নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অদৃষ্টরে শুধালেম, চিরদিন পিছে, অমোঘ নিষ্ঠুর বলে কে মোরে ঠেলিছে?সে কহিল, ফিরে দেখো। দেখিলাম থামি, সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি।

মুবিন খান

নিজের পরিচয় লেখার মত বিখ্যাত বা বিশেষ কেউ নই। অতি সাধারণের একজন আমি। লিখতে ভাল লাগে। কিন্তু লেখক হয়ে উঠতে পারি নি। তবে এই ব্লগে আসা সে চেষ্টাটা অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্য নয়। মনে হল ভাবনাগুলো একটু সশব্দে ভাবি।

মুবিন খান › বিস্তারিত পোস্টঃ

‘ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’

০৮ ই জুন, ২০২১ রাত ১:৩৩



বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন পৃথিবীর বয়স চারশ’কোটি বছর। আর মানুষের বয়স দু লক্ষ বছর। আজ থেকে চল্লিশ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বাসিন্দা ছিল কীট পতঙ্গ। তিরিশ কোটি বছর আগে এ পৃথিবীর নাগরিক ছিল ডাইনোসর। চারশ’কোটি বছরের ইতিহাসে আধুনিক মানুষের অংশগ্রহণ মাত্র দু লক্ষ বছর। ৯৬.২ ভাগ অক্সিজেন, কার্বন, হাইড্রোজেন আর নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত ছোট্ট জৈবিক দেহটি নিয়ে মানুষেরা পৃথিবীকে নিজেদের সম্পদ ভাবতে শুরু করল। পৃথিবীর মাটিকে নিজের সম্পদ ঘোষণা করে তাতে দখলদারিত্ব চালাতে লাগল। ধ্বংস করতে লাগল নিজেদের প্রশ্বাসের অপরিহার্য উপাদান গাছপালা।

মানুষ নিজেই হিসেব কষে বের করেছে পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল। মানুষ হিসেব কষে আরো বের করেছে ওই তিন ভাগ জলের মাত্র আড়াই ভাগ তার তৃষ্ণা মেটাবার যোগ্য। এই জানাজানির পরেও কি ভীষণ অবহেলায় ধ্বংস করেছে জলাধার গুলো। কেবল তাই নয়। সীমাহীন দূষণ ঘটিয়ে পৃথিবীর পরিবেশ আর জীবনগুলোকে ঠেলে দিয়েছে হুমকির মুখে। বিশেষজ্ঞ আর উদ্ভাবক দিয়ে ধ্বংস ও দূষণের ও ধারাটি নিরবিচ্ছিন্নভাবে এখনো অব্যাহত রেখেছে। বিষাক্ত করছে জলাধার। বিষাক্ত করছে হাওয়া। আকাশে মেঘের ওপরে যে প্রলেপটি সূর্যকিরণ থেকে অতিবেগুনী রশ্নিকে ছেঁকে আটকে রেখে পৃথিবীতে ঢুকতে দেয়, যার পরিচয় ওজোন স্তর, সে ওজোন স্তরকেও ছিঁড়ে ফেলল।

নিজেদের বেঁচে থাকবার অবলম্বন পরিবেশটাকে মানুষ নিজেই ধংস করতে থাকল। মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়ল জলবায়ুতে। জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে থাকল। এর ফলে ঘনঘন দুর্যোগের গতি ও প্রকৃতি পরিবর্তিত হতে লাগল। পৃথিবীর বরফ গলতে থাকার ফলে নানা জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে লাগল। কিছু প্রাণী এসব জীবাণু ধ্বংসে ভূমিকা রাখত। মানুষেরা তাদেরকেও বাঁচতে দিচ্ছে না। পৃথিবীর সকল কিছু হিসেব করে বের করা মানুষ ভুলে যায় নিজেদের স্বার্থেই সকল প্রাণীকে বাঁচবার সুযোগ দিতে হবে।

পৃথিবীটি যে মানুষের একলার নয়, পৃথিবীতে বসবাস করা আর সকল প্রাণীকুলেরও- এটি মনুষ্য প্রজাতি জানে না, তা নয়। জানে। কিন্তু ভুলে যায়। ভুলে যায় না আসলে। আপন স্বার্থ চিন্তায় মনে রাখতে চায় না সে। মনে রাখবার দরকার মনে করে না সে। কেননা তার বিপুল ক্ষমতা। অন্তত তাই ভাবে সে। কিন্তু ভুলে যায় দেহটি তার জৈবিক।

