নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অশি

অশি › বিস্তারিত পোস্টঃ

অনিবার্য পতন ঠেকাতে এখনই সতর্ক হতে হবে!

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৪ সকাল ৮:৫৯

গতকাল দেশে ঘোষণা করা হল 'সতর্ক' মুদ্রানীতি! প্রাইভেট সেক্টরে লোনের লক্ষ্যমাত্রা মেটেনি, অথচ সরকারের লোনের মাত্রা তিন শতাংশ বাড়ানো হয়েছে (১৯% থেকে বাড়িয়ে ২২%)! গভর্ণর সাহেবের বক্তব্য হল- এতে 'আশু কোনো উদ্বেগের বিষয় নেই'।



উদ্বেগ থাকত না, যদি 'আমার দেশে' প্রকাশিত আরেকটা খবরে চোখ আটকে না যেত! শুধু গত পাঁচ বছরেই সরকারের নেয়া ব্যাংকঋণ আগের ৩৭ বছরকে ছাড়িয়ে এখন হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা, যেখানে আগের ৩৭ বছরে মোটঋণ ছিল সব মিলিয়ে ৫২ হাজার কোটি টাকা!



সরকার সমর্থকরা বলবেন- এসব ঋণ নেয়া হয় উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য, ব্যাঙ্কে 'অলস টাকা' ফেলে রাখার চেয়ে এভাবে খাটিয়ে দেশের উন্নতি করাই তো ভালো!



সাধু! সাধু!! গত পাঁচ বছরে যে উন্নতি হয়েছে সেটা তাহলে গত ৩৭ বছরকে ছাড়িয়ে গেছে! পদ্মা সেতু তো কিছুই নয়! কেন যে দাতা দেশের দিকে আমরা এতদিন তাকিয়ে ছিলাম কে জানে!



একটা জিনিস সবাইকে বুঝতে হবে। ব্যাংকের টাকার মূল উৎস জনগণের জমানো সম্পদ! সরকার যে ইন্টারেস্ট সহ টাকা ফেরত দেবে সেটাও কিন্তু জনগণের কাছ থেকেই নেয়া টাকা। তার উপর- যদি সরকার টাকা ফেরত না দিতে পারে, এবং সেই কারণে ব্যাংক কলাপস করে, তাহলেও ধরা খাবে ঐ জনগণ। আর যদি টাকা ফেরত না দিয়ে ভবিষ্যতের দিকে সরকার ঋণগুলো ঠেলে দেয় (ইংরেজীতে যাকে বলে- কিক দ্য ক্যান ডাউন দ্য রোড), তাহলে ভয়ানক বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া হবে আমাদের সন্তানদের- দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মদের!



আমাদের দেশে কনজারভেটিভ শক্তিগুলোর সেই পুরনো 'ধর্ম' ইস্যু ছেড়ে এখন সরকারের আয়তন এবং কার্যপরিধি কমানো এবং প্রাইভেট সেক্টরকে শক্তিশালী করার ইস্যু নিয়ে মাঠে নামা উচিৎ। এটা সব বিশ্বেই প্রমাণিত- অন্ততঃ নিজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনগণ নিজের ভালো সরকারের চাইতে বেশী বোঝে এবং অনেক বেশী ভালোভাবে করে।



Some Readings:



Click This Link

Click This Link

Click This Link

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৪ সকাল ৯:০৭

দুরের পাখি বলেছেন: গত ৩৭ বছরের ঋণ আর গত ৫ বছরের ঋণকে কেবল টাকার অংকে তুলনা করলেতো হবে না । মুদ্রাস্ফীতির জন্য সমন্বয় করতে হবে । যেমন ১৯৯১ সালের দশ টাকা এখনকার ২০০ টাকার চাইতে বেশি হতে পারে ।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৪ সকাল ১০:৪৩

অশি বলেছেন: না, পারে না। যদি সর্বোচ্চ ১০% ও ইনফ্লেশন ধরি, ৯১ এর ১০ টাকা বড়জোর ৯০ টাকা হতে পারে [ ১০*(১ + .১)^২৩]~৯০

