নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\n

মা.হাসান

মা.হাসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

পাহারা

২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৩




আমাবস্যা না । চাঁদ তারা সবই হয়তো আকাশে আছে। কিন্তু বিকেল থেকেই আকাশ ঘোর অন্ধকার। কাজেই রাত মাত্র নটার মতো হলেও নিকষ অন্ধকারে চারিদিক ডুবে আছে।

গায়ের একটা পশমও দেখা যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে আকাশের গা চিরে বিদ্যুতের ঝলকে আশপাশের সব কিছু নীলচে রুপোলী ছায়া ছায়া মতো দেখাচ্ছে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি একটু আগে বড় ফোটায় রূপান্তরিত হয়েছে। সাধু ভাই আর আমি একটা ছোট গাছের নিচে অল্প অল্প ভিজছি। কুড়ি গজ মত দূরে একটা ঝাকড়া গাছের নিচে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম, সাধু ভাই নিষেধ করায় বাধ্য হয়ে এই খানে আশ্রয় নেয়া।

ছোট গাছের পাতায় বৃষ্টি মানছে না। তবে এ জায়গা ছেড়ে যাবার উপায় নেই। আমরা দু ভাই দাঁড়িয়ে আছি কয়েক ঘন্টা আগে মাটি হওয়া সাইফুদ্দিন ভাইয়ের কবরের পাশে। আজ ওনার কবর পাহারা দেয়ার প্রথম রাতের ডিউটি আমাদের দুই ভাইয়ের।


ঘটনা আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর আগের। বড় আব্বা (আমার বাবার তৃতীয় জেষ্ঠ্য ভাই) অসুস্থ। অবস্থা বেশ খারাপ। খবর পেয়ে বাবা গ্রামে এসেছেন। স্কুলে সেকেন্ড সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ। আমিও বাবার সাথে আছি। আগস্ট মাস। বেড়ানোর জন্য সময়টা অনুকূলে না। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও মোটামুটি বৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাটে ভালো কাদা, গ্রামে আসার জন্য তেমন উপযোগী সময় না।

এরশাদ সাহেব ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের রাস্তা গুলো পাকা করার কাজ করলেও, অন্য গল্পে বলেছি, আমাদের গ্রামের সামনে দিয়ে যাওয়া এই রাস্তা পাকা হতে আরো অনেক বছর লেগেছে। বাসে পাশের থানায়, সেখান থেকে মোষের গাড়ি, মাঝে দু একবার কাদায় নেমে চাকা ঠেলা লেগেছে। বড় আব্বা অসুস্থ না হলে এ সময়ে আসার প্রশ্নই ওঠে না।

তো বড় আব্বা ভেজাল না খাওয়া মানুষ। এ যাত্রা বেঁচে উঠলেন। ( উনি আরো প্রায় ১০-১২ বছর বেঁচে ছিলেন, ৯০ বছর বয়সেও সাইকেল চালাতে দেখেছি)। কিন্তু হঠাৎ করে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত আগের রাতে (আমরা আসার পর দিন, কবরস্থানের রাতের আগের রাতে) ফজরের পর পর সাইফুদ্দিন ভাই মারা গেলেন।

সাইফুদ্দিন ভাই ছিলেন বড় আম্মার মামাতো ভাইয়ের ছেলে। ফুপার অসুস্থতার খবর শুনে দেখতে এসে নিজেই নেই হয়ে গেলেন। ফজরের নামাজের পর বাঁশ ঝাড়ে দাতন খুঁজতে যেয়ে সাপের কামড়। অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলেন। কেউ একজন দেখতে পেয়ে চেচেমেচি করলে লোক জড় করে বাসায় নিয়ে আসে। পানি ঢালাঢালির পর একবার জ্ঞান ফিরে সাপের কথা বলতে পেরেছিলেন, তবে তার আগেই পায়ে দাগ দেখে অভিজ্ঞরা দড়ি দিয়ে পায়ে বাঁধন দিয়ে দিয়েছিলেন।

ওঝা ডাকা হলো। আমার আব্বার হইচইতে হাসপাতালেও নেয়া হলো। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। এন্টিভেনম সদরে, থানায় থাকেনা। সকাল দশটার আগেই মৃত্যু। গ্রাম দেশে তখনো সকাল শুরু হতো ফজরের আজানের আগে। আগস্টে সূর্য উঠে যায় সাড়ে পাঁচটায়, ফজর সোয়া চারটার দিকে। সেই হিসেবে ওনাকে নয়টার আগে হাসপাতালে নিতে পারাটা অস্বাভাবিক ছিলো না।

সাপের কামড়ে নাকি এত দ্রুত মানুষ মারা যাবার কথা না। হাসপাতালে চাকরিরত আমার হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট চাচাতো ভাই এরকমই বললেন। সাপে কাটা মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনেক লোক নাকি আতঙ্কেই মারা যায়। যে কারনেই মারা যাক, কেউই চায় না স্বজনের লাশ কাটাছেড়া করে কারন জানতে। ইউডি হলেও পোস্ট মর্টেম এসব ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়ই মনে হয়।

ওঝা সকালেই জবাব দিয়ে দেয়ার পর সবাই মানসিক ভাবে প্রস্তুতই ছিলেন। আমাদের গ্রাম থেকে তিন মাইল মতো দূরে ওনার গ্রামে (হাসপাতাল থেকে দুই মাইলের কম) মোষের গাড়িতে করে মৃত্যুর পর পরই লাশ নিয়ে আসা হয়েছে (আমার বড় আম্মার বাপের বাড়ি বেশ দূরে, তবে ওনার নানার বাড়ি আমাদের গ্রামের থেকে তেমন দূরে না)। জোহরের পর জানাযা, এর পর মাটি। গ্রামের কালচার অনুসারে যারা মাটি দিতে যারা এসেছিলেন তাদের সবাইকে ডাল ভাত খাওয়ানো হলো।

বড় আব্বার শরীর আগের চেয়ে ভালো বলে বাবা আর থাকেন নি, জানাজার পর পরই শহরে চলে গেছেন। আমার পীড়াপীড়িতে আমাকে রেখে গেছেন। সিদ্ধান্ত হয়েছে কদিন পর সাধু ভাই আমাকে রেখে আসবেন। সাধুভাই হলো মুহিবের বড় ভাই, মুহিবের কথা অন্যত্র বলেছি।

দাফনের সময় একটু সমস্যাই হল। কবর খোড়ার পর তলায় পানি এসে জমে যায়। বর্ষাকালে এরকমটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। পরে অনেক খানি বালি এনে পানির উপর ফেলে কবর দেওয়া। সেই সময় এরকম পাতলা পলিথিন শিট সহজলভ্য ছিল না। বাঁশের উপর মোটা টেবিল ক্লথ বিছিয়ে তার উপর মাটি দেওয়া।

জানাযার আগে অল্প ফিসফিসানি ছিলো। মাটি দেয়ার সময়ে একটু বেশি। খাবার সময়ে আর ফিসফিসানি থাকলো না, বিশ-ত্রিশ হাত দূর থেকে শোনা যাচ্ছিলো। সাইফুদ্দিন ভাই মারা গেছেন শনিবার। তাও বার্ধক্যজনিত মৃত্যু না , হঠাৎ মৃত্যু। গ্রামাঞ্চলে একটা কুসংস্কার ছিল (এখনো হয়তো আছে); শনিবার আর মঙ্গলবারের মরা লাশ তান্ত্রিকরা চুরি করে নিয়ে যায়। এজন্য পরিবারের লোকেরা কবর স্থানে কবরের পাশে পাহারা বসায়। কমপক্ষে তিনদিন পাহারা দেয়া হয়।

অন্যত্র বলেছি আমার ব্যক্তিগত ধারণা কাফন চোরের উপদ্রব থেকে এ ধরনের গুজবের উৎপত্তি। এখন মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বেড়েছে, কাফন চুরির ঘটনা খুব একটা শোনা যায় না। তান্ত্রিকরা লাশ চুরি করেছে এমন ঘটনাও তেমন শোনা যায় না।

