নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এলাম,দেখলাম,ঘুমালাম।

আমি মুখতার

ব্লগ এ কিছু শেখার জন্যই আমার আসা।

আমি মুখতার › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইয়ারমুকের যুদ্ধ : ২য় পর্ব

২৬ শে নভেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫৩



মুসলিমদের সামরিক অবস্থাঃ



মুসলমানরা তাদের সংখ্যা খূব দ্রুত বৃদ্ধি করছিল। তাদের ম্যানপাওয়ার ভালই বাড়ছিল। তবে তারা অস্রের দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল। আবু বকর(রাঃ) মুসলিম বাহিনীকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে রেখেছিলেন। খালিদ বিন ওয়ালিদ(রাঃ) ও আবু উবায়দা(রাঃ) ছিলেন ইরাকে, পারস্যের সাথে যুদ্ধরত। আমর ইবনে আল আস (রাঃ) ছিলেন ফিলিস্তিনে, আবু সুফিয়ানের ছেলে ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ান ছিলেন সিরিয়ায়, সুহ্রাবিল ইবনে হিশাম (রাঃ) ছিলেন জর্ডানে। খালিদ বিন ওয়ালিদ(রাঃ) যখন পারস্যের সাথে যুদ্ধরত ছিলেন ওটাই ছিল মুসলিমদের প্রথম বৃহৎ যুদ্ধ। তাই বেশিরভাগের অনেক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থাকলেও তা বড় মাপের যুদ্ধ ছিল না, এগুলোকে অনেকটা রেইড বলা যায়। তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি ছিল লাইট কাভালারি। এরা খুবই দ্রুত মুভ করতে পারত। এছাড়াও আরবীয় তীরন্দাজরা ছিল যারা খুব নিশানাবাজ ছিল। সাথে ছিল বর্শাধারী সৈনিক। উইকিতে দেখলাম, পদাতিক বাহিনী রোমানদের মত ছোট তরবারি ব্যবহার করত, অপরদিকে অশ্বারোহী ও উস্ট্রারোহীরা পার্সিয়ানদের মত লং সৌর্ড ব্যবহার করত। মুসলিম সৈন্যরা খুবই কম বর্মের ব্যবহার করত।কমই হাল্কা লোহার ও বাকিরা শুধু উলের এক ধরনের বর্ম ব্যবহার করত, সাথে ছিল কাঠের তৈরি ঢাল । মুসলমানদের শক্তিমত্তার আরেকটি জায়গা ছিল দ্বন্দ্বযুদ্ধ। ডুয়েলে মুসলিম সেনাপতিদের হারানো প্রায় অসম্ভব ছিল। এমনকি ইয়ারমুকের যুদ্ধে অনেক খ্রিস্টান কমান্ডার ১ম দিনের দ্বন্দ্বযুদ্ধেই মারা যায়, যা তাদের সৈন্যদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে। তাদের উপস্থিত বুদ্ধি প্রখর ছিল। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল যে তারা মৃত্যু কে ভয় করত না। কারণ তাদের মনে ছিল যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করলে তারা শহিদের মৃত্যু মরতে পারবে।



বাইজান্টাইনদের সামরিক অবস্থাঃ



বাইজান্টাইনের সৈন্য সংখ্যা ছিল মুসলমানদের থেকে অনেক বেশি। তারা যুদ্ধের যে কলা – কৌশল ব্যবহার করত তা আরবীয়দের নিকট অজানা ছিল। তারা ছিল জাত সৈনিক। তাদের অনেকের পারস্যের সাথে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ছিল,কিন্তু তা কোন বড় ধরনের ছিল না, তারা সর্বশেষ বড় যুদ্ধ করেছিল ১০০ বছরেরও আগে । ( কিছু মানুষ যুক্তি দেখায় রোমান ও পার্সিয়ানরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ করায় উভয়ের শক্তি কমছিল,তারা যুদ্ধ করেছে ঠিকই কিন্তু কোন বড় যুদ্ধ না হলে সামান্য মুসলমান বাহিনীকে দুই পক্ষ হারাতে পারল না? )



বাইজান্টাইনের সামরিক বাহিনী ২টি ভাগে বিভক্ত ছিল। একটি হল পদাতিক দল যারা আবার ২টি ভাগে বিভক্ত ছিল। এক দল সম্মুখ যুদ্ধের জন্য, যারা বর্শা, কুঠার, তলোয়ার ব্যবহার করত। প্রতিরক্ষার জন্য লোহার গোল বা ডিম্বাকার ঢাল, উলের পোশাক ব্যবহার করত। অপর দলে ছিল মূলত বর্শা নিক্ষেপকারী ও তীরন্দাজ। তারা বর্ম বেশি ব্যবহার করত না।

