| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
‘এই তো মাটি হাতে নিয়েছ, কই আমার তো বিষক্রিয়া হলো না!’
নিহত এবং আহতদের প্রতি এত মর্মান্তিক নক্কারজনক বিদ্রুপ বোধ হয় আমাদের দেশেই সম্ভব! কিন্তু তার ক্ষীণতম প্রতিবাদ তো হলো না, রাস্তায় নেমে, কিছু সংবাদপত্রে তীর্যক মন্তব্য ছাড়া! আমরা বোধহয় প্রতিবাদের ভাষাটা ভুলে গেছি।
প্রশ্ন আসতেই পারে একটা প্রবন্ধের এত হেঁয়ালিপূর্ণ শিরোনাম? কে বলল, কোথায় বলল, কেন বলল ইত্যাদি প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক। প্রবন্ধকারও হয়ত তাই চেয়েছিলেন — যাতে ব্যাপারটা খোলসা করে বলার একটা অজুহাত পাওয়া যায়। আসছি সেই কথাতেই।
ভোপালে ইউনিয়ন কার্বাইড কারখানার মনুষ্যকৃত অবহেলায় গ্যাস নির্গমনের ফলে যে মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটেছিল, গত ৩রা ডিসেম্বর, ২০০৯-তে সারা দেশে, বিশেষ করে ভোপালে নানান কর্মসূচীর মাধ্যমে ঘটনাটির পঁচিশ বছর পূর্তি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। আমাদের সংগঠনও বিভিন্নভাবে ভারতবর্ষের নানান স্থানে দিনটি পালন করেছেন।
পৃথিবীতে যতগুলি বিশাল বিশাল বিয়োগান্তক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে, ভোপালের ঘটনাটির ভয়াবহতার প্রশ্নে তালিকার শীর্ষে স্থান করে নিয়েছে। খেদের এবং ক্ষোভের বিষয়, বিপর্যয়ের ২৫ বছর পরেও, নিহত ও আহত মানুষদের সঠিক ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ইত্যাদি দূরের কথা, গ্যাসের বিক্রিয়ায় ক্ষত নিয়ে নানানরকম নিত্যনতুন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনকার যন্ত্রণা নিয়ে যাঁরা বেঁচে আছেন তাদের দিকে সমস্ত রকমের মানবিক সহায়তা নিয়ে হাত বাড়ানোর বদলে আমাদের জনদরদী আমজনতার স্বার্থরক্ষাকারী (!), কি কেন্দ্রের, কি মধ্য প্রদেশের সরকার কেবল যে তাদের প্রতি চূড়ান্ত উদাসীনতা দেখিয়ে চলেছেন তাই নয়, তাদের এখন একটাই কাজ, এই ২৫ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে সারা পৃথিবীর মানুষকে নানাভাবে ভুল বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে ‘না সেরকম কিছু বিপর্যয় তো সেদিন হয়নি’। প্রতারণার একটা সীমা থাকা দরকার। আর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সেই প্রচেষ্টার এক অনবদ্য প্রয়াস — কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী জয়রাম রমেশ গত সেপ্টেম্বর, ২০০৯ ইউনিয়ন কার্বাইড কারখানায় গিয়ে মুঠোভরা মাটি হাতে নিয়ে ‘শিরোনামে’র মন্তব্যটি করলেন, কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে আর কি! ভুবন উষ্ণায়ন, যা গোটা মানব সভ্যতাকে প্রায় লোপাটের মুখে দাঁড় করিয়েছে, সম্মানীয় মন্ত্রী মহোদয়ের গুণের শেষ নেই, আমেরিকার প্রশাসন যারা পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্ত চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখাচ্ছে, সেখানেও তিনি আমেরিকার পক্ষ অবলম্বনে সচেষ্ট ছিলেন, পরিবেশ মন্ত্রী বটে!
