নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে...

জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব

ওমর হাসান আল জাহিদ

অনেক কিছুই করতে চাই, কিন্তু কিছুই করতে পারি না। খুব আগ্রহ নিয়ে কোনো কিছু শুরু করলেও প্রচন্ড অনাগ্রহ নিয়ে সেটি শেষ না করেই উঠে আসি! কবে যে নিজের উন্নতি হবে! এডভোকেট জজ কোর্ট, ঢাকা। এলএল.বি., এলএল.এম., ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ওমর হাসান আল জাহিদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্মনিরপেক্ষতা: সংবিধানের বিলুপ্ত ১২নং অনুচ্ছেদ এবং বিকৃত ব্যাখ্যা

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১১:৫৫

আমি ছোটবেলা থেকেই ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুনে আসছি। কিন্তু কখনোই বিষয়টি ভাল করে বুঝতে পারতাম না। এখন আমি আইনের ছাত্র বিধায় আমাদের বাহাত্তরের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার অনুচ্ছেদটি পড়ি। এটি পড়ার পরে আমার কাছে মনে হয়েছে এত চমৎকার একটি অসাম্প্রদায়িক ধারণার কত বিকৃত ব্যাখ্যাই না দেয়া হয়েছে! কেউ এটির সমালোচনা করছেন বুঝে, আবার কেউ করছেন না বুঝেই। অনেকে আবার ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মহীনতা হিশেবে সমালোচনা করেন। ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের মূল সংবিধানকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং আদর্শ সংবিধান। এ সংবিধানে মূলনীতি হিশেবে গ্রহণ করা হয় গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদকে। এগুলোই ছিল আমাদের মুক্তিসংগ্রামের অনুপ্রেরণা।



অথচ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এসেই সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করেন। আমাদের মূলনীতিসমূহকে, যেগুলো বাংলাদেশ সৃষ্টির পিছনে আদর্শ হিশেবে কাজ করেছে, পরিবর্তন করে দেন। বাতিল করে দেন ধর্মনিরপেক্ষতা সম্বলিত ১২নং অনুচ্ছেদকে। আমি নিচে বাতিলকৃত ১২ অনুচ্ছেদটি তুলে দিচ্ছি:



"ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের জন্য---

(ক) সর্বপ্রকার সাম্প্রদায়িকতা,

(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদাদান,

(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার,

(ঘ) কোন বিশেষ ধর্মপালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাঁহার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।"




এই অনুচ্ছেদটি হল ধর্মনিরপেক্ষতার পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা। এর চেয়ে চমৎকার অসাম্প্রদায়িক বিধান আর কি হতে পারে! অথচ এটিকে বাতিল করে দিলেন জিয়াউর রহমান। প্রতিনিয়ত এটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। এই বিধানটি না-কি ধর্ম বিরোধী! অথচ এই বিধানটি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি চমৎকার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার রক্ষাকবচ ছিল।



এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। অনেকে মনে করেন, আমরা ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা নিয়েছি ভারতের সংবিধান থেকে। অথচ সত্য এই যে, বাংলাদেশের সংবিধান বিধিবদ্ধ হবার চার বছর পরে ভারত রাষ্ট্রের সংবিধানে 'ধর্মনিরপেক্ষতা' রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নীতি হিশেবে সংযোজন করে।



ভবিষ্যতে আরেকটি বিস্তারিত পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা রইল।

মন্তব্য ৪৫ টি রেটিং +৭/-৫

মন্তব্য (৪৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০০

অরণ্য আনাম বলেছেন: অতি প্রয়োজনীয় পোষ্ট।


============================================

হিশেবে নয়, হবে "হিসেবে"

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০২

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: ধন্যবাদ বানান বিষয়ে সতর্ক করার জন্য। কিন্তু বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র সবসময় "হিশেবে" ব্যবহার করে। তাই আমিও করলাম।

২| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০২

মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: কিন্তু তোমার জন্য আগে জরুরী হইলো- যেভাবে এই অঞ্চলে 'সেকুলারিজম' আসলো- আসার আগে কিভাবে ইউরোপভূমিতে এইটার জন্ম ও বর্ধন হইলো সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানা। জানলে তুমি এইভাবে লিখতা না। এইটা অবশ্য দীর্ঘমেয়াদী পক্রিয়া।

আমাদের রাষ্ট্রের প্রেক্ষাপট সামনে নিয়া তুমি এই পোস্টটা পড়তে পারো এই বিষয়ে-

ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট আর "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" বলে আধুনিক রাষ্ট্র পক্ষে দাঁড়ানো - একই কথা।

ভূপর্যটক

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫৫

এর আগে "চিন্তার ইতিহাসে: ধর্ম কী" শিরোনামে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম। অনেকে দাবি করে "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়"। এ'ব্যাপারে আমার মন্তব্য কী - অনেকে জানতে চেয়েছেন। বিষয়টার গুরুত্ত্ব বিবেচনা করে এটাকে আলাদা পোষ্টে দিলাম।

ধর্মের পারলৌকিক প্রকল্প:
ধর্মের প্রজেক্ট হলো, একটা পারলৌকিক জগতের আকাঙ্খা তৈরি করা। বাস্তব দুনিয়ার যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা আছে যার বিচার দুনিয়াতে হয় না, মানুষের দুঃখ কষ্টের কোন হাল হয় না - এই পরিস্হিতিতে এই দুনিয়ায় নয় অন্য এমন এক জগতের ধারণা তৈরি করা যেখানে একজন বিচারক আছেন, বাস্তব দুনিয়ার সব অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতার যিনি বিচার করবেন এবং বেহস্ত - দোজখের মাধ্যমে শাস্তি অথবা সুখের ইনাম ব্যবস্হা করবেন - এই হলো সেই ধর্মতাত্ত্বিক পারলৌকিক প্রজেক্ট। বাস্তব দুনিয়ার অসহায় মানুষের মত ধর্মও ওখানে অসহায়।

এখন এই পরিস্হিতিতে "নাস্তিক-কমিউনিষ্ট" বা নাস্তিক হিসাবে আপনি ধর্মের এই গায়েবিপনা ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা উদোম করে দিয়ে নিজেকে মহা বাহাদুর ভেবে নিজের দায় শেষ ভাবতে পারেন। ধর্মকে পরাস্ত করে খুব একচোট নিয়েছেন বলে মনে প্রশান্তি লাভ করতে পারেন। এমনকি ধর্মের এই বয়ানকে কাজে লাগিয়ে কোন মানুষ বা শ্রেণী নিজের স্বার্থে কিভাবে একে ব্যবহার করছে তার ভুরিভুরি উদাহরণ তুলে ধরে পারেন। কমিউনিষ্ট বা নাস্তিক হিসাবে এসব মুখোশ উন্মোচনের কর্তব্য শেষ করে একেকজন আরুজ আলী মাতুব্বরও হতে পারেন। এমনকি আপনি নারীবাদী বা নারী হলে ভাবতে পারেন ধর্মের এই বুজরকি মুখোশ উন্মোচনের কর্তব্য না করতে পারলে নারীবাদের আর কাজ কী!

আপনাদের সকলকে বিনীতভাবে তবে নিশ্চিত করে বলতে পারি ধর্মকে এই সংকীর্ণ পরিসরে দেখে ধর্ম কোনদিন পরাস্ত । হবে না কখনও। ধর্মের প্রয়োজন তাতে ফুরিয়ে যাবে না, মিটে যাবে না। ধর্ম যদি আপনার যথেচ্ছাচারে বাধা মনে হয় তবে এতে হয়ত আপনার কাজ চলবে। তবু ধর্ম আপনাকে ছাড়বে না।

কেন?

