নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্যমে-ব-জয়তে

মেহেদী হাসান+

সত্যের জয় হোক ।

মেহেদী হাসান+ › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার:

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ১:২৪

একজন মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার:

সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন নানোনিউজ রিপোর্টার মেহেদী হাসান ।

মুক্তিযোদ্ধার নাম : মো: সাইদূর রহমান ।

সেক্টর নং : ৭

এফএফ নং : ৯০৯১

লিডার: মিত্রবাহিনী কমান্ডার ”এম,এল চক্রবর্তী”

সংগঠক: আলহাজ কছিম উদ্দিন ( সাবেক এমপি বগুড়া-৩).

ন্যানোনিউজ: আপনি কিভাবে জানলেন যে মুক্তিযুদ্ধে যাবার সময় এসেগেছে ?

মুক্তিযোদ্ধা : যখন এলাকাতে হানাদার বাহিনীর আনাগোনা শুরুহল ঠিক তখনই

বুঝলাম যে আমাদের এই বয়সই হল দেশকে শত্র“ মুক্ত করা । আর

বিশেষ করে মার্চেই আমরা বুঝতে পারলাম শেখ সাহেব যখন

বলেছেন তখন আর রক্ষানেই, কিছু একটা হবেই !

ন্যানোনিউজ: আপনার তখন বয়স কতছিল ?

মুক্তিযোদ্ধা : আমার বয়স তখন ১৮ বছর , মাট্রিক পরিক্ষারর্থী ছিলাম ।

বিহিগ্রাম হাইস্কুলে পরতাম ।

ন্যানোনিউজ: আপনি যখন যুদ্ধে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন সেটা কোন সময়

ছিল ??

মুক্তিযোদ্ধা : সেটা এপ্রিলের ২৬ কি ২৭ তারিখ হবে । আমার বন্ধুর পরামর্শে

আমি স্থির করি যে আমাকে যুদ্ধে যেতেই হবে ।

ন্যনোনিউজ: তিনি কে ছিলেন ?

মুক্তিযোদ্ধা : তিনি আমার ক্লাসমেট ইব্রাহীম (মুক্তিযোদ্ধা) এবং নজরূল নামেরও

এক মুক্তিযোদ্ধা আমাকে পরামর্শ দেন যে এটা হল উপযুক্ত বয়স দেশ

বাঁচাবার । তাই তাদেরই পরামর্শে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিলাম ।

ন্যানোনিউজ : বঙ্গবন্ধুর ডাক কখন পেলেন ? আপনারা কি তখন আওয়ামী লীগ

করতেন ?

মুক্তিযোদ্ধা: বঙ্গবন্ধু তো ৭ই মার্চ ভাষণে সবই বলেছেন , যদিও আমি ৭ই মার্চের

ভাষণ ৭ই মার্চ শুণতে পারিনি কিন্তু ৮ই মার্চ সকাল থেকেই রেডিওতে

বেশ কয়েকবার বাজানো হয় । আমি তখন শুনেছি ।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়াদিতে শুধু আওয়ামী লীগ হতে হবে কেন ? উনিতো

বাংলার নেতাছিলেন । যা বলতেন বাঙ্গালী সেটাকেই বেদ ব্যাক্য মনে

করতো । এখনকার নেতাদের মতো উনি আস্থাহীন ছিলেন না ।

ন্যানোনিউজ: মুক্তিযুদ্ধ কি রাজনৈতিক ছিল ?

