নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

mamun

mamun › বিস্তারিত পোস্টঃ

আসুন জেনে রাখি হাদীসের কিতাব সমূহের স্তর বিভাগঃ

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৮

মুসলিম শরীফ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ১ম খন্ড, সতেরো পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছেঃ হাদীসের কিতাব সমূহকে মোটামুটি ভাবে পাঁচটি স্তর বা তাবাকায় ভাগ করা হয়েছে। শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দীস দেহলবী (রঃ) ও তাঁর ’হজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’ নামক কিতাব এরূপ পাঁচ স্তরে ভাগ করেছেন।



প্রথম স্তর ঃ এ স্তরের কিতাব সমূহকে কেবল সহীহ হাদীসই রয়েছে। এ স্তরের কিতাব মাত্র তিনটি ঃ “বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ ও মুআত্তা ইমাম মালিক”



দ্বিতীয় স্তরঃ এ স্তরের কিতাবসমূহ প্রথম স্তরের খুব কাছাকাছি। এ স্তরের কিতাবে সাধারণতঃ সহীহ ও হাসান হাদীসই রয়েছে। যইফ হাদীস এতে খুব কমই আছে। নাসাই শরীফ, আবু দাউদ শরীফ ও তিরমিযী শরীফ এ স্তরেরই কিতাব। সুনানে দারিমী, সুনানে ইবনে মাজা এবং শাহ ওয়ালী উল্লাহ এর মতে মুসনাদ ইবনে আহমদকেও এ স্তরের শামিল করা যেতে পারে।



তৃতীয় স্তরঃ এ স্তরের কিতাবে সহীহ, হাসান, যঈফ ও মুনকার সকল রকমের হাদীসই রয়েছে। মুসনাদ আবী ইয়ালা, মুসনাদ আবদুর রাজ্জাক, বায়হাকী, তাহাবী ও তাবরানী (রঃ)-এর কিতাব সমূহ এ স্তরেরই অন্তর্ভুক্ত। বিশেষজ্ঞগণের বাছাই ব্যতীত এ সকল কিতাবের হাদীস গ্রহণ করা যেতে পারে না।



চতুর্থ স্তরঃ এ স্তরের কিতাব সমূহে সাধারণতঃ যঈফ ও গ্রহনের অযোগ্য হাদীসই রয়েছে। ইবনে হিব্বানের কিতাবুল-জুআফা, ইবন-আছীরের কামিল ও খাতীব বাগদাদী, আবু নুআয়েমের কিতাব সমূহ এ স্তরের কিতাব।



পঞ্চম স্তরঃ উপরি উক্ত স্তরে যে সকল কিতাবের স্থান নেই সে সকল কিতারই এ স্তরের কিতাব। হানাফী মাযহাবের ’মকছদুল মু’মেনিন’ সহ প্রায় আশি খানা কেতাব এ স্তরের অন্তর্ভুক্ত।



আমার লেখার উদ্দেশ্য হল; সাধারণত মসজিদের হুজুররা আমাদের বোকা বানিয়ে বিভিন্ন যঈফ হাদীদ বর্ননা করে থাকেন এবং শুক্রবার জু’মার নামাযে বসে বসে যে বয়ান দেন তাহাতে রেফারেন্স ছাড়া শুধুই বলেন ‘এক হাদীসে আছে’ এই জাতীয় কথা। আমরা অন্ধের মত মুগ্ধ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকি এবং তার কথাকে দলীল বলে মেনে নিয়ে সত্যের সাথে তর্ক করি। কেউ সহীহ হাদীস নিয়ে সামনে এলেও বলিঃ “আমাদের মসজিদের ঈমাম সাহেব কি আপনার থেকে কম জানেন? যান তার সাথে গিয়ে কথা বলেন”



আমার লেখা তাদের জন্য যারা সত্যকে জানতে ভয় পায় না। কেহ যদি সত্যিকারের নবীর উম্মাত দাবী করে থাকেন তাহলে তাকে অবশ্যই তার রেখে যাওয়া বিধানই মানতে হবে। কিন্তু কথা হল এই বিধান আমরা কিভাবে জানব, কার কাছ থেকে শুনব? উত্তরে বলছিঃ আপনি যদি শিতি হয়ে থাকেন তাহলে শোনা কথায় কান না দিয়ে আল কোরআন এবং প্রথম স্তরের হাদীদ গুলো মৃত্যুর আগে হলেও একবারের জন্য পড়ে যান।



একটা উদাহরন দেই আমাদের সমাজের আলেমদের জ্ঞান গরিমার মাধুর্য দেখেঃ টিভিতে অনুষ্ঠান চলছে কয়েকজন বিশিষ্ট হুজুর নিয়ে। বিষয় হলো নবী কিসের তৈরী? মাটি না নূর?



