| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একজন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার:
সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন নানোনিউজ রিপোর্টার মেহেদী হাসান ।
মুক্তিযোদ্ধার নাম : মো: সাইদূর রহমান ।
সেক্টর নং : ৭
এফএফ নং : ৯০৯১
লিডার: মিত্রবাহিনী কমান্ডার ”এম,এল চক্রবর্তী”
সংগঠক: আলহাজ কছিম উদ্দিন ( সাবেক এমপি বগুড়া-৩).
ন্যানোনিউজ: আপনি কিভাবে জানলেন যে মুক্তিযুদ্ধে যাবার সময় এসেগেছে ?
মুক্তিযোদ্ধা : যখন এলাকাতে হানাদার বাহিনীর আনাগোনা শুরুহল ঠিক তখনই
বুঝলাম যে আমাদের এই বয়সই হল দেশকে শত্র“ মুক্ত করা । আর
বিশেষ করে মার্চেই আমরা বুঝতে পারলাম শেখ সাহেব যখন
বলেছেন তখন আর রক্ষানেই, কিছু একটা হবেই !
ন্যানোনিউজ: আপনার তখন বয়স কতছিল ?
মুক্তিযোদ্ধা : আমার বয়স তখন ১৮ বছর , মাট্রিক পরিক্ষারর্থী ছিলাম ।
বিহিগ্রাম হাইস্কুলে পরতাম ।
ন্যানোনিউজ: আপনি যখন যুদ্ধে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন সেটা কোন সময়
ছিল ??
মুক্তিযোদ্ধা : সেটা এপ্রিলের ২৬ কি ২৭ তারিখ হবে । আমার বন্ধুর পরামর্শে
আমি স্থির করি যে আমাকে যুদ্ধে যেতেই হবে ।
ন্যনোনিউজ: তিনি কে ছিলেন ?
মুক্তিযোদ্ধা : তিনি আমার ক্লাসমেট ইব্রাহীম (মুক্তিযোদ্ধা) এবং নজরূল নামেরও
এক মুক্তিযোদ্ধা আমাকে পরামর্শ দেন যে এটা হল উপযুক্ত বয়স দেশ
বাঁচাবার । তাই তাদেরই পরামর্শে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিলাম ।
ন্যানোনিউজ : বঙ্গবন্ধুর ডাক কখন পেলেন ? আপনারা কি তখন আওয়ামী লীগ
করতেন ?
মুক্তিযোদ্ধা: বঙ্গবন্ধু তো ৭ই মার্চ ভাষণে সবই বলেছেন , যদিও আমি ৭ই মার্চের
ভাষণ ৭ই মার্চ শুণতে পারিনি কিন্তু ৮ই মার্চ সকাল থেকেই রেডিওতে
বেশ কয়েকবার বাজানো হয় । আমি তখন শুনেছি ।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়াদিতে শুধু আওয়ামী লীগ হতে হবে কেন ? উনিতো
বাংলার নেতাছিলেন । যা বলতেন বাঙ্গালী সেটাকেই বেদ ব্যাক্য মনে
করতো । এখনকার নেতাদের মতো উনি আস্থাহীন ছিলেন না ।
ন্যানোনিউজ: মুক্তিযুদ্ধ কি রাজনৈতিক ছিল ?
