্ত মামলা করেনি। কারণ সে মামলা করার চেষ্টাটাই হাস্যকর।

২৩ শে মে, ২০১০ দুপুর ১:১৮

আইরিন সুলতানা বলেছেন: হাস্যকর যুক্তি! তাহলে বলতে হয়, পরীক্ষায় কোন প্রশ্নপত্রের উত্তরও তো কম বেশী একই। তাহলে একজনের খাতা দেখে লিখলে তাকে নকল বলে কেন! একেক কম্পোজার একেক সুরে গান বাঁধেন। তারা গানের সুর প‌্যাটেন্ট করান না। কিন্তু তা স্বত্ত্বেও কোন একটা লাইনের সুর যদি একই হয়, ওটাকে নকলই বলে, এটা আপনাকে আগেও বলেছি মনে হয়।

৭৮| ২৩ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:৩৬

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: যেটাকে আইন বলেই মনে করি না, সে আইনের আবার ফাক কিসের। তবে আমরা মনে না করলেও মোস্তফা জব্বার করেন তো?

এই প্রশ্নের উত্তরটা বারবার এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন ম্যাডাম? উত্তর দিন....

তার বিজয় ২০০৩ এ যেসব কী বোর্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তার জন্য তিনি তাদের অনুমতি নিয়েছেন তো? টাকাও দিয়েছেন নিশ্চয়ই?
এদেশে তার জন্য এক আইন আর অন্যদের জন্য ভিন্ন আইন এমন হবার কথা নয় নিশ্চয়ই?

অবশ্য যদি আইন তার চাকর হয়ে থাকে তবে আলাদা কথা।

৭৯| ২৩ শে মে, ২০১০ বিকাল ৩:৪২

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: বিজয়ের উন্নতকরণের কথা বলছিনা- বলছি বিজয়ে অন্তর্ভুক্ত মুনীর কী বোর্ড লেআউট সহ আরো যে সব কী বোর্ড লে আউট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেগুলোর কথা।

আমার জ্ঞানবুদ্ধি না হয় হাঁটুতে নেমে গেছে, আপনারটাতো জায়গামতই আছে। তাহলে প্রশ্ন এড়াচ্ছেন কেন? ওনার কাছে কি অন্যের ডিজাইন করা কী বোর্ড লে আউট ব্যবহার করা নৈতিক বলে মনে হয়েছে?

২৩ শে মে, ২০১০ রাত ১১:১১

আইরিন সুলতানা বলেছেন: হাহাহা...লুতফুল আপনি একটু পড়াশোনা করে আসুন বরং। নয়তো আপনি এমনকি অভ্রের অবস্থানকেও হাস্যকর করে তুলবেন। হাহাহা... আপনি মুনীর আর বিজয়ের লে-আউট দেখেছেন মিলিয়ে ?



বিজয় সাধারণ ভিউ (শিফট ভিউসহ)



মুনীর সাধারণ ভিউ



মুনীর শিফট ভিউ

এক নজর বুলিয়ে নিন লে-আউটগুলোতে।

আর আপনি এভাবে শুধু শুধু সময় নষ্ট না করে ফ্রুটফুল কিছু কাজ করুন বরং। তাতে হয়ত বাংলা কী-বোর্ড জগতে সামান্য হলেও বিপ্লব সাধন হতে পারে।

৮০| ২৩ শে মে, ২০১০ রাত ১১:৪২

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: কি প্রশ্নের কি উত্তর দিচ্ছেন বলেন তো? আপনার মাথায় যে এই পরিমাণ গোমল ভরা আন্দাজ করতে পারি নি। প্রশ্নটা আবার করছি।
.................................................
জব্বার সাহেব তার বিজয় ২০০৩ ভার্সনে মুনীর কীবোর্ডসহ সাত আটটা কী বোর্ড লে আউট ব্যবহার করেছেন।

অত্যন্ত পরিস্কার প্রশ্ন সেই কী বোর্ড লে আউটগুলো কি উনি সংশ্লিষ্টদের অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করেছেন?

সেজন্য কি উনি সেই কী বোর্ড লে আউট প্রণেতাদের টাকা দিয়েছিলেন?

না দিয়ে থাকলে তিনি কি নৈতিক কাজ করেছেন বলে মনে হয়?

ঐ কী বোর্ড লে আউটগুলো কি জব্বার সাহেবের মাথা থেকে এসেছে না আনন্দ কম্পিউটার ডিজাইন করেছে?
.............................................
এত সহজ প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি দুটো কী বোর্ড লে আউটের ছবি দিয়ে আমাকে একবার পড়াশুনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন একবার অন্য কোন ফ্রুটফুল কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। কেন?

