| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এমএমহক মাসুদ
লেখালেখির গোপন এক আগ্রহ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি দীর্ঘকাল। স্বল্পোদ্যোগী হওয়ায় সে আগ্রহ আর আলোর মুখ দেখেনি। একদিন হঠাতই মনে হলো বুড়ো হয়ে যাচ্ছি.. এ জন্মে হয়তো আর লেখাই হয়ে উঠবেনা, এরচেয়ে ঝুঁকি নেয়া যাক। দেখা যাক একটু স্বপ্ন
মনে পড়ে, শৈশবের সেই দাদু-নানুর কোলে বসে শোনা চরকা কাটা চাঁদের বুড়ির গল্প? জোসনা রাতে দাড়িয়াবান্ধা খেলেছি, কখনও বা বাড়ির উঠোনে অথবা বাহির বাড়িতে খেলেছি বউ চি, গোল্লাছুট। বেশিরভাগ খেলেছি লুকোচুরি। সেকি বাঁধভাঙ্গা আনন্দ। আজ মনে পড়লে বুক ভেঙ্গে যায়।
এসকল শৈশব স্মৃতি কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনতে এবারের এ প্রয়াস।
'আমার লাইফে প্রথম কোন ফেসবুক ভিত্তিক ইভেন্টে যোগদানের ঘটনা,
চান্দি পরস রাইতে মাটির সানকিতে আট পদের ভর্তা দিয়ে খাওয়া,, পিদিমের আলোয় পুঁথিপাঠ,, ভেলুয়া, কমলা সুন্দরীর কাহিনী,, তাঁবুতে রাত্রিযাপন। একদিন আগেও মুসাফির বাহিনীর কাউকে চিনতাম না,, একরাতে আমরা যেন এক পরিবারের সদস্য হয়ে গেছি। গভীর রাতে বেলাই বিলে নৌকা চালানা, সাদা শাপলা উঠানো,, বাঁশের মাচাঙে বসে বাঁশি বাজানো, হারমোনিয়াম তবলা,, হ্যামকে বসে দোল খাওয়া, ইত্যাদি লাইফে এক নতুন অভিজ্ঞতার সূত্রপাত হইলো। যতদিন মুসাফিররা আছে তাদের সাথে আছি সবসময় ইনশাল্লাহ। ধন্যবাদ অরন্য বাউলা ভাইকে চমৎকার একটা ইভেন্ট উপহার দেবার জন্য।
“জোৎসনা বিলাস”
''ও কারিগর দয়ার সাগর
ওগো দয়াময়
চান্নি পসর রাইতে যেনো
আমার মরন হয়"
এই গানটির সাথে আমরা কম বেশী সবাই পরিচিত !
গানটি বাংদেশের কিংবদন্তী প্রয়াত: কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহাম্মেদ এর একটি জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান । তিনি শৈল্পীক জোৎসনা দেখার এই ধারাটিকে নতুন করে জনপ্রিয় করেছেন প্রকৃতি প্রেমিদের কাছে । অবশ্য জোৎসনা নিয়ে এই আকুলতা-ব্যাকুলতা আমাদের নতুন কিছু নয় ! প্রকৃতির সাথে আত্মিক অবগাহনের এমন অনন্য উপায় ২য় টি আর নেই !
যান্ত্রিক নাগরিক জীবনের চার দেয়াল থেকে বেড়িয়ে এই জোৎসনা উৎযাপর।
সীমিত সাধ্যের মধ্যে এমন নান্দনিক আয়োজন কমই পাওয়া যায় !
গাজীপুর শহর থেকে মাত্র ২০ মিনিটের দূরত্বে..... অবাক সৌন্দর্যের গ্রাম "পাকুড়িয়া" আর এই পাকুড়িয়া গ্রামেই ঐতিহাসিক বেলাই বিলের মাঝে ইকো-রিসোর্ট "বেলাই বিলাস"! আপনিও ঘুরে আসতে পারেন খুব সহজে ।
জয়দেবপুর বাজার রেলক্রসিং (কলা পট্রি) থেকে পাকুড়িয়া গামী সিএনজি তে মাত্র ২৫ টাকা ভাড়া ! ২০/২৫ মিনিটে আপনি পৌছে যাবেন পাকুড়িয়া বাজার।
সেখান থেকে ৩/৪ মিনিটের পায়ে হাটা পথ পেরুলেই টলমলে বিলের জলের মাঝখানে দেখতে পাবেন "বেলাই বিলাস" যেনো এক খন্ড ছোট্র দ্বীপ !
প্রতি ভরা পূর্ণিমায়ই আয়োজনে থাকে "জোৎসনা বিলাস"
রাতে দেশীয় রসনা বিলাসে পাবেন রকমারি ভর্তা-ভাজি, শাক-শব্জি, বেলাই বিলের তাজা মাছ সহ মুখোরোচক সপ্ত ব্যঞ্জন ! আর চা নাস্তা তো আছেই ! আবার সকালে পাবেন গরম গরম ভোনা খিচুরী !!!
অনুষ্ঠান আয়োজন : ১৭ অক্টোবর ২০১৬ বিকেল ৪টা
অবশেষে অবাক চাঁদের আলোয় লোকজ গানের আসর ! তখন মনে হবে কবি সত্যিই লিখেছেন...... "এমন চাঁদের আলো
মরি যদি সে ও ভালো
সে মরণ হবে স্বর্গ সমান"
কোনো উদাস গায়েন হয়তো আনমনে গেয়ে উঠবে............
"আমার ভাঙ্গা ঘরে
ভাঙ্গা চালা
ভঙ্গা বেড়ার ফাঁকে.....
অবাক জোৎসনা
ঢুইকা পরে
হাত বাড়াইয়া ডাকে..... ।।
এরপরই বিশাল বনভূমি। সন্ধ্যা মেলানোর পরই সে বনভুমি ভেদ করে এক থালা বিশাল চাদ হঠাৎ করে উদয় হলো। চাঁদের আলোয় দিক দেশ প্রান্তর হেসে উঠেছে। চারদিকে আলোর আল্পনায় অপরূপা হয়ে উঠেছে প্রকৃতি কন্যা। জোসনা ছড়িয়ে পড়েছে শেফালী বনে, গোল চাঁদ আকাশে, হালকা মেঘেরা পাল তুলে ভেসে যাচ্ছে। আমরা চাঁদের আলোর লুকোচুরি খেলা দেখবো, বারবিকিউ পার্টি করবো, ক্যাম্পফায়ার হবে।
- রাতে আমরা জোসনা উপভোগ করবো, শিশিরস্নাত ঘাসের উপর খালিপায়ে হাঁটবো, আধো ঘুম আধো জাগরণে রাস্তার ধারে বসে ধান ক্ষেতের ওধারে বনভূমির উপরে পূর্ণ চাঁদ দেখবো। বারবিকিউ, ক্যাম্পফায়ার করে মধ্যরাতে গিয়ে শুয়ে পড়বো।
- পরেরদিন চিরসবুজ গ্রামের মেঠো পথ ধরে হেটে আবহমান গ্রাম বাংলার রূপ দর্শন করব। প্রাচীণ সভ্যতার পুরাকীর্তি দেখব। দুপুরে কেয়ার টেকার লিটনের রান্না করা খাবার খেয়ে, বালিশ ঢেল ও চ্যায়ার খেলার আয়োজন করবো। সাথে হালকা নাচগান। বিজয়ীরা পুরস্কৃত হবেন।

©somewhere in net ltd.