নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

[email protected]

সেলিম জাহাঙ্গীর

সেলিম জাহাঙ্গীর যে দ্যাশে নাই জীন মরণরে আমার মন ছুটেছে সেই দ্যাশে গুরু লওনা আমায় তোমার সে দ্যাশে

সেলিম জাহাঙ্গীর › বিস্তারিত পোস্টঃ

কোরআন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ মানুষকে বিলি করতে বলেছে সেখানে আড়াই পার্সেন্ট যাকাত এলো কোথা থেকে?

০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৮

ইসলামের অনেক জায়গায় যাকাত কথাটির উল্লেখ আছে কোরআনে। ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের মধ্যে যাকাত একটি নির্দেশনা। কোরআনের বহু জায়গায় যাকাত ও সালাতের কথা অতোপতো ভাবে জড়িত। আল্লাহ্পাক সূরা রুমের ৩৯ নাম্বার আয়াতে বলছেনঃ “ওয়ামা আ-তাইতুম মিন যাকা-তিন তুরিদুনা ওয়াজ্বহাল্লা হি ফাউল ইকা হুমুল মুদ্ব’ইফুন” অর্থঃ এবং তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের লক্ষে যাকাত দান করে, তাহাদিগের ধন ও সম্পদ বৃদ্ধি পায়; ওরাই সমৃদ্ধশালী। কোরআন বলছে “আকিমুস সালা-তা ওয়া আ-তুয্ যাকা-তা ওয়া আকরি দুল্লা-হা ক্বারদান হাসানান” অর্থঃ সালাত প্রতিষ্ঠিত করো, যাকাত আদায় করো। এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ বা কর্জে হাসানা দাও। যাকাতকে কোরআনে সদ্কাও বলা হয়েছে। “যাকাত” শব্দটি “জাক্কা” শব্দ হতে এসেছে; যার অর্থ পবিত্র হওয়া বা নিজেকে শুদ্ধ করা। সূরা তওবার ১০৩ নং আয়াতে আল্লাহ্ বলছেনঃ “খুয্মিন আমওয়া-লিহিম সাদাকাতন তুত্বাহহিরুহুম ওয়া তুযাক্কিহিম বিহা ওয়া সাল্লি আলাইহিম” অর্থঃ ওদর সম্পদ হওত সদ্কা গ্রহণ করো, ইহা দ্বারা তুমি তাহাদিগকে পাক করিবে ও আশীর্বাদ করিবে। এযাকাত অন্যাণ্য নবী-রাসুলদের উম্মতের বেলায়ও ছিলো বলে কোরআন সাক্ষ্য দেয়; সূরা বাকারা ৮৩ নং আয়াতে। সূলা মুমিনুনের ৪ নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ “ওয়াল্লাযিনা হুম লিয্যাকা-তি ফা-ইলুন” অর্থঃ যারা স্বীয় যাকাত প্রদানে সক্রিয়। কালেমা সাওম বা রোজা ও হাজ্জ্ব সম্পর্কে কোরআনে পৃথক পৃথক নির্দেশ এসেছে এবং কালেমার বিষয়টি মৌলিকভাবে নির্দেশ আছে। কিন্তু সালাত ও যাকাতকে একই সঙ্গে একই আয়াতে বার বার নির্দেশ দেয়া আছে বিভিন্ন আঙ্গিকে। এই রহস্যটি সকলকে জানতে হবে,এটা আসলেই জানার বিষয়। কেন কোরআন সালাতের সাথে যাকাতের নির্দেশ দিচ্ছে। যাকাত পাবে নিঃস্ব, ফকির, মিসকিন ও মুসাফির। সূরা তওবা ৬০ আয়াত। সালাত,রোজা.হাজ্জ্ব, কলেমা ও যাকাত ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভ হলেও যাকাত ও হাজ্জ্ব সামর্থবান মানুষের জন্য নির্ধারিত বলে হাদীসে কথিত আছে। আর সামর্থহীনদের স্তম্ভ হলো তিনটি, মানে কলেমা,সালাত ও রোজা। তাহলে কি দাড়ালো ধনীদের জন্য ইসলামের বুনিয়াদ বা স্তম্ভ হলো পাঁচটি আর গরীবদের জন্য ইসলামের স্তম্ভ হলো তিনটি। মানে ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভ সবার জন্য নয়! ইহা’ই কি কোরআনের বিধান? না, হতে পারে না। ইহা কোরআনের বিধান নয়। কোরআনের বিধান হতে হবে সবার জন্য সার্বজনীন মানে সব মানুষের জন্য সমান প্রযোজ্য। কোরআনের বিধান জাগতিক ধনী-গরীব হিসাবে নয়। এটা হলো প্রাথমিক যুগের উমাইয়া-আব্বাসীয়া রাজশক্তী এবং তাদের পোষা মোল্লা মৌলবীদের অন্ধ কুপমন্ডুকতার কারসাজি। এরা যাকাত বলতে শুধু পার্থিব ধনের যাকাত’ই বুঝেছিলো এবং মানুষকে তা বুঝিয়েছিলো এবং সেইভাবে সস্তা বস্তপঁচা শত সহস্র কিতাব ও তারা রচনা করেছিলো কেবল তাদের সার্থে, তাদের কিছু মত চরিতার্থ করার জন্য। তারা একটি কথা বোঝেনি এবং বুঝতেও পারেনী যে পার্থিব ধনের যাকাতটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় কল্যাণ এর জন্য। এবং তাহলো প্রতীক বা রূপক হিসাবে প্রযোজ্য যা মানব জাতির ইহলোকের জন্য সাময়িক এবং সামাজিক কল্যাণকর হিসাবে প্রযোজ্য। ইহা প্রতীক, আসলে উপমা, যার মাধ্যমে আসল পাওয়া যায় বা, হকিকতে পৌঁছাতে পারে। মুহাম্মাদ (সাঃ) পার্থিব ধনের যাকাত ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছেন মানব সমাজের নিঃস্ব ব্যক্তিদের মঙ্গলার্থে যার দ্বারা মানব সমাজ আর্থিক, সামাজিক ভাবে সাম্যের দিকে এগুতে পারে। ইহা কোরআনের যাকাতকে লক্ষ্য করে দেয়া হয়েছে; যা আসলের উপমা বা প্রতীক স্বরূপ। মাওলানারা মানুষকে যাকাত বলতে যা বুঝাচ্ছে তার কোন নির্দিষ্ট পরিমান কোরআনে নেই। কোরআনের কথা হলো প্রয়োজনে অতিরিক্ত তোমাদের যা আছে তা-ই যাকাত দিতে হবে। রাসুল (সাঃ) ইহলোকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায যে সুষ্ঠ বিধি-বিধান প্রবর্তন করেছেন এবং আর্থিক যাকাত ব্যবস্থা তার একটি। কোরআনে যেখানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত মানুষকে বিলি করতে বলেছে সেখানে আড়াই পার্সেন্ট যাকাত কথাটা এলো কোথা থেকে? ইসলাম সম্পদ জমাতেই নিষেধ করেছে সেখানে যাকাত মানুষের মনগড়া আড়াই পার্সেন্ট এটা আমার অভিমত।