ধর্মতাত্ত্বিক বয়ানে ধর্মের পারলৌকিক জগতের আকাঙ্খা তৈরি করার কাজটা ফলাফল আনে নাই, উদ্দেশ্য সফল করতে পারে নাই একথা সত্য , উল্টা বুজরুকি অপব্যবহার বা সময়ে ব্যবসা হিসাবে হাজির হয়েছে - এটা জানা জানানোটাই ধর্মের (পশ্চাদপদ !) চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই বলে মনে করা হলেও এটা বড় জোড় ধর্মের বিরুদ্ধে এক ক্ষ্যাপাটে প্রতিক্রিয়া মাত্র, ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানা হয় না তাতে, ধর্মের গুমোরও খুলে না।
তাহলে, ধর্ম মানে এখানে কী বুঝব, ধর্মের পারলৌকিক প্রকল্পের তাৎপর্য কী - সেদিকে পাঠকদের নজর ফেরাব, দুটো পয়েন্টে:

১. মানুষের যে প্রয়োজনের তাগিদ থেকে ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট সেই প্রয়োজনের তাগিদ কী ধর্মের মুখোশ উন্মোচনের সাথে সাথে মিটে যায় বা মিথ্যা হয়ে যায়? অথবা ঐ প্রয়োজন তাগিদ কী পূরণ হয়ে মিটে যায়?
মানুষের প্রয়োজনের তাগিদটা কী? তাগিদটা হলো, বাস্তব দুনিয়ার যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা আছে যার বিচার দুনিয়াতে হয় না, মানুষের দুঃখ কষ্টের কোন হাল হয় না - এর একটা হাল করা। এটাই সেই বৈষয়িক ভিত্তি যেটার কারণে ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট জেগে উঠতে পাচ্ছে। মানুষ প্রয়োজনের তাগিদটারই আর এক নামপ্রকাশ হলো ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট। ধর্মের মুখোশ উন্মোচনের সাথে ধর্ম একটা ভুয়া জিনিষ প্রমাণ হতে পারে কিন্তু পরলোকের আকাঙ্খার উৎস, সেই বৈষয়িক শর্ত পরিস্হিতির কোন হেরফের হয়না তাতে। মানুষ প্রয়োজনের তাগিদ মেটার সাথে এর কোন সম্পর্কই নাই।
অতএব দেখা যাচ্ছে, বাস্তব দুনিয়ার দুনিয়াদারিতে যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা আছে যার বিচার সে পায় না, দুঃখ কষ্টের ভিতরে তাঁর দিনানিপাত - এর হাল না হওয়া পর্যন্ত ধর্ম থেকে যাবার শর্ত থেকে যাচ্ছে। "এটা অন্যায় বে-ইনসাফি , আল্লায় এর বিচার করবে" - অসহায় মানুষ এই ফরিয়াদটুকুও যদি জানাতে প্রকাশ করতে না পারত, তাহলে সম্ভবত আত্মহত্যা করা ছাড়া মানুষের আর কোন উপায় থাকত না। বাস্তব দুনিয়ার দুনিয়াদারিতে দুঃখ কষ্টের অবিচারের ঘটনায় ধর্ম এর কোন সুরাহা করতে পারে না সন্দেহ নাই। কিন্তু ক্ষোভ জ্বালায় সাময়িক উপষমের একটু আরাম দেবার শান্তনা - এখানে ধর্ম এই ভুমিকাটাই পালন করে। আবার, এটা ভাবাও ভুল হবে, এটা যে শান্তনা মাত্র সাধারণ মানুষ তা বুঝতে পারে না। ঠান্ডা মাথায় সে জানে এটা সান্তনা। কিন্তু বিপদের মাথায় এই সান্তনাটুকু তাঁর দরকার, কারণ নইলে অনিরসিত ক্ষোভ জ্বালা সইতে না পেরে সে মারা যাবে অথবা পাগল হতে হবে।

ধর্মের আফিম:
ডাক্তারি অপারেশনে মানুষকে শরীর কাটাছেঁড়া সহ্য করতে হয়। প্যাথিডিন ইনজেকশন দিয়ে ব্যাথা ভুলানোর চেষ্টা ডাক্তারেরা করে, এতে ব্যাথা বেদনা সাময়িক ভুলে যাওয়া যায় হয়ত, কিন্তু বেদনা বেদনাই থেকে যায়। ওষুধের প্রভাব যতই কমে বেদনা ততই প্রবল হয়ে জানান দেয় সে আছে মরে নাই। আগের দিনে যখন আজকের এ্যানেসথিসিয়ার মত সাময়িক চেতনানাশক আবিস্কার দূরে থাক ইনজেকশনের যুগ ছিল না, তখনও কিন্তু শল্য চিকিৎসা, কাটাছেঁড়া হতো। একাজে জনপ্রিয়ভাবে তখন ব্যবহার হত আফিম, আফিম গুলে খাওয়ান হত। প্যাথডিন যেমন চিকিৎসায় বেদনানাশক ওষুধ তেমনি অনেকে বেপথে এটা নেশা করার ড্রাগ হিসাবেও ব্যবহার করে ফেলে। আফিমের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা, একই ঘটনা চালু ছিল। শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে আফিম খাওয়ার ঘটনার বর্ণনা অহরহ। আফিম সম্পর্কে এই বিস্তারি দিক আমাদের অনেকের জানা নাই। আমাদের পপুলার ধারণা হলো, আফিম নেশার বস্তু, বেদনানাশক নয়। আপনি যদি নাস্তিক-কমিউনিষ্ট হন তবে মার্কস সাহেব ধর্মকে আফিম বলার মানে আপনার কাছে হবে আফিম মানে নেশা, নেশায় বুঁদ হবার বষ্তু বা উপায়। আর যদি কমিউনিষ্ট বা অ-কমিউনিষ্ট যাই হন তবে নাস্তিক না হন, তবে আফিম মানে বেদনানাশক বুঝবেন। মানুষের কষ্ট বুঝতে চেষ্টা করলে, অনুভব করতে পারলে, এত মুখোশ উন্মোচনের পরেও ধর্ম কেন টিকে আছে এটা বুঝা কোন সমস্যাই না।

২. ধর্ম অমানবিক সমাজের বিরুদ্ধে মানবিক সমাজের আকুতি:
ধর্ম যে পারলৌকিক জগতের আকাঙ্খা তৈরি করে বাস্তব দুনিয়ার যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা দুঃখ কষ্টের নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেয় এটা একজামিন করলে দেখা যাবে ওটার সারকথা হলো, একটা মানবিক দুনিয়া পাবার আকুতি। কিন্তু এই মানবিক দুনিয়ার আকুতি পরলোকে কেন? কারণ এই বাস্তব দুনিয়ায় সে পরিস্কার দেখতে পায় এটা অসম্ভব, এটা কায়েমের কোন শর্ত সে দেখে না। মানবিক দুনিয়ার স্বপ্ন যার ভেতর দিয়ে দেখছে আর যে দেখছে উভয়েই পরোক্ষে চাচ্ছে এরকমটাই হোক তাদের এই দুনিয়াদারিতে, কিন্তু পরক্ষণেই বাস্তবতায় মনে পড়ছে এটা সম্ভব না।
অতএব মানুষ যদি এই জগতেই অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা দুঃখ কষ্টের দূর করে এক ইনসাফের ন্যয়বিচারের জগত প্রতিষ্ঠা করতে পারে তবেই তার আকাঙ্খার সুরাহা হবে। এই হলো মূল কথা। এর খাস মানে হলো, ধর্মের পরলোকের প্রজেক্টটা ইহলোকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। এটাই বিপ্লবীর কাছে পরলোকের মানে। যতটুকু আমরা সেই মানবিক ইনসাফের ন্যয়বিচারের জগত এই দুনিয়ায় কায়েমের পথে অগ্রসর হব ততটুকু আমরা সত্যিকারের অর্থেই ধর্মের প্রয়োজন থেকে মুক্ত হতে পারব। বা বলা যায় ইহলোকে পরলোক কায়েম হবে। দুনিয়ায় মানুষের ধর্ম কায়েম।