ভোপালের বেরাসিয়া রোডে-সেনার সোসাইটিসের কালি প্যারেড অঞ্চলে ৮২ একর জুড়ে ইউনিয়ন কার্বাইড ইন্ডিয়া লিমিটেড কারখানাটি অবস্থিত। এই সংস্থাটির সদর দপ্তর আমেরিকায়, তার নাম ইউনিয়ন কার্বাইড কর্পোরেশন (ইউ সি সি)।
এককালে যেখানে সদা কর্মচঞ্চল মানুষদের দেখা যেত, এখন কারখানাটি চৌহদ্দিতে চোখে পড়বে ইতস্তত ঘুরে বেড়ানো ভবঘুরে সারমেয়দের, ছাগল ও ভেড়ার দলকে, মাঝে খড়িচকের লক্ষ্মণরেখা — যার অর্থ ‘পথিকবর তিষ্ঠ ক্ষণকাল’ — সাবধান হাত দিও না — ঐ ইস্পাতের কাঠামোর ভগ্নস্তূপে বিষক্রিয়া হতে পারে। ১৯৬৯ সালে সেভিন নামক কীটনাশক ঔষধ তৈরির জন্য কারখানাটি তৈরি হয়েছিল (সেভিন ১৯৫৭ সালে আবিষ্কৃত হয়) — বিদ্বজ্জনেরা বলেন সেভিন নাকি ভারতের প্রথম সফল সবুজ বিপ্লবের অন্যতম উপাদান। কিভাবে, কেন এই গ্যাস নির্গমন, কে দায়ী ইত্যাদির প্রযুক্তিগত ও খুঁটিনাটি দিকগুলি নিয়ে এই পত্রিকার ডিসেম্বর, ২০০৯-এর দ্বাদশ সংখ্যায় আমাদের সহকর্মী কমরেড ভাস্কর চ্যাটার্জি একটি সুন্দর, তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধ লিখেছেন। এই প্রতিবেদনে পৌনঃপুনিকতা বর্জন করার জন্য যে বিষয়গুলির অবতারণা করার দরকার নেই। বর্তমান প্রবন্ধে ঘটনার পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আইনী প্রশ্ন, সরকারসহ সংস্থার দায়দায়িত্ব এবং অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন, চিকিৎসাসহ অন্যান্য দিকগুলি নিয়ে আলোচনা উপস্থিত করার প্রচেষ্টা হচ্ছে।
১৯৯৯ সালের আগস্ট মাসে ডাউ কেমিক্যাল কোম্পানি ৯০৩ (নয় শত তিন কোটি) ডলারে ইউ সি সি-কে কিনে নেয়। বিক্রি বাটার নিরিখে ডাউ কোম্পানি পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাসায়নিক দ্রব্যের প্রস্তুতকারক।
১৯৮৪-র ২রা-৩রা ডিসেম্বরের রাত্রে ভোপালের কীটনাশক বানানোর কারখানার গ্যাস মজুতের ট্যাঙ্ক থেকে ৪০ হাজার কিলোগ্রাম মিথাইল আইসো সায়ানেট (সংক্ষেপে এম আই সি বা মিক গ্যাস) নামক অত্যন্ত বিপজ্জনক গ্যাসসহ বেশ কিছু অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস বাধাহীনভাবে বেরিয়ে আসে, আশপাশের অঞ্চলে ৫,০০,০০০ মানুষকে প্রভাবিত করে। এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় কম-বেশি ২৫০০০ (সংখ্যাটি আরও অনেক বেশি বলেই অনেকের ধারণা) মানুষ ঐ গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাবে মারা গেছেন এবং বহু সংখ্যক মানুষ সারা জীবনের মতো পঙ্গু হয়ে মনুষ্যতর জীবনযাপন করছেন, এমনকি নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঐ বিষের প্রভাব দেখা দিচ্ছে।
গত ২৫ বছর ধরে ভারত সরকার এবং ইউনিয়ন কার্বাইড কর্তৃপক্ষ নানান কায়দায় এইরকম একটি বিপর্যয়কে মানুষের মন থেকে মুছে দেবার চেষ্টা করেছে। কিন্তু গ্যাস পীড়িতরা, মৃতের আত্মীয়-স্বজন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সর্বোপরি মধ্য প্রদেশ তথা দেশের বাম গণ-আন্দোলন ক্রমাগত বিভিন্ন দাবিগুলি নিয়ে কি জাতীয় স্তরে কি আন্তর্জাতিক আঙিনায় সোচ্চার থেকেছেন আইনীসহ বিভিন্ন পথে। আজ পঁচিশ বছর পূর্তির দিনে বিশেষ করে দুটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘাত