নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

“Blogger | Law Student | Human Rights Activist”

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু

লেখালেখির মাধ্যমে আমি নতুন ভাবনা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল প্রকাশ খুঁজে পাই। আমার লেখার লক্ষ্য পাঠকদের ভাবতে উদ্বুদ্ধ করা এবং একটি অর্থবহ আলোচনা তৈরি করা।

শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু › বিস্তারিত পোস্টঃ

তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে দেশের বাস্তবতা

০৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

সকালের ব্যস্ততা সাধারণত আমার জন্য খুব পরিচিত। অফিসে যাওয়ার আগে মোটরসাইকেলে একটু তেল নিয়ে নেওয়া—এটাই ছিল নিয়মিত অভ্যাস। কিন্তু আজকের সকালটা অন্যরকম ছিল। দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি যেন সেই সাধারণ অভ্যাসটাকেও কঠিন করে তুলেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নতুন নির্দেশনা দিয়েছে—মোটরসাইকেলচালকেরা দিনে সর্বোচ্চ দুই লিটার জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সীমা ১০ লিটার, এসইউভি বা মাইক্রোবাসের জন্য ২০–২৫ লিটার, আর বড় যানবাহনের ক্ষেত্রে আরও বেশি। এই সীমা নির্ধারণের মূল কারণ বিশ্ব পরিস্থিতি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন সীমিত হয়ে যাওয়ায় অনেক দেশই উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়, কারণ আমাদের ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

তবে এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি আরেকটি বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে—মানুষের আতঙ্ক। অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন। ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন, কোথাও আবার তেল শেষ হয়ে পাম্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার এই ‘প্যানিক বায়িং’ নিয়ন্ত্রণ করতেই তেল কেনার সীমা বেঁধে দিয়েছে।

আজ সকালে তেল নিতে গিয়ে আমি নিজেও এই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি। বাইপাইলের একটি পাম্পে যেখান থেকে নিয়মিত তেল নিই, সেখানে গিয়ে দেখি তেল নেই। কিছুটা সামনে গিয়ে আরেকটি পাম্পে পৌঁছালাম। সেখানে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইন—মনে হচ্ছিল যেন সবাই একই চিন্তায় ছুটে এসেছে। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পরও সেখানে মাত্র ১০০ টাকার তেল দেওয়া হলো। এরপর আরও দুটি পাম্পে গেলাম, কিন্তু সেগুলোতেও তেলের অভাবে কার্যক্রম বন্ধ।

সত্যি বলতে কী, মুহূর্তের জন্য কিছুটা হতাশই লাগছিল। কারণ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য নিয়মিত চলাচলে জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা রাইড শেয়ারিং বা ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান, তাদের জন্য এই সীমাবদ্ধতা আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তবে এই কঠিন সময়েও একটি ছোট স্বস্তি আছে—আমার বাইকটি তুলনামূলক ভালো মাইলেজ দেয়। তাই আশা করছি দুই লিটার তেল হয়তো দুই দিন চালাতে পারব। কিন্তু সমস্যা হলো, এখন ঘন ঘন পাম্পে যেতে হবে এবং লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলাও সহ্য করতে হবে।

এই পরিস্থিতি আমাদের একটি বিষয় মনে করিয়ে দেয়—জ্বালানি শুধু একটি পণ্য নয়, এটি পুরো অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বৈশ্বিক কোনো সংঘাতের প্রভাব খুব দ্রুতই আমাদের স্থানীয় জীবনে এসে পড়ে।

আশা করা যায়, আগামী সপ্তাহে নতুন জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছালে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। ততদিন পর্যন্ত আমাদের সবারই উচিত ধৈর্য রাখা এবং প্রয়োজনের বেশি তেল সংগ্রহ না করা। কারণ সংকটের সময় দায়িত্বশীল আচরণই সবচেয়ে বড় সমাধান হতে পারে।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সাথে একমত ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.