নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মু. হাবিবুর রহমান তারিক

ময়মনসিংহের এক নিরব, নিভৃত পল্লীর এক অখ্যাত পরিবারের অতি নগন্য সদস্য।

মু. হাবিবুর রহমান তারিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

দারিদ্র্যের কারণ ও প্রতিকার: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ (কিস্তি-২)

২১ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:০০

দারিদ্র (Poverty)

দারিদ্রের সার্বজনীন কোন সংজ্ঞা নেই। তাই কে দরিদ্র আর কে দরিদ্র নয় সে ব্যাপারে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। তবে যার কোন সম্পদ নাই, উপার্জনের কোন ব্যবস্থা নাই সে ব্যক্তি সন্দেহাতীতভাবে ও সর্বসম্মতিক্রমে দরিদ্র। বিশ্বখ্যাত অনলাইন বিশ্বকোষ wikipedia- এ বলা হয়েছে, `Poverty is the shortage of common things such as food, clothing, shelter and safe drinking water, all of which detemine the quality of life.' (সূত্র: http://en.wikipedia.org/wiki/Poverty)। বাংলা পিডিয়ার মতে, `দারিদ্র্য এমন অর্থনৈতিক অবস্থা যখন একজন মানুষ জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান অর্জনে এবং স্বল্প আয়ের কারণে জীবনধারণের অপরিহার্য দ্রব্যাদি ক্রয় করতে অক্ষম হয়। দারিদ্র্যের দৃশ্যমান প্রতীক হচ্ছে অপুষ্টি, ভগ্নস্বাস্থ্য, জীর্ণশীর্ণ বাসস্থান, নিরক্ষরতা এবং বেকারত্ব অথবা আধা বেকারত্বে নিপতিত রুগ্ন-দুর্বল মানুষ।' (সূত্র: দারিদ্র্য বিষয়ক অধ্যায়, বাংলা পিডিয়া, সিডি সংস্করণ, এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ)



ইসলামী পরিভাষায় দারিদ্র্যের স্তর দুইটি। যথা: ফকির (সেই অভাবগ্রস্ত

ব্যক্তি, যে নিজেকে সর্বপ্রকার লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করে চলেছে, কারো নিকটই কিছু প্রার্থনা করে না) ও মিসকিন (লাঞ্ছনাগ্রস্ত অভাবী ব্যক্তি, যে চেয়ে ভিক্ষা করে বেড়ায়)। বাংলাদেশ সরকারের আই-পিআরএসপি (Interim Poverty Reduction Strategy Paper) অনুযায়ী দারিদ্র্য দুই রকম। যথা: আয় দারিদ্র্য এবং মানব দারিদ্র্য (আই-পিআরএসপি, সার সংক্ষেপ, জানুয়ারি ২০০৪, পৃ-৫)



বিশ্ব ব্যাংক দারিদ্র্য সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দারিদ্র্যের দু`টি সীমারেখা টেনেছে। উচ্চতর দারিদ্র্যসীমা নির্ধারিত হয়েছে যেখানে জনপ্রতি বার্ষিক জিডিপি ৩৭০ মার্কিন ডলার এবং নিম্নতর দারিদ্র্যের সীমা হচ্ছে ২৭৫ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা কর্তৃক নির্ধারিত মান অনুযায়ী প্রতিদিন জীবন ধারনের জন্য ২১২২ ক্যালরি খাদ্য ও ৫৮ গ্রাম প্রোটিন ক্রয়ে অক্ষম জনগোষ্ঠীকে ধরা হয় দারিদ্র্যসীমার নিচে। আর ১৮০৫ ক্যালরি খাদ্যও কোনভাবে জুটাতে পারে না যে জনগোষ্ঠী তাদের অবস্থান চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে।



দারিদ্র্য কবলিত বাংলাদেশ

Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2005 অনুযায়ী বাংলাদেশের সাধারণ দারিদ্র্যসীমার নিচে (দিনে ২১২২ ক্যালরির কম খাদ্য গ্রহণকারী) বসবাসকারী লোকসংখ্যা ৪০.৪০% (গ্রামাঞ্চলে ৩৯.৫০% এবং শহরাঞ্চলে ৪৩.২০%) এবং চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে (দিনে ১৮০৫ ক্যালরির কম খাদ্য গ্রহণকারী) বসবাসকারী লোকসংখ্যা ১৯.৫০% (গ্রামাঞ্চলে ১৭.৯০% এবং শহরাঞ্চলে ২৪.৪০%)



ইউএনডিপি কর্তৃক প্রকাশিত `Human Development Report 2007/08' অনুযায়ী বাংলাদেশে জাতীয় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী লোকসংখ্যা ৪৯.৮০%। উক্ত রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিদিন ২ মার্কিন ডলার এর সমপরিমাণ বা তার কম আয় করে শতকরা ৮৪ জন এবং ৪১.৩০% লোকের দৈনিক আয় ১ মার্কিন ডলার বা তার নিচে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানমতে বাংলাদেশের দরিদ্র্যের সংখ্যা সাড়ে ৯ কোটির বেশি এবং মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার টাকা। (সূত্র: Click This Link) । (চলমান)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.