নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মঞ্জুর চৌধুরী

আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!

মঞ্জুর চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

কোনটা ধর্ম বিশ্বাস ও কোনটা কুসংস্কার

১৩ ই মে, ২০২২ রাত ১১:৫৬

ফেসবুকে কিছুদিন পরপর কিছু পোস্ট খুব ভাইরাল হয়। এর মাঝে অনেকগুলোই ধর্মীয় পোস্ট। লোকজন মনে করেন ধর্মীয় পোস্ট ভাইরাল করলেই বুঝিবা বিরাট সোয়াব হবে। সমস্যা হচ্ছে, যেগুলো ভাইরাল করার কথা সেগুলো বাদ দিয়ে আজাইরা এমনকিছু ভাইরাল হয়, যা ধর্মীয় না। কিছু ক্ষেত্রে বাটপারি।
যেমন, নবীর (সঃ) পোশাকের নামে একটা ছবি খুব ভাইরাল হলো। ওটা নবীজির (সঃ) পোশাক হবার কথা না, এর পক্ষে বহু শক্তিশালী যুক্তি দেয়া সম্ভব। সেটা বাদ দিয়ে মূল প্রসঙ্গে আসি, এবং তা হচ্ছে, লোকজন এই ছবি বা এমন পোস্ট বিশ্বাস করাকে ঈমানের অঙ্গ বানিয়ে ফেলছে। এই ছবি ভুয়া না সত্য - এই যাচাই বাছাইয়ে না গিয়ে লোকজন সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বলে বলে ভাইরাল করায় ব্যস্ত।
বা ধরেন কিছুদিন আগে একটা গাছের ভিডিও পোস্ট করে ভিডিও বানানেওয়ালা শিরোনাম দিলেন, "সাহাবী বৃক্ষ।"
একটা বৃক্ষ কোন লজিকে সাহাবী হবে? মানে, ভিডিওয়ালা কি সাহাবীদের সস্তা বানালো নাকি সামান্য একটা গাছকে মহান বানালো? নবী (সঃ) একটা গাছের নিচে বিশ্রাম নিলেই সেই গাছ "সাহাবী" হয়ে যায়? লোকজনও সেখানে কমেন্ট করছে, "হে আল্লাহ! এই পবিত্র/বরকতময় বৃক্ষ জিয়ারত করার তৌফিক দান করো!"
ইসলামে ধর্মীয় কারনে জিয়ারত করার অনুমতি কেবলমাত্র মক্কা, মদিনা এবং জেরুজালেমের আছে। এই তিন জায়গা ছাড়া অন্য কেউ "ধর্মীয়" কারনে কোথাও যেতে পারবে না। না আজমীর, না সিলেট, না অন্য কোথাও। খোদ নবীজির (সঃ) নির্দেশ এটি।
সেই সাথে যুক্ত করা যাক আরেকটা ঘটনা।
একদিন উমার (রাঃ) দেখেন কিছু নতুন মুসলিম একটা গাছকে ঘষাঘষি করছে। ঘটনা কি জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, এরা জানতে পেরেছে একদিন এই পবিত্র গাছের নিচে নবীজি (সঃ) বিশ্রাম নিয়েছিলেন। তাই এই বৃক্ষ পবিত্র, এই বৃক্ষ বরকতময়। এবং তাই বরকত নিতে লোকজন এই গাছের "পূজা" করছে।
উমার (রাঃ) সাথে সাথে সেই গাছ কেটে ফেলার নির্দেশ দেন।
উপরের ঘটনার সাথে এই ঘটনার কোন মিল পাচ্ছেন? একশন কি হওয়া উচিৎ তাহলে? গাছ কাটার দরকার নাই, ঐ ভিডিওওয়ালার ভিডিও রিপোর্ট করে বন্ধ করা আগে জরুরি।
লাইক ও ভিউর জন্য লোকজন নিজের ধর্মকে এত সস্তায় বিক্রি করে! সেটা জামার ছবি হোক বা সাহাবী বৃক্ষের ভিডিও!
এইবার আসি সবচেয়ে জরুরি বিষয়ে। সেটা হচ্ছে, "ইসলাম" মিশিয়ে যে যা বলল, যা তা শোনালো, অমনি সেটা চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা কি ঈমানের পরিচয় নাকি বোকামির?
যেমন ধরা যাক জ্বিনের প্রসঙ্গ।
