নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মইনুল১৩১৪১২

i love to dream

মইনুল১৩১৪১২ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বোঝা

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৪ রাত ২:৫০


“ কীরে তুই তো একদম আগের মতোই আছিস ? একটু ও মোটা হইলি না । ” বলেই শায়লাকে জড়িয়ে ধরলো নাসরিন । কতদিন পর দেখা ওর সাথে । ভার্সিটি থেকে বের হবার পর আর দেখাও হয়নি খোঁজ খবর ও খুব একটা নেয়া হয়নি ।
“ এইটা আমার ছোট বোন । ” বলেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখাল শায়লা ।
“ তোকে চেনাতে হবে না আমি নায়লাকে চিনি । এই মেয়ে পিচ্ছি থাকতে ভার্সিটিতে কত আসত যেত । এখন দেখি বড় হয়ে গেছে । ” কিছুটা লজ্জা পেলো নায়লা ।
“ আয় ভেতরে আয় । ”
নাসরিনরা এই বাসায় উঠেছে মাত্র এক মাস হয়েছে । পাশের বাসার মহিলার সাথে কথায় কথায় জানতে পারলো যে তিনি শায়লার আপন চাচাত বোন । তারপরই নাসরিন শায়লাকে ফোন দেয় । শায়লা প্রথমে আসতে না চাইলেও শেষমেষ রাজী হয়ে যায় । নাসরীন খুবই প্রাণোচ্ছল মেয়ে । কিছুক্ষণের মধ্যেই সে নায়লার সাথে বেশ খাতির করে ফেললো ।
“ আপু ভাইয়া কই ? ” জিজ্ঞেস করলো নায়লা ।
“ ও অফিসে আসতে আসতে বিকেল হয়ে যাবে । ”
“ আপু তোমাদের নাকি লাভ ম্যারেজ ? ”
একটু হেসে মাথা নাড়ালো নাসরিন । এই একটা ব্যাপারে কথা বলতে এখনো কেন যেন লজ্জা পায় সে ।
“ আপু তোমাদের কাহিনীটা বলো না শুনি । ” বায়না ধরল নায়লা ।
“ আরে না ওরকম কোন কাহিনী নাই । আমি ফার্স্ট ইয়ার থেকেই মনে মনে তোমার ভাইয়াকে বেশ পছন্দ করতাম । কিন্তু তার কাছ থেকে কখন কোন ইশারা পাইনি । ও কিছুটা লাজুক প্রকৃতির ছিল তো তেমন কথাবার্তা বলতো না । আমাকেও বিশেষ পাত্তা দিতো না । সেই ছেলে আমাকে কোন আগাম পুর্ভাবাস ছাড়াই আমাদের ভার্সিটি জীবনের শেষ ক্লাসে এসে আমাকে লাভ লেটার পাঠায় । ”
“ লেটারটা কই আপু ? ”
“ এই কথা আর তোমার আপুকে জিজ্ঞেস করো না । আমরা ওকে কত অনুরোধ করলাম লেটারটা দেখাতে সে দেখালোই না । ” অভিযোগ করলো শায়লা ।
“ আমার কী দোষ বল ? আবীর মানা করছে । ”
“ সেটা তো অনেক আগের কাহিনী । এখন দেখালে কিছু হবে না । আপু প্লিজ । ” বললো নায়লা ।
আরো কিছুক্ষণ জোরাজুরি করার পর শেষমেষ রাজী হলো নাসরীন । ভেতরের রুম থেকে নিয়ে আসলো চিঠিটা । নীল একটা কাগজে লেখা ছোট একটা চিঠি ।
“ প্রিয় শালুক , অনেকক্ষণ ধরে ভেবেও শুরুর লাইনটা কী লিখব বুঝতে পারলাম না । তাই ভূমিকা ছাড়াই শুরু করছি । তুমি বেশ ভালোভাবেই জানো আমি কিছুটা চুপচাপ প্রকৃতির সাবধানী ছেলে । আর আমার এই স্বভাবই আমার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে । আমি সবসময়ই অগ্র পশ্চাৎ বেশী বিবেচনা করতে যাই । এইটা করলে কী হবে ওইটা করলে কী সমস্যা হবে এইসব চিন্তা করেই আমার আর জীবনে কিছু করা হয় না । চিঠি যখন দিয়েছি তখন কেন দিয়েছি তা নিশ্চয়ই তোমার বুঝতে বাকী থাকার কথা না । তারপরেও কথাটা না বললে যেনো চিঠিটা পূর্ণতা পায় না । আমি তোমাকে ভালোবাসি । ভাবতে পারো কোথা থেকে উদয় হলাম । গত চার বছর কেন তোমাকে কিছু বলিনি ? ওই যে আগেই বললাম আমি খুব বেশী অগ্র পশ্চাৎ বিবেচনা করি । বারবার ভাবতাম তুমি যদি অন্য কাউকে পছন্দ করে থাকো ? তুমি যদি এটা সবাইকে জানিয়ে দেও ? সবাই যদি এটা নিয়ে হাসাহাসি করে । এই ‘যদি’র খপ্পরে পড়েই আমার এত দেরী । আর না । বোঝা নিতে নিতে আমি ক্লান্ত । তোমাকে কথাটা বলাতে আজ বেশ হালকা লাগছে । এখন এই ফাঁকা হৃদয়ে তুমি দুঃখের বোঝা চাপাবে না সুখের তা তুমি জানো । তোমার উত্তর যাই হোক তুমি তা আগে আমাকে এসে বলবে তারপর অন্য কাউকে জানিয়ো । ”
