| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তানভীর রাতুল
Sensitivity to social justice might be a motivation for poems, but it is not the only one. Through the immediacy of images, an improvised-sounding, rigorous musicality, and far-ranging sentences, conveys complexities of feeling and thought while avoiding didacticism and ideologically motivated polemicspoet does not ma...ke the dangerous mistake of addressing social inequality by turning politics into art. As the philosopher and literary critic Walter Benjamin might have said, 'responds by politicizing art.' The danger of such a response, though, is that it can lead to art that disguises its participation in capitalist culture so that attention to poetic form only produces the illusion of resolution of real social conflict.
এক
বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার নিজের বিস্ময়। যে বিপদ দুই দশক ধরে দরজায় কড়া নাড়ছিল, তাকে হঠাৎ দেখে চমকে ওঠা! এই চমকই বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবি মহলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিনোদন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আল-কায়েদার আঞ্চলিক শাখা ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস) একটি বিক্ষিপ্ত গোষ্ঠী থেকে ক্রমশ সংগঠিত আঞ্চলিক নেটওয়ার্কে রূপ নিচ্ছে, বড় ইউনিটের বদলে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন সেলের মাধ্যমে কাজ করছে এবং সামরিক ও আর্থিক অবকাঠামো তৈরি করছে বাংলাদেশে সেল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। একই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লাল কেল্লার সামনে ঘটা বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গেও এই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এ নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের পর্যবেক্ষক দল উদ্বেগও প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি গত বছরের ৬ ডিসেম্বর থেকে চলতি ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি, এবং এটি প্রকাশের দুদিন পরই সাভারে নব্য-জেএমবির একটি সেল উন্মোচিত হয়, এবং তাদের জঙ্গী সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এইটুকু তথ্যই যথেষ্ট আতঙ্ক তৈরি করার জন্য। কিন্তু আতঙ্ক আর বিশ্লেষণ এক জিনিস নয়। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদনকে যদি কেউ প্রথম আবিষ্কারের মতো উপস্থাপন করে, সেটা হবে স্মৃতিভ্রংশের প্রমাণ। কারণ মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসবাদবিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনেও বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে জেএমবি ও আইএস-সংশ্লিষ্ট নব্য জেএমবির অস্তিত্ব ও তৎপরতার কথা লেখা হয়ে আসছে। সেসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারা প্রায়ই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য-সহিষ্ণুতার কথা বলেন, তবে বাংলাদেশ বরাবরই আল-কায়েদা ও আইএসের মতো বৈশ্বিক জঙ্গিগোষ্ঠীর উপস্থিতি অস্বীকার করে এসেছে। অর্থাৎ সমস্যাটা নতুন নয়; নতুন হলো স্বীকৃতির সময়। রাষ্ট্র যখন বিপদ অস্বীকার করাকেই দেশপ্রেম বলে গণ্য করে, তখন বিপদ নথিপত্রের বাইরে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠে নীরবে, প্রশাসনিক ভাষার আড়ালে।
শুরুতে যেমন বলছিলাম, এ দেশের বুদ্ধিজীবি কারা? এ দেশে বুদ্ধিজীবি হলো সেই ব্যক্তিরা, যারা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বাতিলের দাবি তোলে না, যারা হিন্দী ভাষার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও 'আলহামদুলিল্লাহ' বা 'সুবহানাল্লাহ'র মতো আরবীভাষার অভিব্যক্তির বিষয়ে নীরব থাকে, যারা পশ্চিমা ফ্যাশনকে 'বিদেশি সংস্কৃতি' বলে আখ্যায়িত করে, অথচ বোরকা বা হিজাবের বিষয়ে কিছুই বলে না, যারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখলের প্রতিবাদ করে কিন্তু পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর জমি দখলের বিষয়ে কোনো কথা বলে না, যারা 'শত্রু সম্পত্তি' আইন বা হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় নীরব থাকে, তারাই এদেশে বুদ্ধিজীবি। এদেশে পেশায় দালালি করা এবং দলীয় তোষামোদিতে লিপ্ত থাকা নির্বোধজীবিরাই কেবল বুদ্ধিজীবি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের এই তথাকথিত নির্বোধজীবিরা দাবি করে যে দাড়ি, টুপি ও আলখাল্লার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই; অথচ এগুলোর বিষয়ে কোনো অবমাননাকর মন্তব্য করা হলে তারা ‘ইসলামোফোবিয়া’র অভিযোগ তোলে! এরা জোর দিয়ে বলে যে ইসলামে সঙ্গীত নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু হুজুর, মোল্লা ও মাওলানারা যখন সঙ্গীতের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন বা সন্ত্রাসীজনতা বাদ্যযন্ত্র ভাংচুর করে, তখন তারা ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তোলে না! এরা দাবি করে যে ইসলামে মাদ্রাসার কোনো অস্তিত্ব নেই, অথচ মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পক্ষে তারা কখনোই একটি শব্দও উচ্চারণ করে না! এরা জোর দিয়ে বলে যে ইসলাম সব ধর্মের সমান অধিকারের কথা বলে, অথচ তারা নিজেদের রাষ্ট্রকেই "মুসলিম দেশ" হিসেবে চিহ্নিত করে! এরা দাবি করে যে ইসলামে পর্দা প্রথা নিয়ে কোনো চরমপন্থা নেই, অথচ কোথাও বোরকা বা নিকাব নিষিদ্ধ করা তো দূরের কথা, সমালোচনা করা হলেই তারা 'নারীর পোশাকের স্বাধীনতা' ও ইসলামবিদ্বেষের কুযুক্তি দেয়!