বুঝা যাচ্ছে, একটা লম্বা জার্নি। প্রস্তুতিও। এবং ততদিন ধর্মের প্রয়োজন থেকে যাচ্ছে। না এ'পর্যন্ত দেখা কমিউনিষ্ট কায়দায় আমরা যা বলতে বা দেখতে অভ্যস্ত কেবল সেই বৈষয়িক ভাত-কাপড়ের মুক্তির কথা আমি বলছি না; একইসাথে সাংস্কৃতিক মানসিক বা স্পিরিচুয়াল মুক্তির কাজটা এই দুনিয়াতেই হতে হবে, এই দুনিয়াতেই পরলোক প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তাহলে এর আগে অন্তবর্তীকালীন পর্যায়ে আমরা কোন রাষ্ট্র গড়ব না বা সমর্থন করবো না?
অবশ্যই করব। কেবল "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" এই মিথ্যা বয়ানে ঘোর আপত্তি করব। আধুনিক রাষ্ট্র যদি "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" বলে ঘোষণা করে, একথাটার নীট মানে হোল ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্টটা অক্ষত যেমন ছিল তেমন রেখে দিতে চাওয়া। বাস্তব জীবনের সাথে রেল লাইনের মত পাশপাশি হেঁটে চলা আর এক জীবন, পারলৌকিক জীবন রেখে দেওয়া। বাস্তব জীবনে সমস্ত আকাম-কুকাম, অন্যায় অবিচারের যে সৌধ সে গড়বে - এর গ্লানি থেকে মুক্ত হবার জন্য পারলৌকিক জীবন তার দরকার। পারলৌকিক জীবনকর্ম হিসাবে আলাদাভাবে ওটা করে যাবে। অথবা, তখনও যে মানুষ অন্যায় অবিচারের বলি হতে থাকবে এর বিরুদ্ধে ঐ পারলৌকিক জগতে কাছে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ করে ফিরবে। এর আর এক মানে হলো, এগুলো চলতে দিয়ে বহাল-তবিয়তে রেখে "আমি"র অধিকারের গান শুনানো।

তাই, পারলৌকিক জগত তৈরির ধর্মের প্রজেক্ট আর "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" বলে আধুনিক রাষ্ট্র পক্ষে দাঁড়ানো - একই কথা।

এবার সারকথায় বলি,
ক. "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" এই ধর্মতাত্ত্বিক প্রকল্পটাকে চালিয়ে দেবার পক্ষে ঢেঁড়া পিটানো বিপ্লবীপনা নয়।
খ. "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" একথাটা রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে না। এটা ধর্মতাত্ত্বিক ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট।
গ. রাষ্ট্র যেন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ইত্যাদি নির্বিশেষে নাগরিকের উপর কোন বৈষম্যমূলক আচরণ বা শর্ত না সৃষ্টি করে এই অর্থে এ'থেকে রক্ষাকবচ দরকারে তা গঠনতন্ত্রে উল্লেখ ও চিন্তায় স্পষ্ট রাখার দরকার অবশ্যই। কিন্তু এর মানে "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়"কে ভিত্তি করে রাষ্ট্র গঠন নয়। এই ফারাক বজায় রাখতে হবে, গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
গুরুচরণ ভরসা।ধ

ভূপর্যটক

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫৫

এর আগে "চিন্তার ইতিহাসে: ধর্ম কী" শিরোনামে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম। অনেকে দাবি করে "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়"। এ'ব্যাপারে আমার মন্তব্য কী - অনেকে জানতে চেয়েছেন। বিষয়টার গুরুত্ত্ব বিবেচনা করে এটাকে আলাদা পোষ্টে দিলাম।

ধর্মের পারলৌকিক প্রকল্প:
ধর্মের প্রজেক্ট হলো, একটা পারলৌকিক জগতের আকাঙ্খা তৈরি করা। বাস্তব দুনিয়ার যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা আছে যার বিচার দুনিয়াতে হয় না, মানুষের দুঃখ কষ্টের কোন হাল হয় না - এই পরিস্হিতিতে এই দুনিয়ায় নয় অন্য এমন এক জগতের ধারণা তৈরি করা যেখানে একজন বিচারক আছেন, বাস্তব দুনিয়ার সব অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতার যিনি বিচার করবেন এবং বেহস্ত - দোজখের মাধ্যমে শাস্তি অথবা সুখের ইনাম ব্যবস্হা করবেন - এই হলো সেই ধর্মতাত্ত্বিক পারলৌকিক প্রজেক্ট। বাস্তব দুনিয়ার অসহায় মানুষের মত ধর্মও ওখানে অসহায়।

এখন এই পরিস্হিতিতে "নাস্তিক-কমিউনিষ্ট" বা নাস্তিক হিসাবে আপনি ধর্মের এই গায়েবিপনা ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা উদোম করে দিয়ে নিজেকে মহা বাহাদুর ভেবে নিজের দায় শেষ ভাবতে পারেন। ধর্মকে পরাস্ত করে খুব একচোট নিয়েছেন বলে মনে প্রশান্তি লাভ করতে পারেন। এমনকি ধর্মের এই বয়ানকে কাজে লাগিয়ে কোন মানুষ বা শ্রেণী নিজের স্বার্থে কিভাবে একে ব্যবহার করছে তার ভুরিভুরি উদাহরণ তুলে ধরে পারেন। কমিউনিষ্ট বা নাস্তিক হিসাবে এসব মুখোশ উন্মোচনের কর্তব্য শেষ করে একেকজন আরুজ আলী মাতুব্বরও হতে পারেন। এমনকি আপনি নারীবাদী বা নারী হলে ভাবতে পারেন ধর্মের এই বুজরকি মুখোশ উন্মোচনের কর্তব্য না করতে পারলে নারীবাদের আর কাজ কী!

আপনাদের সকলকে বিনীতভাবে তবে নিশ্চিত করে বলতে পারি ধর্মকে এই সংকীর্ণ পরিসরে দেখে ধর্ম কোনদিন পরাস্ত । হবে না কখনও। ধর্মের প্রয়োজন তাতে ফুরিয়ে যাবে না, মিটে যাবে না। ধর্ম যদি আপনার যথেচ্ছাচারে বাধা মনে হয় তবে এতে হয়ত আপনার কাজ চলবে। তবু ধর্ম আপনাকে ছাড়বে না।

কেন?