গোটা থানার মধ্যে সাধু ভাই এবং আমার আরেক জেঠাতো ভাই ( ওনার নাম রফি) সবচেয়ে সাহসী বলে পরিচিত ছিলেন। রফি ভাই আরেক বড় আব্বার ছেলে। এলাকায় ওনাদের দুঃসাহস (বেশির ভাগই লৌকিক) নিয়ে অনেক গল্প আছে । একটা ঘটনার আমি নিজে সাক্ষী। কয়েক গ্রাম পরে, গ্রামের স্কুলের মাঠে ফুটবল খেলা । হঠাৎ মারামারি শুরু হয়ে গেল। দুই ভাই দর্শক ছিলেন। উঠে দাঁড়িয়ে একটা হুংকার মারলেন। উত্তেজনায় সাধু ভাইয়ের লুঙ্গি খুলে গিয়েছিল। কিন্তু কেউ এটা নিয়ে ওনার সঙ্গে বিদ্রূপ করতে সাহস পায়নি। গন্ডগোল কয়েক মুহূর্তের মধ্যে থেমে গিয়েছিল।

দোষের মধ্যে সাধু ভাই একটু 'সাধুসঙ্গ' করেন । একতারা বাজান। এদের একটা গ্রুপ আছে, লাল জামা পরে। এই গ্রুপের সঙ্গে ঘুরে বেড়ান। মাঝে মাঝে গাঁজা খান। প্রায় সময়েই প্রচন্ডভাবে অর্থনৈতিক অভাবে থাকেন। কখনো কখনো না খেয়েও হয়তো থাকতে হয়েছে; কিন্তু কখনো কারো কাছে চার আনা পয়সা চেয়ে নিয়েছেন এমন দেখিনি।

তো প্রথম দিনের পাহারার ভার সাধু ভাইয়ের। ঘ্যান ঘ্যান করতে পারেন একটা গুণ আমার ছিলো ( এখন যে চলে গেছে এমন না, :P )। সাধু ভাইকে রাজী করিয়ে নিতে পারলাম পাহারায় আমাকে সঙ্গি হিসেবে নেয়ার জন্য। অন্য কিছুর চেয়ে সাপের ভয় আমার কাছে বড় ভয়। আমার জন্য এক জোড়া গামবুটও জোগাড় হয়ে গেলো। সাথে একটা পাঁচ ব্যাটারির টর্চ, বৃষ্টির থেকে বাঁচার জন্য ছাতা আর মাথাল। আর সাধু ভাইয়ের হাতে একটা বলল বল্লম।

সাধু ভাইয়ের ভেজার অভ্যেস আছে, কিন্তু আমি বৃষ্টিতে ভিজে আবার ঝামেলা না বাধাই এজন্য ছাতা আর মাথাল। দেখা গেল আমার চেয়ে মাথালই আকারে বড় । আর এর ওজন নিয়ে হাটাও আমার জন্য আসলেই খুব সহজ মনে হচ্ছিলো না। গামবুট জোড়াও ছিলো ঢলঢলে। কিন্তু কোনো অভিযোগ করলে সুযোগ চলে যেতে পারে এই ভয়ে আমি আর উচ্চবাচ্য করলাম না।

সাতটার আগেই মাগরিবের নামাজের শেষ হয়ে গেল। আমরা মসজিদ থেকে চারশ গজ মত দূরে পারিবারিক গোরস্থানে চলে আসলাম। দুভাই দুপুরে যা খেয়েছি কাল সকাল পর্যন্ত চলে যাবে ( B-)) ), রাতে খাবার ঝামেলা নেই। মাঝে সাড়ে আটটার সময়ে যেয়ে এশার নামাজ পড়ে আসলাম।


তখনো দেশে কিছু জাপানি জিনিস আসতো । স্থানীয় ব্যাটারির প্রায় আড়াই গুণ দাম দিয়ে কয়েকটা SANYO ব্যাটারি কিনেছিলাম, মুহিবকে দেখাবো বলে। ওটা কাজে লেগে গেল। ব্যাটারির দাম শুনে সাধু ভাইয়ের ভ্রুটা একটু উপরে উঠে গেছিলো, কিন্তু আলোর পরিমাণ এবং আমার কাছে এর লংজিভিটির কথা শুনে উনি খুশি হলেন মনে হলো। উল্লেখ্য সেই সময়ে বাজারে চান্দা ব্যাটারি, হক ব্যাটারি, এদুটাই বেশি পাওয়া যেতো। চাইনিজ 555 আর এভারেডি ব্যাটারিও ছিলো। অলিম্পিক ব্যাটারি সম্ভবত কেবল বাজারে এসেছে। চান্দা আর এভারেডি এখন মনে হয় পাওয়া যায় না।

যে কথা বলছিলাম, একটা ছোট গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছি। সাধু ভাই বললেন বড় গাছের উপরে বাজ পড়ার সম্ভাবনা বেশি, ছোট গাছের উপরে পড়ার সম্ভাবনা কম। অত্যন্ত যৌক্তিক কথা । গ্রামের লোকদের বিজ্ঞান তেমন পড়া নেই, দেখে দেখে শিখেছেন।

দুভাই বিভিন্ন কথা বলতে বলতে অশরীরী প্রসঙ্গটাও চলে আসলো। এ প্রসঙ্গে আমার বিশ্বাস যতটা কম, আগ্রহ ততটাই বেশি। সাধু ভাই গল্পে গল্পে বললেন দু-তিন বছর আগে এরকম এক ঘোর বর্ষার রাতে চারিদিকে পানি থই থই । এর মধ্যে বুড়ো সইজুদ্দিন ছাড়া আর সবাই ঘরে শুয়ে। তো বুড়ো সইজউদ্দির রাত দুটার সময় মনে হলো- ফজরের আজান হয়ে গিয়েছে, মসজিদ যাওয়া দরকার। বৃষ্টি বেয়ে মসজিদে এসে দেখে ভিতরে লম্বাকৃতির কিছু লোক নামাজ পড়ছে । এই দেখে বৃষ্টির মধ্যে চিৎকার করতে করতে দৌড়ানোর সময়ে রাস্তায় পিছলা খেয়ে পড়ে পা ভাঙলো।

আমার জিজ্ঞাসা- রাত দুটার সময় জিনেরা মসজিদে কেন নামাজ পড়বে? নামাজ মানুষদের জন্য ফরজ। জ্বীনদের জন্য কি ফরজ? মানুষ নামাজের আগে অজু করে। জ্বীনরা ও কি ওযু করে ? জ্বীনরা কি মানুষের মসজিদে নামাজ পড়ে? এরা নিজেদের মসজিদ বানিয়ে সেখানে নামাজ পড়তে পারে না? আর ঐদিন রাত দুটার সময় আসলো, অন্যদিন কেন আসেনা? নাকি প্রতিদিনই আসে? আজ গেলে কি দেখা হবে?

সাধু ভাই এর সরল স্বীকারোক্তি -ভাই আমি এগুলোর কি জানি ? আমি অত্যন্ত কম শিক্ষিত লোক । আমরা যা দেখেছি তাই বলি । তোমরা লেখাপড়া জানা মানুষ, কেনো এরকম হয় এসব নিয়ে তোমরা ভাবনা চিন্তা করবা। আমি আর কোনো কথা খুঁজে পাইনা।

পাশের খালের মধ্যে থেকে একটা খলবল আওয়াজ আসছে। একটু চমকে উঠে সেদিকে টর্চের আলো ফেলে আৎকে উঠলাম। একটা সাপ একটা ব্যাংকে ধরেছে । ভাইয়ের হাত আকড়ে ধরতেই গেলাম ভাই বললেন ব্যপার না। ঢোড়া সাপ। আমি সাপ চিনিনা, সব সাপই আমার কাছে বিপদ জনক, আর সাবধানে থাকা ভালো । এই অঞ্চলে কিছু গোখরা সাপ আছে । স্থানীয় ভাষায় গোমা সাপ বলে। আর কিছু দাঁড়াশ সাপ আছে। দাড়াশ সাপের গরুর দুধ খাওয়ার অনেক গল্প শোনা যায়। গুনি লোকেরা বলেন সব মিথ্যা। তবে পুরোটা মনে হয় মিথ্যা না।

খানিকক্ষন পর ভাই বললেন- একটু দাঁড়া আমি আসতেছি । বলে আমার থেকে প্রায় ২০-৩০ গজ দূরে চলে গেলেন । আগুনের চিহ্ন দেখে বুঝলাম বিড়ি ধরাচ্ছেন।আমার বড় ভাইদের অধিকাংশ সময়ে দেখেছি ছোটদের সামনে ধূমপান করতেন না। হয়তো সংকোচ বোধ করতেন, অথবা ভাবতেন আমাদের উপর খারাপ ইন্ফ্লুয়েন্স পড়বে।