এসব তথাকথিত বুদ্ধিজীবিদের কারণেই আফগানিস্তান থেকে শরিয়া-ভিত্তিক জঙ্গিবাদী পতাকা এনে বাংলাদেশে ওড়াতে ইচ্ছুক মানুষের সংখ্যা ও তাদের চুলকানি যেন ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তারা বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা চায় না। আমাদের সংবিধান বা শাসনব্যবস্থার প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। অথচ, বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমানই মূলত ধর্মভীরু; তারা হয়তো ধর্মীয় বিষয়ে খুব বেশি জানেন না, কিন্তু তাদের বিশ্বাস অত্যন্ত গভীর। এখানকার অধিকাংশ মুসলমান নিজেদের ধর্মের পরিচয়েই পরিচিত করেন, অথচ সেই ধর্ম সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য তারা খুব একটা চেষ্টা করেন না। এর কারণ হলো, আরবী ভাষায় রচিত ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর অর্থ বুঝে পড়ার সক্ষমতা তাদের নেই। বাংলাদেশের অধিকাংশ মুসলমানই ধর্ম নিয়ে যারা ফায়দা লোটে, তাদের দেওয়া ব্যাখ্যাগুলোকে মূল ধর্ম হিসেবেই মেনে নিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন। বাংলাদেশের নিরানব্বই শতাংশ মুসলমান আসলে ব্যাখ্যা করতে পারেন না যে শরিয়া শাসনের অর্থ বা বিষয়বস্তু কী। অথচ আজ যদি কোনো জরিপ চালানো হয়, তবে দেখা যাবে যে প্রায় অর্ধেক মানুষ শরিয়া আসলে কী তা সঠিকভাবে না বুঝেই বলছেন যে তাঁরা এটি চান এবং দাবি করছেন যে শরিয়া শাসন ভালো।
বিশ্বজুড়ে ইসলাম অনুসারীদের মধ্যে বিভিন্ন ‘মাযহাব’ (আইনশাস্ত্রীয় মতবাদ) ও ‘তরিকা’ (আধ্যাত্মিক সাধনা-পদ্ধতি) নিয়ে অন্য যেকোনো ধর্মের তুলনায় অনেক বেশি মতভেদ ও বিবাদ রয়েছে; কেবল সুন্নিদের মধ্যেই হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি, হাম্বলি ও কওমি এসব বিভিন্ন গোষ্ঠী বা ধারা বিদ্যমান। শিয়াদের মধ্যে রয়েছে ইসনা আশারি, ইসমাইলি ও জায়দি সম্প্রদায়। এ ছাড়াও রয়েছে আহমদিয়া, কুরআনবাদী, সালাফি, আহলে হাদিস, দেওবন্দি ও বেরেলভি এবং এসব প্রতিটি দলেরই রয়েছে অসংখ্য শাখা ও উপশাখা। বিভিন্ন মাযহাব ও তরিকা বা সুফি সিলসিলা অনুসারী মুসলমানরা প্রায়শই নিজেদের দলের বাইরের মানুষদের ভুল পথে আছে বলে মনে করেন। বাংলাদেশে এসব মতবাদ ও তরিকার কট্টরপন্থীরা শরিয়া আইন প্রবর্তনের পক্ষে কথা বলেন। যদি শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করা হয়, তবে তা কোন মাযহাব বা তরিকা অনুযায়ী প্রয়োগ করা হবে, এ প্রশ্নেও এরা প্রত্যেকেই দলকানা গোঁয়ার।
শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিকদের উচিত কট্টরপন্থী ও চরমভাবাপন্ন ধর্মীয় নেতাদের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে যে সামাজিক জড়তা বা 'ট্যাবু' রয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা। কাউকে অসম্মান না করেও যৌক্তিক আলোচনার মাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করা সম্ভব। যেমন আমার প্রশ্ন হলো, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অগণতান্ত্রিক শরিয়া বা "সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচার" অথবা অন্য যেকোনো বালছাল শাসনব্যবস্থার প্রশ্নই বা আসে কেন? সংখ্যাগরিষ্ঠতার শাসন এবং প্রকৃত গণতন্ত্র এক জিনিস না; আর বাংলাদেশও প্রথাগত গণতন্ত্রের দেশ না, এটা উদারনৈতিক-সাংবিধানিক গণতন্ত্রের দেশ। তাই ৯০% জনগণ ভোট দিয়ে শরিয়া চাইলেও তা অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক ও স্বেরাচারী শাসনব্যবস্থাই, কারণ সাংবিধানিক গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাধিক্যের ভোটই নয়, গণতন্ত্র অনেকসময়ই মাত্র একজনের ভেটোও।
দুই
মাদ্রাসা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই একটা সংখ্যাতাত্ত্বিক অস্বস্তিতে পড়তে হয় কারণ রাষ্ট্র নিজেই জানে না তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে কী পরিমাণ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ জরিপ অনুযায়ী দেশে প্রায় তেইশ হাজার মাদ্রাসা আছে, যার মধ্যে সরকার-অনুমোদিত আলিয়া ধারার প্রায় সাড়ে নয় হাজার এবং কওমি ধারার প্রায় চৌদ্দ হাজার। আরো বিস্তারে বললে, ব্যানবেইসের এই ২০১৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে প্রায় ২৩ হাজার মাদ্রাসার মধ্যে আলিয়া মাদ্রাসা ৯ হাজার ৩১৯টি এবং কওমি মাদ্রাসা ১৩ হাজার ৯০২টি। কওমি ধারার মাদ্রাসাগুলো সম্পূর্ণ বেসরকারি অর্থায়নে চলে, নিজস্ব পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে, এবং সরকারের কোনো তদারকির আওতায় পড়ে না, আর এই ধারার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারও কোনো তদারকি করে না। বেসরকারি হিসাবে অবশ্য কওমি মাদ্রাসার এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি, কোনো কোনো হিসাবে বিশ হাজারের ওপরে, এমনকি ২০০৯ সালে উইকিলিকসে ফাঁস হওয়া ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এক তারবার্তায় বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় তেইশ থেকে সাতান্ন হাজারের মধ্যে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। একটি রাষ্ট্র, যার হাতে নিজের শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত মানচিত্রই নেই, সেই রাষ্ট্র কীভাবে দাবি করবে যে, শাসনব্যবস্থা চরমপন্থার উৎসস্থল চিহ্নিত করতে পারবে?
