নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মঞ্জুর চৌধুরী

আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!

মঞ্জুর চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইরানিদের রকেট, বোমা ইত্যাদির ভয় দেখানো সম্ভব?

১৪ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:৩৫

ইরান যুদ্ধের দুই সপ্তাহ হতে চললো।

এক সপ্তাহ আগেও গাড়ির তেলের দাম ছিল গ্যালনে দুই ডলারের চেয়ে একটু বেশি। আজকে সেটা সাড়ে তিন ডলারের উপরে চলে গেছে। আমার দুই দশকের আমেরিকান জীবনে টেক্সাসে গ্যালন প্রতি সর্বোচ্চ তিন ডলার ছিয়ানব্বই পয়সা দাম দিতে হয়েছিল। সেটা ২০০৮ সালের ঘটনা, তখন রিসেশনে আমেরিকার অবস্থা তোলপাড়। লাখে লাখে মানুষ চাকরি হারিয়ে বেকার, লাখ লাখ বাড়িঘর ফোরক্লোজ্ড হয়েছিল।
সেই ভয়াবহ ইকোনমিক ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে প্রায় এক দশক লেগেছিল। ওবামা হোয়াইট হাউজে ঢুকেছিল কালো চুল নিয়ে, বেরোতে বেরোতে সব চুল সাদা হয়ে গিয়েছিল।

এইবার শোনা যাচ্ছে তেলের এই দাম বাড়তে বাড়তে চার-পাঁচ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ভিয়েতনাম "ওয়ার্ক ফ্রম হোম" ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশে পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন। জ্বালানি তেল শেষ। ইন্ডিয়া থেকে কিনতে হচ্ছে।

এইটা বিরাট অশনি সংকেত। গোটা বিশ্বই তেলের উপর চলে। শুধু গাড়ি বা ট্রান্সপোর্টেশনই না, অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিও তেলের উপর নির্ভরশীল।
ক্রুড অয়েল রিফাইনিংয়ের বাই প্রোডাক্ট হচ্ছে সালফার, এই সালফার থেকে হয় সালফিউরিক এসিড। যেকোন মেটাল ইন্ডাস্ট্রি চালাতে এর কোন বিকল্প নেই। পেইন্ট, প্লাস্টিক, ফার্টিলাইজার, কনস্ট্রাকশন, ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইলস, কসমেটিক্স, এনার্জি ইত্যাদি সবকিছুই ক্রুড অয়েলের উপর নির্ভরশীল। ফার্টিলাইজার সাপ্লাই যদি বন্ধ হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট দেখা দিবে। কাজেই মানুষ ও গাড়ি - দুইয়ের জ্বালানিই এখন মহা সংকটে আছে।
আপনি গাড়ি চালিয়ে গ্রোসারি শপে যাবেন, তেলের দাম বাড়ায় আপনার খরচ বাড়লো। গ্রোসারির দামও লাগামছাড়া। প্রথমত সাপ্লাই নেই, আর যা সাপ্লাই হয়, ওটার তেলের খরচ কয়েকগুণ হয়ে যাওয়ায় খরচ বেড়ে গেছে। আপনি যেখানেই হাত দিবেন, সব জায়গায় দেখবেন দাম বাড়ছে। আয় কিন্তু সেই আগের মতোই থাকছে। উল্টো ইয়া নফসি জপতে হচ্ছে, কারন খারাপ ইকোনমিতে যেকোন কোম্পানি টিকে থাকতে হলে শুরু করে কর্মী ছাঁটাই। শুরুটা হয় ওদেরকে দিয়েই যারা উচ্চবেতনে কাজ করে।

যেই ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চাগুলো এই অহেতুক যুদ্ধে খুশিতে বগল বাজাচ্ছিল, ওরাও দ্রুত টের পাবে।