কোনই সন্দেহ নেই যে আল্লাহ মানুষের পাশাপাশি জ্বিন ও ফেরেস্তা সৃষ্টি করেছেন। আরও বহু সৃষ্টি আছে তাঁর যা সম্পর্কে আমাদের কোনই ধারণা নাই। পবিত্র কুরআনে বহুবার জ্বিনের প্রসঙ্গ এসেছে, ইবলিস নিজেই ছিল জ্বিন, আমাদের নবীর (সঃ) কাছ থেকে জ্বিনেরা দীক্ষা নিয়েছে এই কথাও সূরা জ্বিনে আছে। জ্বিন (বা এই জাতীয় অদেখা ভুবনের বাসিন্দা), ফেরেস্তা, আখিরাত, বিচার দিবসে বিশ্বাস করা আমাদের ঈমানেরই অঙ্গ। তাই বলে আমাদের দেশে কোন পীর ফকির যদি দাবি করে বসে যে ওর কথায় জ্বিনেরা ডন বৈঠক দেয়, মানুষের নানান সমস্যার সমাধান করে থাকে, তাহলে সেটা বিশ্বাস করাও কি ঈমানের অঙ্গ হবে?
না। বুদ্ধিমান মুসলিম মাত্রই কুরআন হাদিস ঘাঁটবে। তখন সে দেখবে যে শুধুমাত্র আদম (আঃ), সুলাইমান (আঃ) এবং মুহাম্মদ (সঃ) ছাড়া অন্য কোন নবীর সাথে জ্বিনের সাক্ষাৎ বা কথাবার্তার কোনই রিপোর্ট নেই। না ইব্রাহিম (আঃ), না নূহ (আঃ), ঈসা (আঃ), মুসা (আঃ), ইউসুফ (আঃ) প্রমুখ বড় বড় নবী রাসূল - উনারা জ্বিনের সাক্ষাৎ পেয়েছেন, জ্বিনদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন এমন কোন রিপোর্ট নেই। একজন সাহাবীর জবানীতেও এমন কোন ঘটনা নেই। সাহাবীদের স্থান নবী রাসূলদের পরেই। তাঁদের ঈমানের ব্যাপারে আল্লাহ স্বয়ং সাক্ষ্য দিয়েছেন। নবীজি (সঃ) গর্বিত ছিলেন তাঁদের নিয়ে। তাঁদের যদি জ্বিন দেখার ও পোষার ক্ষমতা না থাকে, তবে কিভাবে, কোন লজিকে আমরা বিশ্বাস করবো একজন সাধারণ মানুষকে আল্লাহ সেই ক্ষমতা দিবেন? তাহলে কি এই লোক সাহাবীদের চেয়ে, এবং তিনজন বাদে বাকি সব নবী রাসূলের চাইতে বেশি স্পেশাল? ইসলামিক লজিক কি বলে? লোকজন তাহলে কিভাবে বিশ্বাস করে অমুক আউলিয়ার জন্মের আগে ডাকাতদের হাত থেকে মাকে রক্ষা করতে বাঘ হয়ে এসেছিলেন? কিংবা ছোট বড় পীর আউলিয়া নিয়ে এমনই সব গল্পগুজব শোনা যায়। এবং না বিশ্বাস করা মানে ওরা ধরে নিবে আপনি মুসলিমই না। এইটা কি ধর্ম নাকি তামিল সিনেমা?
আরেকটা উদাহরণ দেই। সুলায়মান (আঃ) নবীর ঘটনা। তিনি একদিন তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে যাচ্ছিলেন। রাস্তায় পিঁপড়ার ঢিবি পড়ে। তাঁর বাহিনীকে দেখে পিঁপড়া নিজের সঙ্গীসাথীদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলে যে এখনই নিরাপদ স্থানে সরে যেতে, নাহলে কুচলে যাবে।
পিঁপড়ার কথা সুলায়মান (আঃ) বুঝতে পারেন বলে তিনি তাঁর রবের কাছে শুকরিয়া আদায় করেন, এই চরম ক্ষমতা তাঁকে দান করার জন্য। এই পর্যন্তই কুরআনে আছে। কিন্তু এতে যদি "আলিফ লায়লা" মার্কা মাল মশলা যোগ না হয়, তাহলেতো মানুষের স্বাদ আসবেনা। কাজেই ঢালো মশল্লা। কুরআনের বাইরে গিয়ে এখন কাহিনী যুক্ত হয়, "সুলায়মান নবীর সেনাবাহিনীর জন্য পিঁপড়ার দল ভোজের আয়োজন করে। সবাই মিলে একটাই মুরগির রান তুলে আনতে সক্ষম হয়। কিন্তু এতেই গোটা বাহিনীর পেট ভরপুর হয়ে যায়। কারন খাবার আগে সবাই বিসমিল্লাহ বলে খেয়েছিল। সুবহানাল্লাহ বলবেন না? ঠিক কিনা? কথা বলে না ক্যান?"