হুজুরদের বক্তব্যঃ আমাদের মহান নবী যার সংগে মানুষের কোন তুলনা হয় না তিনি নাকি মাটির তৈরী ! নাউযুবিল্লাহ !! উনি হলেন নূরের তৈরী এক শ্রেণীর মানুষ নবীকে আমাদের সমক করার চেষ্টা করছে, এদের পরকালে স্থান হবে জাহান্নামে। আব্দুল্লাহ মা-আমীনার কপালে চুমু খান এবং তা হতেই নবীর জন্ম, কোনরূপ প্রসাব বেদনা ছাড়াই নবী এই পৃথিবীতে এসেছেন। উনি যদি মাটির তৈরী হতেন তাহলে এমনটা কি হত ? এর সাপেে আরো অনের যুক্তি হুজুররা দেখিয়েছেন।

যারা কোনদিন কোরআন পড়েনি তারা এই অনুষ্ঠান দেখলে কি ভাবে বিষয়টা মেনে নিবে বলুন। এসব হুজুররা আল্লাহর দ্বীনকে খন্ড খন্ড করে ফেলছে বিনা দ্বিধায়।



আপনারা যদি ভাল করে কোরআন পড়ে থাকেন তাহলে সেখনে দেখতে পাবেন, মহান আল্লাহ ত’আলা তাঁর পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট বলেছেনঃ



তোমাদের মত মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়। (সূরাঃ আম্বিয়া- ২১ ঃ ৩)

আপনি বলে দিন, আমিতো তোমাদের মত একজন মানূষ। আমার নিকট ওহী করা হচ্ছে যে, তোমাদের মা’বুদ, এক মা’বুদ। (হা মিম আস সাজদা- ৪১ ঃ ৬)



ইনি তোমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়। তোমরা যা থেকে খাও তিনিও তা খেতে খান। আর তোমরা যা থেকে পান কর তিনিও তা থেকে পান করেন। (মোমেনুন- ২৩ ঃ৩৩)



এবার আপনারা আল্লাহর বাণীর সাথে হুজুরদের টিভি অনুষ্ঠান মিলিয়ে দেখতে পারেন। যদি তাদের কথা মানেন তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার করলেন আর যদি না মানেন তাহলে হুজুরদের কি শাস্তি দিবেন ?



জানতে চাই।

মন্তব্য ১৯ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৬

সোনারবাংলা বলেছেন: আমরা হুজুরদের কথা বিশ্বাস করে থাকি। তবে আমাদের কে আরো বেশী করে স্টাডি করা দরকার তাহলে নিজেরাই সব কিছু বুঝতে পারব।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৩৯

mamun বলেছেন: আল্লাহ এই কইফিয়াত শুনবেন না, কারন তোমাকে চোখ দিয়েছি দেখতে, জ্ঞান দিয়েছি যাচাই করতে, তাহলে হুজুরের কথা শুনে যাচাই করনি কেন ? তাই সবাইকে দাওয়াত দিচ্ছি আল-কোরআন এবং সহীহ হাদীস (বুখারী, মুসলিম, মুয়াত্তা ঈমাম মালিক পড়ি)

২| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:৪৮

এক মুসাফির বলেছেন: এক মুসাফির বলেছেন: আল্লাহ ছাড়া অন্যকারো ইবাদত সম্পূর্ন শিরক।
ভাই আপনি কি আল্লাহকে দেখেছেন?
আপনি কি বলবেন আল্লাহকে দেখা যায়না?

শুনেন মাজারে যারা শুয়ে আছেন তারা আল্লাহর বন্ধুর মর্যদা লাভ করেছেন-তারা আল্লাহকে রাজী নয় শুধু অনেকে সয়ং আল্লার দিদার লাভ করেছেন।
তাদের মাধ্যমে আল্লার সাহায্য কামনা কখনো শিরক হতে পারেনা।
এবিষয়ে কোরান হাদিসে আনেক বর্ননা রেয়েছে।
আপনি যদি ই বিষয়ে আলোচনায় রাজী থাকেন আমার সাথে আলোচনা করতে পারেন।
[email protected] আমাকে নক করতে পারেন।
ধন্যবাদ।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সকাল ১০:২৯

mamun বলেছেন: ঈদ মোবারক, ভাই ভালো আছেন ? আমি ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। এসে আপনাদের মন্তব্য পড়লাম বেশ ভালই লাগল। আমি কারো সাথে তর্ক করতে রাজি নই। তবে আলোচনা করতে বেশ আগ্রহী। কারন এতে করে জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায়।

আসুন আপনার প্রশ্নের জবাব হাদীস ও কুরআনের আলোকে দেওয়ার চেষ্টা করি।

প্রথমে আপনি বলেছেন ভাই আপনিকি আল্লাহকে দেখেছেন ?