আঁতে ঘা লাগল নাকি?
...............................................
আমি এক সময় মুনীর কী বোর্ডে কাজ করতাম এখন বিজয় কী বোর্ডে কাজ করি। ঐ দুটো কী বোর্ডের পার্থক্য বুঝতে আমার তিল পরিমাণ পড়াশুনা করার দরকার নাই।

আর এখানে আপনারা যারা জব্বার সাহেবের সমালোচনা করার ছলে আসলে তাকে মহামানব সাজাতে চাইছেন তাদের বক্তব্যের প্রতিবাদ করা আমার কাছে অনেক ফ্রুটফুল কাজ বলে মনে হচ্ছে। একজন ব্যবসায়ী যিনি একদল নিঃসার্থ তরুণকে আইনী ঝামেলায় ফেলেছে, তাদের পাশে দাড়ানোও আমার কাছে অনেক ফ্রুটফুল কাজ। আমি জব্বার সাহেবের মত স্বার্থবাদী ব্যবসায়ী নই।

২৪ শে মে, ২০১০ রাত ১২:১৩

আইরিন সুলতানা বলেছেন: আপনি কী-বোর্ড নিয়ে কাজ করেছেন ? আমি দুঃখিত এই জন্য যে, আপনার কথায় কোনরকম ডেভেলপারের ছাপ পাচ্ছিলাম না, সেটা হয়ত আমার ব্যর্থতা।

আমি তো আপনাকে চিনিনা লুতফুল। ফলে আপনি আদৌ কোথায় কাজ করেছেন তা আমি কি করে বুঝবো (বা বললেই মেনে নেব) বলুন! তারপরও বলছেন যখন, নাইস টু মিট ইউ।

আর আপনি অযথাই ঘোলাটে বিতর্ক করছেন, এম এস ওয়ার্ড তো মাইক্রোসফটের। কিন্তু আমরা কি তার ডেভেলপারদের নাম মুখস্ত করে বসে থাকি! নাকি আমরা বিল গেটসকে নিয়ে আলোচনা করি। সফটওয়্যার হাউজে দেশী-বিদেশী কত কাস্টোমারের জন্য বিভিন্ন প্রজেক্টের/সফটওয়্যারের কাজ হয়, এ্যামপ্লয়ি চলে গেলেও সেই প্রজেক্ট/সফটওয়্যার কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কাছেই থেকে যায়। চলে যাওয়া এ্যামপ্লয়ি কেবল তার সিভিতে ওই প্রজেক্টের বর্ণনা দিয়ে তার অভিজ্ঞতার ঝুলি যে ভারী সেটাই প্রকাশ করেন। আপনি সফটওয়্যার কোম্পানীতে কাজ করলে এই বিষয় তো আপনার জানারই কথা। অথচ কেবল বাচ্চাদের মত করছেন।

"...সাত-আটি কী-বোর্ডের লে-আউট নিয়ে কাজ করেছেন।" ----- হুমমমম...মি. ডিভোরাক যখন তার ডিভোরাক কী-বোর্ড ডিজাইন করেছেন, তখন তার সামনে ঠিক কতগুলো কী-বোর্ড ছিল তা জানিনা, তবে নিশ্চিত অহরহই যে কী-বোর্ডটি রিসার্চের জন্য তার সামনে ছিল সেটা হলো কোয়ের্টি কী-বোর্ড।

মুনীর কী-বোর্ডের সাথে বিজয়ের মিল পাওয়া খুবই দুস্কর। এজন্যই লেআউটি দিয়েছি। যে লেআউটি দিয়েছি, তা মিলিয়ে দেখুন তাহলেই বুঝবেন।

এর বাইরে আপনি যে সাত-আটটি কী-বোর্ডের কথা বলছেন, সেগুলোর নাম বলুন আগে, সেগুলোর লে-আউট দিন। না হলে সত্যাসত্য প্রমাণ পাবে কি করে!

এখন এভাবে যদি আপনি ৭-৮টি কী-বোর্ডের কথা বলেন, তাহলে, কোন না কোন কী-বোর্ডের সাথে একটা দুটো কী-স্ট্রোক মিলে যাবেই। তবে তা ৯৯% মিল কে ঢেকে দেয়না কিন্তু।

যাই হোক, দেখা যাচ্ছে, তাহলে আপনি অনুমতি বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। এবং তারমানে আপনি বুঝতে পারছেন, অনুমতি ছাড়া একটি কী-বোর্ডের প্রায় হুবহু মিলে যাওয়াটা তাহলে ঠিক নয়।

৮১| ২৪ শে মে, ২০১০ সকাল ৯:৫০

লুতফুল বারি পান্না বলেছেন: মহা মুশকিল। আরে কী বোর্ড মিলে যাওয়ার কথা কে বলল? হুবহু কয়েকটা কী বোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে বিজয় ২০০৩ সফটওয়্যারে।

কী বোর্ডে কাজ করা আর কী বোর্ড নিয়ে কাজ করা কি এক হল?
...................................