তীব্র আকার নিয়েছে। একটি বিষয় হলো কারখানা চৌহদ্দিতে বিষাক্ত বর্জ্যগুলি সরানো এবং দ্বিতীয় বিষয় হলো ভূগর্ভস্থ দূষিত জল যা এখনও আশপাশের অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ পান করে চলেছেন, যা তাদের জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে, তার প্রতিকারের দাবিতে। আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার এবং মধ্য প্রদেশ সরকার ক্রমাগত দাবি করে চলেছে যে ঐ সকল বর্জ্যগুলি নিরপরাধী অর্থাৎ এতে কোনো বিষাক্ত পদার্থ নেই আর তার ফলে ভূগর্ভস্থ জলের তো দূষিত হওয়ার কথাটা অবান্তর। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে যে ডাউ কেমিক্যাল কোম্পানি যারা পূর্বতন ইউ সি সি-কে কিনে নিয়েছে তাদের কারখানার অভ্যন্তরের বর্জ্য সরাতে হবে। ডাউ কেমিক্যাল এই কাজটা করতে নারাজ, তাদের যুক্তি ইউ সি সি ১৯৮৯ সালে, এই বিপর্যয়ের ফলে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪৭০ মিলিয়ন ডলার (১মিলিয়ন=১০ লক্ষ) দিতে রাজি হওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের সমস্তরকমের দায়দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তির (পোশাকী নাম ‘নিউক ডিল’) অন্যতম শর্ত হচ্ছে যে মার্কিন দেশ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরমাণু চুল্লিসহ সংশ্লিষ্ট অপরাপর যন্ত্রপাতি ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির জন্য কিনতে হবে। সেই পথে ভারত অনেকটা এগিয়েছে। ভোপাল গ্যাস বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে, ইউনিয়ন কার্বাইডের ক্ষতিপূরণ অংশের রাশি দেখে মার্কিন দেশের পরমাণু চুল্লি প্রস্তুতকারকরা মার্কিন প্রশাসনকে বুঝিয়ে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউ পি এ (২য়) সরকারকে বাধ্য করছে সংসদে ‘সিভিল নিউক্লিয়ার লায়াবিলিটি’ নামক একটি বিল আনতে। যার মোদ্দা মানে হলো — মার্কিন পরমাণু চুল্লি প্রস্তুতকারকরা যে সকল চুল্লি ভারতকে মোটা টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করবে, সেগুলি দুর্ঘটনাগ্রস্ত হলে এবং তার ফলে তেজস্ক্রিয়তার দরুন জীবনহানিসহ ক্ষতিকর সকলরকম ক্ষতিপূরণের দায়ভার ভারতের থাকবে। ঐ সকল সরবরাহকারীরা দায়মুক্ত থাকবে। মার্কিন সরবরাহকারীদের প্রতি ভারত সরকারের মহানুভবতা ঈর্ষাযোগ্য। বামপন্থী দলগুলি এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
কয়েক মাস আগে খবরে প্রকাশ ইউ সি সি বলেছে এই গ্যাস বিপর্যয়ের জন্য কর্তৃপক্ষকে কোনো মতেই দায়ী করা যায় না এবং সর্বক্ষেত্রে যা ঘটে — ‘‘সব ব্যাটাকে ছেড়ে দিয়ে বেঁরে ব্যাটাকে ধর’’ অর্থাৎ তারা কারখানায় সেই সময়ে কর্মরত শ্রমিকদের সরাসরি দায়ী করেছে। এটা নতুন কিছু নয়, পাঠকরা দেখে থাকবেন, যে কোনো বড় রেল দুর্ঘটনার জন্য লেভেল ক্রসিং-এর দ্বাররক্ষী, কিংবা গ্যাংম্যান নিদেন পক্ষে সিগন্যালের দায়িত্বে থাকা রেল কর্মীকে কর্তৃপক্ষ দোষী ঠাওরায়, কোনোরকম তদন্ত ছাড়াই তারা সচরাচর দুর্ঘটনার অব্যবহিত পরেই বিনা তদন্তে শ্রমিক-কর্মচারীদের দোষী নিরূপণ করেছেন—উচ্চতম কর্তৃপক্ষ, নীতি নির্ধারকরা (ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীসহ) নিরপরাধ থেকে যায়। সত্যি কথা বলতে কি কর্মক্ষেত্রে বা উৎপাদন পদ্ধতিতে দুর্বলতম অংশ হলেন ব্যক্তি শ্রমিক-কর্মচারীরা তাই সহজেই তাদের অপরাধী বানানো যায়। টি আর চৌহান যিনি দুর্ঘটনার রাতে প্ল্যান্টের কন্ট্রোলরুমে কর্মরত ছিলেন, তাঁর লেখা বই ‘ভোপাল-ইনসাইড স্টোরি’ নামক গ্রন্থে ইউ সি সি কর্তৃপক্ষের এই ধরনের মারাত্মক অভিযোগকে খণ্ডন করে লিখেছেন কার্বাইড কর্তৃপক্ষ উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য এমন সব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন যার ফলে শিল্প নিরাপত্তার বিভিন্ন দিকগুলি মারাত্মকভাবে অবহেলিত থেকে যায় এবং যার ফলে বিষাক্ত গ্যাস লিকের ঘটনা ঘটে। সব চেয়ে মাথা হেঁট করা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, সে আর কেউ না, মধ্য প্রদেশ সরকার। তারা এই ভয়াবহ ঘটনাকে ‘যা হবার হয়ে গেছে, এখন সব স্বাভাবিক’ বলে চালানোর জন্য ২৫ বছর পূর্তিতে পরিত্যক্ত শিল্পটির সিংহদরজা জনগণের জন্য খুলে দেওয়ার জন্য মত প্রকাশ করেছে যাতে ক্ষতিগ্রস্তরা ২৫ বছরের স্বজন হারানোর বেদনা, বঞ্চনা, জ্বালার অনুভূতিগুলিকে ওখানকার মাটিতে কবর দিতে পারে—সরকারের বদান্যতার প্রশংসা না করে পারা যায় না। অনেকে বলছেন ওখানে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করতে। এটি সাধুবাদ যোগ্য।
বি জে পি পরিচালিত মধ্য প্রদেশের সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী নাটকীয় ভঙ্গিতে বললেন গত ২৫ বছর ধরে কারখানার যে বর্জ্যগুলি জমা আছে সেগুলি একেবারেই বিষাক্ত নয় এবং তা মানুষের শরীরে কোনো বিষক্রিয়া করতে পারে না। তিনি এখানেই থামলেন না। তাঁর মতে এতদিন প্রচার ছিল, ১৯৮৪ সালে ২/৩রা ডিসেম্বর রাতে যে বহুল পরিমাণে মিকসহ অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস লিক হয়েছিল তার ফলে কারখানা সংলগ্ন ভূগর্ভস্থ জল বিষাক্ত হয়েছে, সেই ধারণাটা ভুল, ভূগর্ভস্থ জলের গুণমানের সাথে গ্যাস লিকের সম্পর্ক থাকতেই পারে না, বরঞ্চ মাটির নিচে জল দূষিত হওয়ার জন্য দায়ী করলেন ঐ এলাকায় ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানির পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের মজুত ডিপোগুলিকে। অতএব ঐ মন্ত্রী মহোদয়ের সিদ্ধান্ত যদি উচ্চতম ন্যায়ালয় অনুমতি দেন তা হলে রাজ্য সরকার ঐ বর্জ্যগুলিকে রাজ্যের অন্য কোথাও স্থানান্তরিত করবে। তীব্র সমস্যার কি অসাধারণ সমাধান! তাঁর এই বক্তব্যকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য যুক্তি দিলেন যে গোয়ালিয়রের ‘ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট এস্টাব্লিসমেন্ট’ (ডি আর ডি ও), ওই কারখানার ভিতরে কিছু নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছে, পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে তারা ২টি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন প্রথমটি হলো প্ল্যান্টের মাটিসহ অসম্পূর্ণ কীটনাশক, সেভিনের তাঁতরশি ইত্যাদিতে বিষের পরিমাণ ক্ষীণতম যা মানুষের শরীরে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে