নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শেরপা

দেখতে চাই ধরনী

মুনতাসির

আমি পাহাড়ে চড়ি,সাগরে ডুবি, পৃথিবী আমার প্রেম

মুনতাসির › বিস্তারিত পোস্টঃ

সন্তানের নিরাপত্তায় বাবা-মায়ের দায় কোথায় শেষ হয়?

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১০

অপ্রতিমের বয়স ছিল ১৩। এক বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে বেরিয়েছিল, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে। আর ফেরেনি। পরদিন লালমাই পাহাড়ের জঙ্গলে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

এরপর যা হওয়ার, তাই হচ্ছে। হত্যাকারীদের বিচার চাওয়া হচ্ছে, চাওয়াই উচিত। কিন্তু একটা প্রশ্ন প্রায় কেউ তুলছে না: ১৩ বছরের একটা ছেলে কার সঙ্গে মিশছিল, কোথায় যাচ্ছিল, কী ঝামেলায় জড়াচ্ছিল, এর খোঁজ রাখার দায়িত্ব কার ছিল?

উত্তরটা সোজা। বাবা-মায়ের।

আমাদের সমাজে সন্তানহারা বাবা-মাকে কোনো প্রশ্ন করা যায় না। শোককে আমরা এক ধরনের দায়মুক্তি বানিয়ে ফেলেছি। অথচ শোক আর দায় আলাদা জিনিস। একজন বাবা-মা একই সঙ্গে গভীর শোকগ্রস্ত এবং জবাবদিহির যোগ্য হতে পারেন।

এর মানে এই নয় যে অপ্রতিমের বাবা-মা দোষী। তদন্তে বয়সে বড়দের সঙ্গে মেলামেশা, টাকা নিয়ে বিরোধ আর টিকটকের প্রলোভনের কথা এসেছে, সবই তদন্তাধীন। তাঁরা কী জানতেন আর কী জানতেন না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কিন্তু প্রশ্নটা ঠিক এখানেই: তাঁরা কী জানতেন? আর যা জানতেন না, তা কি জানার কথা ছিল?

অভিভাবকের জবাবদিহি মানে সন্তানের জীবনের মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারা। সে এখন কোথায়, কার সঙ্গে, কখন ফিরবে? তার জীবনে কোন কোন প্রাপ্তবয়স্ক আছে? তার হাতে টাকা আসে কোথা থেকে? অনলাইনে কার সঙ্গে যোগাযোগ করে? ১৩ বছরের সন্তানের ক্ষেত্রে এগুলো নজরদারি নয়, ন্যূনতম দায়িত্ব। যে অভিভাবক এর উত্তর দিতে পারেন না, তিনি সন্তানকে স্বাধীনতা দেননি, একা ছেড়ে দিয়েছেন।

কেউ বলবেন, এই বয়সে স্বাধীনতা দরকার। ঠিক। কিন্তু স্বাধীনতা দিতে হয় জেনে-বুঝে, ধাপে ধাপে। না জানাকে স্বাধীনতা বলা যায় না।

আমাদের আইনও এই দায় স্বীকার করে। শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭০ ধারায় দায়িত্বে থাকা শিশুকে অবহেলা করে গুরুতর ক্ষতির মুখে ফেললে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা, বা দুটোই হতে পারে। দণ্ডবিধির ৩০৪এ ধারায় আছে অবহেলাজনিত মৃত্যুর শাস্তি। অর্থাৎ রাষ্ট্র নিজেই মেনে নিয়েছে যে অভিভাবকের দায়িত্বে ব্যর্থতা শুধু পারিবারিক ব্যাপার নয়।

তবু শিশুর মৃত্যু হলে আমাদের আলোচনা সাধারণত অপরাধী খোঁজা পর্যন্ত গিয়েই থেমে যায়। শিশুটি কীভাবে সেই বিপদ পর্যন্ত পৌঁছাল, তার দেখাশোনায় কোথায় ফাঁক ছিল, সেই প্রশ্ন ওঠে না। অনেক দেশে শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তার পরিস্থিতি আলাদা করে পর্যালোচনা করা হয়। শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়, পরের শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য।

আইন অবশ্য শুধু না জানাকে শাস্তি দেয় না। জানা বা বোঝার মতো বিপদ উপেক্ষা করলে দেয়। কিন্তু আদালত যেখানে থামে, সমাজের প্রশ্ন সেখানে থামার কারণ নেই।

আর অন্য ক্ষেত্রে আমরা এই প্রশ্ন ঠিকই করি। সন্তান খারাপ ফল করলে, মাদকে বা অপরাধে জড়ালে বলি, "পরিবার কী করছিল?" সন্তান যা করে, তার জন্য বাবা-মাকে দায়ী করতে আমাদের দ্বিধা নেই। তাহলে সন্তানের সঙ্গে যা ঘটে, তার বেলায় দ্বিধা কেন?

শিশু নিজেকে রক্ষা করতে পারে না বলেই সে শিশু। তার নিরাপত্তার প্রথম দায় পরিবারের। সমাজ আর রাষ্ট্রের দায় আসে তার পরে।

অপ্রতিমের হত্যাকারীদের বিচার হতেই হবে। কিন্তু সেই বিচারের পাশাপাশি প্রত্যেক বাবা-মাকে প্রস্তুত থাকতে হবে একটা প্রশ্নের জবাব দিতে: আমার সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে, আমি কি জানি? আর সমাজকে সেই প্রশ্ন করার দ্বিধা ছাড়তে হবে।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: অপ্রতিমের হত্যাকারীদের বিচার হতেই হবে।
.......................................................................
হত্যাকারীরা তাহারই সহপাঠি ও বন্ধুজন ।
কুমিল্লা আদালতে এই বিচার শুরু হয়েছে, সেখান
থেকে জানা গেল , তারা মূলত কিশোর গ্যাং ছিল ।
মা/ বাবারা এসবের খোজঁই নিত না ।

..........................................................................
কিশোর গ্যাং এর সুবিধা হলো এরা হত্যঅকান্ড ঘটালে ও
মৃত্যুদন্ড রায় হবেনা, সংশোধানাগারে পাঠাতে হবে ।
সমাজের কাছে প্রশ্ন হলো যে , কিশোর গ্যাং বিগত ৪/৫ বৎসর
যাবত ধীরে ধীরে বড়েে উঠেছে এক শ্রেণীর ছত্রছায়ায়, সরকার কেন
সঠিক সময়ে দমন করলনা ???

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫

মুনতাসির বলেছেন: জি আমরা সব সময সরকার, সমাজ কে প্রশ্ন করতে পারি - এটা আমাদের একধরনের সুবিধা দেয় কিন্তু প্রশ্নটা আপনি নিজেকে, আমরা আমাদেরকে করি না। কিশোর গ্য্ং বা ছাত্র রাজনিতি সবই তো এক। যদি পরিবার আমাদের শিক্ষা না দেয় তবে ধরে নিতে হবে আমাদের উত্তরণ হবে না আর কোন দিন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.