রাত সাড়ে এগারোটার দিকে (ওই সময় আমার হাতে একটা ক্যাসিও ঘড়ি ছিল) দেখলাম দূরে ক্যানেল এর উপরের কালভার্ট এর আশেপাশে কিছু আলো ওঠানামা করছে । ভাইকে জিজ্ঞাসা করলে ভাই বললেন- মাছ মারছে। তখনো গ্রামাঞ্চলে একটু বেশি বৃষ্টি হলে মাঠে-ঘাটে প্রচুর মাছ ভেসে উঠত। মাঠঘাট পানিতে ভেসে যাবার মতো বৃষ্টি সে বছর তখনো হয়নি , তবে গত ক ঘন্টায় যা বৃষ্টি হয়ে গেলো তাতে কালভার্টের নিচ দিয়ে ভালো স্রোত বয়ে যাবার কথা। এরকম হলে, পোলো, ট্যাটা ( স্থানীয় ভাষায় বলে কোঁচ) বলে এসব নিয়ে ভালোই মাছ ধরার মতো উৎসব চলে। পাহারায় থাকার কারণে এটা থেকে বঞ্চিত হলাম। তবে পাহারার কাজটাই ঐ বয়সে বেশি রোমাঞ্চকর ছিল।

রাত দুটার দিকে হঠাৎ একটা প্রচন্ড দুর্গন্ধ ভেসে আসতে থাকে । তীব্র দুর্গন্ধে চারিদিক ভরে গেল। সাধু ভাই খপ করে আমার হাতটা আঁকড়ে ধরলেন। পরিষ্কার গলায় জিজ্ঞাসা করলেন - অমুক দোয়াটা জানো ? আমার সাথে জোরে জোরে পড়। বলে জোরে পড়া শুরু করলেন। আমি অবাক হয়ে ওনাকে ফলো করা শুরু করলাম। কয়েক মুহুর্ত পর দুর্গন্ধ দূর হয়ে গেল।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম- ভাই ওটা কিসের দুর্গন্ধ ছিলো? উনি বললেন- ও কিছুনা । গ্রামগঞ্জে ঝোপেঝাড়ে পায়খানা করে রাখে। বৃষ্টির দিনে ভিজে ওখান থেকে গন্ধ আসতে পারে। এবার পাল্টা প্রশ্ন করলাম- হঠাৎ করে আসলো, হঠাৎ করে চলে গেলো? ভাইয়ের পাল্টা জবাব- বাতাস বয়ে আনছে, বাতাসে অন্য দিকে চলে গেছে। এগুলা নিয়ে কথা বলিস না। চুপ থাক। পরের দিনে বলেছিলেন- হঠাৎ করে এরকম দুর্গন্ধ আসা ভালো কিছু না, অনেক খারাপ জিনিস আছে যারা আসার সময় এরকম খারাপ গন্ধ পাওয়া যায়।

সোয়া চারটার দিকে ফজরের ওয়াক্ত। সাধু ভাই নিয়মিত নামাজি ছিলেন না ; কিন্তু এখানে কুটুমবাড়ি । নামাজে না গেলে কেলেঙ্কারি হতে পারে। আবার পাহারা ছেড়ে যাওয়া সম্ভব না। সিদ্ধান্ত হলো উনি আমাকে মসজিদ পর্যন্ত আগিয়ে দেবেন। আমি নামাজ পড়ে চলে আসব । তো নামাজ ঠিক মতোই শেষ হলো, কিন্তু বর্ষায় মুসল্লিগণ যারা আছেন কেউই আমাকে কবরস্থান পর্যন্ত পৌছে দিতে আগ্রহী না। অবশেষে দু তিন জন মিলে এগিয়ে দিয়ে গেলেন।

তখনো পুরো আলো ফোটেনি। একটা ক্যাচকোচ আওয়াজ। গরুর গাড়ির চাকায় কম তেল পড়লে যেমন হয় খানিকটা সে রকম। অথবা বলা যায় ব্ল্যাকবোর্ডে চক ঘষা খেলে যেরকম শব্দ হয় সে রকম। তবে অনেক তীব্র। ভাই বললেন শকুনের ডাক। আমি বললাম শকুন তো শুনেছি মানুষের বাচ্চার মতো করে কাঁদে। ভাইয়ের জবাব- সাহিত্যিকদের কাছে এটাই বাচ্চার কান্নার শব্দ হয়ে যায়।

সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সব চারদিক পরিষ্কার হওয়ার পর আমরা বাসায় ফিরলাম। হাত মুখ ধুয়ে প্যান্ট বদলে লুঙ্গি পরার সময় দেখি হাঁটুর কাছে একটা জোঁক। টান দিয়ে নির্বিকারভাবে ফেলে দিয়ে কাঁথার নিচে শুয়ে পড়লাম। প্রথম পাহারা এখানেই শেষ।

মন্তব্য ৬২ টি রেটিং +১৭/-০

মন্তব্য (৬২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫০

সোহানী বলেছেন: ও মাই গড!! আপনার সাহসের প্রশংসা না করে পারছি না। এভাবে কবর পাহাড়া!!!!

কিন্তু কোন ভুতের দেখা পানি বলে আফসোস হচ্ছে। শুধু গন্ধ ছড়িয়ে চলে গেল??? নাকি আপনারাই ভুত থেকে শক্তিশালী??? ;)

২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:০৪

মা.হাসান বলেছেন: গ্রামে পাহারার চল আগে বেশ ছিলো। এখনো মনে হয় কিছুটা আছে। আমার দুটো পাহারার অভিজ্ঞতা আছে- শীতে আর বর্ষায়। গন্ধের বিষয়টা হয়তো অলৈকিক না , লৌকিকই। তবে যা কখনো দেখিনি তা নেই বলে উড়িয়েও দেবো না।

করোনায় গত দশ মাসে এক মিলিয়নের বেশি লোক মারা গেছে। ভুতের হাতে গত একশ বছরেও এত লোক করে নি। কাজেই করোনা ভুত থেকে শক্তিশালী। অনেকেই করোনা থেকে শক্তিশালী। কাজেই ভুত থেকে শক্তিশালী লোক অনেক পাবেন। বাংলাদেশে অনেক বেশি। বেগম পাড়াতেও নাকি কেউ কেউ থাকেন।

(ব্লগে কয়েকদিন ছিলাম না, লগ ইন করার পর আমার আগের কয়েকটি পোস্টে আপনার একাধিক মন্তব্য দেখেছি, উত্তর দেয়া হয় নি। অত্যন্ত দুঃখিত। আজ পরে কোনো এক সময় জবাব দেয়ার চেষ্টা করবো।)

২| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:২৮

রামিসা রোজা বলেছেন:
সাপে কাটা, কবর পাহারা দেয়া, জ্বীনদের আনাগোনা,
শকুনের কান্না এবং সবশেষে জোক ভালোই ভয় পাওয়ার
মতো ঘটনা লিখেছেন ।
আপনাদের এভাবে কয়দিন পাহারা দিতে হয়েছিল কবর ?
সাহসী অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন ,ভালো লাগলো সেই
সাথে কিছুটা ভয়ও পেলাম ।

২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:১০

মা.হাসান বলেছেন: কবরস্থানটা ছিলো আমাদের গ্রাম থেকে কয়েক গ্রাম দূরে। সাধারণত তিন বা সাত দিন পাহারা দেয়া হতো। প্রথম রাত আমরা দু ভাই পাহারা দিয়েছিলাম। পরে মোট কত দিন পাহারা হয়েছিলো জানা নেই। কি-বোর্ডের সামনে বসে বসে পড়লে অতটা ভয় লাগে না, তবে গ্রামে নিকষ কালো রাতে , যেখানে আসে পাশে আধ মাইলের মধ্যে মনুষ্য বসতি নেই, এমন জায়গায় ঐ সময়টায় কিছুটা ভয় লেগেছিলো। ঐ বয়সটায় মানুষ বড় ভাইদের হিরো ভাবে। ঐ ভাই না থাকলে পাহারা দেয়ার সাহস পেতাম বলে মনে হয় না।

আপনাকে কিছুটা ভয় পাইয়ে দিতে পেরেছি বলে আনন্দিত। B-))

৩| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৪৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: মা.হাসান,




পাগারাদারকেও তাহলে কেউ পাহারা দিয়েছিলো ? :P ঐ যে দূর্গন্ধ...
তা প্রথম পাহারা তো শেষ, দ্বিতীয় পাহারা কবে , কোথায় ?