মন্তব্য ২৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১৫

ফারুক মাহমুদ বলেছেন: ডাক্তারি না পরে ডাক্তারি করা যেমন বিপদজনক তেমনি কুরআন হাদিস ইজমা কিয়াস বোঝার জ্ঞান না নিয়ে শরিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করা সমিচিন না। আপনার প্রশ্নটা আপনি একজন হাক্কানি আলেম কে জিজ্ঞেস করে তর্ক টা তার সাথে করতে পারেতেন

০২ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৪৮

সেলিম জাহাঙ্গীর বলেছেন: একজন হাক্কানি আলেম কে জিজ্ঞেস করে কি পাবো সেটাতো জানা আছে। কোরআনে যা নাই সেটা সে হাদীস থেকে শোনাবে; হাদীসে যেটা নাই সেটা এজমা কিয়াস থেকে শোনাবে; যেটা এজমা কিয়াসে নাই সেটা পেট বানিয়ে বলবে।

একটি সহজ হিসাব। কোরআন বলছে তোমাদের সম্পদের অতিরিক্ত মানে, আমার প্রয়োজনের চেয়ে বেশীটা মানুষকে বিলাতে হবে। তাহলে ইসলামে আমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ জমানোই যেখানে নিষেধ, সেখানে ২.৫ পার্সেন্ট যাকাত আসার প্রশ্ন উঠে কি করে?

২| ০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১৬

মুহাম্মদ সিরাজ েমাল্লাহ বলেছেন: কেউ কি জানেন জাকাতের আড়াই পার্সেন্ট যাকাত কথাটা এলো কোথা থেকে ?

