নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিঃসঙ্গ পথচারী

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ

তারপরও মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে ঘুরে দাড়াব.....।

মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সেনা নেতৃত্বের মনস্তত্বে ধূসর/আবছায়া রূপে রুপান্তরিত আমাদের ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ....

১৯ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১

৭১ পরবর্তী বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থান ও গণ অভ্যুত্থান দুইই ঘটেছে কিন্তু অস্থির সেই সময়গুলোতে ধর্ম, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক পক্ষ/আনুগত্য নির্বিশেষে সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতো আমাদের সেনাবাহিনী। যখন দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন আসে তখন প্রথম সুযোগেই এই সেনাবাহিনীর দৃশ্যই সর্ব প্রথম চোখে ভাসে।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সংঘটিত আন্দোলন গুলোর শেষ পর্যায়ে কখনোই কেউ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তির্যক/বিতর্কিত মন্তব্য করেনি বা প্রশ্ন তোলেনি। কারন সে সব আন্দোলনের শুরু আর শেষের এজেন্ডা/উদ্দেশ্য সমূহ ছিলো একই এবং পানির মতো পরিস্কার। গুপ্ত বলে কোন কিছু ছিলো না। আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও গতিপ্রকৃতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের সর্বস্তরের জনগণ ছিলো শতভাগ ওয়াকিবহাল। স্বাভাবিকভাবেই তখনকার আন্দোলনকারী ছাত্র জনতা কর্তৃক ৭১ এর স্মৃতিকে ধারণ করার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা বিবিধ স্মারক, ভাস্কর্য, স্থাপনা প্রভৃতি ধ্বংস প্রাপ্ত হওয়ার যুক্তিযুক্ত কোন কারন ছিলো না।

কিন্তু ২৪ এর জুলাই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সম্পূর্ণ নিরাপত্তার দায়িত্বে সেনাবাহিনী থাকার পরও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত অসংখ্য ভাস্কর্য, স্হাপনা ও যাদুঘর স্বাধীনতা বিরোধীদের সুপরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ হতে রক্ষা পায়নি। বাংলাদেশের যাবতীয় আন্দোলন ও অভ্যুত্থান সমূহের সাপেক্ষে তৎকালীন সেনা নেতৃত্বের ভূমিকার বিপরীতে ২৪ এর স্বাধীনতা বিরোধী মবের হাতে ঘটা মুক্তিযুদ্ধ সংস্লিস্ট যাবতিয় দৃশ্যমান ধ্বংসযজ্ঞের বিপরীতে নির্বিকার দাড়িয়ে থাকা বর্তমান সেনা নেতৃত্ব জন সাধারনকে কি বার্তা দিলো? সেনা নেতৃত্বের এই অতি ব্যতিক্রমী ভূমিকা/অবস্থান কি নিছক কাকতালীয় দুর্ঘটনা/ঘটনা মাত্র নাকি ভবিষ্যতের জন্য একটি red flag? লাল রঙের সূক্ষ্ণ সীমারেখা (thin red line) অতিক্রমের উদাহরণ?

মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় কোন অবস্থাতেই ফ্যাসিবাদের নিদর্শন হতে পারে না - এই সাধারণ জ্ঞানটুকু আম জনতারও আছে। তাই আমাদের চৌকস সেনা নেতৃত্বের এই জ্ঞান থাকবে না তা বিশ্বাস যোগ্য নয়। আর সুনির্দিষ্ট সময়ে, সুনির্দিষ্ট এলাকা সমূহের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট সেনা ইউনিট সমূহের দায় এড়ানোরও কোন সুযোগ নেই।

একটা মানুষ যখন তার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির দখল নিশ্চিত করতে মাঠে নামে, এমনকি তা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করার জন্যও প্রস্তুত থাকে, তখন সে তার পূর্বপুরুষের/পিতৃপুরুষের পরিচয় ঠিকই মাথায় রাখে। নইলে কিসের ভিত্তিতে সেই জমির ওপর সে তার উত্তরাধিকারের দাবী প্রতিষ্ঠা করবে? সুতরাং সেই পরিচয় বিস্মৃত হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। ৭১ এ মুক্তিসংগ্রামকে কেন্দ্র করেই আমাদের বাঙ্গালী জাতিসত্তার পরিচয় আর বাংলাদেশী নাগরিক সত্তার পরিচয় গঠিত হয়েছে। সুউচ্চ বিল্ডিংয়ে একটা দৃঢ় foundation থাকবে এটা যেমন স্বাভাবিক, মুক্তিযুদ্ধও ঠিক তেমনই বাংলাদেশের পরিচয় নির্ণয়কারী foundation বা ভিত্তিভুমি।

ভবিষ্যতে, এই সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে দেশের কোন সন্দেহাতীত পরিচয়কে (বাংলাদেশর পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত, ৭১ এর মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস) দিক নির্দেশক ধরে তার নিরংকুশ সুরক্ষার জন্য যুদ্ধে নামবে? By any chance, মুক্তিযুদ্ধ নামক গোটা বিষয়টিই কি ইতোমধ্যেই বর্তমান সেনা নেতৃত্বের মনস্তত্বে ধূসর/আবছায়া রূপ ধারণ করে ফেলেনি?

২০২৪ পূর্ব আন্দোলন সমুহের সাপেক্ষে "২৪ এর জুলাই আন্দোলন ও আমাদের তরুন নেতৃত্ব"।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১০

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: মিলিটারির মনোভাব বুঝা যাইতেসে না ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.