নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অদৃষ্টরে শুধালেম, চিরদিন পিছে, অমোঘ নিষ্ঠুর বলে কে মোরে ঠেলিছে?সে কহিল, ফিরে দেখো। দেখিলাম থামি, সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি।

মুবিন খান

নিজের পরিচয় লেখার মত বিখ্যাত বা বিশেষ কেউ নই। অতি সাধারণের একজন আমি। লিখতে ভাল লাগে। কিন্তু লেখক হয়ে উঠতে পারি নি। তবে এই ব্লগে আসা সে চেষ্টাটা অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্য নয়। মনে হল ভাবনাগুলো একটু সশব্দে ভাবি।

মুবিন খান › বিস্তারিত পোস্টঃ

হিজিবিজি

২০ শে আগস্ট, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৫

হিজিবিজি ব্যাপারগুলোকে আমি সবসময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি । কিন্তু বাস্তবতা হল চেষ্টাটাই সার হয় । এড়িয়ে চলা হয়ে ওঠে না । নিজকে আমি যতই রসসিক্ত ভাবি না কেন অনেকেই আমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন । কেউ কেউ সহমত পোষণ করলেও কিছুদিনের মধ্যেই নিজের বিভ্রান্তি বুঝতে পেরে আমার তথাকথিত রসবোধের বিপরীতে অবস্থান নেন । তাঁদের রসকষহীন অবস্থানের দৃঢ়তায় আমি মিইয়ে যাই । তবে তাঁরা যে তাঁদের আদর্শগত ভাবনায় আক্রমণ করেছি ভেবে মেরে আমার হাড় গুঁড়ো করে দেন না তাতেই আমি কৃতজ্ঞ । কিন্তু তবু আমার শিক্ষা হয় না । অভিজ্ঞ আমি অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিই না । হিজিবিজি ব্যাপারগুলো আমাকে ছাড়ে না, ওগুলোতে আবারও জড়াই, বারংবার জড়াই ।
ফুল লতা পাতা বন জঙ্গল নদী ঝর্ণা সাগর ইত্যাদি উপমাগুলো নাকি খুব তেতো করে ফেলা হয়েছে । নতুন কিছু দরকার উপমায় । নতুন উপমা হিসেবে নিজেকে মশার কয়েলের সঙ্গে তুলনা করলাম । জানি না কিভাবে যেন বন্ধু সাখাওয়াতের আঁতে লেগে গেল । সাখাওয়াত আমাকে 'জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার' হতে বলল ! নিজেকে জ্বালিয়ে মশা প্রবণ এলাকার মশা তাড়ানোটা বন্ধু হয়েও সাখাওয়াত বুঝল না ! প্যাঁচটাই দেখল ! শুধু যে দেখল তাই নয়, প্যাঁচ না মারতেও পরামর্শ দিল । বুঝল না প্যাঁচ না থাকলে কয়েলের জ্বলার স্থায়িত্ব হ্রাস পাবে. আমার মেধাবিহীন মগজ সাখাওয়াতের আঁত খুঁজেই পেল না ! উল্টো দিল আমাকে একটা হিজিবিজি অবস্থার মধ্যে ফেলে !
সাখাওয়াতের মতোই আরও একজন কাছের বন্ধু জামিল । কিছুদিন আগে ওর নিজের দেয়ালে সাউথ আফ্রিকার দেশপ্রেম ও গর্ব নিয়ে একটা ছোট লেখা দিল । আমি মন্তব্যর জায়গায় গিয়ে বাংলাদেশের গর্ব আর দেশপ্রেম নিয়ে কিছু কথা বললাম । বন্ধু জামিল উত্তেজিত হয়ে বাংলাদেশ যে দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন আর ঢাকা পৃথিবীর দ্বিতীয় নোংরাতম শহর, সেটা স্মরণ করিয়ে দিল । আমি আবার মন্তব্যর জায়গায় গেলাম । জামিল এবার খুব দুঃখিত হল । পুরো লেখাটাই দেয়াল থেকে মুছে ফেলল । আমাকে প্রশ্ন আমি এবার খুশী কিনা ! এখানেও সেই একই ব্যাপার ঘটল । যোগ্যতার অভাবে না বুঝেই নিজেকে জাহির করতে যেয়ে আরও একটা হিজিবিজি প্যাঁচে পড়ে গেলাম । আমার কষ্টের সীমা রইল না । জামিল কি আমার কষ্ট বুঝতে পেরেছিল ?
কিছুদিন আগে আমার স্ত্রী কঠিনভাবে আমাকে লেখালেখি করতে নিষেধ করল । আমি আকাশ থেকে পড়লাম ! কারণ আমার স্ত্রী আমার লেখাগুলো পড়েন বলে আমার ধারণায় ছিল না । পরদিন আমেরিকা থেকে আমার বড় ভাইও কঠিনতম কন্ঠে একই নির্দেশ জারি করলেন । এবার আমি যারপরনাই বিস্মিত হলাম ! আমার বড় ভাইও যে আমার পাঠক এই তথ্য হজম করা আমার জন্যে কষ্টকর । তাছাড়া আমি তো কোন লেখকও নই । সম্পূর্ণ নখদন্তহীন কলম আমার । নির্দোষ গোবেচারা শব্দ আর বাক্য ।
ভীতু আমি ভয় পেয়ে গেলাম । সিদ্ধান্ত নিলাম চয়ন হয়ে যাব । চয়ন অত্যন্ত নিরাপদ ছেলে । কখনও কারও সাতে পাঁচে থাকে না । ও নিজে যেমন নিরাপদ তেমনি ওর চারপাশের পরিবেশও বড় নিরাপদ । সকল অবস্থাতেই চয়ন কি করে যেন নিরাপদ আবহ খুঁজে বের করে ফেলে । কখনও কারও সঙ্গে বিরোধে জড়ায় না । এমন কি ফেসবুক দেয়ালেও কখনও কিছু লেখে না । উৎসাহিত করা ছাড়া কারও লেখায় কোন মন্তব্যও করে না ।
আমাকেও নিরাপদ হতে হবে । হিজিবিজি ব্যাপারগুলো যেন আমার ওপর এমনিভাবে বারবার ঝাঁপিয়ে পড়তে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে । ভীতু আমাকে আরও ভীতু হতে হবে । মোটেও আশাবাদী হওয়া যাবে না । সবচেয়ে বড় কথা হল, লিখে কিছু হয়- এই ভাবনা ভুলেও মনে ঠাই দেয়া যাবে না । আমিও একদিন বিশ্বাস করব-'লিখে কিছু হয় না । কিছুই হয় না । এমন কি আপন প্রশান্তিও মেলে না ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.