| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মহিউদ্দিন হায়দার
শব্দে আমার আশ্রয়, লেখায় আমার মুক্তি। এখানে আমি লিখি, ভেবে দেখি, আর খুঁজি মানুষের মনের গল্প।

ধর্ম, নৈতিকতা আর আদর্শের মুখোশ পরে যখন ভেতরে ভেতরে চরম অবক্ষয় চলে, তখন সাধারণ মানুষ হিসেবে মুখ বুজে মেনে নেওয়া কঠিন!
ধর্ষণের অভিযোগ এআই (AI) দাবি করা কিংবা অনৈতিক ঘটনাকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বানানোর চেষ্টা—আমাদের সমাজকে আসলে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে?
সাম্প্রতিক সময়ে আমরা রাজনীতির ময়দানে এবং তথাকথিত ‘নৈতিকতার ঝাণ্ডাধারী’ কিছু নেতার চরম দ্বিমুখিতা দেখতে পাচ্ছি। মুখে যারা ধর্মের বাণী, ইনসাফ আর ন্যায়বিচারের কথা বলেন, তাদের অনেকের আসল রূপ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হচ্ছে।
ভাবছেন ঘটনার গভীরতা কতটা? কয়েকটা বাস্তব উদাহরণ দেখুন:
গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনা: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক জামায়াত এমপির বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশের পর শুরুতেই দাবি করা হলো ওটা নাকি ‘এআই (AI) প্রযুক্তির কারসাজি’! পরে আবার চালানো হলো ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র গল্প। কিন্তু জনরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে বহিষ্কার করেই দল দায় সারলো।
ছাত্রশিবির নেতার ধর্ষণ ও গর্ভপাত মামলা: কুমিল্লায় জিসান মিয়া প্রধান নামের এক কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের পরেই কেবল দল থেকে অব্যাহতির নাটক সাজানো হলো।
কওমি মাদ্রাসার বলাৎকার ও রিসোর্ট কাণ্ড: শুধু রাজনৈতিক নেতাই নন, কওমি মাদ্রাসার শিশুদের বলাৎকার থেকে শুরু করে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ড—সবখানেই একই চিত্র। নলছিটিতে ছাত্রের মাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার ঘটনাগুলোতেও শুরুতে নিজেকে নির্দোষ ও সাধু প্রমাণের চেষ্টা, আর শেষমেশ ধরা পড়ে গেলে ক্ষমা কিংবা বহিষ্কারের আশ্রয়!
অনলাইনে নতুন কসরত: বট বাহিনী ও 'সেলিব্রিটি' দিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোল
এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর এখন জামায়াত-শিবির ও সমমনা গোষ্ঠীগুলো অনলাইনে নতুন এক নাটক শুরু করেছে। দলকে জনগণের কাছে আবার 'স্বাভাবিক' ও 'ইনসাফকায়েমকারী' হিসেবে তুলে ধরতে সুসংগঠিত অনলাইন কসরত দেখা যাচ্ছে:
১. বট বাহিনীর দৌরাত্ম্য: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত ফেক আইডি ও ট্রোল বট নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাদের কাজই হলো মূল আলোচনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া এবং অপরাধীদের পক্ষে সাফাই গাওয়া।
২. স্বার্থান্বেষী ইনফ্লুয়েন্সার ও সেলিব্রিটি: দেশ-বিদেশে থাকা কিছু সুবিধাভোগী অনলাইন সেলিব্রিটি ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরকে দিয়ে হঠাৎ করেই "দোষীর কঠোর সাজা চাই" বলে পোস্ট করানো হচ্ছে।
৩. ধোঁয়াশা তৈরি করে সাধু সাজা: বাহ্যিকভাবে তারা অপরাধীর সাজা দাবি করছে, কিন্তু তাদের মূল উদ্দেশ্য—অপরাধীকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বানিয়ে পুরো দলকে ‘অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও কঠোর নীতিবান’ দল হিসেবে প্রচার করা! অর্থাৎ, চরম অপরাধের মাঝেও নিজেদের দলের মার্কেটিং করা!
এই 'বর্ণচোরা' নীতি ও দ্বিমুখিতা আসলে কী নির্দেশ করে?
প্রথমেই অস্বীকার ও ধামাচাপা: কোনো অনৈতিক কাজ ফাঁস হলেই প্রথম কাজ হয় সেটাকে 'রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র' বা 'ডিজিটাল এডিটিং' বলে উড়িয়ে দেওয়া।
দায় এড়ানোর সহজ পথ: যখন আর কোনো উপায় থাকে না, তখন হুট করে অভিযুক্তকে ‘বহিষ্কার’ করে বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়—যেন দল একদম ধোঁয়া তুলসী পাতা!
কথায় আদর্শ, কাজে অবক্ষয়: জনসম্মহরে যারা কঠোর অনুশাসন আর ধর্মীয় মূল্যবোধের বয়ান দেন, তাদের দলের ভেতরে এবং পৃষ্ঠপোষকতায় যখন একের পর এক এ ধরনের অপরাধ ঘটে, তখন সেটা কেবল এক ব্যক্তির ব্যর্থতা থাকে না—পুরো রাজনৈতিক কাঠামোর ভণ্ডামি উন্মোচিত করে।
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার জোর দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সরল আবেগ নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা আর কত দিন? কেবল অনলাইন প্রোপাগান্ডা চালিয়ে কিংবা তড়িঘড়ি বহিষ্কারের নাটক করে এই প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় ও দ্বিমুখিতা ঢাকা সম্ভব নয়।
আপনার মতামত কী?
অনলাইন বট বাহিনী আর সেলিব্রিটিদের দিয়ে ‘ন্যায়পরায়ণ’ সাজলেই কি তাদের এই নৈতিক অবক্ষয় ঢাকা সম্ভব? অপরাধীর সুবিচারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর এই ভণ্ডামির জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়? কমেন্টে আপনার সৎ মতামত জানান!
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আজকে ফোকাস কোচিং এর ভেতর আরেকটা নিয়ে ধরা খাইছে । তিন বারের এমপি তিনি ।