এই সম্প্রসারণের পেছনের কারণ নিছক ধর্মীয় ষড়যন্ত্র কিনা, নাকি বরং রাষ্ট্রের নিজের ব্যর্থতা— এই প্রশ্নে বিশ্লেষককে সৎ থাকতে হয়। তবে ঐতিহাসিকভাবে আমাদের দেশের আলিয়া ও কওমী মাদ্রাসাগুলো পাকিস্তানের অখণ্ডতাকে সমর্থন করেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের এমন কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির কথা উল্লেখ পাওয়া যাবে না যারা মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন করেছিলেন, আর ব্যতিক্রম কখনোই সাধারণ নিয়ম বা দৃষ্টান্ত হতে পারে না। মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ‘ছয় দফা’ কর্মসূচি ও স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। তারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছে, এরা এমন সব পরিবারের সদস্য যারা মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের আগ্রাসন হিসেবেই গণ্য করত। আশপাশের ‘জুলাই-গোষ্ঠী’র সমর্থকদের পটভূমি যাচাই করলেই একথার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়।
এটা ঠিক যে, দারিদ্র্যের কারণে বহু অভিভাবক সন্তানদের জন্য মাদ্রাসাকেই বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন, কারণ সেখানে থাকা-খাওয়া প্রায় বিনামূল্যে, আর গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মানের ক্রমাবনতি একটা পুরনো, স্বীকৃত বাস্তবতা। বাড়তি পাওয়া হিসেবে পরকালে জান্নাত লাভ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাদ্রাসায় পাঠানো এসব অভাবী পরিবারের ছেলেদের মামুনুল হকের মতো ব্যক্তিরা নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও জনবল বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করে। তার তাই মাদ্রাসার ভেতরে শিশু ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটলেও রাষ্ট্র কার্যত এ বিষয়ে কিছুই করতে পারে না; কারণ এর মূলে রয়েছে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের বিকৃত মানসিকতা। তারা কেন তাদের সন্তানদের সেখানে পাঠায়? তাদের বিশ্বাস, সন্তান যদি ‘আলেম', মানে ইসলামী-পন্ডিত হতে পারে, তবে সে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে বাবা-মায়ের জন্য জান্নাতে স্থান নিশ্চিত করবে। তাই জান্নাত লাভের আশায় এমনকি লম্পট, চরিত্রহীন, চোর ও অনৈতিক স্বভাবের বাবা-মায়েরাও তাদের সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠায়। এমন ঘটনাও শোনা যায় যে, কোনো শিশু বাড়িতে গিয়ে যখন জানায় যে কোনো ‘হুজুর’ তাকে ধর্ষণ করেছে, তখন সে কোনো প্রতিকার তো পায়ই না; বরং তাকে জোরপূর্বক আবার মাদ্রাসায় ফেরত পাঠানো হয়।
দারিদ্র্যের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিভাবকের তাঁদের সন্তানদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে মাদ্রাসাকে বেছে নেয়াটা এটাই প্রমাণ করে যে, মাদ্রাসার বিস্তার একটা উপসর্গ, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা-বৈষম্য ও দারিদ্র্যের উপসর্গ। যে রাষ্ট্র গ্রামের স্কুলে যোগ্য শিক্ষক পাঠাতে ব্যর্থ, সে যদি নাগরিকদের ধর্মীয় শিক্ষায় ঝোঁকার জন্য দোষারোপ করে, তখন সেটা আয়নায় নিজের আঙুল তোলার বদলে আয়নাকেই গালি দেওয়ার শামিল।
যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ সুবিধায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ তৈরি হলো, তখনই বলেছিলাম যে, মাদ্রাসা থেকে আসা কেউ, কখনোই, মরে গেলেও, স্বাধীনতা, বাঙালি সংস্কৃতি কিংবা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে দাঁড়াবে না। তখনই বলেছিলাম যে, আরবি, ইসলামী ইতিহাস ও উর্দুর মতো অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসার মাধ্যমে শেখ হাসিনা আসলে এমন এক জনগোষ্ঠীকে গড়ে তুলছেন, যারা শেষ পর্যন্ত তাঁকেই ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লাগবে। যারা হিজাব ও জিন্সের সহাবস্থান নিয়ে স্বপ্লপ্রসূত বিকৃত কল্পদোষে মগ্ন থাকে, তারা প্রকৃতপক্ষে হিজাব পরিধানকারী নারী ও হিজাব পরতে বাধ্যকারী পুরুষদের চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক। হিজাব ও জিন্স একে অপরের পরিপূরক নয়। ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশের সাথে ‘জুব্বা’ ও ‘টুপি’ বা যে কোনো বাধ্যতামূলক প্রথাগত ধর্মীয় পোশাক একেবারেই বেমানান; পাঠ্যসূচি, ক্যাম্পাস কিংবা শ্রেণিকক্ষে ধর্মনিরপেক্ষতাকে তারা মেনে নিতে পারে না। যারা এই বিষয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করে, তারাই হলো প্রকৃত দুষ্কৃতকারী 'মিচকা শয়তান'। মৌলবাদী প্রতিষ্ঠানে প্রগতিশীলদের কোনো স্থান নেই, সেখানে তাদের নিয়োগই দেওয়া হয় না। মাদ্রাসায় কোনো ভরতনাট্যমের হিন্দু মহিলা শিক্ষিকা নেই, অথচ ‘নিউ এজ’ পত্রিকার নূরুল কবির তাঁর সংবাদপত্রে মাদ্রাসার স্নাতকদের নিয়োগ দিতেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের সেই সরল বিশ্বাসের ভানকরা চতুরতা বা বোকামিই তাকে এমন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছিল, যেখানে আমরা দেখতে পেলাম, একদল উন্মত্ত জনতা তারই চুল ধরে টানছে। দেখুন তো, এ কেমন হাস্যকর পরিহাস!