২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:১৯

মা.হাসান বলেছেন: দূর্গন্ধ তো ঢাকা শহরেও মাঝে মাঝে বৃষ্টির পর পাওয়া যায়। তবে ওটা ছিলো অনেকটা পচা দূর্গন্ধ। কসাইয়ের দোকানে রক্ত শুকিয়ে গেলে সন্ধ্যার দিকে যে রকম অনেকটা সে রকম। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, নির্জনতা বেশি হয়ে গেলে, একা থাকার বদলে অশরীরি কেউ থাকলেও মন্দ হয় না :-P

আরেক বার পাহারার সুযোগ পেয়েছিলাম। এক-দু বছর বাদে- এস এস সির টেস্ট পরীক্ষার পর। শীত কালে। সাপ-ব্যাঙ ছিলো না, কিন্তু কুয়াশা ছিলো, তবে রাত লম্বা হলেও এতটা ঘটনা বহুল ছিলো না। একটু মাল মশলা দিয়ে ( B-)) ) আরেকদিন লেখার চেষ্টা করবো।

৪| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৫১

চাঁদগাজী বলেছেন:




গ্রামটা দেশের কোন অন্ছলে?

২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:২০

মা.হাসান বলেছেন: উত্তর বঙ্গে।

৫| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:১৮

নেওয়াজ আলি বলেছেন: আমাদের ওদিকে কোচ বলে । তাহলে এই অঞ্চল বৃহত্তর নোয়াখালী অথবা তার আশেপাশে হবে

২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:২৩

মা.হাসান বলেছেন: নেওয়াজ ভাই, আমি এত সৌভাগ্যবান না, রয়েল ডিস্ট্রিক্টের লোক না B-)) । অত্যন্ত পিছিয়ে থাকা উত্তর বঙ্গের ঘটনা। ময়মনসিং অঞ্চলের এক বন্ধু ছিলো, ওর কাছে ট্যাটা নামটা শুনেছি। তবে ঐ সব এলাকায় মাছ ধরার চেয়ে নাকি চর দখল মারা-মারি এসবেই বেশি ব্যবহার হয়। 8-|

৬| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:১৯

ঢাবিয়ান বলেছেন: ভাল ভয় পেয়েছি :-*

২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:২৭

মা.হাসান বলেছেন: আপনাকে ভয় দেখাতে পেরে আনন্দিত B-))

ভালো খবর শোনেন---

৭| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:২৫

চাঁদগাজী বলেছেন:



উত্তর বংগ সব সময় পেছনে ছিলো, এখনো আছে! ওখানকার শিক্ষিতরা ও প্রভাবশালীরা ধুর্ত; শত বছরের মংগা ছিল উহার প্রমাণ।

২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:২৯

মা.হাসান বলেছেন: প্রকৃত জ্ঞানী, নেতৃত্ব দিতে সক্ষম লোকেরা দেশ ছেড়ে চলে গেলে দেশের উন্নতি কি ভাবে হয় !

৮| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৫৯

ঢুকিচেপা বলেছেন: আপনার বীরত্বগাঁথা গল্প পড়ে বেশ ভালো লাগলো।

কবর পাহারা দেয়ার অভিজ্ঞতা নেই তবে সারারাত লাশ পাহারা দিয়েছি আমি ও আমার বন্ধু মিলে।

আর প্রতিবেশী একজনকে দাফন করতে গিয়ে দেখি কবরে অনেক পানি, সেসময় কলার গাছ কেটে তার উপর রেখে মাটি দেয়া হয়েছিল।

প্রথম পর্বে বল্লমের সাক্ষাত পেলাম, আশা করি পরের পর্বে একে-47 নিয়ে যাবেন.............


{উত্তর দিতে দেরি হলে সমস্যা নেই। শুধু বাড়ীর ঠিকানা আর গাড়ীভাড়া দিলেই চলবে, বাসা থেকে উত্তর নিয়ে আসবো}

২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৫৫

মা.হাসান বলেছেন: আমার বীরত্বগাঁথা নিয়ে একটা কবিতা বা গান লেখার অনুরোধ রইলো। বাড়ির কেউ তো বিশ্বাসই করতে চায় না :(

মাটির নিচের লাশের চেয়ে উপরের লাশ আমার কাছে বেশি ভয়ের মনে হয়। বাংলাদেশে মনে হয় এমন কোনো হাসপাতালের মর্গ নেই যা নিয়ে অশরীরি কাহিনী প্রচলিত নেই। এর মাঝের কিছু কিছু ঘটনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়াটা খুব মুশকিল। আপনার অভিজ্ঞতা নিয়ে পোস্ট দেয়ার অনুরোধ থাকলো।

বাংলাদেশে লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেবার আনেক ঘটনার কথা শুনেছি। বন্যার সময়ে উপায় থাকে না। কলাগাছ বা বালি বিছিয়ে তার উপর কবর দিতে পারাটা সেই হিসেবে সৌভাগ্যের কথা।

এখন আর বল্লম-টেটা লাগে না। মাথায় হেলমেট থাকলে লোকে স্ট্যাটাস বুঝে যায়। জ্বিন ভুতেরাও বুঝে যায়। এর চেয়ে ভালো হয় র‌্যাবের কালো ইউনিফর্ম পরলে। সাপে কাটলে সাপও মরে যাবার কথা।

আপনার ইমেইল-বিকাশ নম্বর দিলে ঠিকানা-গাড়ি ভাড়া সবই দিবো, তবে অনুরোধ খালি হাতে আসবেন না, একটা হরলিকসের বইয়ম নিয়ে আসবেন :`> । দামের কারনে দশ টাকার পলি ব্যাগ ছাড়া কিনি না। বইয়ম পেলে প্রান খুলে খাওয়া যাবে।

৯| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:১৬

আকন বিডি বলেছেন: গতি তিন চার দিন আগে হঠাৎ রাত আড়াইটার দিকে ঘুম ভেঙ্গে যায় তীব্র গন্ধে। কিছুক্ষন পর কোন গন্ধ নাই। খুব বিব্রত কর অবস্থায় আছি। আছে না কি কোন দাওয়া?

২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৫৮

মা.হাসান বলেছেন: মাদুলি লাগবে। খরচের টাকাটা ঢুকিচেপার বিকাশ নম্বরে পাঠায়ে দেন। আর আপাতত রাতে গুরুপাক খাবার কম খাইতে থাকেন।

১০| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: আপনি সাহসী মানুষ।
৩৫ বছর আগের ঘটনা। তাহলে বর্তমানে আপনার বয়স কত?

২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:০১

মা.হাসান বলেছেন: সাহস না থাকলে বিয়া করলাম কেমনে?

আমার বয়স কতো? আমি দাবি করি পয়ষট্টি, সাড়ে চুয়াত্তর ভাই বলেন পঞ্চাশ। তবে তেষট্টির নিচে হলে আমার অসুবিধা। একটা মুক্তিযোদ্ধা সনদের খুব শখ। তেষট্টির নিচে বয়স হলেও পাওয়া যায়, চল্লিশ বছরের লোকেরও আছে, তবে লোকে কানাঘুষা করে। তেষট্টি বা এর বেশি হলে আর কানাঘুষা হয় না।

সাহস আপনারও কম আছে বলে মনে হয় না :P

১১| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:২৫

ওমেরা বলেছেন: ও মাগো সাহস কত কবর পাহারা দেয় , আমি শুনেই ভয়ে পেয়েছি।

২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:০৩

মা.হাসান বলেছেন: আপু , ভয় পাইতে চাইলে মাটির উপরে যারা আছে তাদেরই বেশি ভয় করা দরকার। মাটির নীচে যারা আছে এরা বড় অসহায়, মানুষ কাফন, কঙ্কাল সব চুরি করে নিয়ে যায়, এদের বাধা দেয়ার ক্ষমতা নাই।

১২| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৫১

মনিরা সুলতানা বলেছেন: সাধু ভাই সত্যি ই সাধু আপনাকে জিন নিয়ে আর সেই দুর্গন্ধ নিয়ে আপনাকে ভয় পাইয়ে দেন নাই। তবে নিঃসন্দেহে এ দারুণ এক অভিজ্ঞতা।

২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:১৩

মা.হাসান বলেছেন: মনিরা আপা, আসলে এই লেখাটা হরর লেখা হিসেবে লিখি নি। গ্রামে সাপে কাটা রোগির অবস্থা এবং কবর পাহারার সংস্কার বা কুসংস্কার যাই বলি না কেনো, তা নিয়ে লিখতে চেয়েছি।

