| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দরজার ওপাশে আমি
সৌজন্য এমন জিনিস সবচেয়ে মেধাবী হলেও শেখা যায় না। পারিবারিক শিক্ষা, বিনয়, পরিমিতিবোধ ও আমিত্ব নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই....
টি-টোয়েন্টির জার্সি উঠিয়ে রাখলেন ম্যাশ । একদিন ওয়ানডের জার্সিও এভাবে তুলে রাখবেন । সমগ্র বাংলাদেশকে এই ক্রিকেটই সবাইকে এক বন্দুতে দাঁড় করায় । আর মাশরাফি ... সে তো একটা আবেগ ও অনুপ্রেরণার নাম। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট থেকে মাশরাফি অবসরে গেলেও ইতিহাসে তিনি থাকবেন অমলিন হয়ে। নড়াইলের এক পাগল ছেলে প্রথমবার গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ারের স্ট্যাম্প উপড়ে আমাদের স্পিডস্টার হওয়া শিখিয়েছিল। তৎকালীন সময়ে হার্ডহিটার সেবাগের স্ট্যামও উড়িয়েছিল ২০০৭ এর বিশ্বকাপে।এক সময়ের কোচ ডেভ হোয়াইটমোর বলেছিল, মাশরাফির মত খেলা পাগল প্লেয়ার এই বিশ্বে আর একটাও নেই। সবথেকে বড় কথা হল মাশরাফির সাথে পৃথিবীর কোনো খেলোয়াড় এর তুলনা চলেনা, তার তুলনা সে নিজেই ...
কিছু টুকরো কথা আমাদের এই পাগলের ...
✬ নিউজিল্যান্ডের গতিদানব 'শেন বন্ড' দুইবার সার্জারীর পরই ভয়ে ক্রিকেট ছেড়ে দেন...
✬ বিশ্ববিখ্যাত ইংলিশ অলরাউন্ডার 'এন্ড্রু ফ্লিন্টফ' মাত্র একটি সার্জারীর ভয়েই ক্রিকেট কে গুডবাই জানিয়েছেন.....
✬ একমাত্র ক্রিকেটার যিনি পরপর ৭টা মারাত্নক সার্জারী করেও এখনো ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছেন... বিশ্বের কোন ফার্স্ট বোলারই দুইবারের বেশি সার্জারী করে খেলতে পারেননি কিন্তু তিনিই এই অসাধ্য ব্যাপার সাধ্য করেছেন ।
✬ একমাত্র পরিশ্রমী ক্রিকেটার যার ওজন বেড়ে যাচ্ছে বলে ক্রিকেট ছাড়ার আশংকা ছিল তাই তিনি ১মাসে ১২ কেজী ওজন কমিয়ে সবাইকে আশ্চর্য করে দিয়েছিলেন।
✬ যেকোন আঘাতে তাঁর বাম পা পঙ্গু হয়ে যেতে পারে এমন রিস্ক থাকা সত্ত্বেও তিনিই একমাত্র সাহসী মানব যিনি প্রতিটি ম্যাচে এখনো হিংস্র বাঘের মত বোলিং করে যাচ্ছেন !
✬ একমাত্র ক্রিকেটার যে প্রতি ম্যাচ শেষে হাটুতে জমে যাওয়া রস নিজে সিরিঞ্জ দিয়ে বের করে ফেলেন।
✬ তিনিই একমাত্র দেশপ্রেমিক যার একমাত্র আদরের ৫ মাস বয়সী ছেলে এ্যপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়ে টাইফয়েডের সঙ্গে মূত্রাশয়ের সংক্রমণ রোগে মৃত্যুর মুখো-মুখি, অথচ দেশের স্বার্থে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকে একমাত্র ছেলের সুস্থ্যতার জন্য দু'হাত তুলে দোয়া করে দেশের জন্য মাঠে নেমেছেন।
✬ তিনিই সেই ক্রিকেটার যার একটা সময় ভোরে ঘুম ভাঙ্গার পর ১০ মিনিট সময় লাগে হাঁটু ভাঁজ করে বিছানা থেকে নামতে।
✬ আমাদের একমাত্র প্লেয়ার যে কিনা ইনজুরি বিধ্বস্ত অবস্থায় বোলিং এর কষ্টকে ভুলতে নিজেকে সান্ত্বনা দেন এই বলে "মুক্তিযোদ্ধারা পায়ে গুলি নিয়েও যুদ্ধ করে যেতে পারলে আমি কেনো সামান্য অপারেশন নিয়ে বোলিং করতে পারবো না”।
মাশরাফি থাকবে। যতদিন ক্রিকেট নামক খেলা থাকবে। যতদিন সেই খেলায় লাল সবুজ জার্সিতে টাইগাররা নামবে। ততদিন উচ্চারিত হবে মাশরাফি নামক এক ভদ্রলোকের নাম । বুজতে পারছি, ক্রিকেটপ্রেমীদের চাপে বোর্ড পিছু হটবে। কিন্তু আবার এটাও মনে হচ্ছে এমনকি বোর্ড চাইলেও মাশরাফি আর ব্যাক করবে না। কারন এই নতজানুতার আর মেরুদন্ডহীনতার যুগে মাশরাফি এক বিরল ব্যাতিক্রম। মাশরাফি তুমি বরং মাথা উঁচু করেই বিদায় নাও। তোমার এই আত্মমর্যাদাবোধ আমাদের একটা প্রজন্মকেই সর্বক্ষেত্রে পথ দেখাক। মাশরাফি তোমার জন্য ভালবাসা।

©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে জুন, ২০১৮ রাত ১০:৪৬
রাজীব নুর বলেছেন: মাশরাফিকে আমারও ভালো।