| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সকালে বিকালে চলিতেছে ট্রেন আমি তারি এক যাত্রী
ক্লান্তিহীন এই যন্ত্রদানব ছুটিতেছে দিবারাত্রি ।
ভীড় জনযাট দোকানপাট আর মানুষের নাই অন্ত
সারাটিদিনের কষ্টের শেষে সকলে হয়েছে ক্লান্ত ।
নানা ধরণের নানান জাতের পুস্তকে আছে লেখা
সত্যিকারের প্রেম হতে লাগে শুধু চোখে চোখে দেখা ।
কত কিচ্ছা কত রকমের শুনেছি এসব গল্প
বাস্তবে দেখা মেলা ভার দেখেছি কেবলই অল্প ।
প্রতিবার আমি ট্রেনে যবে যাই মনে মনে ভাবি সদা
আমারই পাশিতে বসিত যদি গো এমনই প্রিয়ংবদা ।
ইচ্ছাদেবীর কর্ণ সেদিন শুনেছিল মোর ভাবনা
দেখিলাম আমি সামনে বসিয়া সুন্দরী ললনা ।
চক্ষু আমার তাহারই বদনে পড়িয়া রইলো হায়
শুভ্র কোমল আবরণে ঢাকা হাই হিল পড়া পায় ।
জাঁদরেল এক আংকেল এসে বসল তাহার পাশে
আমার দিকেতে মুখ ফিরায়ে ক্রুর হাসি শুধু হাসে ।
চোখেতে তাহার তীব্র শাসন যেন বলিতেছে “ ছোঁড়া ,
এদিকেতে যদি চোখ পড়ে তবে গুড়োঁ করে দেব থোড়া । ”
খবরের এক কাগজ লইয়া চক্ষু দিলাম তাতে
মনের চক্ষু পড়িয়া রইলো মেহেদী রাঙ্গা সেই হাতে ।
স্টেশনের পর স্টেশন চলেছে মনে জমে কত কথা
এত রকমের কথার ভীড়ে যে হৃদয়ে হয়েছে ব্যাথা ।
চাঁটগা আসিতে বেশী দূর নাই কথাটা কী বলা হবে
সারাটি জীবন খুঁজিলে কী আর তাহাকেই পাওয়া যাবে ?
অকস্মাৎ এক বুদ্ধি আসিয়া ঠেকিল এই মাথায়
লিখিলাম আমি মনের কথা ডায়রির সে পাতায় ।
স্টেশনে আসিয়া সবাই নামিল সেও যে নামিয়া পড়ে
একটাই কাজ করিতে হইবে আমি মরে যাই ডরে ।
মেয়েটার হাতে একখানা ব্যাগ সাইড পকেটটা খোলা
সেইখানেতে ভাসিয়ে দিলাম ডায়রী পাতার ভেলা ।
সবাই নামিল হুড়োহুড়ি করে আমি নামিলাম পরে
মন জুড়িয়ে দেখে লইলাম শেষবারেটির তরে ।
শুভ বিবাহ ভাইয়ের আমার তাই আসা এইখানে
মনটা আমার উদাস পাখি চক্ষু আকাশপানে ।
বিবাহের দিন আমি একা একা চুপচাপ রহি বসে
চারদিকে আজ হই হুল্লোড় প্রাণ খুলে সবে হাসে ।
হঠাৎ আমি যে জেগে উঠলাম মোহ মোর ছুটে গেলো
সত্যি সত্যি এসেছে যে সে সত্যি সত্যি এলো ।
বধূর বেশে সে রাজরাণি সেজে বসলো ভাইয়ের পাশে
লজ্জায় আমি নিজেকেই নিজে থাপ্পড় মারি কষে ।
পরদিনই আমি প্রভাত বেলায় ফিরিয়া গেলাম ঢাকা
ভাঙ্গা হৃদয়ে লাগছিলো মোর সবকিছু আজ ফাঁকা ।
মাসের পরে মাস চলে যায় হয় না তো বাড়ি ফেরা
জননী আমায় তাগদা দিচ্ছে , ভাইয়া দিচ্ছে তাড়া ।
অবশেষে আমি বাধ্য হলাম ফিরিয়া যাইতে বাড়ি
মায়ের নাকি অসুখ হয়েছে যদি থেমে যায় নাড়ি ।
মায়ের অসুখ গুরুতর নয় বুঝিলাম উহা ছল
ছেলেটিকে কাছে পাইবার তরে ইহা এক কৌশল ।
ভাবীর আচার খুবই স্বাভাবিক , কাটিতে লাগিল ভয়
পড়েছে কী চিঠি তাহারই হাতেতে হইতেছে সংশয় ।
অনেক ভাবিয়া ফেলিলাম আমি লম্বা দীর্ঘশ্বাস
শুধু শুধু আমি ভয় পেয়েছি হয়নি সর্বনাশ ।
রাত্রি হেথায় নামিয়া আসিল , সবাই ঘুমায়ে পড়ে
হঠাৎ করিয়া ঠকঠক করি দরজায় কড়া নড়ে ।
দরজা খুলিয়া নিদ্রা আমার কোথা চলে গেল ছুটে
পদ্ম আখিঁর সুন্দরী মোর দাড়াঁয়ে দ্বারের তটে ।
ভেতরে ঢুকিয়া কহিল চাহিয়া তোমারে যে ভালোবাসি
তাইতো আমার সেদিন হতেই ফোটেনি মুখেতে হাসি ।
কী দিব জওয়াব জবাব সেদিন ছিলোনা আমার মুখে
তবে কী আমার ভাইয়া তোমায় রাখতে পারেনি সুখে ?
ভীষণ কড়া ভাইয়া তোমার কথায় কথায় ঝাড়ি
কিছু বললেই শাসায় আমায় পাঠাবে বাপের বাড়ি ।
চলো চলো আজ চলো চলে যাই অন্য কোন সে দেশে
অনেক ভাবিয়া অবশেষে আমি জবাব দিলাম শেষে ,
সেদিনের সেই চিঠির কথাটা ভুলে যাব আমি আজই
নতুন জীবন শুরু কর তুমি নতুন রঙ্গেতে সাজি ।
সকরুণ চোখে চাহিয়া কহিল “ তবে আমি আজ যাই ”
কী করিব আমি আমার তো আর অন্য উপায় নাই ।
হঠাৎ একটা বিকট রকম হাসির শব্দ শুনে
দেখিলাম ভায়া দাড়াঁয়ে রয়েছে দূর জানালার কোণে ।
তাহার হাতে সে ডায়রির পাতা চোখে ও মুখেতে হাসি
সবাই হাসছে আমি হাসছি একা একা খাটে বসি ।
বুঝিলাম আর কিছু নয় সব ছিলো শুধু নাটক
মায়ের অসুখও বানোয়াট ছিলো , ছিলো শুধু অনুঘটক ।
মনে মনে এক স্বস্তিএ শ্বাস ফেলিয়া দিলাম আমি
একটু হলে যে বলে ফেলতাম আমার চাই যে তুমি ।
যুগে যুগে কত মজনু এসেছে হইয়াছে অপদস্ত
হৃদয় সুর্য উদিত হবার আগেই গিয়েছে অস্ত ।
এখনো যখন একা বসে মন পুরানো স্মৃতিরে হাতায়
ভালোবাসারই বীজ খুঁজে পায় সেই ডায়রির পাতায় ।
©somewhere in net ltd.