| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শোভনলাল!
:::::::::::::
সত্যিই যখন অমিত রায়কে লেখা লাবণ্যের সেই শেষ চিঠিতে শোভনলালের সাথে লাবণ্যের বিয়ের সংবাদ এল তখন আমার কি যে খুশি লেগেছিল তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়; আবেগের আতিশয্যে চোখের কোন ঝাপসা হয়ে ওঠেছিল সেদিন! (হা হা হা) —এটা ছিল জীবনে প্রথমবার রবি ঠাকুরের "শেষের কবিতা" পড়ার অভিজ্ঞতা! [সম্ভবত ১৯৮৮ বা ১৯৮৯ সালের কথা, ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি কিন্তু ১ম বর্ষ পরীক্ষার তখনো খবর নেই, আড্ডা ছাড়া শ্রেণিকক্ষে যাবার তেমন তাগিদও নেই!] …হ্যাঁ, এর পরেও বেশ কয়েকবার অনবদ্য এই উপন্যাসখানি পড়েছি কিন্তু কখনোই অমিত রায়ের প্রতি তেমন সহানুভূতি অনুভব করিনি! [জানি না আমার এ অনুভূতি কতটা প্রত্যাশিত বা সঙ্গত? যারা সাহিত্য বুঝেন আমি তাদের দলে নই; তাই সংকোচে আমার এই অনুভূতির কথা কারো সাথেই শেয়ার করিনি এতদিন]!
•
উপন্যাসের ঘটনা পরম্পরায় যখনই শোভনলালের প্রসঙ্গটি প্রথম এসেছে প্রায় তখন থেকেই ওর প্রতি এক ধরণের তীব্র সহানুভূতিবোধ দ্বারা আচ্ছন্ন হয়েছি৷ অমিত রায়ের দুর্দন্ড প্রভাবশালী চরিত্রের উজ্জলতা ও ব্যাপ্তি সমগ্র কাহিনীতেই কিন্তু আমার মনের টান বরাবরই ছিল শোভনলালের প্রতি৷ কাহিনী যতই অগ্রসর হচ্ছিল ততই শোভনলালের প্রতি সহানুভূতি তীব্রভাবে বাড়ছিল; কখনো মনে হতো 'শোভনলালের প্রসঙ্গ আসছে না কেনো?'
•
আজ অনেকদিন পর (ঘটনাচক্রে) ছুটিরদিনের অবসরে "কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও…" লাইনগুলি শুনে প্রথমেই শোভনলালের কথা মনে এল! [যদিও অমিত রায়ের মুখ থেকে বের হওয়া "সম্ভবপরের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকাই সভ্যতা; বর্বরতা পৃথিবীতে সকল বিষয়ে অপ্রস্তুত" কথাটি আমার জীবনে সব চেয়ে ভাললাগা কথাগুলোর অন্যতম৷]… হ্যাঁ, শেষের কবিতার কথা মনে এলে আমার প্রথমেই মনে আসে শোভনলালের কথা!!
:::::::::::
©somewhere in net ltd.