এদের ঐতিহ্যবাহী অশ্বারোহী বাহিনী তরবারি, বর্শা ও তীর- ধনুক ব্যবহার করত। ( পুরাই অল-রাউন্ডার!!!) এরা পদাতিকদের প্রথম দলের মতই বর্ম ব্যবহার করত, তবে কিছু ক্ষেত্রে তা ছিল বেশি। যেমন-চেস্টপ্লেট, বড় ঢাল, বুকে লোহার বর্ম।



মুসলমানদের রাজনৈতিক অবস্থাঃ



মহানবী (সাঃ) এর মৃত্যুর কিছু বড় বড় গোত্র প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর(রাঃ) এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ভন্ডনবীর উৎপাত, যাকাত দিতে অস্বীকৃতি ইত্যাদি ছিল প্রধান। আবু বকর(রাঃ) শক্ত হাতে তা দমন করেন। রিদ্দার যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলমানরা তাদের কিছু শক্তিক্ষয় করলেও তাদের ভিতরের যে সকল লোক শুধু মুখে বা ক্ষমতা দখলের জন্য সুযোগ সন্ধান করছিল, তাদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে পরে ও তারা সমূলে উৎপাটিত হয়। এতে করে মুসলমানদেরই অনেক উপকার হয়। ইয়ারমুকের যুদ্ধের সময় সবাই খলিফার অনুগত ছিল। কেউ ক্ষমতালোভী ছিল না। এর প্রমান আমরা একটু পরেই পাব।





বাইজান্টাইনের রাজনৈতিক অবস্থাঃ



বাইজান্টাইনের সম্রাট হিরাক্লিয়াস কোনো বড় ধরনের যুদ্ধের জন্য তৈরি ছিলেন না। পারস্যের সাথে সন্ধিচুক্তি হবার পর সামরিকভাবে কোনো বিপদের আশঙ্কা ছিল না। তিনি জানতেন মুসলিমদের সাথে একদিন যুদ্ধ করতেই হবে, তবে তার ধারনা ছিল যে সংখ্যা বেশি হবে না। সে হিসেবেই তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি, এমনকি বাইজান্টাইনের কেউই ভাবে নি সমগ্র আরব এক হয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে। তবে বাইজান্টাইনের একটি বাহিনীই সমগ্র আরবীয় বাহিনীর সমান ছিল। কিন্তু পারস্য যখন লাগাতার ৪ টি বড় যুদ্ধে মুসলমানদের একটি উপ-বাহিনির নিকট হারল, তখন তিনি চিন্তায় পরে গেলেন।

আবার হিরাক্লিয়াসের বাহিনীর মধ্যেই বিভেদ বিদ্যমান ছিল। গ্রীক ও আর্মেনিয়ানদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ছিল। এদিকে আরবীয় খ্রিষ্টানরাও নানাভাবে অবহেলিত ছিল। ফলে তারাও বিরোধে যোগ দিল। সেনাবাহিনী প্রধান ভাহানের সাথে তিথুরাসের দ্বন্দ্ব ছিল। পরবর্তীতে জারাজিল ও কুয়ান্তির এসে যোগ দেয়। এভাবে সেনাবাহিনীর কমান্ডাররা নানা দলে ভাগ হয়ে গেল। এক দল আরেক দলকে বিশ্বাস করত না। ওদিকে আরবীয় খ্রিষ্টানদের নেতা জাবালাহকে নানাভাবে অবজ্ঞা করা হত, যা আরবীয় খ্রিষ্টানদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করে। ফলে জনগণ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়।





যুদ্ধের পুর্ব-প্রস্তুতিঃ



হযরত আবু বকর(রাঃ) এর শাসনামলে খালিদ-বিন-ওয়ালিদের নেতৃত্বে টানা ৪টি যুদ্ধে পারস্যের ৪টি বাহিনীকে ধ্বংস করে। এ সম্পর্কে কিছু বলে নেয়া ভালো।

