নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভীষণ অন্তর্মুখী মানুষ। সনদ আছে শিক্ষা নেই। লিখতে গেলে বানানের ভয়ে বেশি দূর যেতে পারি না, তবুও মনের বুদবুদ উগড়ে দিতে না পারলে অস্বস্তিতে ভোগি। অস্বস্তি তাড়াতে ভুল বানানেও বিক্ষিপ্ত কিছু কথা বলে যাই! যে আমারে দেখিবারে পায় অসীম ক্ষমায় কেবল তাদের জন্যে।

মোঃ মহিবুল ইসলাম (ফারুক)

নিঃসঙ্গ স্বপ্নচারী

মোঃ মহিবুল ইসলাম (ফারুক) › বিস্তারিত পোস্টঃ

নামের সাথে হাজী বা আলহাজ্ব বিশেষন লাগানো একটি ভ্রান্তিমুলক প্রচলন!

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৪

নামের সাথে হাজী বা আলহাজ্ব বিশেষন লাগানো একটি ভ্রান্তিমুলক প্রচলন!
::::::::::

হা হা হা… নামাজ পড়লে নামাজী, হজ্জ করলে হাজী, কাজ করলে কাজী কিংবা খারাপ কিছু করলে পাজী বললে অত্যুক্তি হয় না তবে ইত্যাদি বিশেষন নামের সাথে লেপ্টে দেবার কোন ধর্মীয় তাৎপর্য নেই বরং ইহা এক প্রকার অন্যায্য বা ভুল প্রেক্টিস! পৃথিবীর আর কোন মুসলিম দেশের নাগরিকদের মাঝে 'হজ্জ করলে হাজী বা আলহাজ্জ' লাগানোর এমন প্রচলন আছে কিনা আমার জানা নাই তবে এদেশে তা খুব প্রবল। আজব প্রবণতা!

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এক সময় এ অঞ্চলে যখন হিন্দু জমিদারগণের ডমিনেন্সী ছিল তখন দলিল-দস্তাবেজে হিন্দু-মুলিম নির্বিশেষ নামের আগে "শ্রী" লাগিয়ে দেয়া হত এবং তখন মুসলিম নামকে আলাদা করে দেখানোর জন্য (তদানীন্তন সময়ের বিশেষ বাস্তবতায়) মুসলিম নামের আগে মোহাম্মদ লাগানোর প্রচলন ঘটেছিল। কিন্তু স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পৃথিবীর আর কোন মুসলিম দেশে এই প্রচলন নেই। আজকের বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অর্থহীন হলেও অধিকাংশ মানুষ ঐ প্রচলনের সংস্কৃতি ভাঙ্গতে পারেনি! এ আমাদের দীনতা; অজ্ঞতার দলিল!

এক সময় এ দেশ থেকে হজ্জ করা খুব কঠিন ছিল। গ্রামের পর গ্রাম খুঁজলে একজন হজ্জ করা লোখ পাওয়া যেত না। সেই সময়ে যিনি হজ্জ করেছেন তাকে শ্রদ্ধাবশত আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে আশেপাশের লোকজন হয়ত এমন সম্বোধন রীতি চালু করে। এখনতো তা অর্থহীন। কেননা এখন হজ্জ করা লোকের অভাব নেই। বর্তমানে হাজী বা আলহাজ্ব লাগানোটা এক ধরণের ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে। এবং সেটা অন্যরা করে না বরং হজ্ব করা ব্যাক্তি স্ব উদ্যোগেই তা করে থাকেন! এটি লোক দেখানোর মানসীকতা প্রসুত যা ইসলামে 'রিয়া' নামে অভিহিত এবং এই 'রিয়া' ইসলামী নৈতিকতায় একটি মারাত্মক পাপের কাজ যাহা শিরকের সাথে তুলনীয় যা ইসলমী নৈতিকতায় গর্হিত অপরাধও বটে! হজ্জ একটি ফরজ ইবাদাত; কোন ইবাদাত করে 'করেছি' বলে নিজে থেকে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া কতটা হাস্যকর তা ভেবে দেখুন! হজ্ব করতে প্রচুর অর্থ লাগে। এই গরীব দেশে হাজী লিখে প্রকারান্তরে নিজের আর্থিক সামর্থকেই ফলাও করা হয়! নামাজ পড়লেও "নামাজি"তো কেউ লিখেন না !

কয়েক বছর আগে আমি হজ্জ থেকে আসার পর কেউ কেউ হাজী ডাকতে শুরু করে, আমি পশ্রয় না দিয়ে তাদেরকে যুক্তি দিয়ে বুঝানোতে অনেকেই যেন আকাশ থেকে পরেন কিন্তু ঠিকই শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরে নিবৃত্ত হয়েছেন। হ্যাঁ, যিনি হজ্জ করেন তিনি যদি ফোটানীর নেশায় নিজেই নামের সাথে হাজী বা আলহাজ্ব লাগিয়ে দেন তবে তাকে বুঝাবে কে? কেউ সজ্ঞানে এমন করলে তারতো হজ্জের পূণ্যের চেয়ে পাপের বোঝাটাই ভারী হবার কথা।

মূল কথা হজ্ব নামক ইবাদাত পালনের পর নামের সাথে 'হাজী' বা 'আলহাজ্ব' শব্দ লাগিয়ে দেয়া একটি ভ্রান্তিমুলক প্রচলন; ইসলামে এর কোন অবকাশ নেই। এটি ধর্মের নামে অধর্ম; ভণ্ডামী!!
::::::::

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৫৯

ফারিহা হোসেন প্রভা বলেছেন: ভালো লিখেছেন। শুভ ব্লগিং।

২| ০১ লা অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ২:৪০

সনেট কবি বলেছেন: ভাল বলেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.