যেভাবেই হিসাব করেন না ভাই, এটা অনেক বেশী।

২| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৪ সকাল ১১:২৩

দুরের পাখি বলেছেন: হুমম, দশ টাকা ২০০ হওয়াতে অতিরন্জন আছে । বাড়িভাড়া , রিকশাভাড়া, ইলিশমাছ, জমিরদাম এগুলো দিয়ে হিসাব করলে আরো অনেক বেশি হবে । আবার চাল, সবজি, চাকুরির বেতন এসব দিয়ে হিসেব করলে কম আসবে ।

সে যাই হোক , মূলনীতিটা ধরতে পেরেছেন সেটা ভালো ।মুদ্রাস্ফীতি, মূল্যস্ফীতি হিসাব না করে শুধু সংখ্যা দিয়ে যাচাই করলে চলবে না

৩| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ১০:৩৪

অশি বলেছেন: অংকের হিসেবে ধরতে গেলে- আগের ৫২০০০ কোটিকে ৪২/২=২১ বছর আগের টাইম ভ্যালু দিয়ে হিসেব করা যায়। রিজোনেবল ইনফ্লেশন ধরলাম ৭%। তাহলে সেটা এখন দাঁড়ায় ২১৫,০০০ কোটি। ৫ বছরের গড় দাঁড়ায় ২৫,০০০ কোটি।

গত ৫ বছরের ৬২০০০ কোটি দাঁড়ায় ৮৭০০০ কোটিতে।

তাহলেও গড়ে অন্ততঃ সাড়ে তিন গুণ বেশী লোন নিচ্ছে এই সরকার, আগের যে কোন ৫ বছরের শাসণামলের তুলনায়!

৪| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৪ সকাল ৮:০৬

দুরের পাখি বলেছেন: ৪২/২ হবে নাকি (৩৭/২ +৫)=২৩.৫ বছর আগের টাইম ভ্যালু ধরতে হবে ?

৫| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৪ সকাল ৮:২৮

দুরের পাখি বলেছেন: আমার হিসাবে আসছে বিগত ৩৭ বছরের সরকারগুলা মোট ব্যায় আজকের টাকার মানে

=৫২০০০*(১+০.০৭)^(২৩.৫-১) = ২৩৮৩০৮ কোটি
প্রতি ৫ বছরে = ৩২২০৪ কোটি

আর এই সরকারের গত ৫ বছরের ৬২০০০ কোটির হিসাব
বছরে = ৬২০০০/৫ = ১২৪০০ কোটি
আজকের টাকার মূল্যে ৬২০০০ কোটি = ১২৪০০(১+০.০৭)^০+১২৪০০(১+০.০৭)^১+১২৪০০(১+০.০৭)^২+১২৪০০(১+০.০৭)^৩+১২৪০০(১+০.০৭)^৪= ৭১৩০৯ কোটি টাকা

বিগত সরকারগুলোর তুলনায় দ্বিগুনের কিছুটা বেশি ।

২৩.৫ বছর আগের জনসংখ্যাকে বেইজ ধরেন । সেই তুলনায় এখন জনসংখ্যা বাড়ছে কতগুন ? দেড় গুনের মত । সেই অনুযায়ী রাজস্ব বাড়ে নাই সরকারের অদক্ষতা, দুর্নীতি ছাড়াও জনসংখ্যার বাল্ক বৃদ্ধি হয় দরিদ্র জনগণের মধ্যে যার জন্য সরকারে আয় না বাড়লেও ব্যায় বাড়ে ।

জনসংখ্যা বৃদ্ধিরটুকু বাদ দিলে আর বাকী যেটুকু থাকে সেটুকু কাঠামোগত উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সংখ্যা বৃদ্ধি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় ।