পুর্বেই বলা হয়েছে যে হিরাক্লিয়াসের সাথে পার্সিয়ান সম্রাট খসরুর প্রথমদিককার যুদ্ধে খসরু অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেন। সিরিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল তার নিয়ন্ত্রনে আসে। কিন্তু সেনাবাহিনীর উপর অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার শূন্য হয়ে পড়ে। ফলে তিনি জনগণের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করেন। ফলে জনগণের মধ্যে অসন্তুষ্টি দেখা দেয়, আবার সেনাবাহিনীকে চালানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ সুযোগে হিরাক্লিয়াস পারস্য আক্রমণ করে তার হারানো জায়গা পুনরুদ্ধার করেন। ফলে পারস্যে খসরুর প্রতি অসন্তুষ্টি দেখা দেয় এবং তার আপন ছেলে তাকে হত্যা করে এবং হিরাক্লিয়াসের সাথে সন্ধিচুক্তি করে। এর কয়েক মাস পরেই তিনি মারা যান। ফলে পারস্য রাজাশুন্য হয়ে পড়ে। রাজপরিবারের একমাত্র জীবিত ছেলে সদস্য ইয়াজগার্দ অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় ও নানা কারনে তাকে ক্ষমতার মসনদে বসানো হয়নি। এ সময়ে রাজকার্য সম্ভবত একজন মহিলা পরিচালনা করছিলেন। এদিকে ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সেনাপতি রুস্তমের বিরোধ শুরু হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় ঝামেলা তখনই বাধে যখন মুসলিমরা দ্রুত পারস্যের অভ্যন্তরে চলে আসে। রুস্তম ক্ষমতা যাতে হাতছাড়া না হয় সে জন্য মুসলিম বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশ না নিয়ে শুধু নির্দেশ দিতে থাকেন। তার ধারনা ছিল, একটি পার্সিয়ান বাহিনীই মুসলিম বাহিনীর জন্য যথেষ্ট হবে। এভাবে একের পর এক বাহিনী পাঠানো হয় এবং তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়। ৪টি পার্সিয়ান বাহিনী মুসলিমদের হাতে শেষ হয় যার একেকটির সৈন্যসংখ্যা মুসলিম বাহিনীর ২ থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত ছিল। যুদ্ধে মুসলমানদের কাছে পারস্য ইরাক হাতছাড়া করে, যা হল পারস্যের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। পারস্যের অন্তঃকোন্দল দূর করার জন্য ইয়াজগার্দকে খুজে বের করে ক্ষমতার মসনদে বসান হয়।



এদিকে আবু বকর(রাঃ) ইরাক দখল করার পর বাইজান্টাইনের দিকে মনোযোগ দেন। অভিজ্ঞ ও সিনিয়র আবু উবাইদা(রাঃ) কে উপেক্ষা করে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) কে বাইজান্টাইন অভিযানের দায়িত্ব দেন। কারণ তিনি জানতেন আবু উবাইদা(রাঃ) এর কাছে পদমর্যাদা কিছুই না। খালিদ বিন ওয়ালিদ(রাঃ) ঐ সময় ইরাকে ছিলেন, পারস্যের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খলিফার আদেশ পেয়ে কিছু সৈন্যকে রেখে তার লাইট ক্যাভালারি নিয়ে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ইরাক থেকে সিরিয়ার চারটি পথ ছিল। তিনি সবচেয়ে ছোট কিন্তু ঝুকিপুর্ন পথ বেছে নেন, যে পথে কোন মানুষ চলাচল করে না। ঐ পথে কোন শত্রু সৈন্যের আনাগোনা না থাকলেও একটি বড় মরুভূমি পার হতে হয়, তাই পানি পাওয়া প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। ইরাক থেকে সিরিয়া যেতে প্রায় ৩০ দিনের মত সময় লাগত, যা অনেক বেশি। খালিদ তাই ঝুকি নিয়ে ঐ মরূভুমির পথ বেছে নেন। কথিত আছে, তিনি ১৮ দিনে সিরিয়ায় পৌঁছান। তিনি সেই মরুভুমি মাত্র ৫ দিনে পার করেন, যা সে সময় প্রায় অসম্ভব ছিল। ঐ ৫ দিনের মধ্যে ২ দিন সৈন্যরা কোন পানি পান করে নি। এই বিষয়ে একটি মজার কাহিনী রয়েছে। খালিদ বিন ওয়ালিদ(রাঃ) রওনা দেবার পুর্বে পথ ও পানি সমস্যা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন রাফি নামে এক মুসলিম গাইড পানি সমস্যা সমাধানে একটি বুদ্ধি দেন। তার বুদ্ধি অনুসারে কিছু মোটা উটকে কিছু দিন তৃষ্ণার্ত রাখা হয়। এরপর তাদের পানি পান করানো হয়। এতে করে তারা অধিক পরিমাণে পানি পান করে। পথিমধ্যে ঘোড়ার পিপাশা দূর করার জন্য ঐ উটগুলো জবাই করে ওদের পানির থলি থেকে পানি বের করে তার সাথে দুধ মিশিয়ে তা ঘোড়াকে পান করতে দেয়া হয়। আর উটের মাংস ভক্ষণ করা হয়। কোনো ক্ষতি ছাড়াই খালিদ বিন ওয়ালিদ(রাঃ) মুল সেনাদলে যোগ দেন।



