| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
স্বপ্নের সাথে বসবাস আর স্বপ্ন থেকে পলাতক সময়ের কথা---
======
আজকাল কখনো কখনো আমার নিজের প্রতিই নিজের সন্দেহ হয় ‘আমি কি মৃত নাকি জীবিত?’ কেননা জ্ঞানী-গুণীদের কাছে শুনেছি, স্বপ্ন ছাড়া কোন মানুষ নাকি বাঁচতে পারে না। লক্ষ্য করে দেখলাম, ইদানীং আমার মধ্যে কোন স্বপ্ন নেই। দিবসে কিংবা নিশিতে, শয়নে কিংবা জাগরণে কোন স্বপ্নের কথাই আমি স্মরণে আনতে পারি না। তাই বেঁচে আছি কিনা তা পরখ করার জন্য মাঝে মধ্যে নিজেই নিজের শরীরে চিমটি কাটি!!
.
একটা সময় ছিল যখন দিনে কিংবা রাতে স্বপ্ন কিংবা স্বপ্নের ঘোরের মধ্যেই কাটত! জীবনীগ্রন্থ আর ইতিহাসের সুনামধন্যদের কাহিনী পড়ার নেশা ছিল। যেদিন যার সম্পর্কে পড়তাম তাকে ঘিরেই চলতি মুহূর্তের সকল ভাবনা আবর্তিত হত; তাঁর মত হবার স্বপ্নে বিভোর হতাম; এর রেশ চলত অনেক দিন পর্যন্ত।। পঠিত বইয়ের মূল চরিত্রের মত হয়ে ওঠার নানা পরিকল্পনা মাথায় গিজগিজ করত দিনে, আর রাতে ঘুমের ঘোরে-স্বপনে হয়ে ওঠতাম জীবন্ত সেই চরিত্র!
.
হারুনুর রশিদের শাসনামলের কাহিনী পড়ার পর স্বপ্নে রাজা বনে গিয়ে ঘোড়ায় চড়ে প্রজাদের অবস্থা দেখতে ঘুরে বেড়ানোর স্বপন দেখেছি অনেক রাতে। একরাতে স্বপ্নে হঠাৎ ঘোড়া থেকে পড়ে গিয়ে ঘুম ভাঙ্গে; জেগে দেখি আমার বিকট চিৎকারে অন্যরাও জেগে ওঠে আমার পাশে জড়ো হয়ে গেছে! বড্ড লজ্জা পেয়েছিলাম সেদিন।
.
শেরেবাংলার জীবনী পাঠের পর পাঠ্য বিষয় একবার পড়েই আর না পড়ার নেশায় পেয়ে বসেছিল কিছুদিন যাবৎ। সেবার পরীক্ষার হলে গিয়ে কেঁদে ছিলাম; ফল নেমে গিয়েছিল দুই ধাপ নীচে। সেকথা মনে হলে আজও একা একা হাসি।
.
“ভৃত্য চড়িল উটের পিঠেতে উমর ধরিল রশি” খ্যাত ঘটনাটি পড়ার পর কাজের লোকদের প্রতি বিশেষ সহানুভুতিশীল হয়ে ওঠেছিলাম, কাজের লোকদের প্রতি সনাতন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি মন বিগড়ে গিয়েছিল ভীষণভাবে। জীবনের মৌলিক অর্জনের ঝুলিতে এটি আজও জমা রয়েছে।
.
কৈশোর উত্তীর্ন হতে না হতেই হাতে পেয়েছিলাম ম্যাক্সিম গোর্কির ‘মা’ আর লেলিনের জীবনী। গোগ্রাসে পড়ে ফেলেছিলাম। নিজের মধ্যে স্বপ্নের বান ডেকেছিল যেন। কথায় বা চলায় 'বিপ্লবী' 'বিপ্লবী' ভাব আর ঘুমের ভেতর স্বপনে আঙ্গুল উচিয়ে বক্তৃতা দিতাম। তখন সমবয়সী শ্রমিক, কাজের লোকদের দেখলে মন ভারাক্রান্ত হয়ে যেত। ‘যে বয়সে আমি বিদ্যায়তনে যাচ্ছি অথচ সেই বয়সে দুমুঠো আহারের জন্য ওরা অন্যের বাড়িতে শ্রম দিচ্ছে’ এমনটা ভেবে বিষাদে মন ভরে যেত; সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্নে উদ্বেলিত হতাম। বৈষম্যের বিরুদ্ধে মনের ভেতরে বিপ্লবের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠত; বিপ্লব স্পন্দিতবুকে তখন মনে হত আমিই যেন লেলিন!!
.
-এসবই পুরানো দিনের কথা; কৈশোর আর কৈশোর উত্তীর্ন দিনের কথা।
.
কঠিন বাস্তবে জীবিকার সংগ্রামের দানবীয় হেচকা টানে কখন যে স্বপ্নগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন ও পলাতক হয়ে পড়েছি তা টেরও পাইনি। ইত্যবসরে সময় অনেক গড়িয়ে গেছে; স্বপ্ন থেকে পলাতক আমি এখন অন্য জীবনে; স্বপ্ন থেকে অনেক অনেক দূরে। এখন আমি ‘হ্যান্ড টু মাউথ’ জিন্দেগী গোজরানে মহা ব্যস্ত এক সকাল-সন্ধ্যার চাকর। দিনশেষে এক রাশ ক্লান্তি নিয়ে নীড়ে ফিরি, আবশ্যিক রুটিন শষে দু’চোখ ভরা ক্লান্তির ঘুম নিয়ে গভীর নিদ্রায় ডুবে যাই।... সকালে মুয়াজ্জিনের আজানে ঘুম ভাঙ্গে বটে কিন্তু স্বপ্নে কোন কিছু দেখেছি কিনা স্মরণে আসে না। কখনো মনে হয় ‘কিছু একটা যেন দেখেছি’ কিন্তু কি দেখেছি স্মৃতিতে তা আর স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় না। সত্যিই স্বপ্নরা আজ আমার নিকট অধরা!
.
স্বপ্ন থেকে পলাতক এক নিভৃতচারীর নিয়তিবাদী জীবন এখন আমার।।।
_____
২০১৪
=====
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে অক্টোবর, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৯
মাহবুবুল আজাদ বলেছেন: আপনি রেগুলার লিখুন, ভাল ব্লগারের অনেক অভাব, আগে যারা তুখোড় ব্লগার ছিল তারা এখন আর কেউ ব্লগিং করে না। আর অন্যের পোস্টেও কমেন্ট করুন। প্রথম পাতায় এখনো মনে হয় এক্সেস পান নি। আস্তে আস্তে পেয়ে যাবেন।