| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ছোট্ট দুই চোখে ভয় আর কৌতহল মেশানো দৃস্টি। একটু জরসড় হয়ে বসে আছে মেঝেতে বিছানো পাটিতে। “দেখি তোমার হাতটা দাও তো”, আদর করে বলার পর সেই চোখে যেন একটু সন্দেহও জাগে!
পিচ্চিটা হাত বাড়িয়ে দেয় কারন তাদের স্কুলের আপাও যে পাশে বসে আছে।
একজন যত্ন করে তার হাতের নখগুলো কেটে দেয়। বলে দেয় বাড়ি গিয়ে মা বা অন্য কাউকে বলতে, প্রতি সপ্তাহে যেন এভাবে নখ কেটে দেয়। তারপর বলে অইদিকে যাও, হাত ধুয়ে আস…
কোনার দিকে বড় একটা জটলা ও বেশ হৈ চৈ করা এক দঙ্গল বাচ্চা লাইন ধরে দারিয়ে আছে হাত ধোয়ার জন্য! দুইটা ভাইয়া সাবান মেখে হাত ধোয়ার নিয়ম দেখিয়ে দিচ্ছে সবাইকে। কিভাবে হাতের আঙ্গুলের ফাক গুলো পরিস্কার করতে হবে। কিভাবে হাতের দুই পিঠেই ডলে ডলে সাবান লাগিয়ে ধুতে হবে… বাচ্চাদের মহা উতসাহ! দাত বের করে মনের সুখে সাবান লাগাচ্ছে আর পানি ছিটাচ্ছে। এদের সাম্লে রাখাই মুশকিল! ধমক দিলেও হাসে… এর মধ্য আবার কমপ্লেইন তদারককারী আপার কাছে, ও আমারে ধাক্কা দিছে। আফা! আমি আগে আসছিলাম, এই পোলা পরে আইসা সামনে দারাইছে!... হুটোপুটি চলতে থাকে…এর মধ্য যাদের হাত ধোয়া শেষ তারা চলে যাচ্ছে স্কুল ঘরের রুমে।
সেখানে হাতে মেহেদি দেয়া হছে… বাচ্চারা গোল হয়ে ঘিরে ধরেছে আপুদেরকে যারা মেহেদি লাগাচ্ছে… কেউ কেউ ঘুরে ঘুরে দেখছে কোন আপুটা সবচে সুন্দর ডিজাইন করছে। তার পাশে জটালাও সবচে বড়!... বাচ্চারাও সৌন্দর্যের মূল্য বোঝে!
কারও আবার আবদার হাতের উপরে নাম লিখে দিতে হবে। কিন্তু কোন কোন হাত এত্ত ছোট যে একটা ফুল আকারই জায়গা নাই! নাম কই লিখবে? এর মদ্ধ্যে আবার কেউ ঝগড়া শুরু করে, কে তার হাতের ডিজাইন মুছে ফেলেছে!... উফ কি হৈ চৈ… টিনের চালের ছোট্ট স্কুল ঘরের মাটির মেঝেতে বসে আপুরা ভাইয়ারা গরমে ঘেমে নেয়ে বাচ্চাদের হাতে মেহেদি লাগায়… হাসি মুখে পরের বাচ্চাকে কাছে বসায়। টুকটাক গল্প করে, কি নাম, কোন ক্লাসে পড়?
এইসব শেষ করতে করতে সকাল থেকে দুপুর গড়ায়। সব বাচ্চাদের মেহেদি দেয়া শেষ করে ক্লান্ত আপু আর ভাইয়ারা বের হয়ে আসে বস্তির ছোট্ট স্কুল ঘর থেকে।
এর পরের কাজটা বেশ চ্যলেঞ্জিং। বিভিন্ন অর্থে। সামনে ঈদ, সব শপিং মলের ভেতরে বাহিরে ভীড়। ইচ্ছে করেই আমরা গেলাম মিরপুরের দিকে। ওইসব শপিংমলগুল তুলনামূলকভাবে সাধারন মানুষের নাগালের মধ্য পরে। আমাদের ইচ্চা কিছু বাচ্চাকে তাদের পছন্দমত জামা কিনে দেব। ঈদের জামা। আমার ঠিক ধারনা ছিলনা কি রকম হবে ব্যপারটা। ভেবেছিলাম বাচ্চারা হয়ত আনন্দে রাজি হয়ে যাবে… কিন্ত হল উলটো! প্রথমে এক টোকাই ছেলেকে বললাম। ছেলেটা রীতিমত ছুটে পালিয়ে গেল! যেন আমরা ছেলে ধরা! স্বাভাবিক! ওরা যে জীবনযাপন করে তা আমাদের জায়গা থেকে দেখলে বোঝা সম্ভব না… এরপরে দেখলাম ২ টা মেয়ে ১০-১৩ বছর বয়স হবে। এদেরকে বললাম, তোমাদের জামা কিনে দেব… কথাই বল্ল না… তারপরেও পিছে লেগে থাকলাম… কিছুক্ষন পরে জানতে চাইল, কেন দিব… অনেক কস্টে বোঝাতে চেস্টা করলাম। কি বুঝল জানিনা… রাজি হল… এরপরে অই দিন আরো ২০-২৫ জনের জামা কাপড় কিনে দেয়া হয়েছে। বিচিত্র অভিজ্ঞতা… বাচ্চারা কেউ খুব খুশি হওয়ার অভিব্যক্তি দেখায়নি… যারা খুব ছোট, ৩-৫ বছর বয়স তারা দুয়েকজন অনেক খুশি ছিল… যা ইচ্ছা কিনতে বলার পরে আনন্দে অস্থির হয়ে জামা বাছতে শুরু করেছে। বেশ রাতে আমাদের সাথে থাকা সব টাকা পয়সা শেষ করে বাড়ি ফিরলাম… মনে হচ্ছিল আরো কিছু টাকা থাকলে আরো কয়েকজনকে খুশি করতে পারতাম…
এইসব করে কার কি উপকার হবে বা কিসের উন্নতি হবে সেইসব চিন্তায় আমি যাই না… আমার জন্য এই আনন্দ শেয়ার করার আনন্দটুকুই যথেস্ট…