আমি শুধু জানতে চাইছিলাম ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য অন্যদের ডিজাইন করা কী বোর্ড হুবহু বিজয় ২০০৩ সফটওয়্যারে ব্যবহার করার আগে কি তাদের অনুমতি নেয়ার কথা কিংবা আনন্দ কম্পিউটার্সের মালিক মেনেছিলেন? তিনি কি তাদের টাকা দিয়েছিলেন? ইউনিবিজয় ৯৯% বিজয়ের সংগে মিলে যাওয়ার অপরাধে তিনি অভ্রের বিরুদ্ধে কপিরাইট অফিসের নোটিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। যদিও অভ্র ব্যবসায়িক সফটওয়্যার নয়। তিনি নিজে তো মুনীর কী বোর্ডসহ আরো কয়েকটা কী বোর্ড তার সফটওয়্যারের সংগে ১০০% ব্যবহার করেছেন, ব্যবসায়িক স্বার্থে।

আপনার আশেপাশে কারো কাছে বিজয় ২০০৩ এর কপি থাকলে নিজেই দেখে নিতে পারেন।

২৪ শে মে, ২০১০ রাত ১০:৪৭

আইরিন সুলতানা বলেছেন: আপনার মন্তব্যগুলো হতাশাব্যঞ্জক। আগে তো নাম বলুন কোন কোন লে-আউট ছিল সেগুলো। পরিপূর্ণ তথ্য দিন। আগে জানি কোন কোন কী-বোর্ড ছিল সেগুলো।

বিজয় ২০০৩ আর আমার দেয়া বিজয়ের লে-আউটের পার্থক্য কী কী? আপনি ২০০৩ লে-আউটের ছবি দিন।

আপনি বাকি লে-আউটগুলোর নাম বলুন একে একে। এবং আগে দেখান মিল গুলো কোনটার সাথে কোনখানে। এছাড়া আপনার বক্তব্য সময় নষ্টকারী কেবল।

আপনি মনে হয়, অভ্র-ইজি কী-বোর্ড লে-আউটের কথা ভুলে গেছেন। ইউনিজয় নিয়ে এতো হৈচৈ এ শ্রম, মেধা, সময় ব্যায় না করে অভ্র-ইজিকে প্রচার করলেই আসলে প্রকৃত ফ্রুটফুল কাজ হতে পারে। অভ্র-ইজি নিয়ে জব্বার সাহেবের কোন অভিযোগও নেই। অভ্রইজি আর বিজয়ের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়াও দুস্কর। আমার চোখে একটাই মিল পড়েছে কেবল, ঠ+ট কী-স্ট্রোকের অবস্থান।

আর হ্যা, অসম্পূর্ণ তথ্যে আলোচনা করতে আলসেমি লাগে, আগ্রহ পাইনা।

২৫ শে মে, ২০১০ সকাল ১০:২২

আইরিন সুলতানা বলেছেন:
কী-বোর্ডের লে-আউট আনুষাঙ্গিকভাবে, সফটওয়্যারে রাখা, উক্ত কী-বোর্ডটির স্বনামে, স্বপরিচয়ে এক জিনিষ আর একটি কী-বোর্ডের লে-আউট ৯৯% কপি করে সেটা নিজেদের উদ্ভাবন বলে কৃতীত্ব নেয়া সম্পূর্ন ভিন্ন ব্যাপার এটা বোঝার মত সামান্য জ্ঞানবুদ্ধির পরিচয় দিন। বিশেষত যখন আপনি নিজেকে কী-বোর্ড নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তি বলে পরিচয় প্রদান করেন।

আপনি বলছেন যে, বিজয় ২০০৩ সফটওয়্যারে বিজয় ছাড়াও আরো কী-বোর্ড লে-আউ ছিল। এগুলো কি ভিন্ন নামে ছিল না স্বনামে? সেই লে-আউটগুলো কি আনন্দ কম্পিউটার্সের উদ্ভাবন বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছিল? অভ্র সফটওয়্যারেও তো জাতীয় কী-বোর্ডের লে-আউট আছে।

মুনীরের ক্ষেত্রে কি অনুমতির বিষয় ছিল? মুনীর সহ আরো সাত-আটই কী-বোর্ডের লে-আউট হুবহু যুক্ত করতে কার কাছে অনুমতি নিতে হতো? তালিকা আকারে নাম দিন ।