না, আর দ্বিতীয়টি হলো ইউ সি সি-র পূর্বে মজুত রাখা বিষাক্ত বর্জ্যগুলির নমুনায় চামড়ায় জ্বলন বা ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে, এরকম কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে রাজ্য সরকার নাগপুরে অবস্থিত ‘ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ বা এন ই ই আর আই-এর কাছ থেকে জানতে চায় যে কারখানাটির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৫ দিনের জন্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে কি না—আপাত সৎ উদ্দেশ্যের পেছনে গূঢ় অভিসন্ধি হলো ভারতসহ বিশ্ববাসীকে দেখানো যে কারখানার লিক হওয়া গ্যাসে তেমন কোনো বিপর্যয়কর বিষ ছিল না। আমেরিকা প্রশাসনের স্নেহধন্য বিশ্ব পুঁজিবাদের ধারকবাহক বহুজাতিক সংস্থাগুলির মারাত্মক অপরাধগুলিকে ঢাকা দেওয়ার জন্য সরকারের কি নির্লজ্জের মতো প্রচেষ্টা। অবশ্যই ভারত ও তার জনগণের স্বার্থ, নিরাপত্তার বিনিময়ে। স্বার্থান্বেষী মহল সে গবেষক, অধ্যাপক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ — যেই হোক না কেন, তাদের মতামতকে প্রভাবিত করার বিভিন্ন পন্থা পদ্ধতি বহুজাতিকদের জানা আছে। এন ই ই আর আই-এর ডাইরেক্টর ৪ঠা নভেম্বর ২০০৯, ১৫ দিনের জন্য কার্বাইড কারখানাটিকে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার পক্ষে মত দিলেন। তার কারণ হিসাবে সবচেয়ে হাস্যকর যুক্তি দিয়ে বললেন — আমি এবং আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সরকারী অফিসাররা কারখানাটি কয়েকবার পরিদর্শনে গিয়েছি। আমাদের কোনোরকম স্বাস্থ্যহানি হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি কমিটি বিশেষজ্ঞসহ কেন্দ্রীয় তেল ও গ্যাস মন্ত্রকের বিভিন্ন আধিকারিক, মধ্য প্রদেশ সরকারের পদস্থ অফিসারেরা অনেকবার অকুস্থলে গিয়েছেন। কিন্তু তারাও কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছেন বলে আমার জানা নেই। তিনি আরও বললেন, ‘ফোনে তার সাথে ঐ অফিসারদের প্রায়ই কথা হয়’। এর অর্থ ঐ আধিকারিক কারখানায় বহুবার পরিদর্শনের পরেও, তারা বেঁচে বর্তে আছে। এর একটাই মানে দাঁড়ায়, ঐসব বিষক্রিয়া ইত্যাদি নিন্দুকদের রটনা। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার ভোপাল হাইকোর্ট ২০০৫ সালের ২৯শে অক্টোবর এক নির্দেশনামায় কার্বাইড কারখানাটিতে যথেষ্ট সংখ্যায় সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করতে বলেন যাতে বাইরে থেকে কেউ যেন ওখানে ঢুকতে না পারে। কারণ হিসাবে ন্যায়ালয় বললেন, ওখানে বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ মজুত রয়েছে। এটা কোনো সুন্দর পার্ক, ফুলবাগিচা নয়, যেখানে শিশুরা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারে। ভোপাল গ্যাসপীড়িতসহ বিভিন্ন সংগঠন কারখানাটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টাকে সরকারের চমক হিসাবেই দেখছেন। আই সি জে বি (ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেন ফর জাস্টিস ইন ভোপাল) নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যা রচনা ডিংরা বলেছেন, ১০টিরও অধিক সরকারী