নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানবসম্পদ ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনা আমার পেশা হলেও, লেখালিখির মাধ্যমে নিজের ভাবনাগুলো ভাগ করে নিতে আমি সবসময় আগ্রহী।

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু

আমি ইতিবাচক চিন্তার শক্তিতে বিশ্বাস করি এবং আমার কাজ এবং কথার মাধ্যমে অন্যদের অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করি। আমার ব্লগে আসার জন্য ধন্যবাদ। আসুন, একসাথে কাজ করে সফলতার পথে এগিয়ে যাই!

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু › বিস্তারিত পোস্টঃ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স কোর্স সংস্কার: তিন বছরের অনার্স ও এক বছরের ডিপ্লোমার ভবিষ্যৎ প্রভাব

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:২০

বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছর মেয়াদি অনার্স কোর্সকে তিন বছর মেয়াদি করা এবং অতিরিক্ত এক বছর ডিপ্লোমা ও কারিগরি শিক্ষার সংযুক্তির পরিকল্পনা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলামের ঘোষণার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়। এই সংস্কারের ফলে শিক্ষার্থীরা অনার্স ও ডিপ্লোমা—দুই ধরনের সার্টিফিকেট পাবে, যা তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।

পরিবর্তনের যৌক্তিকতা ও সম্ভাব্য সুফল

১. শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি: তিন বছর মেয়াদি অনার্সের পাশাপাশি এক বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ও কারিগরি শিক্ষার সংযুক্তি শিক্ষার্থীদের হাতে নির্দিষ্ট দক্ষতা ও বাস্তবিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ এনে দেবে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা থাকায় তারা চাকরির বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।

২. চাকরির বাজারে অধিক গ্রহণযোগ্যতা: বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক ডিগ্রি থাকাই যথেষ্ট নয়, প্রযুক্তিগত ও কারিগরি দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা একইসঙ্গে একাডেমিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবে, যা দেশ-বিদেশে চাকরির সুযোগকে আরও সম্প্রসারিত করবে।

৩. বিদেশি শিক্ষাপ্রণালীর সাথে সামঞ্জস্য: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিন বছর মেয়াদি অনার্স ও এক বছর বিশেষায়িত কোর্স বা মাস্টার্সের প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশেও এই মডেল অনুসরণ করলে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের একটি সংযোগ তৈরি হবে।

সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

১. কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া:

নতুন শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে তার বাস্তবায়নের ওপর। যথাযথ কারিকুলাম, দক্ষ প্রশিক্ষক এবং মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

২. শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতি:

দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত চার বছর মেয়াদি অনার্স সিস্টেমে অভ্যস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিবর্তন মানিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে। তাদের সচেতন করা এবং এই পরিবর্তনের সম্ভাব্য ইতিবাচক দিক তুলে ধরার জন্য ওরিয়েন্টেশন বা ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ব্যবস্থা চালু করা উচিত।

৩. নতুন সিস্টেমের গ্রহণযোগ্যতা:

চাকরিদাতারা এই পরিবর্তন কতটা গ্রহণ করবেন তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব ও কার্যকারিতা তুলে ধরা প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স কোর্সের এই নতুন মডেল শিক্ষার্থীদের জন্য এক সম্ভাবনাময় পরিবর্তন আনতে পারে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি, এটি শিক্ষার সঙ্গে বাস্তবজীবনের সংযোগ আরও দৃঢ় করবে। তবে, এই নতুন ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা, কাঠামোগত উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ৮:০৯

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: কোন ভবিষ্যৎ নেই। নতুন কোন কর্মসংস্থান নেই। চাকুরির এক্সাম হয় না ঠিক মতো ১.৫ বছর ধরে। পাতানো নির্বাচন ও বিপ্লবের আড়ালে অনেকের জীবনের ত্রাহি অবস্থা।

তবে ৬ মাস মেয়াদি ইংরেজি কোর্স রাখলে এবং সঠিক ভাবে দক্ষতা যাচাই করলে উপকার পাবে কিছুটা। জাতীয় ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টদের অধিকাংশ স্টুডেন্টদের বেসিক ভালো না। আমি পড়ায়েছি তাদের বিজনেসের সাব্জেক্ট গুলো।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ৮:১৭

