নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মিশু মিলন

মিশু মিলন

আমি বর্তমানে ইস্টিশন এবং সামহোয়্যার ইন ব্লগে লিখি। আমার সকল লেখা আমি এই দুটি ব্লগেই সংরক্ষণ করে রাখতে চাই। এই দুটি ব্লগের বাইরে অনলাইন পোর্টাল, লিটল ম্যাগাজিন এবং অন্য দু-একটি ব্লগে কিছু লেখা প্রকাশিত হলেও পরবর্তীতে কিছু কিছু লেখা আমি আবার সম্পাদনা করেছি। ফলে ইস্টিশন এবং সামহোয়্যার ইন ব্লগের লেখাই আমার চূড়ান্ত সম্পাদিত লেখা। এই দুটি ব্লগের বাইরে অন্যসব লেখা আমি প্রত্যাহার করছি। মিশু মিলন ঢাকা। ৯ এপ্রিল, ২০১৯।

মিশু মিলন › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রকৃতিবিরুদ্ধ

০৮ ই মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১:৪৯

ভোরবেলায় গ্রামে এসে যখন বিছানায় শুয়ে দু-চোখ বুঝলাম, শুরু হলো হৃদয়ে প্রেমের উস্কানি দেওয়া ফাল্গুনের বৃষ্টি, বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে মোহের মতো ভালোলাগায় বুঁদ হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙল কোকিলের সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর শুনে; সঙ্গে টিয়া, দোয়েল, টুনটুনি, চড়ুইসহ নানা পাখির সঙ্গত। নাগরিক জীবনে সচরাচর পাখির ডাক শুনতে না পাওয়ার অভাব ওরা যেন এক সকালেই পুষিয়ে দিতে চাইল! হঠাৎ পাশের বাড়ি থেকে ডেকে উঠল একটা ছাগল, ‘ম্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ....ম্যাঁ অ্যাঁ ম্যাঁ অ্যাঁ........!’

পাখিদের সুরেলা-শ্রুতিমধুর কণ্ঠস্বর ছাপিয়ে অবিরাম আমার শ্রবণেন্দ্রিয়ে আঘাত করতে লাগল ছাগলের কর্কশ কণ্ঠস্বর।

আমি বিছানা থেকে নেমে ঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে দিলাম, কম্বলের মোলায়েম পশমের আলত স্পর্শের মতো শরীরে আদর বোলাল শীতল বাতাস। ছোট আমগাছের ডালে বসা একটা টিয়া পাখির চোখে চোখ পড়ল, টিয়া ঘাড় নেড়ে নেড়ে আমাকে দেখতে লাগল, আমিও টিয়াকে। তারপর হঠাৎ টিয়া পাখিটা বলে উঠল, ‘সুপ্রভাত দাদা!

আমিও বললাম, ‘সুপ্রভাত। ভালো আছো তোমরা?’
টিয়া অনুযোগের সুরে বলল, ‘ভালো আর থাকতে পারছি কই দাদা, বড় বিপদে আছি!’
‘কেন, তোমাদের আবার কী হলো? তোমরা গাছের ফল-মূল, মাঠের ফসল খাবে। মনের সুখে উড়ে বেড়াবে, আর গান গাইবে।’
‘তেমন হলে তো আর কোনো চিন্তাই ছিল না দাদা।’
‘কেন, কী হয়েছে?’
‘এখন আর আগের মতো নির্ভয়ে মনের সুখে কথা বলতে পারি না, গান গাইতে পারি না।’
‘কেন?’
‘ওই যে শুনছেন না ছাগলটা ম্যাঁ ম্যাঁ করছে?’
‘হ্যাঁ শুনছি, ছাগল তো ম্যাঁ ম্যাঁ করবেই।’

