নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মিকসেতু মিঠু

মিকসেতু মিঠু › বিস্তারিত পোস্টঃ

গল্প ও বাস্তবতা

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৩৩



কিছুদিন থেকেই একটু নিরিবিলি থাকার প্রয়োজন বোধ করছিলাম।তাই এবারে শীতের ছুটির আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে ছুটিটা একা একা ভার্সিটির হলেই কাটাবো।ভার্সিটি থেকে ৬ দিন শীতের ছুটি ঘোষণা করার পর তাই হলেই ছিলাম।ছুটির প্রথম দিনেই সব বন্ধু যার যার বাসায় চলে গেলো।আমি একা হয়ে গেলাম।সময়টা অনেক উপভোগ করছিলাম।কিন্তু এলাকা থেকে বন্ধুরা বাসায় ডাকছিলো।প্রথমে যেতে রাজী হইনি।পরে ওরা বললো যে আমি গেলে নাকি থার্টি ফাস্ট নাইটে পিকনিক করবে।ওরা যুক্তি দিলো যে এবার বাসায় না গেলে গ্রীষ্মের ছুটির আগে তো আর দেখা হবে না।আর গ্রীষ্মের ছুটির এখনো প্রায় ৬ মাস!বন্ধুদের চাপাচাপিতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হলাম।

যখন সিদ্ধান্ত নিলাম যে বাসায় যাবো,তখন সন্ধ্যা ৬টা বাজে।অলরেডি ছুটির ২ দিন চলে গেছে।আগামীকাল সকালের জন্য অপেক্ষা করলে আরও একদিন লস।এদিকে রাতের বেলা বাসে যাওয়া নিরাপদও নয়।কারণ কুয়াশার কারনে বাস অনেক রিস্কি।অগত্যা রাতের ট্রেনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।রাতে যে ট্রেনটা আছে ওটার নাম- লালমনি এক্সপ্রেস।সর্বশেষ যেবার এই ট্রেনে এসেছিলাম,সেবার ট্রেনটা ৬ ঘণ্টা লেট করেছিলো,তাই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে এই ট্রেনে আর কখনো যাবো না।কিন্তু এবার বন্ধুদের কারনে প্রতিজ্ঞা ভাঙলাম।মনে অবশ্য সামান্য হলেও আশা ছিলো যে-এবার লেট নাও করতে পারে!

যাইহোক,কমলাপুরে গিয়ে যখন টিকেট এর লাইনে দাঁড়ালাম তখন মাইকে ঘোষণা করলো যে –রাত ১০টার লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১২ টায় স্টেশনে ঢুকবে।অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিলম্বের কারনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

ঘোষণায় দুঃখিত শব্দটা থাকলেও কথা বলার স্টাইলে কর্তৃপক্ষকে মোটেও দুঃখিত মনে হল না।দুঃখিত হওয়ার অবশ্য কারনও নেই।কারণ প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ বার করে ওদেরকে এই ঘোষণা দিতে হয়।দিনে ১০ বার দুঃখিত হলে কর্তৃপক্ষের চলবে কেনো!!

ঘোষণা শুনে মেজাজ গরম হলেও করার কিছু নাই।বন্ধুত্বের টান বলে কথা!রেলমন্ত্রীকে মনে মনে কয়েকটা গাল দিয়ে টিকেট কাটলাম।কিন্তু এখানে আবার আরেক সার্কাস!গতবার আসার সময় ভাড়া ছিলো ১৯৫ টাকা।মাঝখানে ভাড়া ৫০% বারার কথা শুনেছিলাম।সেই অনুযায়ী টিকেটের দাম হওয়ার কথা ৩০০ টাকা।কিন্তু আমার কাছে দাম রাখলো ৩৬০ টাকা।টিকেট দাতার সাথে এই ব্যাপারে কিছুক্ষণ তর্ক করার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু লাইনের পেছনের লোকদের তাড়াহুড়ার কারনে সে ইচ্ছে বিসর্জন দিতে হলো।