ধর্মতাত্ত্বিক বয়ানে ধর্মের পারলৌকিক জগতের আকাঙ্খা তৈরি করার কাজটা ফলাফল আনে নাই, উদ্দেশ্য সফল করতে পারে নাই একথা সত্য , উল্টা বুজরুকি অপব্যবহার বা সময়ে ব্যবসা হিসাবে হাজির হয়েছে - এটা জানা জানানোটাই ধর্মের (পশ্চাদপদ !) চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই বলে মনে করা হলেও এটা বড় জোড় ধর্মের বিরুদ্ধে এক ক্ষ্যাপাটে প্রতিক্রিয়া মাত্র, ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানা হয় না তাতে, ধর্মের গুমোরও খুলে না।
তাহলে, ধর্ম মানে এখানে কী বুঝব, ধর্মের পারলৌকিক প্রকল্পের তাৎপর্য কী - সেদিকে পাঠকদের নজর ফেরাব, দুটো পয়েন্টে:

১. মানুষের যে প্রয়োজনের তাগিদ থেকে ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট সেই প্রয়োজনের তাগিদ কী ধর্মের মুখোশ উন্মোচনের সাথে সাথে মিটে যায় বা মিথ্যা হয়ে যায়? অথবা ঐ প্রয়োজন তাগিদ কী পূরণ হয়ে মিটে যায়?
মানুষের প্রয়োজনের তাগিদটা কী? তাগিদটা হলো, বাস্তব দুনিয়ার যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা আছে যার বিচার দুনিয়াতে হয় না, মানুষের দুঃখ কষ্টের কোন হাল হয় না - এর একটা হাল করা। এটাই সেই বৈষয়িক ভিত্তি যেটার কারণে ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট জেগে উঠতে পাচ্ছে। মানুষ প্রয়োজনের তাগিদটারই আর এক নামপ্রকাশ হলো ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট। ধর্মের মুখোশ উন্মোচনের সাথে ধর্ম একটা ভুয়া জিনিষ প্রমাণ হতে পারে কিন্তু পরলোকের আকাঙ্খার উৎস, সেই বৈষয়িক শর্ত পরিস্হিতির কোন হেরফের হয়না তাতে। মানুষ প্রয়োজনের তাগিদ মেটার সাথে এর কোন সম্পর্কই নাই।
অতএব দেখা যাচ্ছে, বাস্তব দুনিয়ার দুনিয়াদারিতে যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা আছে যার বিচার সে পায় না, দুঃখ কষ্টের ভিতরে তাঁর দিনানিপাত - এর হাল না হওয়া পর্যন্ত ধর্ম থেকে যাবার শর্ত থেকে যাচ্ছে। "এটা অন্যায় বে-ইনসাফি , আল্লায় এর বিচার করবে" - অসহায় মানুষ এই ফরিয়াদটুকুও যদি জানাতে প্রকাশ করতে না পারত, তাহলে সম্ভবত আত্মহত্যা করা ছাড়া মানুষের আর কোন উপায় থাকত না। বাস্তব দুনিয়ার দুনিয়াদারিতে দুঃখ কষ্টের অবিচারের ঘটনায় ধর্ম এর কোন সুরাহা করতে পারে না সন্দেহ নাই। কিন্তু ক্ষোভ জ্বালায় সাময়িক উপষমের একটু আরাম দেবার শান্তনা - এখানে ধর্ম এই ভুমিকাটাই পালন করে। আবার, এটা ভাবাও ভুল হবে, এটা যে শান্তনা মাত্র সাধারণ মানুষ তা বুঝতে পারে না। ঠান্ডা মাথায় সে জানে এটা সান্তনা। কিন্তু বিপদের মাথায় এই সান্তনাটুকু তাঁর দরকার, কারণ নইলে অনিরসিত ক্ষোভ জ্বালা সইতে না পেরে সে মারা যাবে অথবা পাগল হতে হবে।

ধর্মের আফিম:
ডাক্তারি অপারেশনে মানুষকে শরীর কাটাছেঁড়া সহ্য করতে হয়। প্যাথিডিন ইনজেকশন দিয়ে ব্যাথা ভুলানোর চেষ্টা ডাক্তারেরা করে, এতে ব্যাথা বেদনা সাময়িক ভুলে যাওয়া যায় হয়ত, কিন্তু বেদনা বেদনাই থেকে যায়। ওষুধের প্রভাব যতই কমে বেদনা ততই প্রবল হয়ে জানান দেয় সে আছে মরে নাই। আগের দিনে যখন আজকের এ্যানেসথিসিয়ার মত সাময়িক চেতনানাশক আবিস্কার দূরে থাক ইনজেকশনের যুগ ছিল না, তখনও কিন্তু শল্য চিকিৎসা, কাটাছেঁড়া হতো। একাজে জনপ্রিয়ভাবে তখন ব্যবহার হত আফিম, আফিম গুলে খাওয়ান হত। প্যাথডিন যেমন চিকিৎসায় বেদনানাশক ওষুধ তেমনি অনেকে বেপথে এটা নেশা করার ড্রাগ হিসাবেও ব্যবহার করে ফেলে। আফিমের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা, একই ঘটনা চালু ছিল। শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে আফিম খাওয়ার ঘটনার বর্ণনা অহরহ। আফিম সম্পর্কে এই বিস্তারি দিক আমাদের অনেকের জানা নাই। আমাদের পপুলার ধারণা হলো, আফিম নেশার বস্তু, বেদনানাশক নয়। আপনি যদি নাস্তিক-কমিউনিষ্ট হন তবে মার্কস সাহেব ধর্মকে আফিম বলার মানে আপনার কাছে হবে আফিম মানে নেশা, নেশায় বুঁদ হবার বষ্তু বা উপায়। আর যদি কমিউনিষ্ট বা অ-কমিউনিষ্ট যাই হন তবে নাস্তিক না হন, তবে আফিম মানে বেদনানাশক বুঝবেন। মানুষের কষ্ট বুঝতে চেষ্টা করলে, অনুভব করতে পারলে, এত মুখোশ উন্মোচনের পরেও ধর্ম কেন টিকে আছে এটা বুঝা কোন সমস্যাই না।

২. ধর্ম অমানবিক সমাজের বিরুদ্ধে মানবিক সমাজের আকুতি:
ধর্ম যে পারলৌকিক জগতের আকাঙ্খা তৈরি করে বাস্তব দুনিয়ার যত অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা দুঃখ কষ্টের নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেয় এটা একজামিন করলে দেখা যাবে ওটার সারকথা হলো, একটা মানবিক দুনিয়া পাবার আকুতি। কিন্তু এই মানবিক দুনিয়ার আকুতি পরলোকে কেন? কারণ এই বাস্তব দুনিয়ায় সে পরিস্কার দেখতে পায় এটা অসম্ভব, এটা কায়েমের কোন শর্ত সে দেখে না। মানবিক দুনিয়ার স্বপ্ন যার ভেতর দিয়ে দেখছে আর যে দেখছে উভয়েই পরোক্ষে চাচ্ছে এরকমটাই হোক তাদের এই দুনিয়াদারিতে, কিন্তু পরক্ষণেই বাস্তবতায় মনে পড়ছে এটা সম্ভব না।
অতএব মানুষ যদি এই জগতেই অবিচার, বে-ইনসাফি, অমানবিকতা দুঃখ কষ্টের দূর করে এক ইনসাফের ন্যয়বিচারের জগত প্রতিষ্ঠা করতে পারে তবেই তার আকাঙ্খার সুরাহা হবে। এই হলো মূল কথা। এর খাস মানে হলো, ধর্মের পরলোকের প্রজেক্টটা ইহলোকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। এটাই বিপ্লবীর কাছে পরলোকের মানে। যতটুকু আমরা সেই মানবিক ইনসাফের ন্যয়বিচারের জগত এই দুনিয়ায় কায়েমের পথে অগ্রসর হব ততটুকু আমরা সত্যিকারের অর্থেই ধর্মের প্রয়োজন থেকে মুক্ত হতে পারব। বা বলা যায় ইহলোকে পরলোক কায়েম হবে। দুনিয়ায় মানুষের ধর্ম কায়েম।

