নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মঞ্জুর চৌধুরী

আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!

মঞ্জুর চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমাদের ভাষাটা অতটাও সহজ না যত সহজে আমরা বলি।

১৮ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ২:১৮

ডালাস মর্নিং নিউজের জন্য শকুন্তলা নিয়ে ইন্টারভিউ দিচ্ছিলাম।
সাংবাদিক স্থানীয় শ্বেতাঙ্গিনী টেক্সান। সমস্ত জীবন কাটিয়েছে টেক্সাসে। বাংলা, হিন্দি কোন ভাষারই ধারেকাছে ভিড়েনি কোনদিন। তবু কিছু শব্দের অথেন্টিক বাংলা উচ্চারণ শিখতে চাইলো। ওর রেডিওতে আমার ইন্টারভিউ প্রচার করবে।
যেমন: "Shakuntala" - ও বললো "শাকুনতালা" - আমি শিখালাম "শকুন্তলা।"
"Shahiduzzaman Selim" - "শাহিদ" নয়, হবে "শহীদুজ্জামান সেলিম।"
"Arnila Guha" হবে "অর্ণিলা গুহ।"
তারপরে বললাম, যদিও ইংলিশে আমরা "A" লিখি, বাংলায় আমরা "O" উচ্চারণ করি।
মেয়েটা স্মার্ট। বলল, "Manzur" তাহলে "মঞ্জুর?"
এক গাল হেসে বললাম, "এইতো ধরে ফেলেছো। শাবাশ!"
সে উৎসাহী গলায় বলল "Tarek" - তাহলে "তরেক?" এবং "Nusrat" হবে "নুসরত?" ঠিক?"
"না না, ওটা তারেক এবং নুসরাত হবে।"
"কিন্তু তুমি যে বললে 'A' 'O' উচ্চারিত হবে?"
কি বলবো ভেবে পেলাম না। আমাদের ভাষাটা অতটাও সহজ না যত সহজে আমরা বলি।

এদিকে সান আন্তোনিওতে আরেক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলাম।
এমনিতে ওদের খাতির যত্ন ছিল দেখার মতন। এক ভদ্রমহিলাকে দেখলাম মেজবানি করছেন। কিছুক্ষন পরপর এসে জিজ্ঞেস করছেন "আপনারা খাচ্ছেনতো? কিছু লাগলে লজ্জা পাবেন না। সরাসরি বলবেন। অথবা নিজে নিয়ে নিবেন।"
পাশের এক ভদ্রলোক বললেন "বলেনতো ভাই, ভাবির বাড়ি কই?"
ভদ্র মহিলার কথায় আমাদের চলিত ভাষার টান। কিন্তু চিটাগং, সিলেট, বরিশাল, যশোর বা নিউক্যালির মানুষের যেমন কথা শুনলেই বুঝা যায়, উনার কথায় সেই টান নেই। তাই উনাকেই জিজ্ঞেস করলাম, "ভাবি, আপনার বাড়ি কোথায়?"
উনি সরল গলায় বললেন, "আমার বাড়ি নোয়াখালী।"
আমি বললাম "বাহ্! আমার দুলাভাই এবং বেস্ট ফ্রেন্ডের বাড়িও নোয়াখালী।"
মহিলা হেসে দিলেন। দেখলাম বাড়িশুদ্ধ লোক হোহো করে হাসছেন। কাউকে বোকা বানালে মানুষ এভাবেই হাসে।
তারপরে সেই ভদ্রলোক বললেন, "আপনিও বুঝলেন না? উনার বাড়ি আসলে মেক্সিকো।"
আমি আবার ভদ্রমহিলার দিকে তাকালাম। ত্বক আমাদের সাধারণ মেয়েদের চেয়ে একটু বেশি ফর্সা, কিন্তু ওটা আমাদের সিলেটে খুবই কমন ঘটনা। এছাড়া বুঝার কোন উপায়ই নেই। পোশাকে, চুলে, বিশেষ করে কথায় তিনি পুরোদস্তুর বাংলাদেশী। "খাইছি, গেছি" টাইপ বাংলা বলেন। স্থানীয় এক বড় ভাই বাংলাদেশিকে বিয়ে করেছেন, এবং বিয়ের পরে বাংলা শিখে ফেলেছেন।
আমাদের ভাষাটা হয়তো অতটা কঠিনও না যতটা ভেবেছিলাম।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে জুলাই, ২০২৪ ভোর ৬:০১

রিফাত হোসেন বলেছেন: আমিও একজনের দেখা পেয়েছিলাম। উনিও একজনের ঘরণী। অসম্ভব সাবলীল শুদ্ধ উচ্চারণ ও বুৎপত্তিবিদ মনে হল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.