| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঝনাত শব্দ করে ভেঙে গেল, তেল
চিটচিটে কাচের গ্লাস।
গ্লাস ভরতি ছিল,, গ্রীষ্মের
দাবদাহে শুকনো অতিতের জল।।;
গ্লাসের ভাঙা টুকরো,
হাতে নিয়ে জলের
পেছনে চুটেছি সমস্ত দিন,,,,,
অস্তমিত সুর্যের সাথে, আমিও
ক্লান্তিতে ঢলে পরেছি।
অতপর রাতের আধারে, আমার
হাতে ছিলো ভিক্ষার থালা।
হঠাৎ
কালো মেঘে ছেয়ে গেলো সমস্ত
আকাশ
এক ফোটা বৃষ্টিজল, আমার নাকের উপর
গড়িয়ে পড়লো।
বৃষ্টিজল আমার কানের কাছে মুখ
রেখে বলে,,
তুমি যে জলের খোজে এসেছো,
সে জলে বন্দি আছে,
রাজকুমারী মাছ।।
পুর্ন খবর নিয়ে আরো,
দক্ষিনে এগিয়ে গেলাম।।
সেখানে কুড়ে ঘরে, থাকে এক
জাদুকরী বুড়ি,,,
বছরে ৬মাস ঘুমে থাকে বুড়ি।।
বুড়ির আস্তানা পাহারা দেয়,
কালো পেছা,,,,
কালো পেছা, যার সাথে কথা কয়,
সেই গাছ হইয়া যায়।।।
আমিও তাল গাছ হয়ে গেলাম।
আমি তাল গাছ হয়ে দাড়িয়ে রইলাম।
তারপর একদিন, বাবুই পাখি বাসা বানালো, আমার
পাতায়,,
পাখি গুলোর কিচির মিচির শব্দে, আমি ভুলে গেলাম
যে,আমি এককালে মানুষ ছিলাম।
একদিন ভিষন বর্ষা হলো,,, বাবুই পাখির
ভাসা ভেঙে গেল।। আমার ইচ্ছে হলো, হু হু করে কাদি,,,
সেই কান্নার শব্দ বাতাসে ভেসে আসে। লোকালয়ে।। এক
শিশু সে কান্না শুনতে পেল,,,
আমাকে এসে জিজ্ঞেস করলো,,, বৃক্ষ তুমি কাঁদো কেনো?
আমি বললাম, আমার অতিত,, এবং এও বললাম,,
জাদুকর বুড়ির ঘরের দরজার, ৫হাত সামনে এক গাছ আছে,,
সে গাছে থোকায় থোকায় ফল ধরে আছে।।। সেখান
থেকে একটা ফল এনে, আমার শিকড়ে ফেলে দিতে।।
আর এও বললাম সেই ফল পাহারা দিচ্ছে,, বুড়ির কুকুর,,,
সমস্ত সতর্কবাণী সহ, সেই কুড় ঘরের
দিকে সাবধানে এগিয়ে গেল ৯
বছরের শিশু,,,
শোয়াইবকে দেখামাত্র
কুকুরটি দুরে চলে গেল,,। জাদুকর
বুড়ি শোয়াইব কে নিয়ে,
কুড়ে ঘরে ঢুকলো,,, পেছাও
কথা কইলো কিন্তু শোয়াইবের কিছুই
হলোনা।। বুড়ি ধমকের স্বরে বলল কেন
এসেছো এখানে?
শোয়াইব, আমার কথা, বাবুই পাখির
কথা, জলের কথা সব কথা খুলে বলল,,,,।
বৃড়ি বললো আমি বুঝতে পারিনি,,
তারপর হঠাৎ করে বুড়ি, ২১ বছরের
অনিন্দসুন্দরী তরুনি হয়ে গেলো।।
বললো এই তার আসল চেহারা।।
বাকি কথা পরে হবে, আগে সেই তাল
গাছের কাছে চলো,,,বুড়ি, শোয়াইব,,
পেছা আর গাছের এক থোকা ফল
নিয়ে, আমার কাছে এলো। আমার
শিকড়োর কাছে একটা ফল
ভেঙে তার রস ঢেলে দিলো, আর
অমনি আমি মানুষ হয়ে উঠলাম।।
তারপর
শোয়াইবকে কৃতজ্ঞতা জানালাম।।
তখনো বুড়ির সত্যিকারের পরিচয়
আমি জানিনা।শোয়াইবসহ বুড়ির
কুটিরে গেলাম।। লতানো বৃক্ষের
দোলনায় আমরা বসেছিলাম,,,,, হঠাত
আশ্চর্য সুন্দরতম চোখের
দিকে তাকিয়ে আমি বৃক্ষের ন্যয়,
স্থির হয়ে গেলাম।।
মানুষের চোখে যে, এত,,এত রুপ
থাকে আমি কল্পনায়ও
ভাবিনি,কোনকালে।।।।সেই
চোখের গভিরে যেন
হারিয়ে যেতে লাগলাম।।।।। ওর
মুখের দিকে তাকিয়েছি যখন,
মনে হোল,,,,,,,
পাতালপুরি কিংবা পরি রাজ্যের
রাজকুমারি।।।।
হাসিমুখ করে বললো,,
আমি দুঃখিত।।।।।
©somewhere in net ltd.