| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোশা
পাহাড়-চুড়ায় দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল, আমি এই পৃথিবীকে পদতলে রেখেছি, এই আক্ষরিক সত্যের কছে যুক্তি মূর্ছা যায়।
প্রায় দু’মাস হতে যাচ্ছে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পঙ্গু করে দেয়ার লক্ষ্যে নৃশংস কার্যক্রম চালাচ্ছে ২০ দলীয় বিএনপি জোট। মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার মতো বর্বরতা কেবল বাংলাদেশের রাজনীতিতেই ঘটছে এবং তা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে আরও বর্বরতম উগ্রবাদী সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট), তারা দিনকয়েক আগে একসঙ্গে ৫০ জন মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। আমি জানি না, রাজনীতি আসলে কার জন্য? যদি মানুষের জন্যই হয়ে থাকে তাহলে মানুষকে পুড়িয়ে মেরে, আতঙ্কিত করে ক্ষমতা লাভের এই প্রক্রিয়াকে কোন রাজনৈতিক দর্শন দিয়েই কি বিশ্লেষণ করা যায়? এমনকি, শান্তি ও সংঘাতের কোন সূত্রেই একথা এখনও পর্যন্ত খুঁজে পাইনি যে, কোন অধিকার আদায়ের জন্য কোনভাবেই সন্ত্রাসকে এভাবে ব্যবহার করা যায়। অধিকার আদায়ের বহু মত ও পথ রয়েছে। সেগুলো নিয়ে বিশ্বের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, রাজনীতিবিদ এবং এ্যাক্টিভিস্টগণ বহু বই লিখেছেন এবং বিশ্লেষণ করেছেন। কিন্তু কেউই কোথাও মানুষকে হত্যা করে মানুষের জন্য অধিকার আদায়ের কোন পথের কথা উল্লেখ করেননি কিংবা সমর্থনও করেননি। শুধুমাত্র বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখছি বিপরীত চিত্র। এখানে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য পেট্রোলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাকে জায়েজ করে দিচ্ছেন দেশের বিবেক বলে পরিচিত মুখগুলো। এতে তাদের কী লাভ? লাভ একটাই, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যতই তাদের সঙ্গে একমত হই না কেন, আমাকে কিংবা আমার সন্তানকে পুড়িয়ে মেরে তারা সে যুক্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন না, আমি নিজেই যদি না বাঁচি তবে আমার পোড়া লাশ নিয়ে রাজনীতি হলো কি হলো না, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় যেতে পারল কি পারল না, তাতে আমার কী আসে যায়? সুতরাং, আমি এই অগ্নিউৎসবের রাজনীতির অংশ হতে চাই না। খুব সাফ জবাব। সুতরাং, বিএনপি-জামায়াতের এই আগুনে পোড়ানোর রাজনীতিতে সমর্থন, সহযোগিতা এবং টেলিভিশন টকশোয় মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করে যারা জাতীয় বিবেক থেকে ক্রমশ জাতীয় ভিলেনের চরিত্রে নেমে আসছেন তারা কি কখনও একবারও ভেবে দেখেছেন যে, শেষ পর্যন্ত এর ফলাফল কি দাঁড়াবে? এই ভয়ঙ্কর অসুস্থ ও ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের রাজনীতির জন্য তাদের শ্রীঘরে থাকার কথা থাকলেও তারা এখনও সরকার হটানোর কাজটাই করে যাচ্ছেন। এরপরও যদি কেউ মনে করেন যে, দেশে গণতন্ত্র নেই, শেখ হাসিনা একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন, তারা হয় মিথ্যেবাদী, নয় চোখ ও বিবেক বন্ধক দিয়ে এসেছেন কোন রাজনীতির মহাজনের কাছে, যাদের মানুষের মাংসেও অরুচি নেই। ধিক্কার জানাই ঐ সব নর পশুদের।
©somewhere in net ltd.