মুনীর কীবোর্ড স্বনামে, স্বপরিচয়ে বিজয় সফটওয়্যারে থাকলে কি করে ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য হাসিল হয়, তা বিস্তারিত বলুন। কারণ আপনার হিসেবে জব্বার সাহেব সবাইকে বিজয়ে অভ্যস্ত করিয়ে ফেলেছেন। সেই মোতাবেক বিজয় সফটওয়্যারে মুনীর থাকলেই কি ? লোকে তো বিজয়ই ব্যবহার করবে।

যারা অভ্র ব্যবহারকারী তারা ফোনেটিক এবং ইউনিজয় দিয়ে কাজ করে। অভ্র সফটওয়্যারে অভ্র-ইজি আছে, সেটার প্রতি প্রচরণায় এতো হেলা কেন? কজন অভ্র ইউজার অভ্র-ইজি দিয়ে লেখে? বর্ণনা দিয়ে লেখে?

আমাকে বিজয় ২০০৩ দেখে নিতে বলছেন কেন?? অদ্ভূদ! আপনি তো পর্দার পেছনের ঘটনার বিস্তারিত জানেন, আপনি স্ক্রীণ শট দিয়ে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট বর্ণনা করুণ আপনার যুক্তিগুলো।

প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তবেই মন্তব্য করুণ। এমন যেন না হয় যে, এই মূহূর্তে আপনার মস্তিস্কে উদ্ভট কিছু একটা কথা উদয় হলো, এবং আপনি তাৎক্ষিনকভাবে অগোছালোরূপে একটার পর একটা মন্তব্যের পর মন্তব্য করা শুরু করলেন।

শুরু থেকে আপনার সবগুলো মন্তব্য খেয়াল করুন। আপনার অবস্থান, মতামত বলার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে একটি দুটি মন্তব্যই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু আপনি কেমন উটকো কথাতে থাকতে পছন্দ করছেন।

৮২| ২৫ শে মে, ২০১০ সকাল ১০:৩৫

মু আ হাকিম নিউটন বলেছেন: আমি সাম্প্রতিক কালের পোস্টগুলো দেখেছেন আশাকরি। আমি সকলের অংশগ্রহনে সবার জন্য উন্মুক্ত বাংলা ওপেনসোর্স ফ্রীওয়্যার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করার চেষ্টা করছি। আপনি আশা করছি আপনি তাতে সামিল হবেন।

প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে আমরা দুটি কী-বোর্ড লে-আউট ডিজাইন করছি -- একটা পেশাদারদের জন্য আর একটি অপেশাদারদের জন্য। আমি কী-বোর্ড লে-আউট ডিজাইনের উপরে পড়াশোনা করছি। অপেশাদারদের জন্য একটা ইনটুইটিভ লে-আউট ড্রাফট করেছি, পেশাদারদের জন্য কী-পজিশন ও হ্যান্ডমুভমেন্ট বিবেচনায় ওয়েট অ্যাসাইন করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি খ. মাহমুদুল আলম একজন কাজ করছে একটা জাভা স্ক্রিপ্ট প্রোগ্রাম তৈরীতে যেটি সিড হিসাবে ব্যবহার করব। ডাটা কালেকশন ও অন্যান্য বিষয়ে পরিকল্পনা সাজানোর চেষ্টাও চলছে। যা হোক কী-বোর্ড বিষয়ে আপনার আলোচনা ও বিশ্লেষন আমাদের জন্য সম্পদ হিসাবে কাজে দিবে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে আরো সম্পৃক্ত থাকার জন্য আপনি বাংলা কম্পিউটিং ফোরাম নামে নিম্নের লিংকের ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিবেন বলে আশা করছি।

Click This Link

৮৩| ২২ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৩:৫১

অক্ষর বলেছেন: টাইপিং কোনো দিন শিখি নাই। যার জন্য বিজয় ইউজ কর্তাম। কিন্তু অভ্রু আসার পর এইটাই ইউজ করি, এতে সহজ হৈছে কোনো কিছু টাইপ কর্তে। কিসের ভিতর কি আছে, তাতে মাথা ব্যাথা নাই।