এখনকার বাচ্চারা শহরে যে ভাবে বড় হচ্ছে এবং গ্রাম থেকে যে ভাবে ডিটাচড থাকছে, তাতে জীবন সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্য বোধ নিয়ে বড় হচ্ছে। এরা জানে দুধ দোকানে পাওয়া যায়, দুধ যে গরু থেকে আসে সেই বিষয়েও ধারণা নেই এরকম বাচ্চাও আশে পাশে দেখি। একটু গ্রামের ফ্লেভার দেয়ার জন্য লেখা। দারুন লেগেছে জানায় আনন্দিত।

১৩| ২৫ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:২০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: না ওরা একদম ভালো না। অতিথিকে বিভিন্ন রকম শব্দ করে দুর্গন্ধ ছিটিয়ে,সাপ হয়ে ব্যাঙ ধরা দেখিয়ে অবশেষে ভোরের আলো ফুটতেই জোক হয়ে ধরা দিলেও খানাপিনার ব্যবস্থা একেবারেই করেনি। অথচ মানব আত্মা দুজনই রাতে না খেয়ে ছিলেন বলা যেতে পারে। কিছু না হলে ভুনা খিচুড়ি না রকম ফলমূল বা আচার ওরা আপনাদের খাওয়াতেই পারতো।
আচ্ছা ওরা মামদো ভূত ছিল না ব্রহ্মদত্তি ছিল? অথবা খান্ডারানি না শাকচুন্নি? কি ধরনের ভূত বলে আপনার মনে হয়? আমার অবশ্য শাকচুন্নি ভূত দেখার সুযোগ হয়েছিল। আপনি আগ্রহী হলে,সে কথা বলবোখন একদিন....

২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:২৩

মা.হাসান বলেছেন: আমার এই ভাইটি খাওয়ার ব্যাপারে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। এক বারে এক বিয়ে বাড়িতে ১৫ প্লেট খেয়েছিলেন। আমি সে সময় ৩০০-৩৫০ গ্রাম চালের ভাত খেতে পারতাম। দুপুরে মৃতের বাড়িতে খ্যাট ছিলো। লুঙ্গি আলগা করে খেয়েছিলাম। রাতে এর পরে খেতে গেলে কেলেঙ্কারি হতে পারতো। আর আপ্যায়নের দিক থেকে বারাসাতের সাথে আমরা পারবো না, আগেই হার স্বীকার করে নিলাম B-))
মানুষদের অত্যাচারে ভুতেরা অনেক আগেই দেশ ছেড়েছে। আমার ছোটো একটা ফলের বাগান আছে। বেল গাছও লাগিয়েছি একটা, যদি বেম্মদত্যির দেখা পাই এই আশায়। তো প্রতিবেশিরা কোয়েলের ডিমের সাইজ হতেই যে ভাবে বেল নিয়ে যায়, বেম্মদত্যি তাতে না খেয়েই মনে হয় মরে গেছে।

শাকচুন্নির ঘটনা শোনার জন্য চরম আগ্রহ প্রকাশ করছি।

১৪| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:৩১

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: জানতাম বজ্রপাতে মারা যাওয়া লেকেদের লাশ চুরির হয়ে যেতো বলে এমন পাহারার ব্যবস্থা হতো!!

২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৪২

মা.হাসান বলেছেন: কবর থেকে লাশ চুরির ঘটনা শুধু বাংলাদেশেই হয় এমন না, একটা সময়ে ইউরোপেও হতো। Body snatching লিখে গুগুলে সার্চ করে দেখতে পারেন। এই বিষয়ে রবার্ট লুই স্টিভেনসনের একটা হরর গল্প আছে-- The Body Snatcher । এই ঘটনা নিয়ে একটা সিনেমাও হয়েছিলো, একই নামে।

মেডিক্যাল স্টুডেন্টদের পড়ার জন্য কংকাল লাগে। পিভিসির কঙ্কাল পাওয়া যায়, দাম বেশি না - পাঁচ-দশ হাজার টাকার মতো। তবে সত্যিকারের কঙ্কালও পাওয়া যায়। আগে দাম শুনেছি ত্রিশ হাজার টাকা। এখন কতো জানা নেই। মেডিক্যালের স্টুডেন্টরা ভালো বলতে পারবেন।

গ্রাম দেশের পারিবারিক কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরি কিছুটা কঠিন । মূলত শহর গুলোর সরকারি কবরস্থান থেকেই কঙ্কাল চুরির সুযোগ বেশি।

বজ্রপাতে মারা যাওয়া লাশের কঙ্কাল লাখ টাকায় বিক্রি হয় বলে গুজব আছে। এই গুজবের পিছনে কি কারন আমার জানা নেই। আর কবর দেয়ার পর অনেক দিন পর্যন্ত শরীরের ডিকমপজিশন হতে থাকে। কত দিন পাহারা দেয়া সম্ভব? তবে বজ্রপাতে মরা হোক আর অন্য কোনো ভাবে মরা হোক না কেনো, জীবিত ব্যক্তির দাম থাক বা না থাক, কঙ্কালের দাম আছে।

১৫| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ সকাল ৯:২২

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: বাপরে কী ভয়ানক কাহিনি, আপনার বয়স কত ছিল তখন, কোন ক্লাসে পড়তেন। আমি যে কি ডরাইতাম উফ, চোর,রাতে দরজার নিচে দিয়া ভাটির মেয়েকে পা ধরে টানতেছিলী, এটা শুনেই উঠানে এসে আমি অজ্ঞান। আমারে নিয়া সবাই বিজি, এই কাহিনির ইতি। (ধানের দিন ভাটি থেকে কাজ করতে মানুষ আসতো স্বপরিবারে)

২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:১৪

মা.হাসান বলেছেন: অপরের পা ধরে টানাটানি দেখেই আপনি অজ্ঞান? ঈদের সময়ে সালাম করে যখন বাচ্চারা টাকা চায় কিছুই মনে হয় পায় না |-) আহারে ।

আমারে নিয়া সবাই বিজি
মানুষের অ্যাটেনশন কামানোর ভালো বুদ্ধি। তবে এত কষ্ট করার দরকার কি? নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করা শুরু করে দেবেন, সবাই অন্য দিক থেকে আপনার দিকে মনোযোগ দিয়ে দেবে B-))

আমি তখন ক্লাস এইট অথবা নাইনে পড়ি, বয়স ১৪র আশেপাশে।

১৬| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:২০

করুণাধারা বলেছেন: লকডাউন সরকারীভাবে শুরু হয় ২৬ মার্চ থেকে। ৫ই এপ্রিল আপনার পোস্ট ১) অন্ধকারের গান, তারপর থেকে ছিল ২) মানব সভ্যতাকে বাঁচাতে হাত বাড়িয়ে দিন। ৩) করোনা....৪) পেঁয়াজ.....৫) মাধুরিমা ভাবি ও তার শাশুড়ি ৬) প্যারাডক্স......৭) করোনা কালের খবর। তার আগে ছিল কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমণ কাহিনী। কত আনন্দ হতো সেই সব পোস্ট পড়ে। ইদানিং কেন জানি না মিতালী হত্যা, সাইফুদ্দিন ভাইয়ের মৃত্যু, কবর পাহারা এসব বিষয়ে লিখা শুরু করলেন। আগে পোস্ট লিখতেন যে কলম দিয়ে সেটা কোথায় যে হারালেন... :||

ব্লগীয় সৌহার্দ্য বজায় রাখতে অন্তত থাইল্যান্ড ভ্রমণটা শেষ করা দরকার আপনার...