বুঝা যাচ্ছে, একটা লম্বা জার্নি। প্রস্তুতিও। এবং ততদিন ধর্মের প্রয়োজন থেকে যাচ্ছে। না এ'পর্যন্ত দেখা কমিউনিষ্ট কায়দায় আমরা যা বলতে বা দেখতে অভ্যস্ত কেবল সেই বৈষয়িক ভাত-কাপড়ের মুক্তির কথা আমি বলছি না; একইসাথে সাংস্কৃতিক মানসিক বা স্পিরিচুয়াল মুক্তির কাজটা এই দুনিয়াতেই হতে হবে, এই দুনিয়াতেই পরলোক প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তাহলে এর আগে অন্তবর্তীকালীন পর্যায়ে আমরা কোন রাষ্ট্র গড়ব না বা সমর্থন করবো না?
অবশ্যই করব। কেবল "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" এই মিথ্যা বয়ানে ঘোর আপত্তি করব। আধুনিক রাষ্ট্র যদি "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" বলে ঘোষণা করে, একথাটার নীট মানে হোল ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্টটা অক্ষত যেমন ছিল তেমন রেখে দিতে চাওয়া। বাস্তব জীবনের সাথে রেল লাইনের মত পাশপাশি হেঁটে চলা আর এক জীবন, পারলৌকিক জীবন রেখে দেওয়া। বাস্তব জীবনে সমস্ত আকাম-কুকাম, অন্যায় অবিচারের যে সৌধ সে গড়বে - এর গ্লানি থেকে মুক্ত হবার জন্য পারলৌকিক জীবন তার দরকার। পারলৌকিক জীবনকর্ম হিসাবে আলাদাভাবে ওটা করে যাবে। অথবা, তখনও যে মানুষ অন্যায় অবিচারের বলি হতে থাকবে এর বিরুদ্ধে ঐ পারলৌকিক জগতে কাছে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ করে ফিরবে। এর আর এক মানে হলো, এগুলো চলতে দিয়ে বহাল-তবিয়তে রেখে "আমি"র অধিকারের গান শুনানো।

তাই, পারলৌকিক জগত তৈরির ধর্মের প্রজেক্ট আর "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" বলে আধুনিক রাষ্ট্র পক্ষে দাঁড়ানো - একই কথা।

এবার সারকথায় বলি,
ক. "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" এই ধর্মতাত্ত্বিক প্রকল্পটাকে চালিয়ে দেবার পক্ষে ঢেঁড়া পিটানো বিপ্লবীপনা নয়।
খ. "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়" একথাটা রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে না। এটা ধর্মতাত্ত্বিক ধর্মের পারলৌকিক প্রজেক্ট।
গ. রাষ্ট্র যেন ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ইত্যাদি নির্বিশেষে নাগরিকের উপর কোন বৈষম্যমূলক আচরণ বা শর্ত না সৃষ্টি করে এই অর্থে এ'থেকে রক্ষাকবচ দরকারে তা গঠনতন্ত্রে উল্লেখ ও চিন্তায় স্পষ্ট রাখার দরকার অবশ্যই। কিন্তু এর মানে "ধর্ম ব্যাক্তিগত বিষয়"কে ভিত্তি করে রাষ্ট্র গঠন নয়। এই ফারাক বজায় রাখতে হবে, গুলিয়ে ফেলা যাবে না।
গুরুচরণ ভরসা।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০৮

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: ভাই বিশাল মন্তব্য দিলেন। পরে পড়ে দেখব। তারপর মন্তব্য করব।

৩| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৩৬

হুমায়ুন কবির হাকিম বলেছেন: ঠিকই বলেছেন, ভারতকে ধর্মনিরপেক্ষ বলবো কিভাবে???? বিজেপি বলেছে আগামী নির্বাচনে তারা জিতলে বাবরী মসজিদের ওই জায়গায় রাম মন্দির বানাবে......সেই বিজেপি কিন্তু ভারত শাসনও করেছে একবার এবং বাবরী মসজিদ ভেঙ্গেছে......

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫৬

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: ভারত সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ- এটি একটি ভাল দিক।

কিন্তু বাস্তবতা হল সারাবিশ্বের সব জায়গাতেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি হয়ে থাকে। এটিই সত্য!

৪| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৩৮

সাইকাস বলেছেন: ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের মূল সংবিধানকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং আদর্শ সংবিধান।

কে বলে?
বর্তমান সংবিধানে সমস্যা কি?

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫৩

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: উত্তম সংবিধানের যেসব বৈশিষ্ট্য থাকে, তার সবগুলোই ছিল আমাদের বাহাত্তরের সংবিধানে। যার কারণে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বাহাত্তরের সংবিধানকে সেরা আদর্শ ও শ্রেষ্ঠ সংবিধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। আমাদের সংবিধানে এমন কতগুলো মৌলিক অধিকার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, যা বিশ্বের অনেক সংবিধানেই অনুপস্থিত।

কিন্তু ১৪টি সংশোধনীর মাধ্যমে আমাদের সংবিধানের আগের রূপটাকে ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে। বিশেষ করে চতুর্থ থেকে একাদশ সংশোধনী-প্রত্যেকটি ছিল সংবিধানের মূল চেতনার বিরোধী।

৫| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪০

সোনার বাংলা বলেছেন:

লেখক বলেছে....
এ সংবিধানে মূলনীতি হিশেবে গ্রহণ করা হয় গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদকে। এগুলোই ছিল আমাদের মুক্তিসংগ্রামের অনুপ্রেরণা।

>> যে দেশের মানুষ ২৪ বছর আগে ধর্ম ভিত্তিক(পাকিস্তানের) দেশের জন্য সংগ্রাম করেছে এবং ভাগ করেছে, তারা কেমনে ২৪ বছর পরে ধর্ম নিরপেক্ষ দেশের জন্য যুদ্ধ করে????? ঠিক বুঝি না! ৭১রে বাংলার মানুষ শোষন এবং বন্চনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। ধর্ম নিরপেক্ষতার জন্য যুদ্ধ করে নাই! এইটাই সত্য। কিন্তু যুদ্ধের সময় পাকিস্তানে পলাতক কামাল সাহেব ধর্ম নিরপেক্ষতা ডুকাই দিছে
সংবিধানে। শুনতে হয়তো খারাপ লাগতেছে কিন্তু ইহাই সত্য।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪৮

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: ২৪ বছর আগে যে দেশের মানুষ ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করেছে, তারাই পরবর্তীতে বুঝতে পেরেছে, কতটা ভুল একটি সিদ্ধান্ত তারা সমর্থন করেছিল। যার জন্যই তো শোষণ আর বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মুসলমান-হিন্দু-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ মিলে দেশ স্বাধীন করেছিল একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলার জন্য। আপনার নিশ্চয়ই মনে সেই গান-
বাংলার মুসলিম, বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীস্টান, বাংলার বৌদ্ধ
আমরা সবাই বাঙালি... হ্যাঁ, আমরা চাইনি ধর্মভিত্তিক বাংলাদেশ।

৬| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৫১

হুমায়ুন কবির হাকিম বলেছেন: গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী আমেরিকায় কিন্তু শপথ নেয়া হয় বাইবেল হাতে নিয়া কিন্তু আমেরিকায় কোন সাম্প্রদায়িকতা নাই......দেশ ও জাতি শিক্ষিত এবং উন্নত হলে ধর্ম কোন ব্যাপার না......