০২ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৪৯

সেলিম জাহাঙ্গীর বলেছেন: খলিফা আবুবকর, ওমর ও ওসমান (রাঃ) এরাই জানেন।

৩| ০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১৮

ফারুক মাহমুদ বলেছেন: কুরআনের তাফসির পড়ে মন্তব্য করা এক জিনিস আর কুরআনের তাফসির করতে পারাটা আর এক জিনিস - আগে সেই দীনি ইলম হাসিল করুন

০২ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৫২

সেলিম জাহাঙ্গীর বলেছেন: ফারুক মাহমুদ কি বাংলা কোরআনের তাপসির পড়েন? ভাইজান আগে কোরআন জানুন,তারপার নিজে ধারণ করুন এবং পরে মানুন তাহলে ভালো লাগবে। আপনি নিজে কোরআন জানেন না বলে অন্যরা কোরআন জানবে না এটা ঠিক নয়। আর কোরআন কেবল হাক্কানি আলেমরা জানবে এটাও ঠিক নয়।

৪| ০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৬

ফারুক মাহমুদ বলেছেন: সবাই কি কনেকরে যে সামুতে সব হাক্কানি মুফতিরা বসে আছে ? আপনার প্রশ্নগুলো আপনার কাছের মাসজিদের ইমামদের জিজ্ঞেস করুন আর নিজেকে তাদের চেয়ে বেশি জ্ঞানি মএন করলে তবে আর প্রশ্ন করা কেন

০২ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৫৭

সেলিম জাহাঙ্গীর বলেছেন: কোরআন জানতে পাশের মসজিদের ইমামদের জিজ্ঞেসা করতে হবে কেন?
তবে ইমামরা কোথায় কোরআন জানলেন? একটি কোরআন ইমাম সাহেবরা যেখানে থেকে জেনেছে আমিও সেখানে থেকে জেনেছি। কোরআন একটি কিতাব এটা জ্ঞান অর্জন করলে নিজেই পড়ে জানতে পারবেন।

৫| ০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:২৯

নিউ মদন বলেছেন: এই রাম ছাগল টা মনে ইসলম সম্পর্কে না পড়া শুনা করে ফতুয়া মারতেছে। পোষ্টে নাইনাচ.........

০২ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১১:৫৯

সেলিম জাহাঙ্গীর বলেছেন: আপনার নিক নেম দেখে সেটাই মনে হয়। আমারটা দেখে তা মনে হয় না। আমার ওরিজিনাল নাম ও মোবাইল নাম্বার সাথে দেয়া আছে। আমি গোপন কোন নামে লিখি না কারণ; আমার সৎসাহস আছে। কোরআন বুঝে কথা বলুন ভালো লাগবে।

৬| ০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৪

মহাসাধক বলেছেন: ্রয়োজন কতটুকু কিভাবে বুঝবেন? মোবাইল বিল পেপার বিল থাকবে না বাদ যাবে? বাচ্চা কোন মিডিয়ামে পড়বে? গাড়ি কেনা যাবে?

৭| ০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৫

সাত সাগেরর মাঝি বলেছেন: ডাক্তারি না পরে ডাক্তারি করা যেমন
বিপদজনক তেমনি কুরআন হাদিস
ইজমা কিয়াস বোঝার জ্ঞান
না নিয়ে শরিয়া সম্পর্কে মন্তব্য
করা সমিচিন না। আপনার
প্রশ্নটা আপনি একজন হাক্কানি আলেম
কে জিজ্ঞেস করে তর্ক টা তার
সাথে করতে পারেতেন

০৩ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:০০

সেলিম জাহাঙ্গীর বলেছেন: কপি পেস্ট।

৮| ০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৭

সাত সাগেরর মাঝি বলেছেন: ডাক্তারি না পরে ডাক্তারি করা যেমন
বিপদজনক তেমনি কুরআন হাদিস
ইজমা কিয়াস বোঝার জ্ঞান
না নিয়ে শরিয়া সম্পর্কে মন্তব্য
করা সমিচিন না। আপনার
প্রশ্নটা আপনি একজন হাক্কানি আলেম
কে জিজ্ঞেস করে তর্ক টা তার
সাথে করতে পারেতেন

৯| ০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৩৭

সাত সাগেরর মাঝি বলেছেন: ডাক্তারি না পরে ডাক্তারি করা যেমন
বিপদজনক তেমনি কুরআন হাদিস
ইজমা কিয়াস বোঝার জ্ঞান
না নিয়ে শরিয়া সম্পর্কে মন্তব্য
করা সমিচিন না। আপনার
প্রশ্নটা আপনি একজন হাক্কানি আলেম
কে জিজ্ঞেস করে তর্ক টা তার
সাথে করতে পারেতেন

১০| ০২ রা অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:৫১

পানকৌড়ি বলেছেন: সেলিম ভাই, আপনাদের মসজিদের ইমাম জনাব ওসমান গণি যুক্তিবাদী সাহেবের কাছে একবার জিজ্ঞাসা করতে পারেন। আশাকরি সমাধান পাবেন। ভালো থাকবেন।

০৩ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:০২

সেলিম জাহাঙ্গীর বলেছেন: ইসলামে আমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ জমানোই যেখানে নিষেধ করেছে সেখানে ২.৫ পার্সেন্ট যাকাত আসার প্রশ্ন উঠে কি করে?