যারা ভালো কল্পনা করতে পারে সময় কাটানো তাদের কাছে কোনও ব্যাপার না।আমিও ওই দলের পাবলিক।তাই ট্রেন আসার দুই ঘণ্টা স্টেশনে বসে কল্পনা করে কাটিয়ে দিলাম।কল্পনার পুরো সময়টা আমার গার্ল ফ্রেন্ডের সাথে অনেক মজার মজার কথা বললাম।বাস্তবে অবশ্য এই গার্ল ফ্রেন্ডের কোনও অস্তিত্ব নেই।

ট্রেন এসে পৌঁছালো রাত ১২ টা ৪০ এ।ট্রেন আসা মাত্র সবাই এমন তাড়াহুড়ো শুরু করলো যে এদের দেখলে যে কেউ ভাববে এক্ষুনি বুঝি ট্রেন ছেড়ে দেবে।১০ সেকেন্ডের মধ্যে ট্রেনে উঠতে না পারলে ট্রেন মিস হয়ে যাবে!আমি বসে বসে এসব দেখছিলাম।ট্রেন ছেড়ে দেবার কিছুক্ষণ আগে উঠে পড়লাম।আমার সিট খুঁজে পেয়ে বসতে যাবো,এমন সময় অবাক হয়ে দেখলাম আমার সিটের সামনের সিটে ছবির মত সুন্দর একটা মেয়ে বসে আছে।যাক,ট্রেনের ভেতরে ৯ ঘণ্টা অন্তত ভালো কাটবে এই আশা নিয়ে সিটে বসে পরলাম।

ট্রেন ছেড়ে দিলো,আমিও ছেড়ে দিলাম...গান।মোবাইলে গান চালু করে হেডফোন কানে দিলাম।সামনের ছবিটা আমার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না।আমিও সেই বান্দা,গায়ে পরে কথা বলে ছোট হওয়ার কোনও ইচ্ছেই নেই আমার।কেউ কোনো কথা না বললেও মেয়েটার সাথে কয়েকবার চোখাচোখি হলো।আমি তখন বালামের গান শুনছিলাম-

“চোখে চোখে চোখ পড়েছে

কি বলবো মুখে?

কে তোমায় সাজিয়েছে এতো অপরূপে?

আমার কল্পনায় হাজার ভাষা নীরব ধুঁকে ধুঁকে...”

যমুনা সেতুর কাছে এসে ট্রেন দাঁড়িয়ে পড়লো।১৫ মিনিট দাঁড়াবে।ততক্ষণে কান বাবাজীকে রেস্ট দেওয়ার জন্য আমি হেডফোনটা খুলে ফেলেছি।এমন সময় আমাকে অবাক করে দিয়ে সামনের ছবিটা কথা বলে উঠলো-‘এখানে কতক্ষন ওয়েট করবে?’

-‘আমাকে বলছেন!’ আমি আকাশ থেকে পড়ার ভান করলাম।

-আপনি ছাড়া আশেপাশে আর কেউ আছে?

-জ্বি না।

-তাহলে আপনাকেই প্রশ্ন করেছি।

-হুম...এখানে ১৫ মিনিটের মত দাঁড়াবে।

-এতক্ষণ!!! এটা কি লোকাল ট্রেন নাকি ইন্তারসিটি।

মেয়েটা আমাকে আলোচনায় অংশ নিতে বলছে।এই চান্স মিস করার মানে হয় না।মওকা পেয়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম-‘কোথায় যাবেন?’

-গাইবান্ধা।

-গাইবান্ধায় কি আপনার বাসা?

-জ্বি।

-গাইবান্ধার কোথায়?

-সুন্দরগঞ্জে।

-কি বলেন! আমার বাসাও তো সুন্দরগঞ্জে।

-জী,আপনাকে তো আমি চিনি।

-আমাকে চেনেন!!কিভাবে?

-আপানার মত ভালো স্টুডেন্টকে সবাই এমনি’ই চেনে।

এবারে মেয়েটার কথা শুনে চির নির্লজ্জ এই আমি কিছুটা লজ্জা পেলাম।বললাম-আপনার নামটা জানতে পারি?