এবং বেসরকারী সংস্থার পর্যবেক্ষণে একথা প্রমাণিত হচ্ছে যে কারখানাটির পরিবেশ ও মাটি এখনও বহুল পরিমাণে বিষাক্ত/দূষিত। বলে রাখা ভালো ঐ সংস্থাটি গ্যাসপীড়িতদের চিকিৎসার কাজে জড়িত এবং পীড়িতদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে দীর্ঘদিন লড়াই আন্দোলন করছে। আই সি জে বি আরও বলেছে, ‘গ্রিন পিস’ সংস্থাটি (এরা বিশ্বের বহু দেশে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন চালাচ্ছে) বহু পরীক্ষা- নিরীক্ষার পর বলেছেন ঐ কারখানাটির ২০ শতাংশ ভূখণ্ডই দূষিত কারণ ওখানে পারদ, দস্তা, নিকেল, তামা, ক্রোমিয়াম, হাইড্রোকার্বন, ক্লোরিনের জটিল যৌগ, ক্লোরোবেঞ্জিন, সেভিনসহ নানান ক্ষতিকারক মৌল ও যৌগ পদার্থ বর্তমান। একটি জায়গার নমুনায় পারদের উপস্থিতি সাধারণ উপস্থিতির থেকে ৬০ লক্ষ গুণ বর্তমান (!)। আমরা রাজাবাহাদুরের কাহিনীগুলি থেকে জানতে পারি রাজার বিরাগভাজন অথচ নিকট আত্মীয়দের পারদ খাইয়ে পরলোকে পাঠাতো। পারদ ধীর অথচ নিশ্চিত বিষক্রিয়া ঘটাতে সক্ষম। সেন্টার ফর সেলুলার ও মলিকিউলার বায়োলজির প্রতিষ্ঠাতা ডাইরেক্টর এবং প্রথিতযশা বিজ্ঞানী ড. পি এম ভার্গব বলেছেন, কারখানার মাটিতে কোনো মানুষেরই পা রাখা উচিত নয়। এটি এতই বিষাক্ত। ‘ভোপাল গ্যাস পীড়িত মহিলা পুরুষ সংঘর্ষ মোর্চার’ সৈয়দ মহম্মদ ইরফান বলেছেন, ‘‘জায়গাটি বিপন্মুক্ত করার বদলে তারা (সরকার এবং ইউনিয়ন কার্বাইড) নিজেদের ভাবমূর্তি কলঙ্কমুক্ত করার জন্য কেবল যে ছলচাতুরি করছে তাই নয়, পুরো ঘটনাটির দায় নিতে অস্বীকার করছে।’’ এইরকমই ভোপালের আরেকটি সংস্থা ‘ভোপাল গ্যাস পীড়িত মহিলা উদ্যোগ সংগঠন’এর আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার বলেছেন, মধ্য প্রদেশের মন্ত্রীর এ ধরনের মন্তব্য (যা আগেই বলা হয়েছে-লেখক) অনভিপ্রেত এবং অন্যায়। কারণ বিষয়টি এখন ন্যায়ালয়ের বিচারাধীন এবং রাজ্য সরকার বেশ কয়েকবার ন্যায়ালয়কে ঐ কারখানাটির মধ্যে দূষিত বর্জ্য পদার্থ মজুত রয়েছে এ সংক্রান্ত হলফনামা দাখিল করেছে, যা পক্ষান্তরে ঐ সংগঠনগুলির যুক্তিকেই স্বীকার করছে। জব্বার আরও বলেছেন, কারখানাটির দরজা জনসাধারণের জন্য খুলে দিতে পারলে মনে করা হচ্ছে যেন স্বর্গের দরজা খুলে গেল। আর তাহলেই গ্যাস পীড়িতদের সব মুশকিলের আসান হলো। তিনি আরও যুক্তি দিলেন তাদের দাবি মতো যদি ভূগর্ভস্থ সঞ্চিত জল দূষিত নাই হবে, তবে সুপ্রিম কোর্ট কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আশপাশের প্রায় ১১টি গ্রামের বাসিন্দাদের পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের কথা বলবেন। শ্রীমতী ডিংরা এবং জব্বার দুজনেই বলেছেন ভূগর্ভস্থ জলে যে ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ আছে, কারখানার ভিতর মজুত বর্জ্যগুলির মধ্যেও তা বর্তমান। মধ্য প্রদেশ সরকারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংহ ভূগর্ভস্থ জলে যে বিষাক্ত পদার্থ নেই তা বারংবার বলেছেন। শুধু তাই নয় এটাকে প্রমাণ করার জন্য তৎকালীন গ্যাস কাণ্ডের ত্রাণ ও পুনর্বাসন ভারপ্রাপ্ত দপ্তরের মন্ত্রী আরিফ আকিল ঐ এলাকার কলের জল পান করেন। গ্যাস পীড়িতদের প্রতি এত বড় তামাশা!