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার উদ্বেগ একেবারে যৌক্তিক—চাকরির বাজারে স্থবিরতা, নিয়োগ পরীক্ষার অনিশ্চয়তা ও দক্ষতার অভাব সত্যিই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার ৬ মাসের ইংরেজি কোর্সের প্রস্তাবও বেশ বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে। দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ভাষাগত যোগ্যতা, বিশেষ করে ইংরেজি, অনেক ক্ষেত্রেই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তবে এর পাশাপাশি অন্যান্য বাস্তবমুখী স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স (যেমন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডাটা অ্যানালিটিক্স ইত্যাদি) চালু করাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেসিক দুর্বল থাকার বিষয়টি আপনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন, যা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। এই জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদেরই সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে, যেন তারা শুধুমাত্র সার্টিফিকেটধারী না হয়ে সত্যিকারের দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে পারেন।

আপনার অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের জন্য আবারও ধন্যবাদ। আশাকরি, এ নিয়ে আরও আলোচনা করা সম্ভব হবে!

২| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ রাত ৯:৪০

কামাল১৮ বলেছেন: শিক্ষার মান উন্নত করতে হবে।নিম্ন মানের শিক্ষা দিয়ে বিশ্বে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ভোর ৬:২৫

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। একদম ঠিক বলেছেন—শিক্ষার মান উন্নয়ন ছাড়া গ্লোবাল প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন। শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, বাস্তব দক্ষতা অর্জনই শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যুগোপযোগী কারিকুলাম, দক্ষ শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি, এবং হাতে-কলমে শেখার সুযোগ বাড়ানো জরুরি। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, যেন শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য দক্ষতা অর্জন করতে পারে।

আপনার মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং আমরা সবাই চাই যেন শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সত্যিকারের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যম হয়ে ওঠে। ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান ইনপুটের জন্য!

৩| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ১০:২৭

রাজীব নুর বলেছেন: ব্যাঙের ছাতার মতো প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি হয়ে, লেখাপড়ার মান একদম কমিয়ে দিয়েছে।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ১১:৫৪

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। এটি সত্য যে কিছু নিম্নমানের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে সব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় একরকম নয়—অনেকে শিক্ষার মান উন্নত করতে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করছে।

মূল সমস্যা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা নয়, বরং মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষতার অভাব। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হোক বা প্রাইভেট, শিক্ষার মান বাড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ শিক্ষক, আপডেটেড কারিকুলাম এবং গবেষণার সুযোগ বাড়ানো গেলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পারবে এবং চাকরির বাজারে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও নীতিনির্ধারকদের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য ধন্যবাদ!

৪| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১২:১২

নতুন বলেছেন: চীনের জনসংখ্যা বেশি তারা বিদেশে পন্য রপ্তানী করে এবং বিদেশে চাকুরি করে।

আমাদের দেশের ভেতরে রপ্তানিজাত পন্যের উপাদনে বিনিয়োগ করতে হবে। এবং বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে হবে।

বিদেশে শিক্ষিত ছেলে মেয়েদের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করলে তারা পরিবার নিয়ে সেই দেশে বসবাস করতে পারবে।

যেই সব সেক্টরে চাহিদা আছে সেই ট্রেনিং এবং শিক্ষা দিয়ে বিদেশে কাজের ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হবে।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ দুপুর ১:৫২

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনার মন্তব্যটি খুবই বাস্তবসম্মত এবং সময়োপযোগী। চীনের মতো দেশ বিদেশে পণ্য রপ্তানি ও দক্ষ শ্রমিকদের পাঠিয়ে তাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে, এবং আমাদের দেশেও সেই একই পথে এগিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য রপ্তানিজাত পণ্যের উপাদানে বিনিয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর পাশাপাশি বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরি করতে হলে দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া আবশ্যক। বিশেষ করে, যেসব সেক্টরে বিদেশে চাহিদা রয়েছে—যেমন, হেলথ কেয়ার, আইটি, নির্মাণ, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি—তবে সেগুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে, তারা আন্তর্জাতিক বাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে।

শুধু কাজের সুযোগই নয়, বিদেশে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও কর্মপরিসর সৃষ্টি করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর জন্য সরকারের সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ধন্যবাদ!

৫| ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ সকাল ১১:০৮

রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ আমার মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার জন্য।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ বিকাল ৪:৪৫

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ মূল্যবান মন্তব্য করার জন্য! আপনার মতামত আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ভবিষ্যতেও এমন গঠনমূলক মতামত শেয়ার করবেন, যাতে সবাই মিলে ভালো কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারি। শুভকামনা!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.