| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোশা
পাহাড়-চুড়ায় দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল, আমি এই পৃথিবীকে পদতলে রেখেছি, এই আক্ষরিক সত্যের কছে যুক্তি মূর্ছা যায়।
৭। সেনাসদস্যদের ডি ও এইচ এস এ প্লট পাওয়া নিয়ে আমাদের অনেক কষ্ট আছে। আরে ভাই আমরাওতো (সাংবাদিক, লেখক, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, জজ, উকিল, খেলোয়াড়, ইত্যাদি) উত্তরা বা পূর্বাচলে রাজঊকের প্লট পাই তো সেনাবাহিনী পেলে সমস্যা কি? পুলিশ, বি সি এস ক্যাডারের লোকজনও পায়। অন্যদের নিয়েতো কাউকে কিছু বলতে শুনিনা। সমস্যা হল আমাদের প্লট ক্ষমতাশালীরা দখল করে আর সেনাবাহিনী নিয়মমাফিক জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী তাদের সদস্যদের মাঝে বিতরন করে। আর সেনাসদস্যরা প্লট কিন্তু ফ্রী অফ কস্ট পায়না। আসলে নাথিং ইজ ফ্রী ইন দিস ওয়ার্ল্ড। কতজন সরকারী আমলা মারা গেলে তাদের কূলখানী গুলশানস্থ নিজ বাড়ীতে হয় আর কতজন সেনাসদস্য মারা গেলে তাদেরটা নিজ বাড়ীতে হয় সেটা খতিয়ে দেখলে জানতে পারবেন কে আসলে কোথায় প্লট পায়। কতজন বেসামরিক ৩য় শ্রেণীর কর্মচারীর বাড়ী ঢাকা শহরে আছে আর কতজন সেনাসদস্যের বাড়ী ঢাকা শহরে আছে তার একটা জরিপ হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। সেদিন পুলিশের এক সার্জেন্ট আর সচিবালয় কর্মরত আমার দুই আত্মীয়ের সাথে দেখা হল। দুজনেরই সন্তান পড়ছে ঢাকার নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। তাদের দুজনেরই ঢাকা শহরে ফ্ল্যাট আছে। উনাদের স্ট্যাটাস সশস্ত্র বাহিনির জেসিও সমতুল্য। কই কোনদিন শুনলামনাতো সেনাবাহিনীর কোন জেসিওর ঢাকা শহরে বাড়ী বা ফ্ল্যাট আছে।
৮। সেনাবিহিনিতে গলফ কোর্স নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন। কিন্তু আমরা কি জানি ঐ সব গলফ কোর্সে কতজন সেনাসদস্য খেলতে যান? গলফ ক্লাব সমূহের বেশিরভাগ সদস্যই কিন্তু বেসামরিক পরিমন্ডল থেকে আগত। বাংলাদেশের গলফের নায়ক সিদ্দিকুর রহমান কোন সেনাসদস্য নয়। গলফ ক্লাবগুলোর সদস্য হতে অনেক টাকা লাগে। কিন্তু ঢাকা ক্লাব বা গুলশান ক্লাবের মেমবারশীপ ফ্রী পাওয়া যায় বলে আমাদের অনেকের ধারনা।
৯। আমাদের আরেক ব্যাথা হল সেনাবাহিনী ব্যবসা করে টাকা কামায়। তারা হোটেল বানায়, ব্যাংক খোলে আরও কতকি। আমাদের মধ্যে হিংসা জিনিসটা যে প্রবল তার একটা উদাহরণ হল এই বিষয় নিয়ে কথা বলা। সেনাবাহিনী যদি নিজের টাকায় ব্যবসা করে আমার সমস্যা কি? আমার টাকা কি মারছে? পুলিশ এর আছে পলওয়েল মার্কেট, পুলিশ প্লাজা, সেনাবাহিনীর আছে রেডিসন, ট্রাস্ট ব্যাংক। আর সেনাপরিচালিত সব ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট এ আছে কিন্তু বেসামরিক লোকজন অথবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। এসব কাজ করতে গিয়ে সেনাবাহিনী তার মিশন থেকে বিচ্যুত হচ্ছেনা।
১০। আরেক পক্ষ আছেন যারা হরহামেশাই বলেন আমাদের দেশে সেনাবাহিনীর দরকারটা কি? আমরা কার সাথে যুদ্ধ করব? আগুন লাগছে? সেনাবাহিনী দরকার। বন্যা হইছে? সেনাবাহিনী দরকার। বিল্ডিং ভাংছে সেনাবাহিনী দরকার। রাস্তা করা লাগবে সেনাবাহিনিী দরকার। লেক বানানো লাগবে? সেনাবাহিনী দরকার। ফ্লাইওভার বানানো লাগবে? সেনাবাহিনী দরকার। ওয়াসা পানি দিতে পারেনা? সেনাবাহিনী দরকার। পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা? সেনাবাহিনী দরকার। একটি স্বচ্ছ ভোটার লিস্ট করা লাগবে? সেনাবাহিনী দরকার। আপনার অফিসের জন্য একজন দক্ষ, সৎ, যোগ্য, কর্মঠ এমপ্লই লাগবে? রিটায়ার্ড সেনা অফিসার দরকার। সেনাবাহিনী নিয়ে আমাদের ভুল ধারনাগুলো দূর করার সময় এসেছে। আমাদের সীমান্তের নিরাপত্তা দিতে বি এস এফ আসবেনা বা আমাদের সমুদ্র সীমা পাহারাদারি আমেরিকার মেরিন সেনারাও করে দিবেনা। আমাদের রক্ষা আমাদের নিজেদেরই করা লাগবে। তাই সেনাবাহিনী নিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে ভুল ভাল কিছু বলার আগে আমাদের সবারই ভাল করে জানার দরকার আছে বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নানা কারনে সময়ে অসময়ে বিতর্কিত হয়েছে তাদের নানাবিধ কর্মকাণ্ডের জন্য। এখন সেনাবাহিনী ঐসব বিতর্কের উর্ধে। বর্তমান সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করবেনা বা কাউকে ব্লাডি সিভিলিয়ান বলে গালিও দিবেনা বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। একজন বেসামরিক মানুষের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে আজকের কথাগুলো লিখলাম। ভুল হতে পারে। কোন সামরিক সদস্য এখানে থাকলে ভুল গুলো ধরিয়ে দিবেন দয়া করে।
©somewhere in net ltd.
১|
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:০৯
পাজল্ড ডক বলেছেন: আপনার আশাবাদ আমাদেরও আশাবাদ, তবে ২০০৭ বেশ ভয়ংকর ছিলো, কি বলেন!