উত্তরঃ না ভাই, যেখানে হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহকে দেখতে পারে নাই সেখানে আমি তো খয়ের খাঁ। মহান আল্লাহ পাকের নূরের তাজল্লি দেখার মতো চোখ আমাদের পৃথিবীর মানুষের নাই।

দ্বিতীয় প্রশ্ন ঃ আপনিকি বলবেন আল্লাহকে দেখা যায় না ?

উত্তরঃ না, আজো পর্যন্ত কেউ দেখতে পারে নি। যদি কেহ দাবী করে থাকে সে ভন্ড। এমনকি যদি স্বপ্নেও দেখে থাকে সে ও। কারন যার কোন আকৃতি নাই সে কিভাবে আল্লাহকে দেখবে। স্বপ্নে আল্লাহর চেহারা নিয়ে কেউ যদি হাজির হয় সে নিঃসন্দেহে শয়তান। শয়তানের অছোয়াছা ছাড়া আর কিছু নয়।

এবার আমার প্রশ্নঃ কোন পীর সাহেব আল্লাহর দীদার লাভ করেছেন ? তাদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে কেন ? আল্লাহর দীদার লাভ বলতে আপনি কি বুঝিয়েছেন ? নতুন কোন ওহীর কথা বলছেন না তো ?

আপনার সাথে আলোচনা করতে আমার কোন আপত্তি নাই। অপেক্ষা করুন আমি আসছি আপনার মেইলে এবং ব্লগেও আমার পোষ্ট পাবেন যেখানে আপনাকেই আমি লিখব।


৩| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৫৪

অন্ধ দাঁড়কাক বলেছেন: "এক মুসাফির বলেছেন: শুনেন মাজারে যারা শুয়ে আছেন তারা আল্লাহর বন্ধুর মর্যদা লাভ করেছেন-তারা আল্লাহকে রাজী নয় শুধু অনেকে সয়ং আল্লার দিদার লাভ করেছেন।
তাদের মাধ্যমে আল্লার সাহায্য কামনা কখনো শিরক হতে পারেনা"

আপনাকে কে বলল তারা আল্লাহর দিদার লাভ করেছেন? যদি কেউ করেও থাকেন খুবি ভালো কথা। তাদের কবর জিয়ারাত করুন। কিন্তু মাজারে গিয়ে কিছু চাওয়াটা কি ঠিক? এক আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করা চরম গুণাহ। আমরা ভুল বুঝে অনেক ভুল করি। আপনি কোথায় কি পেয়েছেন উল্লেখ করলে ভালো হতো।

৪| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:১৪

এক মুসাফির বলেছেন: আপনি কি স্বীকার করেননা যে আল্লাহর দিদার সম্ভব।আমি কিন্তু কোন মানুষের ইবাদত করা যায় তা বলিনি।এটাও বলিনি যে মানুষের কাছ থেকে কিছু চাওয়া যাবে।মার বক্তব্য হল যাদেরকে আল্লাহ বন্ধুত্তের সার্টিফিকেট দিয়েছেন তাদের মাধ্যমে আমার আর্জি আল্লাহর দরবারে অধিক গ্রহনযোগ্য।
বিষয়টা নি্য়ে জানতে চাইলে আমার মেইলে নক করতে পারেন।
[email protected]

৫| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩২

উমর বলেছেন: @এক মুসাফির, মাজার বানানোর অনুমতি কে দিয়েছে? এই সব ভুল আকিদা থেকে সময় থাকতে ফিরে আসুন। কুরআন পড়ুন এবং সহীহ হাদীস অধ্যায়ন করুন। অযথা না জেনে তর্ক করবেন না। মানুষ যা জানে না তা নিয়েই তর্ক করতে বেশী পছন্দ করে।

"আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন উম্মে হাবীবা ও উম্মে সালমা (রা) তাঁর সাথে আলোচনা করলো যে তাঁরা হাবাশায় (ইথিওপিয়া) খৃস্টানদের একটি গির্জা দেখে এসেছেন। সে গির্জায় নানা রকমের চিত্র অঙ্কিত আছে। তাঁরা দু'জনে এসব কথা নবী করিম (স) এর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন, (এদের অভ্যাস ছিল যে) তাদের কোন নেককার লোক মারা গেলে তার কবরের উপর মসজিদ (উপাসনালয়) নির্মাণ করতো এবং এসব ছবি অঙ্কিত করে রাখত, এরাই কিয়ামতের দিনে আল্লাহর নিকট সর্বনিকৃষ্ট সৃষ্টি হিসেবে পরিগণিত হবে।" (সহীহ বুখারী, ৩৫৯৪, ষষ্ঠ খন্ড পৃ: ৪০১, ইসলামিক ফাইন্ডেশন)

"আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল তোমারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি" (সূরা ফাতিহা : ৪)

"(হে নবী) আমার কোন বান্দাহ যখন তোমাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে (তাকে তুমি বলে দিও), আমি (তার একান্ত) কাছেই আছি; আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিই যখন সে আমাকে ডাকে , তাদেরও উচিত আমার ডাকে সাড়া দেওয়া এবং (সম্পূর্ণভাবে) আমার উপর ঈমান আনা, আশা করা যায় যে এতে তারা সঠিক পথের সন্ধান পাবে।" (সূরা বাকারা -১৮৬)

মাজার পূজারীরা নিপাত যাক। বিদাতী কার্যকলাম ধ্বংস হোক। মহান আল্লাহ আমাদেরকে এই সব বিভ্রান্তকারীদের হাত থেকে রক্ষা করুন এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই সব বিভ্রান্তকারীদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।

৬| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৩৪

উমর বলেছেন: ভাই মামুন, আসসালামু আলাইকুম,

চমৎকার লিখেছেন। মহান আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।

৭| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৫৩

এক মুসাফির বলেছেন: ভাই ওমর আমিও আপনাকে অনুরোধ করব-যে ব্যাপারে আপনার জ্ঞান নেয় অনুমানের উপর পরিচালিত হবেন না।এইটা কিন্তু আল্লাহর আদেশ।আপনি আমার মেইলে নক করেন।

৮| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩০

এক মুসাফির বলেছেন: আপনি সূরা ফাতেহার যে আয়াত লিখলেন এর পরের লাইনগুলা পরেন-দেখবেন কেন আল্লাহ আমাদের আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে বলেছেন।হে আল্লাহ আমাদের স হ জ সরল পথে পরিচালিত করো,তাদের মাধ্যমে যাদের নিকট তোমার নিয়ামত রহিয়াছে...........কোন সে সহজ সরল পথ?কারাইবা সে নিয়ামত ওয়ালা?
ধন্যবাদ।

৯| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:৩১

এক মুসাফির বলেছেন: আর সে নিয়ামত জিনিসটাই বা কি?

১০| ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৭

তুষারপাত বলেছেন: ***বিষয় হলো নবী কিসের তৈরী? মাটি না নূর?***

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূর। এ প্রসঙ্গে হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
“হযরত জাবের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহ পাকের রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ্‌ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবানী হয়ে যাক, আপনি আমাকে জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ পাক সর্ব প্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেছেন। তিনি (হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, হে জাবের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ! নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক সব কিছুর পূর্বে আপনার নবীর নূর মুবারককে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর সেই নূর মুবারক আল্লাহ পাক-এর ইচ্ছানুযায়ী কুদরতীভাবে ঘুরছিল। আর সে সময় লাওহো, ক্বলম, বেহেশ্‌ত, দোযখ, ফেরেশ্‌তা, আসমান, যমীন, চন্দ্র, সূর্য, মানুষ ও জ্বিন কিছুই ছিল না। অতঃপর আলাহ পাক যখন মাখলুকাত সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করলেন তখন তিনি সেই নূরকে ৪ ভাগ করলেন। অতঃপর তা থেকে সৃষ্টি করলেন সমস্ত মাখলুকাত............”(মসনদে আব্দুর রাজ্জাক)

এই হাদীছ শরীফকে দ্বয়ীফ বলে অনেকে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মাটির তৈরী বলতে চায়। কিন্তু উক্ত হাদীসের মূল বর্ণনাকারী হাফিজুল হাদীস আল্লামা আব্দুর রাজ্জাক আবূ বকর ইবনে হুমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি হলেন মালেকী মাযহাবের ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি এর শাগরেদ, হাম্বলী মাযহাবের ইমাম ইমাম ও প্রতিষ্ঠাতা আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি -এর ওস্তাদ। এছাড়া তিনি সহহী বুখারী শরীফের লেখক ইমাম বুখারী ও সহহী মুসলিম শরীফের লেখক ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহিমা-এর দ্বয়ের ওস্তাদের ওস্তাদ।

বিখ্যাত কিতাব তাহ্‌যীবুত তাহ্‌যীব ৬ জিলদ্‌ ৩১১ পৃষ্ঠায় ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে,
“হযরত আহমদ বিন ছালেহ মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি –কে জিজ্ঞাস করলাম, আপনি কি হাদীস শাস্ত্রে ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে উত্তম কাউকে দেখেছেন? তিনি বলেন, না।”