২০১৯ সালে এল করোনা ভাইরাস মহামারী। থমকে গেল পৃথিবী। মানুষের পৃথিবী। পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়া মানুষেরা হলো ঘরবন্দি। এবারে মানুষের থেকে নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিলো অতিশয় ক্ষুদ্র খালি চোখে দেখতে না পাওয়া করোনা ভাইরাস। প্রকৃতিতে বয়ে গেল আনন্দর বন্যা। কমে গেল বায়ু দূষণ। কমল শব্দ দূষণ। জুড়ে গেল ছিঁড়ে যাওয়া ওজোন স্তর। ঝকঝকে প্রাণবন্ত হলো প্রকৃতি। প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নিতে পারল এতদিন মানুষ থেকে পালিয়ে বেঁচে থাকা প্রাণিরা। বিশ্বগণমাধ্যম শিরোনাম লিখল, প্রাণীদের জন্যে প্রকৃতিতে এটিই বোধহয় প্রথম প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ।

পৃথিবীতে মহামারীর ইতিহাস বেশ ঋদ্ধ। মানুষের মতোই। মানুষ যখন থেকে ইতিহাস লিখতে শুরু করেছে, তখন থেকেই মহামারীর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। মানব সভ্যতা যত উন্নত হয়েছে, সংক্রামক রোগ ততই বেড়েছে। একই সঙ্গে ভয়ংকরও হয়েছে। সকল কিছু হিসেব কষে বের করে ফেলা মানুষ হিসেব কষে জানাল, একশ’ বছর পর পৃথিবীতে মহামারী আসে। আসে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকরতে। আসে পৃথিবী নামক এই গ্রহটিকে নিরাময় করতে। গেল কয়েক হাজার বছরে পৃথিবীতে অসংখ্য মহামারী এসেছে। চালিয়েছে ধ্বংসযজ্ঞ। মরেছে কোটি কোটি মানুষ।

মহমারীতে এই কোটি কোটি মৃত্যু দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী মানুষের পরাজয়। আদিম মানুষ পাথর ঘষেঘষে আগুন জ্বালাত। সে মানুষ বিবর্তনের পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে বিজ্ঞানে প্রযুক্তিতে দারুণ সফল হয়ে উঠে মঙ্গলগ্রহে ঘর বাঁধবার স্বপ্ন দেখছে। সে স্বপ্ন সার্থক করতে ভীষণরকম গতিতে এগিয়েও চলেছে। কিন্তু‘ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’কখনও‘প্রাণপণে পৃথিবীটার জঞ্জাল সরিয়ে আগামী শিশুর বাসযোগ্য’করবার চেষ্টাটি করে নি, করছে না এখনও। করোনা আমাদের জানাল, দারুণ সফল মানুষের পরাজয়ের মূল জায়গাটির নাম স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাত। গেল দু বছরে পৃথিবী জুড়ে দেশে দেশে চলতে থাকা যে মৃত্যুর মিছিল, সেটি আমাদেরকে সে তথ্যটিই জানায় আসলে। আমরা দেখলাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দারুণ সফল মানুষ জীবন সাজাতে খুব করে সার্থক হলেও জীবন বাঁচাতে খুব করে ব্যর্থ হলো। কেননা ব্যবস্থা মুনাফা বোঝে, মানবতা বোঝে না। বিবেচনাটি তাই একজন মানুষ মানে একজন গ্রাহক কিংবা ক্রেতা, জীবন নয়।

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই জুন, ২০২১ রাত ৩:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: খুব সুন্দর ঝরঝরে লেখা। পড়তে ভালো লেগেছে।

২০ শে জুন, ২০২১ রাত ২:১৭

মুবিন খান বলেছেন: আপনার ভালো লাগা জানতে পেরে আমি অনন্দ ও কৃতজ্ঞ।

২| ০৮ ই জুন, ২০২১ ভোর ৫:৪২

বিবাগী শাকিল বলেছেন: মানুষ জীবন সাজাতে খুব করে সার্থক হলেও জীবন বাঁচাতে খুব করে ব্যর্থ হলো। এই লাইনটাই যথেষ্ট। গভীর জ্ঞানসম্পন্ন লেখা।

২০ শে জুন, ২০২১ রাত ২:১৮

মুবিন খান বলেছেন: জ্ঞান কিছু নয় ভাই। আমি জ্ঞানী নই। ও কেবলই উপলব্ধি।

৩| ০৮ ই জুন, ২০২১ সকাল ১০:১৭

রবিন.হুড বলেছেন: আমাদের বেঁচে থাকার জন্য এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী।


