নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আব্দুল্লাহ আল মামুন

মানুষ মানুষের জন্য ধন্যবাদ

আবু আব্দুল্লাহ মামুন

মানুষ মানুষের জন্য। ধন্যবাদ

আবু আব্দুল্লাহ মামুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

চুরি বা সারিক্কাহ

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ১১:৫২

চুরি বলতে বুঝায়, কারো হেফাজতকৃত সম্পদ বিনা অনুমতিতে যথাস্থান থেকে গোপনে তার নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। ইসলামের দৃষ্টিতে এটি এক মহাপাপ ও চারিত্রিক নষ্ঠামী।



চুরির বিভিন্ন দিক:

চুরির বিভিন্ন দিক রয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অপরাধ হল সাধারণ জনগণের সামষ্টিক সম্পদ তথা সরকারী সম্পত্তি চুির করা। যারা এ কাজ করে তারা সাধারণত: বলে, সবাই করে এ জন্য আমরাও করি, সকলে করছে যখন আমরা করলে দোষ কি? অথচ তারা জানে না সরকারী সম্পত্তি চুরি করার অর্থ সমস্ত জনগণের সম্পদ চুরি করা; কারণ সরকারী সম্পদের মালিক সমস্ত জনগণ। অন্য লোকে চুরি করছে তাই আমিও করছি এমন যুক্তি দেখিয়ে চুরি করা কোন ভাবেই বৈধ হতে পারে না। অনেকে অন্যের বাড়ীতে মেহমান হয়ে যেয়ে তার বাড়ীতে চুরি করে। আবার অনেকে বাড়ীতে কোন অতিথি আসলে তার থলে খালি করে দেয়। দেখা যায় কেউ কেউ দোকানে বা মার্কেটে প্রবেশ করে পকেটে বা কাপড়ের আড়ালে জিনিষপত্র লুকিয়ে নেয়, অনেক মহিলাকেও দেখা যায় তারা কাপড়ের আড়ালে জিনিষ লুকায়ে নিয়ে যায়। কেউ কেউ অন্যের খেত-খামার থেকে ফল-ফসলাদী না বলে নিয়ে ভক্ষণ করে। কেউ বিনা অনুমতিতে অন্যের জিনিস ব্যবহার করে এসব কিছুই চুরির অর্ন্তভূক্ত। আবার অনেকে ছোট খাট কম মূল্যের জিনিস চুরি করাকে মামুলী হিসেবে গণ্য করে। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: সেই চোরের প্রতি আল্লাহর লা’নত যে ডিম চুরি করে ফলে তার হাত কেটে দেয়া হয়। সেই চোরের প্রতিও আল্লাহর লা'নত যে রশি চুরি করে অত:পর তার হাত কেটে দেয়া হয়। (বুখারী) অর্থাৎ সব রকম চোরের উপর আল্লাহর লা'নত।

আর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ হল হজ্জ ও উমরাহকারীদের কোন জিনিষ চুরি করা। এ জাতীয় চোরেরা আল্লাহর পবিত্র ঘরের পাশে থেকেও তার বিধানের কোন মূল্য দেয় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূর্য গ্রহণের নামায পড়ানোর সময় জাহান্নাম দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন: যখন আমার সামনে জাহান্নামের আগুন উপস্থাপন করা হল, তখন তোমরা দেখলে আমি সামান্য পিছায়ে গেলাম, যাতে আগুনের উত্তপ্ত লু যেন আমার ক্ষতি না করে। আমি জাহান্নামে বাঁকা লাঠি ওয়ালাকে তার নাড়িভূড়ি হেচড়াইতে দেখলাম, সে তার বাঁকা লাঠি দিয়ে হাজীদের জিনিষ চুরি করত। হাজী সাহেবরা টের পেয়ে গেলে বলত, আমার বাঁকা লাঠির সাথে আটকে গিয়েছিল। কিন্তু টের না পেলে সে ঠিকই ঐ জিনিস নিয়ে পালায়ন করত। (মুসলিম)



চোরের ঈমান থাকে না:

কোন মুমিন ব্যক্তি যখন চুরি করে তখন তার আর ঈমান থাকে না। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: কোন যেনাকারী ব্যক্তি ঈমানদার থাকা অবস্থায় যেনা করতে পারে না; কোন শরাব পানকারী ঈমানদার থাকা অবস্থায় শরাব পান করতে পারে না। একইভাবে কোন চোর ঐ অবস্থায় চুরী করতে পারে না যখন সে ঈমানদার। (বুখারী ও মুসলিম) এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয়, ব্যভিচার, মদ্যপান ও চুরি এমন জঘণ্য ও মারাত্মক গুনাহ যে, এ সব কাজে লিপ্ত হলে মানুষের ঈমান চলে যায়। অত:পর ঐ সব গুনাহ থেকে মানুষ যখন বিরত হয় তখন তার ঈমান তার কাছে ফিরে আসে কিন্তু আগের তুলনায় ঈমান শক্তিশালী থাকে না; বরং অনেক দূর্বল হয়ে যায়। আর এমতাবস্থায় যদি কারো মৃত্যু এসে যায় তবে তার মৃত্যু ঈমানহীন অবস্থায় হওয়ার সম্ভবনাই প্রবল।



চুরির শাস্তি:

ইসলামী বিধানে চুরির শাস্তি হচ্ছে হাত কেটে দেয়া। আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন: চোর পুরুষ হোক আর নারী হোক উভয়ের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে এবং এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি; আল্লাহ পরাক্রান্ত জ্ঞানময়। (সূরা আল-মায়িদা: ৩৮) তবে ফকহী ইমামগণের মতানুযায়ী সব ধরণের চোরের জন্য হাত কাটার বিধান প্রয়োগ করা হবে না। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ চুরি করলেই কেবল তাকে এই শাস্তি প্রদান করা হবে। ইমাম আবু হানিফার মতে এর পরিমাণ হল- দশ দিরহাম। ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও আহমদের মতে এর পরিমাণ তিন দিরহাম। কারণ এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ রয়েছে যে, একটি ঢালের মূল্যের চেয়ে কম পরিমাণ চুরি করলে তার হাত কাটা যাবে না। এর অর্থ এই নয় যে, উক্ত পরিমাণের চেয়ে কম পরিমাণ চুরি করলে সে শাস্তি থেকে মুক্ত হয়ে যাবে; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য এটাই যে, উক্ত পরিমাণের সম পরিমাণ চুরি করলে তার হাত কাটা যাবে (দু’হাত নয় বরং একহাত; আর সমস্ত উম্মত একমত যে, প্রথমবার চুরি করলে তার ডান হাত কাটতে হবে)। আর এর চেয়ে কম পরিমাণ চুরি করলে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রশাসক সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে অন্য কোন শাস্তি নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, কেউ যদি হাত কাটার যোগ্য পরিমাণে চুরি করে তবে অবশ্যই তার হাত কাটতে হবে এবং এ ব্যাপারে কোন প্রকার ছাড় দেয়া চলবে না। হাদীসে বর্ণিত আছে, এক সম্ভ্রান্ত মহিলা চুরি করার পর তার হাত না কাটার জন্য হযরত যায়েদ বিন হারেছা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সুপারিশ করেন তখন তিনি সে সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে ঘোষণা করেন: খোদার কসম! যদি ফতেমা বিনতে মুহাম্মদও (অর্থাৎ নবীর মেয়ে) চুরি করত তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম। তবে হাত কাটার এ বিধান কেবলমাত্র ইসলামী সরকারের বিচারকদের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হবে।



চুরির অপরাধ থেকে মুক্তির উপায়:

যারা কোন কিছু চুরি করেছে তাদের অপরিহার্য কর্তব্য হল, তারা চুরি করা সম্পদ তার মালিকের কাছে ফেরত দিবে অত:পর আল্লাহর কাছে তওবা করবে। আল্লাহ বলেন: যে ব্যক্তি জুলুম (চুরি) করার পর তওবা করবে এবং নিজের সংশোধন করে নেবে নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন; আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সূরা আল-মায়িদা: ৩৯) মাল ফেরত দেয়া প্রকাশ্যে বা গোপনে, সরাসরি বা কারো মাধ্যমে যে কোন ভাবে হতে পারে। বহু চেষ্টার পরও যদি মালিক বা তার উত্তরাধিকারীদের কাছে মাল ফেরত দেয়া সম্ভব না হয় তবে উক্ত সম্পদ মালিকের নামে আল্লাহর ওয়াস্তে সাদকাহ করে দিতে হবে। তবে আশা করা যায় মহান আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন।









মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:০৭

সিটিজি৪বিডি বলেছেন: নির্বাচনে চোরদেরকে বর্জন করুন।

২২ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:১৪

আবু আব্দুল্লাহ মামুন বলেছেন: সত্যিই কথাটি বলেছেন, চোর ও দূর্নীতিবাজদেরকে বর্জন করে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচন করুন। তবেই আমরা স্বাধীনতার স্বাদ পাবো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.