নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"জীবন শেখায়, আমি লিখে রাখি। গল্প অনুভূতি আর অভিজ্ঞতার মিশেলে এটাই আমার ছোট্ট জগৎ\" গতানুগতিক সাধারণ মানুষ

মহিউদ্দিন হায়দার

শব্দে আমার আশ্রয়, লেখায় আমার মুক্তি। এখানে আমি লিখি, ভেবে দেখি, আর খুঁজি মানুষের মনের গল্প।

মহিউদ্দিন হায়দার › বিস্তারিত পোস্টঃ

পরীমনি: মুখোশধারী পুরুষতন্ত্রের এক অনিবার্য দুঃস্বপ্ন।

১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


নাম তার পরীমনি। সেলুলয়েডের পর্দায় তিনি কেমন অভিনয় করেন, সেই হিসাব-নিকাশ সিনেমা সমালোচকদের জন্য তোলা থাক। কিন্তু বাস্তব জীবনের মঞ্চে তিনি যে ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন, তা যেকোনো থ্রিলার সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। রূপকথার পরীদের মতোই তার রূপের ছটা, কিন্তু এই রূপের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অদম্য, স্বাধীনচেতা ও বাঁধনহারা আত্মা।
​পরীমনি সমাজের তথাকথিত নিয়মকানুনের ধার ধারেন না। কে তাকে নিয়ে কী ভাবল, কার ড্রয়িংরুমে তাকে নিয়ে কী ফিসফাস হলো—তাতে তার কিচ্ছু আসে যায় না। নিজের জীবনকে নিজের শর্তে, কোনো লুকোছাপা বা রাগঢাক ছাড়াই উপভোগ করার এক অসামান্য সাহস তিনি দেখিয়েছেন। হ্যাঁ, তিনি বিলাসী। ফাইভ স্টার হোটেলের আলো-ঝলমলে পরিবেশ থেকে শুরু করে সমাজের সবচেয়ে উঁচুতলার অলিন্দে তার অবাধ বিচরণ।
​তার বিয়ের সংখ্যা নিয়ে সমাজের নীতিবাগীশদের আগ্রহের কমতি নেই। কিন্তু তারা ভুলে যায়, পরীমনি এক মুক্ত বিহঙ্গ—তার হারানোর কিছু নেই, তাই লুকানোরও কিছু নেই। রাজনৈতিক নেতা, কোটিপতি শিল্পপতি, সরকারের ক্ষমতাধর আমলা, সচিব থেকে শুরু করে পুলিশের বড় কর্মকর্তা—সমাজের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তার যাতায়াত বা কানেকশন নেই।
কিন্তু এখানেই আসল টুইস্ট!
​সবকিছু ছাড়িয়ে পরীমনির সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক পরিচয় হলো—তিনি এই সমাজের ‘নারীলোভী পুরুষদের যম’। আমাদের চারপাশে সুশীল সেজে ঘুরে বেড়ানো যে পুরুষগুলো সারাদিন নীতিবাক্য ছড়ায়, রাতের আঁধারে নারীদেহের লোভে তারাই লালা ঝরায়। পরীমনি যেন সেইসব ক্ষমতাবান লম্পটদের আকর্ষণের এক অনিবার্য ফাঁদ। নিজের রূপের জালে জড়িয়ে তিনি একের পর এক এই মুখোশধারী শয়তানদের ধ্বংস করেছেন, টেনে হিঁচড়ে নামিয়েছেন তাদের ভদ্রতার আসন থেকে।
​যে-ই তার দিকে কামনার দৃষ্টি নিয়ে এগিয়ে এসেছে, তাকেই তিনি ধরাশায়ী করেছেন। ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ যেসব পুরুষ ভেবেছিল টাকাপয়সা আর পদমর্যাদা দিয়ে একটা মেয়েকে স্রেফ খেলনা বানিয়ে রাখবে, পরীমনি উল্টো তাদেরই খেলো বানিয়ে ছেড়েছেন। তাদের গোপন কেলেঙ্কারি, ক্ষমতার অপব্যবহার আর ভেতরের পশুত্ব কে বুক ছিড়ে টেনে বের করে এনেছেন প্রকাশ্য আলোয়।
​একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে পরীমনিকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারা যায় না। অভিনয়ের পর্দায় তিনি সফল নাকি ব্যর্থ—সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সবচেয়ে বড় বড় 'মাছ'দের জালবন্দি করে তাদের আসল কদর্য রূপটা উন্মোচন করার ক্ষেত্রে তিনি একাই একশ!
​পরীমনি কোনো আদর্শ দেবী নন, কিন্তু তিনি এই ভণ্ড সমাজের গালে এক জ্বলজ্যান্ত চপেটাঘাত। ভাঙুক এই মিথ্যে ভদ্রতার দেয়াল, উন্মোচিত হোক আরও শত মুখোশ!

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫

রাসেল বলেছেন: শুধুই মুখোশ উন্মোচন নহে

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.