১১| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১২:১০

বাহলুল বলেছেন: ল্যাদাইতে ল্যাদাইতে তো দেখি আপনার অবস্থা কাহিল। দূর্গন্ধও বটে!

১২| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ২:৩০

প্রযুক্তি বলেছেন: Kotha thekhe j gaiya gula eshe jute

১৩| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১১:১৬

কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: জাকাত বিষয়ে পোস্ট দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আপনার অন্য একটি লেখার কমেন্টে আমি এই অনুরোধ করেছিলাম। তবে এখানে একটি মৌলিক দৃস্টিভঙ্গীর অসংগতি চোখে পরছে -

" মানে ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভ সবার জন্য নয়! ইহা’ই কি কোরআনের বিধান? না, হতে পারে না। ইহা কোরআনের বিধান নয়। কোরআনের বিধান হতে হবে সবার জন্য সার্বজনীন মানে সব মানুষের জন্য সমান প্রযোজ্য। "

এই অংশটি ঠিক বুঝলাম না। ইসলামের সকল বিধান সকলের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য কিভাবে হবে? হজ্জের ব্যাপারে কোরআনে পরিষ্কার উল্লেখ আছে যে এটা শুধুমাত্র সামর্থবানদের জন্যই প্রযোজ্য। আপনি কি মনে করেন ফকির-মিসকীন সবার জন্য হজ্জ ফরজ?

একই ভাবে কোরআনে কিছু বিধান আছে পুরুষের জন্য, কিছু আছে নারীর জন্য। শ্রমিক - মালিক, সন্তান - পিতা-মাতা - এ'দের জন্যও আলাদা আলাদা বিধান আছে। তাহলে সবার জন্য সকল বিধান সমভাবে প্রযোজ্য কিভাবে হবে?

আপনি যাকাতের যে ব্যখ্যা বল্লেন - তাতেও দেখা যাচ্ছে যকাত দিতে হবে তাকেই যার প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ আছে। তাহলে এখানেও দেখা যাচ্ছে বিধানটি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। যার প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ নাই তার জন্য যাকাত ফরজ হবে না।

সুতরাং এই অংশটি সংশোধন করা প্রয়োজন মনে করছি - ইসলামের বিধান সবার জন্য সমভাবে নয় বরং সুষম ভাবে যে যেটার যোগ্য তার জন্য সেটি প্রযোজ্য।

একটা প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উপস্থাপিত হয়েছে - প্রয়োজনের সীমা কোথায়? যদি আমরা বলি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবকিছু দান করতে হবে তাহলে বিপরীতক্রমে বলা যায় প্রয়োজনীয় কোন কিছুই দান করা যাবে না। যদি তাই হয় তাহলে প্রত্যেকে তার প্রতিটি সম্পদকেই প্রয়োজনীয় বলবে।

এটা আসলে সম্পদের স্তর বিন্যাসের সাথে সম্পর্কিত। যার কোন বাড়ি নাই সে একটা বাড়ির প্রয়োজন অনুভব করে, তার দৃস্টিতে দুটি বাড়ি থাকা প্রয়োজনের অতিরিক্ত। কিন্তু যার একটি বাড়ি আছে সে দ্বিতীয় বাড়িটির প্রয়োজন অনুভব করে - প্রয়োজন অনুভব করে বলেই সে দ্বিতীয় বাড়িটি তৈরীর/কেনার চেস্টা করে। এ'ভাবে যে যত সম্পদশালী সে তত বেশী সম্পদের প্রয়োজন অনুভব করে - এটা একটা দুর্ভেদ্য চক্র। কাজেই আপনি যদি বলেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ দান করতে হবে তাহলে আশংকা থাকে যে কেউ আর কিছুই দান করবে না। সবাই বলবে আমার যা আছে তাতো অনেক কম, আমারতো আরো অনেক কিছু প্রয়োজন।

