নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি .... আমি জানি কেমন! চুপচাপ থাকতে ভাল লাগে। মনে হয় মুখে বলে যতটা বুঝাতে পারবো তার থেকে বেশি পারবো লেখায় নিজেকে তুলে ধরতে। আবোল-তাবোল লিখতে বলতে খুব ভাল লাগে। মেঘ আর বরফ ভীষণ ভালবাসি। আর ভালবাসি লিখতে পারার স্বাধীনতাটাকে! এইতো , এই সব টুকুরটাকুর মিলেই

মোমশ্রুতি

মোমশ্রুতি › বিস্তারিত পোস্টঃ

বই পোকার কথা !

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:১৬

বই রিভিউ

Number the Stars
by Lois Lowry


বিকেলে অভ্যাসমতো বারান্দায় বসে ঢুলে ঢুলে পড়ছিলাম! মা এসে কানের কাছে কিছুক্ষণ ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক ডাকলো! আমি তো বইয়েই তন্ময়! কানে টান খেয়ে হুশ হলো যখন ততক্ষণে বা কানের লতিটা টকটকে লাল। মুঠোফোনে যে বইও পড়া যায় তা বুঝাতে লাগলো ৩মিনিট, ৪ মিনিটের মাথায় চোখ নষ্ট করছি বলে আবার মাথায় চাঁটি! মন খারাপ নিয়ে বইটা পড়তে শুরু করেছিলাম, শেষ করবার সময়ও কেমন মেদুর মেদুর ভাব! মাতাজির এসমস্ত আদর তাতে যেন গরম ভাতে ঘি!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে যে কোন বই আমার কাছে পোলাওয়ের শেষ পাতে ঘরে পাতা মিষ্টি দইয়ের মতোন! পেলেই লুফে নেই! এই বইটি ভুগাচ্ছিল খুব। মানে আমিই একে ভুগাচ্ছিলাম আর কি। ইচ্ছে করে জমিয়ে রেখেছিলাম। Lois Lowry এর লেখার উপর তো চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়, তাই মনে হচ্ছিল এ বাবা! পড়লেই তো ফুরিয়ে গেল! তারচেয়ে থাক না আর কিছুদিন! তো হটাত করে হলো কি, মনটা সেদিন বিগড়ে গেল। তো বেগড়বাই ঠিক করতে ভাল মিস্তিরির কাছে তো নিতে হবে, নাকি? ডিজিটাল বুকশেলফ খুলতেই দেখি এ মস্ত ডাক্তার প্রকটমান। আর কি! শুরু করলাম পড়া!

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ডেনিশ লোকদের দিনযাপনের কথাগুলো আগে সেভাবে জানা হয়নি। বেশ লাগে! যত পড়ি, তত নতুন নতুন কত কিছু শিখি! মগজে কতটুকু ধরে রাখতে পারি সে কথা জিজ্ঞেস করে কেউ লজ্জা না দিলে ভাল। কিন্তু পড়বার সময় যেন মুখে কেউ আমিত্তি পুরে দেয়। যুদ্ধের ডামাডোলেও ডেনিশ রাজা যখন দেহরক্ষীর তোয়াক্কা না করে ঘোড়ায় চড়ে রোজ ঘুরতে বের হন মনে হয় আমিও জানালা খুলে একটু দেখি, পারলে নেমে গিয়ে কথা বলে আসি। জার্মান সৈন্যর প্রশ্নের জবাবে ছোট ছেলেটা বলে আমাদের রাজার দেহরক্ষীর দরকার নেই, আমরা পুরো ডেনমার্ক তার দেহরক্ষী- ভিতরটা কেমন যেন সাহসে গরম হয়ে ওঠে! পরিবার গুলোর কষ্ট, পালিয়ে বেড়ানো, ধর্মের- নিজের অস্তিত্তের আড়াল করবার গল্পগুলো কি যে নাড়া দেয়! দুধের উপর পরা সড় ছেকে ছেকে যারা খায় তেমন যেন খুঁজে বের করে আনতে হয়! এই যে মাঝখানে সাগর, অপারে দেখা যায় সুইডেন, জার্মান শাসনমুক্ত সুইডেন, এপারে ডেনমার্ক! দুইদেশের জীবন কত আলাদা না? ধর্ম আলাদা বলে বন্ধুর পরিবারটিকে লুকিয়ে পৌছাতে হবে তাই ঐ ওপারে, যেখানে রাস্তায় হুটহাট থামিয়ে সৈন্যরা নাম জিজ্ঞেস করবেনা। মাঝরাতে ঘরে ঢুকে চুল টেনে বিছানা থেকে নামিয়ে নিয়ে আসবেনা। বিপ্লবীর সিলগালা দিয়ে জনতার সামনে গুলি করে মারবেনা।