নবী (সঃ) হুঁশিয়ার করে বলেছেন তাঁর নামে উল্টাপাল্টা কোন মিথ্যা কথা যেন প্রচার না হয়। অথচ গোটা বিশ্বব্যাপী হাদিসের নামে এইসব আজগুবি গল্প ভরপুর।
এদিকে গাইবান্ধায় এক মহিলা নাকি মৃত্যুর নয়মাস পরে জীবিত হয়ে ফেরত এসেছেন। তিনি তাঁর পরিবারের সবাইকে চিনতে পারছেন, তাঁর পরিবারও তাঁকে আপন করে নিয়েছে। দেশব্যাপী এটি ভাইরাল হচ্ছে "আল্লাহর মোজেজা" হিসেবে।
প্রথম কথা, মৃত্যুর পরে এইভাবে যদি কেউ কবর থেকে উঠে চলে আসতে পারতেন, তবে সেটা হতো আমাদের সব নবী রাসূল ও সাহাবীগণের। একজনও আসেননি। কাজেই গাইবান্ধার মহিলার আসার প্রশ্নই উঠে না। এই মহিলা আসলেই সেই মহিলা কি না, সেটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমান করা আরও সহজ। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ টেস্ট করলে সহজেই বেরিয়ে আসবে এই বাড়ির সন্তানদের মা কি এই মহিলা কিনা। এইটাই সবচেয়ে নির্ভুল পরীক্ষা। কারন, কবর খুঁড়লে যদি লাশ না পাওয়া যায়, চুরি হয়ে থাকতে পারে, অথবা সরিয়ে ফেলাও হতে পারে, তখন এই বিশ্বাস পাকা হয়ে যাবে। মহিলা চিটার বাটপার কিনা, সেটা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। তবে এই ধরনের ভিডিও ভাইরাল করার মানে আপনার ঈমানের দুর্বলতা প্রকাশ করা। এর মানে হচ্ছে, আপনি কিছুতেই আল্লাহর অস্তিত্বে কনভিন্সড না, এখন এইসব মাল মশলাদার ঘটনা বিশ্বাস করে নিজের বিশ্বাসকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছেন।
ঈমানী সমস্যার পাশাপাশি আরেকটা ইহলৌকিক সমস্যা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেকোন রোগকেই, বিশেষ করে মানসিক রোগকে "জ্বিনের আছর" বলে চালিয়ে দেয়া হয় এবং ভন্ড পীরদের দিয়ে জ্বিন চিকিৎসা করানো হয়। জ্বিন চিকিৎসা আমাদের দেশের শহরাঞ্চলেও হয়, অনেক ডিগ্রিধারী শিক্ষিতরাও করিয়ে থাকেন। এর পরিনাম হয় ভয়াবহ। অনেক স্বল্পশিক্ষিত মানুষ যখন দেখে তথাকথিত সমাজপ্রধানরা এইসব কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, তখন ওদের অন্ধবিশ্বাস ও চর্চা আরও বৃদ্ধি পায়। বলিউডের অনেক সেলিব্রেটি, ক্রিকেটার এমন প্রমান স্থাপন করেছেন। মাথা খাটান, হাতে আট দশটা পাথর বসানো আংটি ও গলায়, কোমরে তাবিজ ঝুলানো ব্যবসায়ীকে দেখবেন একটা মুদির দোকানও ঠিক মতন চালাতে পারছে না, এদিকে বিল গেটস, ইলন মাস্কদের কোন আংটি, কোন তাবিজ পরতে দেখবেন না। আর অনেক মানুষের হয়তো সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থতা সম্ভব হতো, যা না হয়ে তাঁদের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে থাকে।
ব্যাপারটা আসলেই সিরিয়াস।