সামনে পূজো, এই উপলক্ষে আমরা যাচ্ছি তেলেগু স্কুল এ… তেলেগু কমিউনিটি হচ্চে সুইপারদের একটা অংশ। যতদূর শুনেছি এদের সাথে কেউ মেশেনা… এদের গল্পও বেশ করুন… সে ব্যপারে পরে কখনো লিখব।
আপনারা কেউ যদি আসতে চান আমাদের সাথে,তাহলে স্বাগতম!:
বিস্তারিত জানতে চাইলে এই লিঙ্ক এ চলে যানঃ
Click This Link
২|
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:০৩
অণুজীব বলেছেন:
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:১৮
অনিন্দিতা_একা বলেছেন: অনুজীবের হাসিও সুন্দর !
![]()
৩|
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:২৩
সাকিন উল আলম ইভান বলেছেন: Sadhubad janai tmr ei uddog k apu....valo laglo onek
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:১৯
অনিন্দিতা_একা বলেছেন: ধন্যবাদ সাকিন! কেমন আছিস? (ঠিক হইছে না এইবার??)
![]()
৪|
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৩৩
শিপু ভাই বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপু।
শুভকামনা রইল।
বলে অনেকে- করে অল্প কেউ।
সাথে থাকতে পারলে খুশি হব।
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:২১
অনিন্দিতা_একা বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ শিপু ভাই !... অই অল্প কেউর দলে আপনিও আছেন
আশা করি এইরকম কোন উদ্যোগে একসাথে কাজ করব...
৫|
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৩৪
জলমেঘ বলেছেন: ভালো লাগলো; বাচ্চাদের হাসিখুসি মুখ দেখতে সবসময়ি ভালো লাগে।
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:২২
অনিন্দিতা_একা বলেছেন: হা! ... শিশুর হাসি, সে পৃথিবীর যে প্রান্তেরই হোক, সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যের জন্ম দেয়...
৬|
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৫১
জসিম বলেছেন:
শিশুর একটু খানি হাসি কতো যে দামী
তা বলে বুঝানো যাবে না.
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:২৩
অনিন্দিতা_একা বলেছেন: কাল আসছেন তো?
৭|
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:০০
নিপাট গর্দভ বলেছেন: কিছু করা কিছু না করার থেকে অনেক ভালো।
শুভেচ্ছা।
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:২৪
অনিন্দিতা_একা বলেছেন: ধন্যবাদ ... আমরা যে যার জায়গা থেকে নিজের মত কাজ করলেই ভাল কিছু হওয়া সম্ভব...
![]()
৮|
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:২৩
সাকিন উল আলম ইভান বলেছেন: হা আপু ভালো আছি .........![]()
![]()
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৩১
অনিন্দিতা_একা বলেছেন:
![]()
৯|
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:২৮
নিক টা আমার বলেছেন: ভাল লাগল অনেক .........
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৩১
অনিন্দিতা_একা বলেছেন:
১০|
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৫৯
বড় বিলাই বলেছেন: খুব ভালো লাগল। একটা শান্তি অনুভব করলাম বুকের ভিতর।
০৩ রা অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১০:৫৬
অনিন্দিতা_একা বলেছেন:
১১|
০১ লা অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:০২
ম্হুয়া বলেছেন: ++++++
০৩ রা অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১০:৫৬
অনিন্দিতা_একা বলেছেন:
গুগল প্লাস মনে হয় সামুর থেকে + এর আইডিয়া চুরি করছে !
![]()
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:০০
অনিন্দিতা_একা বলেছেন: Click This Link