‘ও শুধু ম্যাঁ ম্যাঁ করলে তো কথাই ছিল না। দিন-রাত্রির ঠিক নেই, স্থান-কাল জ্ঞান নেই, যখন-তখন ম্যাঁ ম্যাঁ করে, আর আমাদের পক্ষীকূলকে শাসায় যে ওর ম্যাঁ ম্যাঁ করার সময় আমাদের চুপ থাকতে হবে। আমরা চুপ থাকলেও শান্তি নেই, বলে কি না- তোমাদেরও আমাদের মতো ডাকতে হবে! দিনরাত বয়ান দিতে থাকে যে ওদের মতো না ডাকলে নাকি আমাদের পরকাল উচ্ছন্নে যাবে। বলেন দাদা, এই কী কোনো কথা! আমাদের বাপ-দাদা চৌদ্দগুষ্ঠি যে ভাষায় কথা বলত, গাইত; আমরাও সেই ভাষায় কথা বলি, গান গাই। অথচ এখন নাকি আমাদের পূর্ব-পুরুষের ভাষা ভুলে ছাগলদের ভাষা শিখতে হবে, পূর্ব-পুরুষের সংস্কৃতি ভুলে ছাগলাচার শিখতে হবে! আমাদের পক্ষীকূলের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য আছে। এই কী ভোলা সম্ভব, বলেন দাদা?'

আমি দু-দিকে মাথা নেড়ে বললাম, ‘না, না, তা কখনোই নয়। তোমরা পক্ষীকূল পৃথিবীর সম্পদ। তোমরা তোমাদের ভাষা-সংস্কৃতি ভুলে গেলে পৃথিবী বৈচিত্র্যহীন হয়ে যাবে।’

‘প্রাণের কথা বললেন দাদা। কিন্তু এই ছাগলগুলোকে এসব কথা বুঝাতেই পারি না। ওদের মুখে কেবল একই কথা- আমাদের মতো ডাকতে হবে, আমাদের আচার পালন করতে হবে।'

টিয়া আমার দিকে এগিয়ে এসে ফিস ফিস করে বলল, 'জানেন দাদা, ছাগলগুলোর কোনো সংস্কৃতি নেই, ওরা ওদের পূর্ব-পুরুষদের ঘৃণা করে, ওরা শিকড়বিহীন উন্মুল এক প্রজাতি!'

ছাগলটি অবিরাম ডেকেই চলেছে। আমি মাথাটা জানলার দিকে আরও এগিয়ে দূরে দাঁড়ানো ছাগলটার দিকে তাকালাম, লালচে বালির মতো গায়ের রঙ, বেশ লম্বা, চেহারায়-চোখে আগ্রাসী ভাব, থুতনিতে কিছু দাড়ি। অবিরাম ডেকেই চলেছে, ‘ম্যাঁ অ্যাঁ অ্যাঁ....ম্যাঁ অ্যাঁ ম্যাঁ অ্যাঁ........!’


রাজবাড়ী
০৪.০৩.২০২৪

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই মার্চ, ২০২৪ দুপুর ২:১০

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর ঝরঝরে লেখা।
এক কথায় প্রানবন্ত।

আমাদের সামু ব্লগে এরকম একটা ছাগল। ছাগলটা মূলত মাল্টি। সে বিভিন্ন পোষ্টে গিয়ে ল্যাদায়। মডারেটর কোনো ব্যবস্থা কেন নিচ্ছে না। বুঝতে পারছি না।

০৮ ই মার্চ, ২০২৪ দুপুর ২:১৮

মিশু মিলন বলেছেন: সামুসহ সব জায়গার ছাগলদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে, কথা বলতে হবে। নইলে সব পাখিরা একদিন হারিয়ে যাবে। আন্তরিক ধন্যবাদ।

২| ০৯ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ৩:২৬

রিয়াদ( শেষ রাতের আঁধার ) বলেছেন: মেটাফোরিক লেখা। #:-S #:-S

০৯ ই মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১২:৫০

মিশু মিলন বলেছেন: হুম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.