এছাড়া উক্ত হাদীস শরীফটি হযরত ইমাম বায়হাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর দালায়েলুন নুবুওওয়াত, ইমাম ইবনে হাজ্‌র মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর মাতালেউল মাসাররাত, আল্লামা দিয়ার বাকরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর তারীখুল খামীস, ইমামুল মুহাদ্দিসীন শায়খ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিসে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর মাদারেজুন নুবুওওয়াত ও আল্লামা ইবনে হাজর হায়ছামীরহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ফাতওয়ায়ে হাদীসিয়্যাহ নামক বিশ্ববিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য কিতাব সমূহে উক্ত হাদীস শরীফটি বর্ণনা করেছেন এবং তার উপর ই’তেমাদ বা আস্থা স্থাপন করেছেন।

মোট কথা হলো- নির্ভরযোগ্য ও অনুসরণীয় উলামা-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উক্ত হাদীস শরীফের উপর আস্থা স্থাপন করায় হাদীস শরীফটি গ্রহণযোগ্য তথা হাসান সহীহ।

তোমাদের মত মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়। (সূরাঃ আম্বিয়া- ২১ ঃ ৩)

এই আয়াত শরীফটি সম্পূর্ণ লেখা হয়নি। এর আয়াতটি হবে
“এ জালেমেরা(কাফেররা) পরস্পর এ বলে কানাঘুষা করে যে, এ লোকটি(হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের মত মানুষ ছাড়া আর কি? তা সত্ত্বেও তোমরা কি দেখে শুনে যাদুর শিকার হবে?”

কাফেরদের কথা রেফারেন্স হিসেবে গ্রহনযোগ্য নয়।

ইনি তোমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়। তোমরা যা থেকে খাও তিনিও তা খেতে খান। আর তোমরা যা থেকে পান কর তিনিও তা থেকে পান করেন। (মোমেনুন- ২৩ ঃ৩৩)

এ আয়াত শরীফ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি। বরং হযরত হুদ আলাইহিস সালাম-এর আদ জাতির সর্দাররা তাদের অনুসারীদের নিকট নিচের আয়াত শরীফে উল্লেখিত কথাগুলো বলে তাঁর (হযরত হুদ আলাইহিস সালাম-এর) রিসালাতকে অস্বীকার করেছিল।
আয়াত শরীফটি নিম্নরূপঃ
“এই ব্যক্তি তোমাদের মত মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়। তোমরা যা খাও, তা খায় এবং তোমরা যা পান কর,তাই পান করে।” (সূরা মু’মিনূন ৩৩)

একই ভাবে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম-এর জাতির সর্দাররা তাদের অনুসারীদের নিকট নিচের আয়াত শরীফে উল্লেখিত কথাগুলো বলে তাঁর (হযরত নূহ আলাইহিস সালাম-এর) রিসালাতকে অস্বীকার করেছিল।
“তাঁর (হযরত নূহ আলাইহিস সালাম-এর) জাতির সর্দাররা তাদের অনুসারীদের বলল, এ লোকটি তোমাদের মতই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়।” (সূরা মু’মিনূন ২৪)

সামুদ জাতির লোকেরাও তাদের নবী হযরত সালেহ আলাইহিস সালাম-কে অনুরূপ কথা বলেছিল।
“তোমাকে যাদু করা হয়েছে।তুমি আমাদেরই মত মানুষ ছাড়া আর কি?”(সূরা শুয়ারা ১৫৩-১৫৪)

আপনি বলে দিন, আমিতো তোমাদের মত একজন মানূষ। আমার নিকট ওহী করা হচ্ছে যে, তোমাদের মা’বুদ, এক মা’বুদ। (হা মিম আস সাজদা- ৪১ ঃ ৬)

সূরা হা মিম আস সাজদা-এর ৬ নম্বর আয়াতের অনুরূপ আরেকটি আয়াত শরীফ রয়েছে। আয়াত শরীফটি নিম্নরূপঃ
“হে হাবীব ! আপনি বলুন, আমি তো তোমাদের মত বাশার বা মানুষ।”(সূরা কাহাফ ১১০)

এখন কেউ বলতে পারেন, মহান আল্লাহ পাক তো নিজেই বলেছেন, “হে হাবীব ! আপনি বলুন, আমি তো তোমাদের মত বাশার বা মানুষ।” তাহলে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আমাদের মত মনে করা যাবে না কেন? মূলতঃ উক্ত আয়াত শরীফ দ্বারা “হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মত সাধারণ মানুষ” এ কথা বুঝানো হয়নি। বরং এটাই বুঝানো হয়েছে যে, “হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাশার তবে তোমাদের মত সাধারণ মানুষ নন। কারণ তাঁর প্রতি ওহী নাযিল হয়। তোমাদের প্রতি ওহী নাযিল হয়না। অর্থাৎ ছুরতান(আকৃতিগতভাবে) তিনি তোমাদের মত হলেও হাক্বীক্বতান (প্রকৃতপক্ষে) তিনি তোমাদের মত নন। উক্ত আয়াত শরীফের তাফসীরে মুফাস্‌সিরীন-ই–কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ এ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
যেমন- আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইব্রাহীম বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর তাফসীরে খাযেন–এর ৩য় জিলদ্‌ ১৯৩ পৃষ্ঠায় লিখেন,

“হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি লোকদেরকে বলে দিন যে, আমি তোমাদের মতই বাশার। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন যে,আল্লাহ পাক আপন নবীকে বিনয়ী হওয়ার তা’লীম দিয়েছেন, যেন তিনি মানুষের সাথে অহংকার না করেন এবং তাঁকে একথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি তোমাদের মতই একজন বাশার। তবে তোমাদের উপর আমাকে ওহীর দ্বারা বৈশিষ্ট্য (ফযীলত) প্রদান করা হয়েছে এবং উক্ত ওহীর দ্বারা আল্লাহ পাক আমাকে সম্মানিত করেছেন। “আমার নিকট ওহী নাযিল করা হয়” একথা দ্বারা অন্যান্য বাশারের চেয়ে তাঁর (বিশাল) মর্যাদার বিষয়টি বুঝানো হয়েছে।”

বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে মায়ালিমুত্তালজীল”-এর ৪র্থ খন্ড ১৯৩ পৃষ্ঠা উল্লেখ আছে,

“হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, আমি তোমাদের মতই বাশার, তবে আল্লাল পাক আমাকে ওহী দ্বারা বিশেষভাবে সম্মানিত করেছেন।”

আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর তাফসীরে রুহুল বায়ান –এর ৫ম জিলদ্‌ ৩০৯ পৃষ্ঠা লিখেছেন,

“হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম !আপনি বলে দিন যে, আমি মানবীয় আকৃতি এবং গুনাবলীর দিক থেকে অবশ্যই তোমাদের মত বাশার, তবে পার্থক্য এই যে, আমার নিকট ওহী আসে। অর্থাৎ আমি একথা স্বীকার করি যে, আমি অবশ্যই একজন বাশার, কিন্তু আল্লাহ পাক তোমাদের মধ্য হতে আমাকে নুবুওওয়াত ও রেসালাত দ্বারা অনুগৃহীত করেছেন।”

উক্ত আয়াত শরীফ ও আয়াত শরীফের ব্যাখ্যার কোথাও মাটির তৈরীর দিকে ইঙ্গিত করা হয়নি। বরং বাহ্যিক সাদৃশ্যতাই বর্ণনা করা হয়েছে।

হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
“আমি তোমাদের কারো মত নই” (মুসলিম শরীফ)

১১| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০২

উমর বলেছেন: @এক মুসাফির, যে ইচ্ছা করে অন্ধ হয়ে থাকতে চায় তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না, কারণ হিদায়াত দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ।
আপনার সাথে মেইল যোগাযোগ করার বিন্দু মাত্র ইচ্ছাও আমার নেই। চট্রগ্রাম আর সিলেট মাজার পূজারীদের তীর্থ স্থান। শিরকী কার্যকলাপের জায়গা। এই মাজারগুলো ধ্বংস হোক মহান আল্লাহর কাছে এই দোয়াই করি।
আপনারাই মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। সময় থাকতে তওবা করে মাজার পূজা থেকে ফিরে আসুন। কারণ, শিরকের গুণাহ অতি বড় গুণাহ এবং আল্লাহ শিরকের গুণাহ ক্ষমা করেন না।

//ভাই ওমর আমিও আপনাকে অনুরোধ করব-যে ব্যাপারে আপনার জ্ঞান নেয় অনুমানের উপর পরিচালিত হবেন না।//
আমি না জেনে মন্তব্য করি নি, আমি মাজার দেখেছি, নিজ চোখে অবলোকন করেছি, দেখেছি সে জায়গায় কি হয়। শিরকরে আড্ডা খানা। ধ্বংস হোক এই সকল শিরকের আড্ডাখানা গুলো।

//দেখবেন কেন আল্লাহ আমাদের আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে বলেছেন।হে আল্লাহ আমাদের স হ জ সরল পথে পরিচালিত করো,তাদের মাধ্যমে যাদের নিকট তোমার নিয়ামত রহিয়াছে...........কোন সে সহজ সরল পথ?কারাইবা সে নিয়ামত ওয়ালা?
ধন্যবাদ। //

এর জবাব, সূরা বাকারাতে রয়েছে:
"ইহা এমন একটি কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই, যারা (আল্লাহ তাআলাকে ) ভয় করে (এই কিতাব কেবল) তাদের জন্যই পথ প্রদর্শক।" (সূরা বাকারা - ২)

অর্থাৎ সহজ সরল পথ, নিয়ামত কারা পেয়েছে, কারা আল্লাহর নিয়ামত আলা তার সব কিছুরই বর্ণনা এই পবিত্র কুরআনে রয়েছে। কুরআনে কোথাও লেখা নেই যে দোয়া করার জন্য বান্দাহরা মৃত ব্যক্তিদের মাধ্যম হিসেবে ধর!

