নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠায় নিরলস অভিযান...

মেঘনা বার্তা

সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠায় নিরলস অভিযান

মেঘনা বার্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

তীব্র নদী ভাঙ্গনে হাতিয়ার অস্তিত্ব বিলীনের পথে : নেতাদের অবহেলাকে পুঁজি করে ড্রেজিং করেছিল সেনাবাহিনী

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৫



মুহাম্মদ কেফায়েতুল্লাহ:
অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে ক্রমশঃ ছোট হয়ে যাচ্ছে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মানচিত্র। প্রতি বছর বসতভিটা হারিয়ে চরাঞ্চলে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে ৫ শতাধিক ভূমিহীন। দীর্ঘদিনের অব্যাহত ভাঙ্গন রোধে সরকারী কোন সহায়তা না পাওয়ায় হতাশ হাতিয়াবাসী।
এলজিইডি’র হিসাব মতে ছোট বড় ১৯টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ২১০০ বর্গ কিঃমিঃ এর হাতিয়ায় সর্বমোট জনসংখ্যা ৬ লাখ। এদের মধ্যে প্রতিবছর পাঁচশ’র ও বেশী মানুষ বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয় নেয় নতুন জেগে ওঠা চরাঞ্চলে। কিন্তু সেখানেও থাকছেনা শান্তি। থাকছেনা শিক্ষা, চিকিৎসার পর্যাপ্ত সেবা। আর এভাবেই অবহেলিত জীবনযাপন করছে হাতিয়ার বিভিন্ন চরাঞ্চলে বসবাসরত ৫০ হাজার ভূমিহীন।
জানা যায়, সরকার ১৯৬৪ সালে ভাবনীগঞ্জ চর লরেন্সের একটি ক্রস বাঁধ ও ১৯৬৭ সালে আট কপালিয়া মান্নান নগরের আরেকটি ক্রস বাঁধ নির্মাণ করে। এই দুই বাঁধ নির্মাণের পর থেকে শুরু হয় হাতিয়ার নদী ভাঙ্গন। পরবর্তীতে ১৯৯৬-২০০০ আমলে ভোলার নদী ভাঙ্গন রোধের কৌশল হিসেবে মেঘনার ভোলা চ্যানেলে ড্রেজিং করা হয়, যাতে স্রোতের গতি ভোলার দিক থেকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপের দিকে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এতে হাতিয়ার ভাঙ্গন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এদিকে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার হাতিয়ার ভাঙ্গন আরো অধিক পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বছর হাতিয়ার নলচিরা ঘাট সংলগ্ন নদী কুলবর্তী এলাকায় গভীর রাতে ড্রেজিং করে ক্যারিংচরে ঘাঁটি স্থাপনকারী সেনাবাহিনীর একটি ড্রেজিং জাহাজ। যার কারণে এবার ভাঙ্গন তীব্রতর হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, নদী ভাঙ্গনের কারণে প্রতি বছর হাতিয়ার মানুষের প্রায় ৭০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। হারিয়ে যাচ্ছে অগণিত ঘরবাড়ি, বিস্তীর্ণ কৃষি জমি, মসজিদ, মন্দির, মক্তব, মাদ্রাসা, হাট, বাজার, স্কুল, কলেজসহ অনেক স্থাপনা। হাতিয়ায় বসবাসরত ৬ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা রক্ষায় নদী ভাঙ্গন রোধ করা বর্তমান সময়ে একান্ত আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কিন্তু এদিকে সরকারের আশানুরূপ কোন পদক্ষেপ না দেখে হতাশ হচ্ছে হাতিয়ার ৬ লাখ নাগরিক।
জানা যায়, ১৯৬৫ সাল থেকে হাতিয়ায় নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। ১৯৭০ সাল থেকে তা ব্যাপক গতিতে চলতে থাকে। ১৯৬৭ সালে হাতিয়ায় ইউনিয়ন সংখ্যা ছিল ১১ টি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে হরণী, চানন্দী ও লক্ষী নামে তিনটি ইউনিয়ন মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। মাত্র ৪৩ বছর ব্যবধানে হাতিয়ার হরণী, চানন্দী, লক্ষী, চর রহিম, চর বদ্ধ, শফিনগর, হোকবাদা, আমিরাবাদ, চর কমলা, চর উদয়, চর মতিন, পাঁচ বাগিচা, বাথানখালী, পালগ্রাম, চৌরঙ্গী, সাত বাড়িয়া, আঠার বেকী, কাউনিয়া, আলাদীগ্রাম, চান্দালীগ্রামসহ নাম না জানা অগণিত স্থানসহ প্রায় ১৮০ কিঃ মিঃ ভূমি হারিয়ে গেছে নদীর গহ্বরে। গত দুই বছরে হাতিয়া উপজেলার সুখচর ও নলচিরা নামে আরো দুইটি ইউনিয়ন নদীগর্ভে অনেকটা বিলীন হয়ে যায়। ৯টি ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়নগুলোর রয়েছে মাত্র ১টি ওয়ার্ডের অংশবিশেষ। এদিকে হাতিয়ার সবচেয়ে সমৃদ্ধ ব্যবসায়িক কেন্দ্র আফাজিয়া বাজার নদীভাঙ্গনের সম্মুখীন। বর্তমানে বাজারের উত্তর মাথায় এসে পড়েছে নদী। সামান্য জোয়ারেই বাজারের রাস্তাঘাটে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে যায়। যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকটা থেমে গেছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নতুন অবস্থায়ই ভেঙ্গে ফেলতে হচ্ছে।
নদী ভাঙ্গনের কারণে হাতিয়া দ্বীপের মানুষ সু-শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত জীবন যাপন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বহুমূখী ভাঙ্গনের কারণে প্রতি বছর প্রায় দুই শতাধিক বসতবাড়ী হারিয়ে যাচ্ছে হাতিয়ার মানচিত্র থেকে । এসব বাড়ী ঘরের মানুষ জীবন যাপনের জন্য সাগরের বুকে নতুন জেগে ওঠা চর, খাস জমি ও বেড়ীবাঁধের পাশে আশ্রয় নেয়। যেখানে নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয়কেন্দ্র। ফলত: প্রতিনিয়ত ঘুর্ণিঝড়, জোয়ার, জলোচ্ছ্বাস এসব অসহায় মানুষের বাঁচার শেষ অধিকারটুকুও যেন কেড়ে নিচ্ছে।
হাতিয়ার প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু নদী ভাঙ্গনের ফলে কৃষক হারিয়ে ফেলছে অগণিত কৃষি জমি। এতে করে দিন দিন ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে, বাড়ছে শুধু দারিদ্রতা।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.