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:০০

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: আমেরিকায় বাইবেল হাতে নিয়ে শপথ নেয়- এই ঘটনাটিতে আমিও অবাক হয়েছি!

আমেরিকায় সাম্প্রদায়িকতা নেই- একথা আপনাকে কে বলল? সাম্প্রদায়িকতা কি শুধু ধর্মের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে? সেখানেও তো কৃষ্ণাঙ্গ আর শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা বিদ্যমান। তা না হলে আমেরিকার স্বাধীনতার এতকাল পরে আমরা কেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট দেখব?

কিন্তু আপনি বলুন আমাদের ১২নং অনুচ্ছেদ খারাপটা ছিল কোন দিক থেকে?

৭| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:০৭

সোনার বাংলা বলেছেন:
এমন গানই যদি ধর্ম নিরপেক্ষতার মুলমন্ত্র হয়......
তাইলে একন আপনারে স্বীকার করতে হইবো যে বাংলাদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক
এবং পশ্চিম বাংলার মানুষ সাম্প্রদায়িক কারন তারা তো ধর্ম ভিত্তিক হিন্দুস্তানের জন্য
বাংলা ভাগের বিষয়ে সম্মতি গেপন করে ছিলো এবং এখন পর্যন্ত সে হিন্দুস্তানেই আচে।

তয় সে হিন্দুস্তানের সাম্প্রদায়িক পশ্চিমা বাংলার দাদারা আমগোরে গেয়ান না দিলে কি
ভালো হয় না। কারন তারা মুখে কয় আমরা জমিনে প্রমান করছি!

তাহলে কি দাঁরাইলো....

বাংলাদেশই এক মাত্র দক্ষিণ এশিয় দেশ যারা ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ।

ভারত পাকিস্তান নেপাল ভূটান সবাই সাম্প্রদায়িক আমারই অসাম্প্রদায়িক বাংলার জন্য
যুদ্ধ করেছি! কেমনে কি? আজ যারা এ সব শ্লোগান মারে তাদের বেশীর ভাগই ৭১রে
পলাতক ছিলো। জয় বাংলা।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৪

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: দেখুন, ভারতের কি করছে বা না করছে- সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। আপনি বারবার ভারতের ব্যাপার এখানে টেনে আনছেন কেন?

ভারতের অনেক মানুষের মধ্যে চরম সাম্প্রদায়িকতা বিরাজ করে; কিন্তু রাষ্ট্র তো সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দেয় নি। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি একটি উন্নত ধারণা আমরা গ্রহণ করলেই যে সব মানুষ সাথে সাথে উন্নত ধারণা গ্রহণ করবে এমন তো নয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সংবিধানে যদি একটি উন্নত ধারণা গ্রহণ করা হয়, তাহলে মানুষ শিক্ষিত হয়ে সেই ধারণাটি অনুধাবন করতে পারবে।

আপনি বলুন যে ১২ নং অনুচ্ছেদের সমস্যাটি কোথায়? এটির যৌক্তিক সমালোচনা করুন।

৮| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:০৭

হুমায়ুন কবির হাকিম বলেছেন: আমাদের ১২নং অনুচ্ছেদ খারাপ ছিল না কোন দিক থেকেই....কিন্তু "যোগ্যতমের জয়" এই চিরন্তন সত্যকে আমাদের মেনে নিতে হবে......আপনার ৪ পুরুষ আগের কথা যদি কারও কাছ থেকে শুনে থাকেন তাহলে এই শুনে অবাক হবেন যে আমাদের এই দেশে গরু জবাই করা সম্ভব ছিল না.....আমার এলাকার এক লোক তার ছেলের খাৎনা করা উপলক্ষ্যে গরু জবাই দেয়ায় তার সন্তানকে হারাতে হয়েছিল......

ঘটনাটা শুধু উল্লেখ করলাম, ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধী নই আমি.....

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৯

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: হ্যাঁ, এই ধরণের সাম্প্রদায়িকতা আমাদের মাঝে ছিল, এখনো খানিকটা আছে। আমরা চাই মানুষের মধ্য থেকে এই সাম্প্রদায়িকতা উঠে যাক। সেজন্য আমাদের জাতিগতভাবে শিক্ষিত হতে হবে। আর সে শিক্ষা যেন হয় অসাম্প্রদায়িক। তাহলেই আমরা একটি চমৎকার অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে পারব।

আমার ভাবতে অবাক লাগে যে আমাদের অনেকেই বলে বেড়ায় আমাদের দেশের হিন্দু মানুষরা ভারতে যেতে চায়। আমার প্রশ্ন হল কেন তারা চায়? ভারতের মুসলমানরা তো বাংলাদেশে আসতে চায় না। কারণ, তাদের মধ্যে দেশপ্রেম প্রবল। কিন্তু আমরা কেন বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমের শিক্ষা দিতে পারি না?

৯| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১২

সোনার বাংলা বলেছেন:
আমরেকি সুধু বাইবেল হাতে শপথ নেয় না আরো আচে তাদের গ্রীন ডলারে

In god we trust বাণী লিখা আচে! অথচ বাংলাদেশের সংবিধানে বিসমিল্লাহ লেখা
নিয়ে অনেকের জ্বলে!!! আমরিকার পালিত বান্দর সুচীলরা অসাম্প্রদায়িকতার বাণী
কচলায়।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২৫

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: In god we trust এই বাক্যটি তাদের ডলারে রয়েছে। আর আমার জানা মতে, একমাত্র বৌদ্ধ ধর্ম ব্যতীত সকল ধর্মেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়েছে।

কিন্তু বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম একটি বিশেষ ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমার ধারণা আমার কথা হল রাষ্ট্রের কোন নির্দিষ্ট ধর্ম থাকতে পারে না। কেননা, একটি রাষ্ট্রে নানা ধর্মের মানুষ বসবাস করে। প্রত্যেকটি মানুষই রাষ্ট্রের সন্তানের মত। এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল প্রতিটা ধর্মকে রক্ষা করা এবং প্রতিটি ধর্ম যাতে প্রতিটি মানুষ যথাযথভাবে পালন করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে যদি রাষ্ট্র কোন একটি বিশেষ ধর্মকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে তো অন্যদের প্রতি বৈষম্য করা হয়ে গেল। তাই নয় কি?

আমেরিকার ফেডারেল কোর্টের একটি রায় আমি দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরের পোস্টে উল্লেখ করব সেটি।

১০| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১৩

মনির হাসান বলেছেন: ধন্যবাদ জাহিদ ।

অনেক উপকারে আসলো লেখাটা ..
আপনার পরবর্তি লেখাটির অপেক্ষায় রইলাম ।

আরেকটা ব্যাপার একটু সাহায্য করতে পারবেন ( বাঙ্গালী খাইতে দিলে শুইতে চায় ) ...

আমি মাঝে মাঝে হুদাই চাপাবাজী করি ... আচানক ভাবে তা মিলা যায়। ( আপনার এই খানে আসার আগে ভারত কবে ধ.নি. রাষ্ট্র হইছে জানতাম না )
একবার এক বন্ধুরে বলছিলাম "ভারত আমার বালের ধর্মনিরেপেক্ষ দ্যাশ ... ওগো তো এই সেইদিন মাত্র ( ২০০৬ বা ২০০৭-এ)বিল পাশ হইলো যে হিন্দু মুসলিম ধর্মান্তরিত না হয়ে বিয়ে করতে পারবে ... অথচ আমাগো দ্যাশ স্বাধীনতার পর থেইক্ক্যাই হিন্দু মুসল্মান ধর্মান্তরিত না হয়া কোর্টে যায়া বিয়া করতে পারতো ...
পুরাটাই ফাপড় নিছলাম .. ( কারণ মাথায় ছিল রামেন্দু আর ফেরদৌসী মজুমদার ) ...