মুক্তিযোদ্ধা : আমাদের বয়স তখন সবে ১৮ , আমরা রাজনীতি এতটা বুঝতাম না

, শুধু আমরা কিছু নেতাদের জানতাম যারা নেতৃত্ব দিত । খবরে

পেপারে , রেডিওতে তাদের নাম জানতাম । তখন টিভি ত এত ছিল

না , গ্রমে থাকি এখানে টিভি নেই বল্লেই চলে । কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে ও

আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম শুনতেই মানুষ পাগল হয়ে যেত ।

শেখ সাহেব নামেই পরিচয় ছিল তার । সবাই বলতেন শেখ সাহেব

কি বলেছেন , বা কি করেছেন । ৭০এর নির্বাচনে আমার মা বাবারা

তথা আমরা বাঙালীরা ভোট দিলাম তারাতো মানল না ! তারপরই

বুঝতে আর বাঁকিনেই যে একটা কিছু ঘটবেই । যাহোক , মুক্তিযুদ্ধ

অবশ্যই রাজনৈতিক ছিল তবে যারা অরাজনৈতিক যেমন আমি

তারাও রাজনৈতিক নেতাদের ডাকে সাড়া দিল ।

ন্যানোনিউজ : মুক্তিযুদ্ধেও ট্রেইনিং কোথায় করেছেন ?

মুক্তিযোদ্ধা : প্রথমে বালুঘাট এখানে ১৮ দিন ছিলাম , তারপর পতিরাম ৭দিন,

শিলিগুরীও ট্রেইনিং নিলাম , সেখানে সম্মুখ যুদ্ধের ট্রেইনিং দিল ।

ওখানে একমাস ।

ন্যানোনিউজ: মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের সাথে সাক্ষাৎ কখন হয় ?

মুক্তিযোদ্ধা : আলহাজ কছিম উদ্দিন ও আব্দুল জলিলের (সাবেক মন্ত্রী) তাদের

শুফারিশ ছাড়া কেউ মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেনি এই এলাকাতে তথা

পঙ্চিশ বগুড়া ও সমগ্র নওগাঁ এবং জয়পুরহাটে । তাদের সাথে

সাক্ষাত হয় প্রথম ১৫ দিনের মাথাতেই ।

ন্যনোনিউজ : আপনি কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন ?

মুক্তিযোদ্ধা : আমি ৭নং এ যুদ্ধ করেছি । তখন এই এলাকা সমগ্র ৭ং এর

আওতায় ছিল ।

ন্যানোনিউজ : কোন কোন স্থানে সম্মূখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন ??

মুক্তিযোদ্ধা : প্রথমে হিলি পথে ঢুকলাম , সেখানে মরণপণ যুদ্ধ করতে হল !

বাঁচব নাকি মারা যাব এমন অবস্থা আমরা তো জীবনের আশা ছেড়েই

দিয়েছিলাম , সেখানে আশরাফ নামে একজন শহীদ হন , আমার

পাশেই ছিলেন উনি । পুরাদিন নাখেয়ে শুধু অস্ত্র সামনে রেখে যুদ্ধ

করেছি !! সেখানে বহু হতাহত হল ! তাদের সবার নাম আমি জানিও

না । সেই স্থানে দীর্ঘ অভিযান চালানোর পর বাঙ্কার দখল নেয়া হল ।

সেই বাঙ্কারটা ছিল বিশাল ! তারা এটা সেই সময়ের বর্ডার সিকিরিউটির

বাঙ্কার ব্যবহার করেছিল । সেই বাঙ্কারের ভেতরে পাথরের ঢালাই দেয়া

ছিল । এর বিশালতা অনেক । অনেকেই ভেতরে প্রবেশ করলেন কিন্তু

আমি ভেতরে যায়নি । সেই বাঙ্কার থেকে ২৬১ জন যুবতী মেয়েকে

উদ্ধার করা হয়েছিল , যারাছিল খুবই জখম । শরীরের বিভিন্ন স্থানে

কামোড়ের দাগ !! পাকি সেনারা তো মানুষ না ! হলে এমন করতে

পারতো না !

ন্যানোনিউজ: তারপর কোথায় যুদ্ধ করলেন ??