আর আমার জন্য টাইপিং সহজ কৈরা দেওনের জন্য অভ্রুরে ভালো পাই

২২ শে আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:০০

আইরিন সুলতানা বলেছেন: বিজয় আর অভ্র'র মধ্যে একটা বিষয় একটু পরিস্কার হওয়া দরকার। বিজয় বলতে ওটার কী-বোর্ড লেআউটের কথা বলছি। বিজয়ও একটা সফটওয়্যার যেটাতে বিজয় কীবোর্ড লেআউট আছে। আর আমরা যে অভ্র অভ্র বলি, এটা আসলে পুরো কথা না। অভ্র একটা সফটওয়্যার।একটা ভালো ইন্টারফেস বিভিন্ন কী-বোর্ড লেআউট এক্সেস করার জন্য। যেটাতে ফোনেটিক আছে। ইউনিজয় আছে। এবং আছে অভ্র'র নিজস্ব লেআউট অভ্র ইজি।

আপনি খুব সম্ভবত ফোনেটিক ব্যবহার করেন। ওটা তো অবশ্যই সহজ আমাদের অনেকের কাছে। অথবা আপনি ইউনিজয় ব্যবহার করেন, ওয়েবে বাংলা লেখার জন্য। ইউনিজয় হলো ইউনিকোড ভিত্তিক। এবং ইউনিজয়ের কীবোর্ড লেআউট মূলত বিজয়ের কীবোর্ডের লেআউটের আদলে। এই অংশটা পরিস্কার করে বোঝা থাকা ভালো।

৮৪| ১৯ শে নভেম্বর, ২০১০ রাত ১:৪৩

morshedgnd বলেছেন: লাবানি আফা,
আপনাকে শুধু কয়েকটি কথা বলিতে চাই..... আমরা সবাই বিজয়ের জন্য কৃতজ্ঞ। এই আমি হ্যা আমিই এখনও ইউনিজয় ব্যবহার করছি। আর আপনি যা নিয়া ফালাফালি করলেন.... আমার মনে হয় কাগুর দ্বারা আপনি বিশেষ ঘুষাবদান আছে। আমরা হুজুগে বাঙালী কথাটা মানতে পারলাম না।

যখন আমরা আংরেজীতে লিখতাম- tumi kothay aso? / tumi kemon aso?


তখন কোথায় ছিল আপনার চুতিয়া জব্বার? কোথায় ছিল তার চুতিয়া বিজয়? কেন সে ইউনিকোড ভিত্তিক কিবোর্ড বা প্রোগ্রামিং করেনি? আর আজ আপনি যে এখানে লিখতে পারছেন- এর জন্য অমি আজাদ, হাসিন হায়দার সহ নাম না জানা আরো অনেক ডেভেলপাররা কাজ করে গেছেন? তখন কোথায় ছিল চুতিয়া জব্বার?? মুখে ভাল কথা বললে ভাল লাগেনা!!! শালা একটা বুড়া হইছে... ভিমরতিতে পাইছে। ক্ষমতা জোড় বেশিদিন থাকেনা এটা ওনি আর কয়েকবছর পরই টের পাইবেন।

আপনার অভ্র বাপেরা যখন অভ্র বের করলো তখন লাখো ইউজার বেড়ে গেল বাংলা লেখার জন্য এবং এই সুবিধা পাওয়ার জন্য।


কয়টাকা ঘুষ খাইছেন? বলবেন? নাকি আপনি তার আদরপ্রাপ্ত?

বর্তমানে অভ্র প্রিন্টিংএর জন্যও পারফেক্ট সে দিন আর বেশি দুরে নয়। বিজয় কিবোর্ড একসময় ডাষ্টবিনে থাকবে। ওপেনসোর্স জোয়ারে ভেসে যাবেন। অনেক কিছু বলার ছিল। সময় নেই নিজের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানোর। কিন্তু বাংলা কম্পিউটিং বিজয় নিয়ে লাফালাফি মোটও ভাল লাগেনা। জানিনা আপনার এত চুলকায় কেন।

আর আন্তরিকভাবে সরি কিছু খারাব শব্দ ব্যবহারের কারনে। কিন্তু এটা আপনার প্রাপ্য। ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, দালালী কম করবেন।

২০ শে নভেম্বর, ২০১০ সকাল ১০:৫৭

আইরিন সুলতানা বলেছেন: যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করার মত শিক্ষাগত যোগ্যতা আপনার নেই, সেটাতে অংশগ্রহণের পূর্বে আলোচনার বিষয়বস্তু, অন্যের মতামত এবং সেই বিষয়ে তথ্যপূর্ণ সঠিক পড়াশোনা করাটা জরুরী।

আপনার সেটা করা খুবই প্রয়োজন।

আপনি হুজুগে বাঙালি নন। তবে আপনি খানিকটা অসুস্থ গোত্রীয়। সেটা আপনার মন্তব্যের ধরনেই স্পষ্ট।

আপনার সুস্থতা প্রত্যাশা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.