এ'জন্যই খোলাফায়ে রাশেদীন(রা.) যাকাতের নেসাব পরিমান সুনির্দিস্ট করেছিলেন যাতে মানুষ বুঝতে পারে তার প্রয়োজনের সীমাটা কোথায়। এখন যদি কার কাছে ৭.৫ তোলা স্বর্ণ মুল্যের বেশী সম্পদ সঞ্চিত থাকে তাহলে তার প্রয়োজন যতই হোক অন্তত ২.৫% হারে যাকাত দিতেই হবে। আরো বেশী প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে সে বাঁচতে পারবে না।

আমার মতে এই বিধানটি মুলত তাদের জন্য যারা ইসলামের মুল অর্থনৈতিক চেতনা অনুধাবনে ব্যার্থ হয়ে সম্পদের পিছনে ছুটছে। এই ছোটার গতি কমিয়ে রাখা বা তাকে অন্তত এই অনুভুতি দেয়া যে তার সম্পদ বেশী হয়েছে এখন দান করতে হবে - এটাই ২.৫% যাকাতের প্রাথমিক লক্ষ।

আমার মনে হয় যাকাতের এই হার বা যাকাতযোগ্য সম্পদের বিবরণ কোরআনে বা রাসুল(স.) এর সরাসরি নির্দেশিত হাদীসে উল্লেখ না থাকার আসল কারণ হচ্ছে এগুলি পরিবর্তনশীল বিষয়। যখন এই বিধান প্রবর্তিত হয় তখন মানুষ সম্পদ সঞ্চয় করত স্বর্ণের হিসেবে তাই স্বর্ণকে মাপকাঠী ধরে সঞ্চয়ের সীমা নির্ধারন করা হয়েছিল। এখন মানুষ সম্পদ সঞ্চয় করে ব্যাংকে, শেয়ারে, ফ্ল্যাটে, প্লটে। তাই এই বিধানটি বর্তমান সময়ের উপযোগী করে পুণ:প্রবর্তন করা উচিত। এক ভাবে বলা যায় 'সঞ্চিত/মালিকানাধীন সকল সম্পদের ২.৫% হারে যাকাত দিতে হবে'।

আপনি বিষয়টি নিয়ে সমাজের ইসলামী ব্যাক্তিত্বদের সাথে আলোচনা করতে পারেন। যাকাতযোগ্য সম্পদ বা এর হার (২.৫%) এর ব্যাপারে কোরআনতো নয়ই রাসুল(স.) এর সরাসরি নির্দেশ সম্বলিত হাদীস কেউ দেখাতে পারবে না। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হবে 'রাসুল(স.) বা খোলাফায়ে রাশেদীন(রা.) বা সাহাবী(রা.)গন কি এই ভাবে সম্পদ সঞ্চয় করে ২.৫%হারে যাকাত দিতেন?' আমি নিশ্চিত কোন আলেমই এর পক্ষে কোন প্রমান উপস্থাপন করতে পারবেন না। বরং ইসলামের প্রথম যুগের ইতিহাসে নি:স্বার্থ ভাবে দানের দৃস্টান্তই পাওয়া যাবে।

কিন্তু এটা কে করবে? আপনি বা আপনারমত যারা বুঝতে পারছেন এই ২.৫% যাকাত মুলত দানের নুন্যতম বিধান, এর আসল মর্ম হচ্ছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবকিছুই বিলিয়ে দেয়া বা যত বেশী সম্ভব দান করা - তারা কি বস্তব জীবনে এটা মানতে পারছেন? যদি পেরে থাকেন তাহলে আপনার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম রইল। আপনি কি পারবেন অন্যসব বিতর্কিত বিষয় উপেক্ষা করে বা মেনে নিয়ে শুধুমাত্র এই একটি বিষয় বাস্তবায়ন/প্রচার/প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত হতে? এটা যদি প্রতিষ্ঠিত করা যায় তাহলে আরো বহু সমস্যার সমস্যার সমাধান এমনিতেই হয়ে যাবে। বস্তুত দুনিয়ার প্রায় সব সমস্যার বা নৈতিক অধ:পতনের মুল কারণ মানুষের অসীম সম্পদাকাংখা।

যদি পারেন তাহলে - হয়ত আপনার মাধ্যমেই ইসলামের অর্থনৈতিক চেতনা পুণ:প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে।

আল্লাহ আপনার সহায় হোন - আমীন।

১৪| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৪:৪৭

নজিবুল্লাহ বলেছেন: Click This Link

১৫| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৫:১৪

রবিনের প্রান "বাংলাদেশ" বলেছেন: ভাইজানের দরশন কি জিবনের?

১৬| ১৭ ই অক্টোবর, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৫৭

নজিবুল্লাহ বলেছেন: Click This Link

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.