আর বস্তুত, সেই ভবিষ্যদ্বাণীই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আসলে গত দুইদশকেরও অধিক সময় ধরেই বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গীবাদের উত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আমার চরম উদ্বেগের কথা বলে আসছিলাম। শেখ হাসিনার বদৌলতেই মাদ্রাসার পটভূমি থেকে আসা মাহফুজ আলমের মতো তরুণরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছিল; অথচ তারাই সেই গোপন হিজবুত তাহরিরের জঙ্গী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মূল কারিগর হয়ে উঠল, যার ফলে হাসিনার নির্মম পতন। বলুন তো, এ কেমন হাস্যকর পরিণতি!
তবে এর মানে এই নয় যে অনিয়ন্ত্রিত, অস্বচ্ছ পাঠ্যক্রমের প্রশ্নটি তুচ্ছ। একটি আধুনিক রাষ্ট্রে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এমন এক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বড় হচ্ছে, যার বিষয়বস্তু, শিক্ষকের যোগ্যতা বা মান নিয়ন্ত্রণের কোনো স্বাধীন যাচাই নেই। এটা নিছক ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন নয়, বরং নাগরিকের শিক্ষার মৌলিক মানের প্রশ্ন। সমস্যা মাদ্রাসা-নামক প্রতিষ্ঠান নয়; সমস্যা হলো জবাবদিহিহীনতা, এবং সেই জবাবদিহিহীনতা কেবল মাদ্রাসায় সীমাবদ্ধ নয়, এটা বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের চরিত্রলক্ষণ।
তিন
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটা নতুন শব্দ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিধানে জায়গা করে নিয়েছে—‘মব কালচার’। রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে জনতার একাংশ নিজেরাই বিচারক ও শাস্তিদাতা হয়ে ওঠার এই প্রবণতাকে, ধরে নিচ্ছি দেশের প্রচলিত সংবাদভাষ্য, ‘সংগঠিত সামাজিক ব্যাধি’ বলে অভিহিত করেছিল। আরে না! বাংলাদেশের সরকার ও গণমাধ্যম এটাকে বলেছিল 'জনতার সম্বলিত ক্ষোভ', যা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে ক্রমবর্ধমান হারে দেখা গেছে। এই সময়ে বাংলাদেশে যে প্রবণতা দৃশ্যমান হয়েছে তা বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা নয়, বরং একটি সংগঠিত সামাজিক ব্যাধির রূপ নিয়েছে, যার নাম মব কালচার—এমন একটি সংস্কৃতি যেখানে আইন-বিচার-রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে জনতার একাংশ নিজেরাই বিচারক, জল্লাদ ও শাস্তিদাতা আল্লাহ হয়ে উঠেছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০২৬ সালের বিশ্ব প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অধ্যায়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার একাধিক নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ আছে। রংপুরে জুলাই মাসের শেষে একদল জনতা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত চৌদ্দটি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়, আর পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান নিপীড়নের খবর সারা বছর ধরে এসেছে, যার মধ্যে ধর্ষণের মতো অপরাধও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ (এইচআরসিবিএম) ২০২৫ সালকে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বছর বলে অভিহিত করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘুরা হামলা, লুটপাট ও মব সহিংসতার শিকার হয়েছেন, বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছে এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এই যে সংখ্যালঘুরা হামলা, লুটপাট, সহিংসতার শিকার হলো, তাঁদের বাড়িঘর পোড়ানো হলো, নারীরা নির্যাতন হলো এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাদের হেনস্তা করা হলো, অথচ এসব অপরাধে জড়িতদের যথাযথ বিচার হয়নি। রাষ্ট্রীয় মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-ও একই সুরে জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সংখ্যালঘু নির্যাতন ও মব সন্ত্রাস প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে।
নারীদের প্রতি গণপরিসরে হেনস্তার প্রবণতাও নথিভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ২০২৫ সালের এক বিবৃতিতে জানায়, পোশাক-সংক্রান্ত নানা অজুহাতে নারীকে হেনস্তা করা প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে এবং গণপরিসরে নারীর নিরাপত্তা ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে—এই বিবৃতির উপলক্ষ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে পোশাক নিয়ে হেনস্তার ঘটনা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারকে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক সনদ অনুযায়ী ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।