“ ওয়াও !! এতো সুন্দর চিঠি তুমি এতোদিন কাউকে দেখাওনি ? ” চিঠিটা পড়া শেষ করেই বলে উঠলো নায়লা ।
নায়লা আর নাসরীনের কোন কথাই যেন কানে ঢুকছে না শায়লার । তার এতোদিনের সাজানো জগতটা যেনো একটা চিঠিই এলোমেলো করে দিল ।
দশ বছর আগে প্রথম যেদিন শায়লা ভার্সিটিতে গেলো । প্রথমদিন রোল কলের সময় দেখা গেলো ক্লাসে দুইটা শায়লা । একজন শায়লা হক , আরেকজন নাসরীন আক্তার শায়লা । খুব স্বাভাবিকভাবেই নাসরীন নামের মেয়েটি নাসরীন নামেই পরিচিত হতে লাগলো । সমস্যা হলো সে নাসরীন নামটা পছন্দ করে না । তাকে ছোটবেলা থেকেই শায়লা ডাকা হয় । এমন কী তার স্কুলেও তাকে শায়লা ডাকা হত । তাতে কী ? যেহেতু নামটা ও পছন্দ করছে না তাই দেখে ক্লাসের ছেলেমেয়েরা ওকে ক্ষেপানোর জন্য হলেও ওকে নাসরীন বলে ডাকতো । ওর কাছে কোন দরকার হলে বা যে কোন প্রয়োজনে ওকে পটানো ছিলো সবচেয়ে সোজা কাজ । এক দুই সপ্তাহ ওকে শায়লা ডাকলেই খুশি ।
শায়লা প্রথম থেকেই ক্লাসের লাজুক প্রকৃতির আবীর নামের ছেলেটিকে লক্ষ্য করেছে । ছেলেটিকে তার প্রতি কিছুটা দুর্বল তা সে বুঝতে পারে । প্রথম দিকে বিশেষ গা না করলেও শেষের দিকে ভালোই লাগত ছেলেটাকে । একদম ভার্সিটি জীবনের শেষের দিকে এসে ছেলেটির সাথে ওর ভালোই সম্পর্ক হয় । ছেলেটিও লাজুকতা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে । বিশেষ করে ভার্সিটির শেষ দিনের আগের দিনের কথা ওর ভালোই মনে আছে । অনেক্ষণ আবীরের সাথে গল্প করেছিলো সে ।
“ এই শালুক !! ” ক্লাস থেকে বেরিয়েই আবীরের ডাক শুনতে পায় সে ।
“ কী ডাকলি ? শালুক ? ”
“ হ্যাঁ শায়লা থেকে শালুক । ”
“ বা বা তোর মধ্যেও তাহলে রসবোধ আছে । আমি তো ভেবেছিলাম তুই গাছের শুকনা কাঠ । ”
“ এখন কী ভাবছিস আমি গাছের রসালো ফল ? ”
এভাবেই হাসি ঠাট্রা করতে করতেই অনেকক্ষণ সময় পার হয়ে গেলো । মাঝখানে একবার ওর প্রিয় রঙ কী জিজ্ঞেস করলো আবীর । জবাবে ও উত্তর দিয়েছিলো “ নীল । ”
সেদিনের কথাবার্তায় ও কিছুর একটা ইংগিত পেয়েছিলো বলে মনে হয়েছিল ।
পরদিন প্রথম ক্লাসটাতে ও নাসরীনের কাছ থেকে একটা বই নিয়েছিল । পরের ক্লাশ শুরু হওয়ার আগের ব্রেকটাতে সে বাইরে বের হয় । বইটা তার ডেস্কে রেখেই বের হয় । এখন সব পরিষ্কার হয়ে যায় তার কাছে । নাসরীনের বইতে স্বাভাবিকভাবেই শায়লা লেখা ছিলো । শায়লার সিটে শায়লা লেখা বই কনফিউসনের প্রশ্নই ঊঠে না । কোন দ্বিধা ছাড়াই সেটার ভিতরে চিঠিটা রেখে দিয়েছিলো আবীর । আর এজন্যেই চিঠিটা কাউকে দেখাতে মানা করে সে । কারণ জানে শালুক দেখলেই ঘটনা ধরে ফেলবে শায়লা ।
সাধারণ দিনের চেয়ে দেরী করে আসে আবীর । একসাথে ডিনার করে ওরা সবাই । কি করে যেন আবীরকে এক মুহুর্তের জন্য একা পেয়ে যায় শায়লা । শুধু একটা কথাই সে বলে আবীরকে “ বোঝাটা আর কমাতে পারলে না । ”

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.