ভোপাল গ্যাসকাণ্ড মুনাফালোভী বহুজাতিক কোম্পানিগুলির সারা বিশ্বজুড়ে নিকৃষ্টতম কর্মকাণ্ডের অন্যতম। সবচেয়ে খেদের বিষয় আমজনতার ভারত সরকার তাদের লেজুড় বৃত্তি করছে। আব্দুল জব্বারের মতে গ্যাস লিকের সময় থেকে আজ পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি অধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ৩ লক্ষাধিক মানুষ গ্যাসের বিষক্রিয়ায় দৈহিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এই সকল হতভাগ্যদের চিকিৎসার সুবন্দোবস্ত করা, এদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি কাজগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বদলে আমাদের মহামান্য ভারত সরকার নিজের দেশের মানুষের প্রতি নিষ্ঠুর মানসিকতা কেবলই দেখাচ্ছে না, উপরন্তু তারা চূড়ান্ত অপরাধী বহুজাতিক সংস্থা ইউনিয়ন কার্বাইডের স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত। সবচেয়ে দুঃখের এবং ক্ষোভের বিষয় হলো ১৯৮৯ সালে ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়ের নিষ্পত্তি সংক্রান্ত দলিলে কেবল ৩ হাজার জন নিহত এবং আরও ১ লক্ষ ২ হাজার জন গ্যাসপীড়িত হিসাবে ধরা আছে। অথচ ওয়েলফেয়ার কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত ক্লেইম কোর্ট (যেখানে গ্যাস নিপীড়িতদের বিভিন্ন বিষয়ের নিষ্পত্তির মামলা হবে) মৃতসহ গ্যাসপীড়িতের সংখ্যা নিরূপণ করেছেন ৫ লক্ষ ৭৪ হাজার ৩৬৭। এখন হয়তো তা ৬ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। আব্দুল জব্বারের মন্তব্য অনুযায়ী এটা এখন প্রমাণিত যে মৃত এবং আহতের সংখ্যা ভোপাল সেটেলমেন্টে বাস্তবে ৫ ভাগের এক ভাগ দেখানো হয়েছে। কি প্রচণ্ড প্রবঞ্চনা!