এই তথ্যগুলো একসঙ্গে রাখলে একটা প্রবণতা স্পষ্ট হয়: সমস্যাটা কেবল সশস্ত্র জঙ্গীবাদ নয়, বরং তার চেয়ে বিস্তৃত এক সামাজিক পরিবেশ, যেখানে রাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে বিচারের ভার তুলে নিচ্ছে রাস্তার নৈতিক পুলিশ। আর যে রাষ্ট্র নিজেই বিচারবহির্ভূত সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থ, তার মুখে জঙ্গীবাদবিরোধী জিরো টলারেন্সের ঘোষণা শুনতে হাস্যকর ঠেকে। রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করলে একটা ধারাবাহিক পুনরাবৃত্তি চোখে পড়ে—প্রথমে অস্বীকার, তারপর আংশিক স্বীকৃতি, শেষে একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপানো, আর এরপর প্রত্যেকেরেই দোষ অস্বীকার... এই চক্র চলতেই থাকে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা প্রকাশ্যে বলেন, সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী ইউনূছ-সরকার জঙ্গীবাদ ইস্যুতে ছাড় দিয়েছিল, কিন্তু তাদের তারেক-সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা আরো বলেন, দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব থাকলেও সেটাকে যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করা হয়। কী হাস্যকর আবদার! লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই বক্তব্যেই একটি স্বীকারোক্তি লুকিয়ে আছে, জঙ্গীবাদ ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের আশঙ্কা নিজেই একটা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মুখ থেকে আসছে। অর্থাৎ প্রতিটি সরকারই আগের সরকারকে দুর্বলতার জন্য দায়ী করছে, অথচ কাঠামোগত ব্যর্থতা যথা তদারকিহীন শিক্ষাব্যবস্থা, বিচারবহির্ভূত মব সহিংসতা, দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে যাচ্ছে অপরিবর্তিত, সরকার বদলের ঊর্ধ্বে। আরেকটু অতীতে গেলে দেখা যায়, ২০২৩ সালে প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার প্রতিবেদনেও বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যাপক দায়মুক্তির কথা লেখা হয়েছিল, এবং বলা হয়েছিল সরকার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। এই দায়মুক্তির ধারা একটানা, সরকার বদলায়, দায়মুক্তি বদলায় না। এই ধারাবাহিকতা এমন এক পরিবেশ তৈরি করে যেখানে চরমপন্থী নেটওয়ার্ক হোক বা মব-নেতা, উভয়েই জানে বিচারের সম্ভাবনা ক্ষীণ।
এখানে মাদ্রাসার সম্পর্কটা বোঝানোর জন্য আমি একটু ঘুরিয়ে বলছি। বাংলাদেশের আটরশি, চরমোনাই, মাইজভাণ্ডার ও শর্ষিনার মতো স্থানগুলোতে অবস্থিত পীরদের দরবার বা আস্তানায় কোটি কোটি টাকার অনুদান সংগৃহীত হয়; বার্ষিক উৎসবের সময় কোনো কোনো দরবারে এই অর্থের পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। করমুক্ত বিশাল এই অর্থ তথাকথিত মাদ্রাসা ছাড়া বাংলাদেশের আর জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের কোনো নজির কি আমাদের জানা আছে? বাংলাদেশে মসজিদের দানবাক্স থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার খবর প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। এই অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়? রামকৃষ্ণ মিশন একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এটি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। বাংলাদেশে চিকিৎসার জন্য এই মিশনগুলোতে যারা ভিড় করেন, তাদের ৯৫ শতাংশই মুসলমান। খ্রিস্টান মিশনারিরা স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা করে, বাংলাদেশের সেরা স্কুল কলেজগুলো এই মিশনারিদের দ্বারা পরিচালিত। এই মুসলিম-প্রধান দেশেও এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ৯৫ শতাংশই মুসলমান; তারা কেবল খ্রিস্টানদের জন্য এই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলেননি। মুসলিম ধর্মগুরুদের দ্বারা পরিচালিত এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা কি আপনি বলতে পারবেন? মাদ্রাসা বা মসজিদের এমন কোনো উদাহরণ কি আছে যা ঢাকার রামপুরার বৌদ্ধ বিহারে প্রতি বছর ইফতার আয়োজনের মতো কার্যক্রমের সমতুল্য?
এখন কল্পনা করুন একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুর কথা, যিনি অনুদানের অর্থ এই সমাজের সকল সম্প্রদায়ের মানুষের উপকারের জন্য পুরোটা ব্যয় করছেন; অথচ ঠিক যখনই, ধরুন, পরশু দিনই এমন খবর আসলো যে মিয়ানমারে বার্মিজ সৈন্যরা রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তখনই মঠগুলোতে তড়িঘড়ি করে পুলিশ প্রহরা বসানো হবে। তখন হামলার আশঙ্কা দেখা দেবে। একই ঘটনার আরেক রূপ দেখা যায় পূজার সময়, যখন দাড়িওয়ালা-টুপিপরা মাদ্রাসার কিছু ছাত্র ও হুজুর পূজামন্ডল পাহারা দেয়ার লোকদেখানো নাটক করে। সেখানেও নাকি হামলার সম্ভাবনা আছে। আর কারা হতে পারে এসব হামলাকারী? বিষয়টি কি সত্যিই খুলে বলতে হবে?
আচ্ছা বাংলাদেশে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী পদে কেন কখনোই হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান কাউকে বসানো হয় না? কেন সেই মন্ত্রী সবসময়ই একজন দাড়িরাখা এবং টুপিপরা মুসলমান? আর তা-ই যদি হবে, তবে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম বদলে সরাসরি ‘ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ রাখা হচ্ছে না কেন?