ঠিক এই কারণেই বহু বছর ধরেই আমি যেকোন যুদ্ধের বিরুদ্ধেই লিখে আসছি। হোক সেটা রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ, হোক সেটা ইরানে আমেরিকা-ইজরায়েলের আক্রমন বা আমাদের প্রতিবেশী ইন্ডিয়া-পাকিস্তান যুদ্ধ।
রাশিয়া সেই কবেই ইউক্রেন আক্রমন করে এখনও পস্তাচ্ছে। কথা ছিল এক সপ্তাহেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। চার বছরের উপর হতে চললো, এখনও মানুষ মরছে। দ্রুত শেষ হবে বলেও মনে হচ্ছেনা।
ইন্ডিয়া পাকিস্তানের নেতারা যেকোন কারণেই হোক যুদ্ধ বন্ধ করে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছিল।
এখন পাকিস্তান আফগানিস্তান কামড়াকামড়ি করছে। তোদের দেশের মানুষের পেটে রুটি জুটে না। তোরা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার মানুষ মারতে খরচ করিস? তোদের কানে ধরে দুইদেশের জনতার সামনে চক্কর খাওয়ানো উচিত।

আধুনিক বিশ্বে, একটা যুদ্ধ শুরু করা অতি সহজ, কিন্তু সেটা শেষ করা অনেকক্ষেত্রেই সম্ভব হয়না। বছরের পর বছর ধরে চলতেই থাকে। আমরা দেখতে পাই আফগানিস্তানে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পর আমেরিকা তালেবানদের হাতেই ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে এসেছে।
ইরাকেও কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে কিছুই করতে পারেনাই।
অথচ ঐ টাকা নিজের দেশে খরচ করলে আজকে আমেরিকায় হোমলেস সমস্যা থাকতো না। ছাত্রছাত্রীরা উচ্চশিক্ষিত হতো। মেডিকেল বিলের কারনে কাউকে দেউলিয়া হতে হতো না। সাড়ে সাত ট্রিলিয়ন ডলারের হিসাবটা বুঝতে হলে এইভাবে বুঝেন, ধরেন একটা লোক যীশু খ্রীষ্টের (আঃ) জন্মের দিন থেকে আজকের দিন পর্যন্ত প্রতিদিন দশ মিলিওন ডলার (বাংলাদেশী টাকায় ১২৩ কোটি টাকা) করে খরচ করলে আজকের দিনে তার পরিমান হতো ৭.৪ ট্রিলিয়ন ডলার। এখনও ০.১ ট্রিলিয়ন বাকি।
বুঝতে পারছেন অর্থের কি বিপুল অপচয়?

এখন যোগ হয়েছে ইরানে হামলা। প্রথম ছয় দিনেই আমেরিকা ১১.৩ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ফেলেছে। অথচ এই সরকার সরকারি খরচ কমানোর দোহাই দিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত ফুড স্ট্যাম্পের টাকা বন্ধ করেছিল, সরকারি চাকরিজীবীদের ছাঁটাই করেছিল। আমেরিকায় ঘরে ঘরে বেকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেসবে মনোযোগ না দিয়ে আমাদের প্রেসিডেন্ট জিহ্বা বের করে মালিকের হুকুমে ছুটে গেছে।

ইরানে অবস্থা আরও জটিল।
ওরা ভাল করেই জানে আমেরিকার সাথে অস্ত্রের বা অর্থের লড়াইয়ে ওরা পারবে না। কাজেই গোটা বিশ্বের ইকোনমির বারোটা বাজিয়ে দিলে আমেরিকার উপর চাপ তৈরী হবে। ওরা সেটাই করছে।
হরমুজ প্রণালী এখনও ইরানের নিয়ন্ত্রণে। ওরা জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। পানিতে মাইন পেতে জাহাজ ডুবাবে। আমেরিকা বলেছিল সব জাহাজের নিরাপত্তার দায়িত্ব সে নিচ্ছে, এরই মাঝে থাই কার্গো শিপে হামলা হলো। মানে আমাদের প্রেসিডেন্ট সাহেব আমেরিকাকে বর্তমানে একটা ফাঁকা বুলির জোকারে পরিণত করে ছেড়েছে। খুব শীঘ্রই একে কেউ গোণায় ধরবে না।

