| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোশা
পাহাড়-চুড়ায় দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল, আমি এই পৃথিবীকে পদতলে রেখেছি, এই আক্ষরিক সত্যের কছে যুক্তি মূর্ছা যায়।
এ বছরের জানুয়ারি-মার্চ তিন মাসের আন্দোলন হঠকারী পথে বাঁক নিয়ে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। এ দলটির কাছ থেকে জনগণের প্রত্যাশা চেয়ে ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। জনগণের সে প্রত্যাশা পূরণে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দলটি। বিএনপি এখন একটা 'করপোরেট হাউসে' পরিণত হয়েছে। এর মালিক 'জিয়া পরিবারের' নামে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান। অন্যরা সব তাদের স্টাফ অফিসারের মতো। যতক্ষণ মালিকের সন্তুষ্টি অনুযায়ী কাজ করতে পারেন তো চাকরিটা থাকে, নতুবা বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুতি। এই স্টাফ অফিসারদের মধ্যে আবার 'ইওর অবিডিয়েন্ট সার্ভেন্ট' জাতীয় কিছু ব্যক্তি আছে হাউসের মালিকদের অতি বিশ্বস্ত। নিম্নমান ও নিম্নস্তরের লোকগুলোই আবার বড় বড় পদাধিকারী- যেমন স্থায়ী কমিটির সদস্য, সহ- সভাপতি, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং অঙ্গদলের নেতাদের ওপর ছড়ি ঘোরায়। ঐ চক্রটির গুলশান অফিসের ক্ষমতাধর কর্মচারীদের ওপর অনেক প্রভাব রয়েছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি-মার্চ হঠকারিতার পেছনে তাদের কুবুদ্ধিও বেশ কাজ করেছে। নির্বাচন প্রতিহত করার নামে যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া, জনগণ তো বটেই, তার দলের লোকজনও তাতে সাড়া দেয়নি। দ্বিতীয়বার 'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি'তে অংশ নিতে ডাকলেন এবং শেষবার ৫ জানুয়ারি ২০১৫ আবার মহাসমাবেশ ডাকলেন; কেউ সাড়া দিল না। কেন দিল না? জবাবটা বেশ কর্কশই হবে। জনগণ কেন নামবে? জনগণের স্বার্থ কী? এর আগে বিএনপি যত আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছে সবই খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ব্যক্তিগত বিষয়-আশয় নিয়ে দিয়েছে। আন্দোলন করেছে একদম ব্যক্তিগত বিষয়াদি নিয়ে, যার সঙ্গে রাজনীতি-আদর্শ-দলীয় স্বার্থ এবং জনগণের কোনো স্বার্থ ছিল না। কর্মী-সমর্থকরা মাঠে নেমেছে, নেতারা নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছেন। পরবর্তীকালের তিন আন্দোলন কর্মসূচিতেও নেতা তকমাধারীদের কাউকে মাঠে দেখা যায়নি। ফলে কর্মী-সমর্থক-জনতাও আগের মতো আর ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামেনি। স্রেফ গদি দখলের এ লড়াইকে আর দলের লোকরাও সমর্থন করছে না। রাজনীতিহীন, আদর্শহীন এবং জনগণের স্বার্থহীন এমন গদি দখলের লড়াইয়ে জনগণের সম্পৃক্ত না হওয়ার কারণও আছে। হেফাজতে ইসলামীর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে অর্জিত হবে এই মহান লক্ষ্য? যারা অন্তর দিয়ে বিএনপি করেন, তারা জামায়াত-হেফাজতপ্রীতির এ সর্বনাশা নীতি সমর্থন করে না বলেই এখন আর আগের মতো নেত্রী ডাক দিলেই সব কিছুতে সায় দেয় না।

©somewhere in net ltd.