চার
একটা জরুরী সতর্কতা দরকার, আর এই সতর্কতাটাই আমার বিশ্লেষণকে আলাদা করে। জঙ্গী নেটওয়ার্ক, মাদ্রাসার অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ, মব সহিংসতা, নারী ও সংখ্যালঘু নিপীড়ন—এই সবগুলো তথ্যই সত্য এবং ভয়াবহ। আর এই তথ্যগুলো থেকে কেবল এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছানো যায় যে, বাংলাদেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষ, যারা মাদ্রাসায় সন্তান পড়ান বা নিয়মিত নামাজ পড়েন অথবা মসজিদ-মাদ্রাসায় দান করেন, তারাও প্রত্যেকেই সহিংসতা ও জঙ্গীবাদের সমর্থক, এবং সম্ভাব্য জঙ্গীও । গত কয়েক দশক ধরে ধর্মীয় প্রচারকরা মানুষকে বেহেশতে যাওয়ার এক সহজ পথের সন্ধান দিয়েছেন। যেকোনো মূল্যে বেহেশত লাভই এখন লক্ষ্য; নিজে তা অর্জন করতে না পারলে সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠিয়ে হলেও তা নিশ্চিত করতে হবে। এই জনগোষ্ঠীর জীবন থেকে সঙ্গীত বিলুপ্ত হয়ে গেছে; বয়াতী, মারফতি, লালন কিংবা বাউল গান শোনার মতো শ্রোতা আর সেখানে নেই। এখন তাদের মোবাইল ফোনে বাজে ধর্মীয় বয়ান। অভাবী নারীরা ধর্মীয় শিক্ষার তালিম খালাম্মাদের ক্লাসে অংশ নেয় এবং ছোট ছোট বাচ্চাদেরও হিজাব পরায়। পুরুষরা অল্প বয়স থেকেই গোঁফ কামিয়ে দাড়ি রাখে এবং ঐতিহ্যবাহী পায়জামা পরিধান করে। সামগ্রিকভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তির অগ্রদূত হিসেবেই 'বাঙালী মুসলমান' উপজাতির মনন আত্মপ্রকাশ করেছে। ইসলাম যেমনি একটা ধর্ম যার চরিত্র হতে পারতো আধ্যাত্মিক, তেমনি একটি জাতীয়তাবাদী বিশ্বাস যার মূল প্রকৃতি আসলে রাজনৈতিক। ইসলাম একটি রাজনীতির ধর্ম। এই ধারার রাজনীতি পরকালের চিন্তার চেয়ে ইহকালে বা বর্তমান সময়ে ‘ইসলামবাদ’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দেয়। ইসলামে ‘হারাম’ বা নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত প্রথাগুলোকে ব্যক্তিগতভাবে বর্জন করার পরিবর্তে রাজনৈতিক-ইসলাম সেই ক্ষেত্রগুলোকেই ‘ইসলামীকরণ’ করার প্রয়াস চালায়। এই ভয়াবহ আগ্রাসী ধারণাটিই ‘সর্বব্যাপীইসলামবাদ', এটাই রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে মোল্লাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর শরিয়া শাসন চাপিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
লিল্লাহ, জাকাত, ফিতরা ও উদার অনুদানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মাদ্রাসাগুলোই যে আজকের সামাজিক অবক্ষয়ের জন্য দায়ী—একথা পুরোটাই সত্যি, তবে তাদের প্রতি ঘৃণা বা অবজ্ঞা বর্ষণের আগে সমাজের প্রগতিশীল ও সুবিধাপ্রাপ্ত অংশের উচিত নিজেদের দিকে একবার আত্ম-পর্যালোচনার দৃষ্টি ফেরানো। মূল্যবোধহীন ও সংকীর্ণমনা এক প্রজন্মের উত্থান এবং সমাজের বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থার জন্য মূলত জনগণই দায়ী; সাধারণ নাগরিকরা যারা দান-দক্ষিণার মাধ্যমে মাদ্রাসার সংখ্যা ও পরিসর অত্যধিক বাড়িয়েছে তারাই মূল সমস্যার অংশ। ধর্মীয় শিক্ষার অভাব, অজ্ঞতা এবং অন্ধ বিশ্বাসের দায়ভার তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের ওপরই বর্তায়। নারীর অবমাননা, নারীবিদ্বেষী মনোভাব, যৌন হয়রানি ও সহিংসতা, ধর্ষণ কিংবা ভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের মানুষের প্রতি বিদ্বেষ—এসব ঘটনা একের পর এক ঘটতে দেখার পরও আসলে কতজন মানুষ এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়? ধর্মের আড়ালে মাদ্রাসায় বিদ্যমান অজ্ঞতা ও অসদাচরণের বিষয়টি দেখেও অধিকাংশ মানুষ চোখ ফিরিয়ে নেয় এই আশঙ্কায় যে, পাছে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে অজান্তে আঘাত লেগে যায়। নিজের বিশ্বাসের ওপর দৃঢ় প্রত্যয়ের অভাব থাকলে ঠিক এমনটাই ঘটে! 'বিশ্বাসের ভাইরাস' তো ছিলই, এখন অজ্ঞানতা-প্রসূত ধর্মীয় উগ্রবাদের ক্যান্সারেও বাংলাদেশ আক্রান্ত। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সামাজিক প্রথা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মতো জাতির দীর্ঘদিনের রীতিনীতিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ক্ষেত্রে তথাকথিত ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চেয়ে বরং সেই সব শিক্ষিত ও বিত্তবান নাগরিকের দায়ই বেশি যাদের অন্ধ ভক্তি ও আর্থিক অনুদানই মূলত এদের ইন্ধন জোগায়।