আপনি তো আইনে পড়েন এই বিষয়ে জানাতে পারবেন সামান্য .. ?

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪০

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: একবার লিখেছি কিন্তু মুছে গেছে। আবার লিখছি।

আমাদের দুই ধরনের বিয়ের ফরম্যাট আছে। একটি হল প্রচলিত ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিবাহ করা। এবং এক্ষেত্রে যদি ধর্মীয় আইন পালন করা না হয়, তাহলে সে বিবাহ অবৈধ কিংবা বাতিল হয়ে যায়। যেমন ধরুন কোন মুসলিম মেয়ে অন্য ধর্মের পুরুষকে বিবাহ করতে পারবে না। যদি করে তাহলে মুসলিম আইন অনুযায়ী সে বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে।

আরেকটি ফরম্যাট হল কোর্ট ম্যারিজ। এটিতে শুধু পাত্র-পাত্রীর বয়স বিবেচনা করা হয়। এখানে দেখা হয় প্রচলিত আইন অনুযায়ী পাত্র-পাত্রীর বয়স পূর্ণ হয়েছে কি-না। যেমন ছেলেদের বেলায় এখন একুশ আর মেয়েদের বেলায় আঠার। এখানে আর কোন বিষয় বিবেচিত হয় না। যেমন-ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ইত্যাদি এখানে বিবেচনা করা হয় না। আশা করি আপনার উত্তর পেয়ে গেছেন। তারপরও না পেলে বলবেন। ধন্যবাদ।

১১| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৩৪

হুমায়ুন কবির হাকিম বলেছেন: ভারতের মুসলমানরা বাংলাদেশে আসতে চায় না; তারা ইরান, সৌদি আরব যেতে চায়......

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫১

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: স্বাভাবিক। উপার্জনের জন্য সবাই-ই যেতে চায়। আমাদের দেশের মুসলমানরাও মধ্যপ্রাচ্যে উপার্জনের জন্য যায়। আবার ভারতের নাগরিকরা যদি নিরাপত্তার অভাব বোধ করে, তাহলেও যেতে পারে। সেটি হলে তা হবে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। সেটি নিশ্চয়ই ভাল কিছু নয়।

১২| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৩৭

সোনার বাংলা বলেছেন:

তয় আমরিকায় অনেক বৌদ্ধ আচে হেদের কি হৈবো? হেরা কি সাম্প্রদায়িকতার স্বীকার
না? যাই হোক..... একন কন.....বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর বাংলা অনুবাদ করলে কি হয়? পরম করুনাময় মহান সৃষ্টিকর্তার( আল্লাহর) নামে শুরু করছি। তাইলে
In god we trust এবং বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য টা কি? আমেরিকায় হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম ইয়াহুদী খৃষ্টান আচে তেমনই বাংলাদেশে ও আচে। মনে হয় ইয়াহুদি নাই....

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৫

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: আপনি তো আমার ব্যাখ্যার প্রতিত্তরে কিছু বললেন না।

আমি তো বলেছি যে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম একটি বিশেষ ধর্মকে নির্দেশ করে। শুধু তাই নয়, আমাদের রাষ্ট্র ধর্ম করা হয়েছে ইসলাম ধর্মকে। এর মাধ্যমে মুসলমান ও অমুসলমান- এই কি দেশের মানুষকে দুই ভাগে করা হল না! ব্যাপারটি কেমন হয়ে গেল! অথচ এ রাষ্ট্রটি হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রিস্টান-আদিবাসি--- সকলের।

১৩| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৩

হুমায়ুন কবির হাকিম বলেছেন: নব্য সুশীলতা বাদ দেন......দেশের মানুষ মোটা চাল, মোটা কাপড় আর কাজ পেলে খূশী......ধর্মনিরপেক্ষতা কারো মাথাব্যথা নয়, কিছু লেজুরবৃত্তিকারী/জ্ঞানপাপী ছাড়া.....

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৪৯

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: এখানে নব্য সুশীলতার কিছু নেই। আমি বয়স মাত্র একুশ। দুটি নির্বাচন প্রত্যক্ষ করেছি। তার মধ্যে ২০০১ সালের নির্বাচন সম্পর্কে ভাসা ভাসা স্মৃতি আছে। নির্বাচনের সময় ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

তাই আমি যখন ১২নং অনুচ্ছেদটি দেখলাম, তখন আমার কাছে মনে হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণাটি বেশ চমৎকার। আর এজন্যই এ সম্পর্কে আমার অভিমতটি তুলে ধরেছি মাত্র। আরো একটি বিষয় আছে। তা হল ইদানিং বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার একটি আলোচনা হচ্ছে। এ সম্পর্কে একটি পোস্ট দিব। আশা করি পড়বেন।

১৪| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫২

আয্‌দা বলেছেন: লাল চুটি কুপি পেষ্ট

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৪

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: কি বললেন ভাই, কিছুই তো বুঝলাম না। কিসের কপি পেস্ট?

১৫| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৮

হোরাস্‌ বলেছেন: প্লাস দিলাম। পরের পোস্টের অপেক্ষায়।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:৫৯

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: ধন্যবাদ। আশা করি শীঘ্রই দিব পরের পোস্ট।

১৬| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:০৪

সোনার বাংলা বলেছেন:
দেকেন ভাই হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম ইয়াহুদী খৃষ্টান এবং আদিবাসী ধর্ম সহ সব ধর্ম গ্রন্হ গুলার ভাষা কি এক? তাইলে তো আমেরিকান হিন্দুরা কইতে পারে ভাই আংরেজিতে লেখচো কেন বা বলো কেন? তেমনই বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম আরবি শব্দ হলে ও এর অর্থ কি অন্য কোন ধর্ম কে অস্বীকার করছে? যদি গনতন্ত্র চান তাহলে সংখ্যা গরিষ্ট জনগনের রায় কে মেনে নিতে হবে। যে রকম আমেরিকায় বৌদ্ধরা মেনে নিতেছে না হলে আমেরিকা থেকে ফুটতে হবে। এ ছারা গনতন্ত্রে আর কিছু আচে কি না আমি জানি না। আমার মনে হয় কি জানেন বাংলাদেশের সত্যেকারের ধার্মিক মানুষেরা এইটা নিয়া মাথা নষ্ট করে না! শুধু মাত্র নাস্তিকেরা ছাড়া। কারন সৃষ্টিকর্তার নাম শুনলেই তাদের জ্বলে।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:১৮

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: গণতন্ত্র চাওয়ার অর্থ এই নয় যে, ইচ্ছে করেই আমরা এর নেগেটিভ দিকটি গ্রহণ করব।

আপনি আমাকে সুনির্দিষ্ট করে বলেন যে উপরিউক্ত ১২নং অনুচ্ছেদের সমস্যাটি কি? এতে কি ধর্ম গেছে? রাষ্ট্রের দায়িত্বকে আপনি কেন এড়িয়ে যাচ্ছেন? ভারতে যেভাবে বিজেপি ধর্মকে ব্যবহার করে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে রিপাবলিকানরা ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে, সেটি নিশ্চয়ই আমাদের কাছে কোন ভাল নয়। আমরা কোন ভাবেই ভারতের বিজেপির রাজনৈতিক আদর্শকে গ্রহণযোগ্য বলতে পারি না।

১৭| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:০৪

মনির হাসান বলেছেন: ... ইয়ায়ায়ায়াহু আমি আমার উত্তর পেয়েগেছি ..
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ।
বন্ধুর কাছে ফাপড় মেরেও ভেতরে ভেতরে টেনশনে ছিলাম ।

বাংলাদেশ - ভারত ধর্মনিরেপেক্ষতার তুলনা মুলক আলোচনায় ব্যাপারটা কিন্তু ভাববার মত ...