-জেরিন।

-জেরিন...নামটা কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে?

-আপনি ক্লাস এইটের বৃত্তি পরীক্ষায় থানা ফার্স্ট হয়েছিলেন না?ওই লিস্টে ৩ নম্বরে আমার নাম আছে।

ও আচ্ছা...এই সেই জারিন।বন্ধুদের মুখে যার কথা এতো শুনেছি,তাকে সামনাসামনি দেখে চোখ দুটোকে ধন্য হবার সুযোগ দিলাম।এরপর বাকী সময়টা কাটাতে আর কষ্ট হয়নি।ট্রেনের দেরী হওয়াতে ট্রেন মন্ত্রীকে যেসব গালিগালাজ করেছিলাম সেসব উইথড্রো করে নিলাম।এতো সুন্দর একটা মোমেন্ট পেয়ে আগের সব বিরক্তি ভুলে গেলাম।জেরিনের সাথে গল্প করতে করতে সময়টা ভালোই উপভোগ করছিলাম।কিন্তু বাঁধ সাধছিলো বেরসিক শীত।আমার পরনে শীতবস্ত্রের স্বল্পতার কারনে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কাঁপছিলাম।তবে এটা একদিক থেকে ভালোই হলো।আমার করুন অবস্থা সহ্য করতে না পেরে জেরিন ওর ব্যাগ খুলে একটা চাদর বের করে আমার দিকে বাড়িয়ে ধরলো।হাজার হোক মেয়ে মানুষের মন।পুরুষদের কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা ওদের দেওয়া হয়নি!

জেরিনের চাদরে নিজেকে জড়িয়ে কিছুটা রক্ষা পেলাম।বাকী রাত আমরা দুজন গল্প করে কাটালাম।সকাল ১০ টায় ট্রেন এসে পৌঁছালো।আমরা দুজন নেমে পরলাম।চারদিকে কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে।একটু দূরের জিনিসও ভালোভাবে দেখা যাচ্ছিলো না। জেরিনকে ওর চাদর ফিরিয়ে দিতে চাইলাম।কিন্তু ও বললো-“এখনি দিতে হবে,এমনতো কোনও কথা নেই।তাছাড়া এখনও প্রচুর শীত।ঠাণ্ডা লেগে আবার নিউমনিয়া ধরানর চেয়ে দুই-এক দিন পরে ফেরত দিলে অসুবিধা তো নেই।”

-আমার আবার কিসের অসুবিধা!জানতে চাইলাম, কিভাবে ফেরত দেবো?

-কাল আসতে পারবেন?

এতক্ষণ ভাব বাচ্চে কথা বলার কারনে আমি কিছুক্ষনের জন্য ভুলেই গিয়েছিলাম যে আমরা তুমি করে কথা বলছিলাম নাকি আপনি করে!জেরিনের কথায় সে ভুল ভাঙলো।ভাবলাম কি আজব মেয়েরে বাবা! সারা রাত গল্প করে কাটানোর পরেও আপনি’তেই রয়ে গেছে।তুমি করে বললে কি এমন ক্ষতি হয়।এমনতো না যে তুমি করে বললেই আমি ভাববো ও আমার প্রেমে পরে গেছে!

-কি ভাবছেন?

-জ্বি,না...মানে, কাল কোথায় আসবো?’জেরিনের কথায় আমি বাস্তবে ফিরলাম।

-আমাদের বাসার সামনে আসবেন।আমি থাকবো।

-ঠিক আছে।কিন্তু আপনাদের বাসাটা ঠিক চিনবো কিভাবে?

জেরিন ওর বাসার ঠিকানা বললো।আমাদের বাসা থেকে এক কিলোর মত হবে।চিন্তা নেই,হাঁটতে হাঁটতে যাওয়া যাবে।‘কিন্তু কখন?’