রাসূল (স) দেখিয়ে দিয়ে গেছেন সেই সরল পথ কিভাবে অনুসরণ করতে হয়, তিনি সাহাবাদের অতি যত্নের সাথে শিখিয়েছেন। ইসলামকে মানতে হলে একমাত্র রাসূল (স) এর সুন্নাহ অনুযায়ী মানতে হবে। কারণ, মহান আল্লাহ রাসূল (স) এর মাধ্যমে আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। যদি মৃত ব্যক্তিকে ধরেই সব দোয় কবুল হতো তাহলে সাহাবীরা রাসূল (স) এর কবরকে মাজার বানিয়ে মদীনাতেই বসে থাকতেন। রাসূল (স) এর অছিলায় দোয়া করতেন। কিন্তু তারা তা করেন নি, কারণ এমনটি করা রাসূল (স) শিখান নি বরং তিনি নিষেধ করে গেছেন।

"(হে নবী) আমার কোন বান্দাহ যখন তোমাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে (তাকে তুমি বলে দিও), আমি (তার একান্ত) কাছেই আছি; আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিই যখন সে আমাকে ডাকে , তাদেরও উচিত আমার ডাকে সাড়া দেওয়া এবং (সম্পূর্ণভাবে) আমার উপর ঈমান আনা, আশা করা যায় যে এতে তারা সঠিক পথের সন্ধান পাবে।" (সূরা বাকারা -১৮৬)

"নিশ্চয় তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাক, তারাতো তোমাদেরই মত বান্দা"। (সূরা আ'রাফ :১৯৪)

"আপনার প্রভু একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন"। ( বনী ইসরাঈল:২৩)

"অর্থাৎ বল তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন। সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্য আছে কি? (সূরা নামল : ৬২)

"আল্লাহ যদি আপনাকে কোন বিপদে ফেলেন তাহলে এমন কেউ নেই যে, সে বিপদ দূর করতে পারে। আর তিনি যদি কোন কল্যাণ আপনাকে দিতে চান তাহলেও কেউ নেই যে, সে তা রদ করতে পারে।" (সূরা ইউনুস :১০৭)

কবর পূজারীরা কবরের চাদরে চুম্বন করে, ভক্তি প্রদর্শন করে, কোনায় হাত দিয়ে শরীরে মর্দন করে। বিনীত ভাবে দাড়ায়, সেখানে তাদের মানত পূরন করার জন্য দোয়া করে। সন্তান প্রার্থনা করে, অভাব দূর করার জন্য প্রার্থনা করে। অনেকে আবার বলে, হে আমার নেতা! আমি আপনার নিকট অনেক দূর থেকে এসেছি, আমাকে নিরাশ করবেন না।

আল্লাহ তাআলা বলেন,
" সে লোকদের তুলনায় অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে, যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন সব সত্তাকে ডাকে যারা কিয়ামত পর্যন্তও তাদের ডাকে সাড়া দিবে না, বরং তারা এদের ডাকাডাকি সম্পর্কেও বেখবর"। (সূরা আহকাফ:৫)

নবী করীম (স) বলেন:
"যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকত, মৃত্যুর পর সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে"। (বুখারী, ফতহুলবারী ৮/১৭৬)

আপনার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক এই দোয়াই করি।
ভাল থাকবেন।






১২| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৫

সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: @ উমর.........ভাই আমি সিলেট থাকি............আমি জানি কি অবস্হা..........দরগাহ এলাকাটা পুরা বিদআতে ভরপুর হয়ে আছে.........

আর......মাজার শরীফ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে কোথাও যাওয়াও কিন্তু পুরা বিদআত.............চাওয়া তো অনেক পরের কথা...............মানুষ না জেনে না বুঝে অনেক শিরক করে যাছ্ছে.................তাদের হেদায়েত প্রাপ্তির জন্য দোয়া করা ছাড়া আর করার কিছু নাই.............