মুক্তিযোদ্ধা : ফার্সিপাড়া গবিন্দগঞ্চ মিত্রবাহীনির আন্ডারে যুদ্ধ করলাম , তারপর

মহাস্থান কাঁটাখালি হয়ে বগুড়া । এই যুদ্ধে অনেক ইন্ডিয়ান আর্মিও

মারাযায় ।

ন্যানোনিউজ: আপনারা যেসব পাকসেনাদের মারতেন তাদের কি দেখতে পেতেন

পরেআছে এমন ?

মুক্তিযোদ্ধা : তেমন একটা লাশ পেতাম না কারণ পাকসেনারা তাদের কাঁধে করে

নিয়ে যেত ।

ন্যানোনিউজ: আপনার অভিজ্ঞতা ?

মুক্তিযোদ্ধা : পূরো মুক্তিযুদ্ধতাই আমাদের অভিজ্ঞতা । আমাদের খুব সতর্ক হয়ে

যুদ্ধ করতে হতো , কারণ সামনে পাক আর্মি পেছনে মিত্র বাহীনি ।

ন্যানোনিউজ: আপনারা কিভাবে বুঝলেন পাকিস্তানি সৈন্যের সাথে আপনারা যদ্ধ

করে জিততে পারবেন ? কেননা তারা ত ট্রেইনিং প্রাপ্ত ছিল ।

মুক্তিযোদ্ধা : ঐ বয়সে এতোকিছু ভয় ছিলনা , হয় মরব না হয় মারবো এমন চিন্তা

মনে কাজ করতো । আর ভারতীয় সৈন্যরা আমাদের ট্রেইনিং দিতে

খুবই সাহস দিত । বলতো , আমরা যা শিক্ষা দিলাম তার সঠিক

প্রয়োগ করলে কেউ মরবেনা !! তারা যখন আমাদের অস্ত্রদিয়ে বিদাই

দিল , মনেহয় যেন আপন ভাই তারা ! মেজর , কর্ণেল আর বড় বড়

অফিসারেরা এসে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বুক ভাঁসাতো । আর বলতো

যাও তিনি সহায় ।

ন্যানোনিউজ : পাকিস্তানি সেনা আর আপনাদের যুদ্ধের কৌশলে কি পার্থক্য ছিল?

মুক্তিযোদ্ধা : তারা খানসেনা , তাদের রণকৌশল অনেক , তাদের দেখাযেতো

তারা দুই হাতেই অস্ত্রধরে ফায়ারিং করতো , আর আমরা একহাতে ।

আমাদের অস্ত্রছিল রাশিয়ান , আর ওদের চায়না অস্ত্র । তবে ভারতীয়

সেনারাও দূর্দান্ত । তাইতো জয় সহজ হয়েছে ।

ন্যানোনিউজ: সেই সময় দেশবিরোধী হিসেবে যাদের নাম আসতো বা পাকিস্তান

রক্ষার জন্য যারা তৎপর ছিল সেইসব শীর্ষস্থানীয় রাজাকারের নাম

কি জানতেন ?

মুক্তিযোদ্ধা : অবশ্যই ৃ. . . সেই সময় জামাত মুসলীম লীগ নেজামে ইসলাম

নেতারা তাদের প্রত্রিকাতে ফলাও কওে বাংলাদেশ বিরোধী নিউজ

ছাপাতো , তাদের মধ্যে গোলাম আজমের নাম দিন জননোত গোলাম

আজম জিন্দাবাদ !! এরা সবাই রাজাকার যারা আজ তালিকায় নাম

যাদের এসেছে ! নিজামী তো আলবদর নেতা ছিলেন ।

ন্যনোনিউজ: আপনি কি যুদ্ধাপরাধিদের বিচার চান ?

মুক্তিযোদ্ধা : ১০০ বার চাই … বিচার হতেই হবে !

ন্যনোনিউজ: এই ট্রাইবুনালের প্রতি আস্থা কতটুকু ?

মুক্তিযোদ্ধা : ১০০ ভাগ আস্থা আছে ।

ন্যানোনিউজ: আপনাকে ধন্যবাদ . . .

মুক্তিযোদ্ধা : আপনাকেও ধন্যবাদ ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.