| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাসুদুর রহমান
শিরনামহীন প্রেরক
বহুদিন পর
এই অসম্ভবের যুগে এসে তোমার চিঠি পেলাম
বড় আকুল তুমি শুধায়েছো
ভাল আছোতো ?
তাহিতি সত্যি বলতে কি
পাশের বাড়ির মিনি পুসিটা ভালো আছে, সেটা জানি
আমার দাদীমা, টবে গোলাপের চারা
রান্নাঘরের আসবাব, স্টাডীরুমের পর্দা
জানালার গ্রীল, সেগুন কাঠের দরজা, ফুলদানী
ফুলদানীর জল, জলকে আকড়ে বেঁচে থাকা ফুল
সকলেই ভালো আছে।
চিলোকোঠার চড়ুই দম্পতির উচ্ছল উড়াউড়ি
দেখে বুঝে ফেলি ওরা ভালো আছে
মিশর থেকে বাবা শখ করে সবুজ ঘাসের মতো
একটা কার্পেট এনেছিলেন
বুয়ার নিয়মিত পরিচর্যায় সেটাও ভালো আছে।
সোফার কুশন, তেতুল গাছের বনসাই
ছাদে তার, তারে ঝুলে থাকা কাক, কাকের পালক
সকলেই একরকম ভালো আছে।
তুমিতো লিখলেনা, তুমি কেমন আছো
সমরেশ কত বড় হয়েছে ?
মেয়েটার নামকি পদ্মনীতা রেখেছো ?
বড্ড বেদম কিছু রোগ শরীরে ঘর বেঁধেছে
তারাও ভালো, কোন ঔষধ ওদের বিরক্ত করেনা
পিসিমা যদিও প্রতিবেলা সেঁধে যায়।
ছাদে প্রায়ই দেখি মাসতুতো বোন আঁখি
টি এন্ড টি কলোনীর কোন ছেলের সাথে ইশারায় কথা বলে
আমাকে দেখলেই অপ্রস্তুত হাসি হেসে বলে
দাদা ভালো আছো ?
ওর উচ্ছল যৌবন বলে দেয় ও ভালো আছে।
ও তোমাকেতো বলাই হয়নি
আমাদের বাড়ির পিছনের পুকুর এখন আর নেই
সেখানে দালান করে ভাড়া দেয়া হয়েছে,
দুটো মুসলিম ঘর ভাড়া থাকে।
মনে আছে কত সাঁতার কেটেছি দুজন
শাপলার ডগা দিয়ে রান্নাবান্না খেলা।
তুমি এতো মনভোলা
নাকি ইচ্ছে করেই খালি রেখেছো প্রেরকের ঘর
এখন কি করে জানাই তোমায়
আট দশটা মানুষ যা জানে
নিয়নের বন্ধু সাফাতও জানে
গীতাঞ্জলীর ২১ নং পাতা যেটা জানে
সেই সহজ কথাটা
কিকরে তোমাকে জানাই।
©somewhere in net ltd.