@ হাকিম সাহেবের সমস্যা কি ?
প্রথমেতো ধর্মনিরেপেক্ষতার পক্ষেই আছেন বলে জানালেন !
এখন আবার কি হইলো ?

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:১৯

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও। ভাল থাকবেন।

১৮| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:১৫

হুমায়ুন কবির হাকিম বলেছেন: @মনির হাসান, আমি বলেছি আমাদের অনেক সমস্যা আছে......সেগুলো ক্রমানুসারে সাজান তারপর সমাধান করেন......আমাদের মূল সমস্যা কি সংবিধানের "বিসমিল্লাহ্‌" নাকি গ্যাস, পানি, বিদ্যূৎ, চাঁদাবাজী, দূর্ণীতি, জনসংখ্যা, বেকারত্ব, সন্ত্রাস???? সংবিধানের "বিসমিল্লাহ্‌" যদি মূল সমস্যা হয় তাহলে ওটা মুছে দেন আগে.....আর তা যদি না হয় তাহলে কি করা উচিৎ !!!!!!!!

১৯| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:২৩

মনির হাসান বলেছেন:
সোনার বাংলা ..
আপনি অনেক জায়গায় ভালো কিছু যুক্তি দিয়েছেন । ঠিক ঠাক মতই ।

কিন্তু ব্যাপার কি জানেন আমরিকার পালিত বান্দর সুচীলদের মতই আপনারাও কথায় কথায় আমেরিকার উদাহরণ টানেন ..
যদিও উল্টাভাবে ... তারপরও টানেন ...

তাইলে দেখতাছি আমেরিকার ভুত খালি আমরিকার পালিত বান্দর সুচীলদের ঘাড়েই চাইপা নাই ... আপনাদের ঘাড়েও উলটা হয়া লটকায় রইছে ...

ক্যান'রে ভাই নিজেরাই নিজেদের উদাহরন হইতে পারিনা ?

২০| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:২৫

মনজুরুল হক বলেছেন:


@আয্দা। আপনি "লাল চুটি কুপি পেষ্ট" বলতে যা বোঝাচ্ছেন তা নয়। আপনাকে কিছু তথ্য দেয়া যাকঃ.............

১। লাল বই এর দেশ ৭১ এ চার চার বার ভেটো দিয়ে আমেরিকার যুদ্ধবিরতী প্রস্তাবকে ঠেকিয়েছিল। তা না হলে বাংলাদেশকে আরো দীর্ঘদিন যুদ্ধ করে যেতে হতো।

২। লাল বই এর আর এক দেশকে মডেল ধরে মিঃজিয়া এবং ম্যাডাম জিয়া ঘোষণা করেছিলেন..." লুক এ্যাট ইষ্ট"।

৩। লাল বই এর প্রথম দেশ টানা তিন বছর বাংলাদেশকে সকল প্রকার সাহায্য দিয়ে গেছিল, কোন প্রতিদান ছাড়াই।

৪। লাল বইকে "লাল চুটি" বলার পর এখন যদি ওই বইয়ের কাউন্টার পার্ট বইকেও "চুটি" বলা হয়, কেমন লাগবে আপনার ?
------------------------------------------------------------------------------

@সোনার বাংলা @হুমায়ূন কবির হাকিম। এ্যারিস্টটলের গণতন্ত্র, ভারতীয় গণতন্ত্র আর বাংলাদেশী গণতন্ত্রের তুলনামূলক আলোচনা করতে চাইলে স্বাগতম। অহেতুক ছুটছাট কথা বলে লাভ কি ?

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩১

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই বিষয়টি ধরিয়ে দেয়ার জন্য। এখন বুঝলাম লাল বই বলতে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে বোঝানো হয়েছে।

২১| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩৪

হুমায়ুন কবির হাকিম বলেছেন: ধন্যবাদ মনজুরুল হক, এতক্ষন বেহুদা পেঁচাল পারলাম......

২২| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩৮

মনির হাসান বলেছেন: এবার ঠিক আছে হাকিম .. বুঝতে পারিনাই ..

তবে কথা ছিল ...
গ্যাস, পানি, বিদ্যূৎ, চাঁদাবাজী, দূর্ণীতি, জনসংখ্যা, বেকারত্ব, সন্ত্রাস এসবকে প্রায়োরিটি দিতে হবে কোন আপোষ নেই তাতে ।
কিন্তু এসব ইস্যূর সাথে ধর্মনিরপেক্ষিকরণকে মিলানো কি ঠিক হলো?

বস্তু ইস্যু আর নৈতিক ইস্যু কি এক পাল্লায় মাপা যায় ?
গ্যাস, পানি, বিদ্যূৎ, চাঁদাবাজী, দূর্ণীতি, জনসংখ্যা, বেকারত্ব, সন্ত্রাস
এগুলো টেকনিক্যাল ব্যাপার স্যাপার ... কয়েক বছরে এর সুরাহা হবে কিনা সন্দেহ ?

কিন্তু আলোচ্য ইস্যুটিকি খুব সহজেই সুরাহা করা যায়ঃ
... স্বদিচ্ছা, কলমের দুই এক খোচা আর একটা সুস্থ্য সংসদীয় দিবস ... ব্যাস আর কি লাগে ?

২৩| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৪৩

সোনার বাংলা বলেছেন:
একটু পরে ১২ নিয়া একটা মন্তব্য করুম.... খিদা লাগচে কিছু খাইতে হৈবো।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ৯:১০

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম...

২৪| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৫৩

হুমায়ুন কবির হাকিম বলেছেন: @মনির হাসান, সহজ কাজটা আগে করেন.......

আপনার কি মনে হয় না যে অশিক্ষা আর দারিদ্র সাম্প্রদায়িকতার সাথে সম্পৃক্ত!!!!!!!

ওই সহজ কাজগুলো (গ্যাস, পানি, বিদ্যূৎ, চাঁদাবাজী, দূর্ণীতি, জনসংখ্যা, বেকারত্ব, সন্ত্রাস দমন) করলে দারিদ্র আর অশিক্ষা নির্মূল হবে সেই সাথে সাম্প্রদায়িকতাও.......কারণ, আমরা বাংলাদেশীরা অল্পতে খূশী এবং যূগ যূগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে চলেছি......

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৩২

ওমর হাসান আল জাহিদ বলেছেন: আমিও আপনার সাথে একমত। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চমৎকার। বাংলাদেশের জনগণ সবাই অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে। অথচ আমাদের সংবিধান, যেটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত প্রকাশ, সেটি একটি সাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে! এর চেয়ে উপহাস আর কি হতে পারে!

২৫| ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৩:৫৫

সোনার বাংলা বলেছেন:
মনির হাসান@ ভাই এমন উদাহরন সুচীলেরা দেয় না। যাই হোক এ বিষয়ে আমার
নিজের ভাবনা নিয়া একটা পোষ্ট দিমু।

মনজুরুল হক@ ভাই ভালো কইচেন.....

আমি ও চিন্তা করতেছি এ বিষয়ে একটা পোষ্ট দিমু...

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.