পড়লাম পাহারা। করোনার ভয়ের মাঝে ভূতে আর কী ভয় দেখাবে, গল্প পড়ে ভয় পাই নাই। পুরানো দিনের কথা মনে করে প্লাস দিলাম, তারপর আপনার ব্লগে গিয়ে পুরানো পোস্টগুলোই পড়লাম। কী চমৎকার লিখতেন আগে!! :(

২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৪০

মা.হাসান বলেছেন: আসলে এটা ভয়ের গল্প হিসেবে লিখি নি, কেউ কেউ ভয় পেয়েছেন জেনে একটু মজাই পেয়েছি। আপনি যেমনটা বলেছেন, পুরাতন স্মৃতিচারন আর ঐ সময়ের গ্রামের কিছু কালচার তুলে ধরার জন্যেই লেখা।

পোস্টের মান ইত্যাদি বিষয়েঃ আমার নিজের বেশ অনেক গুলো পোস্টের বিষয়ে আমি নিজেও সন্তোষ্ট না। আমার এই অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট না করে অপরিচিত কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করলে ঐ লেখা গুলো কতজন পড়তো এই বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। এর মধ্যে কয়েকটা পোস্ট আমার কাছে মনে হয় নি যে প্রথম পাতায় আসার মতো।

মিতালীর সিরিজের তিনটা পোস্টের মধ্যে প্রথমটা হয়তো পড়া যায়, পরের দুটো আমার নিজের কাছে ভালো লাগে নি।

কারন কি হতে পারে?
আমার নিজের কাছে মনে হয় আমি করোনার কারনে কিছুটা অবসন্ন এবং বিষন্ন। অফিসের চাপ কিছুটা বেড়েছে, তবে যৌক্তিক ভাবে বেড়েছে, অফিস আমার প্রতি কোনো অন্যায় করছে না। কিন্তু বাড়িতে আবদ্ধ থেকে যে অবসাদে ভুগছি, তার প্রভাব অন্য কাজেও পড়ছে। টাইম ম্যানেজমেন্টে বড় সমস্যা হচ্ছে। এমন না যে ব্লগিং বাদ দিয়ে অন্য কোনো প্রোডাকটিভ কাজ করছি, কিছুই ভালো মতো হচ্ছে না।

গত বছর মজনুকে নিয়ে একটা গল্প মতো দিয়েছিলাম। তার ২য় পর্ব দু পৃষ্ঠা লিখে ফেলে রেখেছি। শেষ করতে পারছি না। এরকম আরো পাঁচটার মতো লেখা আধ পৃষ্ঠ থেকে তিন চার পাতা লিখে রেখেছি, শেষ করতে পারছি না। বর্তমান পোস্ট ও গত মাসে লেখা, দু দিন ধরে এডিট করার পর পোস্ট করা।

থাই ভ্রমন- এটা নিয়ে বড় লজ্জায় আছি। প্রথম পর্ব আর ২য় পর্বের মানের বেশ কিছুটা পার্থক্য আছে। আমার মনে হয়েছে মনে ফূর্তি না থাকলে লেখায়ও তার ছাপ পড়ে। থাই ভ্রমনের পরের পর্ব অনেকটা লিখেও সেই কারনে পোস্ট করতে পারছি না। ইচ্ছে ছিলো পূজোর এই ছুটিটায় ওটা নিয়ে কাজ করবো। কিন্তু টাইম ম্যানেজমেন্টের সমস্যার কারনে হয়ে ওঠে নি।

মানুষের কষ্ট, কিছু লোকের এই সুযোগকে পুঁজি করে উপরে ওঠার ধান্দাবাজি আর ক্ষমতাসীনদের নির্লিপ্ততা - মাঝে মাঝেই মেজাজ খিঁচড়ে যায়। এই মানসিক অবস্থা নিয়ে লিখলে লেখা আরো জঘন্য হয়ে যায়। আরেকটা বেশ জঘন্য লেখা দেবো। কবিতা (সিরিয়াসলি)। তবে তার পর থেকে চেষ্টা করবো এই সব ভুলে একটু আনন্দে থাকার।

কী চমৎকার লিখতেন আগে!!

এটা যে কত বড় কমপ্লিমেন্ট বলে বোঝাতে পারবো না। অসংখ্য ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

১৭| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ২:০৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: গল্পে 35 বছর আগে রাতে পাহারা দিয়েছিলেন বলে লিখেছেন। এখন তো সবকিছু বদলে গেছে।সেই কারণে মনে হচ্ছে আপনি অতীতের কথা মনে করে দিনের বেলাতেই পাহারা দিতে গেছেন কিনা চিন্তায় পড়লাম।দেখেন অচেনা গ্রামবাংলার অনেক কিছু বদলে গেছে।যেন আবার পথ ভুল করেননা। আপনি পাহারা দিয়ে নিরাপদে ফিরুন। আমরা না হয় দেড় /2 সপ্তাহ অপেক্ষাই করবো।

২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৫০

মা.হাসান বলেছেন: করোনাক্রান্ত হবার পর মমতাদিদি, মুকুল বোস দাদা সকলেই ফোন করে খবর নিচ্ছে, প্যাকেট করা খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছে- আপনি উড়ছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, ওড়ার দিন শেষ, দুদিন পরে আবার বাইরে যেতে হবে, বাজার করতে হবে, বাসে ঝুলতে হবে।

পয়ত্রিশ বছর পর সব বদলে গেছে। এখন উন্নতির ঠেলায় মানুষ তো মরতেই চায় না। আর কবর চোরেরা এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছে, কবর চুরির মতো ছোটোখাটো দাও এখন আর কেউ মারে না।

১৮| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৪

ঢাবিয়ান বলেছেন: করুণাধারা আপুর সাথে একমত। কবর টবর বাদ দিয়ে আগের ফর্মে ফিরেন। :`>

২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৫৪

মা.হাসান বলেছেন: আমি তো ভাবতেছি আপাতত কিছু দিন ব্লগিংটাই বাদ দেই। ভালো মউসুম সামনে। এক জনের সাথে আলাপ করলাম। চায়না থেকে খালি ভায়াল আনবো। ভালো প্রেস থেকে লেবেল প্রিন্টিং করাবো। এর পর ডিস্টিলড ওয়াটার ভরে করোনার টিকা নামে বেচবো। খালি মন্ত্রীর ছেলের অ্যাপয়েন্টমেন্টটা পাচ্ছি না। :( কোনো চ্যানেল থাকলে কাইন্ডলি আওয়াজ দিবেন ।

১৯| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩৩

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: মন্তব্য আগে পড়ে মূল লেখা পড়ার সাহস হচ্ছে না। কালকে দিনের বেলা ভালো করে পড়ে মন্তব্য করবো আশা করছি।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:১১

মা.হাসান বলেছেন: এইটায় ভয়ের তেমন কিছু নাই। তবে টানেল দিয়ে ট্রেন যাবার মতো আকর্ষনিয় কিছু ও নাই, কাজেই তেমন মজা পাবেন না B-))
আশা করি এর মধ্যেই পড়া হয়ে গেছে।

২০| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৯

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: উরি সাঅস ;)

হা হা হা

দারুন অভিজ্ঞতা।
আমি কবরের ভিতরে নামার পর থেকে ভয় দূর হয়ে গেছে।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:১৩

মা.হাসান বলেছেন: অনেক বিবাহিত পুরুষের মতো খাটের নিচে লুকানোর অভিজ্ঞতা আছে, তবে কবরে নামার অভিজ্ঞতা নাই। আপনার অভিজ্ঞতার কথা শুনে বিস্তারিত জানার আগ্রহ হচ্ছে, শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।

২১| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৫২

আমি সাজিদ বলেছেন: বেশ ভয় পেলাম। পরের পর্ব জলদি দেন।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:২৩

মা.হাসান বলেছেন: লাশ কাটা ঘরে এরচেয়ে বেশি ভয়ের অনেক ঘটনার সম্মুখিন হয়েছেন নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। রুমে কংকালও নিশ্চয়ই ছিলো। সেরকম ভয়ের কিছু ঘটনা শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।

স্বাভাবিক নিয়মে প্রায় ২৮% মৃত্যু শনি আর মঙ্গলবারে হবার কথা। কাজেই গ্রামদেশের এটা বেশ কমন ঘটনা ছিলো। এর আর পরের পর্ব নেই। পরের দু দিন কারা পাহারা দিয়েছিলো জানা নেই। তবে এক বা দু বছর পরে এক শীতের রাতে আরেকবার কবর পাহারা দিয়েছিলাম। ঐ পাহারার অভিজ্ঞতা হয়তো আরেকদিন লিখবো।

২২| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:০৪

সম্রাট ইজ বেস্ট বলেছেন: ভালো লাগলো। কবরস্থানে আসলে ভূত থাকে না (যদিও ভূত বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই, তবে জ্বীন আছে) তাই পাহারা দেয়াতে ভয় না পাওয়াই উচিত। আপনি নিশ্চয়ই.......