৬| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:০৩

আরাফআহনাফ বলেছেন: মাথার উপরে দিয়া গেল।

৭| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৫৭

অশি বলেছেন: আমি শুধু কুইক এন্ড ডার্টি একটা বলপার্ক এস্টিমেট করছিলাম- ২১ বছর না ধরে ২৩ বছর ধরাই যুক্তিসঙ্গত। গত ৫ বছরের হিসেবটাও আপনারটাই এক্যুরেট। :)

কিন্তু কনক্লুশনটাই আসল। সরকার বেশী ঋণ নিচ্ছে। ২ থেকে ৩ গুণ বেশী। জনসংখ্যা একই হারে বাড়ছে না। ট্যাক্স কম হলেও বাড়ছে, রেমিট্যান্সও বাড়ছে- মানে ব্যাংকের রিজার্ভ বাড়ছে। ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট দিয়ে ব্যাখ্যা করা যেত, যদি দেশে সেরকম ডেভেলপমেন্ট দেখতাম- চোখে তেমন আহামরি কিছু পড়ছে না। তবে মন্ত্রীদের হলফনামা বলছে- তাদের সম্পদ বহুগুণ বেড়েছে। সেটাকে উন্নয়ন বললে অবশ্য আমার বলার কিছু নেই।

৮| ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৪ সকাল ৮:২১

দুরের পাখি বলেছেন: জনসংখ্যা বৃদ্ধি দিয়ে পুরোটা ব্যাখ্যা করা যায় না , অবশ্যই ।

ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট , বা দেশের উন্নতির ব্যাপারগুলা আসলে অবজেকটিভ সংখ্যার বিচারে দেখা উচৎ ; ভ্যালু জাজমেন্ট দিয়ে না ।

অবশ্য আমাদের দেশের সরকারগুলার উপরে বিশ্বাস নাই দেখে পরিসংখ্যান ব্যুরোর ডেটারও তেমন বিশ্বাস নাই ।

৯| ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৪ সকাল ৯:৪৪

মদন বলেছেন: প্রথমেই বুঝতে হবে ব্যাংকে কেনো অলস টাকা পড়ে আছে?

কোনো বুদ্ধিমান ব্যবসায়ীই এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ইনভেস্ট করতে চাইছে না। আবার এই সরকারের মেয়াদ কতদিন, অথবা সরকার পতন আন্দোলনে দেশের কি হাল হয় তা নিয়ে তারা শংকিত। মোটের উপরে বড় বিনিয়োগের পরিবেশ দেশে নাই।

ব্যাংকে জমানো টাকা যদি সরকার লোন নিয়ে শেষ করে তাহলে তা দেশের জন্য মোটেও সুখকর কিছু হবে না। সরকারে খাতে ১টাকার কাজ হলে ১০ টাকা অপচয় হয় এটি সর্বজন বিদিত। কাজেই সরকারের নেয়া লোনে জনগনের টাকা কতটুকু কাজে লাগবে সহজেই অনুমেয়। একই টাকা পাবলিক সেক্টরে ব্যবসায়ীরা ইনভেস্ট করলে টাকাটি কয়কেগুনে ফেরত আসার সম্ভবনা থাকেই।

দেশের এই চলমান সংকটে বহির্বিশ্বের বিনিয়োগ থেকেও দেশ বঞ্চিত হবে।

ফলাফল.......................................

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৪ রাত ১:২১

অশি বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ- লেখার মূল থীমটা ধরতে পারার জন্য। ঠিক এই কারণেই উন্নত বিশ্বে রক্ষণশীল দলগুলো সাধারণতঃ সরকারের কার্যপরিধি কমাবার পক্ষে জনমত গড়ে তোলে। আমার লেখার মূল উদ্দেশ্যও তাই- আমি মনে করি, আমাদের দেশের রক্ষণশীল দলগুলোরও এদিকে নজর দেয়া উচিৎ। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে- আরো যেত যদি রাজনীতি পথের বাধা হয়ে না দাঁড়াত। অন্যভাবে বলতে গেলে, রাজনীতিই পারে রাজনীতির নাগপাশ থেকে দেশকে মুক্ত করতে!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.