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই মে, ২০২২ রাত ১২:৩৫

শূন্য সারমর্ম বলেছেন:

বিলিওনিয়ারের ধর্মীয় ভার্সন,মিলিওনিয়ারের ধর্মীয় ভার্সন ও হতদরিদ্রের ধর্মীয় ভার্সনে ভিন্নতা কেন??

২| ১৪ ই মে, ২০২২ রাত ১২:৫০

রাজীব নুর বলেছেন: যাক আপনার আজকের লেখায় নিরপেক্ষ থাকতে পেরেছেন।

২৭ শে মে, ২০২২ রাত ১:২১

মঞ্জুর চৌধুরী বলেছেন: আমিতো "নিরপেক্ষ" নই, ইসলামের পক্ষের লোক। যা ইসলামের নামে চালানো হয়, সেটার বিরুদ্ধেই লিখলাম।

৩| ১৪ ই মে, ২০২২ সকাল ১০:২৪

বিজন রয় বলেছেন: ভাল লিখেছেন।

৪| ১৪ ই মে, ২০২২ সকাল ১১:৫০

নতুন বলেছেন: ঈমানী সমস্যার পাশাপাশি আরেকটা ইহলৌকিক সমস্যা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেকোন রোগকেই, বিশেষ করে মানসিক রোগকে "জ্বিনের আছর" বলে চালিয়ে দেয়া হয় এবং ভন্ড পীরদের দিয়ে জ্বিন চিকিৎসা করানো হয়। জ্বিন চিকিৎসা আমাদের দেশের শহরাঞ্চলেও হয়, অনেক ডিগ্রিধারী শিক্ষিতরাও করিয়ে থাকেন। এর পরিনাম হয় ভয়াবহ। অনেক স্বল্পশিক্ষিত মানুষ যখন দেখে তথাকথিত সমাজপ্রধানরা এইসব কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, তখন ওদের অন্ধবিশ্বাস ও চর্চা আরও বৃদ্ধি পায়। বলিউডের অনেক সেলিব্রেটি, ক্রিকেটার এমন প্রমান স্থাপন করেছেন।

গ্রামে আরেকটা কাজ হইতো আগে সেটা হইলো হত্যা করে ভুত,জিনে মেরে ফেলেছে।

সব কিছুর পেছনে আছে টাকা পয়সা আর ক্ষমতার ধান্ধা।

২৭ শে মে, ২০২২ রাত ১:২১

মঞ্জুর চৌধুরী বলেছেন: ঠিক বলেছেন।

৫| ১৫ ই মে, ২০২২ রাত ১২:৪০

রাশিদুল ইসলাম লাবলু বলেছেন: আপনার লেখাটা পড়ে ভালো লাগলো।
ধর্ম ব্যবসায়ীরাই হলো সকল নস্ঠের গোড়া আজ ওদের জন্যই এ সমস্যা।

৬| ১৫ ই মে, ২০২২ রাত ১০:৫৯

মোহাম্মদ গোফরান বলেছেন: ভালো লাগলো।

৭| ১৬ ই মে, ২০২২ সকাল ৮:৫৫

নূর আলম হিরণ বলেছেন: সঠিক লিখেছেন।

৮| ১৯ শে মে, ২০২২ দুপুর ১:২২

ইমরান আশফাক বলেছেন: অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পন্ন ঈমান নিয়ে বেচেঁ আছি আমি। এইগুলি শুধরানো দরকার। এই পোস্ট টি সেজন্য একটি মাইলফলক হিসাবে দেখছি আমি। সত্যি আমি কিন্তু এভাবে চিন্তা করে দেখি নাই।

২৭ শে মে, ২০২২ রাত ১:২২

মঞ্জুর চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ। শেয়ার করবেন, জানাবেন বেশি বেশি মানুষের কাছে। তাহলে তা্ঁদেরও ঈমান শুধরাবে ইন শা আল্লাহ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.