নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মোহাইমেনুল হক

নিজের সম্পর্কে কিছু বলার নাই,তুচ্ছ একজন মানুষ।

মোহাইমেনুল হক › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্ট্রিং থিওরির ইতিকথা

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১০:৫৯

মানুষের হাত পা কয়টা? দুইটা।
ঠিক তেমনিভাবে আধুনিক
পদার্থবিজ্ঞানের মূল নীতি হল
দুইটা -কোয়ান্টাম ফিজিক্স আর
জেনারেল রিলেটিভিটি ।
কোয়ান্টাম ফিজিক্সের কাজ হল
ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর জিনিস
নিয়ে।আর জেনারেল
রিলেটিভিটির গবেষণা
ক্ষেত্র হল গ্রহ,গ্যালাক্সি,
ইউনিভার্স এগুলা। আগে ক্ষুদ্র দিক
থেকে শুরু করি।সকল বস্তু কি দিয়ে
তৈরী? অণু, পরমাণু।পরমাণুকে
ভাঙলে পাওয়া যায় ইলেকট্রন
আন নিউক্লিয়ন। আবার
নিউক্লিয়নকে ভাঙলে পাওয়া
যায় কোয়ার্ক। স্ট্যান্ডার্ড
মডেল অনুযায়ী মহাবিশ্ব তৈরী
হয়েছে বারোটি কণা ও চার রকম
শক্তির সমন্বয়ে। বারোটি কণার
মধ্যে ছয়টি হল কোয়ার্ক আর ছয়টি
লেপটন (ইলেকট্রন,মুয়ন, ট্যাওয়ন আর
তিনটি বিশেষ ধরনের
নিউট্রিনো) । আর চারটি শক্তির
মধ্যে রয়েছে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিজম,অভিকর্ষ এবং সবল ও দুর্বল
পারমাণবিক শক্তি। এখন অনেকের
মতে বিগ ব্যাংয়ের আগে সকল
শক্তি একীভূত অবস্থায় ছিল ।
কিন্তু একথাটি আপনি
স্ট্যান্ডার্ড মডেল দিয়ে প্রমাণ
করতে পারবেন না।এটি প্রমাণ
করতে লাগবে স্ট্রিং থিওরি। এ
থিওরির প্রধান চারটি বৈশিষ্ট্য
হল:
(১) স্ট্রিং এন্ড মেমব্রেন
(২)ইউনিফিকেশন অব
ফান্ডামেন্টাল ফর্সেস
(৩)সুপারসেমিট্রি
(৪)কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি
প্রথমত এ থিওরি অনুসারে সকল বস্তু
স্ট্রিং দ্বারা তৈরী ।স্ট্রিং
মূলত এমন একটি জিনিস যার শুধু
দৈর্ঘ্য আছে।আর এটি সর্বদা
কম্পমান। স্ট্রিং আবার দুইপ্রকার
যথা :ওপেন ও ক্লোজ ।ওপেন
স্ট্রিংয়ের শুরু ও শেষ আছে
অপরদিকে ক্লোজড স্ট্রিংয়ের
শুরু ও শেষ নেই অর্থাৎ বৃত্তাকার।
এ স্ট্রিংগুলো আবার দিমাত্রিক
বেসে লেগে থাকে যাকে
বলে মেমব্রেন।দুইটি স্ট্রিং সর্বোচ্চ পাঁচভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত হতে পারে। আমরা যে
ইলেক্ট্রন আর কোয়ার্ক দেখি
এগুলো মূলত স্ট্রিং। অবিরাম ও
আলাদা প্যাটার্নে কম্পনের
ফলে এগুলো দেখতে কণা র মতো
লাগে।
দ্বিতীয়ত স্ট্রিং থিওরি
অনুযায়ী সকল মৌলিক শক্তি
একসময় সিঙ্গুলারিটি বা
একত্রিত অবস্থায় ছিল ।
পরবর্তীতে বিগ ব্যাংয়ের পর
তা বিভক্ত হয়ে যায়। এছাড়াও এ
থিওরি ব্যবহার করে আপনি
কোয়ান্টাম ফিজিক্স আর
জেনারেল রিলেটিভিটির
মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে পারবেন
যা এতকাল সম্ভব ছিলনা।
এছাড়াও আপনি অভিকর্ষ বলকে
ব্যাখ্যা করতে পারবেন।একে
বলে কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি।
তৃতীয়ত
স্ট্রিং এর জগতে প্রতিটি বস্তু
বা পার্টিকেলের এক বা
একাধিক টুইন পার্টিকেল
বিদ্যমান যথা বোসন ও ফার্মিয়ন।
আর এক্ষেত্রে ইকুয়েশন টা হবে
ম্যাটার = এনার্জি। যেটা আগে
ছিল ম্যাটার + এনার্জি! একেই
সংক্ষেপে বলে সুপারসেমিট্রি
। এখন স্ট্রিং থিওরি অনুসারে
মহাবিশ্ব একাধিক যা বাবল (বুদবুদ) বা মেমব্রেন আকারে পরস্পর হতে বিভক্ত । আর এমন
কয়েকটি মহাবিশ্বের সংঘর্ষ বা
পৃথকীকরণের কারণেই বিগ
ব্যাংয়ের সৃষ্টি ।আর
আইনস্টাইনের মতে আমরা একটি
বাবল বা মেমব্রেনের মধ্যে
আটকা পড়ে আছি। তাই অন্যান্য
মহাবিশ্ব আমরা দেখতে
পারিনা ।এক্ষেত্রে স্ট্রিং
থিওরি আমাদের ওয়ার্মহোল
ব্যবহার করে অন্য মহাবিশ্বে
যাবার সুযোগ করে দিতে সক্ষম।
একারণে একে বলা হয় The Theory of
Everything। মজার ব্যাপার হল
যেহেতু এখনও কোয়ার্ককে
বিশ্লেষণ বা আণুবীক্ষণিক
ভাবে দেখার কোনো প্রযুক্তি
আবিষ্কৃত হয়নি তাই এটাকে
মিথ্যা প্রমাণ করবার কোনো
সুযোগ নেই ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.