যেসব মাদ্রাসার হুজুররা ধর্মের দোহাই দিয়ে প্রতিনিয়ত শিশুদের মগজধোলাই করে; যারা জঘন্য ও সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়েও পার পেয়ে যায়; যারা আমাদের শিশুদেরকে নারীজাতি অবজ্ঞা করতে এবং নারীকে কেবল যৌন লালসা ও বিকৃত বাসনা চরিতার্থ করার বস্তু হিসেবে দেখতে শেখায়; যারা তরুণ মনে অন্য ধর্ম ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রতি প্রতিনিয়ত বিদ্বেষের বীজ বপন করে; এবং যারা এতিমখানা ও দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে নিত্যদিন সাম্প্রদায়িকতা ও উগ্রবাদী মানসিকতার বীজ রোপণ করে—আমাদের শিক্ষিত নাগরিকদের মধ্যে তাদের সমালোচনা করার যে দ্বিধা দেখা যায়, তার মূলে রয়েছে এই শিক্ষিত ও বিত্তবান শ্রেণির অন্ধ ভক্তি। এরা এমন এক শ্রেণি যারা নিজেরাই ধর্মসংক্রান্ত জ্ঞানের ঘাটতিতে ভোগে। ধর্মের নামে ব্যবসা, অপকর্ম ও অসদাচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দ্বিধান্বিত এই অস্বাস্থ্যকর সংস্কৃতি ও পরিস্থিতির সংস্কার এবং পরিবর্তন ভাঙা ছাড়া পরবর্তী প্রজন্মকে সুস্থ, মানবিক ও যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা অসম্ভব। জঙ্গীদেরকে স্পষ্টভাবে ‘জঙ্গী' হিসেবে চিহ্নিত না করা পর্যন্ত বাংলাদেশের এই ব্যাধি নিরাময়ের প্রাথমিক পদক্ষেপটিও শুরু করা সম্ভব নয়। মাদ্রাসাগুলো যে উগ্রবাদী জঙ্গী তৈরির কারখানা; এই সত্যটি স্বীকার না করা পর্যন্ত সঙ্গীতানুষ্ঠান, সিনেমাহল, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানগুলোতে হামলা চলতেই থাকবে।
আর, এদেশে, ইসলামী মৌলবাদও শ্রেণীবৈষম্যের এক নিদারুণ চিত্র; গরীব মুসলমানরা হতে চায় তালেবান আর ধনী মুসলমানরা হতে চায় জাকির নায়েক। তারা কি কখনো ভেবে দেখেছে যে, জাকির নায়েক ভারতেরই একটি পণ্য! এই অভদ্রলোকটা ভারতে বসে বসে লেকচার দিতো। হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে তার ইসলামিক যুক্তি দেখিয়ে ইসলামকে একমাত্র সত্য ধর্ম প্রমাণ করতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সে বক্তৃতা দিয়ে বেড়াত। তার বাংলাদেশী ভক্তরা সেসব ভিডিও দেখে কোনদিন নিজের বুদ্ধির কাছে প্রশ্ন করেনি, যে ভারতে গরু খেলে যদি হিন্দুরা মুসলমানদের মেরে ফেলে তাহলে সেই দেশের হিন্দুরা জাকিরের এমন লেকচার সহ্য করে কি করে? 'বাঙালী মুসলমানের মন' যে অতীব জটিলভাবে বেকুব তা সলিমুল্লাহ খানকে দেখলেই বোঝা যায়। মাদ্রাসা শিক্ষার পক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে তিনি কী চতুর সব যুক্তিই না ব্যবহার করেন! তিনি দাবি করেন যে, যারা তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন, তারা কখনোই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েননি, বরং তাঁরা ছিলেন মাদ্রাসায় শিক্ষিত! তাঁর যুক্তির ত্রুটি বা ভ্রান্তির ধরনটি লক্ষ্যণীয়। উদাহরণস্বরূপ, তাজমহল নির্মাণকারী রাজমিস্ত্রিদের নিত্যদিনের আহার্য ছিল যদি রুটি ও বেগুন ভর্তা হয় তাহেল অযৌক্তিকভাবে এমন দাবিও করা যায় যে, রুটি ও বেগুন ভর্তা খেলেই বুঝি একজন মানুষ বড় প্রকৌশলী হয়ে ওঠে! নামমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রাপ্ত এই দরিদ্র রাজমিস্ত্রিরা তাঁদের প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছিলেন বিভিন্ন মাদ্রাসায়। সলিমুল্লাহ খান এই তথ্যটিকেই পুঁজি করে দাবি করলেন যে, মাদ্রাসায় শিক্ষিত ব্যক্তিরাই তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন! কেউ যদি মাদ্রাসা ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন, তবে সলিমুল্লাহ খানের মতো মানুষদের কাছ থেকে নিশ্চিতভাবেই বাধার সম্মুখীন হতে হবে।
তাছাড়া প্রথম আলোর আনিসুল হকের মত প্রগতির ভানকরা লেখকরা ইংরেজী মিডিয়াম মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে গিয়ে এই প্রক্রিয়াকে বেগবান করে। সমাজের এই নির্দিষ্ট অংশটিই মূলত দায়ী। তারা সবকিছুই করেছে: প্রতিটি এলাকায় মাদ্রাসার বিস্তারকে উৎসাহিত করা, ইসলামি ধর্মগুরুদের বিশেষ মর্যাদার আসনে বসানো, ইসলামি দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকারের পক্ষে ওকালতি করা, মুসলমানদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক ষড়যন্ত্রের প্রচারণায় বিশ্বাস স্থাপন করা, ফিলিস্তিন ও কাশ্মীর ইস্যুতে কট্টর ডানপন্থী অবস্থান নেওয়া এবং তীব্র ভারত-বিদ্বেষী মনোভাবের আড়ালে সাম্প্রদায়িক সুর মিশিয়ে ভারতবিরোধিতা যা অনেকের ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করা থেকে বোঝা যায়। বাংলাদেশে ইসলামপন্থীদের বর্তমান উত্থান ও তাদের শক্তি প্রদর্শনের প্রেক্ষাপটে, অনেক উদারপন্থী মানুষই নিজেদের জীবনধারা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভাবছে। অন্য কথায়, দেশটিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়ার পর এখন তারা নিজেরাই পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে যেসব লেখক লিখে আসছিলেন যে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপট উদ্বেগজনকভাবে আফগানিস্তান-সুলভ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে, সেইসব লেখককেই এই বিশেষ শ্রেণিটি ইসলাম-বিদ্বেষী হিসেবে আখ্যায়িত করে খারিজ করে দিয়েছিল।