অ্যানামেরির পরিবার ও তার নিজের যে গল্পটা এই বইতে বলা হয়েছে তা যেন কোথায় গিয়ে বড্ড চেনা ঠেকে! বুঝিয়ে দেয় সব নিঃশেষিত -নিপীড়িত জাতির ইতিহাসে এক জায়গায় না এক জায়গায় মিল থাকবেই। তবে হ্যাঁ! টেক্কা দেবার গল্পগুলো কিন্তু মন ভাল করে। এই যে কুকুরের নাক কে ফাঁকি দেবার জন্য রুমাল মন্তর, বা মিটিঙের জন্য কফিনের জাদু! কে ভেবেছিল যে ভাত কাপড়ে মারার পরেও লোকগুলোর মাথা ঠেকে এত বুদ্ধি বেরোবে। প্রতিটা চরিত্র এত সৎ যে নিজেকে তাদের জায়গায় বসিয়ে ভাবতেও ভয় লাগে। দশ বছরের অ্যানা যখন নিজের সাহসের পারদটা একদম ঠিকভাবে তুলে ধরে ইচ্ছে করে জড়িয়ে ধরে বসে থাকি। তবে কি , বইয়ে খারাপ কিছু ঘটলে শেষে এটাই ভাবতে ভাল লাগে যে ধুর! সব বানানো গপ্প! কিন্তু দুই-তিন প্যারায় যখন দেখি সব সত্যি, এমনকি চলে যাবার আগে পিটারের চিঠিটা পর্যন্ত আবার কেমন যেন মনটা গুমগুম করে। চোখ বন্ধ করলে একটা শীর্ণ হলদে কাগজে আমি কিছু জ্বলজ্বলে শব্দ দেখতে পাই। শব্দগুলো ভীষণ সাহসী!

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১:০৯

পুলহ বলেছেন: মাত্র মুজতবা আলীর লেখা পড়ে এলাম দেখেই কি না জানি না, আপনার লেখার ভঙ্গিটুকুও আমার কাছে সেরকমই লাগলো।
'ওয়েল ফ্যাব্রিকেটেড' লেখনী আপনার।
ব্লগ লিখছেন তিন বছর, অথচ পোস্ট একটি কেন? আপনার লেখার যে দক্ষতা, তাতে আপনার আরো বেশি লেখা উচিত বলেই আমি মনে করি। সুযোগ পেলে আরো লিখবেন।
শুভকামনা আপনার জন্য।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:০৩

মোমশ্রুতি বলেছেন: এখন বললে বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা, আমার পড়ুয়া জীবনের সবচেয়ে কলংকিত দিক হলো এখনো আমি মুজতবা আলীর লেখা পড়িনি, একটাও না। সম্ভবত স্কুলে থাকতে দেশে বিদেশের একটা অংশ ছিল বাংলা বইয়ে, ওইটুকুই পড়া! তাই 'ওয়েল ফ্যাব্রিকেটেড' এর ব্যাপারটা পরিষ্কার করতে পারছিনা।

লেখার দক্ষতা সম্পর্কে বলেও লজ্জা দিলেন আমি মানুষটা ভীষণ অলস। যারা লিখে তাদের সময় হয়না, আমার সময়ের অভাব হয়না। তবে অই অলসতাটাই খেল আর কি! টুকটাক যা লিখি তা গুডরিডস এ কারণ একমাত্র বই নিয়ে লিখতেই আমার ভাল লাগে। ব্লগ তিনবছর আগে খুলেছিলাম কিন্তু কিছুই বুঝতামনা। এসে অন্যদের লেখা পড়ে চলে যেতাম। কালকে আরেকজনের কথায় কি মনে হলো দেখলাম একাউন্টটা বেঁচেবর্তে আছে নাকি। তা বেঁচেই যখন আছে তাই সন্ধ্যায় গুডরিডসে পোস্ট করা একখান গরম গরম রিভিউ দিয়ে দিলাম আর কি!

আলসেমি রোগ সেরে গেলে আরও লিখবার চেষ্টা করবো! ধন্যবাদ!

২| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ২:০০

আলী আজম গওহর বলেছেন: রিভিউ ভালোলাগল ।লিস্টে রাখলাম,ধন্যবাদ।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:০৫

মোমশ্রুতি বলেছেন: ধন্যবাদ! :)

৩| ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২১

নয়ন বিন বাহার বলেছেন: রিভিউ খুবই ভাল লাগল। মন দিয়ে পড়েছেন বোঝা গ্যাল। বইটা পড়তে হবে। আপনাকে ধন্যবাদ...
ভাল থাকবেন নিরন্তর.................

১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৪

মোমশ্রুতি বলেছেন: আশা করি বইটা দ্রুতই পড়ে ফেলবেন। ধন্যবাদ!

৪| ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:৫৮

ৎৎৎঘূৎৎ বলেছেন: এত ভক্তিভরে কেউ বইয়ের গুণগান করতে দেখিনি। এই লেখাটায় চোখ আটকে গেলো একদম । অসাধারন ।

২০ শে নভেম্বর, ২০১৬ রাত ২:৩৬

মোমশ্রুতি বলেছেন: সারাজীবন যেন আমি বই নিয়েই কথা বলতে পারি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.