আমরা সিলেটের মানুষ অনেক চেষ্টা করেছি এসব মাজার পূজা বন্ধ করতে........কিন্তি স্বার্থবাদী কিছু মানুষের জন্য তা হয়ে উঠেনি.......।

কিন্তু একদিন এসব নিশ্চয়ই বন্ধ হবে,,,,

@লেখক-------------আপনার পোস্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ.........
আজকেই এসব নিয়ে কথা বলছিলাম..............আর জানতে পারলাম........অনেক

১৩| ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৩২

এক মুসাফির বলেছেন: ভাই ওমর আপনার কি ধারণা-ইসলামের সব বিষয়ে আপনার পূর্ণ জ্ঞান আছে।
আপনি কি নিজেকে অনেক পন্ডিত ভাবেন।
তাহলে শুনেন-অনেক বড় বড় ইসলামি চিন্তাবিদ দি্য়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দুযকের আগুন প্রজ্বলিত করবেন।
আমি আবারও অনুরোধ করব যে বিষয়ে জ্ঞান নেই তাতে মন্তব্য না করা জন্য।
ধন্যবাদ ।

১৪| ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৪৬

উমর বলেছেন: @এক মুসাফির,

মাজার পূজা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দুনিয়ার সব মানুষও যদি বলে এটা কল্যাণকর তাও আমি এর বিরুদ্ধে কথা বলবো। কারণ, আল্লাহ একত্ববাদে যারা সন্দিহান তাদের সাথে ঐক্যমত পোষণ করার কোন প্রশ্নই উঠে না।

রাসূল (স) তিনটি জায়গা ছাড়া অন্য কোন জায়গায় সওয়াবের আসায় যেতে(ভ্রমণ করতে) নিষেধ করেছেনঃ
১. মসজিদুল হারাম
২. মসজিদুল আকসা
৩. মসজিদে নববী।
Bukhari :: Book 2 :: Volume 21 :: Hadith 288

মাজারে তো মানুষ সওয়াবের আসায় যায়, যায় দোয়া কবুলের আসায়। মাজারে যে সৎ মানুষগুলো শুয়ে আছে তাদের কোন দোষ নেই, দোষ হবে তাদের যারা মানুষকে মাজারমুখী করে, মাজারে যেয়ে দোয়া চাইতে বলে, মানত করতে বলে। আল্লাহর ওয়াস্তে এই মানুষগুলো কে আল্লাহর ইবাদত করা থেকে সরিয়ে মাজারে যেয়ে দোয়া চাইতে বলবেন না। দোয়া যদি চাইতে হয় সরাসরি আল্লাহর কাছে চাইলেই হবে। মহান আল্লাহ বলেন-

"(হে নবী) আমার কোন বান্দাহ যখন তোমাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে (তাকে তুমি বলে দিও), আমি (তার একান্ত) কাছেই আছি; আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিই যখন সে আমাকে ডাকে , তাদেরও উচিত আমার ডাকে সাড়া দেওয়া এবং (সম্পূর্ণভাবে) আমার উপর ঈমান আনা, আশা করা যায় যে এতে তারা সঠিক পথের সন্ধান পাবে।" (সূরা বাকারা -১৮৬)

"তবে কি এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে (অন্যদের) সুপারিশকারী (হিসেবে) গ্রহণ করেছে? (হে নবী) তুমি (এদের) বলো, যদিও তোমাদের এসব সুপারিশকারী কোন কিছুই করার ক্ষমতা রাখে না, না তাদের কোন জ্ঞান বুদ্ধি আছে। বলো ( হে নবী), যাবতীয় সুপারিশ একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যেই, আসমানসমূহে এবং পৃথিবীর সার্বভৌমত্বে (একমাত্র) আল্লাহ তাআলার জন্যে; অতপর তোমরা সবাই তাঁর দিকে ফিরে যাবে" ( সূরা আঝ ঝুমার :৪৩-৪৪)

এক মুসাফির, আমি আপনাকে যা সত্য তা জানিয়েছি, এখন আপনি মানবেন কি মানবেন না তা আপনার ব্যাপার। আর জান্নাত-জাহান্নামে কে যাবে তা একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন। কে জান্নাতী আর কে জাহান্নামী এটা বিচার করার জন্য আমাদের দুনিয়ায় পাঠানো হয় নি। কুরআন ও সহীহ হাদীসের চর্চা করুন। মৃত ব্যক্তিদের কাছে দোয়া করা থেকে বিরত হোন এবং মানুষকে এই কাজে প্ররোচিত করা থেকে বিরত হোন। মহান আল্লাহ আমাদের হিদায়াত দান করুন। আমীন।



১৫| ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৯

তুষারপাত বলেছেন: @উমর >>>>>>>> মাজার শরীফ সম্পর্কে সঠিক আক্বীদা জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন
মাজার শরীফ যিয়ারত

১৬| ০১ লা অক্টোবর, ২০০৯ বিকাল ৪:৫৭

নিভৃত পথচারী বলেছেন: @ তুষারপাতঃ আপনার মূল্যবান মন্তব্যটি পৃথক পোস্ট আকারে দিলে ভালো হত।

১৭| ২৮ শে নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:২১

নিভৃত পথচারী বলেছেন: @ উমর সাহেব বোধকরি যথা জবাব পেয়ে প্রলাপ বকতে আরম্ভ করলেন...

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.