এদিকে আবু বকর(রাঃ) মৃত্যুবরণ করলে হজরত উমর(রাঃ) দ্বিতীয় খলিফা নির্বাচিত হন। তিনি দায়িত্বভার গ্রহনের পরেই খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) কে সরিয়ে আবু উবায়দা(রাঃ) কে সর্বাধিনায়ক করেন। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই সেই সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেন। আবু উবাইদা(রাঃ) কে তিনি অত্যন্ত সম্মান করতেন, উবাইদা(রাঃ) ও তাকে খুব স্নেহ করতেন। ঐ সময়ে যদি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) বিদ্রোহ করতেন, তবে মুসলিম বাহিনী ২ ভাগ হয়ে যেত। কারণ সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) এর জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু জাতিকে কোন বিপদে না ফেলার জন্য তিনি সেই সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেন! তবে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও যুদ্ধ পরিচালনার ভার তিনি সম্পূর্ণরূপে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) এর উপর ছেড়ে দেন। ফলে ইয়ারমুকের যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে পরিচালনার ভার প্রধানত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) এর উপরই ছিল।



এদিকে হিরাক্লিয়াস ও ইয়াজগার্দ উভয়ের কাছে পরিষ্কার হল যে তাদের একমাত্র শত্রু এখন মুসলিমরা। তাই হিরাক্লিয়াস তার মেয়েকে ইয়াজগার্দের সাথে বিয়ে দিয়ে সন্ধি স্থাপন করেন( বাঘে – মহিষে এক ঘাটে জল খাওয়ার প্রমান পাইলেন??? )। তারা ঠিক করলেন একসাথে মুসলিম সেনাদলের বিরুদ্ধে লড়বেন। কিন্তু টানা ৪ টি বড় যুদ্ধে হেরে সেনাবাহিনীর অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিল। আবার ইরাক হাতছারা হবার ফলে পারস্যের কোষাগারে টান পড়ল। ফলে ইয়ারমুকে পারস্য সেনাদল আসার কথা থাকলেও সময়মত তৈরি হতে পারে নি। পরবর্তীতে পারস্যের সাথে মুসলিমদের একটি যুদ্ধ হয়, যাতে ক্ষয় -ক্ষতির পরিমান ছিল ইয়ারমুকের চেয়েও বেশি। ঐ যুদ্ধ নিয়ে ইনশাল্লাহ ১০-১১ মাস পর লিখব।





মুসলমানরা যখন শুনল পারস্য ও বাইজান্টাইনের যৌথ বাহিনী তৈরি হচ্ছে, তখনি উমর(রাঃ) কূটনীতিক পাঠিয়ে সময়ক্ষেপণ করা শুরূ করলেন। কারণ ইয়ারমুকের প্রান্তরে ততদিনে মুসলিম বাহিনী ও বাইজান্টানের বাহিনী মুখোমুখি অবস্থানে দাড়িয়ে ছিল। তখনি বাইজান্টাইন সেনাবাহিনী মুসলিমদের অপেক্ষা ২-৪ গুণ বেশি ছিল। পারস্য সেনাদল যুক্ত হলে তা সংখ্যায় এত বেশি হত যে মুসলিম বাহিনী এত লোকের সাথে পেরে উঠত না। কিন্তু পারস্য নিজেদের অভ্যন্তরীণ কারনেই তৈরি হতে পারে নি।