মুক্তিযোদ্ধা : আমাদের বয়স তখন সবে ১৮ , আমরা রাজনীতি এতটা বুঝতাম না
, শুধু আমরা কিছু নেতাদের জানতাম যারা নেতৃত্ব দিত । খবরে
পেপারে , রেডিওতে তাদের নাম জানতাম । তখন টিভি ত এত ছিল
না , গ্রমে থাকি এখানে টিভি নেই বল্লেই চলে । কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ও
আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম শুনতেই মানুষ পাগল হয়ে যেত ।
শেখ সাহেব নামেই পরিচয় ছিল তার । সবাই বলতেন শেখ সাহেব
কি বলেছেন , বা কি করেছেন । ৭০এর নির্বাচনে আমার মা বাবারা
তথা আমরা বাঙালীরা ভোট দিলাম তারাতো মানল না ! তারপরই
বুঝতে আর বাঁকিনেই যে একটা কিছু ঘটবেই । যাহোক , মুক্তিযুদ্ধ
অবশ্যই রাজনৈতিক ছিল তবে যারা অরাজনৈতিক যেমন আমি
তারাও রাজনৈতিক নেতাদের ডাকে সাড়া দিল ।
ন্যানোনিউজ : মুক্তিযুদ্ধেও ট্রেইনিং কোথায় করেছেন ?
মুক্তিযোদ্ধা : প্রথমে বালুঘাট এখানে ১৮ দিন ছিলাম , তারপর পতিরাম ৭দিন,
শিলিগুরীও ট্রেইনিং নিলাম , সেখানে সম্মুখ যুদ্ধের ট্রেইনিং দিল ।
ওখানে একমাস ।
ন্যানোনিউজ: মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের সাথে সাক্ষাৎ কখন হয় ?
মুক্তিযোদ্ধা : আলহাজ কছিম উদ্দিন ও আব্দুল জলিলের (সাবেক মন্ত্রী) তাদের
শুফারিশ ছাড়া কেউ মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেনি এই এলাকাতে তথা
পঙ্চিশ বগুড়া ও সমগ্র নওগাঁ এবং জয়পুরহাটে । তাদের সাথে
সাক্ষাত হয় প্রথম ১৫ দিনের মাথাতেই ।
ন্যনোনিউজ : আপনি কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন ?
মুক্তিযোদ্ধা : আমি ৭নং এ যুদ্ধ করেছি । তখন এই এলাকা সমগ্র ৭ং এর
আওতায় ছিল ।
ন্যানোনিউজ : কোন কোন স্থানে সম্মূখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন ??
মুক্তিযোদ্ধা : প্রথমে হিলি পথে ঢুকলাম , সেখানে মরণপণ যুদ্ধ করতে হল !
বাঁচব নাকি মারা যাব এমন অবস্থা আমরা তো জীবনের আশা ছেড়েই
দিয়েছিলাম , সেখানে আশরাফ নামে একজন শহীদ হন , আমার
পাশেই ছিলেন উনি । পুরাদিন নাখেয়ে শুধু অস্ত্র সামনে রেখে যুদ্ধ
করেছি !! সেখানে বহু হতাহত হল ! তাদের সবার নাম আমি জানিও
না । সেই স্থানে দীর্ঘ অভিযান চালানোর পর বাঙ্কার দখল নেয়া হল ।
সেই বাঙ্কারটা ছিল বিশাল ! তারা এটা সেই সময়ের বর্ডার সিকিরিউটির
বাঙ্কার ব্যবহার করেছিল । সেই বাঙ্কারের ভেতরে পাথরের ঢালাই দেয়া
ছিল । এর বিশালতা অনেক । অনেকেই ভেতরে প্রবেশ করলেন কিন্তু
আমি ভেতরে যায়নি । সেই বাঙ্কার থেকে ২৬১ জন যুবতী মেয়েকে
উদ্ধার করা হয়েছিল , যারাছিল খুবই জখম । শরীরের বিভিন্ন স্থানে
কামোড়ের দাগ !! পাকি সেনারা তো মানুষ না ! হলে এমন করতে
পারতো না !
ন্যানোনিউজ: তারপর কোথায় যুদ্ধ করলেন ??
মুক্তিযোদ্ধা : ফার্সিপাড়া গবিন্দগঞ্চ মিত্রবাহীনির আন্ডারে যুদ্ধ করলাম , তারপর
মহাস্থান কাঁটাখালি হয়ে বগুড়া । এই যুদ্ধে অনেক ইন্ডিয়ান আর্মিও
মারাযায় ।
ন্যানোনিউজ: আপনারা যেসব পাকসেনাদের মারতেন তাদের কি দেখতে পেতেন
পরেআছে এমন ?