যাহোক, তবে সন্ত্রাসী সেল আর ধর্মচর্চা এক জিনিস নয়; দরিদ্র অভিভাবকের মাদ্রাসা-নির্ভরতা আর আদর্শিক উগ্রবাদও এক জিনিস নয়। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু সহিংস নেটওয়ার্ক বা মব-নেতৃত্বের অপরাধের দায় গোটা ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া নিজেই একধরনের বৌদ্ধিক অসততা, ঠিক যেমন অসততা এই বিপদগুলোকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা। বাংলাদেশে প্রকৃত সমস্যাটা তাই ধর্ম, এবং একই সাথে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা: এক, নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি ও বিচার প্রক্রিয়ার দুর্বলতা, যা সংগঠিত সহিংস নেটওয়ার্ককে বাড়তে দেয়; দুই, শিক্ষাব্যবস্থার বৈষম্য ও তদারকিহীনতা, যা দারিদ্র্যকে অনিয়ন্ত্রিত ধর্মীয় শিক্ষার দিকে ঠেলে দেয়, তবে সবচে উত্তম হয় যদি মাদ্রাসা ও ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল করে বৈষম্যহীন একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা যায়; তিন, আইনের শাসনের সাধারণ অনুপস্থিতি, যা মব-সহিংসতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি করে। আর এই তিনটি সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ধারাবাহিক জবাবদিহিতার মাধ্যমেই সম্ভব, কোনো ধর্মীয় জনগোষ্ঠীকে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার কল্পনায় নয়, এবং কোনো একক ধর্মীয় পরিচয়কে সন্দেহের আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েও নয়।
আমি ধর্মকে আক্রমণ করছি না, আক্রমণ করছি ধর্মের রাজনৈতিকীকরণকে, প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামিকে, ক্ষমতার কাছে নতজানু বুদ্ধিজীবীকে। আমি তীক্ষ্ণতা তাক করি কাঠামোর দিকে, মানুষের বিশ্বাসের দিকে নয়। আজকের বাংলাদেশে সেই তীক্ষ্ণতা সবচেয়ে বেশি দরকার তিন জায়গায়—যে রাষ্ট্রব্যবস্থা জঙ্গি নেটওয়ার্ক বছরের পর বছর অস্বীকার করে গেছে, যে শিক্ষাব্যবস্থা নিজের সন্তানদের জন্য মানসম্পন্ন মূলধারা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়ে তাদেরকে বিকল্পধারার মাদ্রাসা, ইংরেজি স্কুল, এবং ইংরেজি মাদ্রাসার দিকে ঠেলে দিয়েছে, আর যে আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা মব-সহিংসতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে নীরবে প্রশ্রয় দিয়ে গেছে। এই তিন ব্যর্থতা নিয়ে যে জাতি আজও বিস্মিত হয়, সে জাতির বিস্ময়ই সবচেয়ে করুণ রসিকতা।
তথ্যসূত্র
লাইট নিউজ বিডি, "বাংলাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে আল-কায়েদা: জাতিসংঘ" (১৪ আগস্ট ২০২৬) — https://www.lightnewsbd.com/
নিউজ নাউ বাংলা, "বাংলাদেশে আল-কায়েদার নেটওয়ার্ক, জাতিসংঘের উদ্বেগ" (১৪ আগস্ট ২০২৬) — https://newsnowbangla.com/
বাংলা ট্রিবিউন, "বাংলাদেশে কি পুনরায় জঙ্গিবাদের উত্থান হতে যাচ্ছে?" (১৫ আগস্ট ২০২৬) — https://www.banglatribune.com/
প্রথম আলো, "বাংলাদেশে কঠোরভাবে জঙ্গি দমন অব্যাহত" (মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেররিজম-২০২২ অবলম্বনে) — https://www.prothomalo.com/
বণিক বার্তা, "দেশে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা এখন কওমি" — https://bonikbarta.com/
বণিক বার্তা, "মাদ্রাসা শিক্ষার সম্প্রসারণ ও বহুমুখিতা" (ব্যানবেইস তথ্যভিত্তিক) — https://www.bonikbarta.com/
উইকিপিডিয়া, "বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসার তালিকা" — https://bn.wikipedia.org/
ঢাকা টাইমস ২৪, "সহিংস জনতার উত্থান: ভীতিকর ভবিষ্যৎ" (২৫ এপ্রিল ২০২৬) — https://www.dhakatimes24.com/
Human Rights Watch, "World Report 2026: বাংলাদেশ" — Click This Link
প্রথম আলো, "সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এইচআরসিবিএম" (১০ ডিসেম্বর ২০২৫) — https://www.prothomalo.com/
দেশ রূপান্তর, "বাংলাদেশে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বেড়েছে: এইচআরডব্লিউ" (১৬ জানুয়ারি ২০২৬) — https://www.deshrupantor.com/
দেশ রূপান্তর, "অন্তর্বতী সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে হতাশ করেছে" (আসক-এর বিবৃতি অবলম্বনে, ৭ আগস্ট ২০২৫) — https://www.deshrupantor.com/
বাংলা ট্রিবিউন, "নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মহিলা পরিষদ" (৬ মার্চ ২০২৫) — https://www.banglatribune.com/
আইটিভি বিডি, "অন্তর্বর্তী সরকার জঙ্গি ইস্যুতে ছাড় দিয়েছে, তবে বর্তমান সরকার কঠোর: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা" (২৮ এপ্রিল ২০২৬) — https://www.itvbd.com/
মার্কিন দূতাবাস, ঢাকা, "২০২৩ সালে মানবাধিকার চর্চার দেশভিত্তিক প্রতিবেদন: বাংলাদেশ" — https://bd.usembassy.gov/bn/
৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯
তানভীর রাতুল বলেছেন: একটু বড় লেখা, তবে এই প্রসঙ্গে আরো অনেক কিছুই লেখা যায়।
২|
৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭
রাজীব নুর বলেছেন: বর্তমানে আমাদের দেশে কোনো খাটি বুদ্ধিজীবি নেই।
৭১ সালের পর থেকেই আমাদের বুদ্ধিজীবি কমতে শুরু করেছে।
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৭
সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: িরাট লেখা, পড়া কষ্টকর, চোখেও মানে না। তবে আমার কাছে মনে হয় এই মাদ্রাসা শিক্ষা এসেছে সরকারের ভুলের কারনেই। সারা দেশে অন্তত সরকারী মান্সম্পন্ন অন্তত ২০০০ স্কুল কলেজ থাকলে, আসনের অভাব পড়ত না, সন্তান মাদ্রাসাতেও যেত না। মানুষ বাধ্য হয়েছে সরকারের ভুলে।