ইরানের টপ নেতাদের ৪০ জনকেই মেরে ফেলা হয়েছে। খোমেনী শিয়াদের কাছে তেমন এক নেতা যা খ্রিষ্টানদের কাছে পোপের সমতুল্য। আমাদের সুন্নিদের যদি কোন খলিফা থাকতো, অনেকটা সেই পর্যায়ের বা আরও উচ্চ মর্যাদার। কারন তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা না, আধ্যাত্মিক গুরু। ওর সাথে শিয়াদের আত্মার সম্পর্ক। আমেরিকা কোন বুদ্ধিতে ধরে নিয়েছিল যে ওকে মেরে ফেললেই ইরান নাচতে নাচতে "হ্যাপি বার্থডে টু ইউ" বলে ওদের দেশটাকে গিফ্ট wrap করে নেতানিয়াহুর হাতে তুলে দিবে?
আমার এক বন্ধু ইরানে বড় হয়েছে। তখন ইরাকের সাথে আট বছরের যুদ্ধ চলছিল। গতকাল সে বলছিল, ও প্রতিদিন বাংকারেই কাটাতো, সেখানেই খেলতো। ছয় বছর বয়সে মলটোভ ককটেল নিয়ে খেলতো। একবার খেলতে গিয়ে স্কুলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। ওরা জন্ম থেকেই এইসব যুদ্ধ সংগ্রাম দেখে বড় হয়েছে। ইমাম হোসেইনের (রাঃ) ফলোয়ার। যিনি কারবালায় শহীদ হয়েছেন তবু মাথানত করেননি।
ওদেরকে রকেট, বোমা ইত্যাদির ভয় দেখানো সম্ভব?

ওরা নতুন নেতা নির্বাচন করেছে। এমন নেতা যার পুরো পরিবার গত এক সপ্তাহে মারা গেছে। ওর হারাবার কিছু আছে?
ধরে নিলাম ওকেও মারবে। ধরে নিলাম আরও সব নেতাকে মেরে ইরাকের মতোই ইরানকেও দখলে নিয়ে নিবে। তারপর? ইরাকে-আফগানিস্তানে কি ঘটেছে ভুলে গেছে? তখন শুরু হবে আমেরিকান সোলজারদের মৃত্যুর মিছিল। ট্রাম্প নেতানিয়াহুর এবং ওদের সাপোর্টারদের পুত্র কন্যারা ঠিকই বিলিয়ন ডলারের ম্যানশনে শুয়ে বসে দিন কাটাবে। মরবে গরিব কৃষক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়েগুলো - যারা নিজের দেশের প্রয়োজনে প্রাণ দিতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল।

ইন্ডিয়ার চাড্ডিদের কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। ট্রাম্প, নেতানিয়াহু, আমেরিকান ও ইজরায়েলি ফ্ল্যাগের পূজা করছে। মুসলিমদের মারছে, কী আনন্দ! এখন বাবাজীরা ঠ্যালা বুঝতে পারবে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় ওদের এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়ছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে।
ফার্টিলাইজার সাপ্লাই বন্ধ হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত।
১২ বিলিয়ন ডলারের এক্সপোর্ট আটকে আছে।
অন্যের ঘরে আগুন লাগলে খুশিতে নাচতে নেই। নিজের বাড়িতে আগুন লাগতে বেশি সময় লাগেনা।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৩৭

রাজীব নুর বলেছেন: মুসলিম দেশ গুলোর ধ্যানধারনা, চিন্তা চেতনা উন্নত নয়। এরা পিছিয়ে আছে, বিশেষ গ্রন্থের জন্য।
আমেরিকা আর ইজরায়েল হলো শক্তিশালী দেশ। এদের সাথে কোনো মুসলিম দেশ যুদ্ধ করে টিকে থাকতে পারবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.