-কাল ঠিক ভোর ৫ টায়।

-ভোর ৫ টা!! কি বলছেন? আমি অনেক লেট রাইজার।

-একদিনের জন্য একটু আর্লি রাইজার হবেন।ওকে,কাল ভোরে আমি অপেক্ষা করবো।’ বলেই জেরিন হেলতে দুলতে চলে গেলো।আমি ওর গমন পথের দিকে চেয়ে থাকলাম।সকালে ওঠার চেয়ে আমার কাছে হাবিয়া দোজখে একদিন কাটানো অপেক্ষাকৃত সহজ মনে হয়।কিন্তু কি আর করা।যে মেয়ে আমার কষ্টের কথা ভেবে নিজের চাদর দিয়ে দিয়েছে তার জন্য একদিন নাহয় সকালে উঠলাম!

বাসায় এসে বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ করলাম।অনেক দিন পর পুরনো প্রিয় জায়গায় বসে আড্ডায় মজে থাকলাম।এতকিছুর পরেও জেরিনের ব্যাপারটা মনের মধ্যে খচ খচ করতে লাগলো। বাসায় এসে খেয়ে বিছানায় গেলাম কিন্তু ঘুম বাবাজীর দেখা নেই।তার বদলে শুয়ে শুয়ে জেরিনকে নিয়ে ভাবতে লাগলাম।মেয়েটার একটা ব্যাপার আমাকে খুব মুগ্ধ করলো।সে সারা রাত আমার সাথে অনেক ফ্রি বিহাভ করেছে,আমার কষ্টে কাতর হয়ে চাদর দিয়েছে কিন্তু আসল জায়গায় ঠিকই দূরত্ব বজায় রেখেছে।আপনি থেকে ভুলেও তুমিতে নামেনি।কিন্তু একটা ব্যাপার কিছুতেই বুঝতে পারলাম না,চাদর ফিরিয়ে দেবার জন্য আলাদাভাবে ডাকার কি প্রয়োজন ছিলো?মেয়েটার আচরন আমার কাছে ক্রমেই রহস্যজনক মনে হতে লাগলো।

ঘড়ির দিকে তাকালাম।রাত তিন টা বাজে।এখন ঘুমানোর কোনও মানে হয় না।একবার ঘুমালে সকাল ১০ তার আগে জাগনা পাওয়ার কোনও চান্স’ই নেই।হাজার হলেও একটা মেয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করে থাকবে।যে মেয়েকে ভেবে সারা রাত পার করলাম,তার সাথে দেখা করতে না পারলে আফসোস থেকে যাবে।বাকী রাতটাও জেরিনকে ভেবেই পার করলাম।যতই ভাবলাম মেয়েটার প্রতি ততই দুর্বল হয়ে পড়লাম।যা হবার হবে-এই ভেবে ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে পড়লাম।

এতো ভোর নাকি রাতে, বের হতে একটু ভয় ভয় করছিলো।কুয়াশার কারণে সামনে দুই হাতের বেশী কিছুই দেখা যাচ্ছে না।সম্ভবত সে কারনেই ভুত তো দূরের কথা,কোনও মানুষের সাথেও দেখা হলো না।কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে হাঁটছিলাম।জেরিনদের বাসার সামনে যখন আসলাম তখন ৫ টা ৫ বাজে।কোথাও কাউকে দেখতে পেলাম না।ওই মুহূর্তে যে গানটা শুনছিলাম অদ্ভুতভাবে সেই গানের সাথে আমার মিল খুঁজে পেলাম।আমি জেরিনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম আর আমার কানে বাজছিলো তাহসানের গান -

“পায়ে পায়ে পথ চলা,

কুয়াশায় ঢাকা এই শহরে

খয়েরি চাদরে জড়ানো আমি

আর জড়ানো শীতের আদরে।

পায়ে পায়ে পথ চলা

মেঘে ঢাকা ভোরের আলোতে

যতদূরে চোখ যায়,নেই যে কেউ আর

আমি একা ভোরের আলোতে

শুকিয়ে যাওয়া পাতাগুলো

পায়ের চিহ্ন রেখে দেয়,

বেঁচে থাকা মানুষগুলো কেনো-

হৃদয়ের চিহ্ন মুছে দেয়...”