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৩৯

মা.হাসান বলেছেন: আমার নিজের মনে হয় যাকে কেউ কেউ জ্বিন বলেন, অন্যরা তাকে ভুত বলেন, এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য নেই। এরা মানুষ না, আলাদা জাত। এদের অস্তিত্ব বিশ্বাস করি। তবে মানুষের ক্ষতি করার কতটুকু ক্ষমতা এদের আছে তাতে সন্দেহ আছে।

তবে কেউ কেউ অতৃপ্ত আত্মার কথা বলেছেন। বলেছেন অপঘাতে মারা যাওয়া মানুষের আত্মা ফিরে আসে। এই বিষয়ে আমার বিশ্বাস কম। ।

কবরস্থানে প্রচুর দোয়াদরুদ পড়া হয়। এরকম জায়গায় জ্বিন থাকলেও ভালো জ্বিন ছাড়া খারাপদের থাকার কথা না। তবে একাধিক লোক বলেছেন যে শ্মশানে খারাপ এবং ক্ষতিকর কিছু থাকে। তান্ত্রিকদের প্রায় সবাই ই এই কথা বলে থাকেন। বিষয়টা বুজুরকি হয়ে থাকতে পারে, আবার হয়তো কোনো সত্যতা আছে। আমার শ্মশান বাসের আগ্রহ ছিলো আবং আছে, কিন্তু আমাদের এলাকায় সে রকম কোনো শ্মশানের সন্ধান পাই নি বলে এই অভিজ্ঞতা পূর্ণ করতে পারি নি।

২৩| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:০৬

আকন বিডি বলেছেন: কইলাম কি? কইলো কি? ঐ সমস্যা সমস্যা হইলে তো আর একটা লিটল বয় বাংলায় ফাটতো। তখনতো ব্লগ টল্গ কোথায় ভ্যানিশ হই যাইতো, তার কোন ইয়াদ আছে।

২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৪৫

মা.হাসান বলেছেন: আমার জবাব থেকে কিছুটা ভুল বুঝাবুঝির সুযোগ রয়ে যায়, এজন্য দুঃখিত। আমি মূলত বলতে চেয়েছি মানুষের পেট গরম থাকলে মাথাও গরম হতে পারে, তা থেকে মানুষ ভুত দেখার কথা কল্পনা করতে পারে। তবে আমার মন্তব্য অন্য অ্যাঙ্গেলেও দেখা যায়, সেরকম বলাটা শোভন হবে না।

ভুল বুঝাবুঝি দূর করার জন্য অন্য মন্তব্য স্কিপ করে এখানে আসলাম, আশা করি অন্যরা বিষয়টা সহজ ভাবে নেবেন।

২৪| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৩০

আকন বিডি বলেছেন: তয় আপনেরে বস মানলাম। আপনার স্মরন শক্তি সেই লেভেলের, কোন আমলে আপনারা দুই ভাই গুরুপাকের দরুন গন্ধ উৎপাদন করলেন, সেইটা মনে রাইখা আজ এই বাংলা ১৪২৭ এর কার্তিক মাসে ব্লগে পোস্টাইলেন, ইহা কেউ পারবে না। লাগলাম বাজি।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:১১

মা.হাসান বলেছেন: ২৩ নম্বর মন্তব্যে গুরু পাকের একটা ব্যাখ্যা দিয়েছি। গুরুপাকের সাথে মাথা গরমের সম্পর্কের আবিস্কর্তা আমি না, নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায়ের টেনিদার গল্পে বারে বারে এরকম এসেছে। আশা করি আপনি ব্যাখ্যা গ্রহন করেছেন।

২৫| ২৬ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৪৪

মনিরা সুলতানা বলেছেন: লেখার পেছনের উদ্দেশ্য ভালো লাগছে ! আপনার ধারনা ই সত্যি আমার ছোটবোনের ছেলে কে জিজ্ঞেস করেছিলো মাছ কোথায় থাকে? ওর উত্তর ছিল - ডিপ ফ্রিজে।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:১৩

মা.হাসান বলেছেন: ধান গাছের তক্তার কথা আর সবার মতো আমিও শুনেছি, তবে ডিপ ফ্রিজ মাছের উৎস হবার কথা প্রথম জানলাম :|| অনেক ধন্যবাদ অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারি করানোর জন্য।

২৬| ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৮

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ''এন্টিভেনম সদরে, থানায় থাকে না।'' সদরেই তো থাকার কথা। সদরে রাখার একটা বিশেষ উদ্দেশ্য আছে, ধরতে পেরেছেন কিনা জানিনা। মূল উদ্দেশ্য, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ। এমনিতে আমাদের দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান সব সময়েই বিশ্বমানের। শুধুমাত্র এই কারনেই (জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ) লোকজন অনেক সময়ে ভুল বোঝে।

ডাল-ভাত খাওয়ানো সম্ভবতঃ খালেদা জিয়ার একটা কর্মসূচী ছিল। আপনাদের মতো লোকেরা এর যত্রতত্র ব্যবহার করে ওই কর্মসূচীর বারোটা বাজিয়েছেন। এ'জন্যেই আজ খালেদা জিয়াকে জেলের ডাল-ভাত খেতে হচ্ছে। শেইম!!!

আপনার সাধুভাই লুঙ্গির নীচে কিছু পড়তেন না? অত দামী ব্যাটারী না কিনে উনাকে একটা জাঙ্গিয়া কিনে দিলেও তো পারতেন!! আপনাদের সময়টাতেই বোধহয় সঠিক কলিকাল ছিল। বড়রা ছোটদের সামনে ধুমপান করতেন না। যখন-তখন লুঙ্গি খুলে যেতে পারে জেনেও অনেকে জাঙ্গিয়া পড়তেন না। সেই যুগ এখন আর নাই......সবই উল্টে গিয়েছে। আফসোস!!!

একটা বিশেষ প্রানীর মতো একবারে বেশী খেয়ে জাবরকাটার অভ্যাস ভালো। এটা সবাই পারে না। ঘ্যান ঘ্যান করার গুন আপনার মধ্যে এখনও পুরামাত্রাতেই চালু আছে। এটা সম্ভবতঃ ওই জাবরকাটার সাথে সম্পর্কিত। এক সময়ে বিটিভি‘তে ''ঢাকায় থাকি'' বলে একটা ধারাবাহিক ছিল। নাটকে আজাইরা প্যাচাল বেশী ছিল বলে লোকে ওই ধারাবাহিকটাকে নিয়ে হাসাহাসি করতো। আপনার ''ব্যাটারী কাহানী'' পড়ে কেন জানি সেই নাটকটার কথা মনে পড়ে গেল!!! :-B

জোক তো শুনেছি, রক্ত খাওয়া শেষ হলে টুস করে পড়ে যায়। ওটা সকাল পর্যন্ত আপনার হাটুতে কি করছিলো? সম্ভবতঃ আপনার রক্ত খাওয়া যাবে কি যাবে না, এটা নিয়ে দ্বিধায় ছিল! :P

করুণাধারা আপার মন্তব্যের শেষের প্যারাটার জন্য ওখানে একটা লাইক দিয়েছি। আশাকরি বিষয়টা ভেবে দেখবেন।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:১৩

মা.হাসান বলেছেন: আমাদের দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান সব সময়েই বিশ্বমানের।


অনেক বিদেশি নেতাই এজন্য আজকাল বাংলাদেশে আসতে চাচ্ছেন। ওনাদের দেশে ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

ডাল-ভাত খাওয়ানো সম্ভবতঃ খালেদা জিয়ার একটা কর্মসূচী ছিল। আপনাদের মতো লোকেরা এর যত্রতত্র ব্যবহার করে ওই কর্মসূচীর বারোটা বাজিয়েছেন।
এই ঘটনা প্রেমিক কুল শিরোমনি এরশাদ সাহেবের সময়ের। উনি বলেছিলেন - ভাতের উপর চাপ কমান, বেশি করে আলু খান। কেহ কেহ ওনার উপদেশ ফলো করে আলুর দোষে আক্রান্ত হয়ে শেষে বড় আলু খাবার আশায় দেশ ছেড়েছেন। ওমেরা অবশ্য বলেছিলেনকোথায় কোথায় বড় আলু পাওয়া যায় ;)

এ'জন্যেই আজ খালেদা জিয়াকে জেলের ডাল-ভাত খেতে হচ্ছে। শেইম!!!
তওবা। উনি জেলের ভাত খাবেন কেনো? এই সরকার দশটাকা কেজি চাল খাওয়ায়। এই চালের ভাত চাবাতে চাবাতে ওনার ঠোটের রঙ নষ্ট হয়ে যাবে। ওনার জন্য বাসা থেকে স্পেশাল খানা আসতো। অবশ্য সেটাতেও নাকি ওনার পোষাচ্ছে না। লন্ডনের খানার স্বাদই নাকি আলাদা। উনি মনে হয় লন্ডনেই চলে যাবেন।

আপনার সাধুভাই লুঙ্গির নীচে কিছু পড়তেন না?
বাংলাদেশের লোকেরা মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পছন্দ করে। স্কটিশরাও তো কিল্টের নিচে কিছু পরে না। কেহ কেহ তাবিজ কবচ ঝুলানোর জায়গা না পেয়ে অবশ্য লুঙ্গির নিচে জাঙ্গিয়ার ভিতরে রেখে পরে, এরা সংখ্যালঘু (বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু নাই, এরা সব বাইরে থাকে)।

নাটকে আজাইরা প্যাচাল বেশী ছিল বলে লোকে ওই ধারাবাহিকটাকে নিয়ে হাসাহাসি করতো। আপনার ''ব্যাটারী কাহানী'' পড়ে কেন জানি সেই নাটকটার কথা মনে পড়ে গেল!!!