আমার মনে হয় পৃথিবীতে মানব সভ্যতার ইতিহাস ৭০০০-৮০০০ বছরের বেশি নয়। চার্লস ডারউইন এর বিবর্তনবাদ, ষড়যন্ত্রবাদ ত্বত্ত্ব , গোয়েবলস থিউরি, শিলালিপি ও ফসিলের তথ্য দ্বারা পশ্চিমা বিশ্ব, ইহুদি নাছারা বা জ্ঞানপাপীরা পরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রেখে বা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে।

২০ শে জুন, ২০২১ রাত ২:১৯

মুবিন খান বলেছেন: তথ্যগত ভুল থাকতে পারে। শুধরে দিতে চাইলেন বলে কৃতজ্ঞতা।

৪| ০৮ ই জুন, ২০২১ সকাল ১০:২৬

কামাল১৮ বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন।

৫| ০৮ ই জুন, ২০২১ দুপুর ১২:১৮

শেরজা তপন বলেছেন: আমার কেন যেন মনে হয়( মনে হয় না তথ্য উপাত্ত ও আছে)। মানুষ পৃথিবীর জীব নয়। মানুষ হচ্ছে এলিয়েন- পৃথিবীতে ভ্রমণকারী।
পৃথিবীর প্রাণী হলে পৃথিবীকে বুঝত- পৃথিবীকে ভাল বাসত।
পৃথিবীর অন্য প্রাণীর সাথে মানুষের কোন সংযোগ নেই- পৃথিবীর ভাষা স্পন্দন , রোদন, ক্রন্দন এরা বোঝে না। মানুষ এখনো তার সঠিক খাবার বেছে নিতে পারেনি, না সঠিক পোষাক না সঠিক আবাসস্থান। এসবের খোঁজে পৃথিবীকে তছনছ করছে- ভাংচুর করছে সবকিছু।
তবে এসবের মাঝেও বুদ্ধিমান, অনন্য, মানবিক গুন সম্পন্ন কিছু মানুষ আছে। যারা প্রকৃতির সাথে মিলে মিশে থাকতে চায়। যারা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উপলব্ধি করতে চায়- পৃথিবীর ভাষা বুঝতে চায়- পৃথিবী এর প্রকৃতি ও প্রাণকে বাঁচানোর জন্য জীবনকে উতসর্গ করে। ক্ষুদ্র সামর্থের মধ্যে মহৎ ও বৃহৎ এই প্রচেষ্টা আপনার মধ্যেও আছে- এরাই একদিন পৃথিবীকে বাচাবে- মানুষ নামধারী ভয়ঙ্কর,পিশাচ স্বার্থলোভীদের হাত থেকে- সেই প্রত্যাশায় আমৃত্যু অপেক্ষায় থাকলাম।
ভাল লেখা -স্যালুট টু ইউ

২০ শে জুন, ২০২১ রাত ২:২০

মুবিন খান বলেছেন: আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানাই।

৬| ১০ ই জুন, ২০২১ সকাল ১১:০৭

নীল আকাশ বলেছেন: শেরজা তপন বলেছেন: আমার কেন যেন মনে হয়( মনে হয় না তথ্য উপাত্ত ও আছে)। মানুষ পৃথিবীর জীব নয়। মানুষ হচ্ছে এলিয়েন- পৃথিবীতে ভ্রমণকারী। অবশ্যই এলিয়েন। সেটা পবিত্র কুরআন শরীফে দেয়া আছে । বেহেস্ত থেকে হযরত আদম আলাহিস সাল্লামকে বিবি হাওয়া সহ এই পৃথিবীর বুকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের এখানে জন্ম কিংবা বেড়ে উঠা হয়নি। তারা ছিলেন বেহেস্তের বাসিন্দা।

কিছু দিন পর পর সৃষ্টিকর্তা মহামারী আকারে বিভিন্ন অসুখ মানব জাতীর জন্য প্রেরণ করেন, এটা স্মরণ ক রিয়ে দিয়ে যে মানুষ আসলে খুব তুচ্ছ।

২০ শে জুন, ২০২১ রাত ২:২২

মুবিন খান বলেছেন: হু, জ্ঞানের আধার আপনি। ও জ্ঞানের ছোঁয়ায় আলোকিত হলাম। কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা নেই। ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.