৫ টা ২০ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকার পরেও জেরিনের কোনো সন্ধান না পেয়ে ফিরে আসতে যাবো এমন সময় ভুতের মত কোত্থেকে যেন ও আমার সামনে এসে দাঁড়ালো।

-‘কি ব্যাপার,কোথায় যাচ্ছো?’আচমকা জেরিনকে দেখতে পেয়ে ভয় পেলেও সামলে নিলাম।কান থেকে হেডফোনটা খুলে বললাম-‘এতক্ষনে সময় হলো?’

-‘আমিতো সেই ৫ টা থেকেই ছিলাম।ভাবলাম দেখি তুমি আমার জন্য কতক্ষন ওয়েট করো।’ জেরিনের কথায় আমার ঘোর কাটলো।

-আচ্ছা আমরা কি এতক্ষণ ‘তুমি’ করে বলছিলাম!!

-হ্যাঁ,অবাক হলে নাকি?

-না,মানে...গতকাল তো আমরা আপনি করে বলছিলাম?’আমি শোধরানোর চেষ্টা করি।

-তাতে কি?এক মিনিটেই মানুষের কতো কি চেঞ্জ হয়ে যায়, আর তুমি পড়ে আছো গতকালে!

-তাই...তা তোমার কি এমন চেঞ্জ হয়ে গেলো?’আমার কথা শুনে জেরিন আমার চোখের দিকে তাকালো।বললো-‘তোমার যা চেঞ্জ হয়েছে,আমারও তাই হয়েছে।’

-‘আমার আবার কি হলো?’

-কেনো,আজ সারা রাত ধরে আমাকে নিয়ে ভাবোনি তুমি?

জেরিনের প্রশ্ন শুনে আমি কিছুটা অবাক হই।

-তুমি কিভাবে বুঝলে?

-তোমার চোখের দিকে তাকালে যে কেউ বুঝবে।

-ঠিক আছে,আমার ব্যাপারটা বুঝলাম।কিন্তু তুমিতো আর সারা রাত ধরে আমাকে ভাবোনি।তাহলে তোমার মধ্যে চেঞ্জ হলো কিভাবে?

-কে বলছে,আমি ভাবিনি?

-কই,তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে তো আমি কিছু বুঝতে পারছি না?

-আরে গাধা!!মেয়েদের কি সব কিছু বোঝা যায়?আমরা কতো কি ব্যাবহার করি- স্পট রিমুভার,আই শেডো...এতো কিছুর পরেও যদি চোখ দেখেই সবকিছু বুঝতে পারো,তাহলে ওগুলোর সার্থকতা কোথায়?

ভেবে দেখলাম,ঠিকই তো।আমার ওতো কিছু বোঝার’ই বা কি দরকার?জেরিন আর আমি পাশাপাশি হাঁটতে লাগলাম।ঠাণ্ডার কারণে দুজনেই কিছুক্ষণ পর পর কেঁপে কেঁপে উঠছি।একসময় জেরিন বললো- ‘একটা গান শোনাবা?’

-হঠাৎ গান কেনও?

-এই মুহূর্তটাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য।

-শোনাতে পারি,কিন্তু একটা শর্ত আছে?

-বলো?

-আমার অনেক দিনের একটা শখ আছে।আমি চাই আমার প্রিয় মানুষটা সেটা পূরণ করুক।তুমি যদি এতে রাজী থাকো,তাহলে শোনাতে পারি।

-তোমার যেকোনো শখ পূরণ করতে আমি রাজী।

-‘থ্যাঙ্ক ইউ।’ জেরিনের সম্মতি পেয়ে আমি গাইতে শুরু করলাম-

“আজ ভোরের আলোয়,চোখ মেলে দেখি

তুমি ঘুমিয়ে এলো চুলে...

