| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মিশু মিলন
আমি বর্তমানে ইস্টিশন এবং সামহোয়্যার ইন ব্লগে লিখি। আমার সকল লেখা আমি এই দুটি ব্লগেই সংরক্ষণ করে রাখতে চাই। এই দুটি ব্লগের বাইরে অনলাইন পোর্টাল, লিটল ম্যাগাজিন এবং অন্য দু-একটি ব্লগে কিছু লেখা প্রকাশিত হলেও পরবর্তীতে কিছু কিছু লেখা আমি আবার সম্পাদনা করেছি। ফলে ইস্টিশন এবং সামহোয়্যার ইন ব্লগের লেখাই আমার চূড়ান্ত সম্পাদিত লেখা। এই দুটি ব্লগের বাইরে অন্যসব লেখা আমি প্রত্যাহার করছি। মিশু মিলন ঢাকা। ৯ এপ্রিল, ২০১৯।
‘সংগৃহীত’ কোনো লেখকের নাম হয় না, যিনি লেখেন তিনি একজন মানুষ, অনেক অধ্যয়ন আর শ্রম দিয়ে সেই মানুষটিকে একটি লেখা দাঁড় করাতে হয়। অথচ কী অবলীলায় সেই মানুষটির লেখা কপি করে নিচে ‘সংগৃহীত‘ লিখে চালিয়ে দেয় কিছু লোক! তেমনিভাবে সারাদেশ ঘুরে ঘুরে ছবি তুলতেও অনেক পরিশ্রম হয়, সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। অথচ কিছু লোক কী অবলীলায় ছবিটা নিয়ে নিজের ওয়ালে পোস্ট করে দেয়! আপনার হয়ত লেখা বা ছবি ভালো লেগেছে, তাই আপনি নিজের ওয়ালে পোস্ট করেছেন, কিন্তু লেখক বা চিত্রগ্রাহককে ঈর্ষা বা অপছন্দ করেন, তাই লেখা বা ছবিতে লেখক বা চিত্রগ্রাহকের নাম উল্লেখ করেন না। ভাই, অপছন্দের মানুষের লেখা বা ছবি বেনামে প্রচার করার দরকারটা কী!
বাংলা ভাষায় লেখা বা বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা আত্মহত্যার নামান্তর। তবু জেনে-বুঝে আমরা কিছু আত্মঘাতী প্রাণি এই কাজটি করি নিজের সময় ও অর্থ ব্যয় করে, কোনোকিছু প্রাপ্তির আশা না করে। আমারই কোনো কোনো বন্ধু হয়ত সারাজীবন পরিশ্রম করে পাঁচতলা একটা বাড়ি, ব্যাংকে পাঁচ কোটি টাকা রেখে মরে যাবে। ঘটা করে তাদের অন্ত্যষ্টিক্রীয়া করা হবে, হাজার লোক খাইয়ে শ্রাদ্ধ করা হবে। মানুষ পেট পুরে খেয়ে গালভরা প্রশংসা করতে করতে চলে যাবে। আর আমি সারাজীবন পরিশ্রম করে হয়ত ত্রিশ-চল্লিশটা বই (যদি বেঁচে থাকি ততদিন), পনের-বিশ হাজার পুতুলসমৃদ্ধ একটা মৃৎশিল্প জাদুঘর রেখে নীরবে মরে যাব পৃথিবীর কোনো প্রান্তে, উগ্রবাদ-কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখায় হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ এখনও যেমন গালাগালি দেয় আমাকে, মৃত্যুর পরও দেবে, আরও বেশি করে দেবে শ্রাদ্ধের খাবার খেতে না পেয়ে!
অথচ আমার বন্ধুর মতো একটি জীবন আমিও কাটাতে পারতাম, স্বেচ্ছায় সেই জীবন থেকে সরে এসেছি। জীবন একটা লম্বা রেস, কেউ সারাজীবন জিতেও হেরে যায়, কেউ সারাজীবন হেরেও জিতে যায়। ষাট, আশি বা একশো বছরের মধ্যেই একটি জীবন সীমাবব্ধ নয়, মৃত্যুতেই সব শেষ নয়, কেউ কেউ মৃত্যুর একশো বছর পরেও জিতে যেতে পারে।
ছবিতে আগে লোগো দিতাম না, অন্যের ওয়ালে নিজের ছবি দেখে লোগো দিতে শুরু করেছি। আগে লোগো দিতাম এক কোনায়, ক্রপ করে ফেলে দেয়। ছবির সৌন্ধর্যহানি হলেও এখন লোগো দিই মাঝখানে, তারপরও অন্যের ওয়ালে আমার তোলা ছবি চোখে পড়ে। ভালো লাগে, আনন্দ পাই, আর কিছুটা নিজের শিকড় ও সংস্কৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই লিখি বা সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করি। প্রকৃত সংস্কৃতিকর্মীরা রাষ্ট্র বা সামাজ থেকে কোনো কিছু আশা করে না। কিন্তু লেখা বা ছবির জন্য ঋণস্বীকারের সম্মানটুকুও কী তারা পাবে না! এই দেশে লেখক বা সংস্কৃতিকর্মীরা লিখে বা কাজ করে প্রতিদিন-ই নিজের সমাধিসৌধ নির্মাণ করে, আর একশ্রেণির লোক তা শেয়ার করে সেই সমাধিসৌধের এপিটাফে ‘সংগৃহীত’ পোস্টার সাঁটায়!
ছবি: ধর্মের মেলা
মুন্সিগঞ্জ
০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৫৩
মিশু মিলন বলেছেন: হাজার হাজার ছবি এলেই অন্যেরটা নিয়ে নিজের ওয়ালে পোস্ট করতে হবে! ডিজিটাল যুগে চৌর্যবৃত্তি ত্যাগ করুন।
২|
০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৪৯
সূচরিতা সেন বলেছেন: ভালো লাগলো ছবিগুলো এবং কথাগুলো।
০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৫৩
মিশু মিলন বলেছেন: ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৪৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: প্রতিদিন হাজার হাজার ছবি আসছে মোবাইল, ইউটিউব বা অন্য মাধ্যমে
একসময় এসব স্বীকৃতির আবশ্যকতা ছিল
.................................................................................................
আজ দেখছি , কোন গান এত কষ্ট করে একজন গেয়েছিলো
তা এ.আই সহজে পরিবেশন করছে,
কোথায় সেই স্বীকৃতি ???
আতএব, ডিজিটাল যুগে
হৃদয়টাকে আবেগ শুন্য করুন,
তাহলে ব্যাথা লাগবে না ।