মুক্তিযোদ্ধা : তেমন একটা লাশ পেতাম না কারণ পাকসেনারা তাদের কাঁধে করে
নিয়ে যেত ।
ন্যানোনিউজ: আপনার অভিজ্ঞতা ?
মুক্তিযোদ্ধা : পূরো মুক্তিযুদ্ধতাই আমাদের অভিজ্ঞতা । আমাদের খুব সতর্ক হয়ে
যুদ্ধ করতে হতো , কারণ সামনে পাক আর্মি পেছনে মিত্র বাহীনি ।
ন্যানোনিউজ: আপনারা কিভাবে বুঝলেন পাকিস্তানি সৈন্যের সাথে আপনারা যদ্ধ
করে জিততে পারবেন ? কেননা তারা ত ট্রেইনিং প্রাপ্ত ছিল ।
মুক্তিযোদ্ধা : ঐ বয়সে এতোকিছু ভয় ছিলনা , হয় মরব না হয় মারবো এমন চিন্তা
মনে কাজ করতো । আর ভারতীয় সৈন্যরা আমাদের ট্রেইনিং দিতে
খুবই সাহস দিত । বলতো , আমরা যা শিক্ষা দিলাম তার সঠিক
প্রয়োগ করলে কেউ মরবেনা !! তারা যখন আমাদের অস্ত্রদিয়ে বিদাই
দিল , মনেহয় যেন আপন ভাই তারা ! মেজর , কর্ণেল আর বড় বড়
অফিসারেরা এসে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বুক ভাঁসাতো । আর বলতো
যাও তিনি সহায় ।
ন্যানোনিউজ : পাকিস্তানি সেনা আর আপনাদের যুদ্ধের কৌশলে কি পার্থক্য ছিল?
মুক্তিযোদ্ধা : তারা খানসেনা , তাদের রণকৌশল অনেক , তাদের দেখাযেতো
তারা দুই হাতেই অস্ত্রধরে ফায়ারিং করতো , আর আমরা একহাতে ।
আমাদের অস্ত্রছিল রাশিয়ান , আর ওদের চায়না অস্ত্র । তবে ভারতীয়
সেনারাও দূর্দান্ত । তাইতো জয় সহজ হয়েছে ।
ন্যানোনিউজ: সেই সময় দেশবিরোধী হিসেবে যাদের নাম আসতো বা পাকিস্তান
রক্ষার জন্য যারা তৎপর ছিল সেইসব শীর্ষস্থানীয় রাজাকারের নাম
কি জানতেন ?
মুক্তিযোদ্ধা : অবশ্যই ৃ. . . সেই সময় জামাত মুসলীম লীগ নেজামে ইসলাম
নেতারা তাদের প্রত্রিকাতে ফলাও কওে বাংলাদেশ বিরোধী নিউজ
ছাপাতো , তাদের মধ্যে গোলাম আজমের নাম দিন জননোত গোলাম
আজম জিন্দাবাদ !! এরা সবাই রাজাকার যারা আজ তালিকায় নাম
যাদের এসেছে ! নিজামী তো আলবদর নেতা ছিলেন ।
ন্যনোনিউজ: আপনি কি যুদ্ধাপরাধিদের বিচার চান ?
মুক্তিযোদ্ধা : ১০০ বার চাই … বিচার হতেই হবে !
ন্যনোনিউজ: এই ট্রাইবুনালের প্রতি আস্থা কতটুকু ?
মুক্তিযোদ্ধা : ১০০ ভাগ আস্থা আছে ।
ন্যানোনিউজ: আপনাকে ধন্যবাদ . . .
মুক্তিযোদ্ধা : আপনাকেও ধন্যবাদ ।
©somewhere in net ltd.