এ কোনো কল্পনা নয়...আজ প্রথম সকাল।

আজ থেকে প্রতিদিন তুমি আমার ছায়ায় বন্দী,

বিনিময়ে দেবো তোমায় অজস্র গোলাপ

জড়িয়ে ধরে মাতাল করবো প্রতিটি রাত।

একই চাদরে জড়িয়ে হাঁটবো ঘাসের পথে-

তোমার প্রতিটি কান্না হবে আমার জন্য

আর তা মুছে দেবো আমারই হাতে......।”



-‘বলো কি চাও তুমি?’জেরিন জানতে চাইলো।আমি বললাম,

-একই চাদরে জড়িয়ে হাঁটবো ঘাসের পথে...।

আমার কথা শুনে জেরিন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো।তারপর ওর চাদর মেলে ধরে বললো-‘এসো,...আজ থেকে আমার সবকিছুই তোমার।’

আমি বললাম-তোমাকে আমার সামনে থাকতে হবে।

-কেনো?

-শোনোনি,লেডিস ফার্স্ট...।

এবার আমি হাত বাড়িয়ে ধরালাম।জেরিন মুচকি হেসে আমার চাদরের ভেতর ঢুকে পড়লো।আমরা একসঙ্গে ভোরের শিশির ভেজা ঘাস মাড়িয়ে হাঁটতে থাকলাম।

ভোর শেষে সকাল হলো।সকালের পর দুপুর,দুপুর গড়িয়ে রাত...আমরা হাঁটতেই থাকলাম।আমাদের পথ ফুরোচ্ছিলই না।ভালোবাসার পথ কখনো ফুরোয় না......।

বাস্তবতাঃ ট্রেন বারোটায় আসার কথা থাকলেও,আসলো রাত একটা ত্রিশে।আমার কল্পনা শক্তি মোটেও ভালো না।পুরো সময়টা চরম বিরক্তিতে কাটলো।স্টকে যতো গালি ছিলো,সব ট্রেন সংশ্লিষ্ট বেক্তিদের চৌদ্দ গুষ্ঠির পেছনে বেয় করলাম।

১ টা ৩০ এ ট্রেন আসলেও ছাড়লো রাত ৩ টায়।কিসের জন্য এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো তাও বুঝলাম না।ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে ট্রেনে উঠলাম।পুরো কমপার্টমেন্তে একটা সুন্দরী মেয়ে থাকা তো দূরের কথা,একটা মহিলাও ছিলো না!

আমার সিট খুঁজে পেয়ে দেখি সেখানে এক লোক নাক ডেকে ঘুমোচ্ছে। ওনাকে ডিস্টার্ব না করে অন্য একটা ফাঁকা সিটে বসলাম।ট্রেন ছেড়ে দেবার পরে বুঝলাম আসল ঠাণ্ডা কি জিনিস!!হেডফোনে গান শোনাতো দূরের কথা,আমার এই নন-মাল্টিমিডিয়া নকিয়া ১৬১০ ফোনে রিংটোন ছাড়া শোনার মত কিছু ছিলো না।যাহোক,পুরো নয়টি ঘণ্টা অসহনীয় ঠাণ্ডায় জমে যখন এসে নামলাম,ততক্ষণে আমি ডীপ ফ্রিজের বরফে পরিণত হয়েছি।...এই ছিলো বন্ধুদের ডাকে সাড়া দেওয়ার ফল!!

ও আচ্ছা...মাঝখানে অবশ্য আরেকটা কাজ করেছি।ট্রেনে আসার সময় ব্যাগ থেকে ল্যাপটপটা বের করে ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে এই গল্পটা লিখেছি।

* * * * *

মিকসেতু মিঠু

ওসমানী হল,

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়।।

[email protected]

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৩৫

অংকনের সাতকাহন বলেছেন: ভাল লাগল

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৪৩

মিকসেতু মিঠু বলেছেন: thank u

২| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৫৫

কালোপরী বলেছেন: অনেক বড় :( পুরাটা পড়তে পারলাম না :(

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:৫২

মিকসেতু মিঠু বলেছেন: আহারে!!!

৩| ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৪০

আজমান আন্দালিব বলেছেন: বেশ কল্পনা প্রবণ তো আপনি!

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:৫২

মিকসেতু মিঠু বলেছেন: কাজ নেইতো ভাই,কি আর করবো বলেন??

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.