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার ১৯৮৫’র ২৪শে মে দিল্লিতে সি আই টি ইউ-র উদ্যোগে অন্যান্য কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন, ফেডারেশন, বিজ্ঞান কর্মী সংগঠনের একটি সেমিনার থেকে প্রতি বছর ৩রা ডিসেম্বর ‘‘ভোপাল গ্যাস বিপর্যয় দিবস’’ হিসাবে পালনের আহ্বান জানানো হয়। ৩রা ডিসেম্বর ১৯৮৫-র দিনটিতে সি আই টি ইউ-র উদ্যোগে দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়ের প্রথম বর্ষ পূর্তি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। তখন থেকেই এই দিনটি নানান কর্মসূচীর মাধ্যমে সি আই টি ইউ রাজ্যে রাজ্যে পালন করে আসছে।
ভোপাল গ্যাসকাণ্ডের ২৫ বছর পরেও গ্যাস বিপর্যয়ে নিহত ও আহতদের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা ইত্যাদির প্রশ্নে আমরা যে অবস্থা দেখছি তাহলো :
১) ঘৃণ্যতম অপরাধীরা এখনও শাস্তি পায়নি। ২) পীড়িতদের সঠিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। ৩) এখনও ৬ হাজার গ্যাসপীড়িত চিকিৎসার সুযোগের অপেক্ষায় দিন গুনছে। ৪) এখনও গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তরা মারা যাচ্ছেন সুচিকিৎসার অভাবে। ৫) সরকারকৃত আর্থিক পুনর্বাসন প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ৬) মৃতদের বিধবা, তাদের সন্তান সন্ততি অথবা যারা চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন তাদের জীবন চালানোর জন্য পেনশনের কোনো সুরাহা হয়নি। ৭) পরিবেশ সংক্রান্ত পুনর্বাসনের অন্যতম শর্ত বিশুদ্ধ পানীয়জল, স্বাস্থ্যকর শৌচাগার বা সেই অর্থে স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কোনো চিন্তা ভাবনাই নেই। ৮) নিদেনপক্ষে নিহতদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের পরিকল্পনা পর্যন্ত নেই।
এইরকম একটা অমানবিক দম বন্ধ করা পরিস্থিতিতে হয়তো অচিরেই গ্যাসপীড়িত হতভাগ্যরা অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষেও কোনো মতে বেঁচে থাকার মতো আশার আলো দেখতে না পেয়ে সবটাই তাদের কৃতকর্মের ফল বলে মনে করতে আরম্ভ করবে। অধিকার পাওয়ার লড়াইয়ের ধারটা যাবে ভোঁতা হয়ে। যেমনভাবে দাস মালিক হতভাগ্য ক্রীতদাসদের জীবনযাপনের গ্লানিকে তাদের পূর্ব জন্মের কৃতকর্মের শাস্তি বলে চালাতো, যাতে তারা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে চলমান দাসপ্রথা পরিবর্তনের জন্য বিদ্রোহ করতে না পারে।
ইউনিয়ন কার্বাইড বহুজাতিক সংস্থাটি ১৯৬৯ সালে যখন চালু করে, ভারতের মানুষকে সবুজ বিপ্লবের উপাদান সেভিন কীটনাশক তৈরির জন্য (বদান্যতার সীমা নেই), তখন তাদের স্লোগান ছিল ‘‘বিজ্ঞান নতুন ভারত তৈরির সহায়ক হবে’’।
না, আমরা সেই বিজ্ঞান চাই না, যা মানুষকে কুকুর বিড়ালের মতো মেরে ফেলে তার লাশের উপর মুনাফার পাহাড় গড়বে। বিজ্ঞানের অপরাজেয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানবতার শত্রুরা যেন আর হিরোশিমা-নাগাসাকি-ভোপালের মতো মারণযজ্ঞ ঘটাতে না পারে—মানবতাপ্রেমী, গণতন্ত্রপ্রিয়, বিজ্ঞানমনস্ক ও শান্তিপ্রিয় প্রত্যেকটি মানুষকে সমবেত স্বরে বলতে হবে ‘‘মানবতার শত্রু সাম্রাজ্যবাদ ও তার পদলেহনকারী স্বার্থরক্ষাকারীরা দূর হটো’’।
২|
২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৫২
ফিরোজ-২ বলেছেন: ভালো লেগেছে তথ্যসমৃদ্ধ লেখাটা।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৩৩
অলস ছেলে বলেছেন: কোন রাষ্ট্রশক্তি যখন অমানবিক হয় স্বার্থবাদী হয়, কেমন হতে পারে তার উদাহরণ এই ঘটনা। তথাকথিত সভ্য পাশ্চাত্য দেশগুলোও এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে নিয়মিত। এমনকি আপনার প্রিয় মতবাদ সমাজতন্ত্রের তীর্থভুমি সোভিয়েত রাশিয়াতেও শেষ পর্যন্ত মানবাধিকারের কি হাল হয়েছে ইতিহাস সাক্ষী। সাম্রাজ্যবাদী ভারত ও এটাই করবে স্বাভাবিক। ভুপালের সেই ঘটনা নিয়ে মিডিয়া কখনোই যথাযোগ্য প্রচার করেনি।
যাইহোক, ভালো লেগেছে তথ্যসমৃদ্ধ লেখাটা।