তেরো-চোদ্দ বছরের ছেলেদের অনেকের মধ্যে একটু শো অফ টেনডেনসি থাকে। ঐটা দেখানোর জন্য এই প্রসঙ্গের অবতারনা। তাই বইলা আমাকে একজিবিশনিস্ট ভাইবেন না। ঐডা আবার আম্রিকান জিনিস, আমার এত খানি দৌড় নাই।

জোক তো শুনেছি, রক্ত খাওয়া শেষ হলে টুস করে পড়ে যায়। ওটা সকাল পর্যন্ত আপনার হাটুতে কি করছিলো? সম্ভবতঃ আপনার রক্ত খাওয়া যাবে কি যাবে না, এটা নিয়ে দ্বিধায় ছিল!

ঠিক ধরেছেন! কিরপিনের রক্ত খাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে ব্যাটা দ্বিধায় ছিলো। তবে এমনও হতে পারে রাতের শুরুতেই কামড় দেয় নি,শেষের দিকে বা ভোরে কামড় দিয়েছিলো। জিজ্ঞাসা করা হয় নি। পরের বার আপনার কথা বলে জিজ্ঞাসা করে নেবো।

করুণাধারা আপার মন্তব্যের শেষের প্যারাটার জন্য ওখানে একটা লাইক দিয়েছি। আশাকরি বিষয়টা ভেবে দেখবেন।

জ্ঞানী-গুনিদের কথা শুনে তো ধারণা হয়েছিলো আমার ভাবনা চিন্তা করার মতো শক্তি নাই :-& ! আপনি বলছেন? আচ্ছা টেরাই করে দেখবো ভাবনা-চিন্তা আমার মগজের ক্ষমতায় কুলায় নাকি। #:-S

২৭| ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:২০

সামিয়া বলেছেন: সুস্পষ্ট বর্ণনা, অসাধারণ লেখনী ও অভিজ্ঞতা, যে কোন অকাল মৃত্যুই দুঃখজনক। এখন তো অনেক বছর হয়ে গেলো উনি মারা গিয়েছেন। তবু উনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।
ও আরেকটা ব্যপার, এই রকম ঘটনা বা অভিজ্ঞতা কিংবা এরকম কিছু যে আছে আমার জানার বাইরের জগত, লেখা পড়ে বাংলাদেশের চিত্রপটের উপর নতুন একটি বিষয় জানলাম, কৃতজ্ঞতা ।

২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:২৯

মা.হাসান বলেছেন: বড় আব্বারা সকলেই অনেক আগেই গত হয়েছেন। বেশ কিছুদিন হলো কাজিনরাও যাওয়া শুরু করেছেন। গল্পের সাধু ভাই ও বেশ কয় বছর হলো মারা গেছেন। গত কাল রাতে আরেক ফুফাতো ভাই মারা গেলেন, আজ মাটি হলো। আল্লাহ আপনার প্রার্থনা কবুক করুন। আল্লাহ সকলের আত্মাকে শান্তি দিন।
আমার ধারণা ছিলো বাংলাদেশের সব এলাকাতেই কবর পাহারার চল আছে। সকলের মন্তব্য হতে মনে হচ্ছে আমার ধারণা ভুল ছিলো। যা হোক বিষয়বস্তুর নতুনত্ব আছে যেনে ভালো লাগলো। উৎসাহমূলক সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। অশেষ শুভ কামনা।

২৮| ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:৫৫

নীল আকাশ বলেছেন: বহু বছরের পুরাতন সব স্মৃতি নিয়ে লেখা শুরু করলেন মনে হয়?
বেশ কিছু পোস্ট দিলেন। তবে আপনি যথেষ্ঠ সাহসী ছিলেন। রাতের বেলা কবর পাহারা দিতে যাওয়া অনেক সাহসের কাজ।
গন্ধের ব্যাপারটা মনের কোন কিছু নয় তো?

২৯| ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:২৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: জীবনে বিভিন্ন ধরণের অভিজ্ঞতা থাকা ভালো। একটু বিরল প্রকৃতির অভিজ্ঞতা আপনি বর্ণনা করেছেন। তবে আপনার পুরো বর্ণনা খুব ভালো লেগেছে। গ্রাম অঞ্চলের এই ধরণের বর্ণনা শুনতে আমার খুব ভালো লাগে।

৩০| ২৯ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:৫০

আমি সাজিদ বলেছেন: মাহা ভাই, কিছু পরীক্ষার আগে নানান কিসিমের হাড়গোড় বিছানায় নিয়ে ঘুমিয়েছি গিয়েছি। অনেক সময় ফরমালিনে ভেজা ভিসেরা ( মানুষের শরীরের কাটা বিভিন্ন অংশ) ধরে এসে ( শুরুর দিকের ক্লাস থেকে) লাইফবয় সাবান দিয়ে দুই বার হাত ধুয়ে ক্যান্টিনে কতো সিঙ্গারা খেলাম! মোটেও ভয় লাগে নি। এভাবেও যে ভয় লাগা উচিত, সেটা মনেই আসেনি।
কিন্তু রাতের বেলা একা মর্গের সামনে গেলে ভয় লাগতো, মাঝে মাঝে গান গাইতে গাইতে রাস্তাটা পারি দিতাম, ভয়ের চোটে। একই ভাবে গ্রামের স্বাভাবিক ঘটনা হলেও মস্তিস্কে প্রিসেট করা আছে যে, এই ঘটনায় ভয় পেতেই হবে। কি অদ্ভুত বিষয় তাই না?

৩১| ২৯ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:৩৯

অধীতি বলেছেন: ভাবছিলাম ভুতের দেখা পাবেন হলো না, যাক আপনার লেখাটা বাস্তব কিছুক্ষণের জন্য অতীতে ছিলাম।

৩২| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:১৯

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: আপনে কই
নতুন পোস্ট কই
এত ব্যস্ততা ভালা না

৩৩| ১১ ই নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৮

জুন বলেছেন: এই কাহিনী কবে লিখছেন কিছুই জানি না মাহা। আসলে অনেক দিন ব্লগে না আসার কুফল :(
আমিও ভুয়ার মত বলতে চাইছিলাম ঘ্যান ঘ্যান নিয়া :`> এত প্যাচাইছেন ক্যান! কে কার কি হয় সেই গিট্টু খুলতে গিয়া বার বার হোচট খাইলাম। তারপর দেখি হাটুর মধ্যে জোক :-&
কবর পাহারা শুইনাই ভয় পাইলাম সাংঘাতিক।
ভালোলাগা দিলাম কিন্ত। আর দুইখান দাওয়াত দিয়া গেলাম। দাওয়াত দিতে না আসলে এই ভৌতিক কাহিনী জানা হতো না।

৩৪| ১৫ ই নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:০৭

করুণাধারা বলেছেন: পোস্টের মান ইত্যাদি বিষয়েঃ আমার নিজের বেশ অনেক গুলো পোস্টের বিষয়ে আমি নিজেও সন্তোষ্ট না।

কথাটা একেবারেই ঠিক না, আপনার লেখার মান আগের মতই ভালো আছে। সমস্যা আমার নিজের, ভীতিকর বাস্তব এড়ানোর জন্য হালকা রম্য ধরনের লেখা ভালো লাগে, এ কথাটাই বলতে চেয়েছিলাম। আপনি যতটা সিরিয়াসলি নিয়েছেন তেমন কিছু না। আপনার লেখা বরাবরের মতো ভালো হচ্ছে, আপনার যা লিখতে ভালো লাগে তাই লিখতে থাকুন...

অনেক ছুটি নিয়েছেন, এবার ফিরে আসুন।

৩৫| ১৭ ই নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:০৯

কবিতা পড়ার প্রহর বলেছেন: আপনাকে খুঁজতে এলাম। অনেকদিন দেখা নাই।

আমার জন্য করোনা ভীতি করছিলেন। আপনি কোথায় আছেন? কেমন আছেন?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.