পুর্বেই বলেছি, মুসলিমদের ৪টি আলাদা বাহিনী ছিল যাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭-১০ হাজার ছিল। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) এর বুদ্ধিতে সব বাহিনীকে একত্র করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। ওইদিকে খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) এর কাছে ২০০০০ সৈন্য ছিল, যার অর্ধেক তিনি পারস্যে রেখে আসেন। ওইদিকে ফিলিস্তিনে বিদ্যমান আমর ইবনে আল আস (রাঃ) এর বাহিনী আসতে পারছিল না, কারণ হিরাক্লিয়াসের কাছে ৫ টি বাহিনী ছিল, যার একটি অবস্থান করছিল ফিলিস্তিনে। ঐ বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল আনুমানিক ৭০,০০০ এর মত। হিরাক্লিয়াস ঐ বাহিনীকে নির্দেশ দেন ফিলিস্তিনের মুসলিম বাহিনীকে মূল বাহিনীর সাথে একত্রিত হতে বাধা দিতে বা যুদ্ধ করে শেষ করে দিতে। বাকি ৪ টি বাহিনী সিরিয়ার দিকে যাত্রা শুরু করে, যার সৈন্যসংখ্যা ছিল ঐতিহাসিকদের মতে ১-৪ লাখ, অপরদিকে বর্তমানকালে ধারনা করা হয় ৫০,০০০ থেকে ১.৫ লাখ। এটি ছিল বাইজান্টাইনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সৈন্যসমাবেশ। এত সৈন্যের রসদ সরবরাহ করা হত দামেস্ক থেকে। এত সৈন্যের চাহিদা মিটিয়ে নিজের লোকদের খাদ্য সরবরাহ করা এক কথায় অসম্ভব ছিল। ফলে দামেস্কে প্রজা অসন্তোষ শুরু হয়।



ওইদিকে হিরাক্লিয়াস যখন সিরিয়ার দিকে যাত্রা শুরু করে, তখন কিছু বাইজান্টাইনের রাজবন্দিদের কাছ থেকে মুসলিমরা হিরাক্লিয়াসের পরিকল্পনা জানতে পারেন। খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) ও আবু উবাইদা(রাঃ) দ্রুত দামেস্কের দিকে যাত্রা করে ও হিরাক্লিয়াসের বাহিনী আসার পূর্বেই সেখানে পৌছে যায়। তারা যুদ্ধের জন্য ইয়ারমুকের প্রান্তর বেছে নেয়, কারণ সেখান থেকে উমর (রাঃ) অতিরিক্ত সৈন্য পাঠাতে পারবে। এছাড়াও সেখান থেকে পিছু হটতে সুবিধা হবে, উমর(রাঃ) এই নির্দেশ ও দিয়েছিলেন যদি পিছু হট তাহলে তোমাদের পূর্বে দখলকৃত জমি হতে অমুস্লিমদের কাছ থেকে যে জিজিয়া কর নিয়েছিলে তা ফেরত দিয়ে দিতে। ধীরে ধীরে আবু হিশাম (রাঃ) ও ইয়াজিদের বাহিনীও তাদের সাথে যোগ দেয়। অবশেষে ইয়ারমুক প্রান্তরে হিরাক্লিয়াসের বাহিনী আসে। কথিত আছে তারা প্রায় ১৮ মাইল এলাকা জুড়ে ক্যাম্প বসিয়েছিল।



ফিলিস্তিনে আমর ইবনে আল আস (রাঃ) এর বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য অধিকাংশ মুসলিম সেনা আবার ইয়ারমুক থেকে ফিলিস্তিনে রওনা দেয় ও সেখানের হিরাক্লিয়াসের বাহিনীকে শেষ করে দেয়। মুসলিমরা এমনভাবে ইয়ারমুক থেকে ফিলিস্তিনে গিয়েছিল যাতে করে বাইজান্টাইন বাহিনী বুঝতে না পারে। ফলে যুদ্ধের শুরুতেই বাইজন্টাইন বাহিনী মার খেয়ে যায়।



মন্তব্য ৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৮:০৮

আমি মুখতার বলেছেন: প্রথম পর্বের লিংক দিতে ভুলে গেসিলাম।

Click This Link

২| ২৬ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৩৭

প্র ভা ষ ক বলেছেন: সূত্রঃ উইকী - এটা লিখেননি কেন???...

২৬ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৮:৫০

আমি মুখতার বলেছেন: ভাইয়া, উইকি থেকে যা নিয়েছি তা পোস্টেই লেখা আছে। তবে একসাথে অনেক জায়গা থেকে নিতে হয়েছে তো, তাই কোথা থেকে কি নিয়েছি তাও মনে ছিল না। তবে আপনার প্রব্লেম হলে উইকির সাথে মিলাতে পারেন।

কষ্ট করে পরার জন্য ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.