নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মইনুল১৩১৪১২

i love to dream

মইনুল১৩১৪১২ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ডায়েরির পাতা

২৯ শে আগস্ট, ২০১৪ সকাল ১০:২৫

সকালে বিকালে চলিতেছে ট্রেন আমি তারি এক যাত্রী

ক্লান্তিহীন এই যন্ত্রদানব ছুটিতেছে দিবারাত্রি ।

ভীড় জনযাট দোকানপাট আর মানুষের নাই অন্ত

সারাটিদিনের কষ্টের শেষে সকলে হয়েছে ক্লান্ত ।

নানা ধরণের নানান জাতের পুস্তকে আছে লেখা

সত্যিকারের প্রেম হতে লাগে শুধু চোখে চোখে দেখা ।

কত কিচ্ছা কত রকমের শুনেছি এসব গল্প

বাস্তবে দেখা মেলা ভার দেখেছি কেবলই অল্প ।

প্রতিবার আমি ট্রেনে যবে যাই মনে মনে ভাবি সদা

আমারই পাশিতে বসিত যদি গো এমনই প্রিয়ংবদা ।

ইচ্ছাদেবীর কর্ণ সেদিন শুনেছিল মোর ভাবনা

দেখিলাম আমি সামনে বসিয়া সুন্দরী ললনা ।

চক্ষু আমার তাহারই বদনে পড়িয়া রইলো হায়

শুভ্র কোমল আবরণে ঢাকা হাই হিল পড়া পায় ।

জাঁদরেল এক আংকেল এসে বসল তাহার পাশে

আমার দিকেতে মুখ ফিরায়ে ক্রুর হাসি শুধু হাসে ।

চোখেতে তাহার তীব্র শাসন যেন বলিতেছে “ ছোঁড়া ,

এদিকেতে যদি চোখ পড়ে তবে গুড়োঁ করে দেব থোড়া । ”

খবরের এক কাগজ লইয়া চক্ষু দিলাম তাতে

মনের চক্ষু পড়িয়া রইলো মেহেদী রাঙ্গা সেই হাতে ।

স্টেশনের পর স্টেশন চলেছে মনে জমে কত কথা

এত রকমের কথার ভীড়ে যে হৃদয়ে হয়েছে ব্যাথা ।

চাঁটগা আসিতে বেশী দূর নাই কথাটা কী বলা হবে

সারাটি জীবন খুঁজিলে কী আর তাহাকেই পাওয়া যাবে ?

অকস্মাৎ এক বুদ্ধি আসিয়া ঠেকিল এই মাথায়

লিখিলাম আমি মনের কথা ডায়রির সে পাতায় ।

স্টেশনে আসিয়া সবাই নামিল সেও যে নামিয়া পড়ে

একটাই কাজ করিতে হইবে আমি মরে যাই ডরে ।

মেয়েটার হাতে একখানা ব্যাগ সাইড পকেটটা খোলা

সেইখানেতে ভাসিয়ে দিলাম ডায়রী পাতার ভেলা ।

সবাই নামিল হুড়োহুড়ি করে আমি নামিলাম পরে

মন জুড়িয়ে দেখে লইলাম শেষবারেটির তরে ।







শুভ বিবাহ ভাইয়ের আমার তাই আসা এইখানে

মনটা আমার উদাস পাখি চক্ষু আকাশপানে ।

বিবাহের দিন আমি একা একা চুপচাপ রহি বসে

চারদিকে আজ হই হুল্লোড় প্রাণ খুলে সবে হাসে ।

হঠাৎ আমি যে জেগে উঠলাম মোহ মোর ছুটে গেলো

সত্যি সত্যি এসেছে যে সে সত্যি সত্যি এলো ।

বধূর বেশে সে রাজরাণি সেজে বসলো ভাইয়ের পাশে

লজ্জায় আমি নিজেকেই নিজে থাপ্পড় মারি কষে ।

পরদিনই আমি প্রভাত বেলায় ফিরিয়া গেলাম ঢাকা

ভাঙ্গা হৃদয়ে লাগছিলো মোর সবকিছু আজ ফাঁকা ।









মাসের পরে মাস চলে যায় হয় না তো বাড়ি ফেরা

জননী আমায় তাগদা দিচ্ছে , ভাইয়া দিচ্ছে তাড়া ।

অবশেষে আমি বাধ্য হলাম ফিরিয়া যাইতে বাড়ি

মায়ের নাকি অসুখ হয়েছে যদি থেমে যায় নাড়ি ।

মায়ের অসুখ গুরুতর নয় বুঝিলাম উহা ছল

ছেলেটিকে কাছে পাইবার তরে ইহা এক কৌশল ।

ভাবীর আচার খুবই স্বাভাবিক , কাটিতে লাগিল ভয়

পড়েছে কী চিঠি তাহারই হাতেতে হইতেছে সংশয় ।

অনেক ভাবিয়া ফেলিলাম আমি লম্বা দীর্ঘশ্বাস

শুধু শুধু আমি ভয় পেয়েছি হয়নি সর্বনাশ ।

রাত্রি হেথায় নামিয়া আসিল , সবাই ঘুমায়ে পড়ে

হঠাৎ করিয়া ঠকঠক করি দরজায় কড়া নড়ে ।

দরজা খুলিয়া নিদ্রা আমার কোথা চলে গেল ছুটে

পদ্ম আখিঁর সুন্দরী মোর দাড়াঁয়ে দ্বারের তটে ।

ভেতরে ঢুকিয়া কহিল চাহিয়া তোমারে যে ভালোবাসি





তাইতো আমার সেদিন হতেই ফোটেনি মুখেতে হাসি ।

কী দিব জওয়াব জবাব সেদিন ছিলোনা আমার মুখে

তবে কী আমার ভাইয়া তোমায় রাখতে পারেনি সুখে ?

ভীষণ কড়া ভাইয়া তোমার কথায় কথায় ঝাড়ি

কিছু বললেই শাসায় আমায় পাঠাবে বাপের বাড়ি ।

চলো চলো আজ চলো চলে যাই অন্য কোন সে দেশে

অনেক ভাবিয়া অবশেষে আমি জবাব দিলাম শেষে ,

সেদিনের সেই চিঠির কথাটা ভুলে যাব আমি আজই

নতুন জীবন শুরু কর তুমি নতুন রঙ্গেতে সাজি ।

সকরুণ চোখে চাহিয়া কহিল “ তবে আমি আজ যাই ”

কী করিব আমি আমার তো আর অন্য উপায় নাই ।

হঠাৎ একটা বিকট রকম হাসির শব্দ শুনে

দেখিলাম ভায়া দাড়াঁয়ে রয়েছে দূর জানালার কোণে ।

তাহার হাতে সে ডায়রির পাতা চোখে ও মুখেতে হাসি

সবাই হাসছে আমি হাসছি একা একা খাটে বসি ।

বুঝিলাম আর কিছু নয় সব ছিলো শুধু নাটক

মায়ের অসুখও বানোয়াট ছিলো , ছিলো শুধু অনুঘটক ।

মনে মনে এক স্বস্তিএ শ্বাস ফেলিয়া দিলাম আমি

একটু হলে যে বলে ফেলতাম আমার চাই যে তুমি ।

যুগে যুগে কত মজনু এসেছে হইয়াছে অপদস্ত

হৃদয় সুর্য উদিত হবার আগেই গিয়েছে অস্ত ।

এখনো যখন একা বসে মন পুরানো স্মৃতিরে হাতায়

ভালোবাসারই বীজ খুঁজে পায় সেই ডায়রির পাতায় ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.